📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 হজ্জের যাবতীয় কার্যাদি ও চূড়ান্ত স্তরের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও আত্মবিস্মৃতির নিদর্শনাবলি একমাত্র বাইতুল্লাহ ও হারাম শরীফের জন্য প্রযোজ্য

📄 হজ্জের যাবতীয় কার্যাদি ও চূড়ান্ত স্তরের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও আত্মবিস্মৃতির নিদর্শনাবলি একমাত্র বাইতুল্লাহ ও হারাম শরীফের জন্য প্রযোজ্য


আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ أَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَ عَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَশْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَ يَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ মَّعْلُومَةٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ মِّنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوْفُوْا نُذُورَهُمْ وَلْيֹطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ
'এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পদযোগে এবং দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রমকারী উঠের পিঠে সওয়ার হয়ে যেগুলো (দীর্ঘ সফরের কারণে) রোগা হয়ে গেছে। যাতে তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই সকল পশুতে যা তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং (হে মুসলমান!) সেই পশুগুলি থেকে তোমরা নিজেরাও খাও এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও। অতঃপর (যারা হজ্জ করে) তারা যেন তাদের মলিনতা দূর করে ও নিজেদের মানত পূরণ করে এবং আতীক গৃহের (অর্থাৎ বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করে'।⁷¹

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা স্বীয় তাযীমের জন্য কিছু জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন- কা'বা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা, সাফা-মারওয়া, মাকামে ইবরাহীম, পুরো মসজিদে হারাম, বরং পুরো হারামের এলাকা ও মক্কা মুকাররমা। এবং তিনি মানুষের অন্তরে এসব জায়গায় যাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে সর্বদিক থেকে পায়ে হেঁটে এবং সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসব জায়গার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় এবং সফরের কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হয়।

তারা আল্লাহর নামে সেখানে পশু জবাই করে এবং নিজেদের মানত আদায় করে। ওই গৃহের তাওয়াফ করে এবং প্রভুর প্রতি অন্তরের পূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধা সেখানে নিবেদন করে। কেউ চৌকাঠে চুমু খায়। কেউ দরজার সামনে দুআ করে। কেউ গেলাফ ধরে কাকুতি-মিনতি করে। কেউ এখানে ইতিকাফের নিয়তে অবস্থান করে রাতদিন আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকে। কেউ ভক্তি-শ্রদ্ধা নিয়ে দাঁড়িয়ে পবিত্র কা'বার দর্শন নিতে থাকে।

মোটকথা, এই জাতীয় কাজ তারা একমাত্র আল্লাহর তাযীম ও সম্মানে করে থাকে। আল্লাহও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ লাভ হয়।

সুতরাং এই জাতীয় কাজ অন্য কারও সম্মানার্থে করা যাবে না। কোনও মাযার বা বুযুর্গের আস্তানার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে রওয়ানা হওয়া এবং সফরের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হওয়া; সেখানে গিয়ে প্রাণী উৎসর্গ করা এবং মানত পূরণ করা; কোনও মাযার বা গৃহের তাওয়াফ করা; তার আশপাশের জঙ্গলের প্রতি বিশেষ আদব প্রদর্শন করা- শিকার না করা, বৃক্ষ না কাটা ও ঘাস না উপড়ানো ইত্যাদি, এবং এসবের মাধ্যমে দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করা - এই সব শিরকি কাজ। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।⁷² কেননা এসব একমাত্র আল্লাহর জন্য করা যায়। কোনও মাখলুক এগুলোর উপযুক্ত নয়।

টিকাঃ
৭১. সূরা হজ্জ, ২৭-২৯
৭২. যেমনটি হিন্দুস্তান ও ইরানের অনেক মূর্খ-সীমালঙ্ঘনকারীরা বুযুর্গদের মাযারে গিয়ে করে থাকে। তারা মাযারে গিয়ে এমন সব আদব ও বিধি-নিষেধ রক্ষা করে থাকে, যেগুলো হজ্জের আদব ও বিধি-নিষেধের সাথে সাদশ্যপূর্ণ। বরং সূক্ষ্মতা, সতর্কতা ও স্থিরচিত্ততার দিক থেকে হজ্জের চেয়েও অগ্রসর। -নদভী

আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ أَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَ عَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَশْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَ يَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ মَّعْلُومَةٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ মِّنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوْفُوْا نُذُورَهُمْ وَلْيֹطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ
'এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পদযোগে এবং দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রমকারী উঠের পিঠে সওয়ার হয়ে যেগুলো (দীর্ঘ সফরের কারণে) রোগা হয়ে গেছে। যাতে তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই সকল পশুতে যা তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং (হে মুসলমান!) সেই পশুগুলি থেকে তোমরা নিজেরাও খাও এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও। অতঃপর (যারা হজ্জ করে) তারা যেন তাদের মলিনতা দূর করে ও নিজেদের মানত পূরণ করে এবং আতীক গৃহের (অর্থাৎ বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করে'।⁷¹

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা স্বীয় তাযীমের জন্য কিছু জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন- কা'বা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা, সাফা-মারওয়া, মাকামে ইবরাহীম, পুরো মসজিদে হারাম, বরং পুরো হারামের এলাকা ও মক্কা মুকাররমা। এবং তিনি মানুষের অন্তরে এসব জায়গায় যাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে সর্বদিক থেকে পায়ে হেঁটে এবং সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসব জায়গার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় এবং সফরের কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হয়।

তারা আল্লাহর নামে সেখানে পশু জবাই করে এবং নিজেদের মানত আদায় করে। ওই গৃহের তাওয়াফ করে এবং প্রভুর প্রতি অন্তরের পূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধা সেখানে নিবেদন করে। কেউ চৌকাঠে চুমু খায়। কেউ দরজার সামনে দুআ করে। কেউ গেলাফ ধরে কাকুতি-মিনতি করে। কেউ এখানে ইতিকাফের নিয়তে অবস্থান করে রাতদিন আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকে। কেউ ভক্তি-শ্রদ্ধা নিয়ে দাঁড়িয়ে পবিত্র কা'বার দর্শন নিতে থাকে।

মোটকথা, এই জাতীয় কাজ তারা একমাত্র আল্লাহর তাযীম ও সম্মানে করে থাকে। আল্লাহও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ লাভ হয়।

সুতরাং এই জাতীয় কাজ অন্য কারও সম্মানার্থে করা যাবে না। কোনও মাযার বা বুযুর্গের আস্তানার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে রওয়ানা হওয়া এবং সফরের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হওয়া; সেখানে গিয়ে প্রাণী উৎসর্গ করা এবং মানত পূরণ করা; কোনও মাযার বা গৃহের তাওয়াফ করা; তার আশপাশের জঙ্গলের প্রতি বিশেষ আদব প্রদর্শন করা- শিকার না করা, বৃক্ষ না কাটা ও ঘাস না উপড়ানো ইত্যাদি, এবং এসবের মাধ্যমে দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করা - এই সব শিরকি কাজ। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।⁷² কেননা এসব একমাত্র আল্লাহর জন্য করা যায়। কোনও মাখলুক এগুলোর উপযুক্ত নয়।

টিকাঃ
৭১. সূরা হজ্জ, ২৭-২৯
৭২. যেমনটি হিন্দুস্তান ও ইরানের অনেক মূর্খ-সীমালঙ্ঘনকারীরা বুযুর্গদের মাযারে গিয়ে করে থাকে। তারা মাযারে গিয়ে এমন সব আদব ও বিধি-নিষেধ রক্ষা করে থাকে, যেগুলো হজ্জের আদব ও বিধি-নিষেধের সাথে সাদশ্যপূর্ণ। বরং সূক্ষ্মতা, সতর্কতা ও স্থিরচিত্ততার দিক থেকে হজ্জের চেয়েও অগ্রসর। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 বুযুর্গদের জন্য প্রাণী উৎসর্গ করা, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নৈকট্য লাভ করা এবং তাদের জন্য এসব প্রাণী মানত ও জবাই করা- সবই হারাম

📄 বুযুর্গদের জন্য প্রাণী উৎসর্গ করা, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নৈকট্য লাভ করা এবং তাদের জন্য এসব প্রাণী মানত ও জবাই করা- সবই হারাম


আল্লাহ তাআলা বলেন- أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ
'অথবা যদি হয় এমন গুনাহের বস্তু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য যবাহ করা হয়েছে (তা হারাম)'।⁷³

অর্থাৎ শূকর, রক্ত এবং মৃত প্রাণী যেমন নাপাক ও হারাম, তেমনি ওই প্রাণীও নাপাক ও হারাম যে প্রাণী গুনাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নির্ধারণ করা হয়।⁷⁴

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, কোনও প্রাণীকে মাখলুকের নামে নির্ধারণ করা যাবে না। করলে সেটা নাপাক ও হারাম গণ্য হবে। এই আয়াতে এমন কোনও কথা নেই যে, ওই প্রাণী জবাই করার সময় কোনও মাখলুকের নাম নিলে কেবল হারাম হবে; বরং এইটুকু বলা হয়েছে যে, কোনও প্রাণী যদি কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- এটা শাইখ আহমাদ কাবীরের⁷⁶ গাভী; ওটা শাইখ সাদ্দুর⁷⁷ ষাঁড় ইত্যাদি, তাহলে তা হারাম হয়ে যায়।⁷⁵

সুতরাং কোনও প্রাণীকে - চাই মুরগী হোক বা উট- যদি নবী-ওলী, বাপ-দাদা, ভূত-পরী- কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা সবই হারাম ও নাপাক হয়ে যাবে এবং এরূপ কাজ যে করবে, তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।

টিকাঃ
৭৩. সূরা আনআম, ১৪৫
৭৪. সকল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফকীহগণ এবং গ্রহণযোগ্য সকল উলামায়ে কেরাম এই কাজটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাঁদের অনেকে এই ধরনের প্রাণীকে মৃত ও জবাইহীন প্রাণীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাফসীর ও আহকামুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর এবং চারো মাযহাবের ফিকহের কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। এ বিষয়ে বিশদ ও অত্যন্ত সারগর্ভ বিশ্লেষণ পেশ করেছেন শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে। আর ফুকাহায়ে কেরাম গাইরুল্লাহর সম্মানার্থে পশু জবাই করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে তার নৈকট্য লাভের জন্য জবাইকৃত পশুকে হারাম ঘোষণা করেছেন। 'দুরে মুখতার' গ্রন্থে (৫/১৯৬) আছে- 'কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে যে পশু জবাই করা হয়, তা হারাম। কেননা তা গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা হয়েছে। যদিও জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হোক না কেন'। এ বিষয়ে সকল বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম একমত। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহেন্দী মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. তাঁর এক মুরীদের নিকট প্রেরিত চিঠিতে বলেন- অনেক মূর্খ লোকর অভ্যাস হয়ে গেছে যে, তারা তাদের পীর ও অন্যান্য ওলীদের নামে প্রাণী মানত করে এবং সেগুলো তাদের মাযারে নিয়ে জবাই করে। অথচ ফুকাহায়ে কেরাম এটাকে শিরক গণ্য করেছেন এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এর থেকে সতর্ক করেছেন। তাঁরা এসব পশু জবাই করাকে ওই সকল প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, মুশরিকরা যেগুলোকে জিনদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাদের ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য জবাই করত। মাকতূব ৪১/৩৫। -নদভী
৭৫. দেখুন- শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ.-এর 'ফাতহুল আযীয' (পৃ. ৪১৫) গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর। সেখানে বড় বড় ফুকাহা ও মুফাসীরদের উদ্ধৃিতিসহ এ বিষয়ের বিশদ আলোচনা পাবেন। -নদভী
৭৬. প্রবল ধারণা হলো, এর দ্বারা রেফাঈ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সাইয়্যেদ আহমাদ রেফাঈ (৫৭৮ হিজরী) উদ্দেশ্য। -নদভী
৭৭. এটা একটা কাল্পনিক চরিত্র, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। সাধারণত নারীরাই তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং তার জন্য মানত করে। দেখুন-নূরুল লুগাত, ৩/৪০। -নদভী

আল্লাহ তাআলা বলেন- أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ
'অথবা যদি হয় এমন গুনাহের বস্তু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য যবাহ করা হয়েছে (তা হারাম)'।⁷³

অর্থাৎ শূকর, রক্ত এবং মৃত প্রাণী যেমন নাপাক ও হারাম, তেমনি ওই প্রাণীও নাপাক ও হারাম যে প্রাণী গুনাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নির্ধারণ করা হয়।⁷⁴

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, কোনও প্রাণীকে মাখলুকের নামে নির্ধারণ করা যাবে না। করলে সেটা নাপাক ও হারাম গণ্য হবে। এই আয়াতে এমন কোনও কথা নেই যে, ওই প্রাণী জবাই করার সময় কোনও মাখলুকের নাম নিলে কেবল হারাম হবে; বরং এইটুকু বলা হয়েছে যে, কোনও প্রাণী যদি কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- এটা শাইখ আহমাদ কাবীরের⁷⁶ গাভী; ওটা শাইখ সাদ্দুর⁷⁷ ষাঁড় ইত্যাদি, তাহলে তা হারাম হয়ে যায়।⁷⁵

সুতরাং কোনও প্রাণীকে - চাই মুরগী হোক বা উট- যদি নবী-ওলী, বাপ-দাদা, ভূত-পরী- কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা সবই হারাম ও নাপাক হয়ে যাবে এবং এরূপ কাজ যে করবে, তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।

টিকাঃ
৭৩. সূরা আনআম, ১৪৫
৭৪. সকল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফকীহগণ এবং গ্রহণযোগ্য সকল উলামায়ে কেরাম এই কাজটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাঁদের অনেকে এই ধরনের প্রাণীকে মৃত ও জবাইহীন প্রাণীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাফসীর ও আহকামুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর এবং চারো মাযহাবের ফিকহের কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। এ বিষয়ে বিশদ ও অত্যন্ত সারগর্ভ বিশ্লেষণ পেশ করেছেন শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে। আর ফুকাহায়ে কেরাম গাইরুল্লাহর সম্মানার্থে পশু জবাই করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে তার নৈকট্য লাভের জন্য জবাইকৃত পশুকে হারাম ঘোষণা করেছেন। 'দুরে মুখতার' গ্রন্থে (৫/১৯৬) আছে- 'কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে যে পশু জবাই করা হয়, তা হারাম। কেননা তা গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা হয়েছে। যদিও জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হোক না কেন'। এ বিষয়ে সকল বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম একমত। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহেন্দী মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. তাঁর এক মুরীদের নিকট প্রেরিত চিঠিতে বলেন- অনেক মূর্খ লোকর অভ্যাস হয়ে গেছে যে, তারা তাদের পীর ও অন্যান্য ওলীদের নামে প্রাণী মানত করে এবং সেগুলো তাদের মাযারে নিয়ে জবাই করে। অথচ ফুকাহায়ে কেরাম এটাকে শিরক গণ্য করেছেন এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এর থেকে সতর্ক করেছেন। তাঁরা এসব পশু জবাই করাকে ওই সকল প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, মুশরিকরা যেগুলোকে জিনদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাদের ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য জবাই করত। মাকতূব ৪১/৩৫। -নদভী
৭৫. দেখুন- শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ.-এর 'ফাতহুল আযীয' (পৃ. ৪১৫) গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর। সেখানে বড় বড় ফুকাহা ও মুফাসীরদের উদ্ধৃিতিসহ এ বিষয়ের বিশদ আলোচনা পাবেন। -নদভী
৭৬. প্রবল ধারণা হলো, এর দ্বারা রেফাঈ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সাইয়্যেদ আহমাদ রেফাঈ (৫৭৮ হিজরী) উদ্দেশ্য। -নদভী
৭৭. এটা একটা কাল্পনিক চরিত্র, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। সাধারণত নারীরাই তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং তার জন্য মানত করে। দেখুন-নূরুল লুগাত, ৩/৪০। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 অসংখ্য অংশীদার ও নামসর্বস্ব দেবদেবী

📄 অসংখ্য অংশীদার ও নামসর্বস্ব দেবদেবী


আল্লাহ তাআলা বলেন- يُصَاحِبَي السِّجْنِ وَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُهُ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَ آبَاؤُكُمْ مَّا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَنٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
'হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন-ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না সেই এক আল্লাহ, যার ক্ষমতা সর্বব্যাপী? তাঁকে ছেড়ে তোমরা যার ইবাদত করছ, তার সারবত্তা কতগুলো নামের বেশি কিছু নয়, যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখে দিয়েছ। আল্লাহ তার পক্ষে কোনও দলীল নাযিল করেননি। হুকুম দানের ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নেই। তিনিই এ হুকুম দিয়েছেন যে, তোমরা তার ভিন্ন অন্য কারও ইবাদত করো না। এটাই সরল-সোজা পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না'।⁷⁸

অর্থাৎ প্রথমত, একজন গোলামের জন্য একাধিক মনিব থাকাটা অনেক ক্ষতিকর। তাই এমন একজন ক্ষমতাবান মালিক থাকা দরকার, যে একাই তার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দেবে এবং তার সকল সমস্যার সমাধান করবে।

দ্বিতীয়ত, এসব মালিকদের কোনও বাস্তবতা নেই। আসলে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। বরং লোকেরা কাল্পনিকভাবে নির্ধারণ করে নিয়েছে যে, বৃষ্টি বর্ষণ করা একজনের অধীনে, ফসল উৎপন্ন করা আরেকজনের অধীনে, সন্তান দেওয়া আরেকজনের কাজ আর সুস্থতা দেওয়া আরেকজনের দায়িত্বে।

অতঃপর তারা নিজেরাই এসব কাল্পনিক প্রভুদের নাম ঠিক করে নিয়েছে যে, অমুক কাজ আঞ্জামদাতার নাম এই, অমুক কাজেরটা এই। তারপর তারা এদেরকে মান্য করে এবং ওই সকল কাজের সময় এদেরকে ডাকে। এভাবেই একটা সময়ে এগুলো রেওয়াজে পরিণত হয়। অথচ এসব প্রভুরা কেবল তাদের কল্পনায় রয়েছে, বাস্তবে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই।⁷⁹

আসলে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই। এসব নামের কেউ ছিল না। আর যদি বাস্তবে কারও এমন নাম থাকেও তাহলে কোনও কাজে তার কোনও কর্তৃত্ব নেই। এগুলো কেবলই কল্পনা। এসব নামের এমন কোনও মালিক নেই, যে ওইসব কাজের ক্ষেত্রে কর্তৃত্বশীল।⁸⁰

কর্তৃত্বশীল সত্তার নাম আল্লাহ, মুহাম্মাদ বা আলী তাঁর নাম নয়। আর যাদের নাম মুহাম্মাদ বা আলী, তাদের কোনও কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং বাস্তবে মুহাম্মাদ বা আলী নামের এমন কোনও সত্তা নেই, পৃথিবীতে যাদের কর্তৃত্ব চলে, বরং এগুলো কেবলই কল্পনা। অথচ এ জাতীয় কল্পনা করার কোনও হুকুম আল্লাহ তাআলা দেননি এবং তাঁর মোকাবেলায় অন্য কারও হুকুম গ্রহণযোগ্য নয়। বরং আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় কল্পনা করতে নিষেধ করেছেন। আর এমন সত্তা কে আছে যার বলার দ্বারা এসব মনগড়া কথাবার্তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে?

মূলত দ্বীন তো এটাই যে, কেবল আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলবে, তাঁর বিপরীতে অন্য কারও হুকুম কখনোই মানবে না। কিন্তু অধিকাংশ লোক এই পথে চলে না। তারা বরং নিজেদের পীরের রসম-প্রথাকে আল্লাহর হুকুমের উপর প্রাধান্য দেয়।⁸¹

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, কারও পন্থা বা প্রথা অনুসরণ করা এবং তার হুকুমকে নিজের জন্য দলীল মনে করা ওইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা কেবল নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করেছেন। অতএব কেউ যদি এগুলো কোনও মাখলুকের সাথে করে তাহলে তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।

আর বান্দাদের নিকট আল্লাহর হুকুম পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম হলো রাসূলের সংবাদ। তাই কেউ যদি কোনও ইমাম-মুজতাহিদ, গাউস-কুতুব, মৌলভী-মাশাইখ, বাপ-দাদা, বাদশা-উজির কিংবা পাদ্রি-পণ্ডিতের কথাবার্তা ও পথ-প্রথাকে রাসূলের নির্দেশনার উপর প্রাধান্য দেয় এবং কুরআন-হাদীসের বিপরীতে পীর-উস্তাদের কথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে, অথবা খোদ নবীর ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করে যে, তার নিজের হুকুমই শরীয়ত, তার যা মন চাইত নিজের পক্ষ থেকে বলে দিত এবং উম্মতের জন্য সেটাই মানা জরুরি হয়ে যেত-তাহলে এসব দ্বারা শিরক সাব্যস্ত হবে।

বরং আসল হুকুমদাতা আল্লাহ তাআলা। নবী তো কেবল সংবাদদাতা। সুতরাং যার কথা রাসূলের সংবাদের সাথে মিলবে, সেটা মানবে আর যেটা বিপরীত হবে সেটা মানবে না।

টিকাঃ
৭৮. সূরা ইউসুফ, ৩৯-৪০
৭৯. অধিকাংশ জাতি ও গোত্রের মাঝে প্রচলিত শিরক ও পৌত্তলিকতার সাথে মিথ্যা ও মনগড়া কথাবার্তা এমনভাবে জড়িত, যেন এ দুটি দুধভাই, কিংবা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না এমন দুই বন্ধু। নবীদের শিক্ষা ও আসমানী কিতাবসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিরককে আঁকড়ে ধরা প্রত্যেকটি ভূখণ্ডে এমনসব কাল্পনিক ব্যক্তিদের মাযার রয়েছে, বাস্তবে যাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যেসব মাযার-দরগাহ যিয়ারত করে থাকে এবং দূর-দূরান্ত থেকে যেখানে আগমন করে থাকে, সেগুলোর অধিকাংশ বানোয়াট। খুব কমই এমন আছে যেগুলোর সম্বন্ধ প্রমাণিত। শিরকের সাথে মিথ্যার এই যে সম্পর্ক এটা কুরআনের একটি মুজিযা। কেননা কুরআন শিরককে মিথ্যার সাথে জুড়ে দিয়েছে। 'সুতরাং তোমরা প্রতিমাদের কলুষ পরিহার কর এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক'- সূরা হজ্জ, ৩০। -নদভী
৮০. মানুষ সাধারণত এমন নামে ডেকে থাকে। -নদভী
৮১. কারণ আসল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করা। আর মুজতাহিদ উলামায়ে কেরাম এবং মাযহাবের ইমামগণ হলেন কুরআন-হাদীসের ব্যাখ্যাদাতা; তারা অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করেন, দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজবোধ্য করে দেন, সহীহ-যঈফ ও নাসেখ-মানসূখের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করেন এবং মুজমাল-মুফাস্সাল ইত্যাদির ব্যাখ্যা করেন। ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করার যোগ্যতা যাদের নেই, মুজতাহিদগণ তাদের পক্ষ থেকে সেই কাজটি করে দেন। সুতরাং যারা তাদের কথা গ্রহণ করে তারা একজন ব্যাখ্যাদাতা, শিক্ষক ও শাস্ত্রজ্ঞের কথা হিসেবে তা গ্রহণ করে। আর সাধারণ মানুষকে ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করতে বলা তাদের সাধ্যের বাইরের জিনিসকে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার নামান্তর। হ্যাঁ, যে ব্যক্তি মাযহাবপ্রীতি বা প্রবৃত্তির কারণে কোনও মুজতাহিদের কথাকে কুরআন-হাদীসের উপর প্রাধান্য দেবে, সে প্রবৃত্তির অনুসারী বিবেচিত হবে, মুমিনদের পথের অনুসারী নয়। -নদভী

আল্লাহ তাআলা বলেন- يُصَاحِبَي السِّجْنِ وَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُهُ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَ آبَاؤُكُمْ مَّا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَنٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
'হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন-ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না সেই এক আল্লাহ, যার ক্ষমতা সর্বব্যাপী? তাঁকে ছেড়ে তোমরা যার ইবাদত করছ, তার সারবত্তা কতগুলো নামের বেশি কিছু নয়, যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদাগণ রেখে দিয়েছ। আল্লাহ তার পক্ষে কোনও দলীল নাযিল করেননি। হুকুম দানের ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নেই। তিনিই এ হুকুম দিয়েছেন যে, তোমরা তার ভিন্ন অন্য কারও ইবাদত করো না। এটাই সরল-সোজা পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না'।⁷⁸

অর্থাৎ প্রথমত, একজন গোলামের জন্য একাধিক মনিব থাকাটা অনেক ক্ষতিকর। তাই এমন একজন ক্ষমতাবান মালিক থাকা দরকার, যে একাই তার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দেবে এবং তার সকল সমস্যার সমাধান করবে।

দ্বিতীয়ত, এসব মালিকদের কোনও বাস্তবতা নেই। আসলে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। বরং লোকেরা কাল্পনিকভাবে নির্ধারণ করে নিয়েছে যে, বৃষ্টি বর্ষণ করা একজনের অধীনে, ফসল উৎপন্ন করা আরেকজনের অধীনে, সন্তান দেওয়া আরেকজনের কাজ আর সুস্থতা দেওয়া আরেকজনের দায়িত্বে।

অতঃপর তারা নিজেরাই এসব কাল্পনিক প্রভুদের নাম ঠিক করে নিয়েছে যে, অমুক কাজ আঞ্জামদাতার নাম এই, অমুক কাজেরটা এই। তারপর তারা এদেরকে মান্য করে এবং ওই সকল কাজের সময় এদেরকে ডাকে। এভাবেই একটা সময়ে এগুলো রেওয়াজে পরিণত হয়। অথচ এসব প্রভুরা কেবল তাদের কল্পনায় রয়েছে, বাস্তবে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই।⁷⁹

আসলে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই। এসব নামের কেউ ছিল না। আর যদি বাস্তবে কারও এমন নাম থাকেও তাহলে কোনও কাজে তার কোনও কর্তৃত্ব নেই। এগুলো কেবলই কল্পনা। এসব নামের এমন কোনও মালিক নেই, যে ওইসব কাজের ক্ষেত্রে কর্তৃত্বশীল।⁸⁰

কর্তৃত্বশীল সত্তার নাম আল্লাহ, মুহাম্মাদ বা আলী তাঁর নাম নয়। আর যাদের নাম মুহাম্মাদ বা আলী, তাদের কোনও কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং বাস্তবে মুহাম্মাদ বা আলী নামের এমন কোনও সত্তা নেই, পৃথিবীতে যাদের কর্তৃত্ব চলে, বরং এগুলো কেবলই কল্পনা। অথচ এ জাতীয় কল্পনা করার কোনও হুকুম আল্লাহ তাআলা দেননি এবং তাঁর মোকাবেলায় অন্য কারও হুকুম গ্রহণযোগ্য নয়। বরং আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় কল্পনা করতে নিষেধ করেছেন। আর এমন সত্তা কে আছে যার বলার দ্বারা এসব মনগড়া কথাবার্তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে?

মূলত দ্বীন তো এটাই যে, কেবল আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলবে, তাঁর বিপরীতে অন্য কারও হুকুম কখনোই মানবে না। কিন্তু অধিকাংশ লোক এই পথে চলে না। তারা বরং নিজেদের পীরের রসম-প্রথাকে আল্লাহর হুকুমের উপর প্রাধান্য দেয়।⁸¹

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, কারও পন্থা বা প্রথা অনুসরণ করা এবং তার হুকুমকে নিজের জন্য দলীল মনে করা ওইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা কেবল নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করেছেন। অতএব কেউ যদি এগুলো কোনও মাখলুকের সাথে করে তাহলে তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।

আর বান্দাদের নিকট আল্লাহর হুকুম পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম হলো রাসূলের সংবাদ। তাই কেউ যদি কোনও ইমাম-মুজতাহিদ, গাউস-কুতুব, মৌলভী-মাশাইখ, বাপ-দাদা, বাদশা-উজির কিংবা পাদ্রি-পণ্ডিতের কথাবার্তা ও পথ-প্রথাকে রাসূলের নির্দেশনার উপর প্রাধান্য দেয় এবং কুরআন-হাদীসের বিপরীতে পীর-উস্তাদের কথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে, অথবা খোদ নবীর ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করে যে, তার নিজের হুকুমই শরীয়ত, তার যা মন চাইত নিজের পক্ষ থেকে বলে দিত এবং উম্মতের জন্য সেটাই মানা জরুরি হয়ে যেত-তাহলে এসব দ্বারা শিরক সাব্যস্ত হবে।

বরং আসল হুকুমদাতা আল্লাহ তাআলা। নবী তো কেবল সংবাদদাতা। সুতরাং যার কথা রাসূলের সংবাদের সাথে মিলবে, সেটা মানবে আর যেটা বিপরীত হবে সেটা মানবে না।

টিকাঃ
৭৮. সূরা ইউসুফ, ৩৯-৪০
৭৯. অধিকাংশ জাতি ও গোত্রের মাঝে প্রচলিত শিরক ও পৌত্তলিকতার সাথে মিথ্যা ও মনগড়া কথাবার্তা এমনভাবে জড়িত, যেন এ দুটি দুধভাই, কিংবা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না এমন দুই বন্ধু। নবীদের শিক্ষা ও আসমানী কিতাবসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিরককে আঁকড়ে ধরা প্রত্যেকটি ভূখণ্ডে এমনসব কাল্পনিক ব্যক্তিদের মাযার রয়েছে, বাস্তবে যাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যেসব মাযার-দরগাহ যিয়ারত করে থাকে এবং দূর-দূরান্ত থেকে যেখানে আগমন করে থাকে, সেগুলোর অধিকাংশ বানোয়াট। খুব কমই এমন আছে যেগুলোর সম্বন্ধ প্রমাণিত। শিরকের সাথে মিথ্যার এই যে সম্পর্ক এটা কুরআনের একটি মুজিযা। কেননা কুরআন শিরককে মিথ্যার সাথে জুড়ে দিয়েছে। 'সুতরাং তোমরা প্রতিমাদের কলুষ পরিহার কর এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক'- সূরা হজ্জ, ৩০। -নদভী
৮০. মানুষ সাধারণত এমন নামে ডেকে থাকে। -নদভী
৮১. কারণ আসল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করা। আর মুজতাহিদ উলামায়ে কেরাম এবং মাযহাবের ইমামগণ হলেন কুরআন-হাদীসের ব্যাখ্যাদাতা; তারা অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করেন, দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজবোধ্য করে দেন, সহীহ-যঈফ ও নাসেখ-মানসূখের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করেন এবং মুজমাল-মুফাস্সাল ইত্যাদির ব্যাখ্যা করেন। ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করার যোগ্যতা যাদের নেই, মুজতাহিদগণ তাদের পক্ষ থেকে সেই কাজটি করে দেন। সুতরাং যারা তাদের কথা গ্রহণ করে তারা একজন ব্যাখ্যাদাতা, শিক্ষক ও শাস্ত্রজ্ঞের কথা হিসেবে তা গ্রহণ করে। আর সাধারণ মানুষকে ইজতিহাদ ও যাচাই-বাছাই করতে বলা তাদের সাধ্যের বাইরের জিনিসকে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার নামান্তর। হ্যাঁ, যে ব্যক্তি মাযহাবপ্রীতি বা প্রবৃত্তির কারণে কোনও মুজতাহিদের কথাকে কুরআন-হাদীসের উপর প্রাধান্য দেবে, সে প্রবৃত্তির অনুসারী বিবেচিত হবে, মুমিনদের পথের অনুসারী নয়। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 শান্ত ও বিনয়াবনত হয়ে চূড়ান্ত স্তরের তাযীম একমাত্র আল্লাহর হক

📄 শান্ত ও বিনয়াবনত হয়ে চূড়ান্ত স্তরের তাযীম একমাত্র আল্লাহর হক


জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ।
হযরত মুআবিয়া রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালম্ম ইরশাদ করেন- যার এতে আনন্দবোধ হয় যে, লোকেরা তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়'।⁸²

অর্থাৎ যে ব্যক্তি চায় যে, লোকেরা তার সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকুক, কোনও নড়াচড়া করবে না, কোনও কথা বলবে না, এদিক ওদিক তাকাবে না, বরং মূর্তির মত হয়ে থাকবে- যে ব্যক্তি এমন কামনা করে সে জাহান্নামী। কেননা সে খোদা হওয়ার দাবি করে! যে তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য খাস- বান্দা তাঁর সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হয়, সে নিজেকে সেই তাযীমের উপযুক্ত মনে করে!

এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কেবল সম্মান প্রদর্শনের জন্য কারও সামনে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই অন্য কারও জন্য তা করা যাবে না।

টিকাঃ
৮২. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৫৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৫৫৮২। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। -অনুবাদক

জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ।
হযরত মুআবিয়া রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালম্ম ইরশাদ করেন- যার এতে আনন্দবোধ হয় যে, লোকেরা তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়'।⁸²

অর্থাৎ যে ব্যক্তি চায় যে, লোকেরা তার সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকুক, কোনও নড়াচড়া করবে না, কোনও কথা বলবে না, এদিক ওদিক তাকাবে না, বরং মূর্তির মত হয়ে থাকবে- যে ব্যক্তি এমন কামনা করে সে জাহান্নামী। কেননা সে খোদা হওয়ার দাবি করে! যে তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য খাস- বান্দা তাঁর সামনে হাত বেঁধে আদবের সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হয়, সে নিজেকে সেই তাযীমের উপযুক্ত মনে করে!

এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কেবল সম্মান প্রদর্শনের জন্য কারও সামনে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের তাযীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই অন্য কারও জন্য তা করা যাবে না।

টিকাঃ
৮২. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৫৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৫৫৮২। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। -অনুবাদক

ফন্ট সাইজ
15px
17px