📄 প্রথম অবস্থা: ইকরাহ তথা বাধ্যকরণ
ইকরাহ হলো কোনো মুসলমান শরীয়তবিরোধী কাজ করতে চায় না; তবুও জোর খাটিয়ে তার দ্বারা শরীয়তবিরোধী কাজ করানো বা শরীয়তবিরোধী কোনো কথা উচ্চারণ করানো। সুতরাং কাউকে জোর করে কুফরী কথা বা কাজ করতে বাধ্য করা হলে এমতাবস্থায় যদি জোর-জবরদস্তিমূলক কুফরী বাক্য উচ্চারণ বা কুফরী কাজ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ান্তর না থাকে, তাহলে তার অন্তরের ঈমান ও ইয়াকীন অটল রাখার শর্তে তার জন্য সাময়িকভাবে উক্ত কুফরী করার অনুমতি রয়েছে।
📄 দলীল
আল্লাহ তাআলা বলেন-
مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنُّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ.
“যাকে (কুফরী করতে) বাধ্য করা হয়, কিন্তু তার অন্তর ঈমানের উপর অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য হৃদয়-মন উন্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আল্লাহর গযব আপতিত হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।"৩৮
এ আয়াতে কুফরীকে আল্লাহর গযব এবং মহাশাস্তির কারণ বলা হয়েছে। কিন্তু এ বিধান থেকে ঐসকল লোকের বিষয়টি স্বতন্ত্র রাখা হয়েছে, যাদেরকে কুফরী করতে বাধ্য করা হয়। আর এর জন্য শর্ত করা হয়েছে যে, তার অন্তর ঈমান ও বিশ্বাসে অটুট থাকতে হবে। অতএব কুফরী বাধ্যতামূলক না হলে কিংবা বাধ্যতামূলক হলেও অন্তরে ঈমান অটুট না থাকলে জেনেশুনে কুফরী করা কারো জন্য জায়েয হবে না। কেউ এমন করলে তার ঈমান বিনষ্ট হয়ে যাবে।
মুস্তাদরাকে হাকিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأً، وَالنَّسْيَانَ، وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ.
ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের অনিচ্ছাকৃত ভুল, বিস্মরণ ও বাধ্যতামূলক পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। ৩৯
আল্লামা আইনী রহ. আম্মার রাযি. এর ঘটনা বর্ণনা করতঃ বলেন-
أخذ الْمُشْرِكُونَ عمارا فلم يَتْرُكُوهُ حَتَّى نَالَ من رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم، وذكر آلهتهم بخير، فَلَمَّا أَتَى رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: مَا وَرَاءَكَ؟ قَالَ: شَرِّ يَا رَسُول الله؟ والله ما تركت حَتَّى نلت منك وذكرت آلهتهم بخير. قَالَ: فكيف تجد قلبك؟ قَالَ: مطمئنا بالإيمان. قَالَ: فَإِن عادوا فعد، وَفِيه نزل: { إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنُّ بِالْإِيمَانِ} (النَّحْل: ١٠٦)
অর্থাৎ মুশরিকরা আম্মার রাযি.-কে ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য ও তাদের উপাস্যদেরকে ভালো বলার জন্য বাধ্য করলো। তারপর তিনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার অন্তরের অবস্থা কেমন ছিলো? তিনি বললেন, ঈমানের উপর অটল ছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যদি তারা আবারো তোমাকে এভাবে পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য করে, তাহলে তুমি তাই বলো। তাঁর ব্যাপারেই এ আয়াত নাযিল হয়, “কিন্তু যাকে (কুফরী করতে) বাধ্য করা হয় এবং তার অন্তর ঈমানের উপর অটল থাকে তার ব্যাপার স্বতন্ত্র।"৪০
টিকাঃ
৩৮. সূরা নাহল: ১০৬
৩৯. মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/২১৬, হা. নং ২৮০১ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)
৪০. উমদাতুল কারী: ১/১৯৭ অধ্যায় নং ২০ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)