📄 আল্লাহর ইলমের সাথে কারো ইলমের তুলনা করা কুফরি
হযরত আয়শা রাযি. বলেন- مَنْ أَخْبَرَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا ... يَعْلَمُ الْخَمْسَ الَّتِي قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ﴿إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ فَقَدْ أَعْظَمَ الْفِرْيَةَ.
'যে তোমাকে বলে- মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ পাঁচটি বিষয়ে জানতেন যেগুলো সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে, সেগুলোর ইলম একমাত্র তাঁরই নিকট রয়েছে (দ্রষ্টব্য- সূরা লুকমান, ৩৪), সে বড় মিথ্যা রটনা করল!'- বুখারী
অর্থাৎ সূরা লুকমানের শেষে যে পাঁচটি বিষয় আলোচিত হয়েছে এবং যার ব্যাখ্যা এই পরিচ্ছেদের শুরুতে গিয়েছে, গায়েবের সকল বিষয় মূলত এই পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে বলবে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পাঁচটি বিষয় জানতেন, অর্থাৎ গায়েবের সকল বিষয় জানতেন, সে বড়ই মিথ্যাবাদী। কারণ গায়েবের কথা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
বুখারী শরীফে হযরত উম্মুল 'আলা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- وَاللَّهِ مَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُوْلُ اللَّهِ - مَا يُفْعَلُ بِيْ وَلَا بِكُمْ. 'আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও এটা জানি না যে, আমার সাথে এবং তোমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে!'।
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে, কবরে বা আখেরাতে স্বীয় বান্দাদের সাথে কী আচরণ করবেন, তা সুনিশ্চিতভাবে কেউ জানে না। চাই সে নবী হোক বা ওলী, নিজের অবস্থা হোক বা অন্যদের অবস্থা! আর কোনও বিষয়ে যদি আল্লাহ তাআলা কোনও খাস বান্দাকে ওহী বা ইলহামের মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করেন যে, অমুক কাজের পরিণাম ভালো আর অমুক কাজের পরিণাম মন্দ- তো সেটা একটা সংক্ষিপ্ত কথা। এর চেয়ে বেশি জানা এবং এর বিস্তারিত বিবরণ লাভ করা তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
টিকাঃ
৫২. উল্লিখিত শব্দ মূলত জামে তিরমিযী (হাদীস ৩২৭৮)-এর। আর সহীহ বুখারী (হাদীস ৪৮৫৫)-এর বর্ণনায় শব্দ এমন- 'আর যে তোমাকে বলে যে, তিনি আগামীকাল কী হবে তা জানেন, সে মিথ্যা বলল! অতঃপর আয়শা রাযি. সূরা লুকমানের ৩৪ নং আয়াত পাঠ করেছেন'। লেখক হাদীসটি মিশকাতের হাওয়ালায় উল্লেখ করেছেন। সেখানেও উল্লিখিত শব্দ তিরমিযীর বর্ণনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বুখারী ও মুসলিম রহ. হাদীসটি শব্দের সামান্য ভিন্নতাসহ বর্ণনা করেছেন। আর গায়েবের এই পাঁচটি বিষয় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না মর্মে সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস রয়েছে। দেখুন- সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৬৯৭ ও ৭৩৮৯; সুনানে কুবরা নাসাঈ, হাদীস ১১১৯৪। -অনুবাদক
৫৩. সহীহ বুখারী, হাদীস ৭০১৮