📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 দলীল

📄 দলীল


সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ، يَكْفُرْنَ قِيلَ: أَيَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: يَكْفُرْنَ العَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ، ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا، قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ.
ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। (আমি দেখি) তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারণ) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে? তিনি বললেন, তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাকো, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে উঠে, আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।২০৯
লক্ষ্য করি, সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বর্ণনাকৃত 'কুফর' শব্দটি দ্বারা আল্লাহর সাথে কুফরী বুঝেছিলেন। কারণ, এখানে এটি কোনো বিশেষ লক্ষণ বা পার্শ্বইঙ্গিত ছাড়াই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করেছেন। এজন্য পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভিন্নভাবে বলে দিলেন যে, এস্থলে কুফর শব্দের দ্বারা নিআমতের কুফরী তথা অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞতা উদ্দেশ্য। সাহাবায়ে কেরাম যেটা বুঝেছিলেন সেটা উদ্দেশ্য নয়।
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَتَوَجَّأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَمَنْ شَرِبَ سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا، وَمَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَرَدَّى فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি লৌহাস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে দীর্ঘকাল যাবত তা দিয়ে তার পেটে আঘাত করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে দীর্ঘকাল যাবত তা পান করতে থাকবে। আর যে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে দীর্ঘকাল যাবত এভাবে ঝাঁপ দিতে থাকবে। ২১০
এ হাদীসে আত্মহত্যাকারীর জন্য জাহান্নামে চিরস্থায়ী শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। এখানে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا যার মূল অর্থ চিরস্থায়ী। যদিও রূপকভাবে একে 'দীর্ঘকাল' এর অর্থে ব্যবহার করারও সুযোগ আছে। এখানে শব্দটির মূল অর্থ তথা 'চিরস্থায়ী' উদ্দেশ্য নিলে প্রমাণ হয় যে, আত্মহত্যা কুফরে আকবার, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আর তার রূপক অর্থ তথা 'দীর্ঘকাল' উদ্দেশ্য নিলে আত্মহত্যা ছোট কুফর হিসেবে সাব্যস্ত হয়, যা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হলেও ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। আমরা হাদীসটির অনুবাদে শব্দটির রূপক অর্থ ধরে আত্মহত্যাকে ছোট কুফর হিসেবে সাব্যস্ত করেছি। কারণ, শব্দের প্রকাশ্য ও মূল অর্থ নেয়ার নিয়ম থাকলেও ভিন্ন আরেকটি লক্ষণ ও নিদর্শন থাকায় আমরা এখানে خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا এর রূপক অর্থ উদ্দেশ্য নিয়েছি।
ভিন্ন সে লক্ষণটি হলো অন্য হাদীসে বর্ণিত একটি ঘটনা। যেমন সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ الطُّفَيْلَ بْنَ عَمْرٍو الدَّوْسِيَّ، أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، هَلْ لَكَ فِي حِصْنٍ حَصِينٍ وَمَنْعَةٍ؟ قَالَ: حِصْنُ كَانَ لِدَوْسٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ - فَأَبَى ذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلَّذِي ذَخَرَ اللهُ لِلْأَنْصَارِ، فَلَمَّا هَاجَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمَدِينَةِ، هَاجَرَ إِلَيْهِ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو وَهَاجَرَ مَعَهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ، فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ، فَمَرِضَ، فَجَزِعَ، فَأَخَذَ مَشَاقِصَ لَهُ، فَقَطَعَ بِهَا بَرَاجِمَهُ، فَشَخَبَتْ يَدَاهُ حَتَّى مَاتَ، فَرَآهُ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو فِي مَنَامِهِ، فَرَآهُ وَهَيْئَتُهُ حَسَنَةٌ، وَرَآهُ مُغَطَّيًا يَدَيْهِ، فَقَالَ لَهُ: مَا صَنَعَ بِكَ رَبُّكَ؟ فَقَالَ: غَفَرَ لِي بِهِجْرَتِي إِلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَا لِي أَرَاكَ مُغَطَّيًا يَدَيْكَ؟ قَالَ: قِيلَ لِي: لَنْ نُصْلِحَ مِنْكَ مَا أَفْسَدْتَ، فَقَصهَا الطُّفَيْلُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اللهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ.
জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত যে, তুফাইল বিন আমর দাউসী রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কি একটি সুদৃঢ় দুর্গ এবং প্রতিরক্ষা দরকার? জাবির রাযি. বলেন, জাহেলিয়াতের যুগে দাউস গোত্রের একটি দুর্গ ছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন, যা আল্লাহ তাআলা আনসারদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন। অতঃপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করেন তখন তুফাইল বিন আমর দাওসী রাযি. তাঁর নিকট হিজরত করে চলে এলেন এবং সাথে তার স্বগোত্রীয় এক লোকও হিজরত করলো। মদীনার আবহাওয়া বিরূপ হওয়ায় সে লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়লো। এতে সে অসুস্থতায় অধৈর্য হয়ে ছুরি নিয়ে স্বীয় হাতের কব্জি কেটে ফেললো। ফলে হাত থেকে দ্রুতবেগে রক্তক্ষরণের দরুন সে মৃত্যুবরণ করলো। অতঃপর তুফাইল বিন আমর রাযি. তাকে স্বপ্নে দেখলেন যে, তার অবয়ব ও বেশভূষা খুবই সুন্দর; কিন্তু তার হাত দুটি আবৃত করা। তুফাইল রাযি. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রব তোমার সাথে কীরূপ আচরণ করেছেন? উত্তরে সে বললো, আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট হিজরত করার কারণে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তুফাইল রাযি. পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আমি তোমার হাত দুটি আবৃত দেখছি, তার কারণ কী? সে বললো, আমাকে বলা হয়েছে, তুমি ইচ্ছাকৃতভাবে যা ক্ষতি করেছো আমি কক্ষনো তা ঠিক করবো না। অতঃপর তুফাইল রাযি. পুরো ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন, হে আল্লাহ, তার হাত দু'টিকেও ক্ষমা করে দিন। ২১১
ইমাম নববী রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন- فَفِيهِ حُجَّةٌ لِقَاعِدَةٍ عظيمة لِأَهْلِ السُّنَّةِ أَنَّ مَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ أَوِ ارْتَكَبَ مَعْصِيَةً غَيْرَهَا وَمَاتَ مِنْ غَيْرِ تَوْبَةٍ فَلَيْسَ بِكَافِرٍ وَلَا يُقْطَعُ لَهُ بِالنَّارِ بَلْ هُوَ فِي حُكْمِ الْمَشِيئَةِ.
অর্থাৎ এ হাদীসে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'র পক্ষে একটি মূলনীতির দলীল পাওয়া যায়। আর তা হলো, যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে অথবা অন্য কোনো গুনাহ করবে এবং তাওবা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করবে, সে কাফের বলে বিবেচিত হবে না। তার দোযখে অবস্থানও চিরস্থায়ী হবে না; বরং সে আল্লাহর ইচ্ছায় থাকবে। (অর্থাৎ চাইলে তিনি তাকে ক্ষমা করবেন আর চাইলে শাস্তি দিবেন।) ২১২
ইমাম আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহ. বলেন-
فِيمَا وَرَدَ مِنْ مِثْلِ هَذَا مِمَّا ظَاهِرُهُ تَكْفِيرُ أَصْحَابِ الْمَعَاصِي إِنَّ ذَلِكَ عَلَى جِهَةِ التَّغْلِيظِ وَالزَّجْرِ عَنْهُ وَهَذَا مَعْنَى مَلِيحٌ وَلَكِنْ يَنْبَغِي أَنْ يُضَمَّ إِلَيْهِ مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ كَوْنِهِ كَافِرَ النَّعَمِ.
অর্থাৎ এ ধরনের গুনাহের ক্ষেত্রে যেসব ক্ষেত্রে বাহ্যত গুনাহকারীকে কাফের হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা কঠোর ধমক ও হুমকি হিসেবে বলা হয়েছে। আর এটা চমৎকার একটি ব্যাখ্যা। তবে এখানে এ ব্যাখ্যাও বলার অবকাশ আছে, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সে (আল্লাহকে অস্বীকারকারী নয়; বরং) নিআমতের অস্বীকারকারী। ২১৩
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً
“যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” ২১৪
দলীলের বাহ্যিক অবস্থা থেকে বোঝা যায়, এ ধরনের হত্যাকারী কাফের। কেননা, চিরস্থায়ী জাহান্নাম একমাত্র কাফেরের জন্য হয়ে থাকে।
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقُ وَقِتَالُهُ كُفْرُ.
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলমানকে গালি দেয়া ফিসক তথা মহাপাপ এবং তাকে হত্যা করা কুফরী। ২১৫
এতে মুমিনকে ইচ্ছা করে হত্যাকারীকে কাফের বলা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য শরয়ী দলীল ও নিদর্শন থাকার কারণে হত্যা করা কুফরে আকবার না হয়ে কুফরে আসগার তথা ছোট কুফর বলে গণ্য হবে, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না।
তবে যদি কোনো মুসলিমকে দ্বীনে ইসলামে থাকার কারণে হত্যা করা হয় বা গালি দেয়া হয়, তবে আয়াত ও হাদীসের বাহ্যিক অর্থটাই গ্রহণ করা হবে। এমতাবস্থায় আয়াত ও হাদীসে উপস্থাপিত কুফরী দ্বারা উদ্দেশ্য হবে, কুফরে আকবার।
পূর্বে উল্লিখিত আয়াত ও হাদীসে বর্ণিত কুফর দ্বারা ছোট কুফর উদ্দেশ্য হওয়ার দলীল ও নিদর্শন হলো:
আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٍ فَاتَّبَاعُ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءُ إِلَيْهِ بِإِحْسَانِ.
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কিসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার (মুসলিম) ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছু মাফ করে দেয়া হয়, তাহলে সদাচরণ করবে এবং ভালোভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে।”২১৬
ইমাম ইবনে হযম রহ. বলেন-
فابتدأ الله عز وجل بخطاب أهل الإيمان من كان فيهم من قاتل أو مقتول وَنَصّ تَعَالَى على أن الْقَاتِل عمدا وولي الْمَقْتُولِ أَخَوانِ وَقد قَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ أخوة فصح أن القاتل عمدا مؤمن بِنَصَ الْقُرْآن وحكمه لَهُ بأخوة الْإِيمَان وَلَا يكون للْكَافِرِ مَعَ الْمُؤْمِن بِتِلْكَ الْأُخوة.
আল্লাহ তাআলা ঈমানদারগণ বলে সম্বোধন করে শুরু করেছেন। যে সম্বোধনের মাঝে হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। উক্ত নসে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকরে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তির অভিভাবক উভয়েই ভাই ভাই। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন: “নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।” তাহলে বোঝা গেল, ইচ্ছা করে হত্যাকারী কুরআনের আয়াত অনুযায়ী মুমিন। এবং কুরআন তার ব্যাপারে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব সাব্যস্ত করেছে, আর কোনো কাফেরের জন্য সে ভ্রাতৃত্ব সাব্যস্ত নয়।২১৭
আস সুন্নাহ ইবনে আবী আসেম-এ বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أُمَّ حَبِيبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أُرِيتُ مَا تَلْقَى أُمَّتِي بَعْدِي، فَأَحْزَنَنِي وَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيَّ، مِنْ سَفْكِ دِمَاءِ بَعْضِهِمْ بَعْضًا، فَسَأَلْتُهُ أَنْ يُوَلِّيَنِي شَفَاعَةٌ فِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَفَعَلَ.
অর্থাৎ উম্মে হাবীবা রাযি. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার পরে আমার উম্মত যা ঘটাবে তা আমাকে দেখানো হয়েছে। এটি আমাকে চিন্তিত করেছে এবং আমাকে কষ্টে ফেলে দিয়েছে যে, আমার উম্মত পরস্পরে রক্ত প্রবাহিত করবে। তাই আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম, যেনো তিনি আমাকে কিয়ামতের দিন তাদের ব্যাপারে শাফাআতের সুযোগ দেন। অতঃপর তিনি তা অনুমোদন করলেন। ২১৮
লক্ষণীয় যে, পরস্পরে হত্যাযজ্ঞ চালানো সত্ত্বেও তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শাফাআত লাভ করতে পারবে। এর দ্বারা বোঝা গেলো যে, তারা হবে গুনাহগার মুসলমান, কাফের নয়। যদি তারা নিজেদের মাঝে রক্ত প্রবাহিত করার কারণে কাফের হতো, তাহলে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শাফাআতের হকদার হতো না। সুতরাং তাদের জন্য শাফাআত প্রযোজ্য হওয়াই প্রমাণ করে যে, তারা কাফের নয়।
আস সুন্নাহ ইবনে আবী আসেম-এ বর্ণিত হয়েছে- عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: مَا زِلْنَا نُمْسِكُ عَنِ الْإِسْتِغْفَارِ لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ، حَتَّى سَمِعْنَا مِنْ فِي نَبِيِّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ. قَالَ: فَإِنِّي أَخَرْتُ شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ. فَأَمْسَكْنَا عَنْ كَثِيرٍ مِمَّا كَانَ فِي أَنْفُسِنَا.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দীর্ঘকাল পর্যন্ত আমরা কবীরা গুনাহকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত ছিলাম। অবশেষে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখ থেকে বলতে শুনলাম, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্য সকল গুনাহ তিনি চাইলে ক্ষমা করবেন। আর আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের কবীরা গুনাহকারীদের জন্য শাফাআত রেখে দিয়েছি। তারপর আমরা এতোদিন যা ভাবতাম, তা থেকে নিবৃত্ত হলাম। ২১৯
সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে- حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِي، يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ، وَلَا أُبَالِي، يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً.
আনাস রাযি. বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান, যতোক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে, আমার নিকট ক্ষমার আশা করবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিবো; তোমার যতো গুনাহই থাক না কেনো, এতে আমি কোনো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান, যদি তোমার গুনাহ আসমানের কিনারা পর্যন্ত পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপরও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিবো, কোনো পরোয়া করবো না। হে আদম সন্তান, যদি তুমি আমার নিকট পৃথিবী সমপরিমাণ গুনাহ নিয়ে আসো, অতঃপর আমার সাথে শিরক না করা অবস্থায় সাক্ষাৎ করো, তাহলে অবশ্য অবশ্যই আমি তোমাকে সমপরিমাণ ক্ষমা দিয়ে ভূষিত করবো। ২২০
ইমাম নববী রহ. বলেন-
فَلَا يَخْلُدُ فِي النَّارِ أَحَدُ مَاتَ عَلَى التَّوْحِيدِ وَلَوْ عَمِلَ مِنَ الْمَعَاصِي مَا عَمِلَ كَمَا أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ مَاتَ عَلَى الْكُفْرِ وَلَوْ عَمِلَ مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ مَا عَمِلَ هَذَا مُخْتَصَرُ جَامِعُ لِمَذْهَبٍ أَهْلِ الْحَقِّ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ.
অর্থাৎ তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণকারী কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে চিরকাল থাকবে না, সে যতোই গুনাহ করুক। তেমনিভাবে যে কুফরীর উপর মৃত্যুবরণ করবে, সে যতোই সৎকাজ করুক না কেনো, কখনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এ মাসআলায় এটাই সংক্ষেপে আহলে হকের মতামত।২২১

টিকাঃ
২০৯. সহীহ বুখারী: ১/১৫, হা. নং ২৯ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
২১০. সহীহ মুসলিম: ১/১০৩, হা. নং ১০৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২১১. সহীহ মুসলিম: ১/১০৮, হা. নং ১১৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যা, বৈরূত)
২১২. শরহে মুসলিম, নববী: ২/১৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২১৩. শরহে মুসলিম, নববী: ২/১২৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২১৪. সূরা নিসা: ৯৩
২১৫. সহীহ মুসলিম: ১/৮১, হা. নং ৬৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২১৬. সূরা বাকারা: ১৭৮
২১৭. আল ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল: ৩/১৩১ (মাকতাবাতুল খানজী, কায়রো)
২১৮. আস সুন্নাহ ইবনে আবী আসেম: ২/৩৭২, হা. নং ৮০০ (আল মাকতাবুল ইসলামী, বৈরূত)
২১৯. আস সুন্নাহ ইবনে আবী আসেম: ২/৩৯৮, হা. নং ৮৩০ (আল মাকতাবুল ইসলামী, বৈরূত)
২২০. সুনানে তিরমিযী: ৫/৪৪0, হা. নং ৫৪০ (দারুল গারবিল ইসলামী, বৈরূত)
২২১. শরহে মুসলিম, নববী: ১/২19 (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 সারಾಂಶ

📄 সারಾಂಶ


কিতাবুল্লাহ এবং সুন্নাহতে বর্ণিত কোনো শরয়ী বিধানের মূল ও প্রকাশ্য অর্থ থেকে অন্য কোনো অর্থে ততোক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করা যাবে না, যতোক্ষণ না শরয়ী অন্য কোনো দলীল সে অর্থ বোঝায়। যদি অর্থ পরিবর্তনকারী দলীল না থাকে, তাহলে তার মূল ও প্রকাশ্য অর্থের উপরই হুকুমটি বিদ্যমান থাকবে।
যারা তাকফীরের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে এমন গুনাহের কারণে তাকফীর করে, যে গুনাহ করলে তাকফীর করা আদৌ জায়েয নয়, তারা অধিকাংশ সময় এ মূলনীতিটি না বোঝার কারণেই তাকফীর করে। তা ছাড়া তারা সঠিক ইলম ও প্রজ্ঞার সাথে কর্মপন্থা নির্ধারণ করে না। যেমন কিছু গুনাহের ক্ষেত্রে 'কুফর' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তারা তা কুফরে আকবরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে ফেলে, অথচ তা থেকে উদ্দেশ্য হলো কুফর আসগর বা ছোট কুফর। তারা একটি নসে 'কুফর' শব্দ পেলে সাধারণভাবে আর অন্য কোনো নসের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, যে নসে উক্ত কুফরের দ্বারা কী উদ্দেশ্য, তার বর্ণনা পাওয়া যায়। ফলে তারা উক্ত নসের সরাসরি অর্থটা ধরে মানুষকে তাকফীর করে। নিঃসন্দেহে এটা অনেক বড় একটা ভুল। তারা বুঝতে পারুক বা না পারুক, তারা সীমালঙ্ঘনকারী খাওয়ারিজদের দলের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।
অন্য আরেকটি দল আছে, যারা তাকফীরের ক্ষেত্রে ছাড়াছাড়ি করেন। ফলে তারা যে স্থানে তাকফীর আবশ্যক হয়, সেখানে ছাড়াছাড়ির নীতি অবলম্বন করে তাদেরকে মুসলমান হিসেবে সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করে। এক্ষেত্রে তারা ঐসব নসের উপর ভরসা করে, যার মধ্যে এমন কিছু বদ আমল ও গুনাহের কথা বলা হয়েছে, যা কুফরে আসগার তথা ছোট কুফর। তারা কুফরে আকবার বা শিরকে আকবারের মতো গুনাহের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তাকে ছোট কুফর হিসেবে প্রয়োগ করে। যার ফলে তারা শরয়ীভাবে যে স্থানে তাকফীর করা ওয়াজিব হয়, সে স্থানে তাকফীর করা থেকে বিরত থাকেন। আর এটা অবশ্যই একটি প্রকাশ্য ভুল। আর এরকম মনোভাব ও মতামত পোষণকারীরা মুরজিয়াদের দলভুক্ত হয়ে যায়, চাই তারা তা জানুক, বা না জানুক।
আর নিঃসন্দেহে সত্য পথ হলো, এ দু'টির মধ্যবর্তী পন্থা। যে পথে প্রান্তিকতা নেই, কোনো বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি নেই। তারা হলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ। যারা শরয়ী নসের অর্থকে নিষ্ক্রিয়করণ অথবা বিকৃ তকরণ ব্যতীত নসকে তার সঠিক অর্থে প্রয়োগ করেন। আর এটিই হলো সরল সঠিক পথ, যার অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ.
“আর নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব এ পথেই চলো, অন্যান্য পথে চলো না। নচেৎ সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।”২২২

টিকাঃ
২২২. সূরা আনআম: ১৫৩

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 সতর্কীকরণ: ১

📄 সতর্কীকরণ: ১


কিছু আহলে ইলম 'কুফরে আমলী' পরিভাষাকে শর্তহীন হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন ছোট কুফরে আমলী অথবা কুফর দূনা কুফর তথা ছোট কুফর, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। তাদের এ শর্তহীন ব্যবহারের কারণে জাহমিয়া ও মুরজিয়ারা নিজেদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করণার্থে সুবিধা পেয়ে যায়। ফলে তারা এমন সব আমলের ক্ষেত্রে এ পরিভাষাটি ব্যবহার করে, যেসব আমল ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আর এক্ষেত্রে তারা স্বীয় বিচ্যুতির দলীল হিসেবে উক্ত আহলে ইলমের সন্দেহপূর্ণ প্রয়োগকে ব্যবহার করে।
তাই এ ভুল ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তারা যেনো অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে এবং এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে ভুল ছড়িয়ে না পড়ে এজন্য এর সাথে 'আসগর' তথা 'ছোট' শব্দ দ্বারা যুক্ত করতে হবে। তাই বলতে হবে, ছোট কুফরে আমলী অথবা কুফর দূনা কুফর বা নিআমতের কুফরী। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 সতর্কীকরণ: ২

📄 সতর্কীকরণ: ২


ছোট কুফর বা ছোট শিরক শুধু বাহ্যিক আমলের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; যেমনটি অনেকে ধারণা করে থাকে। বরং ছোট কুফর কর্ম ও কথা উভয় ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। যেমন অন্যায়ভাবে হত্যা করা, ব্যভিচার করা, মদপান করা, চুরি করা ইত্যাদি কাজগুলো ছোট কুফর বলে বিবেচিত। অনুরূপভাবে কিছু কথাও এমন রয়েছে, যা ছোট কুফর বা ছোট শিরক বলে বিবেচিত। যেমন ইবাদত হিসাবে নয়; বরং অভ্যাসবশত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা, কারো মৃত্যুতে বিলাপ করা, কাউকে গালি দেয়া, অভিশাপ করা ইত্যাদি কথাগুলো ছোট কুফর হিসেবে বিবেচিত। এগুলোকে হাদীসে কুফর-শিরক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে ছোট কুফর বা ছোট শিরক।
তেমনিভাবে বিশ্বাস বা অন্তরের কিছু বিষয়ও এমন রয়েছে, যা ছোট কুফর বা ছোট শিরক বলেই বিবেচিত। যেমন রিয়া তথা লৌকিততা, যাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছোট শিরক বলে উল্লেখ করেছেন।
ছোট বড় সকল প্রকার কুফর ও শিরক থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হেফাযত করুন। আমীন!
فَإِنْ لَمْ يَكُنْ مُبْعْضًا لِشَيْءٍ مِنْ الْمُحَرَّمَاتِ أَصْلَاء لَمْ . يَكُنْ مَعَهُ إِيمَانُ أَصْلًا অর্থাৎ যদি সে কোনো হারাম কাজের প্রতি ঘৃণা পোষণ না করে, তাহলে তার ভিতরে মূলত একেবারেই ঈমান নেই।” - ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00