📄 الدعاء والثناء মানুষের দুআ ও প্রশংসা
জানাযার নামাযে বা দাফন পরবর্তী মানুষের দুআ এবং উত্তম প্রশংসা শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে।
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ... فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ، فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلًا ، لَا يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا، إِلَّا شَفَعَهُمُ اللَّهُ فِيهِ.
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন....আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করার পর আল্লাহর সাথে শিরক করে না এমন চল্লিশজন লোক তার জানাযা নামায পড়লে আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে তাদের দুআ ও সুপারিশ কবুল করেন। ১০৪
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَرُّوا بِجِنَازَةٍ، فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ، وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ، فَأُثْنِي عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ نَّبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ. فَقَالَ عُمَرُ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، مُرَّ بِجَنَازَةٍ، فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا فَقُلْتَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ، وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ، فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا، فَقُلْتَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ فَقَالَ: مَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ.
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিলো। তখন তার প্রশংসা করা হলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। এভাবে আরেকটি জানাযা গেলো। তখন মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা হলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। তখন উমার রাযি. বললেন, আপনার উপর আমার পিতামাতা কুরবান হোক! যখন একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, যার সম্পর্কে লোকেরা ভালো প্রশংসা করছিলো, তখন আপনি বললেন- তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। আর যখন অপর একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, যার সম্পর্কে লোকেরা খারাপ মন্তব্য করছিলো, তখন আপনি বললেন- তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। (এর পিছনে রহস্য কী?) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যার ব্যাপারে তোমরা উত্তম প্রশংসা করবে তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায়। আর যার ব্যাপারে তোমরা খারাপ মন্তব্য করবে তার জন্য জাহান্নাম আবশ্যক হয়ে যায়। তোমরা হলে যমীনে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা হলে যমীনে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা হলে যমীনে আল্লাহর সাক্ষী। ১০৫
সহীহ বুখারীর বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، قَالَ: قَدِمْتُ المَدِينَةَ وَقَدْ وَقَعَ بِهَا مَرَضُ، فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.... قَالَ: قُلْتُ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا مُسْلِمٍ، شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجنَّةَ. فَقُلْنَا: وَثَلاثَةٌ، قَالَ: وَثَلاثَةٌ. فَقُلْنَا: وَاثْنَانِ، قَالَ: وَاثْنَانِ. ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَنِ الْوَاحِدِ.
আবুল আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মদীনায় আসলাম, যখন মদীনায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছিলো। অতঃপর আমি উমার রাযি.-এর নিকটে বসলাম। ....তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন বলেছেন, আমি তেমনই বলছি, যে ব্যক্তি সম্পর্কে চারজন মানুষ উত্তম প্রশংসা করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম, তিনজন হলে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তিনজনও। আমরা বললাম, দু'জন হলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দু'জনও। এরপর আমরা একজনের ব্যাপারে আর জিজ্ঞাসা করিনি। ১০৬
উক্ত হাদীস থেকে বোঝা যায়, যদি তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিনগণ কোনো মুমিন ব্যক্তির প্রশংসা করে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর ও সুখকর হয়ে থাকে। এটি তার শেষ পরিণতি ভালো হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, ইনশাআল্লাহ। তবে যালেম তাগুতের পক্ষে পথভ্রষ্টদের সাফাইয়ের ধোঁকা থেকে সাবধান। এসব সাফাই ও চাটুকারিতা তাগুতের কোনো উপকারে আসবে না। বর্ণিত হাদীসসমূহ দ্বারা তারা উদ্দেশ্য নয়। কেননা, এসব সাফাই ও প্রশংসা লোকদেখানো ও মিথ্যা হয়ে থাকে। আর হাদীসে বলা হয়েছে ভালো মানুষদের সত্যিকার প্রশংসার কথা। আল্লাহই ভালো জানেন।
টিকাঃ
১০৪. সহীহ মুসলিম: ২/৬৫৫, হা. নং ৯৪৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
১০৫. মুসনাদে আহমাদ: ২০/২৬৯, হা. নং ১২৯৩৮ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
১০৬. সহীহ বুখারী: ২/৯৭, হা. নং ১৩৬৮ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
📄 إقامة الحدّ তথা শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ করা
যদি কেউ গুনাহের কারণে হদপ্রাপ্ত হয় তথা শরয়ী শাস্তি পেয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য তা কাফফারা হয়ে যায়। সে যে গুনাহ করেছে তার কারণে কিয়ামতের দিন সে শাস্তির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে না।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ، مِنَ الَّذِينَ شَهِدُوا بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمِنْ أَصْحَابِهِ لَيْلَةَ العَقَبَةِ أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: تَعَالَوْا بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَا تَسْرِقُوا، وَلَا تَزْنُوا، وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ، وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلَا تَعْصُونِي فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ لَهُ كَفَّارَةٌ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ، إِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ، وَإِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ.
উবাদা বিন সামিত রাযি. বর্ণনা করেন-যিনি বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন এবং আকাবার রাতে বাইআত গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন-তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর নিকট একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বাইআত গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, নিজেদের পক্ষ থেকে বানিয়ে কাউকে মিথ্যা যিনার অপবাদ দিবে না এবং সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে তার বিনিময় আল্লাহর কাছে। আর কেউ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতেই তার শাস্তি হলে তা হবে তার জন্য কাফফারা। আর কেউ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তাআলা তা গোপন রাখলে তা হবে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন আর চাইলে শাস্তি দিবেন। অতঃপর আমরা তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করলাম। ১০৭
তবে কুফর-শিরকের কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এ বিধান থেকে ব্যতিক্রম। কেননা, কুফর-শিরকের উপর মৃত্যুবরণকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী। তাই যদি কোনো ব্যক্তিকে কাফের-মুরতাদ অবস্থায় হত্যা করা হয়, তাহলে সে তার নির্ধারিত শাস্তি থেকে দায়মুক্ত হবে না; বরং সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলে বিবেচিত হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرُ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ.
“তোমাদের মধ্য হতে যারা নিজের দীন থেকে ফিরে যায় এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। আর তারাই হলো দোযখবাসী, তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।”১০৮
টিকাঃ
১০৭. সহীহ বুখারী: ১/১২, হা. নং ১৮ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
১০৮. সূরা বাকারা: ২১৭