📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 দলীল

📄 দলীল


সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْنِي، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا خَرَجَ إِلَى حُنَيْنٍ مَرَّ بِشَجَرَةٍ لِلْمُشْرِكِينَ يُقَالُ لَهَا: ذَاتُ أَنْوَاطٍ يُعَلِّقُونَ عَلَيْهَا أَسْلِحَتَهُمْ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ ، اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سُبْحَانَ اللهِ هَذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَرْكَبُنَّ سُنَّةَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ.
আবু ওয়াকিদ লাইসী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হুনাইন যুদ্ধে বের হলেন, তখন পথিমধ্যে 'যাতু আনওয়াত' নামক মুশরিকদের বিশেষ একটি গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। এর উপর তারা তলোয়ার লটকিয়ে রাখতো। অতঃপর কতিপয় (নওমুসলিম) সাহাবা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ওদের যেমন একটা যাতু আনওয়াত আছে আমাদের জন্যও একটা যাতু আনওয়াত নির্ধারণ করে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সুবহানাল্লাহ! এটা তো তেমনই কথা যেমনটি বলেছিলো মূসা আ.-এর সম্প্রদায় যে, 'তাদের যেমন অনেক মাবুদ আছে, তেমনি আমাদের জন্যও একটি মাবুদ নির্ধারণ করে দিন।' ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের অভ্যাস অবশ্য অবশ্যই পালন করে ছাড়বে।” ২১
এটা একটি শিরকী কথা। কিন্তু তাঁরা মাত্রই মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। অর্থাৎ যখন তাঁরা কথাটি বলেন ঐতিহাসিকদের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী তার মাত্র পনেরো দিন আগেই তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য তাদের একথার কারণে তারা মুশরিক সাব্যস্ত হয়ে যায়নি।
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم.... قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا قَوْمٌ حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ، وَقَدْ جَاءَنَا اللهُ بِالْإِسْلَامِ، وَمِنَّا رِجَالٌ يَأْتُونَ الْكُهَانَ، قَالَ: فَلَا تَأْتِهِمْ.
মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সাথে নামায পড়লাম। ....আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, এতোদিন আমরা ছিলাম মূর্খতায় নিমজ্জিত একটি জাতি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা গণকদের কাছে যাতায়াত করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে তাদের কাছে যেও না। ২২
ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বর্ণনা করেন- وَقَالَ عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي عُنُقِي صَلِيبٌ فَقَالَ لِي: يَا عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ: أَلْقِ هَذَا الْوَثَنَ مِنْ عُنُقِكَ. وَانْتَهَيْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَقْرَأُ سُورَةَ بَرَاءَةٍ حَتَّى أَتَى عَلَى هَذِهِ الْآيَةِ {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة: ٣١] قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَمْ نَتَّخِذْهُمْ أَرْبَابًا، [ص:٩٧٦] قَالَ: بَلَى، أَلَيْسَ يُحِلُّونَ لَكُمْ مَا حُرِّمَ عَلَيْكُمْ فَتُحِلُّونَهُ، وَيُحَرِّمُونَ عَلَيْكُمْ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ فَتُحَرِّمُونَهُ؟ فَقُلْتُ: بَلَى، قَالَ: تِلْكَ عِبَادَتُهُمْ.
আদী বিন হাতিম রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গলায় ক্রুশ ঝুলানো অবস্থায় আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন, হে হাতিম পুত্র আদী, তোমার গলা থেকে এ মূর্তি ফেলে দাও। আমি তা ফেলে দিলাম এবং তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকটবর্তী হলাম। তখন তিনি তিলাওয়াত করছিলেন- اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ [“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসার বিরাগীদেরকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে।”] পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা তো তাদেরকে প্রভুরূপে গ্রহণ করিনি! তিনি বললেন, হ্যাঁ করেছো; তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছিলো তারা কি তা হালাল করেনি, যদ্দরুন তোমরাও তা হালাল বলে গ্রহণ করেছো? আর তোমাদের জন্য যা হালাল করা হয়েছিলো তারা কি তা হারাম করেনি, যদ্দরুন তোমরাও তা হারাম বলে গ্রহণ করেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এটাই ছিলো তাদের ইবাদত ও উপাসনা। ২০
এখানে গলায় ক্রুশ ঝুলানো শিরক হওয়া সত্ত্বেও আদী বিন হাতিম রাযি. যেহেতু নওমুসলিম ছিলেন বিধায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে শুধু তা পরিহার করার আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত করেন। তাঁকে কাফের বা মুশরিক বলে নতুন করে ঈমান আনতে বলেন নি।
এ দলীলগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, ইসলাম গ্রহণের পর নতুন অবস্থায় কারো থেকে কোনো কুফরী বা শিরকী কাজ প্রকাশ পেলেও এতে সে কাফের বা মুশরিক হয়ে যায় না। হ্যাঁ, নওমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও যদি তার কোনো কাজের ব্যাপারে কুফরী হওয়ার বিষয়টি জানা থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তা করার দ্বারা সে কাফের হয়ে যাবে।

টিকাঃ
২১. সুনানে তিরমিযী: ৪/৪৫, হা. নং ২১৮০ (দারুল গারবিল ইসলামী, বৈরূত)
২২. সুনানে আবু দাউদ: ১/২৪৪, হা. নং ৯৩০ (আল মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরূত)
২০. জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহী: ২/৯৭৫, হা. নং ১৮৬২ (দারু ইবনুল জাওযী, সৌদিআরব)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 শরীয়তের ইলম পৌঁছেনি এমন দুর্গম অঞ্চলে বসবাস করা

📄 শরীয়তের ইলম পৌঁছেনি এমন দুর্গম অঞ্চলে বসবাস করা


যে ব্যক্তি দুর্গম অঞ্চলে বসবাস করবে; যেমন জনশূন্য উপত্যকা, আফ্রিকার গহীন জঙ্গল অথবা এমন শহর ও এলাকা, যেখানে রাসূলদের সতর্কীকরণ বার্তার বিপরীত অজ্ঞতারই প্রাবল্যতা রয়েছে। ফলে তার কাছে কোনো ইলমই পৌঁছতে পারেনি এবং সেও ইলম পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়নি। যে কারণে সে ব্যক্তি শরীয়তবিরোধী কাজ বা কুফরীতে নিমজ্জিত হয়েছে। তাহলে এ রকম না-জানার কারণে সে যে বিষয়ে শরীয়তের বিরোধিতা করেছিলো সেসব ক্ষেত্রে ততোক্ষণ পর্যন্ত তাকে মাযূর ধরা হবে, যতোক্ষণ না তার বিরুদ্ধে শরয়ী কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠা পায় এবং শরীয়তের ইলম তালাশ করতে সে সক্ষম হয়।
তাকফীরের এ প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে দলীল দু'প্রকার। এক. ইতেবারুয যামান তথা সময় হিসেবে। দুই. ইতেবারুল মাকান তথা স্থান ভেদে।
স্থান ও সময় ভেদে যখন ইলম ও জাহালাতের যেটি প্রাধান্য পাবে, তার আলোকে নির্দিষ্ট ব্যক্তি শাস্তির উপযুক্ত ও অনুপোযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। সুতরাং যদি সে স্থান বা সময়ে ইলমের প্রাধান্য থাকে তবে ব্যক্তি কুফরী বা শরীয়তবিরোধী কাজের জন্য শাস্তির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। আর যদি জাহালাতের প্রাধান্য থাকে, তাহলে সে মাযূর ও অপারগ বলে গণ্য হবে।

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 দলীল

📄 দলীল


যম্মুল কালাম ওয়া আহলিহী-তে বর্ণিত হয়েছে- عَنِ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمُ الْيَوْمَ فِي زَمَانٍ كَثِيرٍ عُلَمَاؤُهُ قَلِيلٍ خُطَبَاؤُهُ مَنْ تَرَكَ عَشِيرَ مَا يَعْرِفُ فَقَدْ هَوَى وَيَأْتِي مِنْ بَعْدُ زَمَانٌ كَثِيرُ خُطَبَاؤُهُ قَلِيلٌ عُلَمَاؤُهُ مَنِ اسْتَمْسَكَ بِعَشِيرِ مَا يَعْرِفُ فَقَدْ نجا.
আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তোমরা এমন একটি যুগে বসবাস করছো, যে যুগে আলেম অনেক এবং বক্তা স্বল্প। তোমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যা জানে তার এক দশমাংশ পরিমাণ আমল পরিত্যাগ করলো তো সে ধ্বংস। আর তোমাদের পরে এমন এক সময় আসবে যখন বক্তা হবে অনেক, আলেম হবে কম। যে যুগে কোনো ব্যক্তি যা জানবে তার এক দশমাংশের উপর আমল করলেও সে জাহান্নাম থেকে মুক্ত।”২৪
উক্ত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যামানাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। একটি হলো, এমন যামানা, যখন আলেম হবে অধিক। এ সময় কেউ যা জানে তার এক দশমাংশের উপর আমল করা ছেড়ে দিলে তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধ্বংস এবং শাস্তির কথা বলেছেন। দ্বিতীয়টি হলো, এমন যামানা, যখন আলেম হবে স্বল্পসংখ্যক। এ সময় কেউ যতোটুকু জানে তার এক দশমাংশের উপর আমল করলেও সে সফল এবং নাজাতপ্রাপ্ত হবে। কারণ, এ সময় আলেমরা হবেন স্বল্পসংখ্যক।
সুনানে ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَدْرُسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يَدْرُسُ وَشْيُ الثَّوْبِ، حَتَّى لَا يُدْرَى مَا صِيَامُ، وَلَا صَلَاةً، وَلَا نُسُكُ، وَلَا صَدَقَةٌ، وَلَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي لَيْلَةٍ، فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةٌ، وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُوزُ، يَقُولُونَ: أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَنَحْنُ نَقُولُهَا. فَقَالَ لَهُ صِلَةُ: مَا تُغْنِي عَنْهُمْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَهُمْ لَا يَدْرُونَ مَا صَلَاةٌ، وَلَا صِيَامُ، وَلَا نُسُكُ، وَلَا صَدَقَةً؟ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَهُ، ثُمَّ رَدَّهَا عَلَيْهِ ثَلَاثًا، كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فِي الثَّالِثَةِ، فَقَالَ: يَا صِلَةُ، تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ ثَلَاثًا.
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলাম মলিন হয়ে যাবে, যেমন কাপড়ের উপরের কারুকার্য মলিন হয়ে যায়। শেষে পরিস্থিতি এমন হবে যে, মানুষ জানবে না রোযা কী, নামায কী, কুরবানী কী, যাকাত কী? একরাতে পৃথিবী থেকে মহান আল্লাহর কিতাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে পৃথিবীতে একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না। মানুষের কয়েকটি দল অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মধ্যকার বৃদ্ধ- বৃদ্ধারা বলবে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” কালেমার অনুসারী দেখতে পেয়েছি, তাই আমরাও সে কালেমা বলি। বর্ণনাকারী সিলা রহ. হুযাইফা রাযি.-কে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলায় তাদের কী উপকার হবে? অথচ তারা জানে না নামায কী, রোযা কী, হজ কী, কুরবানী কী এবং যাকাত কী? তিনি তার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। সিলা রহ. তিনবার কথাটির পুনরাবৃত্তি করলে তিনি প্রতিবারই তার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেন। তৃতীয়বারের পর তিনি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, হে সিলা, এই কালেমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবে, কথাটি তিনি তিনবার বললেন। ২৫
জাহালত বা মূর্খতা ওযর হিসেবে ধর্তব্য হওয়ার ক্ষেত্রে এ হাদীসটি একটি দলীল। এ থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি এমন সময় বা স্থানে বসবাস করে, যেখানে ইসলামের শিক্ষা অপ্রচলিত, যেখানে শরীয়তের ইলম পৌঁছে না বা সে ইলম পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয় না; যদ্দরুন সে নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাকার বিধিবিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যায়, তাহলে এমতাবস্থায় তাকে মাযূর হিসেবে ধরা হবে এবং তাওহীদের কালেমা তার জন্য মুক্তির কারণ বলে বিবেচিত হবে।
তাই যখন দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ ইলম থেকে বঞ্চিত থাকে; এমনকি অনুমান করে নিতেও ব্যর্থ হয়, যখন তারা এমন স্থানে সফর করতে সক্ষম হয়ে থাকে, যেখানে গেলে তাদের শরয়ী ইলম পূর্ণতা পাবে এক্ষেত্রে তার কোনো বাধাও না থাকে, কিন্তু সে অলসতা করে বাসস্থানে বসে থাকে ও সম্পদকে অগ্রাধিকার দেয়, ইলম অর্জনে কোনোরূপ চেষ্টা-প্রচেষ্টা তার মাঝে পরিলক্ষিত হয় না, অজ্ঞতাকে দূর করার জন্য কোনোরূপ পরিশ্রমও করে না; এমতাবস্থায় তার এ অবহেলার কারণে যদি সে কুফরে পতিত হয়ে থাকে, তাহলে সে স্বীয় জাহালাত বা মূর্খতার কারণে মাযূর হিসেবে ধর্তব্য হবে না। কেননা, জাহালত বা অজ্ঞতাকে দূর করার সক্ষমতা তার ছিলো, কিন্তু সে তা করেনি। অতএব তার এ অজ্ঞতাকে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তার অপরাধের জন্য শাস্তিও পেতে হবে।

টিকাঃ
২৪. যম্মুল কালাম ওয়া আহলিহী: ১/১১০-১১১, হা. নং ৯৭ (মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদীনা)
২৫. সুনানে ইবনে মাজাহ: ২/১৩৪৪, হা. নং ৪০৪৯ (দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যা, ফয়সাল ঈসা হালবী)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল

📄 অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল


নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তাকফীরের প্রতিবন্ধকতাগুলোর একটি হলো, অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে কোনো কিছু উচ্চারণ করা। যেনো ভুলটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার থেকে প্রকাশ পেয়েছে বা তার জিহ্বার অনিচ্ছাকৃত পদস্খলনের কারণে ভুলে কোনো কুফরী বাক্য বা কুফরী কাজ প্রকাশ পেয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত ব্যক্তিকে মাযূর ধরা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00