📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 শরীয়তের ফয়সালায় সংকোচবোধ করা ও সন্তুষ্ট না থাকা

📄 শরীয়তের ফয়সালায় সংকোচবোধ করা ও সন্তুষ্ট না থাকা


শরীয়তের ফয়সালা অনুযায়ী বিচার কামনা করতে সংকোচবোধ করা কিংবা অন্তরে এর প্রতি অসন্তুষ্টিভাব রাখা তার ঈমান না থাকার প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً.
“অতএব আপনার পালনকর্তার কসম! সে লোক ঈমানদার হবে না, যতোক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনার নিকট বিচার দায়ের করে। অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে নিজেদের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা রাখবে না; বরং হৃষ্টচিত্তে তা কবুল করে নিবে।”১৩৫
আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. বলেন-
يُقْسِمُ تَعَالَى بِنَفْسِهِ الْكَرِيمَةِ الْمُقَدَّسَةِ أَنَّهُ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُ حَتَّى يُحَكِّمَ الرَّسُولَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَمِيعِ الْأُمُورِ، فَمَا حَكَمَ بِهِ فَهُوَ الْحَقُّ الَّذِي يَجِبُ الانْقِيَادُ لَهُ بَاطِنًا وَظَاهِرًا، وَلِهَذَا قَالَ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا أَيْ إِذَا حَكَمُوكَ يُطِيعُونَكَ فِي بَوَاطِنِهِمْ فَلَا يَجِدُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا حَكَمْتَ بِهِ، وَيَنْقَادُونَ لَهُ فِي الظَّاهِرِ وَالْبَاطِنِ، فَيُسَلِّمُونَ لِذَلِكَ تَسْلِيمًا كُلَّيًّا مِنْ غَيْرِ مُمَانِعَةٍ وَلَا مُدَافِعَةٍ وَلَا مُنَازِعَةٍ.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র মহান সত্তার কসম করে বলেন, কেউ ততোক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতোক্ষণ না সকল বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে বিচারক হিসেবে গ্রহণ না করবে। অতএব তিনি যা ফয়সালা করবেন, সেটাই একমাত্র হক ফয়সালা, মৌখিক ও আন্তরিকভাবে যার আনুসরণ করা আবশ্যক। এজন্যই তিনি বলেছেন, “অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে নিজেদের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা রাখবে না; বরং হৃষ্টচিত্তে তা কবুল করে নিবে।” অর্থাৎ যখন তারা আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নিবে তখন আন্তরিকভাবেই তাদের আপনাকে মান্য করতে হবে। সুতরাং আপনার কৃত ফয়সালার ব্যাপারে তাদের অন্তরে যেনো কোনো সংকীর্ণতা না রাখে এবং মৌখিক ও আন্তরিক উভয়ভাবে তার অনুসরণ করে। অতঃপর কোনো রকম বাকবিতণ্ডা, তর্ক-বিতর্ক করা ব্যতীত পূণরূপে হৃষ্টচিত্তে তা মেনে নেয়।১৩৬
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন- فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِر “যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়ো, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ করো; যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাকো।”১৩৭
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন- الرَّدُّ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ مِنْ مُوجِبَاتِ الْإِيمَانِ. وَمِنْهَا: أَنَّهُ جَعَلَ هَذَا الرَّدَّ مِنْ مُوجِبَاتِ الْإِيمَانِ وَلَوَازِمِهِ، فَإِذَا انْتَفَى هَذَا الرَّدُّ انْتَفَى الْإِيمَانُ؛ ضَرُورَةُ انْتِفَاءِ الْمَلْزُومِ لِانْتِفَاءِ لَازِمِهِ، وَلَا سِيَّمَا التَّلَازُمُ بَيْنَ هَذَيْنِ الْأَمْرَيْنِ فَإِنَّهُ مِنْ الطَّرَفَيْنِ، وَكُلُّ مِنْهُمَا يَنْتَفِي بِانْتِفَاءِ الْآخَرِ.
অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট (বিবাদমান বিষয়) সোপর্দ করা ঈমানের আবশ্যকীয় বিষয়গুলোর অন্যতম। এর একটি হলো, আল্লাহ তাআলা এ সোপর্দকরণকে ঈমানের শর্ত ও আবশ্যকীয় বিষয়রূপে সাব্যস্ত করেছেন। অতএব যদি এ সোপর্দকরণ না থাকে, তাহলে ঈমানও থাকবে না। কেননা, শর্ত না থাকলে তার জাযা তথা প্রতিফলও থাকে না। বিশেষত এ দু'টি বিষয় (তথা ঈমান আর আল্লাহ-রাসূলের নিকট বিবাদমান বিষয় সোপর্দ করা) পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যদি একটি না থাকে, তাহলে অপরটিও থাকবে না। ১৩৮
তাহলে যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট বিচার কামনা করা না হয়, তাহলে এতে প্রমাণ হয় যে, সে ব্যক্তির ভিতর ঈমান বাকি নেই।
এ আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, কেউ যদি বিরোধপূর্ণ বিষয়কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করতে অস্বীকার করে মানবরচিত কোনো সংবিধান বা আইনকানুনকে এর উপর প্রাধান্য দেয়; যেমন জাতিসংঘ বা এরকম কোনো প্রতিষ্ঠান, তাহলে সে আর মুমিন থাকে না। মুখে যতোই সে ঈমানের দাবি করুক না কেনো তার এ দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

টিকাঃ
১৩৫. সূরা নিসা: ৬৫
১৩৬. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/৩০৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)
১৩৭. সূরা নিসা: ৫৯
১৩৮. ইলামুল মুআক্কিঈন: ১/৪০ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 বাহ্যিক আনুগত্য না থাকা

📄 বাহ্যিক আনুগত্য না থাকা


শরীয়তের প্রতি যার প্রকাশ্য আনুগত্য থাকবে না এদ্বারা আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, তার অন্তর বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং ভিতর ও বাহির উভয় দিক থেকে সে কাফের হয়ে গেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন- قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ “(হে রাসূল,) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।”১৩৯
তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভালোবাসার মাপকাঠি হলো, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি আনুগত্য। ভালোবাসা বোঝা যাবে আনুগত্য ও অনুসরণের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে। যদি অন্তরে ভালোবাসা প্রবল হয়, তাহলে প্রকাশ্য আনুগত্যও বেশি হবে। যখন আনুগত্য বেশি হবে তখন বোঝা যাবে অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসাও প্রবল। সুতরাং একটি অপরটির জন্য দলীল বা প্রমাণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বা বলা যায়, একটি অপরটির জন্য আবশ্যক হয়ে যাচ্ছে।
তাই যার মধ্যে ইসলামী শরীয়তের আনুগত্য নেই এদ্বারা বোঝা যায়, তার অন্তরে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা নেই। আর আল্লাহর জন্য ভালোবাসা না থাকা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং একজন কাফেরের অন্তরই এরকম হতে পারে। যদি কেউ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য করা ব্যতীতই আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করে, তাহলে আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী তার ভালোবাসার দাবি ডাহা মিথ্যে!
আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. বলেন-
هَذِهِ الْآيَةُ الْكَرِيمَةُ حَاكِمَةٌ عَلَى كُلِّ مَنِ ادَّعَى مَحَبَّةَ اللَّهِ وَلَيْسَ هُوَ عَلَى الطَّرِيقَةِ الْمُحَمَّدِيَّةِ فَإِنَّهُ كَاذِبُ فِي دَعْوَاهُ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ حَتَّى يَتَّبِعَ الشَّرْعَ الْمُحَمَّدِيَّ وَالدِّينَ النَّبَوِيَّ فِي جَمِيعِ أَقْوَالِهِ وأفعاله وأَحْوَالِهِ
অর্থাৎ এ আয়াতটি ঐসকল লোকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রদর্শিত পথের উপর না থেকেও আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করে। সে বাস্তবিক অর্থেই তার দাবির ক্ষেত্রে মিথ্যুক; যতোক্ষণ না সে শরীয়তে মুহাম্মাদী ও নববী দীনের সকল কথা, কর্ম ও অবস্থার পূর্ণ অনুসরণ করে। ১৪০

টিকাঃ
১৩৯. সূরা আলে ইমরান: ৩১
১৪০. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/২৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার না করা

📄 আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার না করা


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন-
وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ.
“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তারা কাফের।”১৪১
এ আয়াতটি থেকে স্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে মানবরচিত সংবিধান দিয়ে বিচার করাকে প্রাধান্য দেয়, তদনুযায়ী আমল করে, মানুষের উপর তা মানা আবশ্যক করে দেয়, এর পক্ষ হয়ে লড়াই করে; এক্ষেত্রে সে মানবরচিত বিধান দ্বারা বিচার করা হালাল বলুক বা না বলুক, সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয় দিক হতেই কাফের। তার প্রকাশ্য অবস্থা তার ভিতরের ঈমান বিনষ্ট হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
যার অবস্থা এমন হবে, তাকে ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বক্তব্য, “كفر دون كفر তথা ছোট কুফর” এর অধিভুক্ত করা যাবে না। ইবনে আব্বাস রাযি. এর এ উক্তিটি সেসব তাগুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যারা আল্লাহর বিধানের প্রতি শত্রুতা পোষণকারীরূপে কুখ্যাত এবং এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও নয়, যে তাদেরকে তাগুতের বিধানের দিকে আহ্বান করে। এটি প্রযোজ্য হবে সেসব মুসলিম শাসক বা বিচারকের জন্য, যারা পুরো জীবন আল্লাহর বিধান দ্বারা বিচার ফয়সালা করেন। তাদের মধ্যে রিদ্দাহ বা আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের প্রতি সামান্য ঘৃণাও পরিলক্ষিত হয় না; তবে নির্দিষ্ট কিছু মোকাদ্দমা বা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ অথবা দুর্বলতা কিংবা নিকটাত্মীয়ের স্বার্থে বা এ জাতীয় কোনো কারণে আল্লাহর বিধান দ্বারা বিচার করে না। যেমন ঘটেছিলো উমাইয়া, আব্বাসীয় ও অন্যান্য কিছু বাদশাহ বা বিচারকের ক্ষেত্রে। কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তাঁর এ কথাটি প্রযোজ্য হবে যে, “তারা যে কাজ করেছে তা ছোট কুফর তথা কুফরে আকবার নয়, যা ব্যক্তিকে মিল্লাতে ইসলামী থেকে বের করে দেয়।”

টিকাঃ
১৪১. সূরা মায়িদা: ৪৪

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করা

📄 মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করা


অন্তরে ঈমান না থাকার ব্যাপারে ইঙ্গিতবহ কাজের আরেকটি হলো, মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব। যে ব্যক্তি মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফের ও মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলো, বোঝা গেলো তার অন্তর বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং তাতে নিফাকী বাস করছে। যদিও সে নিফাকী না থাকার দাবি করুক।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
“যদি তারা আল্লাহ ও (তাঁর) নবী এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো, তাহলে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে দুরাচার।”১৪২
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
فَدَلَّ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ الْمَذْكُورَ يَنْفِي اتِّخَاذَهُمْ أَوْلِيَاءَ وَيُضَادُّهُ وَلَا يَجْتَمِعُ الْإِيمَانُ وَاتِّخَاذُهُمْ أَوْلِيَاءَ فِي الْقَلْبِ. وَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ مَنْ اتَّخَذَهُمْ أَوْلِيَاءَ؛ مَا فَعَلَ الْإِيمَانَ الْوَاجِبَ مِنْ الْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ. وَمِثْلُهُ قَوْله تَعَالَى {لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ bَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ. فَإِنَّهُ أَخْبَرَ فِي تِلْكَ الْآيَاتِ أَنَّ مُتَوَلَّيَهُمْ لَا يَكُونُ مُؤْمِنًا. وَأَخْبَرَ هُنَا أَنَّ مُتَوَلَّيَهُمْ هُوَ مِنْهُمْ؛ فَالْقُرْآنُ يُصَدِّقُ بَعْضُهُ بَعْضًا.
সুতরাং প্রমাণিত হলো, উল্লিখিত ঈমান কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করে এবং এর বিরোধিতা করে। আর ঈমান আনয়ন করা এবং কাফেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা একই অন্তরে একত্রিত হতে পারে না। এতে আরো প্রমাণ হয়, যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে তারা আল্লাহ, রাসূল ও অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি ঈমান আনয়নের দায়িত্ব পালন করেনি। অনুরূপ আল্লাহর বাণী “তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা মায়িদা: ৫১] আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণকারী মুমিন নয়। আরো জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তাদের সাথে বন্ধুত্বকারী তাদের অন্তর্ভুক্ত। আর কুরআনের এক অংশ অপর অংশের সত্যায়ন করে থাকে। ১৪৩
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاة. “মুমিনগণ যেনো অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোনো কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্টের আশঙ্কা করো, তাহলে ভিন্ন কথা।” ১৪৪
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরো বলেন- لَا تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ.
"যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না; যদিও তারা তাদের পিতা হয়।”১৪৫
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরো বলেন- بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَاباً أَلِيمًا. الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لله جميعاً.
“মুনাফিকদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।”১৪৬
এছাড়াও আরো এমন অনেক আয়াত আছে, যা প্রমাণ করে যে, মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা মুনাফিক হওয়ার জন্য ও অন্তর থেকে ঈমানের বিদায় নেয়ার জন্য যথেষ্ট।

টিকাঃ
১৪২. সূরা মায়িদা: ৮১
১৪৩. মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/১৭-১৮ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)
১৪৪. সূরা আলে ইমরান: ২৮
১৪৫. সূরা মুজাদিলা: ২২
১৪৬. সূরা নিসা: ১৩৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00