📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 সারಾಂಶ

📄 সারಾಂಶ


কিতাবুল্লাহ এবং সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো শরয়ী বিধানের মূল ও প্রকাশ্য অর্থ থেকে অন্য কোনো অর্থে ততোক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করা যাবে না, যতোক্ষণ না শরয়ী অন্য কোনো দলীল সে অর্থ বোঝায়। যদি অর্থ পরিবর্তনকারী দলীল না থাকে, তাহলে তার মূল ও প্রকাশ্য অর্থের উপরই হুকুমটি বিদ্যমান থাকবে।
যারা তাকফীরের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে এমন গুনাহের কারণে তাকফীর করে, যে গুনাহ করলে তাকফীর করা আদৌ জায়েয নয়, তারা অধিকাংশ সময় এ মূলনীতিটি না বোঝার কারণেই তাকফীর করে। তা ছাড়া তারা সঠিক ইলম ও প্রজ্ঞার সাথে কর্মপন্থা নির্ধারণ করে না। যেমন কিছু গুনাহের ক্ষেত্রে 'কুফর' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তারা তা কুফরে আকবরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে ফেলে, অথচ তা থেকে উদ্দেশ্য হলো কুফর আসগর বা ছোট কুফর। তারা একটি নসে 'কুফর' শব্দ পেলে সাধারণভাবে আর অন্য কোনো নসের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, যে নসে উক্ত কুফরের দ্বারা কী উদ্দেশ্য, তার বর্ণনা পাওয়া যায়। ফলে তারা উক্ত নসের সরাসরি অর্থটা ধরে মানুষকে তাকফীর করে। নিঃসন্দেহে এটা অনেক বড় একটা ভুল। তারা বুঝতে পারুক বা না পারুক, তারা সীমালঙ্ঘনকারী খাওয়ারিজদের দলের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।
অন্য আরেকটি দল আছে, যারা তাকফীরের ক্ষেত্রে ছাড়াছাড়ি করেন। ফলে তারা যে স্থানে তাকফীর আবশ্যক হয়, সেখানে ছাড়াছাড়ির নীতি অবলম্বন করে তাদেরকে মুসলমান হিসেবে সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করে। এক্ষেত্রে তারা ঐসব নসের উপর ভরসা করে, যার মধ্যে এমন কিছু বদ আমল ও গুনাহের কথা বলা হয়েছে, যা কুফরে আসগার তথা ছোট কুফর। তারা কুফরে আকবার বা শিরকে আকবারের মতো গুনাহের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তাকে ছোট কুফর হিসেবে প্রয়োগ করে। যার ফলে তারা শরয়ীভাবে যে স্থানে তাকফীর করা ওয়াজিব হয়, সে স্থানে তাকফীর করা থেকে বিরত থাকেন। আর এটা অবশ্যই একটি প্রকাশ্য ভুল। আর এরকম মনোভাব ও মতামত পোষণকারীরা মুরজিয়াদের দলভুক্ত হয়ে যায়, চাই তারা তা জানুক, বা না জানুক।
আর নিঃসন্দেহে সত্য পথ হলো, এ দু'টির মধ্যবর্তী পন্থা। যে পথে প্রান্তিকতা নেই, কোনো বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি নেই। তারা হলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ। যারা শরয়ী নসের অর্থকে নিষ্ক্রিয়করণ অথবা বিকৃ তকরণ ব্যতীত নসকে তার সঠিক অর্থে প্রয়োগ করেন। আর এটিই হলো সরল সঠিক পথ, যার অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ.
“আর নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব এ পথেই চলো, অন্যান্য পথে চলো না। নচেৎ সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।”২২২

টিকাঃ
২২২. সূরা আনআম: ১৫৩

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 সতর্কীকরণ: ১

📄 সতর্কীকরণ: ১


কিছু আহলে ইলম 'কুফরে আমলী' পরিভাষাকে শর্তহীন হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন ছোট কুফরে আমলী অথবা কুফর দূনা কুফর তথা ছোট কুফর, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। তাদের এ শর্তহীন ব্যবহারের কারণে জাহমিয়া ও মুরজিয়ারা নিজেদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করণার্থে সুবিধা পেয়ে যায়। ফলে তারা এমন সব আমলের ক্ষেত্রে এ পরিভাষাটি ব্যবহার করে, যেসব আমল ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আর এক্ষেত্রে তারা স্বীয় বিচ্যুতির দলীল হিসেবে উক্ত আহলে ইলমের সন্দেহপূর্ণ প্রয়োগকে ব্যবহার করে।
তাই এ ভুল ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তারা যেনো অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে এবং এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে ভুল ছড়িয়ে না পড়ে এজন্য এর সাথে 'আসগর' তথা 'ছোট' শব্দ দ্বারা যুক্ত করতে হবে। তাই বলতে হবে, ছোট কুফরে আমলী অথবা কুফর দূনা কুফর বা নিআমতের কুফরী। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 সতর্কীকরণ: ২

📄 সতর্কীকরণ: ২


ছোট কুফর বা ছোট শিরক শুধু বাহ্যিক আমলের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; যেমনটি অনেকে ধারণা করে থাকে। বরং ছোট কুফর কর্ম ও কথা উভয় ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। যেমন অন্যায়ভাবে হত্যা করা, ব্যভিচার করা, মদপান করা, চুরি করা ইত্যাদি কাজগুলো ছোট কুফর বলে বিবেচিত। অনুরূপভাবে কিছু কথাও এমন রয়েছে, যা ছোট কুফর বা ছোট শিরক বলে বিবেচিত। যেমন ইবাদত হিসাবে নয়; বরং অভ্যাসবশত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা, কারো মৃত্যুতে বিলাপ করা, কাউকে গালি দেয়া, অভিশাপ করা ইত্যাদি কথাগুলো ছোট কুফর হিসেবে বিবেচিত। এগুলোকে হাদীসে কুফর-শিরক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে ছোট কুফর বা ছোট শিরক।
তেমনিভাবে বিশ্বাস বা অন্তরের কিছু বিষয়ও এমন রয়েছে, যা ছোট কুফর বা ছোট শিরক বলেই বিবেচিত। যেমন রিয়া তথা লৌকিততা, যাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছোট শিরক বলে উল্লেখ করেছেন।
ছোট বড় সকল প্রকার কুফর ও শিরক থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হেফাযত করুন। আমীন!
فَإِنْ لَمْ يَكُنْ مُبْعْضًا لِشَيْءٍ مِنْ الْمُحَرَّمَاتِ أَصْلَاء لَمْ . يَكُنْ مَعَهُ إِيمَانُ أَصْلًا অর্থাৎ যদি সে কোনো হারাম কাজের প্রতি ঘৃণা পোষণ না করে, তাহলে তার ভিতরে মূলত একেবারেই ঈমান নেই।” - ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00