📄 বাহ্যিক আনুগত্য না থাকা
শরীয়তের প্রতি যার প্রকাশ্য আনুগত্য থাকবে না এদ্বারা আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, তার অন্তর বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং ভিতর ও বাহির উভয় দিক থেকে সে কাফের হয়ে গেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন- قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ “(হে রাসূল,) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।”১৩৯
তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভালোবাসার মাপকাঠি হলো, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি আনুগত্য। ভালোবাসা বোঝা যাবে আনুগত্য ও অনুসরণের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে। যদি অন্তরে ভালোবাসা প্রবল হয়, তাহলে প্রকাশ্য আনুগত্যও বেশি হবে। যখন আনুগত্য বেশি হবে তখন বোঝা যাবে অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসাও প্রবল। সুতরাং একটি অপরটির জন্য দলীল বা প্রমাণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বা বলা যায়, একটি অপরটির জন্য আবশ্যক হয়ে যাচ্ছে।
তাই যার মধ্যে ইসলামী শরীয়তের আনুগত্য নেই এদ্বারা বোঝা যায়, তার অন্তরে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা নেই। আর আল্লাহর জন্য ভালোবাসা না থাকা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং একজন কাফেরের অন্তরই এরকম হতে পারে। যদি কেউ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য করা ব্যতীতই আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করে, তাহলে আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী তার ভালোবাসার দাবি ডাহা মিথ্যে!
আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. বলেন-
هَذِهِ الْآيَةُ الْكَرِيمَةُ حَاكِمَةٌ عَلَى كُلِّ مَنِ ادَّعَى مَحَبَّةَ اللَّهِ وَلَيْسَ هُوَ عَلَى الطَّرِيقَةِ الْمُحَمَّدِيَّةِ فَإِنَّهُ كَاذِبُ فِي دَعْوَاهُ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ حَتَّى يَتَّبِعَ الشَّرْعَ الْمُحَمَّدِيَّ وَالدِّينَ النَّبَوِيَّ فِي جَمِيعِ أَقْوَالِهِ وأفعاله وأَحْوَالِهِ
অর্থাৎ এ আয়াতটি ঐসকল লোকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রদর্শিত পথের উপর না থেকেও আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করে। সে বাস্তবিক অর্থেই তার দাবির ক্ষেত্রে মিথ্যুক; যতোক্ষণ না সে শরীয়তে মুহাম্মাদী ও নববী দীনের সকল কথা, কর্ম ও অবস্থার পূর্ণ অনুসরণ করে। ১৪০
টিকাঃ
১৩৯. সূরা আলে ইমরান: ৩১
১৪০. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/২৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)
📄 আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার না করা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন-
وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ.
“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তারা কাফের।”১৪১
এ আয়াতটি থেকে স্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে মানবরচিত সংবিধান দিয়ে বিচার করাকে প্রাধান্য দেয়, তদনুযায়ী আমল করে, মানুষের উপর তা মানা আবশ্যক করে দেয়, এর পক্ষ হয়ে লড়াই করে; এক্ষেত্রে সে মানবরচিত বিধান দ্বারা বিচার করা হালাল বলুক বা না বলুক, সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয় দিক হতেই কাফের। তার প্রকাশ্য অবস্থা তার ভিতরের ঈমান বিনষ্ট হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
যার অবস্থা এমন হবে, তাকে ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বক্তব্য, “كفر دون كفر তথা ছোট কুফর” এর অধিভুক্ত করা যাবে না। ইবনে আব্বাস রাযি. এর এ উক্তিটি সেসব তাগুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যারা আল্লাহর বিধানের প্রতি শত্রুতা পোষণকারীরূপে কুখ্যাত এবং এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও নয়, যে তাদেরকে তাগুতের বিধানের দিকে আহ্বান করে। এটি প্রযোজ্য হবে সেসব মুসলিম শাসক বা বিচারকের জন্য, যারা পুরো জীবন আল্লাহর বিধান দ্বারা বিচার ফয়সালা করেন। তাদের মধ্যে রিদ্দাহ বা আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের প্রতি সামান্য ঘৃণাও পরিলক্ষিত হয় না; তবে নির্দিষ্ট কিছু মোকাদ্দমা বা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ অথবা দুর্বলতা কিংবা নিকটাত্মীয়ের স্বার্থে বা এ জাতীয় কোনো কারণে আল্লাহর বিধান দ্বারা বিচার করে না। যেমন ঘটেছিলো উমাইয়া, আব্বাসীয় ও অন্যান্য কিছু বাদশাহ বা বিচারকের ক্ষেত্রে। কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তাঁর এ কথাটি প্রযোজ্য হবে যে, “তারা যে কাজ করেছে তা ছোট কুফর তথা কুফরে আকবার নয়, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলামী থেকে বের করে দেয়।”
টিকাঃ
১৪১. সূরা মায়িদা: ৪৪
📄 মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করা
অন্তরে ঈমান না থাকার ব্যাপারে ইঙ্গিতবহ কাজের আরেকটি হলো, মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব। যে ব্যক্তি মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফের ও মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলো, বোঝা গেলো তার অন্তর বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং তাতে নিফাকী বাস করছে। যদিও সে নিফাকী না থাকার দাবি করুক।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
“যদি তারা আল্লাহ ও (তাঁর) নবী এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো, তাহলে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে দুরাচার।”১৪২
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
فَدَلَّ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ الْمَذْكُورَ يَنْفِي اتِّخَاذَهُمْ أَوْلِيَاءَ وَيُضَادُّهُ وَلَا يَجْتَمِعُ الْإِيمَانُ وَاتِّخَاذُهُمْ أَوْلِيَاءَ فِي الْقَلْبِ. وَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ مَنْ اتَّخَذَهُمْ أَوْلِيَاءَ؛ مَا فَعَلَ الْإِيمَانَ الْوَاجِبَ مِنْ الْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ. وَمِثْلُهُ قَوْله تَعَالَى {لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ bَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ. فَإِنَّهُ أَخْبَرَ فِي تِلْكَ الْآيَاتِ أَنَّ مُتَوَلَّيَهُمْ لَا يَكُونُ مُؤْمِنًا. وَأَخْبَرَ هُنَا أَنَّ مُتَوَلَّيَهُمْ هُوَ مِنْهُمْ؛ فَالْقُرْآنُ يُصَدِّقُ بَعْضُهُ بَعْضًا.
সুতরাং প্রমাণিত হলো, উল্লিখিত ঈমান কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করে এবং এর বিরোধিতা করে। আর ঈমান আনয়ন করা এবং কাফেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা একই অন্তরে একত্রিত হতে পারে না। এতে আরো প্রমাণ হয়, যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে তারা আল্লাহ, রাসূল ও অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি ঈমান আনয়নের দায়িত্ব পালন করেনি। অনুরূপ আল্লাহর বাণী “তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা মায়িদা: ৫১] আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণকারী মুমিন নয়। আরো জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তাদের সাথে বন্ধুত্বকারী তাদের অন্তর্ভুক্ত। আর কুরআনের এক অংশ অপর অংশের সত্যায়ন করে থাকে। ১৪৩
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاة. “মুমিনগণ যেনো অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোনো কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্টের আশঙ্কা করো, তাহলে ভিন্ন কথা।” ১৪৪
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরো বলেন- لَا تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ.
"যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না; যদিও তারা তাদের পিতা হয়।”১৪৫
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরো বলেন- بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَاباً أَلِيمًا. الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لله جميعاً.
“মুনাফিকদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।”১৪৬
এছাড়াও আরো এমন অনেক আয়াত আছে, যা প্রমাণ করে যে, মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা মুনাফিক হওয়ার জন্য ও অন্তর থেকে ঈমানের বিদায় নেয়ার জন্য যথেষ্ট।
টিকাঃ
১৪২. সূরা মায়িদা: ৮১
১৪৩. মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/১৭-১৮ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)
১৪৪. সূরা আলে ইমরান: ২৮
১৪৫. সূরা মুজাদিলা: ২২
১৪৬. সূরা নিসা: ১৩৯
📄 কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ ছেড়ে দেয়া
কারো অন্তর বিনষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানার জন্য আরেকটি আলামত হচ্ছে, কাফের ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিত্যাগ করা, উম্মাহকে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে বিরত রাখা, জিহাদ ও মুজাহিদদের সাহায্য করাকে তাদের জন্য ঘৃণ্য একটি কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা, তাঁদের ব্যাপারে কটুক্তি ও তিরস্কার করা। এ সকল কর্মকাণ্ড একমাত্র একজন কুৎসা রটনাকারী মুনাফিকের অন্তরেই ঠাঁই পেতে পারে, যার অন্তর ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য অনিষ্টতা পোষণ করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ كَفَرُوا وَقَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ إِذَا ضَرَبُوا فِي الْأَرْضِ أَوْ كَانُوا غُزَّى لَوْ كَانُوا عِنْدَنَا مَا مَاتُوا وَمَا قُتِلُوا لِيَجْعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ حَسْرَةً فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ.
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা কাফের হয়েছে এবং নিজেদের ভাই-বন্ধুরা যখন কোনো অভিযানে বের হয় কিংবা জিহাদে যায়, তখন তাদের সম্পর্কে বলে, তারা যদি আমাদের সাথে থাকতো, তাহলে মারা যেতো না এবং নিহত হতো না। যাতে আল্লাহ তাদের মনে অনুতাপ সৃষ্টি করেন। অথচ আল্লাহই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। তোমরা যা কিছুই করো, আল্লাহ সবকিছুই দেখেন।”১৪৭
আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
يَنْهَى تَعَالَى عِبَادَهُ الْمُؤْمِنِينَ عَنْ مُشَابَهَةِ الْكُفَّارِ فِي اعْتِقَادِهِمُ الْفَاسِدِ، الدَّالَّ عَلَيْهِ قَوْلُهُمْ عَنْ إِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ مَاتُوا فِي الْأَسْفَارِ وَالحُرُوبِ، لَوْ كَانُوا تَرَكُوا ذَلِكَ لَمَا أَصَابَهُمْ مَا أَصَابَهُمْ.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে নিষেধ করছেন, যেনো কাফেরদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ না করে। যারা সফরে অথবা যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হওয়া ভাইদের সম্পর্কে বলে, যদি তারা সে পথ বর্জন করতো, তবে তাদের নিকট এ বিপদ আসতো না। ১৪৮
ভেবে দেখুন, স্বীয় ভাইদের উদ্দেশ্যে তাদের এ কথা কীভাবে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও তাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ وَمَا هُمْ مِنْكُمْ وَلَكِنَّهُمْ قَوْمٌ يَفْرَقُونَ. لَوْ يَجِدُونَ مَلْجَأَ أَوْ مَغَارَاتٍ أَوْ مُدَّخَلاً لَوَلَّوْا إِلَيْهِ وَهُمْ يَجْمَحُونَ.
“তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা (তোমাদেরকে) ভয় করে। তারা কোনো আশ্রয়স্থল, গুহা বা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলে দ্রুতগতিতে সেদিকে পলায়ন করবে।”১৪৯
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন- فَأَخْبَرَ سُبْحَانَهُ أَنَّهُمْ وَإِنْ حَلَفُوا إِنَّهُمْ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ فَمَا هُمْ مِنْهُمْ؛ وَلَكِنْ يَفْزَعُونَ مِنْ الْعَدُوِّ.
অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানিয়ে দিচ্ছেন, তারা শপথ করে নিজেদের মুমিন হওয়ার দাবি করলেও তারা মুমিনদের অর্ন্তভুক্ত নয়। বস্তুত তারা শত্রুকে ভয় করে।১৫০
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন- لَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ.
“যারা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারা নিজেদের জান-মাল ব্যয় করে জিহাদ করা থেকে আপনার নিকট অব্যাহতি চায় না। আর আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। নিঃসন্দেহে তারাই আপনার কাছে (জিহাদ থেকে) অব্যাহতি চায়, যারা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না এবং যাদের অন্তর সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং সন্দেহের আবর্তে তারা ঘুরপাক খেয়ে চলছে।”১৫১
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন-
فَهَذَا إِخْبَارُ مِنْ اللَّهِ بِأَنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَسْتَأْذِنُ الرَّسُولَ فِي تَرْكِ الْجِهَادِ؛ وَإِنَّمَا يَسْتَأْذِنُهُ الَّذِي لَا يُؤْمِنُ فَكَيْفَ بِالتَّارِكِ مِنْ غَيْرِ اسْتِثْذَانٍ.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, কোনো মুমিন জিহাদ ত্যাগ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করবে না। একমাত্র ঈমানহীন লোকেরাই তাঁর নিকট জিহাদ থেকে অব্যাহতি চাইতে পারে। অতএব কেউ যদি অনুমতি ছাড়াই জিহাদ ছেড়ে দেয়, তাহলে তার কী হুকুম হবে?১৫২
টিকাঃ
১৪৭. সূরা আলে ইমরান: ১৫৬
১৪৮. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/১২৯ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)
১৪৯. সূরা তাওবা: ৫৭
১৫০. মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৮/৪৩৭ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)
১৫১. সূরা তাওবা: ৪৫
১৫২. মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৮/৪৩৮ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)