📄 প্রমাণ সাব্যস্ত হওয়া
নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তাকফীর করার জন্য তার কুফরী সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি এটাও দেখা জরুরি যে, কুফরীর বিষয়ে তার কোনো ওযর বা অক্ষমতা আছে কিনা। যদি সে অজ্ঞতার কারণে বা শরীয়তের হুকুম তার কাছে না পৌঁছার কারণে কুফরী করে, তাহলে তাকে শরীয়তের বিধান জানিয়ে দেয়া হবে। এরপর যদি সে প্রমাণকে প্রত্যাখ্যান করে বা হঠকারিতা করে মানতে অস্বীকার করে, তাহলে তাকে তাকফীর করা হবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً
“কোনো রাসূল প্রেরণ করার আগে আমি কাউকে শাস্তি প্রদান করি না।”৭৪
অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন-
رُسُلاً مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُسُلِ وَكَانَ اللهُ عَزِيزاً حَكِيماً
“আমি সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে মানুষের জন্য রাসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মতো কোনো অবকাশ না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী, প্রাজ্ঞ।”৭৫
সুতরাং তার উপর কুফরের হুকুম আরোপিত হওয়ার জন্য তার কাছে শরীয়তের দলীল পৌঁছতে হবে। যেমন এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা এরকম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম বলেছেন। আর তা এ পরিমাণ পৌঁছতে হবে যে, অজ্ঞতা ও না বোঝার দরুন তার কোনো ওযর বাকি না থাকে।
অবশ্য তাকফীর করার আগে কুফরী করার কারণে তাকে তাওবা করানোর শর্তটি একটি বাতিল ও ভুল শর্ত। অর্থাৎ অনেকে মনে করেন, নির্দিষ্টভাবে কাউকে তাকফীর করতে হলে আগে তাকে উক্ত কুফরী থেকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি সে তাওবা করে নেয়, তাহলে তাকে কাফের বলা যাবে না, অন্যথায় তাকে কাফের বলে আখ্যায়িত করতে আর কোনো বাধা থাকবে না। কিন্তু এটা সঠিক নয়; বরং সুস্পষ্ট কুফরী প্রমাণিত হওয়ার পর তার কুফরীর ক্ষেত্রে যদি গ্রহণযোগ্য কোনো ওযর না থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কাফের বলা হবে। এখানে তাকফীরের জন্য তাওবা প্রত্যাখ্যান করার কোনো শর্ত নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ.
“অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসসমূহ অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন মুশরিকদের যেখানে পাও, সেখানেই তাদেরকে হত্যা করো, বন্দী করো এবং অবরোধ করো। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওত পেতে বসে থাকো। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে; তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”৭৬
আল্লাহ তাআলা তাদের নিকট তাওবা চাওয়া বা তারা তাওবা করার আগেই তাদের উপর শিরকের হুকুম দিয়ে তাদেরকে মুশরিক বলে সম্বোধন করলেন এবং তাদেরকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। বুঝা গেলো, কাফের বলার জন্য প্রথমে তাকে তাওবার আহবান জানানো আবশ্যকীয় কোনো শর্ত নয়।
তাওবার আহবান জানানো হবে, যখন শরীয়তের বিরোধিতাকারীর উপর হদ বা শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। সে সময়ে শেষ বারের মতো তাকে একটি সুযোগ দেওয়া হবে তাওবা করার জন্য, যেনো সে নিজে আরেকবার নিজের ব্যাপারে পর্যালোচনা করে সত্য ও হিদায়াতের পথে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির উপর কুফর বা ইরতিদাদের হুকুম প্রয়োগ করার আগে তার নিকট তাওবা তালাশ করা কোনো আবশ্যকীয় শর্ত নয়।
টিকাঃ
৭৪. সূরা ইসরা: ১৫
৭৫. সূরা নিসা: ১৬৫
৭৬. সূরা তাওবা: ০৫