📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ইলমে গায়েব একমাত্র আল্লাহর জন্য খাস

📄 ইলমে গায়েব একমাত্র আল্লাহর জন্য খাস


কিন্তু নিজের ইচ্ছা ও চাহিদা অনুযায়ী গায়েব বা অদৃশ্যের বিষয় জানা একমাত্র আল্লাহর এখতিয়ারাধীন এবং তাঁরই শান। কোনও নবী-ওলী, জিন-ফেরেশতা, পীর-শহীদ, ইমাম বা ইমামের পুত্র⁴³ এবং ভূত-পরীকে আল্লাহ তাআলা এই ক্ষমতা দেননি যে, চাইলেই গায়েবের কোনও বিষয় তারা অবহিত হতে পারবে। বরং আল্লাহ তাআলা নিজ ইচ্ছায় যাকে যতটুকু ইচ্ছা অবহিত করেন। এটা আল্লাহর ইচ্ছাধীন, তাদের চাহিদা অনুযায়ী নয়।

এ জন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অনেকবার এমন ঘটেছে যে, কোনও একটি বিষয় জানার আগ্রহ হয়েছে কিন্তু জানতে পারেননি। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলার মর্জি হয়েছে এক মুহূর্তে বলে দিয়েছেন!

যেমন মুনাফিকরা একবার হযরত আয়শা রাযি.-এর উপর ব্যভিচারের অপবাদ দিল। এতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারপরনাই মর্মাহত হলেন। কয়েকদিন যাবত বিভিন্নভাবে তদন্ত করলেন, কিন্তু আসল বাস্তবতা জানা গেল না। ফলে অনেক পেরেশান হলেন। অতঃপর আল্লাহর যখন মর্জি হলো তখন জানিয়ে দিলেন যে, এই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী এবং আয়শা সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র।

অতএব এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, গায়েবের ভাণ্ডারের চাবি একমাত্র আল্লাহর হাতে। এই চাবি তিনি অন্য কারও হাতে দেননি। তাঁর কোনও খাজাঞ্চি নেই, বরং নিজ হাতে তালা খুলে যাকে যতটুকু ইচ্ছা দান করেন। কেউ তার হাত রুখতে পারে না।

টিকাঃ
৪৩. অনেক শিয়াদের বিশ্বাস হলো, তাদের বারো ইমাম গায়েব জানতেন এবং অদৃশ্যের বিষয়ে অবগত হতেন। তারা বংশপরম্পরায় এই বিশ্বাস ধারণ করে আসছে! -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 সৃষ্টির ইলমের সীমাবদ্ধতা

📄 সৃষ্টির ইলমের সীমাবদ্ধতা


অর্থাৎ গায়েবের সকল বিষয়ের সংবাদ একমাত্র আল্লাহর নিকটে রয়েছে। এগুলো জানা অন্য কারও এখতিয়ারে নেই।

যেমন- কিয়ামতের আগমনের বিষয়টি খুবই প্রসিদ্ধ এবং সুনিশ্চিত, কিন্তু আগমনের সময় সম্পর্কে কেউ জানে না। তাহলে অন্যান্য বিষয় জানা তো আরও দূরবর্তী বিষয়! যেমন- কারও জয়-পরাজয় কিংবা সুস্থতা-অসুস্থতা ইত্যাদি বিষয়গুলো তো কিয়ামতের মত প্রসিদ্ধ না এবং সুনিশ্চিতও না।

অনুরূপভাবে কখন বৃষ্টি হবে তা সুনিশ্চিতভাবে কেউ জানে না। অথচ এর মৌসুম নির্ধারিত, সাধারণত সেই মৌসুমেই বৃষ্টি হয়। এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নবী-ওলী, পীর-বুযুর্গ ও রাজা-প্রজা সকলেই বৃষ্টির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। যদি এর সময় জানার কোনও রাস্তা থাকত, তাহলে কেউ না কেউ তা পেয়ে যেত।

তাহলে যেসব জিনিসের কোনও মৌসুম নেই এবং সকল মানুষ তা জানার আগ্রহও রাখে না, যেমন: কারও মরা-বাঁচা, সন্তান হওয়া, ধনী বা গরিব হওয়া, জয়-পরাজয় ইত্যাদি- এসব বিষয় জানার রাস্তা কোথায় পাবে?!

এমনিভাবে মায়ের গর্ভে যে বীর্য প্রবেশ করে, তা সম্পর্কে কেউ বলতে পারে না যে, একটি হবে নাকি জমজ, পুত্র হবে নাকি কন্যা, পূর্ণ-সুঠাম নাকি বিকলাঙ্গ, সুশ্রী হবে নাকি কুশ্রী ইত্যাদি। অথচ ডাক্তাররা বিশদভাবে এসবের কারণ উল্লেখ করে থাকে। কিন্তু তারা সুনিশ্চিতভাবে কিছুই জানে না।

টিকাঃ
৪৬. সূরা লুকমান, ৩৪

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ইলমে গায়েবের দাবীদার কাফির

📄 ইলমে গায়েবের দাবীদার কাফির


পূর্বের আয়াত থেকে জানা গেল, কেউ যদি দাবি করে যে, আমার নিকট এমন ইলম আছে, যার মাধ্যেমে আমি যখন ইচ্ছা গায়েবের কথা জানতে পারি এবং ভবিষ্যতের বিষয়ে অবগত হওয়ার ক্ষমতা আমার আছে- তাহলে সে মিথ্যাবাদী; সে মূলত খোদা হওয়ার দাবি করছে!

আর কেউ যদি কোনও নবী-ওলী, জিন-ফেরেশতা, ইমাম ও ইমামের সন্তান, পীর-শহীদ, গণক-জ্যোতিষী, কিতাব⁴⁴ ইত্যাদির মাধ্যমে শুভ-অশুভ লক্ষণ নির্ধারণকারী, ভবিষ্যদ্বক্তা-পুরোহিত কিংবা কোনও জিন-পরীর ব্যাপারে এমন বিশ্বাস করে যে, তারা গায়েবের কথা বা ভবিষ্যতের বিষয় জানে, তাহলে সে মুশরিক হয়ে যাবে এবং উক্ত আয়াতের অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবে!

এখন সংশয় জাগতে পারে যে, কখনো কখনো কোনও জ্যোতিষী- গণক বা পুরোহিত একটা কথা বলে এবং বাস্তবেও তেমনি ঘটে, এতে তো তাদের গায়েব জানার প্রমাণ পাওয়া যায়- তো এই সংশয় সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ তাদের অনেক কথাই অবাস্তব প্রমাণিত হয়। তাতে বোঝা যায় যে, গায়েবের ইলম তাদের এখতিয়ারাধীন নয়। কখনো তাদের অনুমান সঠিক হয় আর কখনো গলদ হয়। এস্তেখারা ও কাশফের অবস্থাও এমনই।

টিকাঃ
৪৪. হিন্দুস্তানে ও হিন্দুস্তানের বাইরে অনেক লোকের অভ্যাস আছে, যখন তাদের নিকট কোনও বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়, তখন এমন কোনও একটি কিতাব হাতে নেয় যার লেখক সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে। অতঃপর অনির্দিষ্টভাবে কিতাবটি খোলে। এভাবে যে পৃষ্ঠাটি বের হয়, তা থেকে লক্ষণ নির্ধারণ করে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে ইরান ও ভারত উপমহাদেশে সর্বাধিক নির্ভর করা হয় ইরানের সূফী কবি হাফিয (৭৯৩ হিজরী)-এর কাব্যসমগ্রের উপর। এটাকে তারা 'লক্ষণ দেখা' বলে। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 নবী-রাসূলগণ গায়েবের খবর জানতেন না

📄 নবী-রাসূলগণ গায়েবের খবর জানতেন না


আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَ لَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَا سْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَ مَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
'বল, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ইচ্ছা না করেন, আমি আমার নিজেরও কোনও উপকার ও অপকারের ক্ষমতা রাখি না। আমার যদি গায়েব সম্পর্কে জানা থাকত, তবে ভালো-ভালো জিনিস প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করে নিতাম এবং কোনও রকম কষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা- সেই সকল লোকের জন্য, যারা (আমার কথা) মানে'।⁵⁰

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল নবী-ওলীদের সর্দার ছিলেন। মানুষ তাঁর অনেক বড় বড় মুজিযা দেখেছে। তাঁরই কাছ থেকে সবাই দ্বীনের একান্ত বিষয় জেনেছে। সকল বুযুর্গের বুযুর্গীও কেবল তাঁরই অনুসরণে অর্জিত হয়েছে। এ জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁকেই নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিজের অবস্থা লোকদের সামনে স্পষ্ট করো, যেন এর মাধ্যমে অন্য সবার অবস্থা জানা হয়ে যায়।

সুতরাং তিনি বলে দিয়েছেন- আমার না আছে কোনও ক্ষমতা আর না আমি গায়েবের কোনও বিষয় জানি। আমার ক্ষমতার তো এমন অবস্থা যে, অন্যের কথা দূরে থাক, আমি নিজেরও কোনও উপকার বা অপকারের সামর্থ্য রাখি না!

গায়েব জানা যদি আমার এখতিয়ারে থাকত, তাহলে আমি সকল কাজের পরিণাম শুরুতেই জেনে যেতাম! পরিণাম ভালো জানা গেলে সেটা করতাম আর মন্দ জানা গেলে শুরুতেই তা থেকে বিরত থাকতাম!

মোটকথা, কোনও ক্ষমতা এবং গায়েবের কোনও ইলম আমার কাছে নেই। আর না আমি কোনও খোদা হওয়ার দাবি করি। আমি তো কেবল পয়গম্বর হওয়ার দাবি করি। আর পয়গম্বরের দায়িত্ব কেবল এতটুকু যে, মন্দ কাজ দেখলে সতর্ক করবে এবং ভালো কাজে সুসংবাদ শোনাবে। আর এই সতর্কতা ও সুসংবাদও কেবল তাদেরকে উপকার করে যাদের অন্তরে ঈমান আছে। তবে অন্তরে ঈমান সৃষ্টি করা আমার কাজ না, সেটা কেবল আল্লাহর কাজ।

টিকাঃ
৫০. সূরা আরাফ, ১৮৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px