📘 তাকফীরের মূলনীতি 📄 ৪ নং মাসআলা

📄 ৪ নং মাসআলা


প্রশ্ন: যদি ঈমান ও কুফরের বিধান প্রকাশ্য অবস্থা বিবেচনা করেই দেয়া হয়, তাহলে কোনো গুনাহকারীর কাফের হওয়ার ক্ষেত্রে কেনো উক্ত গুনাহকে হালাল মনে করা কিংবা তার হারাম হওয়াকে অস্বীকার করা শর্ত? অথচ হালালকরণ ও অস্বীকার করার স্থান হলো অন্তর, যা প্রকাশ্য অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়।
উত্তর: কুফর ও শিরক ব্যতীত অন্যান্য গুনাহের ক্ষেত্রে গুনাহকারী কাফের হওয়ার জন্য গুনাহকে হালালকরণ ও গুনাহের হারাম হওয়াকে অস্বীকার করা এজন্যই শর্ত যে, এসব গুনাহ মূলত কুফরী নয়। তাই এগুলো করলে কাউকে ততোক্ষণ পর্যন্ত কাফের বলা যাবে না, যতোক্ষণ না সে এগুলোকে হালাল সাব্যস্ত করে এবং এগুলো হারাম হওয়াকে অস্বীকার করে। কারণ, এমনটি করলে তখন তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর হয়ে যায় এবং আল্লাহর বিধানকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর শুধু গুনাহ কুফরী না হলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং আল্লাহর বিধানকে প্রত্যাখ্যান করা সুস্পষ্ট কুফরী।
অন্যদিকে কুফর অথবা শিরক এমনিতেই কুফরী। তার সাথে হালালকরণ বা হারাম অস্বীকার করণের প্রয়োজন পড়ে না। তাই যে মুখে বা কাজে কুফরী করবে; চাই সে উক্ত কুফরীকে হালালকারী হয়ে করুক বা হালালকারী না হয়ে করুক উভয় অবস্থায় তার একই ফলাফল।

📘 তাকফীরের মূলনীতি 📄 ৫ নং মাসআলা

📄 ৫ নং মাসআলা


প্রশ্ন: কুফর, শিরক ব্যতীত অন্য কোনো গুনাহকারী উক্ত গুনাহকে হালাল সাব্যস্ত করেছে কিনা, তা আমরা প্রকাশ্য অবস্থা ব্যতীত কীভাবে জানবো? অথচ অন্তরের উপর আমাদের কোনো হাত নেই।
উত্তর: কুফর, শিরক ব্যতীত অন্য গুনাহকারী উক্ত গুনাহকে হালাল সাব্যস্ত করেছে কিনা তা মুখে অথবা কাজে প্রকাশিত আলামত থেকে বোঝা যাবে। এর জন্য আমাদেরকে তার অন্তর ও মন-মানসিকতার পিছনে এমনভাবে লেগে থাকা ঠিক হবে না যে, আমরা তার অন্তরে কী আছে, সর্বদা তার খোঁজে লেগে থাকবো এবং জানার চেষ্টা করবো যে, সে তা হালাল সাব্যস্ত করে করেছে কিনা। এ দায়িত্ব আমাদেরকে দেয়া হয়নি। আর এমন করা সুন্নাহবিরোধী এবং সালাফে সালেহীন এমনটি কখনো করেননি।

📘 তাকফীরের মূলনীতি 📄 সারকথা

📄 সারকথা


কাফের ও মুমিন হওয়ার হুকুম দেয়া হবে বাহ্যিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। কোনো ব্যক্তি কথা বা কাজে যা প্রকাশ করবে তাই ধর্তব্য হবে। অন্য কোনো পদ্ধতিতে তার উদ্দেশ্য জানার কোনো পথ নেই। এর উপর ভিত্তি করে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি- “যে ব্যক্তি কুফরী প্রকাশ করবে তার ক্ষেত্রে কোনো শরয়ী প্রতিবন্ধকতা না থাকলে তাকে কাফের বলে সাব্যস্ত করা হবে।” তেমনিভাবে আমরা এ সিদ্ধান্তেও উপনীত হতে পারি- “যে ব্যক্তি ইসলাম প্রকাশ করবে, আমরা তাকে মুসলিম বলে স্বীকার করবো; যতোক্ষণ না উক্ত ব্যক্তি ইসলামের বিপরীত কোনো কাজ প্রকাশ করে।"

ফন্ট সাইজ
15px
17px