📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে কোনও ধরনের সিজদা করা জায়িয নয়

📄 আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে কোনও ধরনের সিজদা করা জায়িয নয়


আল্লাহ তাআলা বলেন- لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَ اسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
'তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না এবং চন্দ্রকেও না। বরং সিজদা কর আল্লাহকে, যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন- যদি বাস্তবিকই তোমরা তাঁর ইবাদত করে থাক'।⁶⁸

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দা বনতে চায়, সে তাঁকেই সিজদা করবে। কোনও চন্দ্র-সূর্যকে সে সিজদা করবে না।

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, আমাদের দ্বীনে সিজদা একমাত্র আল্লাহ তাআলার হক। সুতরাং কোনও মাখলুককে সিজদা করা যাবে না। আর মাখলুক হওয়ার ক্ষেত্রে চন্দ্র-সূর্য এবং নবী-ওলী- সকলেই বরাবর।

অতএব কেউ যদি বলে, পূর্ববর্তী ধর্মসমূহে কোনও কোনও মাখলুককে সিজদা করা হত, যেমন- ফেরেশতাগণ আদমকে সিজদা করেছে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম হযরত ইউসুফকে সিজদা করেছে, তাই আমরাও যদি কোনও বুযুর্গকে সিজদা করি তাতে কোনও সমস্যা নেই- তাহলে এই কথা সম্পূর্ণ গলদ।⁶⁹

পূর্ববর্তী ধর্মসমূহে অনেক কিছুই বৈধ ছিল, যা আমাদের ধর্মে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদম আলাইহিস সালাম-এর সময়ে মানুষ নিজের বোনকে বিয়ে করত, তাহলে কি এসব লোকেরা নিজেদের বোনকে বিয়ে করবে?!

আসল কথা হলো, বান্দার কর্তব্য আল্লাহর হুকুম মান্য করা। তিনি যখন যে হুকুম দেবেন তা মনেপ্রাণে গ্রহণ করা এবং কোনও ধরনের তর্ক না করা যে, পূর্ববর্তী লোকদের উপর তো এই হুকুম ছিল না, তাহলে আমাদের উপর এই হুকুম কেন আরোপ করা হলো? কেননা এরূপ তর্ক দ্বারা মানুষ কাফের হয়ে যায়।

এর উদাহরণ হলো, একজন বাদশা তার রাজত্বে একটি সময় পর্যন্ত এক হুকুম জারি রেখেছে, অতঃপর সেই হুকুমের পরিবর্তে আরেক হুকুম জারি করেছে। এখন যদি কেউ বলে, আমি পূর্বের হুকুম অনুযায়ী চলব, নতুন হুকুম মানি না, তাহলে সে বিদ্রোহী সাব্যস্ত হবে।

টিকাঃ
৬৮. সূরা হা-মীম সাজদা, ৩৭। বিশেষ জ্ঞাতব্য: এটি সিজদার আয়াত, যে ব্যক্তি এ আয়াত তেলাওয়াত করবে বা কাউকে তেলাওয়াত করতে শোনবে, একটি সিজদা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। পৃথক পৃথক বৈঠকে যতবার এ আয়াতটি পাঠ করা হবে, ততবার একটি সিজদা ওয়াজিব হবে। -সম্পাদক
৬৯. পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উলামা-মাশাইখ এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ ছাড়া কারও জন্য সিজদা করা জায়িয নেই, চাই তা ইবাদতের উদ্দেশ্যে হোক কিংবা সম্মান প্রদর্শনের জন্য হোক। তাছাড়া এ বিষয়ে অসংখ্য সহীহ হাদীস তো আছেই। হানাফী মাযহাবের ফকীহ ইমামগণ সম্মানার্থে সিজদাকে সুস্পষ্টরূপে হারাম ঘোষণা করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ এরূপ সিজদাকারীকে কাফের ফাতওয়া দিয়েছেন। শামসুল আইম্মা সারাখসী রহ. ‘মাবসূত’ (২৪/১৩০) গ্রন্থে বলেন- যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহকে সম্মানার্থে সিজদা করল সে কাফের হয়ে গেল। আল্লামা ইবনে আবেদীন রহ. ‘রদ্দুল মুহতার’ (৫/১৭৮) গ্রন্থে বলেন- সিজদার মাধ্যমে শর্তাতীতভাবে কাফের হয়ে যাবে। আল্লামা ইবনে হাজার রহ. আল-ই'লাম বিকাওয়াতিইল ইসলাম' গ্রন্থে বলেছেন- অনেক মূর্খরা পীর-মাশাইখদের সামনে যে সিজদা করে থাকে, তা সর্বাবস্থায় অকাট্য হারাম, চাই তা কিবলামুখী হয়ে করুক কিংবা অন্যমুখী হয়ে, আল্লাহর নিয়তে করুক বা অন্য নিয়তে! শাইখ আহমাদ রেজা খান বেরেলভী (১৩৪০ হিজরী) 'আয-যুবদাতুয যাকিয়্যাহ' নামক পুস্তিকায় সম্মানার্থে কৃত সিজদা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ১৫০টি ফিক্হী রেফারেন্স একত্র করেছেন, তা দেখা যেতে পারে। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহিন্দি মুজাদ্দেদে আলফে সানী (১০৩৪ হিজরী) রহ.-এর নিকট একবার সংবাদ পৌঁছল যে, তাঁর এক মুরীদকে তার ভক্তরা সম্মানার্থে সিজদা করে, কিন্তু সে তাদেরকে শক্তভাবে বারণ করে না। তখন মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. ওই মুরীদের নিকট লিখিত একটি চিঠিতে বলেন- হে ভাই! সিজদার অর্থ হলো জমিনে কপাল রাখা। এই সিজদা মানুষের চূড়ান্ত পর্যায়ের তুচ্ছতা, মুখাপেক্ষিতা, অক্ষমতা ও বিনয়কে প্রকাশ করে। তাই এই পর্যায়ের তুচ্ছতা ও বিনয়কে আল্লাহর ইবাদতের সাথে খাস করা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য এর অনুমতি দেওয়া হয়নি। মাকতুবাতে মুজাদ্দেদে আলফে সানী, ৯২/২ সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ নুমান বরাবর চিঠি। -নদভী

আল্লাহ তাআলা বলেন- لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَ اسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
'তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না এবং চন্দ্রকেও না। বরং সিজদা কর আল্লাহকে, যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন- যদি বাস্তবিকই তোমরা তাঁর ইবাদত করে থাক'।⁶⁸

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দা বনতে চায়, সে তাঁকেই সিজদা করবে। কোনও চন্দ্র-সূর্যকে সে সিজদা করবে না।

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, আমাদের দ্বীনে সিজদা একমাত্র আল্লাহ তাআলার হক। সুতরাং কোনও মাখলুককে সিজদা করা যাবে না। আর মাখলুক হওয়ার ক্ষেত্রে চন্দ্র-সূর্য এবং নবী-ওলী- সকলেই বরাবর।

অতএব কেউ যদি বলে, পূর্ববর্তী ধর্মসমূহে কোনও কোনও মাখলুককে সিজদা করা হত, যেমন- ফেরেশতাগণ আদমকে সিজদা করেছে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম হযরত ইউসুফকে সিজদা করেছে, তাই আমরাও যদি কোনও বুযুর্গকে সিজদা করি তাতে কোনও সমস্যা নেই- তাহলে এই কথা সম্পূর্ণ গলদ।⁶⁹

পূর্ববর্তী ধর্মসমূহে অনেক কিছুই বৈধ ছিল, যা আমাদের ধর্মে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদম আলাইহিস সালাম-এর সময়ে মানুষ নিজের বোনকে বিয়ে করত, তাহলে কি এসব লোকেরা নিজেদের বোনকে বিয়ে করবে?!

আসল কথা হলো, বান্দার কর্তব্য আল্লাহর হুকুম মান্য করা। তিনি যখন যে হুকুম দেবেন তা মনেপ্রাণে গ্রহণ করা এবং কোনও ধরনের তর্ক না করা যে, পূর্ববর্তী লোকদের উপর তো এই হুকুম ছিল না, তাহলে আমাদের উপর এই হুকুম কেন আরোপ করা হলো? কেননা এরূপ তর্ক দ্বারা মানুষ কাফের হয়ে যায়।

এর উদাহরণ হলো, একজন বাদশা তার রাজত্বে একটি সময় পর্যন্ত এক হুকুম জারি রেখেছে, অতঃপর সেই হুকুমের পরিবর্তে আরেক হুকুম জারি করেছে। এখন যদি কেউ বলে, আমি পূর্বের হুকুম অনুযায়ী চলব, নতুন হুকুম মানি না, তাহলে সে বিদ্রোহী সাব্যস্ত হবে।

টিকাঃ
৬৮. সূরা হা-মীম সাজদা, ৩৭। বিশেষ জ্ঞাতব্য: এটি সিজদার আয়াত, যে ব্যক্তি এ আয়াত তেলাওয়াত করবে বা কাউকে তেলাওয়াত করতে শোনবে, একটি সিজদা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। পৃথক পৃথক বৈঠকে যতবার এ আয়াতটি পাঠ করা হবে, ততবার একটি সিজদা ওয়াজিব হবে। -সম্পাদক
৬৯. পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উলামা-মাশাইখ এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ ছাড়া কারও জন্য সিজদা করা জায়িয নেই, চাই তা ইবাদতের উদ্দেশ্যে হোক কিংবা সম্মান প্রদর্শনের জন্য হোক। তাছাড়া এ বিষয়ে অসংখ্য সহীহ হাদীস তো আছেই। হানাফী মাযহাবের ফকীহ ইমামগণ সম্মানার্থে সিজদাকে সুস্পষ্টরূপে হারাম ঘোষণা করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ এরূপ সিজদাকারীকে কাফের ফাতওয়া দিয়েছেন। শামসুল আইম্মা সারাখসী রহ. ‘মাবসূত’ (২৪/১৩০) গ্রন্থে বলেন- যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহকে সম্মানার্থে সিজদা করল সে কাফের হয়ে গেল। আল্লামা ইবনে আবেদীন রহ. ‘রদ্দুল মুহতার’ (৫/১৭৮) গ্রন্থে বলেন- সিজদার মাধ্যমে শর্তাতীতভাবে কাফের হয়ে যাবে। আল্লামা ইবনে হাজার রহ. আল-ই'লাম বিকাওয়াতিইল ইসলাম' গ্রন্থে বলেছেন- অনেক মূর্খরা পীর-মাশাইখদের সামনে যে সিজদা করে থাকে, তা সর্বাবস্থায় অকাট্য হারাম, চাই তা কিবলামুখী হয়ে করুক কিংবা অন্যমুখী হয়ে, আল্লাহর নিয়তে করুক বা অন্য নিয়তে! শাইখ আহমাদ রেজা খান বেরেলভী (১৩৪০ হিজরী) 'আয-যুবদাতুয যাকিয়্যাহ' নামক পুস্তিকায় সম্মানার্থে কৃত সিজদা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ১৫০টি ফিক্হী রেফারেন্স একত্র করেছেন, তা দেখা যেতে পারে। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহিন্দি মুজাদ্দেদে আলফে সানী (১০৩৪ হিজরী) রহ.-এর নিকট একবার সংবাদ পৌঁছল যে, তাঁর এক মুরীদকে তার ভক্তরা সম্মানার্থে সিজদা করে, কিন্তু সে তাদেরকে শক্তভাবে বারণ করে না। তখন মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. ওই মুরীদের নিকট লিখিত একটি চিঠিতে বলেন- হে ভাই! সিজদার অর্থ হলো জমিনে কপাল রাখা। এই সিজদা মানুষের চূড়ান্ত পর্যায়ের তুচ্ছতা, মুখাপেক্ষিতা, অক্ষমতা ও বিনয়কে প্রকাশ করে। তাই এই পর্যায়ের তুচ্ছতা ও বিনয়কে আল্লাহর ইবাদতের সাথে খাস করা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য এর অনুমতি দেওয়া হয়নি। মাকতুবাতে মুজাদ্দেদে আলফে সানী, ৯২/২ সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ নুমান বরাবর চিঠি। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 নেককার-বুযুর্গদের ক্ষেত্রে লোকদের অতিভক্তি ও গোমরাহী

📄 নেককার-বুযুর্গদের ক্ষেত্রে লোকদের অতিভক্তি ও গোমরাহী


আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ أَنَّ الْمَسْجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللهِ أَحَدًا وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدَانُ قُلْ إِنَّمَا ادْعُوا رَبِّي وَلَا أُشْرِكْ بِهِ أَحَدًا
'এবং (আমার নিকট ওহী এসেছে যে,) সিজদাসমূহ আল্লাহরই প্রাপ্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করো না। এবং এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা তাঁর ইবাদত করার জন্য দাঁড়াল, তারা তার উপর যেন ভেঙ্গে পড়ছিল। বলে দাও, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালকের ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক স্থির করি না'।⁷⁰

অর্থাৎ যখন আল্লাহর কোনও বান্দা খাঁটি দিলে তাঁকে ডাকে, তখন বোকা লোকেরা মনে করে, ইনি তো বড় বুযুর্গ বনে গেছেন। উনি যাকে চান দিতে পারেন, যার থেকে চান ছিনিয়ে নিতে পারেন। আর এই আশায় তারা তার নিকট ভীড় জমায়।

তাই ওই বান্দার কর্তব্য হলো সত্য কথা বলে দেওয়া যে, বিপদের সময় ডাকা একমাত্র আল্লাহ তাআলার হক এবং লাভ-ক্ষতির আশা একমাত্র তাঁর কাছেই করা উচিত। অন্য কারও কাছে এসব কামনা করা শিরক এবং আমি শরীক ও শিরক- উভয়টিকে অপছন্দ করি। অতএব কেউ যদি চায় যে, এরূপ আশা আমার কাছে করবে আর আমি সেটা পছন্দ করব- তা কখনোই সম্ভব নয়।

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, কোনও বুযুর্গের তাযীমে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকা, তাকে ডাকা এবং তার নাম জপতে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো আল্লাহ তাআলা স্বীয় তাযীমের জন্য খাস করেছেন। তাই অন্য কারও জন্য এগুলো করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
৭০. সূরা জিন, ১৮-২০

আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ أَنَّ الْمَسْجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللهِ أَحَدًا وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدَانُ قُلْ إِنَّمَا ادْعُوا رَبِّي وَلَا أُشْرِكْ بِهِ أَحَدًا
'এবং (আমার নিকট ওহী এসেছে যে,) সিজদাসমূহ আল্লাহরই প্রাপ্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করো না। এবং এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা তাঁর ইবাদত করার জন্য দাঁড়াল, তারা তার উপর যেন ভেঙ্গে পড়ছিল। বলে দাও, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালকের ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক স্থির করি না'।⁷⁰

অর্থাৎ যখন আল্লাহর কোনও বান্দা খাঁটি দিলে তাঁকে ডাকে, তখন বোকা লোকেরা মনে করে, ইনি তো বড় বুযুর্গ বনে গেছেন। উনি যাকে চান দিতে পারেন, যার থেকে চান ছিনিয়ে নিতে পারেন। আর এই আশায় তারা তার নিকট ভীড় জমায়।

তাই ওই বান্দার কর্তব্য হলো সত্য কথা বলে দেওয়া যে, বিপদের সময় ডাকা একমাত্র আল্লাহ তাআলার হক এবং লাভ-ক্ষতির আশা একমাত্র তাঁর কাছেই করা উচিত। অন্য কারও কাছে এসব কামনা করা শিরক এবং আমি শরীক ও শিরক- উভয়টিকে অপছন্দ করি। অতএব কেউ যদি চায় যে, এরূপ আশা আমার কাছে করবে আর আমি সেটা পছন্দ করব- তা কখনোই সম্ভব নয়।

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, কোনও বুযুর্গের তাযীমে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকা, তাকে ডাকা এবং তার নাম জপতে থাকা ওই সকল কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো আল্লাহ তাআলা স্বীয় তাযীমের জন্য খাস করেছেন। তাই অন্য কারও জন্য এগুলো করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
৭০. সূরা জিন, ১৮-২০

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 হজ্জের যাবতীয় কার্যাদি ও চূড়ান্ত স্তরের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও আত্মবিস্মৃতির নিদর্শনাবলি একমাত্র বাইতুল্লাহ ও হারাম শরীফের জন্য প্রযোজ্য

📄 হজ্জের যাবতীয় কার্যাদি ও চূড়ান্ত স্তরের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও আত্মবিস্মৃতির নিদর্শনাবলি একমাত্র বাইতুল্লাহ ও হারাম শরীফের জন্য প্রযোজ্য


আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ أَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَ عَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَশْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَ يَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ মَّعْلُومَةٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ মِّنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوْفُوْا نُذُورَهُمْ وَلْيֹطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ
'এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পদযোগে এবং দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রমকারী উঠের পিঠে সওয়ার হয়ে যেগুলো (দীর্ঘ সফরের কারণে) রোগা হয়ে গেছে। যাতে তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই সকল পশুতে যা তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং (হে মুসলমান!) সেই পশুগুলি থেকে তোমরা নিজেরাও খাও এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও। অতঃপর (যারা হজ্জ করে) তারা যেন তাদের মলিনতা দূর করে ও নিজেদের মানত পূরণ করে এবং আতীক গৃহের (অর্থাৎ বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করে'।⁷¹

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা স্বীয় তাযীমের জন্য কিছু জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন- কা'বা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা, সাফা-মারওয়া, মাকামে ইবরাহীম, পুরো মসজিদে হারাম, বরং পুরো হারামের এলাকা ও মক্কা মুকাররমা। এবং তিনি মানুষের অন্তরে এসব জায়গায় যাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে সর্বদিক থেকে পায়ে হেঁটে এবং সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসব জায়গার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় এবং সফরের কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হয়।

তারা আল্লাহর নামে সেখানে পশু জবাই করে এবং নিজেদের মানত আদায় করে। ওই গৃহের তাওয়াফ করে এবং প্রভুর প্রতি অন্তরের পূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধা সেখানে নিবেদন করে। কেউ চৌকাঠে চুমু খায়। কেউ দরজার সামনে দুআ করে। কেউ গেলাফ ধরে কাকুতি-মিনতি করে। কেউ এখানে ইতিকাফের নিয়তে অবস্থান করে রাতদিন আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকে। কেউ ভক্তি-শ্রদ্ধা নিয়ে দাঁড়িয়ে পবিত্র কা'বার দর্শন নিতে থাকে।

মোটকথা, এই জাতীয় কাজ তারা একমাত্র আল্লাহর তাযীম ও সম্মানে করে থাকে। আল্লাহও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ লাভ হয়।

সুতরাং এই জাতীয় কাজ অন্য কারও সম্মানার্থে করা যাবে না। কোনও মাযার বা বুযুর্গের আস্তানার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে রওয়ানা হওয়া এবং সফরের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হওয়া; সেখানে গিয়ে প্রাণী উৎসর্গ করা এবং মানত পূরণ করা; কোনও মাযার বা গৃহের তাওয়াফ করা; তার আশপাশের জঙ্গলের প্রতি বিশেষ আদব প্রদর্শন করা- শিকার না করা, বৃক্ষ না কাটা ও ঘাস না উপড়ানো ইত্যাদি, এবং এসবের মাধ্যমে দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করা - এই সব শিরকি কাজ। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।⁷² কেননা এসব একমাত্র আল্লাহর জন্য করা যায়। কোনও মাখলুক এগুলোর উপযুক্ত নয়।

টিকাঃ
৭১. সূরা হজ্জ, ২৭-২৯
৭২. যেমনটি হিন্দুস্তান ও ইরানের অনেক মূর্খ-সীমালঙ্ঘনকারীরা বুযুর্গদের মাযারে গিয়ে করে থাকে। তারা মাযারে গিয়ে এমন সব আদব ও বিধি-নিষেধ রক্ষা করে থাকে, যেগুলো হজ্জের আদব ও বিধি-নিষেধের সাথে সাদশ্যপূর্ণ। বরং সূক্ষ্মতা, সতর্কতা ও স্থিরচিত্ততার দিক থেকে হজ্জের চেয়েও অগ্রসর। -নদভী

আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ أَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَ عَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَশْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَ يَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ মَّعْلُومَةٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ মِّنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوْفُوْا نُذُورَهُمْ وَلْيֹطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ
'এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পদযোগে এবং দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রমকারী উঠের পিঠে সওয়ার হয়ে যেগুলো (দীর্ঘ সফরের কারণে) রোগা হয়ে গেছে। যাতে তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই সকল পশুতে যা তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। সুতরাং (হে মুসলমান!) সেই পশুগুলি থেকে তোমরা নিজেরাও খাও এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও। অতঃপর (যারা হজ্জ করে) তারা যেন তাদের মলিনতা দূর করে ও নিজেদের মানত পূরণ করে এবং আতীক গৃহের (অর্থাৎ বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করে'।⁷¹

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা স্বীয় তাযীমের জন্য কিছু জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন- কা'বা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা, সাফা-মারওয়া, মাকামে ইবরাহীম, পুরো মসজিদে হারাম, বরং পুরো হারামের এলাকা ও মক্কা মুকাররমা। এবং তিনি মানুষের অন্তরে এসব জায়গায় যাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে সর্বদিক থেকে পায়ে হেঁটে এবং সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসব জায়গার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় এবং সফরের কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হয়।

তারা আল্লাহর নামে সেখানে পশু জবাই করে এবং নিজেদের মানত আদায় করে। ওই গৃহের তাওয়াফ করে এবং প্রভুর প্রতি অন্তরের পূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধা সেখানে নিবেদন করে। কেউ চৌকাঠে চুমু খায়। কেউ দরজার সামনে দুআ করে। কেউ গেলাফ ধরে কাকুতি-মিনতি করে। কেউ এখানে ইতিকাফের নিয়তে অবস্থান করে রাতদিন আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকে। কেউ ভক্তি-শ্রদ্ধা নিয়ে দাঁড়িয়ে পবিত্র কা'বার দর্শন নিতে থাকে।

মোটকথা, এই জাতীয় কাজ তারা একমাত্র আল্লাহর তাযীম ও সম্মানে করে থাকে। আল্লাহও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ লাভ হয়।

সুতরাং এই জাতীয় কাজ অন্য কারও সম্মানার্থে করা যাবে না। কোনও মাযার বা বুযুর্গের আস্তানার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে রওয়ানা হওয়া এবং সফরের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে মলিন বদনে সেখানে উপস্থিত হওয়া; সেখানে গিয়ে প্রাণী উৎসর্গ করা এবং মানত পূরণ করা; কোনও মাযার বা গৃহের তাওয়াফ করা; তার আশপাশের জঙ্গলের প্রতি বিশেষ আদব প্রদর্শন করা- শিকার না করা, বৃক্ষ না কাটা ও ঘাস না উপড়ানো ইত্যাদি, এবং এসবের মাধ্যমে দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করা - এই সব শিরকি কাজ। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।⁷² কেননা এসব একমাত্র আল্লাহর জন্য করা যায়। কোনও মাখলুক এগুলোর উপযুক্ত নয়।

টিকাঃ
৭১. সূরা হজ্জ, ২৭-২৯
৭২. যেমনটি হিন্দুস্তান ও ইরানের অনেক মূর্খ-সীমালঙ্ঘনকারীরা বুযুর্গদের মাযারে গিয়ে করে থাকে। তারা মাযারে গিয়ে এমন সব আদব ও বিধি-নিষেধ রক্ষা করে থাকে, যেগুলো হজ্জের আদব ও বিধি-নিষেধের সাথে সাদশ্যপূর্ণ। বরং সূক্ষ্মতা, সতর্কতা ও স্থিরচিত্ততার দিক থেকে হজ্জের চেয়েও অগ্রসর। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 বুযুর্গদের জন্য প্রাণী উৎসর্গ করা, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নৈকট্য লাভ করা এবং তাদের জন্য এসব প্রাণী মানত ও জবাই করা- সবই হারাম

📄 বুযুর্গদের জন্য প্রাণী উৎসর্গ করা, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নৈকট্য লাভ করা এবং তাদের জন্য এসব প্রাণী মানত ও জবাই করা- সবই হারাম


আল্লাহ তাআলা বলেন- أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ
'অথবা যদি হয় এমন গুনাহের বস্তু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য যবাহ করা হয়েছে (তা হারাম)'।⁷³

অর্থাৎ শূকর, রক্ত এবং মৃত প্রাণী যেমন নাপাক ও হারাম, তেমনি ওই প্রাণীও নাপাক ও হারাম যে প্রাণী গুনাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নির্ধারণ করা হয়।⁷⁴

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, কোনও প্রাণীকে মাখলুকের নামে নির্ধারণ করা যাবে না। করলে সেটা নাপাক ও হারাম গণ্য হবে। এই আয়াতে এমন কোনও কথা নেই যে, ওই প্রাণী জবাই করার সময় কোনও মাখলুকের নাম নিলে কেবল হারাম হবে; বরং এইটুকু বলা হয়েছে যে, কোনও প্রাণী যদি কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- এটা শাইখ আহমাদ কাবীরের⁷⁶ গাভী; ওটা শাইখ সাদ্দুর⁷⁷ ষাঁড় ইত্যাদি, তাহলে তা হারাম হয়ে যায়।⁷⁵

সুতরাং কোনও প্রাণীকে - চাই মুরগী হোক বা উট- যদি নবী-ওলী, বাপ-দাদা, ভূত-পরী- কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা সবই হারাম ও নাপাক হয়ে যাবে এবং এরূপ কাজ যে করবে, তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।

টিকাঃ
৭৩. সূরা আনআম, ১৪৫
৭৪. সকল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফকীহগণ এবং গ্রহণযোগ্য সকল উলামায়ে কেরাম এই কাজটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাঁদের অনেকে এই ধরনের প্রাণীকে মৃত ও জবাইহীন প্রাণীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাফসীর ও আহকামুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর এবং চারো মাযহাবের ফিকহের কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। এ বিষয়ে বিশদ ও অত্যন্ত সারগর্ভ বিশ্লেষণ পেশ করেছেন শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে। আর ফুকাহায়ে কেরাম গাইরুল্লাহর সম্মানার্থে পশু জবাই করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে তার নৈকট্য লাভের জন্য জবাইকৃত পশুকে হারাম ঘোষণা করেছেন। 'দুরে মুখতার' গ্রন্থে (৫/১৯৬) আছে- 'কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে যে পশু জবাই করা হয়, তা হারাম। কেননা তা গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা হয়েছে। যদিও জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হোক না কেন'। এ বিষয়ে সকল বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম একমত। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহেন্দী মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. তাঁর এক মুরীদের নিকট প্রেরিত চিঠিতে বলেন- অনেক মূর্খ লোকর অভ্যাস হয়ে গেছে যে, তারা তাদের পীর ও অন্যান্য ওলীদের নামে প্রাণী মানত করে এবং সেগুলো তাদের মাযারে নিয়ে জবাই করে। অথচ ফুকাহায়ে কেরাম এটাকে শিরক গণ্য করেছেন এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এর থেকে সতর্ক করেছেন। তাঁরা এসব পশু জবাই করাকে ওই সকল প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, মুশরিকরা যেগুলোকে জিনদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাদের ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য জবাই করত। মাকতূব ৪১/৩৫। -নদভী
৭৫. দেখুন- শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ.-এর 'ফাতহুল আযীয' (পৃ. ৪১৫) গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর। সেখানে বড় বড় ফুকাহা ও মুফাসীরদের উদ্ধৃিতিসহ এ বিষয়ের বিশদ আলোচনা পাবেন। -নদভী
৭৬. প্রবল ধারণা হলো, এর দ্বারা রেফাঈ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সাইয়্যেদ আহমাদ রেফাঈ (৫৭৮ হিজরী) উদ্দেশ্য। -নদভী
৭৭. এটা একটা কাল্পনিক চরিত্র, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। সাধারণত নারীরাই তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং তার জন্য মানত করে। দেখুন-নূরুল লুগাত, ৩/৪০। -নদভী

আল্লাহ তাআলা বলেন- أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ
'অথবা যদি হয় এমন গুনাহের বস্তু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য যবাহ করা হয়েছে (তা হারাম)'।⁷³

অর্থাৎ শূকর, রক্ত এবং মৃত প্রাণী যেমন নাপাক ও হারাম, তেমনি ওই প্রাণীও নাপাক ও হারাম যে প্রাণী গুনাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নির্ধারণ করা হয়।⁷⁴

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, কোনও প্রাণীকে মাখলুকের নামে নির্ধারণ করা যাবে না। করলে সেটা নাপাক ও হারাম গণ্য হবে। এই আয়াতে এমন কোনও কথা নেই যে, ওই প্রাণী জবাই করার সময় কোনও মাখলুকের নাম নিলে কেবল হারাম হবে; বরং এইটুকু বলা হয়েছে যে, কোনও প্রাণী যদি কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, যেমন- এটা শাইখ আহমাদ কাবীরের⁷⁶ গাভী; ওটা শাইখ সাদ্দুর⁷⁷ ষাঁড় ইত্যাদি, তাহলে তা হারাম হয়ে যায়।⁷⁵

সুতরাং কোনও প্রাণীকে - চাই মুরগী হোক বা উট- যদি নবী-ওলী, বাপ-দাদা, ভূত-পরী- কোনও মাখলুকের নামে ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা সবই হারাম ও নাপাক হয়ে যাবে এবং এরূপ কাজ যে করবে, তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে।

টিকাঃ
৭৩. সূরা আনআম, ১৪৫
৭৪. সকল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফকীহগণ এবং গ্রহণযোগ্য সকল উলামায়ে কেরাম এই কাজটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাঁদের অনেকে এই ধরনের প্রাণীকে মৃত ও জবাইহীন প্রাণীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাফসীর ও আহকামুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর এবং চারো মাযহাবের ফিকহের কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। এ বিষয়ে বিশদ ও অত্যন্ত সারগর্ভ বিশ্লেষণ পেশ করেছেন শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে। আর ফুকাহায়ে কেরাম গাইরুল্লাহর সম্মানার্থে পশু জবাই করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে তার নৈকট্য লাভের জন্য জবাইকৃত পশুকে হারাম ঘোষণা করেছেন। 'দুরে মুখতার' গ্রন্থে (৫/১৯৬) আছে- 'কোনও আমীর বা বড় ব্যক্তির আগমনে যে পশু জবাই করা হয়, তা হারাম। কেননা তা গাইরুল্লাহর জন্য জবাই করা হয়েছে। যদিও জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হোক না কেন'। এ বিষয়ে সকল বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম একমত। ইমাম আহমাদ ইবনে আবদুল আহাদ সারহেন্দী মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. তাঁর এক মুরীদের নিকট প্রেরিত চিঠিতে বলেন- অনেক মূর্খ লোকর অভ্যাস হয়ে গেছে যে, তারা তাদের পীর ও অন্যান্য ওলীদের নামে প্রাণী মানত করে এবং সেগুলো তাদের মাযারে নিয়ে জবাই করে। অথচ ফুকাহায়ে কেরাম এটাকে শিরক গণ্য করেছেন এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এর থেকে সতর্ক করেছেন। তাঁরা এসব পশু জবাই করাকে ওই সকল প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, মুশরিকরা যেগুলোকে জিনদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য এবং তাদের ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য জবাই করত। মাকতূব ৪১/৩৫। -নদভী
৭৫. দেখুন- শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ.-এর 'ফাতহুল আযীয' (পৃ. ৪১৫) গ্রন্থে সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ এর তাফসীর। সেখানে বড় বড় ফুকাহা ও মুফাসীরদের উদ্ধৃিতিসহ এ বিষয়ের বিশদ আলোচনা পাবেন। -নদভী
৭৬. প্রবল ধারণা হলো, এর দ্বারা রেফাঈ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সাইয়্যেদ আহমাদ রেফাঈ (৫৭৮ হিজরী) উদ্দেশ্য। -নদভী
৭৭. এটা একটা কাল্পনিক চরিত্র, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। সাধারণত নারীরাই তার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং তার জন্য মানত করে। দেখুন-নূরুল লুগাত, ৩/৪০। -নদভী

ফন্ট সাইজ
15px
17px