📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 সর্বময় ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য প্রমাণিত, এ ব্যাপারে সর্বকালের মানুষের ঐকমত্য

📄 সর্বময় ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য প্রমাণিত, এ ব্যাপারে সর্বকালের মানুষের ঐকমত্য


আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَ هُوَ يُجِيرُ وَ لَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ
'বল, কে তিনি, যার হাতে সবকিছুর পূর্ণ কর্তৃত্ব এবং যিনি আশ্রয় দান করেন এবং তার বিপরীতে কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না, (বল) যদি জান? তারা অবশ্যই বলবে, (সমস্ত কর্তৃত্ব) আল্লাহর। বল, তবে কোথা হতে তোমরা যাদুগ্রস্ত হচ্ছ?'

অর্থাৎ যার কাছেই জিজ্ঞাসা করবে যে, এমন শান কার আছে যে, সকল জিনিস তার আয়ত্তাধীন, তিনি যা চান করে ফেলেন; যার হাত কেউ রুখতে পারে না; যার সাহায্য থাকলে কোনও বিষয় না হয়ে পারে না; যার হকে ত্রুটিকারী কোথাও আশ্রয় পায় না; যার মোকাবেলায় কারও সাহায্য কাজে আসে না? প্রত্যেকেই উত্তর দেবে, এটা তো কেবল আল্লাহ তাআলার শান! সুতরাং বোঝা দরকার, তিনি ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া কেবলই পাগলামি।

টিকাঃ
৫৪. সূরা মুমিনূন, ৮৮-৮৯

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 আল্লাহর ব্যাপারে জাহিলী সমাজের আকীদা ও তাদের শিরকের স্বরূপ

📄 আল্লাহর ব্যাপারে জাহিলী সমাজের আকীদা ও তাদের শিরকের স্বরূপ


এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের কাফেররাও এ কথা স্বীকার করত যে, আল্লাহর সমকক্ষ কেউ নেই, তাঁর মোকাবেলা কেউ করতে পারে না। তবে মূর্তিদেরকে আল্লাহর নিকট নিজেদের উকিল মনে করার কারণে তারা কাফের হয়ে গেছে। সুতরাং এই যুগেও কেউ যদি কোনও মাখলুককে পৃথিবীতে স্বাধীন কর্তৃত্বশীল ও আল্লাহর নিকট নিজের উকিল মনে করে, তাহলে তার উপর শিরক সাব্যস্ত হবে, যদিও সে তাকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে না করে এবং আল্লাহর মোকাবেলা করার সামর্থ্য তার জন্য সাব্যস্ত না করে!

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 নবী-ওলীদরে প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে মুশরিকদের অনুকরণ করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি

📄 নবী-ওলীদরে প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে মুশরিকদের অনুকরণ করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَنَفْسِي نَفْعًا وَ لَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَا سْتَকْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَ مَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
'বল, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ইচ্ছা না করেন, আমি আমার নিজেরও কোনও উপকার ও অপকারের ক্ষমতা রাখি না। আমার যদি গায়েব সম্পর্কে জানা থাকত, তবে ভালো-ভালো জিনিস প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করে নিতাম এবং কোনও রকম কষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা- সেই সকল লোকের জন্য, যারা (আমার কথা) মানে'।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল নবী-ওলীদের সর্দার ছিলেন। মানুষ তাঁর অনেক বড় বড় মুজিযা দেখেছে। তাঁরই কাছ থেকে সবাই দ্বীনের একান্ত বিষয় জেনেছে। সকল বুযুর্গের বুযুর্গীও কেবল তাঁরই অনুসরণে অর্জিত হয়েছে। এ জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁকেই নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিজের অবস্থা লোকদের সামনে স্পষ্ট করো, যেন এর মাধ্যমে অন্য সবার অবস্থা জানা হয়ে যায়।

সুতরাং তিনি বলে দিয়েছেন- আমার না আছে কোনও ক্ষমতা আর না আমি গায়েবের কোনও বিষয় জানি। আমার ক্ষমতার তো এমন অবস্থা যে, অন্যের কথা দূরে থাক, আমি নিজেরও কোনও উপকার বা অপকারের সামর্থ্য রাখি না! গায়েব জানা যদি আমার এখতিয়ারে থাকত, তাহলে আমি সকল কাজের পরিণাম শুরুতেই জেনে যেতাম! পরিণাম ভালো জানা গেলে সেটা করতাম আর মন্দ জানা গেলে শুরুতেই তা থেকে বিরত থাকতাম!

মোটকথা, কোনও ক্ষমতা এবং গায়েবের কোনও ইলম আমার কাছে নেই। আর না আমি কোনও খোদা হওয়ার দাবি করি। আমি তো কেবল পয়গম্বর হওয়ার দাবি করি। আর পয়গম্বরের দায়িত্ব কেবল এতটুকু যে, মন্দ কাজ দেখলে সতর্ক করবে এবং ভালো কাজে সুসংবাদ শোনাবে। আর এই সতর্কতা ও সুসংবাদও কেবল তাদেরকে উপকার করে যাদের অন্তরে ঈমান আছে। তবে অন্তরে ঈমান সৃষ্টি করা আমার কাজ না, সেটা কেবল আল্লাহর কাজ।

টিকাঃ
৫৫. সূরা জিন, ২১-২২

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 নবী-ওলী পৃথিবীতে স্বাধীন হস্তক্ষেপ করতে অক্ষম

📄 নবী-ওলী পৃথিবীতে স্বাধীন হস্তক্ষেপ করতে অক্ষম


আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَهُمْ رِزْقًا مِنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ شَيْئًا وَلَا يَسْتَطِيعُونَ
'তারা আল্লাহ ছাড়া এমন সব জিনিসের ইবাদত করে, যারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে তাদেরকে কোনওভাবে রিযিক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না এবং তা রাখতে সক্ষমও নয়'।

অর্থাৎ তারা আল্লাহর মত করে এমন সব লোকের তাযীম করে, যাদের কোনও ক্ষমতা নেই। অন্যদের রিযিক পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের কোনও দখল নেই। না তারা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে, আর না জমিন থেকে কোনও শস্য উৎপন্ন করে! আসলে তাদের কোনও ধরনের ক্ষমতাই নেই।

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, যে সকল লোক বলে থাকে যে, নবী-ওলী ও ইমাম-শহীদদের পৃথিবীতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আছে। তবে তারা আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট। তাই আল্লাহর আদব রক্ষার্থে তারা কোনও হস্তক্ষেপ করে না। তারা চাইলে তো এক মুহূর্তে সবকিছু ওলট-পালট করে দিতে পারে। কিন্তু শরীয়তের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে- তাদের এই সকল কথা গলদ। কোনও বিষয়ে না তাদের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ আছে, আর না তাদের সেই ক্ষমতা আছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ لَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ ۚ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّلِمِينَ
'আল্লাহ তাআলাকে ছেড়ে এমন কাউকে ডাকবে না, যা তোমার কোনও উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না। তারপরও যদি তুমি এরূপ কর তবে তুমি জালেমদের মধ্যে গণ্য হবে'।

অর্থাৎ মহান আল্লাহর পরিবর্তে এমন অক্ষমদেরকে ডাকা যারা উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না- একেবারেই অন্যায়। কারণ এক মহান সত্তার অনুরূপ মর্যাদা এই সকল অকর্মাদেরকে দেওয়া হচ্ছে!

টিকাঃ
৫৬. সূরা নাহল, ৭৩
৫৭. সূরা ইউনুস, ১০৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px