📄 শান্ত ও বিনয়াবনত হয়ে চূড়ান্ত স্তরের তাযীম একমাত্র আল্লাহর হক
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ।
হযরত মুআবিয়া রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালম্ম ইরশাদ করেন- যার এতে আনন্দবোধ হয় যে, লোকেরা তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়'।⁸²
অর্থাৎ যে ব্যক্তি চায় যে, লোকেরা তার সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকুক, কোনও নড়াচড়া করবে না, কোনও কথা বলবে না, এদিক ওদিক তাকাবে না, বরং মূর্তির মত হয়ে থাকবে- যে ব্যক্তি এমন কামনা করে সে জাহান্নামী। কেননা সে খোদা হওয়ার দাবি করে! যে তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য খাস- বান্দা তাঁর সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হয়, সে নিজেকে সেই তাযীমের উপযুক্ত মনে করে!
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কেবল সম্মান প্রদর্শনের জন্য কারও সামনে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই অন্য কারও জন্য তা করা যাবে না।
টিকাঃ
৮২. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৫৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৫৫৮২। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। -অনুবাদক
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ।
হযরত মুআবিয়া রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালম্ম ইরশাদ করেন- যার এতে আনন্দবোধ হয় যে, লোকেরা তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়'।⁸²
অর্থাৎ যে ব্যক্তি চায় যে, লোকেরা তার সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকুক, কোনও নড়াচড়া করবে না, কোনও কথা বলবে না, এদিক ওদিক তাকাবে না, বরং মূর্তির মত হয়ে থাকবে- যে ব্যক্তি এমন কামনা করে সে জাহান্নামী। কেননা সে খোদা হওয়ার দাবি করে! যে তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য খাস- বান্দা তাঁর সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হয়, সে নিজেকে সেই তাযীমের উপযুক্ত মনে করে!
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কেবল সম্মান প্রদর্শনের জন্য কারও সামনে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই অন্য কারও জন্য তা করা যাবে না।
টিকাঃ
৮২. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৫৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৫৫৮২। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। -অনুবাদক
📄 তোমরা কি স্বহস্তে নির্মিত বস্তুর উপাসনা করছ?
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ، وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ।
হযরত সাওবান রাযি. বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- 'ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার উম্মতের কতক গোত্র মুশরিকদের সাথে মিলিত না হবে এবং মূর্তিদের পূজা না করবে'।⁸³
অর্থাৎ শিরক দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক হলো- কারও নামে মূর্তি বানিয়ে পূজা করল। এটাকে আরবীতে 'সনাম' বলে। আর দ্বিতীয় হলো- কোনও গৃহ-আস্তানা, বৃক্ষ, পাথর, লাকড়ি বা কাগজকে কারও নামে পূজা করল। আরবীতে এটাকে 'ওয়াসান' বলে।⁸⁴ এর মধ্যে কবর-মাযার, কোনও বুযুর্গের আস্তানা, কারও নামের লাকড়ি, তাযিয়া⁸⁵, ঝাণ্ডা, শুদ্দা⁸⁷, ইমাম কাসেম এবং পীর দস্তগীর (আবদুল কাদের জীলানী)-এর মেহেদী⁸⁸, ইমামের মাচান, উস্তাদ বা পীরের বসার স্থান ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত। লোকেরা এগুলোর তাযীম করে, সেখানে গিয়ে হাদিয়া-উপঢৌকন পেশ করে এবং মানত করে।
অনুরূপভাবে কতক শহীদের নামে তৈরিকৃত মেহরাব, পতাকা ও তোপ-কামান। মানুষ সেগুলোতে প্রাণী উৎসর্গ করে এবং সেগুলোর নামে কসম খায়। একইভাবে কিছু গৃহকে কতক রোগের নামে বা হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতার নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- শিতা, কালি, কল্কি ইত্যাদির আস্তানা। মোটকথা, এসবই ‘ওয়াসান’।
সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, কিয়ামতের আগে মুসলিমরা মুশরিক হয়ে যাবে, তো তাদের শিরক এই ধরনেরই হবে। তারা এই ধরনের বিভিন্ন জিনিসকে মানবে। পক্ষান্তরে অন্যান্য মুশরিকরা, যেমন হিন্দু ও আরবের মুশরিক সম্প্রদায়, তারা অধিকাংশ 'সনাম' বা মূর্তিপূজক। এরা উভয়ই মুশরিক, আল্লাহবিমুখ এবং রাসূলের দুশমন।
টিকাঃ
৮৩. জামে তিরমিযী, হাদীস ২২১৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২৫২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৯৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৭২৩৮। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। -অনুবাদক
৮৪. সম্ভবত গ্রন্থকারের এই কথার ভিত্তি হলো কতক ভাষাবিদের বক্তব্য। তারা বলেছেন- 'সনাম' হলো যা মানুষের আকৃতিতে বানানো হয়। আর 'ওয়াসান' হলো যা এর বিপরীত হয়। আল্লামা যাবীদী 'তাজুল আরূস' (৮/৩৭১) গ্রন্থে 'শুরূহুদ দালাইল' থেকে এমনটি বর্ণনা করেছেন। এই কথার সমর্থন করে ভাষাবিদ আরাফার বক্তব্য যা ইবনে মানযূর 'লিসানুল আরবে' (১৫/২৪১) উল্লেখ করেছেন। আরাফা বলেন- তাদের যেসব খোদার আকৃতি নেই সেগুলো 'ওয়াসান', আর যেগুলোর আকৃতি আছে সেগুলো 'সনাম'। 'সনাম' ও 'ওয়াসান'-এর ব্যাখ্যা ও এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় নিয়ে ভাষাবিদদের বহু রকমের বক্তব্য রয়েছে। কেউ কেউ উপরিউক্ত বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টো বলেছেন। আবার কেউ কেউ এ দুই শব্দের মাঝে কোনও পার্থক্যই করেননি, বরং উভয়টিকে উভয় অর্থে ব্যবহার করেছেন। তবে কুরআন-হাদীস ও আরবদের কথামালা বিশ্লেষণ করলে প্রথম মতটি শক্তিশালী মনে হয়, যেটিকে গ্রন্থকার গ্রহণ করেছেন। -নদভী
৮৫. অর্থাৎ কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তোলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তোলন করে থাকে। -নদভী
৮৬. কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তলন করে থাকে। -নদভী
৮৭. উর্দুতে শুদ্দাহ ও শুদ্দা- বলা হয়। এটা এক ধরনের পতাকা যা মুহারামে কাগজের তৈরি কবর অর্থাৎ তাযিয়ার সাথে উত্তলন করা হয় এবং তার সাথে ঘুরানো হয়। এটাতে মূলত এক মুষ্টি রূপা একটা লাকড়ির সাথে বাঁধা হয় এবং তার উপর লাল ও সবুজ কাপড় পেঁচানো হয়। শুদ্দাহ শব্দটি আরবী শাদ্দা থেকে নির্গত, যার অর্থ হলো বাঁধা। -নূরুল লুগাত ৩/৪৩০; ফরহাঙ্গে আসিফিয়্যাহ ৩/১৭০। -নদভী
৮৮. শিয়া ইমামিয়ারা রঙ্গিন কাগজ দিয়ে একটি চৌকা আকৃতি বানিয়ে তার চারো দিকে লাল-সবুজ মোমবাতি জ্বালায় এবং তারা এটার নাম দেয় মেহেদী। এটাকে তারা ওই তাযিয়ার ঘরে রেখে দেয়। -নূরুল লুগাত, ৪/৬৮৪। ইমাম কাসেম দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন হযরত হাসান রাযি.-এর ছেলে কাসেম রহ., যার নিকট হযরত হুসাইন রাযি. তাঁর ভাই হাসান রাযি.-এর ওসিয়ত রক্ষার্থে কারবালার ময়দানে নিজের কন্যাকে বিবাহ দিয়েছেন। শিয়া ও তাদের অনুসারীদের নিকট এই মেহেদীর কারণ হলো, কাসেম বিন হাসান চৌদ্দ বছর বয়সে তার চাচার সাথে শহীদ হন। আর মেহেদী হলো খুশী ও সাজসজ্জার প্রতীক। বিবাহ-শাদীতে হাদিয়াস্বরূপ তা দেওয়া হয় এবং নববধূ তা দিয়ে উভয় হাত রঙ্গিন করে। -নদভী
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ، وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ।
হযরত সাওবান রাযি. বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- 'ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার উম্মতের কতক গোত্র মুশরিকদের সাথে মিলিত না হবে এবং মূর্তিদের পূজা না করবে'।⁸³
অর্থাৎ শিরক দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক হলো- কারও নামে মূর্তি বানিয়ে পূজা করল। এটাকে আরবীতে 'সনাম' বলে। আর দ্বিতীয় হলো- কোনও গৃহ-আস্তানা, বৃক্ষ, পাথর, লাকড়ি বা কাগজকে কারও নামে পূজা করল। আরবীতে এটাকে 'ওয়াসান' বলে।⁸⁴ এর মধ্যে কবর-মাযার, কোনও বুযুর্গের আস্তানা, কারও নামের লাকড়ি, তাযিয়া⁸⁵, ঝাণ্ডা, শুদ্দা⁸⁷, ইমাম কাসেম এবং পীর দস্তগীর (আবদুল কাদের জীলানী)-এর মেহেদী⁸⁸, ইমামের মাচান, উস্তাদ বা পীরের বসার স্থান ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত। লোকেরা এগুলোর তাযীম করে, সেখানে গিয়ে হাদিয়া-উপঢৌকন পেশ করে এবং মানত করে।
অনুরূপভাবে কতক শহীদের নামে তৈরিকৃত মেহরাব, পতাকা ও তোপ-কামান। মানুষ সেগুলোতে প্রাণী উৎসর্গ করে এবং সেগুলোর নামে কসম খায়। একইভাবে কিছু গৃহকে কতক রোগের নামে বা হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতার নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- শিতা, কালি, কল্কি ইত্যাদির আস্তানা। মোটকথা, এসবই ‘ওয়াসান’।
সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, কিয়ামতের আগে মুসলিমরা মুশরিক হয়ে যাবে, তো তাদের শিরক এই ধরনেরই হবে। তারা এই ধরনের বিভিন্ন জিনিসকে মানবে। পক্ষান্তরে অন্যান্য মুশরিকরা, যেমন হিন্দু ও আরবের মুশরিক সম্প্রদায়, তারা অধিকাংশ 'সনাম' বা মূর্তিপূজক। এরা উভয়ই মুশরিক, আল্লাহবিমুখ এবং রাসূলের দুশমন।
টিকাঃ
৮৩. জামে তিরমিযী, হাদীস ২২১৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২৫২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৯৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৭২৩৮। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। -অনুবাদক
৮৪. সম্ভবত গ্রন্থকারের এই কথার ভিত্তি হলো কতক ভাষাবিদের বক্তব্য। তারা বলেছেন- 'সনাম' হলো যা মানুষের আকৃতিতে বানানো হয়। আর 'ওয়াসান' হলো যা এর বিপরীত হয়। আল্লামা যাবীদী 'তাজুল আরূস' (৮/৩৭১) গ্রন্থে 'শুরূহুদ দালাইল' থেকে এমনটি বর্ণনা করেছেন। এই কথার সমর্থন করে ভাষাবিদ আরাফার বক্তব্য যা ইবনে মানযূর 'লিসানুল আরবে' (১৫/২৪১) উল্লেখ করেছেন। আরাফা বলেন- তাদের যেসব খোদার আকৃতি নেই সেগুলো 'ওয়াসান', আর যেগুলোর আকৃতি আছে সেগুলো 'সনাম'। 'সনাম' ও 'ওয়াসান'-এর ব্যাখ্যা ও এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় নিয়ে ভাষাবিদদের বহু রকমের বক্তব্য রয়েছে। কেউ কেউ উপরিউক্ত বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টো বলেছেন। আবার কেউ কেউ এ দুই শব্দের মাঝে কোনও পার্থক্যই করেননি, বরং উভয়টিকে উভয় অর্থে ব্যবহার করেছেন। তবে কুরআন-হাদীস ও আরবদের কথামালা বিশ্লেষণ করলে প্রথম মতটি শক্তিশালী মনে হয়, যেটিকে গ্রন্থকার গ্রহণ করেছেন। -নদভী
৮৫. অর্থাৎ কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তোলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তোলন করে থাকে। -নদভী
৮৬. কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তলন করে থাকে। -নদভী
৮৭. উর্দুতে শুদ্দাহ ও শুদ্দা- বলা হয়। এটা এক ধরনের পতাকা যা মুহারামে কাগজের তৈরি কবর অর্থাৎ তাযিয়ার সাথে উত্তলন করা হয় এবং তার সাথে ঘুরানো হয়। এটাতে মূলত এক মুষ্টি রূপা একটা লাকড়ির সাথে বাঁধা হয় এবং তার উপর লাল ও সবুজ কাপড় পেঁচানো হয়। শুদ্দাহ শব্দটি আরবী শাদ্দা থেকে নির্গত, যার অর্থ হলো বাঁধা। -নূরুল লুগাত ৩/৪৩০; ফরহাঙ্গে আসিফিয়্যাহ ৩/১৭০। -নদভী
৮৮. শিয়া ইমামিয়ারা রঙ্গিন কাগজ দিয়ে একটি চৌকা আকৃতি বানিয়ে তার চারো দিকে লাল-সবুজ মোমবাতি জ্বালায় এবং তারা এটার নাম দেয় মেহেদী। এটাকে তারা ওই তাযিয়ার ঘরে রেখে দেয়। -নূরুল লুগাত, ৪/৬৮৪। ইমাম কাসেম দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন হযরত হাসান রাযি.-এর ছেলে কাসেম রহ., যার নিকট হযরত হুসাইন রাযি. তাঁর ভাই হাসান রাযি.-এর ওসিয়ত রক্ষার্থে কারবালার ময়দানে নিজের কন্যাকে বিবাহ দিয়েছেন। শিয়া ও তাদের অনুসারীদের নিকট এই মেহেদীর কারণ হলো, কাসেম বিন হাসান চৌদ্দ বছর বয়সে তার চাচার সাথে শহীদ হন। আর মেহেদী হলো খুশী ও সাজসজ্জার প্রতীক। বিবাহ-শাদীতে হাদিয়াস্বরূপ তা দেওয়া হয় এবং নববধূ তা দিয়ে উভয় হাত রঙ্গিন করে। -নদভী
📄 নৈকট্যলাভের উদ্দেশ্যে জবাই একমাত্র আল্লাহর জন্য বিশেষিত
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّهُ أَخْرَجَ صَحِيفَةً مَكْتُوبٌ فِيهَا : لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ।
হযরত আলী রাযি. একটি পুস্তিকা বের করলেন, যাতে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদীস) লেখা ছিল- 'আল্লাহ লানত করেন ওই ব্যক্তির উপর, যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য জবাই করে!'⁸⁹
অর্থাৎ যে কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য পশু জবাই করবে সে অভিশপ্ত। হযরত আলী রাযি. একটি পুস্তিকায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু হাদীস লিখে রেখেছিলেন। এই হাদীসটি সেগুলোরই একটি।
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কারও নামে জবাই করাও ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য খাস করেছেন। অতএব পশু জবাই একমাত্র তাঁরই নামে করতে হবে। অন্য কারও নামে জবাই করা শিরক।⁹⁰
টিকাঃ
৮৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৮; আল-আদাবুল মুফরাদ বুখারী, হাদীস ১৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬৬০৪। -অনুবাদক
৯০. প্রত্যেক বুঝমান লোক জানেন যে, যেসব পশু কারও মেহমানদারীর জন্য কিংবা ওলীমা ইত্যাদির জন্য জবাই করা হয়, সেগুলো এখানে উদ্দেশ্য নয়। এখানে উদ্দেশ্য কেবল ওই সকল প্রাণী, যেগুলোকে দ্বীনী বিশ্বাস থেকে কারও নৈকট্য অর্জনের জন্য, উপকার লাভের জন্য কিংবা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য ইবাদত মনে করে জবাই করা হয়। ফিকহের কিতাবাদিতে এ সম্পর্কিত প্রচুর উদ্ধৃতি রয়েছে এবং গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা নিষিদ্ধ ও এর গোশত খাওয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে বিশদভাবে উল্লিখিত আছে, যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে। -নদভী
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّهُ أَخْرَجَ صَحِيفَةً مَكْتُوبٌ فِيهَا : لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ।
হযরত আলী রাযি. একটি পুস্তিকা বের করলেন, যাতে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদীস) লেখা ছিল- 'আল্লাহ লানত করেন ওই ব্যক্তির উপর, যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য জবাই করে!'⁸⁹
অর্থাৎ যে কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য পশু জবাই করবে সে অভিশপ্ত। হযরত আলী রাযি. একটি পুস্তিকায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু হাদীস লিখে রেখেছিলেন। এই হাদীসটি সেগুলোরই একটি।
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কারও নামে জবাই করাও ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য খাস করেছেন। অতএব পশু জবাই একমাত্র তাঁরই নামে করতে হবে। অন্য কারও নামে জবাই করা শিরক।⁹⁰
টিকাঃ
৮৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৮; আল-আদাবুল মুফরাদ বুখারী, হাদীস ১৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬৬০৪। -অনুবাদক
৯০. প্রত্যেক বুঝমান লোক জানেন যে, যেসব পশু কারও মেহমানদারীর জন্য কিংবা ওলীমা ইত্যাদির জন্য জবাই করা হয়, সেগুলো এখানে উদ্দেশ্য নয়। এখানে উদ্দেশ্য কেবল ওই সকল প্রাণী, যেগুলোকে দ্বীনী বিশ্বাস থেকে কারও নৈকট্য অর্জনের জন্য, উপকার লাভের জন্য কিংবা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য ইবাদত মনে করে জবাই করা হয়। ফিকহের কিতাবাদিতে এ সম্পর্কিত প্রচুর উদ্ধৃতি রয়েছে এবং গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা নিষিদ্ধ ও এর গোশত খাওয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে বিশদভাবে উল্লিখিত আছে, যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে। -নদভী
📄 জাহিলী আচার-প্রথা ও আকীদা-বিশ্বাস শেষ যামানায় আবার ফিরে আসবে
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: «لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى تُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى، فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ، إِنْ كُنْتُ لَأَظُنُّ حِيْنَ أَنْزَلَ اللهُ: ﴿هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَ دِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ﴾ [التوبة: ৩৩] أَنَّ ذَلِكَ تَاما، قَالَ: «إِنَّهُ سَيَكُوْنُ مِنْ ذَلِكَ مَا শָاءَ اللهُ ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً، فَتَوَفَّى كُلَّ مَنْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيْمَانٍ، فَيَبْقَى مَنْ لَا خَيْرَ فِيْهِ، فَيَرْجِعُوْনَ إِلَى دِيْنِ أَبَائِهِمْ»।
হযরত আয়শা রাযি. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- রাত-দিনের অবসান হবে না অর্থাৎ কিয়ামত আসবে না, যতক্ষণ না লাত ও উয্যার ইবাদত করা হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেছেন- 'আল্লাহই তো হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ নিজ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি অন্যসব দ্বীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করেন, তাতে মুশরিকরা এটাকে যতই অপ্রীতিকর মনে করুক', তখন আমি মনে করেছিলাম যে, এই অবস্থা শেষপর্যন্ত এমনই পূর্ণাঙ্গ থাকবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন- 'এই পূর্ণতা থাকবে আল্লাহ যতদিন চান ততদিন পর্যন্ত। এরপর আল্লাহ তাআলা এক মনোরম বাতাস প্রেরণ করবেন, ফলে যাদের অন্তরে সরিষা-দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে তাদের সকলের মৃত্যু হবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোনও কল্যাণ নেই তারাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে। তখন তারা তাদের পিতৃ-পুরুষদের ধর্মে (অর্থাৎ মূর্তিপূজায়) ফিরে যাবে'।⁹¹
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা: অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সূরা তাওবায় ইরশাদ করেছেন-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُوْلَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ
'আল্লাহই তো হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ নিজ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি অন্য সব দ্বীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করেন, তাতে মুশরিকরা এটাকে যতই অপ্রীতিকর মনে করুক'।
এই আয়াত থেকে হযরত আয়শা রাযি. মনে করেছিলেন যে, এই সত্যধর্ম কিয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- এটা ততদিন পর্যন্তই বাকি থাকবে যতদিন আল্লাহ তাআলা চাবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এমন এক বাতাস প্রেরণ করবেন, যার ফলে যাদের অন্তরে সরিষা-দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে তারা সকলেই মৃত্যু বরণ করবে।
আর অবশিষ্ট থাকবে কেবল ওই সকল লোক যাদের মাঝে কোনও কল্যাণ নেই। অর্থাৎ তাদের মাঝে না থাকবে আল্লাহর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা, আর না রাসূলের নির্দেশিত পথে চলার আগ্রহ। তারা কেবল বাপ-দাদাদের রসম-রেওয়াজকে দলীল হিসেকে আঁকড়ে থাকবে। আর এভাবেই তাদের মাঝে শিরকের প্রচলন ঘটবে। কারণ পুরাতন বাপ-দাদাদের অধিকাংশই জাহেল-মুশরিক ছিল। ফলে যারাই তাদের পথ-প্রথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করবে তারা এমনি মুশরিক হয়ে যাবে।
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল যে, শেষ যামানায় পুরনো শিরক আবার চালু হবে। এখন নবীজীর সেই কথা বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে। মুসলিমরা নবী-ওলী, ইমাম ও শহীদদের সাথে শিরকি আচরণ করে, এভাবে পুরনো শিরকের বিস্তার ঘটছে। এমনকি তারা কাফেরদের দেবতাদেরও⁹² মানে এবং তাদের প্রথা অনুসরণ করে, যেমন- পুরোহিতদের কাছে প্রার্থনা করা, বিপদাপদে তাদের দ্বারস্থ হওয়া, শুভ-অশুভ ও নক্ষত্রের প্রভাবে বিশ্বাস রাখা, বিভিন্ন রোগের জন্য নির্ধারিত দেবতাদের দ্বারস্থ হওয়া এবং হাদিয়া-উপঢৌকনের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভ করা, বিভিন্ন জাহেলী দিবস উদ্যাপন করা যেগুলো হিন্দুস্তানী পৌত্তলিক ও ইরানী অগ্নিপূজকরা উদ্যাপন করে থাকে, দেওয়ালি⁹³, নববর্ষ ইত্যাদি উদযাপন করা- এসব হিন্দু ও অগ্নিপূজকদের রীতি-প্রথা মুসলিমদের মাঝে চালু হয়ে গেছে।
এর দ্বারা বোঝা গেল, মুসলিমরা যদি কুরআন-হাদীস বাদ দিয়ে বাপ-দাদাদের রসমের পেছনে পড়ে তাহলে তাদের মাঝে শিরকের রাস্তা খুলবে।
টিকাঃ
৯১. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯০৭। দ্রষ্টব্য- মিশকাতুল মাসাবীহের ভাষ্যগ্রন্থ মিরকাতুল মাফাতীহ, হাদীস ৫৫১৯। -অনুবাদক
৯২. এখানে গ্রন্থকার কিছু হিন্দু দেবতার নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের ব্যাপারে হিন্দুস্তানী মুশরিকদের বিশ্বাস হলো, তারা পৃথিবীতে স্বাধীন কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা রাখে এবং কিছু রোগ নিরাময়ের সাথে তাদের বিশেষ সম্পর্ক আছে। -নদভী
৯৩. যেদিন হিন্দুস্তানের হিন্দুরা ঘর-বাড়ির আলোকসজ্জা করে, অনেক বাতি প্রজ্জ্বলিত করে। আগুন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলা করে। অনেক ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করে একে অপরকে উপঢৌকন হিসেবে দেয় এবং এগুলোর মাধ্যমে সুখ-সম্পদের দেবতা লক্ষ্মীর নৈকট্য অর্জন করে। এর সাথে যুক্ত করা যায় মিশরের নীল নদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দিবস উদ্যাপন ও শাম্মুন নাসীম উৎসবকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর 'ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম' এবং শাইখ আলী মাহফুজের আল-ইবদা ফী মাযারিল ইবতিদা' দেখা যেতে পারে। -নদভী
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: «لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى تُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى، فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ، إِنْ كُنْتُ لَأَظُنُّ حِيْنَ أَنْزَلَ اللهُ: ﴿هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَ دِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ﴾ [التوبة: ৩৩] أَنَّ ذَلِكَ تَاما، قَالَ: «إِنَّهُ سَيَكُوْنُ مِنْ ذَلِكَ مَا শָاءَ اللهُ ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً، فَتَوَفَّى كُلَّ مَنْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيْمَانٍ، فَيَبْقَى مَنْ لَا خَيْرَ فِيْهِ، فَيَرْجِعُوْনَ إِلَى دِيْنِ أَبَائِهِمْ»।
হযরত আয়শা রাযি. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- রাত-দিনের অবসান হবে না অর্থাৎ কিয়ামত আসবে না, যতক্ষণ না লাত ও উয্যার ইবাদত করা হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেছেন- 'আল্লাহই তো হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ নিজ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি অন্যসব দ্বীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করেন, তাতে মুশরিকরা এটাকে যতই অপ্রীতিকর মনে করুক', তখন আমি মনে করেছিলাম যে, এই অবস্থা শেষপর্যন্ত এমনই পূর্ণাঙ্গ থাকবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন- 'এই পূর্ণতা থাকবে আল্লাহ যতদিন চান ততদিন পর্যন্ত। এরপর আল্লাহ তাআলা এক মনোরম বাতাস প্রেরণ করবেন, ফলে যাদের অন্তরে সরিষা-দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে তাদের সকলের মৃত্যু হবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোনও কল্যাণ নেই তারাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে। তখন তারা তাদের পিতৃ-পুরুষদের ধর্মে (অর্থাৎ মূর্তিপূজায়) ফিরে যাবে'।⁹¹
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা: অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সূরা তাওবায় ইরশাদ করেছেন-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُوْلَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ
'আল্লাহই তো হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ নিজ রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি অন্য সব দ্বীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করেন, তাতে মুশরিকরা এটাকে যতই অপ্রীতিকর মনে করুক'।
এই আয়াত থেকে হযরত আয়শা রাযি. মনে করেছিলেন যে, এই সত্যধর্ম কিয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- এটা ততদিন পর্যন্তই বাকি থাকবে যতদিন আল্লাহ তাআলা চাবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এমন এক বাতাস প্রেরণ করবেন, যার ফলে যাদের অন্তরে সরিষা-দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে তারা সকলেই মৃত্যু বরণ করবে।
আর অবশিষ্ট থাকবে কেবল ওই সকল লোক যাদের মাঝে কোনও কল্যাণ নেই। অর্থাৎ তাদের মাঝে না থাকবে আল্লাহর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা, আর না রাসূলের নির্দেশিত পথে চলার আগ্রহ। তারা কেবল বাপ-দাদাদের রসম-রেওয়াজকে দলীল হিসেকে আঁকড়ে থাকবে। আর এভাবেই তাদের মাঝে শিরকের প্রচলন ঘটবে। কারণ পুরাতন বাপ-দাদাদের অধিকাংশই জাহেল-মুশরিক ছিল। ফলে যারাই তাদের পথ-প্রথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করবে তারা এমনি মুশরিক হয়ে যাবে।
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল যে, শেষ যামানায় পুরনো শিরক আবার চালু হবে। এখন নবীজীর সেই কথা বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে। মুসলিমরা নবী-ওলী, ইমাম ও শহীদদের সাথে শিরকি আচরণ করে, এভাবে পুরনো শিরকের বিস্তার ঘটছে। এমনকি তারা কাফেরদের দেবতাদেরও⁹² মানে এবং তাদের প্রথা অনুসরণ করে, যেমন- পুরোহিতদের কাছে প্রার্থনা করা, বিপদাপদে তাদের দ্বারস্থ হওয়া, শুভ-অশুভ ও নক্ষত্রের প্রভাবে বিশ্বাস রাখা, বিভিন্ন রোগের জন্য নির্ধারিত দেবতাদের দ্বারস্থ হওয়া এবং হাদিয়া-উপঢৌকনের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভ করা, বিভিন্ন জাহেলী দিবস উদ্যাপন করা যেগুলো হিন্দুস্তানী পৌত্তলিক ও ইরানী অগ্নিপূজকরা উদ্যাপন করে থাকে, দেওয়ালি⁹³, নববর্ষ ইত্যাদি উদযাপন করা- এসব হিন্দু ও অগ্নিপূজকদের রীতি-প্রথা মুসলিমদের মাঝে চালু হয়ে গেছে।
এর দ্বারা বোঝা গেল, মুসলিমরা যদি কুরআন-হাদীস বাদ দিয়ে বাপ-দাদাদের রসমের পেছনে পড়ে তাহলে তাদের মাঝে শিরকের রাস্তা খুলবে।
টিকাঃ
৯১. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯০৭। দ্রষ্টব্য- মিশকাতুল মাসাবীহের ভাষ্যগ্রন্থ মিরকাতুল মাফাতীহ, হাদীস ৫৫১৯। -অনুবাদক
৯২. এখানে গ্রন্থকার কিছু হিন্দু দেবতার নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের ব্যাপারে হিন্দুস্তানী মুশরিকদের বিশ্বাস হলো, তারা পৃথিবীতে স্বাধীন কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা রাখে এবং কিছু রোগ নিরাময়ের সাথে তাদের বিশেষ সম্পর্ক আছে। -নদভী
৯৩. যেদিন হিন্দুস্তানের হিন্দুরা ঘর-বাড়ির আলোকসজ্জা করে, অনেক বাতি প্রজ্জ্বলিত করে। আগুন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলা করে। অনেক ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করে একে অপরকে উপঢৌকন হিসেবে দেয় এবং এগুলোর মাধ্যমে সুখ-সম্পদের দেবতা লক্ষ্মীর নৈকট্য অর্জন করে। এর সাথে যুক্ত করা যায় মিশরের নীল নদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দিবস উদ্যাপন ও শাম্মুন নাসীম উৎসবকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর 'ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম' এবং শাইখ আলী মাহফুজের আল-ইবদা ফী মাযারিল ইবতিদা' দেখা যেতে পারে। -নদভী