📄 الطاعة المؤلمة তথা সাধারণ গুনাহের ক্ষেত্রে আনুগত্য
ইস্তিহলাল বা ইস্তিহসানের বশবর্তী না হয়ে গুনাহ করার ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা। যেমন কাফেরের দাওয়াতে কোনো মুসলিম মদের আসরে গেলো। এ প্রকারের অনুসরণ হলো কবীরা গুনাহ। তবে তা গুনাহকারীকে কুফরে বাওয়াহ তথা সুস্পষ্ট কুফরীর স্তরে নামিয়ে দিবে না।
📄 الطاعة المباح তথা বৈধ ক্ষেত্রে অনুসরণ
প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণে কিংবা চিকিৎসা খাতে তাদের অনুসরণ করা। যেমন ট্রাফিক প্রবিধান নির্দিষ্টকরণে অথবা ওষুধ, চিকিৎসা পদ্ধতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করা। এ রকম অনুসরণ বৈধ এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالُ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ.
“তোমাদের মুখ থেকে সাধারণত যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বলো না যে, এটা হালাল আর ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তারা সফলকাম হবে না।”২৩৪
আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ ছাড়া যে ব্যক্তি হালালকরণ বা হারামকরণ প্রক্রিয়া অবলম্বন করলো, সে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করলো। অতএব আয়াতে বর্ণিত শাস্তি তার জন্য প্রযোজ্য হবে।
এমনিভাবে অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে-
قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَامًا وَحَلالاً قُلْ اللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ
“(হে নবী) বলুন, তোমাদের কী মত, যা কিছু আল্লাহ তোমাদের জন্য রিযিক হিসাবে অবতীর্ণ করেছেন, তোমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কোনোটাকে হারাম আর কোনোটাকে হালাল সাব্যস্ত করেছো? বলো, তোমাদের আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন নাকি তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ আরোপ করছো?”২৩৫
শারহু মাআনিল আসারে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَلِيٌّ قَالَ: شَرِبَ نَفَرُ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ الْخَمْرَ وَعَلَيْهِمْ يَوْمَئِذٍ يَزِيدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ وَقَالُوا هِيَ حَلالُ وَتَأَوَّلُوا لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا} [المائدة: ٩٣] الْآيَةَ. فَكَتَبَ فِيهِمْ إِلَى عُمَرَ . فَكَتَبَ عُمَرُ أَنِ ابْعَثْ بِهِمْ إِلَيَّ قَبْلَ أَنْ يُفْسِدُوا مَنْ قِبَلَكَ. فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى عُمَرَ اسْتَشَارَ فِيهِمِ النَّاسَ فَقَالُوا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ نَرَى أَنَّهُمْ قَدْ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ وَشَرَعُوا فِي دِينِهِمْ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ فَاضْرِبْ أَعْنَاقَهُمْ وَعَلِيُّ سَاكِتُ. فَقَالَ مَا تَقُولُ يَا أَبَا الْحَسَنِ؟ قَالَ أَرَى أَنْ تَسْتَتِيبَهُمْ فَإِنْ تَابُوا ضَرَبْتُهُمْ ثَمَانِينَ ثَمَانِينَ لِشُرْبِهِمِ الْخَمْرَ، وَإِنْ لَمْ يَتُوبُوا ضَرَبْتُ أَعْنَاقَهُمْ فَإِنَّهُمْ قَدْ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ, وَشَرَعُوا فِي دِينِهِمْ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ فَاسْتَتَابَهُمْ فَتَابُوا, فَضَرَبَهُمْ ثَمَانِينَ ثَمَانِينَ.
আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সিরিয়ার কতিপয় লোক মদপান করেছিলো। তখন সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন ইয়াযীদ বিন আবু সুফইয়ান রহ.। তারা দাবি করলো, এটা হালাল এবং দলীলস্বরূপ এ আয়াত বললো, “যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোনো গুনাহ নেই। [সূরা মায়িদা: ৯০] ইয়াযীদ রহ. তাদের ব্যাপারে ফয়সালার জন্য উমার রাযি. এর নিকট পত্র লিখলেন। উত্তরে উমার রাযি. লিখলেন, তোমার ওখানে ফাসাদ সৃষ্টি করার পূর্বেই তাদেরকে আমার নিকট পাঠিয়ে দাও। তারা যখন উমার রাযি. এর নিকট আসলো, তখন তিনি তাদের ব্যাপারে সাহাবীদের নিয়ে পরামর্শে বসলেন। তাঁরা বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমরা দেখছি যে, তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করেছে এবং আল্লাহ অনুমতি দেননি এমন জিনিসকে তারা বৈধ করেছে। অতএব আপনি তাদেরকে হত্যা করুন। আলী রাযি. তখন চুপ করে ছিলেন। উমার রাযি. তাঁকে বললেন, হে আবুল হাসান, তাদের ব্যাপারে আপনার মত কী? জবাবে আলী রাযি. বলেন, আমার মতে আপনি তাদেরকে তাওবা করতে বলুন। যদি তারা তাওবা করে, তাহলে আপনি তাদেরকে মদপান করার শাস্তি হিসেবে আশিটি বেত্রাঘাত করবেন। আর যদি তারা তাওবা না করে, তাহলে আপনি তাদেরকে হত্যা করে ফেলুন। কারণ, তারা আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করেছে এবং দীনের মধ্যে এমন কিছু বৈধ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। এরপর উমার রাযি. তাদেরকে তাওবা করতে বললে তারা তাওবা করলেন। অতঃপর তাদের প্রত্যেককে আশিটি করে বেত্রাঘাত করা হলো। ২৩৬
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন-
وَمَنْ جَحَدَ وُجُوبَ بَعْضِ الْوَاجِبَاتِ الظَّاهِرَةِ الْمُتَوَاتِرَةِ: كَالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ وَصِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ وَحَجَّ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ أَوْ جَحْدِ تَحْرِيمِ بَعْضِ الْمُحَرَّمَاتِ الظَّاهِرَةِ الْمُتَوَاتِرَةِ: كَالْفَوَاحِشِ وَالظُّلْمِ وَالْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَالزِّنَا وَغَيْرِ ذَلِكَ. أَوْ جَحْدِ حِلٌّ بَعْضِ الْمُبَاحَاتِ الظَّاهِرَةِ الْمُتَوَاتِرَةِ: كَالْخُبْزِ وَاللَّحْمِ وَالنِّكَاحِ. فَهُوَ كَافِرُ مُرْتَدُّ يُسْتَتَابُ فَإِنْ تَابَ وَإِلَّا قُتِلَ وَإِنْ أَضْمَرَ ذَلِكَ كَانَ زِنْدِيقًا مُنَافِقًا لَا يُسْتَتَابُ عِنْدَ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ؛ بَلْ يُقْتَلُ بِلَا اسْتِتَابَةٍ إِذَا ظَهَرَ ذَلِكَ مِنْهُ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোনো স্পষ্ট মুতাওয়াতির ফরযের আবশ্যকীয়তা অস্বীকার করবে; যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামায, রমযানের রোযা, পবিত্র বায়তুল্লাহর হজ অথবা কোনো স্পষ্ট মুতাওয়াতির পর্যায়ের হারামগুলোর হারাম হওয়াকে অস্বীকার করবে; যেমন অশ্লীল কাজসমূহ, যুলম, মদ, জুয়া, ব্যভিচার ইত্যাদি কিংবা কোনো স্পষ্ট মুতাওয়াতির বৈধ জিনিসের হালাল হওয়াকে অস্বীকার করবে; যেমন রুটি, গোশত, বিবাহ তাহলে সে কাফের ও মুরতাদ বলে গণ্য হবে। তাকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি তাওবা করে তাহলে সে মুক্তি পাবে, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। যদি সে অন্তরের মধ্যে এসব বিষয় গোপন রাখে তাহলে সে নাস্তিক ও মুনাফিক। অধিকাংশ আলেমের মতে তার নিকট তাওবা চাওয়া হবে না; বরং যখন এরকম কোনো কিছু প্রকাশ পাবে তার নিকট তাওবা চাওয়া ব্যতীতই তাকে হত্যা করা হবে। ২৩৭
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. অন্য জায়গায় বলেন-
وَمَعْلُومٌ بِالاضْطِرَارِ مِنْ دِينِ الْمُسْلِمِينَ وَبِاتَّفَاقِ جَمِيعِ الْمُسْلِمِينَ أَنَّ مَنْ سَوَّغَ اتَّبَاعَ غَيْرِ دِينِ الْإِسْلَامِ أَوْ اتِّبَاعَ شَرِيعَةٍ غَيْرِ شَرِيعَةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ كَافِرُ وَهُوَ كَكُفْرٍ مَنْ آمَنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَكَفَرَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا) أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا}.
অর্থাৎ দীন ইসলামের বাধ্যবাধকতা এবং সকল মুসলমানের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এটা জানা যে, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত ভিন্ন কোনো দীনের অনুসরণকে জায়েয বলবে অথবা শরীয়তে মুহাম্মাদী ব্যতীত ভিন্ন শরীয়তের আনুগত্যকে বৈধ বলবে, সে কাফের বলে গণ্য হবে। সে হলো তার মতো কাফের, যে কুরআনের কিছু অংশের প্রতি ঈমান আনলো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করলো। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় এবং বলে যে, আমরা কিয়দাংশ বিশ্বাস করি আর কিয়দাংশ অস্বীকার করি এবং তারা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোনো পথ অবলম্বন করতে চায়। বস্তুত এরাই হলো প্রকৃত কাফের। আর আমি কাফেরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। [সূরা নিসা: ১৪৯- ১৫০]২৩৮
এ ব্যাপারে সাইয়েদ কুতুব শহীদ রহ. বলেন-
أن الذي يملك حق التحريم والتحليل هو الله وحده. وليس ذلك لأحد من البشر لا فرد ولا طبقة ولا أمة ولا الناس أجمعين إلا بسلطان من الله وفق شريعة الله. والتحليل والتحريم - أي الحظر والإباحة - هو الشريعة وهو الدين. فالذي يحلل ويحرم هو صاحب الدين الذي يدين الناس. فإن كان الذي يحرم ويحلل هو الله فالناس إذن يدينون الله وهم إذن في دين الله وإن كان الذي يحرم أو يحلل أحداً غير الله فالناس إذن يدينون لهذا الأحد, وهم إذن في دينه لا في دين الله. والمسألة على هذا الوضع هي مسألة الألوهية وخصائصها. وهي مسألة الدين ومفهومه. وهي مسألة الإيمان وحدوده. فلينظر المسلمون في أنحاء الأرض أين هم من هذا الأمر؟ أين هم من الدين وأين هم من الإسلام. إن كانوا ما يزالون يصرون على ادعائهم للإسلام!!!
অর্থাৎ কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম করার একমাত্র হকদার আল্লাহ তাআলা। কোনো মানুষের এ ধরনের অধিকার নেই। না কোনো ব্যক্তির, না কোনো দলের, না কোনো জাতির আর না ঐক্যবদ্ধভাবে সকল মানুষের। তবে আল্লাহর শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্যশীল কোনো দলীল যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে থাকে, তবে তা ভিন্ন কথা। হালাল ও হারামকরণ তথা বৈধতা ও অবৈধতা দান এটাই শরীয়ত, এটাই দীন। সুতরাং যিনি হালাল ও হারাম করেন তিনিই দীনের মালিক, লোকেরা যার আইন অনুসরণ করে চলে। অতএব হালাল ও হারামকারী যদি আল্লাহ হয়ে থাকেন, তাহলে লোকেরা তখন তাঁরই অনুসরণ করবে এবং তারা তখন তাঁরই দীনে থাকবে। আর হালাল ও হারামকারী যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ হয়, তাহলে মানুষ তার অনুসরণের কারণে সে ব্যক্তির দীনভুক্ত হবে, আল্লাহর দীনভুক্ত নয়। আইন প্রণয়নের দাবিটি উলুহিয়্যাতের দাবি ও বৈশিষ্ট্য। এটি দীনের দাবি ও দীনের মূলনীতি। ঈমান ও দীনের দাবি। যদিও মুসলমানরা চিৎকার করে মুসলিম হওয়ার দাবি করে, তবুও সারা বিশ্বের মুসলিমদের লক্ষ্য করা উচিত, এ বিষয়ে তাদের অবস্থান কোথায়? তারা এ দীনের কোথায় আছে? তারা ইসলামের কোন বিধানের উপর আছে? ২৩৯
টিকাঃ
২৩৪. সূরা নাহল: ১১৬
২৩৫. সূরা ইউনুস: ৫৯
২৩৬. শারহু মাআনিল আসার: ৩/১৫৪, হা. নং ৪৮৯৯ (আলামুল কুতুব, বৈরূত)
২৩৭. মাজমুউল ফাতাওয়া: ১১/৪০৫ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)
২৩৮. মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৮/৫২৪ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)
২৩৯. ফী যিলালিল কুরআন: ২/৬১১ (দারুশ শুরূক, কায়রো)
📄 হারামকে হালালকারী ব্যক্তি কাফের হয়ে যাওয়ার কারণ
১. আল্লাহ তাআলার হারামকৃত বস্তুকে হালাল করার কারণে হালালকারী আল্লাহর ফয়সালাকে প্রত্যাখ্যান করলো, তাঁর ফয়সালা থেকে বিমুখ হয়ে গেলো, তাঁর দেয়া ফয়সালা অনুসরণ করতে অস্বীকৃতি জানালো। যার ফলে সে কুফরে আকবারে লিপ্ত হয়ে কাফের হয়ে যাবে। কারণ, তার মাঝে একেবারেই ঈমান নেই।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فَلا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً.
“কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা ততোক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতোক্ষণ না তারা আপনাকে বিবাদমান বিষয়সমূহে বিচারক বানাবে। অতঃপর আপনার ফয়সালাকৃত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা-সংশয় না রাখবে এবং হৃষ্টচিত্তে তারা তা মেনে নিবে।”২৪০
আদ্দুররুল মানসূরে বর্ণিত হয়েছে-
عن أبي الأسود قَالَ: اختصم رجلانِ إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقضَى بَينهمَا فَقَالَ الَّذِي قضي عَلَيْهِ: ردنا إِلَى عمر بن الخطاب. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: نعم انطلقا إلى عمر. فَلَمَّا أَتَيَا عمر قَالَ الرجل: يا ابن الخطاب قضى لي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم على هَذَا فَقَالَ: ردنا إلى عمر فَرَدَّنَا إِلَيْكَ. فَقَالَ: أَكَذَلِكَ قَالَ: نعم، فَقَالَ عمر : مَكَانَكُمَا حَتَّى أخرج إِلَيْكُمَا فأقضي بَيْنَكُمَا فَخرج إِلَيْهِمَا مُشْتَمِلًا على سَيْفِهِ فَضرب الَّذِي قال: ردنا إلى عمر فقتله وأدبر الآخر فَارًّا إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ: يَا رَسُول الله قتل عمر وَاللَّهِ صَاحِبِي وَلَوْلَا أَنِّي أَعْجَرْته لَقَتَلَنِي. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: ما كنت أظن أن يجترىء عمر على قتل مؤمنين فأنزل الله {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ} الآية. فهدر دم ذلك الرجل وبرأ عمر من قتله.
অর্থাৎ আবুল আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু'জন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বিচার দায়ের করে। অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মাঝে ফয়সালা করে দিলেন। তখন যার বিরুদ্ধে ফয়সালা হলো, সে বললো, আমাদেরকে উমার রাযি.-এর নিকট পাঠান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ঠিক আছে, তোমরা উমারের কাছেই যাও। অতঃপর তারা দু'জন যখন উমার রাযি.-এর নিকট এলো, তখন যার পক্ষে ফয়সালা হয়েছিলো সে বললো, হে উমার পুত্র, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ লোকটির বিপরীত আমার পক্ষে রায় দিলে লোকটি বললো, আমাদেরকে উমার রাযি.-এর নিকট পাঠান। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। তখন যার বিপক্ষে রায় হয়েছিলো উমার রাযি. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, বিষয়টি কি এমনই? সে বললো, হ্যাঁ।
তারপর উমার রাযি. বললেন, তোমরা নিজ স্থানে থাকো। আমি এসে তোমাদের বিচার করবো। তারপর তিনি একটি তলোয়ার নিয়ে বের হলেন। অতঃপর যে বলেছিলো, আমাদেরকে উমারের নিকট পাঠান তাকে তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করে দিলেন। অন্যজন পিছন দিক ফিরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট দৌঁড় দিয়ে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর শপথ! উমার আমার সঙ্গীকে হত্যা করেছে। আমি যদি তাকে অক্ষম না করতাম (অর্থাৎ তার কাছে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিচার মেনে নেয়ার কথা না বলতাম) তাহলে সে আমাকেও মেরে ফেলতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ধারণাই ছিলো না যে, উমার একজন মুমিনকে হত্যা করার মতো স্পর্ধা দেখাবে! তারপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন- "কিন্তু না আপনার রবের শপথ! তারা ততোক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না; যতক্ষণ না তারা আপনাকে বিবাদমান বিষয়সমূহে বিচারক বানাবে।” অতএব নিহত লোকটির রক্ত বৃথা গেলো। আর আল্লাহ তাআলা উক্ত হত্যা থেকে উমার রাযি.-কে মুক্ত করলেন। ২৪১
২. আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালাল করে, আল্লাহর বিধানকে পরিবর্তন করার দ্বারা হালালকারী আল্লাহর ফয়সালাকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করলো। বিষয়টি এরকম যে, আল্লাহ তাআলা বললেন, এ বস্তুটি হারাম। আর সে এসে বললো, না; বরং তা হালাল। অথবা আল্লাহ বললেন, অমুক জিনিসটি হালাল। সে এসে বললো, না; বরং তা হারাম। এটা সরাসরি আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ এবং কুফরে বাওয়াহ তথা সুস্পষ্ট কুফরী। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ.
“আল্লাহ নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশকে পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই। আর তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।”২৪২
তিনি আরো বলেন-
إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ.
“নিশ্চয় আল্লাহ তাই আদেশ দেন, যা তিনি চান।”২৪৩
৩. আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালাল করে হালালকারী বলতে চাচ্ছে, আল্লাহ তাঁর দীনের মধ্যে যা শরীয়তসম্মত করেছেন, তাতে আল্লাহ ভুল করেছেন। সে আল্লাহর ব্যাপারে অপূর্ণতা ও দুর্বলতা আরোপ করছে, যদ্বারা সে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করছে। আর নিঃসন্দেহে এটি কুফরে বাওয়াহ তথা সুস্পষ্ট কুফরী।
এর দৃষ্টান্ত এরূপ যে, আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয়ে বলছেন, এটা হারাম। আর সে এসে বললো না; বরং তা হালাল। কেননা, এটির হারামকরণ শুদ্ধ ও বৈধ হয়নি। তা যুগের উপযোগী হয়নি। মানব সভ্যতার সাথে এর হারামকরণ মিলে না। তা মানব সভ্যতার চাহিদা পূরণ করে না। আর নিশ্চয়ই এ ধরনের কথাবার্তা সুস্পষ্ট কুফরী।
৪. আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালালকারী নিজেকে আল্লাহর অংশীদাররূপে দাঁড় করিয়েছে। বিধান দান ও আইন প্রণয়নে আল্লাহকে ছেড়ে নিজেকে যুক্ত করেছে, যা সরাসরি কুফর ও শিরক।
তার দৃষ্টান্ত এরকম যে, আল্লাহ তাআলা বলছেন, “আল্লাহ ছাড়া বিধানদাতা কেউ নেই।” [সূরা আনআম: ৫৭] আর সে এসে বলতে চাইছে, না; বরং আমি ছাড়া বিধানদাতা কেউ নেই। আমি যা হালাল বলবো, তাই হালাল। আমি যা হারাম বলবো, তাই হারাম। এ ব্যাপারে সবাইকে আমার আনুগত্য করতে হবে।
আর এটাই তো উলুহিয়্যাতের দাবি, যা করেছিলো ফেরাউন। সে বলেছিলো, “হে পরিষদবর্গ, আমি জানি না যে, আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য আছে।” [সূরা কাসাস: ৩৮] অর্থাৎ আমার জানা নেই যে, আমি ব্যতীত তোমাদের এমন কোনো সত্তা আছে কিনা, যাকে তোমরা আনুগত্য করবে এবং তিনি এ সকল বিষয়ে বিধান দিবেন। তাই আইন প্রণয়ন, হালালকরণ, হারামকরণ একমাত্র আমার ক্ষমতা, অন্য কেউ এর উপযুক্ত নয়। আর এটাই তাগুত ফেরাউনের উলুহিয়্যাতের দাবি, যা সে নিজের জন্য করে নিকৃষ্ট কাফেরে রূপান্তরিত হয়েছিলো।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَداً.
“বিধানদানের ক্ষেত্রে তিনি কাউকে অংশীদার করেন না।”২৪৪
এখন হালালকারী এসে বলবে, বরং আমি বিধানদান ও আইন প্রণয়নের ব্যাপারে আল্লাহর অংশীদার, যা মানুষকে দীনের মতোই পালন করতে হবে। আল্লাহ যা হালাল বলেছেন তা নয়; বরং আমি যা হালাল বলবো তাই হালাল। আল্লাহ যা হারাম বলেছেন তা নয়; বরং আমি যা হারাম বলবো তাই হারাম। আর এটি এমন শিরক এবং কুফরে বাওয়াহ, যা আল্লাহ তাআলা পরিশুদ্ধ তাওবা ব্যতীত ক্ষমা করবেন না।
৫. আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত জিনিসকে হালালকারী যেনো নিজ প্রবৃত্তিকে উপাস্যতুল্য বলছে। সে নিজ প্রবৃত্তিকে ইবাদত ও আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য বিবেচনা করছে। ফলে তার প্রবৃত্তি যা কিছুকে হালাল বলবে, তাই হালাল এবং যা কিছুকে হারাম বলবে, তাই হারাম। মূলত সে তার প্রবৃত্তির পূজা করছে, এছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন- أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ. “আপনি কি দেখেননি, যে নিজ প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে। আল্লাহ জ্ঞাতসারেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন।”২৪৫
তিনি আরো বলেন- وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدىً مِنَ اللَّهِ. “আল্লাহর হিদায়াতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে? ২৪৬
তিনি আরো বলেন- وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ. “আপনি তার অনুগত্য করবেন না, যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং সে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে।”২৪৭
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন-
فَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ مَا يَهْوَاهُ فَقَدْ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ فَمَا هَوِيَهُ هَوِيَةٍ إِلَهُهُ فَهُوَ لَا يَتَأَلَّهُ مَنْ يَسْتَحِقُّ التَّأَلُّهَ بَلْ يَتَأَلَّهُ مَا يَهْوَاهُ وَهَذَا الْمُتَّخِذُ إِلَهَهُ هَوَاهُ لَهُ مَحَبَّةٌ كَمَحَبَّةِ الْمُشْرِكِينَ لِآلِهَتِهِمْ، وَمَحَبَّةِ عُبَّادِ الْعِجْلِ لَهُ وَهَذِهِ مَحَبَّةٌ مَعَ اللَّهِ لَا مَحَبَّةُ لِلَّهِ وَهَذِهِ مَحَبَّةُ أَهْلِ الشَّرْكِ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি স্বীয় মন যা চায় তার ইবাদত করে (প্রকৃতপক্ষে) সে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করলো। সে যাকে মন চায় ইলাহ বানায়। কিন্তু যে সত্তা ইলাহ হওয়ার উপযুক্ত তাকে সে ইলাহরূপে গ্রহণ করে না; বরং সে যাকে চায় তাকে ইলাহরূপে গ্রহণ করে। আর এ ব্যক্তিই হলো নিজ প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণকারী। মুশরিকরা নিজেদের উপাস্যকে যেরকম ভালোবাসে, গো-পূজারিরা গরুকে যেরকম ভালোবাসে, সেও নিজ প্রবৃত্তিকে সেরূপ ভালোবাসে। আর এটি হলো আল্লাহর সাথে সাথে অন্য কাউকে ভালোবাসা, এটি আল্লাহর জন্য ভালোবাসা নয়। আর মুশরিকরাই এ ধরনের ভালোবাসা পোষণ করে। ২৪৮
এ সমস্ত কারণে উম্মতের পূর্বসূরী ও উত্তরসূরীগণের সকলে একমত যে, আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বস্তুকে হালালকারী এবং হালালকৃত বস্তুকে হারামকারী কাফের। এ ব্যাপারে কোনো আলেমই ভিন্নমত পোষণ করেননি।
টিকাঃ
২৪০. সূরা নিসা: ৬৫
২৪১. আদ্দুররুল মানসূর: ২/৫৮৫ (দারুল ফিকর, বৈরূত)
২৪২. সূরা রাদ: ৪১
২৪৩. সূরা মায়িদা: ০১
২৪৪. সূরা কাহফ: ২৬
২৪৫. সূরা জাসিয়া: ২৩
২৪৬. সূরা কাসাস: ৫০
২৪৭. সূরা কাহফ: ২৮
২৪৮. মাজমূউল ফাতাওয়া: ৮/৩৫৯ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)
📄 হারামকে হালালকারী ব্যক্তির তাওবা কবুলের শর্তসমূহ
পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, মুরতাদের ব্যাপারে বিধান হলো, তাকে কুফর থেকে তাওবা করার জন্য বলা হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ.
“তবে যারা তাওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে আর সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, আমি সে সমস্ত লোকের তাওবা কবুল করি। আর আমি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।”২৪৯
আল্লাহ জানিয়ে দিচ্ছেন, তিনি রিদ্দাহ বা ধর্মত্যাগের পর তাওবাকারীর জন্যও ক্ষমাশীল ও দয়ালু। এদ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে তার ক্ষমার আশা করা যায়। তাই তাওবা চাওয়ার আগেই তাকে হত্যা করা যাবে না। অর্থাৎ তাওবা তার উপর থেকে হত্যার শাস্তিকে বাদ করে দিবে এবং তার পূর্বের গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দিবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ. فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ.
“অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসসমূহ অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদেরকে যেখানে পাবে হত্যা করো। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।”২৫০
আর সাহাবায়ে কেরামের ইজমাও এর পক্ষে। যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করলেন মক্কা, মদীনা ও তায়েফ অঞ্চল ব্যতীত অধিকাংশ আরব মুরতাদ হয়ে যায়। একদল লোক মুসাইলামা, আনসী, তুলায়হা আসাদীর মতো ভণ্ড নবুয়তের দাবিদারদের অনুসারী হয়। তাদের অধিকাংশই ইসলামে ফিরে আসা পর্যন্ত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. এবং সকল সাহাবী রাযি. তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। সাহাবায়ে কেরাম রাযি. তাদের ফিরে আসাকে মেনে নিলেন। যারা ইসলামে ফিরে এসেছে তাদের একজনকেও এর পরে আর হত্যা করা হয়নি। ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে আবার ফিরে আসা একজন বড় নেতা হলো মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার তুলায়হা আসাদী, আশআস বিন কাইস। আর এ ব্যাপারটি কোনো গোপনীয় বিষয় নয়; বরং সকলের নিকটই তা স্পষ্ট।
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. বলেন- من كان كفره بإنكار أمر ضروري كحرمة الخمر مثلاً أنه لابد من تبرؤه مما كان يعتقده، لأنه كان يقر بالشهادتين معه، فلابد من تبرؤه منه، كما صرح به الشافعية، وهو ظاهر رد المحتار من الارتداد. قلت: وفي جامع الفصولين: ثم لو أتى بكلمة الشهادة على وجه العادة لم ينفعه ما لم يرجع عما قال، إذ لا يرتفع بها كفره.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দীনের স্বতঃসিদ্ধ কোনো বিধানকে অস্বীকার করার কারণে কাফের হয়ে যাবে; যেমন মদ হারাম হওয়া, তাহলে সে যে বিশ্বাস পালন করে তা থেকে তার মুক্ত হওয়া আবশ্যক। কারণ, সে এ বিশ্বাস নিয়েই তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছিলো। তাই তাকে আগে এ বিশ্বাস থেকে মুক্ত হতে হবে; যেমনটা শাফেয়ীগণ উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে রদ্দুল মুহতারের ভাষ্য থেকে উক্ত ব্যক্তি মুরতাদ হওয়া বুঝা যায়। আমি বলবো, জামিউল ফুসূলাইনে আছে- সে যা বলেছে তা থেকে প্রত্যাবর্তন করা ব্যতীত যদি সে অভ্যাসবশত কালিমায়ে শাহাদত পাঠ করে, তাহলে এ পাঠ করার দ্বারা তার কোনো উপকার হবে না। কেননা, এতে তার কুফরী বিদূরিত হয়ে যাবে না।” ২৫১
সে কাফেরই থেকে যাওয়ার কারণ তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য অস্বীকার করা নয়; বরং সে মদকে হালাল করা এবং মদের হারাম হওয়াকে অস্বীকার করার কারণে সে কাফের হয়ে গেছে। আর যার অবস্থা এমন হবে, ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া ও তার কাফের হওয়ার কারণটি মূলোৎপাটিত করা পর্যন্ত সে যদি অন্য সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে আনুগত্য করে, তবুও তা তার কোনো উপকারে আসবে না। তার থেকে কুফর ও ইরতিদাদের হুকুম উঠে যেতে হলে তাকে তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্যদানের সাথে সাথে উক্ত বিশ্বাস থেকে মুক্ত হতে হবে এবং ঈমান ভঙ্গকারী উক্ত বিষয় থেকে তাকে তাওবা করতে হবে।
মাসআলাটি স্পষ্ট করার জন্য এ উদাহরণ দেয়া যেতে পারে যে, যদি কেউ বলে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয নয়। মুসলমানদের উপর তা আদায় করা আবশ্যক নয়। তা সত্ত্বেও সে নামায পড়ে, রমযানের রোযা রাখে, বায়তুল্লাহর হজ করে, আল্লাহর পথে জিহাদ করে, আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট সকল ইবাদত করে। কিন্তু তার এ সকল ইবাদত কোনো কাজেই আসবে না। এগুলো নতুন করে তাকে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করাবে না; যতোক্ষণ না সে তার পূর্বে বলা কথার মূলোৎপাটন করে নামায ফরয হওয়া ও তা আদায় করা ফরয হওয়ার ব্যাপারটি স্বীকার করে নিবে। আর এটি স্পষ্ট। এতে কোনো ধরনের মতানৈক্য নেই।
বোঝা গেলো, নেককাজ যতোই বড় হোক, যদি তার মোকাবেলায় কুফরে বাওয়াহ বা শিরকে আকবার আসে, তাহলে শাহাদতের সাক্ষ্য দিলেও তার জন্য সুপারিশের কারণ হবে না এবং তা তার কোনো ধরনের উপকারও করতে পারবে না। আল্লাহর ইচ্ছায় তা তখনই উপকারী হবে, যখন কুফর ও শিরক থেকে মুক্ত থাকা হবে এবং যখন কাজটি একদিক থেকে কুফরী হওয়ার সম্ভাবনা রাখবে এবং অপর দিক থেকে কুফরী না হওয়ার সম্ভাবনা রাখবে।
টিকাঃ
২৪৯. সূরা বাকারা: ১৬০
২৫০. সূরা তাওবা: ০৫
২৫১. ইকফারুল মুলহিদীন: পৃ. ৬৩ (আল মাজলিসুল ইলমী, পাকিস্তান)