📄 الحسنات তথা সৎকর্ম
নেক আমল বা সৎকর্ম গুনাহসমূহকে মুছে দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অসৎ কাজের জন্য নির্ধারিত শাস্তিকে বাতিল করে দেয়।
মহান রাব্বুল আলামীন বলেন-
وَأَقِمِ الصَّلاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفاً مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
“আর দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের প্রান্তভাগে নামায কায়েম করো। নিশ্চয় সৎকর্ম পাপসমূহকে দূর করে দেয়। যারা স্মরণ রাখে, তাদের জন্য এটি এক মহাস্মারক।”৮৩
قَالَ عُثْمَانُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ بِفِنَاءِ أَحَدِكُمْ نَهَرُ يَجْرِي، يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، مَا كَانَ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ؟ قَالُوا: لَا شَيْءَ. قَالَ: فَإِنَّ الصَّلَوَاتِ تُذْهِبُ الذُّنُوبَ كَمَا يُذْهِبُ الْمَاءُ الدَّرَنَ.
অর্থাৎ উসমান রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কারো বাড়ির আঙিনায় যদি একটি প্রবাহমান নদী থাকে আর তাতে কেউ প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা বাকি থাকবে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, না, তার শরীরে কোনো ময়লা বাকি থাকবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয় পাঁচ ওয়াক্ত নামায পাপকে এমনভাবে দূর করে যেমন পানি ময়লাকে ধুয়ে ফেলে। ৮৪
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন-
وَمَنْ كَانَ كَثِيرَ الذُّنُوبِ فَأَعْظَمُ دَوَائِهِ الْجِهَادُ؛ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَغْفِرُ ذُنُوبَهُ كَمَا أَخْبَرَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ بِقَوْلِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى: {يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ...... وَكَذَلِكَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ في دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ وَحَمِيَّتِهَا فَعَلَيْهِ بِالْجِهَادِ.
অর্থাৎ যার গুনাহের পরিমাণ অনেক তার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ওষুধ হলো জিহাদ। কেননা, আল্লাহ তাআলা তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিবেন। যেমনটা আল্লাহ তাআলা কুরআনে জানিয়ে দিয়েছেন, “তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।” এমনিভাবে যে ব্যক্তি চায়, আল্লাহ তাআলা তার জাহেলিয়াতের পাপসমূহকে ক্ষমা করে দিবেন এবং পাপ থেকে তাকে রক্ষা করবেন, তার জন্য আবশ্যক হলো জিহাদ করা। ৮৫
টিকাঃ
৮৩. সূরা হূদ: ১১৪
৮৪. মুসনাদে আহমাদ: ১/৫৪১, হা. নং ৫১৮ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৮৫. মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া: ২৮/৪২১-৪২২, (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদীনা)
📄 البلاء তথা বিপদ
যদি কোনো বান্দা বিপদে বা রোগে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশায় ধৈর্যধারণ করে, তাহলে এর কারণে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ. الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ. أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
“আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করবো। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো। তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হিদায়াতপ্রাপ্ত।৮৬
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ: قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَهْدِيَّ السَّلَمِيُّ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا سَبَقَتْ لَهُ مِنَ اللَّهِ مَنْزِلَةٌ، لَمْ يَبْلُغْهَا بِعَمَلِهِ ابْتَلَاهُ اللهُ فِي جَسَدِهِ، أَوْ فِي مَالِهِ، أَوْ فِي وَلَدِهِ. قَالَ أَبُو دَاوُدَ: زَادَ ابْنُ نُفَيْلٍ : ثُمَّ صَبَّرَهُ عَلَى ذَلِكَ - ثُمَّ اتَّفَقَا - حَتَّى يُبْلِغَهُ الْمَنْزِلَةَ الَّتِي سَبَقَتْ لَهُ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى.
অর্থাৎ মুহাম্মাদ বিন খালিদ রহ. স্বীয় পিতা সূত্রে তার দাদা (যিনি ছিলেন একজন সাহাবী) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এমন মর্যাদা দান করা হয়, যেখানে আমলের মাধ্যমে সে পৌঁছাতে পারবে না, তখন আল্লাহ তাআলা সে বান্দার শরীর, সম্পদ বা সন্তানের দ্বারা তাকে পরীক্ষা করেন। অতঃপর সে এমন অবস্থায় ধৈর্যধারণ করলো; এমনকি এর দ্বারা আল্লাহ তাআলা তাকে সে প্রদত্ত মর্যাদায় পৌঁছে দেন।৮৭
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَا مِنْ شَيْءٍ يُصِيبُ الْمُؤْمِنَ فِي جَسَدِهِ يُؤْذِيهِ، إِلَّا كَفَرَ اللَّهُ عَنْهُ بِهِ مِنْ سَيِّئَاتِهِ.
মুআবিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মুমিন ব্যক্তি শারীরিকভাবে কোনো কষ্টের স্বীকার হলে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।৮৮
সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءٌ؟ قَالَ: الأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ، فَيُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَإِنْ كَانَ دِينُهُ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ، وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَةُ ابْتُلِيَ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَمَا يَبْرَحُ البَلاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ مَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ.
অর্থাৎ সাদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের মধ্য হতে কারা বিপদের দ্বারা সর্বাধিক পরীক্ষিত? তিনি বললেন, আম্বিয়ায়ে কেরাম। এরপর তাদের পরবর্তী স্তরের লোক, এরপর তাদের পরবর্তী স্তরের লোক। একজন ব্যক্তি তার দীন অনুযায়ী পরীক্ষিত হয়। যদি সে দীন অনুসরণে কঠিন তথা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, তাহলে তার বিপদ প্রবল হয়। আর যদি সে দীন পালনে নমনীয় হয়, তাহলে তদনুযায়ী সে পরীক্ষিত হবে। এভাবে বিপদ একজন বান্দার কাছে আসতে থাকে; এমনকি একসময় ঐ বান্দা পৃথিবীতে এমনভাবে বিচরণ করে, যেনো তার কোনো গুনাহই নেই।৮৯
টিকাঃ
৮৬. সূরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭
৮৭. সুনানে আবু দাউদ: ৩/১৮৩, হা. নং ৩০৯০ (আল মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরূত)
৮৮. মুসনাদে আহমাদ: ২৮/১০৭, হা. নং ১৬৮৯৯ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৮৯. সুনানে তিরমিযী: ৪/১৭৯, হা. নং ২৩৯৮ (দারুল গারবিল ইসলামী, বৈরূত)
📄 التوبة والاستغفار. তাওবা ও ইসতিগফার
খাঁটি তাওবা তার পূর্বেকার সকল গুনাহ; এমনকি কুফর-শিরকের গুনাহকেও মোচন করে দেয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন- فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ.
“অতঃপর যে ব্যক্তি স্বীয় অত্যাচারের পর তাওবা করে এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।”৯০
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَإِنِّي لَغَفَّارُ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحاً ثُمَّ اهْتَدَى.
“আর আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে সৎপথে অটল থাকে।”৯১
আল্লাহ তাআলা বলেন- إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَالِحاً فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَحِيماً.
“কিন্তু যারা তাওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”৯২
সুনানে ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ، كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ (বিন মাসউদ) রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী এমন হয়ে যায়, যেনো তার কোনো গুনাহই নেই। ১৯৩
শারহুস সুন্নাহ বগাবীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ .... وَلَوْ تُخْطِئُونَ حَتَّى تَبْلُغَ خَطَايَاكُمُ السَّمَاءَ، ثُمَّ تَتُوبُونَ لَتَابَ اللهُ عَلَيْكُمْ.
আবু হুরাইরা রাযি. সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "যদি তোমরা গুনাহ করতে করতে তা আকাশে গিয়ে পৌঁছে, অতঃপর তোমরা তাওবা করো, তথাপি আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল করবেন।”৯৪
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللَّهُ بِكُمْ، وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ، فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ فَيَغْفِرُ لَهُمْ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে এমন এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করতেন, যারা গুনাহ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। ৯৫
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ، وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا.
মুআবিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তাওবার দরজা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না। আর সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাওবার দরজা বন্ধ হবে না।৯৬
টিকাঃ
৯০. সূরা মায়িদা: ৩৯
৯১. সূরা তহা: ৮২
৯২. সূরা ফুরকান: ৭০
৯৩. ইবনে মাজাহ: ২/১৪১৯, হা. নং ৪২৫০ (দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যা)
৯৪. শারহুস সুন্নাহ বগাবী: ৫/৭৮, হা. নং ১২৯৫ (আল মাকতাবুল ইসলামী, বৈরূত)
৯৪. সহীহ মুসলিম: ৪/২১০৬, হা. নং ২৭৪৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
৯৬. সুনানে আবু দাউদ: ৩/৩, হা. নং ২৪৭৯ (আল মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরূত)
📄 الشفاعة তথা শাফাআত
নির্দিষ্ট ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, শাফাআত তথা সুপারিশ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের মাঠে তাঁর উম্মতের মধ্যকার পাপী ও কবীরা গুনাহকারীদের জন্য সুপারিশ করবেন। অনুরূপ বিশেষ কিছু মুমিন বান্দাও ক্ষুদ্র পরিসরে কারো কারো ব্যাপারে শাফাআত করার অনুমতি লাভ করবেন। তবে এ শাফাআত তাদের জন্য হবে, যারা ঈমান ও তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করেছে।
সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكِ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَانِي آتٍ مِنْ عِنْدِ رَبِّي فَخَيَّرَنِي بَيْنَ أَنْ يُدْخِلَ نِصْفَ أُمَّتِي الجَنَّةَ وَبَيْنَ الشَّفَاعَةِ، فَاخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ، وَهِيَ لِمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا.
আওফ বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমার কাছে এক আগন্তুক এলেন। তিনি আমাকে আমার অর্ধেক উম্মতকে জান্নাতে প্রবেশ করানো কিংবা শাফাআত করার অধিকার; এ দু'টির যে কোনো একটি গ্রহণের সুযোগ দিলেন। অতঃপর আমি শাফাআত করার অধিকারকেই গ্রহণ করলাম। এ শাফাআত হলো তার জন্য, যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু শরীক না করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। ৯৭
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ فَقَالَ: لَقَدْ ظَنَنْتُ، يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَنْ لَا يَسْأَلَنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ، لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামতের দিন কে আপনার শাফাআত পেয়ে সর্বাধিক সৌভাগ্যমণ্ডিত হবে? তখন তিনি বললেন, হে আবু হুরাইরা, আমি জানতাম, এ হাদীস সম্পর্কে তোমার পূর্বে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। যেহেতু আমি হাদীসের বিষয়ে তোমার আগ্রহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছি। কিয়ামতের দিন আমার শাফাআত পেয়ে সর্বাধিক সৌভাগ্যমণ্ডিত হবে ঐ ব্যক্তি, যে একনিষ্ঠভাবে মন থেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে।৯৮
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে- دَخَلْنَا عَلَى أُمِّ الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ أَيْتَامُ، فَقَالَتْ: أَبْشِرُوا، فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُشَفَعُ الشَّهِيدُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ.
উম্মে দারদা রাযি. বলেন, আমি আবু দারদা রাযি.-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শহীদ তার পরিবারের সত্তরজনের জন্য শাফাআত করবে।৯৯
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا خَلَصَ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَمِنُوا، فَمَا مُجَادَلَةُ أَحَدِكُمْ لِصَاحِبِهِ فِي الْحَقِّ يَكُونُ لَهُ فِي الدُّنْيَا، بِأَشَدَّ مُجَادَلَةً لَهُ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لِرَبِّهِمْ فِي إِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ أُدْخِلُوا النَّارَ. قَالَ: يَقُولُونَ: رَبَّنَا إِخْوَانُنَا كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَنَا، وَيَصُومُونَ مَعَنَا، وَيَحُجُّونَ مَعَنَا، فَأَدْخَلْتَهُمُ النَّارَ، قَالَ: فَيَقُولُ: اذْهَبُوا فَأَخْرِجُوا مَنْ عَرَفْتُمْ، فَيَأْتُونَهُمْ فَيَعْرِفُونَهُمْ بِصُوَرِهِمْ، لَا تَأْكُلُ النَّارُ صُوَرَهُمْ، فَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ النَّارُ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ إِلَى كَعْبَيْهِ، فَيُخْرِجُونَهُمْ، فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا أَخْرَجْنَا مَنْ أَمَرْتَنَا، ثُمَّ يَقُولُ: أَخْرِجُوا مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ دِينَارٍ مِنَ الْإِيمَانِ، ثُمَّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ نِصْفِ دِينَارٍ، حَتَّى يَقُولَ: مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ. قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَمَنْ لَمْ يُصَدِّقُ بِهَذَا، فَلْيَقْرَأُ هَذِهِ الْآيَةَ: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا} [النساء : ٤٠] قَالَ: فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا قَدْ أَخْرَجْنَا مَنْ أَمَرْتَنَا، فَلَمْ يَبْقَ فِي النَّارِ أَحَدٌ فِيهِ خَيْرُ. قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ: شَفَعَتِ الْمَلَائِكَةُ، وَشَفَعَ الْأَنْبِيَاءُ، وَشَفَعَ الْمُؤْمِنُونَ، وَبَقِيَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ، قَالَ: فَيَقْبِضُ قَبْضَةٌ مِنَ النَّارِ، - أَوْ قَالَ: قَبْضَتَيْنِ - نَاسٌ لَّمْ يَعْمَلُوا لِلَّهِ خَيْرًا قَطُّ قَدِ احْتَرَقُوا حَتَّى صَارُوا حُمَمًا، قَالَ: فَيُؤْتَى بِهِمْ إِلَى مَاءٍ يُقَالُ لَهُ: مَاءُ الْحَيَاةِ، فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ، فَيَخْرُجُونَ مِنْ أَجْسَادِهِمْ مِثْلَ اللُّؤْلُؤِ، فِي أَعْنَاقِهِمُ الْخَاتَمُ: عُتَقَاءُ اللهِ، قَالَ: فَيُقَالُ لَهُمْ: ادْخُلُوا الْجَنَّةَ، فَمَا تَمَنَّيْتُمْ أَوْ رَأَيْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ لَكُمْ عِنْدِي أَفْضَلُ مِنْ هَذَا، قَالَ: فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا وَمَا أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: فَيَقُولُ رِضَائِي عَلَيْكُمْ فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ أَبَدًا.
অর্থাৎ আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন যখন কিছু মুমিনকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা নিরাপদ হবে, তখন মুমিনগণ তাঁদের জাহান্নামে রয়ে যাওয়া ভাইদের ব্যাপারে আল্লাহর সাথে এমনভাবে বিতর্কে লিপ্ত হবে, যেমনটা তোমরা পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও করো না। তিনি বলেন, তারা বলবে, হে রব! আমাদের ভাইদের কী হবে? তারা তো আমাদের সাথে নামায পড়তো, রোযা রাখতো, হজ করতো। তখন আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দিবেন, ঠিক আছে যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে আনো। অতঃপর তারা তাদের নিকট এসে তাদের মুখ দেখে চিনতে পারবে। জাহান্নামের আগুন তাদের মুখমণ্ডল বিনষ্ট করবে না। এদের অবস্থা এমন হবে যে, আগুন কারোর অর্ধ পা পর্যন্ত আবার কারো গোড়ালি পর্যন্ত ভস্ম করে দিয়েছে। অতঃপর তারা তাদেরকে বের করে এনে বলবে, হে রব! যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদেরকে আমরা বের করে এনেছি। আল্লাহ বলবেন, আবার যাও। অতঃপর যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট আছে, এরপর যার অন্তরে অর্ধেক দীনার পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট আছে; অবশেষে বলবেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট আছে, তাকেও বের করে আনো। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এ ব্যাপারটি সত্য বলে মানতে দ্বিধা করে সে যেনো এ আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করে- إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا “নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তাহলে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সাওয়াব দান করেন।” [সূরা নিসা: ৪০] তিনি বলেন, অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের রব! যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন তাদেরকে আমরা বের করে এনেছি। ভালো কেউই আর জাহান্নামে অবশিষ্ট নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, ফেরেশতারা সুপারিশ করলো, নবীগণ সুপারিশ করলো এবং মুমিনরাও সুপারিশ করলো। এখন কেবল সবচে দয়াময় সত্তাই রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুঠো (বর্ণনাকারী বলেন, অথবা দু'মুঠো) তুলে আনবেন, ফলে এমন একদল লোক মুক্তি পাবে, যারা কখনো কোনো সৎকর্ম করেনি১০০ এবং আগুনে জ্বলে অঙ্গার হয়ে গেছে। অতঃপর তাদেরকে পানির নিকট আনা হবে, যাকে বলা হয় 'জীবনলাভের পানি'। তাদের শরীরে সে পানি ঢালা হবে। এতে করে তারা এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন শস্যদানা পানিসিঞ্চিত ভূমিতে সতেজ হয়ে উঠে। এরপর তারা মুক্তার ন্যায় দেহ নিয়ে বের হয়ে আসবে। তাদের গ্রীবাদেশে “উতাকাউল্লাহ” তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত মোহরাঙ্কিত থাকবে। তিনি বলেন, এরপর তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হবে, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। আর যা কিছু তোমরা চাইছো এবং দেখছো সবকিছু তোমাদেরই। আমার কাছে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নিআমত আছে। তারা বলবে, সে উত্তম নিআমত কী? আল্লাহ বলবেন, তা হলো আমার সন্তুষ্টি। এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না। ১০১
টিকাঃ
৯৭. সুনানে তিরমিযী: ৪/২৬০, হা. নং ২৪৪১ (দারুল গারবিল ইসলামী, বৈরূত)
৯৮. সহীহ বুখারী: ৮/১১৭, হা. নং ৬৫৭০ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
৯৯. সুনানে আবু দাউদ: ৩/১৫, হা. নং ২৫২২ (আল মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরূত)
১০০. এখানে উদ্দেশ্য হলো তাওহীদ ও তার শর্তসমূহ পূরণ করার পর ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় এমন ঈমানভঙ্গকারী কোনো কিছু তারা করেনি এবং জীবনে অন্য কোনো পুণ্যের কাজও করেনি।
১০১. মুসনাদে আহমাদ: ১৮/৩৯৪-৩৯৬, হা. নং ১১৮৯৮ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)