📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 একটি সংশয়ের অপনোদন

📄 একটি সংশয়ের অপনোদন


সংশয়: বর্তমান কালের মুরজিয়ারা বিদআতপূর্ণ একটি বিভক্তিকরণ করে থাকে। তারা ইস্তিহলালকে দু'ভাগে ভাগ করে। এক. কোনো হারামকে অন্তরের মধ্যে ইস্তিহলাল করা। এটা ব্যক্তিকে দীন থেকে বের করে দেয়। দুই. প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমে হারামকে হালাল করা। এটা দীন থেকে বের করে না।
শাইখ আলবানী রহ. বলেন-
لا بد من معرفة أن الكفر كالفسق والظلم ينقسم إلى قسمين: كفر ظلم فسق يخرج عن الملة، وكل ذلك يعود للاستحلال القلبي، وخلاف ذلك يعود إلى الاستحلال العملي.
অর্থাৎ জানা আবশ্যক যে, ফিসক এবং যুলমের ন্যায় কুফরও দু'প্রকার। প্রথমত, এমন কুফর, ফিসক, যুলম যা মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আর এ সকল পাপই ইস্তিহলালুল কলবী তথা কোনো বস্তু হালাল হওয়ার ব্যাপারে অন্তরের মাধ্যমে বিশ্বাস করা। আর এর বিপরীত যে কুফর মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে না, তা ফিরবে ইস্তিহলালুল আমলী তথা কাজের মাধ্যমে হালাল করার দিকে। ২৫৫
এমনিভাবে তার নিকট কুফরের প্রতি সন্তুষ্টি দু'প্রকারের। এক: অন্তরের মধ্যে কুফরের প্রতি সন্তুষ্টি, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। দুই: প্রকাশ্য কাজের মাধ্যমে কুফরীর প্রতি সন্তুষ্টি, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে না।
নিরসন: এটি বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী ও বাতিলপন্থী বিদআতীদের বিভক্তিকরণ, যা সালাফে সালেহীনের কেউই করেননি। হালাল হওয়ার বিশ্বাস করা হয়ে থাকে অন্তরের মাধ্যমে। তাই যে ব্যক্তি প্রকাশ্য কাজের মাধ্যমে কোনো গুনাহকে হালাল করলো, তাহলে তো এর আগেই সে অন্তরে ও তার মন-মানসিকতায় তা হালাল হওয়ার বিশ্বাস করে নিয়েছে। কেননা, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয়ের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধনের সম্পর্ক রয়েছে।
তবে কুফর ব্যতীত অন্য কোনো গুনাহকারীকে বলা যাবে না যে, সে গুনাহে নিপতিত হওয়ার কারণে সে উক্ত গুনাহকে হালাল সাব্যস্তকারী হয়ে গেছে। হালালকরণ অন্তরকে উন্মাদনা দেয় ও অন্তরকে মানিয়ে নেয় এবং উক্ত বিষয়ে তার দ্বারা করিয়ে নেয়। আর শুধু গুনাহ করা অন্য জিনিস, তাকে হালালকরণের নাম দেয়া হবে না। কেননা, ইস্তিহলাল হলো গুনাহটি করা হালাল হওয়ার ব্যাপারে অন্তরে বিশ্বাস করা। তাই প্রত্যেক গুনাহকারীই যেহেতু হালালকারী হয় না, তাই তাকে ইস্তিহলালকারী বলা হবে না।
মানুষ যখন ঐকমত্য সমর্থিত কোনো হারাম জিনিসকে হালাল করে অথবা ঐকমত্য সমর্থিত কোনো হালাল জিনিসকে হারাম করে কিংবা ঐকমত্য সমর্থিত কোনো শরয়ী হুকুমকে পরিবর্তন করে, তখন সে ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের ও মুরতাদ হয়ে যায়। - ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

টিকাঃ
২৫৫. মাওসূআতুল আলবানী ফিল আকীদা: ৪/২৭৭ (মারকাযুন নুমান, সানআ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00