📄 إقامة الحدّ তথা শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ করা
যদি কেউ গুনাহের কারণে হদপ্রাপ্ত হয় তথা শরয়ী শাস্তি পেয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য তা কাফফারা হয়ে যায়। সে যে গুনাহ করেছে তার কারণে কিয়ামতের দিন সে শাস্তির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে না।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ، مِنَ الَّذِينَ شَهِدُوا بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمِنْ أَصْحَابِهِ لَيْلَةَ العَقَبَةِ أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: تَعَالَوْا بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَا تَسْرِقُوا، وَلَا تَزْنُوا، وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ، وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلَا تَعْصُونِي فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ لَهُ كَفَّارَةٌ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ، إِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ، وَإِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ.
উবাদা বিন সামিত রাযি. বর্ণনা করেন-যিনি বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন এবং আকাবার রাতে বাইআত গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন-তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর নিকট একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বাইআত গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, নিজেদের পক্ষ থেকে বানিয়ে কাউকে মিথ্যা যিনার অপবাদ দিবে না এবং সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে তার বিনিময় আল্লাহর কাছে। আর কেউ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতেই তার শাস্তি হলে তা হবে তার জন্য কাফফারা। আর কেউ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তাআলা তা গোপন রাখলে তা হবে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন আর চাইলে শাস্তি দিবেন। অতঃপর আমরা তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করলাম। ১০৭
তবে কুফর-শিরকের কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এ বিধান থেকে ব্যতিক্রম। কেননা, কুফর-শিরকের উপর মৃত্যুবরণকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী। তাই যদি কোনো ব্যক্তিকে কাফের-মুরতাদ অবস্থায় হত্যা করা হয়, তাহলে সে তার নির্ধারিত শাস্তি থেকে দায়মুক্ত হবে না; বরং সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলে বিবেচিত হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرُ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ.
“তোমাদের মধ্য হতে যারা নিজের দীন থেকে ফিরে যায় এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। আর তারাই হলো দোযখবাসী, তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।”১০৮
টিকাঃ
১০৭. সহীহ বুখারী: ১/১২, হা. নং ১৮ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
১০৮. সূরা বাকারা: ২১৭