📄 ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য সুপারিশ
সুপারিশের তৃতীয় সুরত হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে গেল। কিন্তু সে পেশাদার চোর না এবং সর্বদা চুরি করে না। কিন্তু প্রবৃত্তির ধোঁকায় পড়ে চুরি করে ফেলেছে। সেজন্য সে লজ্জিত এবং সর্বদা ভীত। সে বাদশার আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং নিজেকে অপরাধী ও শাস্তির উপযুক্ত মনে করে। সে বাদশার কাছ থেকে পলায়ন করে কোনও আমীর বা মন্ত্রীর আশ্রয় তালাশ করে না। বাদশার বিপরীতে অন্য কারও সাহায্য কামনা করে না বরং রাতদিন তার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে অপেক্ষা করে যে, তার ব্যাপারে বাদশা কী ফায়সালা করে? তখন তার এই অবস্থা দেখে বাদশার মনে মায়া জাগে।
কিন্তু আইনের প্রতি খেয়াল করে কোনও কারণ ছাড়া মাফও করতে পারে না, অন্যথায় আইনের প্রতি মানুষের মনে অশ্রদ্ধা তৈরি হতে পারে। তাই বাদশার ইশারায় কোনও আমীর বা মন্ত্রী ওই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করে। তখন বাদশা এই আমীরের সম্মানার্থে তার সুপারিশ গ্রহণ করার বাহানায় চোরের অপরাধকে মার্জনা করে দেয়।
তো এখানে আমীর সাহেব এই চোরের জন্য এই কারণে সুপারিশ করেনি যে, তার সাথে কোনও আত্মীয়তা বা বন্ধুত্ব আছে, কিংবা সে তাকে কোনও সাহায্য করেছিল। বরং সে কেবল বাদশার মর্জির কারণে সুপারিশ করেছে। কারণ সে তো বাদশার আমীর, চোরদের পৃষ্ঠপোষক নয় যে, সে চোরদের সহযোগী হয়ে তাদের জন্য সুপারিশ করবে। কারণ তাহলে তো সে নিজেও চোর সাব্যস্ত হবে। এটাকে শাফাআত বিল-ইযন বলে। অর্থাৎ এই সুপারিশ স্বয়ং মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে হয়ে থাকে।
আল্লাহর দরবারে কেবল এই ধরনের সুপারিশ চলতে পারে এবং কুরআন-হাদীসে নবী-ওলীদের যে সুপারিশের কথা আছে, তা দ্বারা এই সুপারিশই উদ্দেশ্য। সুতরাং প্রত্যেক বান্দার কর্তব্য হলো, সর্বদা আল্লাহকেই ডাকবে; তাঁকেই ভয় করবে; তাঁর নিকটই আশ্রয় প্রার্থনা করবে; কেবল তাঁর সামনেই নিজের গুনাহের স্বীকারোক্তি প্রদান করবে; তাঁকেই নিজের মালিক ও সাহয্যকারী মনে করবে।
আল্লাহকে ছাড়া কাউকে নিজের আশ্রয়স্থল মনে করবে না; অন্য কারও সাহায্যের উপর ভরসা করবে না। কেননা তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল প্রতিপালক, সকল মুসিবত নিজ অনুগ্রহে দূর করে দেবেন এবং নিজ দয়ায় সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি যাকে চাবেন নিজ হুকুমে তার জন্য সুপারিশকারী নিযুক্ত করবেন।
মোটকথা, যেমন নিজের অন্য সকল প্রয়োজনকে তাঁর কাছে সোপর্দ করা উচিত, তেমনি এই প্রয়োজনও তাঁরই এখতিয়ারে ছেড়ে দেওয়া উচিত যে, তিনি যাকে ইচ্ছা আমাদের সুপারিশকারী নির্বাচন করবেন। এমনটি কখনোই উচিত নয় যে, কারও সাহায্যের উপর ভরসা করবে এবং সাহায্যের জন্য তাকে ডাকবে। তাকে সাহায্যকারী মনে করে আসল মালিককেই ভুলে যাবে এবং তাঁর আহকাম ও শরীয়তকে অবমূল্যায়ন করে ওই কল্পিত সাহায্যকারীদের পন্থা ও রসম-রেওয়াজকে প্রাধান্য দেবে!
এগুলো অত্যন্ত নিকৃষ্ট কথা এবং সকল নবী-ওলীরা এগুলোর প্রতি অসন্তুষ্ট। তারা কখনোই এমন লোকদের সুপারিশকারী হবেন না। বরং রাগান্বিত হবেন এবং উল্টো তাদের দুশমন হবেন। কেননা তাদের বুযুর্গির মূল কথা তো এটাই যে, তারা স্ত্রী-সন্তান, শাগরেদ-মুরীদ, চাকর-নোকর ও বন্ধু-বান্ধবের সন্তুষ্টির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতেন। আর যখন এসব নিকটজনেরা আল্লাহর সন্তুষ্টির খেলাফ কাজ করত, তখন তারা ওই সকল বুযুর্গদের দুশমন হয়ে যেত।
তাহলে গাইরুল্লাহকে আহ্বানকারী এই সকল লোক এমন কী হয়ে গেছে যে, বড় বড় লোক (অর্থাৎ নবী-ওলীরা) নিজেদের মর্জির খেলাফ তাদের পক্ষ নিয়ে আল্লাহর দরবারে ঝগড়া করবেন? বরং 'আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্যই দুশমনি'- এটাই তো তাদের শান! ফলে যাকে জাহান্নামে দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, তারা তাকে আরও দু'চারটি ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামে ফেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন!
📄 দুনিয়ার রাজা-বাদশাদের বিপরীতে, আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের জন্য অন্য কারও দ্বারস্থ হয়ে সহযোগিতা চাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كُنْتُ خَلْفَ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا ، فَقَالَ : يَا غُلَامُ ، إِنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ، اِحْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ، احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ ، إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِশَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوْكَ إِلَّا بِশَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ لَكَ ، وَلَوِ اجْتَمَعُوْا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِশَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِশَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ ، رُفِعَتِ الْأَقْلَامُ وَجَفَّتِ الصُّحُفُ.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন- একদিন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে ছিলাম। তিনি বললেন- 'হে বালক! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি- তুমি আল্লাহর বিধি-নিষেধ রক্ষা করবে, তাহলে আল্লাহ তাআলাও তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর হুকুম-আহকামের প্রতি লক্ষ রাখবে, তাহলে আল্লাহকে তোমার কাছে পাবে। তোমার কিছু চাইতে হলে কেবল আল্লাহর নিকটই চাবে। আর সাহায্যের প্রয়োজন হলে কেবল আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করবে।
জেনে রাখ! যদি পুরো জাতিও তোমার উপকারের জন্য একত্রিত হয় তাহলে তারা ততটুকুর বেশি কোনও উপকার করতে পারবে না, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আবার যদি পুরো জাতি মিলে তোমার কোনও ক্ষতি করতে চায়, তাহলে তারা ততটুকুর বেশি ক্ষতি পারবে না, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার ভাগ্যে লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কাগজ শুকিয়ে গেছে'।
অর্থাৎ সকল বাদশার বাদশা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অন্যান্য বাদশাদের মত এমন দাম্ভিক নয় যে, কোনও প্রজা যত উত্তম পন্থায়ই দরখাস্ত পেশ করুক, দাম্ভিকতার কারণে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না। এ জন্য প্রজারা অন্যান্য আমীরদের দ্বারস্থ হয় এবং তাদের মাধ্যম গ্রহণ করে, যেন তাদের খাতিরে দরখাস্ত মঞ্জুর হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা তো অত্যন্ত দয়ালু ও মহান। তাঁর দরবারে কারও ওকালতির প্রয়োজন হয় না। তাঁকে স্মরণ করলে তিনি নিজেই বান্দাকে স্মরণ করেন, কেউ সুপারিশ করুক বা না করুক। অনুরূপভাবে তিনি সবকিছু থেকে পবিত্র এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে। অন্যান্য বাদশাদের মত তাঁর এমন দরবার নেই যেখানে প্রজাসাধারণ প্রবেশ করতে পারে না। ফলে আমীর ও মন্ত্রীরাই প্রজাদেরকে শাসন করে এবং প্রজারা তাদেরকে মানতে ও তাদের দরবারে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়।
বরং আল্লাহ তাআলা বান্দাদের একেবারে নিকটবর্তী। কোনও সাধারণ বান্দাও যদি তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করে, তাহলে সে তাঁকে তার সামনেই পাবে। নিজের গাফিলতি ছাড়া অন্য কোনও পর্দা এখানে নেই। যারাই তাঁর কাছ থেকে দূরে আছে, তারা নিজেদের গাফিলতির কারণেই দূরে আছে। তিনি তো সকলেরই নিকটবর্তী।
এরপরও যে ব্যক্তি কোনও নবী বা পীরকে ডাকে, যেন তারা তাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়, সে মূলত বোঝে না যে, নবী-পীর তো তার থেকে দূরে! অথচ আল্লাহ তাআলা খুবই কাছে. তার উদাহরণ হলো, একজন প্রজা বাদশার কাছে একান্তে বসে আছে এবং বাদশা ফরিয়াদ শোনার জন্য তার প্রতি মনোযোগী হয়ে আছে, কিন্তু তারপরও ওই প্রজা কোনও আমীর বা মন্ত্রীকে দূর থেকে ডেকে বলে- আপনি আমার পক্ষ থেকে বাদশার কাছে অমুক দরখাস্তটি পেশ করুন! আসলে ওই প্রজা হয়তো অন্ধ কিংবা পাগল।
টিকাঃ
৬৩. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৫১৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৬৬৯। ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। -অনুবাদক
📄 আল্লাহর নেক বান্দারা আল্লাহর নিকট দুআ ও প্রার্থনা ছাড়া কোনওকিছুর ক্ষমতা রাখে না
এই হাদীসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন- নিজের সকল প্রয়োজন কেবল আল্লাহর নিকট চাও এবং সকল বিপদাপদে কেবল তাঁর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা কর। আর সুনিশ্চিত জেনে নাও, তাকদীরের লিখন কখনো মিটবার নয়। তাই পুরো দুনিয়ার বড়-ছোট সবাই মিলেও যদি কোনও উপকার বা ক্ষতি করতে চায়, তবুও আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন তারচেয়ে বেশিকিছু করতে পারবে না।
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, যে সকল লোক বলে, ওলীদেরকে আল্লাহ তাআলা এই ক্ষমতা দিয়েছেন যে, তারা তাকদীর পরিবর্তন করতে পারে, ফলে যার তাকদীরে সন্তান নেই, তাকে সন্তান দিতে পারে, যার হায়াত শেষ হয়ে গেছে, তার হায়াত বাড়িয়ে দিতে পারে-তাদের এসব কথা সম্পূর্ণ গলদ।
বরূপ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বান্দারই কিছু দুআ কবুল করে নেন। আর নবী-ওলীদের অধিকাংশ দুআ কবুল করেন। কিন্তু দুআর তাওফীক দেওয়া তাঁরই এখতিয়ারে এবং দুআ কবুল করাও তাঁরই এখতিয়ারে। দুআ করা ও উদ্দেশ্য হাসেল হওয়া, উভয়টি তাকদীরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাকদীরের বাইরে কোনওকিছু দুনিয়াতে ঘটতে পারে না বা কেউ করতে পারে না।
ছোট-বড়, নবী-ওলী- সকল বান্দা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁর নিকট দুআ করার চেয়ে বেশিকিছুর ক্ষমতা রাখে না। অতঃপর তিনি স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী মালিক, চাইলে নিজ অনুগ্রহে সেই দুআ কবুল করবেন, কিংবা নিজ হেকমতে তা কবুল করবেন না।
📄 তাওহীদবাদী মুমিন হন আত্মনিয়ন্ত্রিত ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী, আর দুর্বলবিশ্বাসী হয়ে থাকে পেরেশান ও বিক্ষিপ্ত চিন্তার অধিকারী
সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত আছে, عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ قَلْبِ ابْنِ آدَمَ بِكُلِّ وَادٍ শুْعْبَةً، فَمَنْ أَتْبَعَ قَلْبَهُ الشُّعَبَ كُلَّهَا ، لَمْ يُبَالِ اللَّهُ بِأَيِّ وَادٍ أَهْلَكَهُ ، وَمَنْ تَوَكَّلَ عَلَى اللَّهِ ، كَفَاهُ الشُّعَبَ.
হযরত আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- (প্রবৃত্তির) প্রত্যেকটি উপত্যকায় আদম সন্তানের অন্তরের একটি পথ আছে। যে তার অন্তরকে এই সকল পথের অনুগামী করে, আল্লাহ তাআলা তাকে যে কোনও উপত্যকায় ধ্বংস করতে কোনও পরোয়া করবেন না। আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করবে, আল্লাহ তার জন্য ওই সকল পথ থেকে যথেষ্ট হয়ে যাবেন'।
অর্থাৎ যখন মানুষের কোনওকিছুর প্রয়োজন হয় কিংবা কোন বিপদ সামনে আসে, তখন তার মন বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকে- অমুক নবীকে ডাকি, অমুক ইমামের কাছে সাহায্য চাই, অমুক পীর বা শহীদের নামে মানত করি, অমুক পরী বা জ্যোতিষীর দ্বারস্থ হই, কিংবা অমুক মৌলভীর মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করি ইত্যাদি।
তো যে ব্যক্তি এই সকল চিন্তা-কল্পনার পিছনে পড়ে, আল্লাহ তাআলা তার থেকে কবুলিয়াতের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন এবং তাকে খাঁটি বান্দাদের দল থেকে বের করে দেন। ফলে সে খোদায়ী হেদায়াত ও তরবিয়তের পথ থেকে ছিটকে পড়ে এবং ওই সকল কল্পনার পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ বেদ্বীন-নাস্তিক হয়ে যায়, কেউ মুশরিক হয়ে যায়।
আর যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং অন্য কোনও কল্পনার পিছনে না পড়ে তাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর মাকবুল বান্দাদের মধ্যে গণ্য করেন এবং তার জন্য হেদায়েতের রাস্তা খুলে দেন। তার অন্তরে আল্লাহ তাআলা এমন প্রশান্তি দান করেন, যা কল্পনার পিছনে পড়া ব্যক্তিদের কখনো অর্জন হয় না।
তাছাড়া যার তাকদীরে যতটুকু লিখা আছে, ততটুকু লাভ হবেই। কিন্তু যারা কল্পনার পিছনে ছোটে তারা মাঝখানে শুধু শুধু কষ্ট পায়, আর তাওয়াক্কুলকারীরা নিশ্চিন্তে পেয়ে যায়।
টিকাঃ
৬৪. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৪১৬৬। আল্লামা বুসীরী বলেন- হাদীসটির সনদ যঈফ। -মিসবাহুয যুজাজাহ, ৪/২২৭। তবে হযরত ইবনে উমর রাযি.-এর বর্ণনায় সহীহ সূত্রে এর কাছাকাছি মর্মের একটি হাদীস রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'যে তার সকল চিন্তাকে এক চিন্তায় পরিণত করে নেয় অর্থাৎ পরকালের চিন্তা, আল্লাহ তাআলা তার দুনিয়া-আখেরাতের সকল চিন্তা-পেরেশানীর জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তার অন্তরে অনপেক্ষতা ঢেলে দেন। আর যার চিন্তাসমূহ বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে যায়, সে দুনিয়ার যে উপত্যকায় ধ্বংস হোক তাতে আল্লাহর কোনও পরোয়া নেই'। -আয-যুহদ, ইবনে আবী আসেম, হাদীস ১৬৬; শাইখ শুআইব আলআরনাউত কৃত সুনানে ইবনে মাজাহর তাখরীজ, ২৫৭ নং হাদীস। -অনুবাদক