📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 الشفاعة তথা শাফাআত

📄 الشفاعة তথা শাফাআত


নির্দিষ্ট ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, শাফাআত তথা সুপারিশ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের মাঠে তাঁর উম্মতের মধ্যকার পাপী ও কবীরা গুনাহকারীদের জন্য সুপারিশ করবেন। অনুরূপ বিশেষ কিছু মুমিন বান্দাও ক্ষুদ্র পরিসরে কারো কারো ব্যাপারে শাফাআত করার অনুমতি লাভ করবেন। তবে এ শাফাআত তাদের জন্য হবে, যারা ঈমান ও তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করেছে।
সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكِ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَانِي آتٍ مِنْ عِنْدِ رَبِّي فَخَيَّرَنِي بَيْنَ أَنْ يُدْخِلَ نِصْفَ أُمَّتِي الجَنَّةَ وَبَيْنَ الشَّفَاعَةِ، فَاخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ، وَهِيَ لِمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا.
আওফ বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমার কাছে এক আগন্তুক এলেন। তিনি আমাকে আমার অর্ধেক উম্মতকে জান্নাতে প্রবেশ করানো কিংবা শাফাআত করার অধিকার; এ দু'টির যে কোনো একটি গ্রহণের সুযোগ দিলেন। অতঃপর আমি শাফাআত করার অধিকারকেই গ্রহণ করলাম। এ শাফাআত হলো তার জন্য, যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু শরীক না করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। ৯৭
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ فَقَالَ: لَقَدْ ظَنَنْتُ، يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَنْ لَا يَسْأَلَنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ، لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামতের দিন কে আপনার শাফাআত পেয়ে সর্বাধিক সৌভাগ্যমণ্ডিত হবে? তখন তিনি বললেন, হে আবু হুরাইরা, আমি জানতাম, এ হাদীস সম্পর্কে তোমার পূর্বে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। যেহেতু আমি হাদীসের বিষয়ে তোমার আগ্রহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছি। কিয়ামতের দিন আমার শাফাআত পেয়ে সর্বাধিক সৌভাগ্যমণ্ডিত হবে ঐ ব্যক্তি, যে একনিষ্ঠভাবে মন থেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে।৯৮
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে- دَخَلْنَا عَلَى أُمِّ الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ أَيْتَامُ، فَقَالَتْ: أَبْشِرُوا، فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُشَفَعُ الشَّهِيدُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ.
উম্মে দারদা রাযি. বলেন, আমি আবু দারদা রাযি.-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শহীদ তার পরিবারের সত্তরজনের জন্য শাফাআত করবে।৯৯
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا خَلَصَ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَمِنُوا، فَمَا مُجَادَلَةُ أَحَدِكُمْ لِصَاحِبِهِ فِي الْحَقِّ يَكُونُ لَهُ فِي الدُّنْيَا، بِأَشَدَّ مُجَادَلَةً لَهُ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لِرَبِّهِمْ فِي إِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ أُدْخِلُوا النَّارَ. قَالَ: يَقُولُونَ: رَبَّنَا إِخْوَانُنَا كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَنَا، وَيَصُومُونَ مَعَنَا، وَيَحُجُّونَ مَعَنَا، فَأَدْخَلْتَهُمُ النَّارَ، قَالَ: فَيَقُولُ: اذْهَبُوا فَأَخْرِجُوا مَنْ عَرَفْتُمْ، فَيَأْتُونَهُمْ فَيَعْرِفُونَهُمْ بِصُوَرِهِمْ، لَا تَأْكُلُ النَّارُ صُوَرَهُمْ، فَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ النَّارُ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ إِلَى كَعْبَيْهِ، فَيُخْرِجُونَهُمْ، فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا أَخْرَجْنَا مَنْ أَمَرْتَنَا، ثُمَّ يَقُولُ: أَخْرِجُوا مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ دِينَارٍ مِنَ الْإِيمَانِ، ثُمَّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ نِصْفِ دِينَارٍ، حَتَّى يَقُولَ: مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ. قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَمَنْ لَمْ يُصَدِّقُ بِهَذَا، فَلْيَقْرَأُ هَذِهِ الْآيَةَ: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا} [النساء : ٤٠] قَالَ: فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا قَدْ أَخْرَجْنَا مَنْ أَمَرْتَنَا، فَلَمْ يَبْقَ فِي النَّارِ أَحَدٌ فِيهِ خَيْرُ. قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ: شَفَعَتِ الْمَلَائِكَةُ، وَشَفَعَ الْأَنْبِيَاءُ، وَشَفَعَ الْمُؤْمِنُونَ، وَبَقِيَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ، قَالَ: فَيَقْبِضُ قَبْضَةٌ مِنَ النَّارِ، - أَوْ قَالَ: قَبْضَتَيْنِ - نَاسٌ لَّمْ يَعْمَلُوا لِلَّهِ خَيْرًا قَطُّ قَدِ احْتَرَقُوا حَتَّى صَارُوا حُمَمًا، قَالَ: فَيُؤْتَى بِهِمْ إِلَى مَاءٍ يُقَالُ لَهُ: مَاءُ الْحَيَاةِ، فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ، فَيَخْرُجُونَ مِنْ أَجْسَادِهِمْ مِثْلَ اللُّؤْلُؤِ، فِي أَعْنَاقِهِمُ الْخَاتَمُ: عُتَقَاءُ اللهِ، قَالَ: فَيُقَالُ لَهُمْ: ادْخُلُوا الْجَنَّةَ، فَمَا تَمَنَّيْتُمْ أَوْ رَأَيْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ لَكُمْ عِنْدِي أَفْضَلُ مِنْ هَذَا، قَالَ: فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا وَمَا أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: فَيَقُولُ رِضَائِي عَلَيْكُمْ فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ أَبَدًا.
অর্থাৎ আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন যখন কিছু মুমিনকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা নিরাপদ হবে, তখন মুমিনগণ তাঁদের জাহান্নামে রয়ে যাওয়া ভাইদের ব্যাপারে আল্লাহর সাথে এমনভাবে বিতর্কে লিপ্ত হবে, যেমনটা তোমরা পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও করো না। তিনি বলেন, তারা বলবে, হে রব! আমাদের ভাইদের কী হবে? তারা তো আমাদের সাথে নামায পড়তো, রোযা রাখতো, হজ করতো। তখন আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দিবেন, ঠিক আছে যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে আনো। অতঃপর তারা তাদের নিকট এসে তাদের মুখ দেখে চিনতে পারবে। জাহান্নামের আগুন তাদের মুখমণ্ডল বিনষ্ট করবে না। এদের অবস্থা এমন হবে যে, আগুন কারোর অর্ধ পা পর্যন্ত আবার কারো গোড়ালি পর্যন্ত ভস্ম করে দিয়েছে। অতঃপর তারা তাদেরকে বের করে এনে বলবে, হে রব! যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদেরকে আমরা বের করে এনেছি। আল্লাহ বলবেন, আবার যাও। অতঃপর যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট আছে, এরপর যার অন্তরে অর্ধেক দীনার পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট আছে; অবশেষে বলবেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট আছে, তাকেও বের করে আনো। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এ ব্যাপারটি সত্য বলে মানতে দ্বিধা করে সে যেনো এ আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করে- إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا “নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তাহলে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সাওয়াব দান করেন।” [সূরা নিসা: ৪০] তিনি বলেন, অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের রব! যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন তাদেরকে আমরা বের করে এনেছি। ভালো কেউই আর জাহান্নামে অবশিষ্ট নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, ফেরেশতারা সুপারিশ করলো, নবীগণ সুপারিশ করলো এবং মুমিনরাও সুপারিশ করলো। এখন কেবল সবচে দয়াময় সত্তাই রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুঠো (বর্ণনাকারী বলেন, অথবা দু'মুঠো) তুলে আনবেন, ফলে এমন একদল লোক মুক্তি পাবে, যারা কখনো কোনো সৎকর্ম করেনি১০০ এবং আগুনে জ্বলে অঙ্গার হয়ে গেছে। অতঃপর তাদেরকে পানির নিকট আনা হবে, যাকে বলা হয় 'জীবনলাভের পানি'। তাদের শরীরে সে পানি ঢালা হবে। এতে করে তারা এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন শস্যদানা পানিসিঞ্চিত ভূমিতে সতেজ হয়ে উঠে। এরপর তারা মুক্তার ন্যায় দেহ নিয়ে বের হয়ে আসবে। তাদের গ্রীবাদেশে “উতাকাউল্লাহ” তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত মোহরাঙ্কিত থাকবে। তিনি বলেন, এরপর তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হবে, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। আর যা কিছু তোমরা চাইছো এবং দেখছো সবকিছু তোমাদেরই। আমার কাছে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নিআমত আছে। তারা বলবে, সে উত্তম নিআমত কী? আল্লাহ বলবেন, তা হলো আমার সন্তুষ্টি। এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না। ১০১

টিকাঃ
৯৭. সুনানে তিরমিযী: ৪/২৬০, হা. নং ২৪৪১ (দারুল গারবিল ইসলামী, বৈরূত)
৯৮. সহীহ বুখারী: ৮/১১৭, হা. নং ৬৫৭০ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
৯৯. সুনানে আবু দাউদ: ৩/১৫, হা. নং ২৫২২ (আল মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরূত)
১০০. এখানে উদ্দেশ্য হলো তাওহীদ ও তার শর্তসমূহ পূরণ করার পর ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় এমন ঈমানভঙ্গকারী কোনো কিছু তারা করেনি এবং জীবনে অন্য কোনো পুণ্যের কাজও করেনি।
১০১. মুসনাদে আহমাদ: ১৮/৩৯৪-৩৯৬, হা. নং ১১৮৯৮ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 المحسنات তথা মেয়েসন্তান

📄 المحسنات তথা মেয়েসন্তান


শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো মেয়েসন্তান। মেয়েসন্তানকে সুন্দরভাবে প্রতিপালন করে দীনী দীক্ষায় দীক্ষিত করে তুললে তারা তাদের পিতামাতার জন্য কিয়ামতের দিন জান্নাতে প্রবেশের কারণ হবে।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ عَالَ ثَلَاثَ بَنَاتٍ يَكْفِيهِنَّ، وَيَرْحَمُهُنَّ، وَيَرْفُقُ بِهِنَّ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ أَوْ قَالَ: مَعِي فِي الْجَنَّةِ.
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা পালন করবে, তাদের প্রয়োজন মেটাবে, তাদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে অথবা বলেছেন, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। ১০২
সহীহ বুখারীর বর্ণনায় এসেছে-
أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَتْهُ قَالَتْ: جَاءَتْنِي امْرَأَةُ مَعَهَا ابْنَتَانِ تَسْأَلُنِي، فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِي غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ، فَأَعْطَيْتُهَا فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا، ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ، فَدَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْتُهُ، فَقَالَ: «مَنْ يَلِي مِنْ هَذِهِ البَنَاتِ شَيْئًا، فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ، كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ.
আয়িশা রাযি. বর্ণনা করেন, একজন মহিলা তার দু'মেয়েকে নিয়ে কিছু চাওয়ার উদ্দেশ্যে আমার নিকট আসলো। কিন্তু একটি খেজুর ছাড়া আমার নিকট আর কিছুই পেলো না। অতঃপর আমি তা তাকে দিয়ে দিলাম। মহিলাটি তা তার দু'মেয়ের জন্য ভাগ করে দিলো। এরপর উঠে চলে গেলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলে আমি ঘটনা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এ সকল কন্যা দ্বারা পরীক্ষিত হবে, অতঃপর তাদেরকে উত্তমভাবে লালনপালন করে, তারা তার জাহান্নামে প্রবেশের পথে অন্তরায় হবে। ১০৩

টিকাঃ
১০২. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৫/২২১, হা. নং ২৫৪৩৪ (মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ)
১০৩. সহীহ বুখারী: ৮/৭, হা. নং ৫৯৯৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 الدعاء والثناء মানুষের দুআ ও প্রশংসা

📄 الدعاء والثناء মানুষের দুআ ও প্রশংসা


জানাযার নামাযে বা দাফন পরবর্তী মানুষের দুআ এবং উত্তম প্রশংসা শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে।
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ... فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ، فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلًا ، لَا يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا، إِلَّا شَفَعَهُمُ اللَّهُ فِيهِ.
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন....আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করার পর আল্লাহর সাথে শিরক করে না এমন চল্লিশজন লোক তার জানাযা নামায পড়লে আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে তাদের দুআ ও সুপারিশ কবুল করেন। ১০৪
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَرُّوا بِجِنَازَةٍ، فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ، وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ، فَأُثْنِي عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ نَّبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ. فَقَالَ عُمَرُ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، مُرَّ بِجَنَازَةٍ، فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا فَقُلْتَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ، وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ، فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا، فَقُلْتَ: وَجَبَتْ وَجَبَتْ وَجَبَتْ فَقَالَ: مَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ.
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিলো। তখন তার প্রশংসা করা হলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। এভাবে আরেকটি জানাযা গেলো। তখন মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা হলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। তখন উমার রাযি. বললেন, আপনার উপর আমার পিতামাতা কুরবান হোক! যখন একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, যার সম্পর্কে লোকেরা ভালো প্রশংসা করছিলো, তখন আপনি বললেন- তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। আর যখন অপর একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, যার সম্পর্কে লোকেরা খারাপ মন্তব্য করছিলো, তখন আপনি বললেন- তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেছে। (এর পিছনে রহস্য কী?) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যার ব্যাপারে তোমরা উত্তম প্রশংসা করবে তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায়। আর যার ব্যাপারে তোমরা খারাপ মন্তব্য করবে তার জন্য জাহান্নাম আবশ্যক হয়ে যায়। তোমরা হলে যমীনে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা হলে যমীনে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা হলে যমীনে আল্লাহর সাক্ষী। ১০৫
সহীহ বুখারীর বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، قَالَ: قَدِمْتُ المَدِينَةَ وَقَدْ وَقَعَ بِهَا مَرَضُ، فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.... قَالَ: قُلْتُ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا مُسْلِمٍ، شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجنَّةَ. فَقُلْنَا: وَثَلاثَةٌ، قَالَ: وَثَلاثَةٌ. فَقُلْنَا: وَاثْنَانِ، قَالَ: وَاثْنَانِ. ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَنِ الْوَاحِدِ.
আবুল আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মদীনায় আসলাম, যখন মদীনায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছিলো। অতঃপর আমি উমার রাযি.-এর নিকটে বসলাম। ....তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন বলেছেন, আমি তেমনই বলছি, যে ব্যক্তি সম্পর্কে চারজন মানুষ উত্তম প্রশংসা করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম, তিনজন হলে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তিনজনও। আমরা বললাম, দু'জন হলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দু'জনও। এরপর আমরা একজনের ব্যাপারে আর জিজ্ঞাসা করিনি। ১০৬
উক্ত হাদীস থেকে বোঝা যায়, যদি তাওহীদে বিশ্বাসী মুমিনগণ কোনো মুমিন ব্যক্তির প্রশংসা করে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর ও সুখকর হয়ে থাকে। এটি তার শেষ পরিণতি ভালো হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, ইনশাআল্লাহ। তবে যালেম তাগুতের পক্ষে পথভ্রষ্টদের সাফাইয়ের ধোঁকা থেকে সাবধান। এসব সাফাই ও চাটুকারিতা তাগুতের কোনো উপকারে আসবে না। বর্ণিত হাদীসসমূহ দ্বারা তারা উদ্দেশ্য নয়। কেননা, এসব সাফাই ও প্রশংসা লোকদেখানো ও মিথ্যা হয়ে থাকে। আর হাদীসে বলা হয়েছে ভালো মানুষদের সত্যিকার প্রশংসার কথা। আল্লাহই ভালো জানেন।

টিকাঃ
১০৪. সহীহ মুসলিম: ২/৬৫৫, হা. নং ৯৪৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
১০৫. মুসনাদে আহমাদ: ২০/২৬৯, হা. নং ১২৯৩৮ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
১০৬. সহীহ বুখারী: ২/৯৭, হা. নং ১৩৬৮ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 إقامة الحدّ তথা শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ করা

📄 إقامة الحدّ তথা শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ করা


যদি কেউ গুনাহের কারণে হদপ্রাপ্ত হয় তথা শরয়ী শাস্তি পেয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য তা কাফফারা হয়ে যায়। সে যে গুনাহ করেছে তার কারণে কিয়ামতের দিন সে শাস্তির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে না।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ، مِنَ الَّذِينَ شَهِدُوا بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمِنْ أَصْحَابِهِ لَيْلَةَ العَقَبَةِ أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: تَعَالَوْا بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَا تَسْرِقُوا، وَلَا تَزْنُوا، وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ، وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلَا تَعْصُونِي فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ لَهُ كَفَّارَةٌ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ، إِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ، وَإِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ.
উবাদা বিন সামিত রাযি. বর্ণনা করেন-যিনি বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন এবং আকাবার রাতে বাইআত গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন-তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর নিকট একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বাইআত গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, নিজেদের পক্ষ থেকে বানিয়ে কাউকে মিথ্যা যিনার অপবাদ দিবে না এবং সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে তার বিনিময় আল্লাহর কাছে। আর কেউ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতেই তার শাস্তি হলে তা হবে তার জন্য কাফফারা। আর কেউ এর কোনো একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তাআলা তা গোপন রাখলে তা হবে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন আর চাইলে শাস্তি দিবেন। অতঃপর আমরা তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করলাম। ১০৭
তবে কুফর-শিরকের কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এ বিধান থেকে ব্যতিক্রম। কেননা, কুফর-শিরকের উপর মৃত্যুবরণকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী। তাই যদি কোনো ব্যক্তিকে কাফের-মুরতাদ অবস্থায় হত্যা করা হয়, তাহলে সে তার নির্ধারিত শাস্তি থেকে দায়মুক্ত হবে না; বরং সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলে বিবেচিত হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرُ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ.
“তোমাদের মধ্য হতে যারা নিজের দীন থেকে ফিরে যায় এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। আর তারাই হলো দোযখবাসী, তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।”১০৮

টিকাঃ
১০৭. সহীহ বুখারী: ১/১২, হা. নং ১৮ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
১০৮. সূরা বাকারা: ২১৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00