📄 বুযুর্গদের জন্য প্রাণী উৎসর্গ করা, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নৈকট্য লাভ করা এবং তাদের জন্য এসব প্রাণী মানত ও জবাই করা- সবই হারাম
আল্লাহ তাআলা বলেন- أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ
'অথবা যদি হয় এমন গুনাহের বস্তু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য যবাহ করা হয়েছে (তা হারাম)'।⁷³
অর্থাৎ শূকর, রক্ত এবং মৃত প্রাণী যেমন নাপাক ও হারাম, তেমনি ওই প্রাণীও নাপাক ও হারাম যে প্রাণী গুনাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নির্ধারণ করা হয়।⁷⁴
এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, কোনও প্রাণীকে মাখলুকের নামে নির্ধারণ করা যাবে না। করলে সেটা নাপাক ও হারাম গণ্য হবে। এই আয়াতে এমন কোনও কথা নেই যে, ওই প্রাণী জবাই করার সময় কোনও মাখলুকের নাম নিলে কেবল হারাম হবে; বরং এইটুকু বলা হয়েছে যে, কোনও প্রাণী যদি কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- এটা শাইখ আহমাদ কাবীরের⁷⁶ গাভী; ওটা শাইখ সাদ্দুর⁷⁷ ষাঁড় ইত্যাদি, তাহলে তা হারাম হয়ে যায়।⁷⁵
সুতরাং কোনও প্রাণীকে - চাই মুরগী হোক বা উট- যদি নবী-ওলী, বাপ-দাদা, ভূত-পরী- কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা সবই হারাম ও নাপাক হয়ে যাবে এবং এরূপ কাজ যে করবে, তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।
টিকাঃ
৭৩. সূরা আনআম, ১৪৫
৭৪. সকল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফকীহগণ এবং গ্রহণযোগ্য সকল উলামায়ে কেরাম এই কাজটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাঁদের অনেকে এই ধরনের প্রাণীকে মৃত ও জবাইহীন প্রাণীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাফসীর ও আহকামুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর এবং চারো মাযহাবের ফিকহের কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। এ বিষয়ে বিশদ ও অত্যন্ত সারগর্ভ বিশ্লেষণ পেশ করেছেন শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে। আর ফুকাহায়ে কেরাম গাইরুল্লাহর সম্মানার্থে পশু জবাই করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে তার নৈকট্য লাভের জন্য জবাইকৃত পশুকে হারাম ঘোষণা করেছেন। 'দুরে মুখতার' গ্রন্থে (৫/১৯৬) আছে- 'কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে যে পশু জবাই করা হয়, তা হারাম। কেননা তা গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা হয়েছে। যদিও জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হোক না কেন'। এ বিষয়ে সকল বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম একমত। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহেন্দী মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. তাঁর এক মুরীদের নিকট প্রেরিত চিঠিতে বলেন- অনেক মূর্খ লোকর অভ্যাস হয়ে গেছে যে, তারা তাদের পীর ও অন্যান্য ওলীদের নামে প্রাণী মানত করে এবং সেগুলো তাদের মাযারে নিয়ে জবাই করে। অথচ ফুকাহায়ে কেরাম এটাকে শিরক গণ্য করেছেন এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এর থেকে সতর্ক করেছেন। তাঁরা এসব পশু জবাই করাকে ওই সকল প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, মুশরিকরা যেগুলোকে জিনদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাদের ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য জবাই করত। মাকতূব ৪১/৩৫। -নদভী
৭৫. দেখুন- শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ.-এর 'ফাতহুল আযীয' (পৃ. ৪১৫) গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর। সেখানে বড় বড় ফুকাহা ও মুফাসীরদের উদ্ধৃিতিসহ এ বিষয়ের বিশদ আলোচনা পাবেন। -নদভী
৭৬. প্রবল ধারণা হলো, এর দ্বারা রেফাঈ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সাইয়্যেদ আহমাদ রেফাঈ (৫৭৮ হিজরী) উদ্দেশ্য। -নদভী
৭৭. এটা একটা কাল্পনিক চরিত্র, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। সাধারণত নারীরাই তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং তার জন্য মানত করে। দেখুন-নূরুল লুগাত, ৩/৪০। -নদভী
আল্লাহ তাআলা বলেন- أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ
'অথবা যদি হয় এমন গুনাহের বস্তু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য যবাহ করা হয়েছে (তা হারাম)'।⁷³
অর্থাৎ শূকর, রক্ত এবং মৃত প্রাণী যেমন নাপাক ও হারাম, তেমনি ওই প্রাণীও নাপাক ও হারাম যে প্রাণী গুনাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নির্ধারণ করা হয়।⁷⁴
এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, কোনও প্রাণীকে মাখলুকের নামে নির্ধারণ করা যাবে না। করলে সেটা নাপাক ও হারাম গণ্য হবে। এই আয়াতে এমন কোনও কথা নেই যে, ওই প্রাণী জবাই করার সময় কোনও মাখলুকের নাম নিলে কেবল হারাম হবে; বরং এইটুকু বলা হয়েছে যে, কোনও প্রাণী যদি কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- এটা শাইখ আহমাদ কাবীরের⁷⁶ গাভী; ওটা শাইখ সাদ্দুর⁷⁷ ষাঁড় ইত্যাদি, তাহলে তা হারাম হয়ে যায়।⁷⁵
সুতরাং কোনও প্রাণীকে - চাই মুরগী হোক বা উট- যদি নবী-ওলী, বাপ-দাদা, ভূত-পরী- কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা সবই হারাম ও নাপাক হয়ে যাবে এবং এরূপ কাজ যে করবে, তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।
টিকাঃ
৭৩. সূরা আনআম, ১৪৫
৭৪. সকল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফকীহগণ এবং গ্রহণযোগ্য সকল উলামায়ে কেরাম এই কাজটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাঁদের অনেকে এই ধরনের প্রাণীকে মৃত ও জবাইহীন প্রাণীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাফসীর ও আহকামুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর এবং চারো মাযহাবের ফিকহের কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। এ বিষয়ে বিশদ ও অত্যন্ত সারগর্ভ বিশ্লেষণ পেশ করেছেন শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে। আর ফুকাহায়ে কেরাম গাইরুল্লাহর সম্মানার্থে পশু জবাই করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে তার নৈকট্য লাভের জন্য জবাইকৃত পশুকে হারাম ঘোষণা করেছেন। 'দুরে মুখতার' গ্রন্থে (৫/১৯৬) আছে- 'কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে যে পশু জবাই করা হয়, তা হারাম। কেননা তা গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা হয়েছে। যদিও জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হোক না কেন'। এ বিষয়ে সকল বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম একমত। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহেন্দী মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. তাঁর এক মুরীদের নিকট প্রেরিত চিঠিতে বলেন- অনেক মূর্খ লোকর অভ্যাস হয়ে গেছে যে, তারা তাদের পীর ও অন্যান্য ওলীদের নামে প্রাণী মানত করে এবং সেগুলো তাদের মাযারে নিয়ে জবাই করে। অথচ ফুকাহায়ে কেরাম এটাকে শিরক গণ্য করেছেন এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এর থেকে সতর্ক করেছেন। তাঁরা এসব পশু জবাই করাকে ওই সকল প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, মুশরিকরা যেগুলোকে জিনদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাদের ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য জবাই করত। মাকতূব ৪১/৩৫। -নদভী
৭৫. দেখুন- শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ.-এর 'ফাতহুল আযীয' (পৃ. ৪১৫) গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর। সেখানে বড় বড় ফুকাহা ও মুফাসীরদের উদ্ধৃিতিসহ এ বিষয়ের বিশদ আলোচনা পাবেন। -নদভী
৭৬. প্রবল ধারণা হলো, এর দ্বারা রেফাঈ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সাইয়্যেদ আহমাদ রেফাঈ (৫৭৮ হিজরী) উদ্দেশ্য। -নদভী
৭৭. এটা একটা কাল্পনিক চরিত্র, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। সাধারণত নারীরাই তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং তার জন্য মানত করে। দেখুন-নূরুল লুগাত, ৩/৪০। -নদভী
📄 অসংখ্য অংশীদার ও নামসর্বস্ব দেবদেবী
আল্লাহ তাআলা বলেন- يُصَاحِبَي السِّجْنِ وَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُهُ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَ آبَاؤُكُمْ مَّا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَنٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
'হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন-ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না সেই এক আল্লাহ, যার ক্ষমতা সর্বব্যাপী? তাঁকে ছেড়ে তোমরা যার ইবাদত করছ, তার সারবত্তা কতগুলো নামের বেশি কিছু নয়, যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখে দিয়েছ। আল্লাহ তার পক্ষে কোনও দলীল নাযিল করেননি। হুকুম দানের ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নেই। তিনিই এ হুকুম দিয়েছেন যে, তোমরা তার ভিন্ন অন্য কারও ইবাদত করো না। এটাই সরল-সোজা পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না'।⁷⁸
অর্থাৎ প্রথমত, একজন গোলামের জন্য একাধিক মনিব থাকাটা অনেক ক্ষতিকর। তাই এমন একজন ক্ষমতাবান মালিক থাকা দরকার, যে একাই তার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দেবে এবং তার সকল সমস্যার সমাধান করবে।
দ্বিতীয়ত, এসব মালিকদের কোনও বাস্তবতা নেই। আসলে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। বরং লোকেরা কাল্পনিকভাবে নির্ধারণ করে নিয়েছে যে, বৃষ্টি বর্ষণ করা একজনের অধীনে, ফসল উৎপন্ন করা আরেকজনের অধীনে, সন্তান দেওয়া আরেকজনের কাজ আর সুস্থতা দেওয়া আরেকজনের দায়িত্বে।
অতঃপর তারা নিজেরাই এসব কাল্পনিক প্রভুদের নাম ঠিক করে নিয়েছে যে, অমুক কাজ আঞ্জামদাতার নাম এই, অমুক কাজেরটা এই। তারপর তারা এদেরকে মান্য করে এবং ওই সকল কাজের সময় এদেরকে ডাকে। এভাবেই একটা সময়ে এগুলো রেওয়াজে পরিণত হয়। অথচ এসব প্রভুরা কেবল তাদের কল্পনায় রয়েছে, বাস্তবে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই।⁷⁹
আসলে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই। এসব নামের কেউ ছিল না। আর যদি বাস্তবে কারও এমন নাম থাকেও তাহলে কোনও কাজে তার কোনও কর্তৃত্ব নেই। এগুলো কেবলই কল্পনা। এসব নামের এমন কোনও মালিক নেই, যে ওইসব কাজের ক্ষেত্রে কর্তৃত্বশীল।⁸⁰
কর্তৃত্বশীল সত্তার নাম আল্লাহ, মুহাম্মাদ বা আলী তাঁর নাম নয়। আর যাদের নাম মুহাম্মাদ বা আলী, তাদের কোনও কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং বাস্তবে মুহাম্মাদ বা আলী নামের এমন কোনও সত্তা নেই, পৃথিবীতে যাদের কর্তৃত্ব চলে, বরং এগুলো কেবলই কল্পনা। অথচ এ জাতীয় কল্পনা করার কোনও হুকুম আল্লাহ তাআলা দেননি এবং তাঁর মোকাবেলায় অন্য কারও হুকুম গ্রহণযোগ্য নয়। বরং আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় কল্পনা করতে নিষেধ করেছেন। আর এমন সত্তা কে আছে যার বলার দ্বারা এসব মনগড়া কথাবার্তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে?
মূলত দ্বীন তো এটাই যে, কেবল আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলবে, তাঁর বিপরীতে অন্য কারও হুকুম কখনোই মানবে না। কিন্তু অধিকাংশ লোক এই পথে চলে না। তারা বরং নিজেদের পীরের রসম-প্রথাকে আল্লাহর হুকুমের উপর প্রাধান্য দেয়।⁸¹
এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, কারও পন্থা বা প্রথা অনুসরণ করা এবং তার হুকুমকে নিজের জন্য দলীল মনে করা ওইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা কেবল নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করেছেন। অতএব কেউ যদি এগুলো কোনও মাখলুকের সাথে করে তাহলে তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।
আর বান্দাদের নিকট আল্লাহর হুকুম পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম হলো রাসূলের সংবাদ। তাই কেউ যদি কোনও ইমাম-মুজতাহিদ, গাউস-কুতুব, মৌলভী-মাশাইখ, বাপ-দাদা, বাদশা-উজির কিংবা পাদ্রি-পণ্ডিতের কথাবার্তা ও পথ-প্রথাকে রাসূলের নির্দেশনার উপর প্রাধান্য দেয় এবং কুরআন-হাদীসের বিপরীতে পীর-উস্তাদের কথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে, অথবা খোদ নবীর ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করে যে, তার নিজের হুকুমই শরীয়ত, তার যা মন চাইত নিজের পক্ষ থেকে বলে দিত এবং উম্মতের জন্য সেটাই মানা জরুরি হয়ে যেত-তাহলে এসব দ্বারা শিরক সাব্যস্ত হবে।
বরং আসল হুকুমদাতা আল্লাহ তাআলা। নবী তো কেবল সংবাদদাতা। সুতরাং যার কথা রাসূলের সংবাদের সাথে মিলবে, সেটা মানবে আর যেটা বিপরীত হবে সেটা মানবে না।
টিকাঃ
৭৮. সূরা ইউসুফ, ৩৯-৪০
৭৯. অধিকাংশ জাতি ও গোত্রের মাঝে প্রচলিত শিরক ও পৌত্তলিকতার সাথে মিথ্যা ও মনগড়া কথাবার্তা এমনভাবে জড়িত, যেন এ দুটি দুধভাই, কিংবা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না এমন দুই বন্ধু। নবীদের শিক্ষা ও আসমানী কিতাবসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিরককে আঁকড়ে ধরা প্রত্যেকটি ভূখণ্ডে এমনসব কাল্পনিক ব্যক্তিদের মাযার রয়েছে, বাস্তবে যাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যেসব মাযার-দরগাহ যিয়ারত করে থাকে এবং দূর-দূরান্ত থেকে যেখানে আগমন করে থাকে, সেগুলোর অধিকাংশ বানোয়াট। খুব কমই এমন আছে যেগুলোর সম্বন্ধ প্রমাণিত। শিরকের সাথে মিথ্যার এই যে সম্পর্ক এটা কুরআনের একটি মুজিযা। কেননা কুরআন শিরককে মিথ্যার সাথে জুড়ে দিয়েছে। 'সুতরাং তোমরা প্রতিমাদের কলুষ পরিহার কর এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক'- সূরা হজ্জ, ৩০। -নদভী
৮০. মানুষ সাধারণত এমন নামে ডেকে থাকে। -নদভী
৮১. কারণ আসল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করা। আর মুজতাহিদ উলামায়ে কেরাম এবং মাযহাবের ইমামগণ হলেন কুরআন-হাদীসের ব্যাখ্যাদাতা; তারা অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করেন, দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজবোধ্য করে দেন, সহীহ-যঈফ ও নাসেখ-মানসূখের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করেন এবং মুজমাল-মুফাস্সাল ইত্যাদির ব্যাখ্যা করেন। ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করার যোগ্যতা যাদের নেই, মুজতাহিদগণ তাদের পক্ষ থেকে সেই কাজটি করে দেন। সুতরাং যারা তাদের কথা গ্রহণ করে তারা একজন ব্যাখ্যাদাতা, শিক্ষক ও শাস্ত্রজ্ঞের কথা হিসেবে তা গ্রহণ করে। আর সাধারণ মানুষকে ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করতে বলা তাদের সাধ্যের বাইরের জিনিসকে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার নামান্তর। হ্যাঁ, যে ব্যক্তি মাযহাবপ্রীতি বা প্রবৃত্তির কারণে কোনও মুজতাহিদের কথাকে কুরআন-হাদীসের উপর প্রাধান্য দেবে, সে প্রবৃত্তির অনুসারী বিবেচিত হবে, মুমিনদের পথের অনুসারী নয়। -নদভী
আল্লাহ তাআলা বলেন- يُصَاحِبَي السِّجْنِ وَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُهُ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَ آبَاؤُكُمْ مَّا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَنٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
'হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন-ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না সেই এক আল্লাহ, যার ক্ষমতা সর্বব্যাপী? তাঁকে ছেড়ে তোমরা যার ইবাদত করছ, তার সারবত্তা কতগুলো নামের বেশি কিছু নয়, যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখে দিয়েছ। আল্লাহ তার পক্ষে কোনও দলীল নাযিল করেননি। হুকুম দানের ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নেই। তিনিই এ হুকুম দিয়েছেন যে, তোমরা তার ভিন্ন অন্য কারও ইবাদত করো না। এটাই সরল-সোজা পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না'।⁷⁸
অর্থাৎ প্রথমত, একজন গোলামের জন্য একাধিক মনিব থাকাটা অনেক ক্ষতিকর। তাই এমন একজন ক্ষমতাবান মালিক থাকা দরকার, যে একাই তার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দেবে এবং তার সকল সমস্যার সমাধান করবে।
দ্বিতীয়ত, এসব মালিকদের কোনও বাস্তবতা নেই। আসলে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। বরং লোকেরা কাল্পনিকভাবে নির্ধারণ করে নিয়েছে যে, বৃষ্টি বর্ষণ করা একজনের অধীনে, ফসল উৎপন্ন করা আরেকজনের অধীনে, সন্তান দেওয়া আরেকজনের কাজ আর সুস্থতা দেওয়া আরেকজনের দায়িত্বে।
অতঃপর তারা নিজেরাই এসব কাল্পনিক প্রভুদের নাম ঠিক করে নিয়েছে যে, অমুক কাজ আঞ্জামদাতার নাম এই, অমুক কাজেরটা এই। তারপর তারা এদেরকে মান্য করে এবং ওই সকল কাজের সময় এদেরকে ডাকে। এভাবেই একটা সময়ে এগুলো রেওয়াজে পরিণত হয়। অথচ এসব প্রভুরা কেবল তাদের কল্পনায় রয়েছে, বাস্তবে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই।⁷⁹
আসলে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই। এসব নামের কেউ ছিল না। আর যদি বাস্তবে কারও এমন নাম থাকেও তাহলে কোনও কাজে তার কোনও কর্তৃত্ব নেই। এগুলো কেবলই কল্পনা। এসব নামের এমন কোনও মালিক নেই, যে ওইসব কাজের ক্ষেত্রে কর্তৃত্বশীল।⁸⁰
কর্তৃত্বশীল সত্তার নাম আল্লাহ, মুহাম্মাদ বা আলী তাঁর নাম নয়। আর যাদের নাম মুহাম্মাদ বা আলী, তাদের কোনও কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং বাস্তবে মুহাম্মাদ বা আলী নামের এমন কোনও সত্তা নেই, পৃথিবীতে যাদের কর্তৃত্ব চলে, বরং এগুলো কেবলই কল্পনা। অথচ এ জাতীয় কল্পনা করার কোনও হুকুম আল্লাহ তাআলা দেননি এবং তাঁর মোকাবেলায় অন্য কারও হুকুম গ্রহণযোগ্য নয়। বরং আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় কল্পনা করতে নিষেধ করেছেন। আর এমন সত্তা কে আছে যার বলার দ্বারা এসব মনগড়া কথাবার্তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে?
মূলত দ্বীন তো এটাই যে, কেবল আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলবে, তাঁর বিপরীতে অন্য কারও হুকুম কখনোই মানবে না। কিন্তু অধিকাংশ লোক এই পথে চলে না। তারা বরং নিজেদের পীরের রসম-প্রথাকে আল্লাহর হুকুমের উপর প্রাধান্য দেয়।⁸¹
এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, কারও পন্থা বা প্রথা অনুসরণ করা এবং তার হুকুমকে নিজের জন্য দলীল মনে করা ওইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা কেবল নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করেছেন। অতএব কেউ যদি এগুলো কোনও মাখলুকের সাথে করে তাহলে তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।
আর বান্দাদের নিকট আল্লাহর হুকুম পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম হলো রাসূলের সংবাদ। তাই কেউ যদি কোনও ইমাম-মুজতাহিদ, গাউস-কুতুব, মৌলভী-মাশাইখ, বাপ-দাদা, বাদশা-উজির কিংবা পাদ্রি-পণ্ডিতের কথাবার্তা ও পথ-প্রথাকে রাসূলের নির্দেশনার উপর প্রাধান্য দেয় এবং কুরআন-হাদীসের বিপরীতে পীর-উস্তাদের কথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে, অথবা খোদ নবীর ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করে যে, তার নিজের হুকুমই শরীয়ত, তার যা মন চাইত নিজের পক্ষ থেকে বলে দিত এবং উম্মতের জন্য সেটাই মানা জরুরি হয়ে যেত-তাহলে এসব দ্বারা শিরক সাব্যস্ত হবে।
বরং আসল হুকুমদাতা আল্লাহ তাআলা। নবী তো কেবল সংবাদদাতা। সুতরাং যার কথা রাসূলের সংবাদের সাথে মিলবে, সেটা মানবে আর যেটা বিপরীত হবে সেটা মানবে না।
টিকাঃ
৭৮. সূরা ইউসুফ, ৩৯-৪০
৭৯. অধিকাংশ জাতি ও গোত্রের মাঝে প্রচলিত শিরক ও পৌত্তলিকতার সাথে মিথ্যা ও মনগড়া কথাবার্তা এমনভাবে জড়িত, যেন এ দুটি দুধভাই, কিংবা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না এমন দুই বন্ধু। নবীদের শিক্ষা ও আসমানী কিতাবসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিরককে আঁকড়ে ধরা প্রত্যেকটি ভূখণ্ডে এমনসব কাল্পনিক ব্যক্তিদের মাযার রয়েছে, বাস্তবে যাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যেসব মাযার-দরগাহ যিয়ারত করে থাকে এবং দূর-দূরান্ত থেকে যেখানে আগমন করে থাকে, সেগুলোর অধিকাংশ বানোয়াট। খুব কমই এমন আছে যেগুলোর সম্বন্ধ প্রমাণিত। শিরকের সাথে মিথ্যার এই যে সম্পর্ক এটা কুরআনের একটি মুজিযা। কেননা কুরআন শিরককে মিথ্যার সাথে জুড়ে দিয়েছে। 'সুতরাং তোমরা প্রতিমাদের কলুষ পরিহার কর এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক'- সূরা হজ্জ, ৩০। -নদভী
৮০. মানুষ সাধারণত এমন নামে ডেকে থাকে। -নদভী
৮১. কারণ আসল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করা। আর মুজতাহিদ উলামায়ে কেরাম এবং মাযহাবের ইমামগণ হলেন কুরআন-হাদীসের ব্যাখ্যাদাতা; তারা অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করেন, দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজবোধ্য করে দেন, সহীহ-যঈফ ও নাসেখ-মানসূখের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করেন এবং মুজমাল-মুফাস্সাল ইত্যাদির ব্যাখ্যা করেন। ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করার যোগ্যতা যাদের নেই, মুজতাহিদগণ তাদের পক্ষ থেকে সেই কাজটি করে দেন। সুতরাং যারা তাদের কথা গ্রহণ করে তারা একজন ব্যাখ্যাদাতা, শিক্ষক ও শাস্ত্রজ্ঞের কথা হিসেবে তা গ্রহণ করে। আর সাধারণ মানুষকে ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করতে বলা তাদের সাধ্যের বাইরের জিনিসকে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার নামান্তর। হ্যাঁ, যে ব্যক্তি মাযহাবপ্রীতি বা প্রবৃত্তির কারণে কোনও মুজতাহিদের কথাকে কুরআন-হাদীসের উপর প্রাধান্য দেবে, সে প্রবৃত্তির অনুসারী বিবেচিত হবে, মুমিনদের পথের অনুসারী নয়। -নদভী
📄 শান্ত ও বিনয়াবনত হয়ে চূড়ান্ত স্তরের তাযীম একমাত্র আল্লাহর হক
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ।
হযরত মুআবিয়া রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালম্ম ইরশাদ করেন- যার এতে আনন্দবোধ হয় যে, লোকেরা তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়'।⁸²
অর্থাৎ যে ব্যক্তি চায় যে, লোকেরা তার সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকুক, কোনও নড়াচড়া করবে না, কোনও কথা বলবে না, এদিক ওদিক তাকাবে না, বরং মূর্তির মত হয়ে থাকবে- যে ব্যক্তি এমন কামনা করে সে জাহান্নামী। কেননা সে খোদা হওয়ার দাবি করে! যে তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য খাস- বান্দা তাঁর সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হয়, সে নিজেকে সেই তাযীমের উপযুক্ত মনে করে!
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কেবল সম্মান প্রদর্শনের জন্য কারও সামনে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই অন্য কারও জন্য তা করা যাবে না।
টিকাঃ
৮২. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৫৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৫৫৮২। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। -অনুবাদক
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ।
হযরত মুআবিয়া রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালম্ম ইরশাদ করেন- যার এতে আনন্দবোধ হয় যে, লোকেরা তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়'।⁸²
অর্থাৎ যে ব্যক্তি চায় যে, লোকেরা তার সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকুক, কোনও নড়াচড়া করবে না, কোনও কথা বলবে না, এদিক ওদিক তাকাবে না, বরং মূর্তির মত হয়ে থাকবে- যে ব্যক্তি এমন কামনা করে সে জাহান্নামী। কেননা সে খোদা হওয়ার দাবি করে! যে তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য খাস- বান্দা তাঁর সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হয়, সে নিজেকে সেই তাযীমের উপযুক্ত মনে করে!
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কেবল সম্মান প্রদর্শনের জন্য কারও সামনে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই অন্য কারও জন্য তা করা যাবে না।
টিকাঃ
৮২. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৫৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৫৫৮২। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। -অনুবাদক
📄 তোমরা কি স্বহস্তে নির্মিত বস্তুর উপাসনা করছ?
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ، وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ।
হযরত সাওবান রাযি. বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- 'ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার উম্মতের কতক গোত্র মুশরিকদের সাথে মিলিত না হবে এবং মূর্তিদের পূজা না করবে'।⁸³
অর্থাৎ শিরক দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক হলো- কারও নামে মূর্তি বানিয়ে পূজা করল। এটাকে আরবীতে 'সনাম' বলে। আর দ্বিতীয় হলো- কোনও গৃহ-আস্তানা, বৃক্ষ, পাথর, লাকড়ি বা কাগজকে কারও নামে পূজা করল। আরবীতে এটাকে 'ওয়াসান' বলে।⁸⁴ এর মধ্যে কবর-মাযার, কোনও বুযুর্গের আস্তানা, কারও নামের লাকড়ি, তাযিয়া⁸⁵, ঝাণ্ডা, শুদ্দা⁸⁷, ইমাম কাসেম এবং পীর দস্তগীর (আবদুল কাদের জীলানী)-এর মেহেদী⁸⁸, ইমামের মাচান, উস্তাদ বা পীরের বসার স্থান ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত। লোকেরা এগুলোর তাযীম করে, সেখানে গিয়ে হাদিয়া-উপঢৌকন পেশ করে এবং মানত করে।
অনুরূপভাবে কতক শহীদের নামে তৈরিকৃত মেহরাব, পতাকা ও তোপ-কামান। মানুষ সেগুলোতে প্রাণী উৎসর্গ করে এবং সেগুলোর নামে কসম খায়। একইভাবে কিছু গৃহকে কতক রোগের নামে বা হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতার নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- শিতা, কালি, কল্কি ইত্যাদির আস্তানা। মোটকথা, এসবই ‘ওয়াসান’।
সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, কিয়ামতের আগে মুসলিমরা মুশরিক হয়ে যাবে, তো তাদের শিরক এই ধরনেরই হবে। তারা এই ধরনের বিভিন্ন জিনিসকে মানবে। পক্ষান্তরে অন্যান্য মুশরিকরা, যেমন হিন্দু ও আরবের মুশরিক সম্প্রদায়, তারা অধিকাংশ 'সনাম' বা মূর্তিপূজক। এরা উভয়ই মুশরিক, আল্লাহবিমুখ এবং রাসূলের দুশমন।
টিকাঃ
৮৩. জামে তিরমিযী, হাদীস ২২১৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২৫২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৯৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৭২৩৮। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। -অনুবাদক
৮৪. সম্ভবত গ্রন্থকারের এই কথার ভিত্তি হলো কতক ভাষাবিদের বক্তব্য। তারা বলেছেন- 'সনাম' হলো যা মানুষের আকৃতিতে বানানো হয়। আর 'ওয়াসান' হলো যা এর বিপরীত হয়। আল্লামা যাবীদী 'তাজুল আরূস' (৮/৩৭১) গ্রন্থে 'শুরূহুদ দালাইল' থেকে এমনটি বর্ণনা করেছেন। এই কথার সমর্থন করে ভাষাবিদ আরাফার বক্তব্য যা ইবনে মানযূর 'লিসানুল আরবে' (১৫/২৪১) উল্লেখ করেছেন। আরাফা বলেন- তাদের যেসব খোদার আকৃতি নেই সেগুলো 'ওয়াসান', আর যেগুলোর আকৃতি আছে সেগুলো 'সনাম'। 'সনাম' ও 'ওয়াসান'-এর ব্যাখ্যা ও এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় নিয়ে ভাষাবিদদের বহু রকমের বক্তব্য রয়েছে। কেউ কেউ উপরিউক্ত বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টো বলেছেন। আবার কেউ কেউ এ দুই শব্দের মাঝে কোনও পার্থক্যই করেননি, বরং উভয়টিকে উভয় অর্থে ব্যবহার করেছেন। তবে কুরআন-হাদীস ও আরবদের কথামালা বিশ্লেষণ করলে প্রথম মতটি শক্তিশালী মনে হয়, যেটিকে গ্রন্থকার গ্রহণ করেছেন। -নদভী
৮৫. অর্থাৎ কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তোলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তোলন করে থাকে। -নদভী
৮৬. কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তলন করে থাকে। -নদভী
৮৭. উর্দুতে শুদ্দাহ ও শুদ্দা- বলা হয়। এটা এক ধরনের পতাকা যা মুহারামে কাগজের তৈরি কবর অর্থাৎ তাযিয়ার সাথে উত্তলন করা হয় এবং তার সাথে ঘুরানো হয়। এটাতে মূলত এক মুষ্টি রূপা একটা লাকড়ির সাথে বাঁধা হয় এবং তার উপর লাল ও সবুজ কাপড় পেঁচানো হয়। শুদ্দাহ শব্দটি আরবী শাদ্দা থেকে নির্গত, যার অর্থ হলো বাঁধা। -নূরুল লুগাত ৩/৪৩০; ফরহাঙ্গে আসিফিয়্যাহ ৩/১৭০। -নদভী
৮৮. শিয়া ইমামিয়ারা রঙ্গিন কাগজ দিয়ে একটি চৌকা আকৃতি বানিয়ে তার চারো দিকে লাল-সবুজ মোমবাতি জ্বালায় এবং তারা এটার নাম দেয় মেহেদী। এটাকে তারা ওই তাযিয়ার ঘরে রেখে দেয়। -নূরুল লুগাত, ৪/৬৮৪। ইমাম কাসেম দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন হযরত হাসান রাযি.-এর ছেলে কাসেম রহ., যার নিকট হযরত হুসাইন রাযি. তাঁর ভাই হাসান রাযি.-এর ওসিয়ত রক্ষার্থে কারবালার ময়দানে নিজের কন্যাকে বিবাহ দিয়েছেন। শিয়া ও তাদের অনুসারীদের নিকট এই মেহেদীর কারণ হলো, কাসেম বিন হাসান চৌদ্দ বছর বয়সে তার চাচার সাথে শহীদ হন। আর মেহেদী হলো খুশী ও সাজসজ্জার প্রতীক। বিবাহ-শাদীতে হাদিয়াস্বরূপ তা দেওয়া হয় এবং নববধূ তা দিয়ে উভয় হাত রঙ্গিন করে। -নদভী
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ، وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ।
হযরত সাওবান রাযি. বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- 'ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার উম্মতের কতক গোত্র মুশরিকদের সাথে মিলিত না হবে এবং মূর্তিদের পূজা না করবে'।⁸³
অর্থাৎ শিরক দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক হলো- কারও নামে মূর্তি বানিয়ে পূজা করল। এটাকে আরবীতে 'সনাম' বলে। আর দ্বিতীয় হলো- কোনও গৃহ-আস্তানা, বৃক্ষ, পাথর, লাকড়ি বা কাগজকে কারও নামে পূজা করল। আরবীতে এটাকে 'ওয়াসান' বলে।⁸⁴ এর মধ্যে কবর-মাযার, কোনও বুযুর্গের আস্তানা, কারও নামের লাকড়ি, তাযিয়া⁸⁵, ঝাণ্ডা, শুদ্দা⁸⁷, ইমাম কাসেম এবং পীর দস্তগীর (আবদুল কাদের জীলানী)-এর মেহেদী⁸⁸, ইমামের মাচান, উস্তাদ বা পীরের বসার স্থান ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত। লোকেরা এগুলোর তাযীম করে, সেখানে গিয়ে হাদিয়া-উপঢৌকন পেশ করে এবং মানত করে।
অনুরূপভাবে কতক শহীদের নামে তৈরিকৃত মেহরাব, পতাকা ও তোপ-কামান। মানুষ সেগুলোতে প্রাণী উৎসর্গ করে এবং সেগুলোর নামে কসম খায়। একইভাবে কিছু গৃহকে কতক রোগের নামে বা হিন্দুদের বিভিন্ন দেবতার নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- শিতা, কালি, কল্কি ইত্যাদির আস্তানা। মোটকথা, এসবই ‘ওয়াসান’।
সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, কিয়ামতের আগে মুসলিমরা মুশরিক হয়ে যাবে, তো তাদের শিরক এই ধরনেরই হবে। তারা এই ধরনের বিভিন্ন জিনিসকে মানবে। পক্ষান্তরে অন্যান্য মুশরিকরা, যেমন হিন্দু ও আরবের মুশরিক সম্প্রদায়, তারা অধিকাংশ 'সনাম' বা মূর্তিপূজক। এরা উভয়ই মুশরিক, আল্লাহবিমুখ এবং রাসূলের দুশমন।
টিকাঃ
৮৩. জামে তিরমিযী, হাদীস ২২১৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২৫২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৯৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৭২৩৮। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। -অনুবাদক
৮৪. সম্ভবত গ্রন্থকারের এই কথার ভিত্তি হলো কতক ভাষাবিদের বক্তব্য। তারা বলেছেন- 'সনাম' হলো যা মানুষের আকৃতিতে বানানো হয়। আর 'ওয়াসান' হলো যা এর বিপরীত হয়। আল্লামা যাবীদী 'তাজুল আরূস' (৮/৩৭১) গ্রন্থে 'শুরূহুদ দালাইল' থেকে এমনটি বর্ণনা করেছেন। এই কথার সমর্থন করে ভাষাবিদ আরাফার বক্তব্য যা ইবনে মানযূর 'লিসানুল আরবে' (১৫/২৪১) উল্লেখ করেছেন। আরাফা বলেন- তাদের যেসব খোদার আকৃতি নেই সেগুলো 'ওয়াসান', আর যেগুলোর আকৃতি আছে সেগুলো 'সনাম'। 'সনাম' ও 'ওয়াসান'-এর ব্যাখ্যা ও এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় নিয়ে ভাষাবিদদের বহু রকমের বক্তব্য রয়েছে। কেউ কেউ উপরিউক্ত বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টো বলেছেন। আবার কেউ কেউ এ দুই শব্দের মাঝে কোনও পার্থক্যই করেননি, বরং উভয়টিকে উভয় অর্থে ব্যবহার করেছেন। তবে কুরআন-হাদীস ও আরবদের কথামালা বিশ্লেষণ করলে প্রথম মতটি শক্তিশালী মনে হয়, যেটিকে গ্রন্থকার গ্রহণ করেছেন। -নদভী
৮৫. অর্থাৎ কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তোলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তোলন করে থাকে। -নদভী
৮৬. কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন রাযি. ও উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধে হুসাইন রাযি.-এর পরিবারের সদস্যগণ, যোদ্ধা ও সহযোগী বাহিনী যে পতাকাসমূহ উত্তলন করেছিলেন সেই পতাকাসমূহের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে হিন্দুস্তান ও ইরাকে (এবং ইরানে) শিয়ারা মুহার্রাম মাসে অনেক পতাকা উত্তলন করে থাকে। -নদভী
৮৭. উর্দুতে শুদ্দাহ ও শুদ্দা- বলা হয়। এটা এক ধরনের পতাকা যা মুহারামে কাগজের তৈরি কবর অর্থাৎ তাযিয়ার সাথে উত্তলন করা হয় এবং তার সাথে ঘুরানো হয়। এটাতে মূলত এক মুষ্টি রূপা একটা লাকড়ির সাথে বাঁধা হয় এবং তার উপর লাল ও সবুজ কাপড় পেঁচানো হয়। শুদ্দাহ শব্দটি আরবী শাদ্দা থেকে নির্গত, যার অর্থ হলো বাঁধা। -নূরুল লুগাত ৩/৪৩০; ফরহাঙ্গে আসিফিয়্যাহ ৩/১৭০। -নদভী
৮৮. শিয়া ইমামিয়ারা রঙ্গিন কাগজ দিয়ে একটি চৌকা আকৃতি বানিয়ে তার চারো দিকে লাল-সবুজ মোমবাতি জ্বালায় এবং তারা এটার নাম দেয় মেহেদী। এটাকে তারা ওই তাযিয়ার ঘরে রেখে দেয়। -নূরুল লুগাত, ৪/৬৮৪। ইমাম কাসেম দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন হযরত হাসান রাযি.-এর ছেলে কাসেম রহ., যার নিকট হযরত হুসাইন রাযি. তাঁর ভাই হাসান রাযি.-এর ওসিয়ত রক্ষার্থে কারবালার ময়দানে নিজের কন্যাকে বিবাহ দিয়েছেন। শিয়া ও তাদের অনুসারীদের নিকট এই মেহেদীর কারণ হলো, কাসেম বিন হাসান চৌদ্দ বছর বয়সে তার চাচার সাথে শহীদ হন। আর মেহেদী হলো খুশী ও সাজসজ্জার প্রতীক। বিবাহ-শাদীতে হাদিয়াস্বরূপ তা দেওয়া হয় এবং নববধূ তা দিয়ে উভয় হাত রঙ্গিন করে। -নদভী