📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ১. সর্বব্যাপী জ্ঞান আল্লাহ তাআলার বিশেষ গুণ

📄 ১. সর্বব্যাপী জ্ঞান আল্লাহ তাআলার বিশেষ গুণ


প্রথম বিষয় হলো, সর্বত্র হাজির-নাযির হওয়া, প্রতি মুহূর্তে প্রতিটি বস্তুর খবর রাখা- দূরে হোক বা কাছে, গুপ্ত হোক বা উন্মুক্ত, আঁধারে হোক কিংবা আলোয়, আকাশে হোক বা পাতালে, অথবা পাহড়ের চূড়ায় কিংবা সমুদ্রের তলদেশে- এটা কেবল আল্লাহ তাআলারই শান, অন্য কারও নয়!

সুতরাং কেউ যদি উঠতে-বসতে কারও নাম জপে, কাছে বা দূরে থেকে তাকে ডাকে, বালা-মুসিবতে তার দোহাই দেয়, তার নাম নিয়ে শত্রুদের উপর আক্রমণ করে, তার নামের খতম পড়ে কিংবা তার ধ্যান করে এবং মনে করে যে, মুখে বা অন্তরে যখনই তার নাম স্মরণ করি, অথবা তার সূরত বা কবরের ধ্যান করি তখনই সে বুঝতে পারে এবং আমার কোনও বিষয় তার কাছে গোপন থাকে না। আমি যত ধরনের অবস্থার সম্মুখীন হই, যেমন- সুস্থতা-অসুস্থতা; প্রাচুর্য বা দারিদ্র্য; সুখ-দুঃখ এবং বাঁচা-মরা সবকিছুই সে জানে এবং আমার মুখ থেকে যে কথাই বের হয়, তা সে শুনতে পায়। এমনকি আমার মনে যেসব জল্পনা উঁকি দেয় সেসব সম্পর্কেও সে অবগত- এসব বিশ্বাসের মাধ্যমে সে মুশরিক হয়ে যাবে! এ ধরনের ধ্যানধারণা সবই শিরক।

এটাকে ‘ইশরাক ফিল্মলম’ (ইলমের ক্ষেত্রে শিরক) বলে। অর্থাৎ আল্লাহর মত অন্য কারও জন্য ইলম সাব্যস্ত করা। এমন বিশ্বাস রাখার দ্বারা মানুষ অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে, চাই তা নবী-ওলীদের ব্যাপারে হোক কিংবা পীর-শহীদদের ব্যাপারে; আর চাই ইমাম ও ইমামদের সন্তানদের ব্যাপারে হোক বা ভূত-পরীদের ব্যাপারে! অনুরূপভাবে সে এই সর্বময় জ্ঞানকে ঐ ব্যক্তির সত্তাগত মনে করুক কিংবা আল্লাহপ্রদত্ত মনে করুক! মোটকথা সর্বাবস্থায়ই এই বিশ্বাস দ্বারা শিরক সাব্যস্ত হবে।

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ২. নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এবং কামেল কুদরত আল্লাহ তাআলার বিশেষ গুণ

📄 ২. নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এবং কামেল কুদরত আল্লাহ তাআলার বিশেষ গুণ


দ্বিতীয় বিষয় হলো, বিশ্বজগতে স্বাধীনভাবে কর্তৃত্ব করা; নিজের হুকুম জারি করা; আপন মর্জি অনুযায়ী কাউকে মৃত্যু দান করা বা জ্বালিয়ে দেওয়া; রিযিকে প্রশস্ততা কিংবা সংকীর্ণতা আরোপ করা; সুস্থতা-অসুস্থতা দান করা; বিজয়ী বা পরাজিত করা; উন্নতি বা অবনতি প্রদান করা; কামনা-বাসনা এবং যাবতীয় প্রয়োজন পূর্ণ করা; বালা-মুসিবত দূর করা এবং বিপদাপদে সাহায্য করা—এসব একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাজ; তাঁরই বৈশিষ্ট্য। এসব কোনও নবী-ওলী, পীর-শহীদ কিংবা ভূত-পরীর কাজ নয়।

অতএব কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য এমন ক্ষমতা সাব্যস্ত করে- তার কাছে নিজের মনোবাঞ্ছা কামনা করে, তার নামে মানত মানে ও প্রাণী উৎসর্গ করে এবং বিপদাপদে তাকে ডাকে, তাহলে সে মুশরিক হয়ে যাবে।

এটাকে ‘ইশরাক ফিততাসারুফ’ বলে। অর্থাৎ অন্য কারও জন্য আল্লাহর মত কর্তৃত্ব সাব্যস্ত করা স্পষ্ট শিরক। চাই এই কর্তৃত্বকে তার সত্তাগত মনে করুক কিংবা আল্লাহপ্রদত্ত মনে করুক- সর্ববস্থায়ই শিরক!

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ৩. ইবাদত সংক্রান্ত আমল ও নিদর্শনসমূহ একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য

📄 ৩. ইবাদত সংক্রান্ত আমল ও নিদর্শনসমূহ একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য


তৃতীয় বিষয় হলো, সম্মানসূচক কিছু কাজ এমন রয়েছে যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য খাস করেছেন। এসব কাজকে ইবাদত বলে।

যেমন- রুকু করা; সেজদা করা; হাত বেঁধে দাঁড়ানো; তাঁর নামে দান করা; তাঁর নামে রোযা রাখা; তাঁর ঘরের যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূরদূরান্ত থেকে সফর করা এবং এমন বেশভূষা এখতিয়ার করা, যার দ্বারা যে-কেউ বুঝতে পারে যে, সে ঐ ঘরের যিয়ারতে যাচ্ছে; রাস্তায় তাঁর নাম ডাকতে থাকা; অনর্থক কথাবার্তা ও পশুশিকার থেকে বিরত থাকা; এ অবস্থায় গমন করে তওয়াফ করা এবং ঐ গৃহ অভিমুখে সেজদা করা; সেখানে যবাহ করার পশু নিয়ে যাওয়া; সেখানে মানত করা; ঐ ঘরে গেলাফ লাগানো; তার চৌকাঠ ধরে দুআ করা ও দ্বীন-দুনিয়ার সব প্রয়োজন প্রার্থনা করা; একটি পাথরে চুমু খাওয়া; ঐ গৃহের দেয়ালে বুক ও গাল লাগানো এবং তার গেলাফ ধরে দুআ করা; তার চতুর্দিক প্রদক্ষিণ করা এবং প্রতিবেশী হয়ে তার খেদমতে আত্মনিয়োগ করা, যেমন- ঝাড়ু দেওয়া, বাতি জ্বালানো, বিছানা বিছানো, পানি পান করানো, লোকদের উযু-গোসলের ব্যবস্থা করা; বরকত মনে করে এর কূপের পানি পান করা, নিজের শরীরে ঢালা, পরস্পর বণ্টন করে নেওয়া এবং অনুপস্থিতদের জন্য নিয়ে যাওয়া; বিদায়ের সময় (ঘরের দিকে পিঠ না দিয়ে) উল্টোপায়ে ফিরে আসা; এর আশপাশের জঙ্গলের আদব রক্ষা করা, যেমন- সেখানে কোনো পশু শিকার না করা; গাছ বা ঘাস না কাটা এবং পশু না চরানো-এই সকল কাজ আল্লাহ তাআলা স্বীয় ইবাদতের জন্য বান্দাদেরকে বাতিয়েছেন।

অতএব কেউ যদি কোনও নবী-ওলী, পীর-বুযুর্গ, ভূত-পরী, সত্য- মিথ্যা কবর, কারও আস্তানা বা মাযার কিংবা কোন নিদর্শনের সাথে এসব কাজ করে, অর্থাৎ রুকু বা সেজদা করে; তাদের নামে রোযা²² রাখে বা প্রাণী উৎসর্গ করে; হাত বেঁধে বিনয়াবনত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে; দূরদূরান্ত থেকে এসব মাযারে সফর করে; সেখানে বাতি জ্বালায়; গেলাফ²⁴ লাগায় বা চাদর পরায়; তাদের নামে ঝাণ্ডা গাড়ে; বিদায়ের সময় সেদিকে পিঠ না দিয়ে উল্টোপায়ে ফিরে আসে; তাদের মাযারে চুমু খায়; এর উপর পাখা ঝুলায়; শামিয়ানা টাঙায়; চৌকাঠে চুমু দেয়; হাত জোড় করে আশ্রয় চায়, সাহায্য প্রার্থনা করে; খাদেম হিসেবে সেখানে থেকে যায়; মাযারের আশপাশের জঙ্গলের প্রতি বিশেষ আদব প্রদর্শন করে। এসব কাজ কেউ করলে সেটা তার জন্য শিরক সাব্যস্ত হয়ে যায়।

এটাকে ইবাদতের শিরক বলে। অর্থাৎ আল্লাহর মতো অন্য কারও তাযীম বা সম্মান করা। চাই তা এ মনে করে করুক যে, তিনিই একমাত্র এই সম্মানের উপযুক্ত কিংবা মনে করে যে, তার এরূপ সম্মান দ্বারা আল্লাহ তাআলা খুশি হন এবং তাকে তাযীম করার বরকতে আল্লাহ তাআলা বালা-মুসিবত দূর করে দেন। সর্বাবস্থায়ই শিরক সাব্যস্ত হবে!

টিকাঃ
২২. বোঝা যায়, হিন্দুস্তানে নেককার নারী-পুরুষের নামে রোযা রাখার বিদআতটি পুরাতন আমল থেকেই প্রচলিত আছে। কখনো কখনো তো সম্পূর্ণ কাল্পনিক কোনও ব্যক্তির নামে রোযা রাখা হয়। এসব রোযার নিয়ত ও ইফতারের ক্ষেত্রে রয়েছে অলীক বিশেষ আহকাম এবং আদব। এগুলোর দিনও থাকে নির্দিষ্ট। বুযুর্গদের নামে পালিত এসব রোযার অসীলায় ঐসকল বুযুর্গদের নিকট বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণের দুআ করা হয় এবং সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী শাইখ আহমাদ সারহিন্দী (১০১৪ হিজরী) রহ. স্বীয় অনুসারী এক নেককার নারীর নিকট প্রেরিত চিঠিতে এসব রোযার সমালোচনা করেছেন এবং এগুলোকে ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক সাব্যস্ত করেছেন। (মাকাতীবে মুজাদ্দিদে আলফে সানী, মাকতূব নং ৩/৪১)। -নদভী
২৩. যেভাবে অনারব রাষ্ট্রসমূহে রাজকীয় সভায় গোলাম তার মনীবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত। -নদভী
২৪. মৃত ব্যক্তি ও মাযারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সীমালঙ্ঘনকারীরা পীর-বুযুর্গদের মাযারে গেলাফ পরানোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের সাথে জীবিত পীর-মাশায়েখদের ন্যায় আচরণ করে থাকে। বর্তমানে এই বিদআত কিছু কিছু আরব দেশেও শুরু হয়েছে। শাইখ আলী মাহফুয তার রচিত আলইবদা' ফী মাযালি ইবতিদা' কিতাবে লেখেন, মাযারে চাদর চড়ানো বিদআত, যা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। সামনে আরো বলেন, মাযারের খাদেমদের জন্য নাপাক রিযিকের দ্বার উন্মুক্ত করতে শয়তান তাদেরকে এই কুমন্ত্রণা দিয়েছে। তাদেরকে দেখবেন, প্রতি বছর যখন মাযারের গেলাফ পাল্টানোর প্রয়োজন হয় বা যখন পুরাতন হয়ে যায় তখন সাধারণ মানুষদেরকে বোঝায় যে, এই গেলাফে এত বরকত রয়েছে যা বর্ণানাতীত। রোগ থেকে আরোগ্য লাভ, হিংসুকদের হিংসা প্রতিহত করা, রিযিকপ্রাপ্তি এবং সব ধরনের বিপদাপদ ও ভয়ভীতি থেকে নিরাপত্তা লাভের জন্য এই গেলাফ খুবই উপকারী। এসব শুনে সাধারণ মানুষ এই পুরাতন গেলাফ নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে এবং এর কিছুঅংশ লাভের জন্য অনেক সম্পদ ব্যয় করতেও কুণ্ঠিত হয় না (আলইবদা', পৃষ্ঠা ৯৬-৯৭)। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ৪. দাসত্ব ও নতিস্বীকারনির্দেশক তাযীমসমূহ আল্লাহর সাথে খাস

📄 ৪. দাসত্ব ও নতিস্বীকারনির্দেশক তাযীমসমূহ আল্লাহর সাথে খাস


চতুর্থ বিষয়, আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের শিখিয়েছেন- দুনিয়াবী কাজ-কর্মে আল্লাহকে স্মরণ রাখবে এবং তাঁর প্রতি তাযীম প্রকাশ করবে। এতে ঈমান ঠিক থাকবে এবং কাজে বরকত হবে।

যেমন- কঠিন কাজে আল্লাহর জন্য মানত করা; বিপদাপদে তাঁকে ডাকা; তাঁর নামে প্রতিটি কাজ শুরু করা; সন্তান জন্ম নিলে তাঁর শোকর আদায়ের লক্ষ্যে পশু জবাই করা এবং তার নাম 'আবদুর রহমান', 'আবদুল্লাহ', 'আতাউল্লাহ', 'খোদাবখশ' (হেবাতুল্লাহ), কন্যা হলে 'আমাতুল্লাহ' বা 'আতিয়্যাতুল্লাহ' ইত্যাদি রাখা।

অনুরূপভাবে ক্ষেতের ফসল ও বাগানের ফলফলাদির কিছু অংশ তাঁর নামে রেখে দেওয়া; সম্পদ ও পশু-পালের কিছু অংশ তাঁর নামে উৎসর্গ করা; তাঁর নামে যে পশুকে তাঁর ঘরাভিমুখে নিয়ে যাওয়া হয় তার বিশেষ আদব রক্ষা করা, অর্থাৎ তার উপর আরোহণ বা বোঝা বহন না করা; পানাহারের ক্ষেত্রে তাঁর হুকুম অনুসরণ করা, অর্থাৎ যেগুলোর আদেশ করেছেন সেগুলো করা এবং যেগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন সেগুলো থেকে বিরত থাকা; দুনিয়াতে যত কল্যাণ-অকল্যাণ আছে, যেমন- সুস্থতা-অসুস্থতা, প্রাচুর্য ও দুর্ভিক্ষ, জয়-পরাজয়, উন্নতি-অবনতি, আনন্দ-বেদনা- এ সবকিছুকে তাঁরই এখতিয়ারভুক্ত মনে করা।

নিজের কোনও ইচ্ছা প্রকাশ করতে হলে প্রথমে তাঁর ইচ্ছার কথা উল্লেখ করা, যেমন- ইনশাআল্লাহ বা আল্লাহ চাইলে আমরা অমুক কাজটি করব; তাঁর নাম এমন ভক্তি-শ্রদ্ধার সাথে নেওয়া, যেন তা থেকে তাঁর প্রভুত্ব ও নিজের গোলামীর অবস্থা প্রকাশ পায়, যেমন এভাবে বলা যে- আমাদের রব, আমাদের মালিক, আমাদের সৃষ্টিকর্তা; যখন কথাবার্তায় কসম খাওয়ার প্রয়োজন হবে তখন তাঁরই নামে কসম খাওয়া ইত্যাদি। এসব জিনিস আল্লাহ তাআলা স্বীয় তাযীমের জন্য বাতলিয়েছেন।

সুতরাং কেউ যদি কোনও নবী-ওলী, ইমাম-শহীদ বা ভূত-পরীদের প্রতি এরূপ সম্মান প্রদর্শন করে, যেমন- কঠিন কাজে তাদের নামে মানত করে; বিপদাপদে তাদেরকে ডাকে; বিসমিল্লাহর জায়গায় তাদের নামে কাজ শুরু করে; সন্তান হলে তাদের নামে প্রাণী উৎসর্গ করে; সন্তানের নাম 'আবদুন নবী', 'ইমামবখশ' বা 'পীরবখশ' রাখে; ফসল ও বাগানে তাদের নামে অংশ বরাদ্দ দেয়; ফল-ফসল ঘরে আসলে প্রথমে তাদের নামে উৎসর্গ করে অতঃপর নিজেরা ব্যবহার করে; সম্পদ ও পশু-পাল থেকে কিছু তাদের নামে বরাদ্দ করে সেগুলোর সাথে বিশেষ আদব রক্ষা করে, যেমন- দানা-পানি থেকে কখনো বারণ করে না এবং লাকড়ি বা পাথর দ্বারা কখনো আঘাত করে না।

অনুরূপভাবে পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রসম-রেওয়াজকে আঁকড়ে থাকে, যেমন- অমুক খাবার বা পোশাক অমুক শ্রেণির লোকদের জন্য নিষিদ্ধ; বীবী ফাতেমার নামে²⁶ পাকানো খাবার—পুরুষ, দাসী ও দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ নারীদের জন্য নিষিদ্ধ; শাহ আবদুল হকের²⁷ নামে পাকানো খাবার—হুক্কাখোরদের জন্য নিষিদ্ধ প্রভৃতি। দুনিয়াতে যে ভালো-মন্দ ঘটে সেগুলোকে এসব পীর-মাশায়েখদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং বলে থাকে, অমুকের উপর অমুক পীর সাহেবের অভিশাপ লেগেছে বিধায় পাগল হয়ে গেছে, কিংবা অমুক বুযুর্গ তাড়িয়ে দেওয়ার কারণে অমুক ব্যক্তি গরিব হয়ে গেছে আর অমুককে দান করার ফলে তার উন্নতি-অগ্রগতির রাস্তা খুলে গেছে; অমুক তারকার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে; অমুক কাজটি অমুক দিন বা অমুক মুহূর্তে শুরু করার কারণে পূর্ণ হলো না।

আরও বলে থাকে- আল্লাহ ও তাঁর রাসূল চাইলে আমি আসব, পীর সাহেব চাইলে কাজটি হয়ে যাবে অথবা পীর-মাশায়েখদের ব্যাপারে বলে- 'হে মাবুদ', 'দাতা', 'খোদাদের খোদা', 'রাজত্বের অধিকারী', 'শাহেনশাহ'!; কসম খাওয়ার সময় নবী, আলী রাযি., ইমাম, পীর বা তাদের কবরের কসম খায় ইত্যাদি। এই সকল জিনিস দ্বারা শিরক সাব্যস্ত হয়। এটাকে শিরক ফিল ‘আদাত বা অভ্যাসগত শিরক বলে। অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসগত কাজ-কর্মে আল্লাহ তাআলার প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করার কথা, অনুরূপ সম্মান অন্যের জন্য করা।

টিকাঃ
২৫. এখানে গ্রন্থকার তাওহীদ ও সহীহ আকীদা থেকে উৎসারিত কিছু হিন্দুস্তানী নাম উল্লেখ করেছেন, যেমন- 'খোদাবখশ' ও 'আল্লাহ্ দিয়া' মানে আল্লাহপ্রদত্ত বা আল্লাহর দান (আরবীতে হেবাতুল্লাহ বা আতাউল্লাহ), কন্যা হলে 'আল্লাহ্দী' মানে আল্লাহপ্রদত্ত (আরবীতে আতিয়্যাতুল্লাহ)। পাঠকদের সুবিধার্থে আমরা নামগুলোকে আরবীতে রূপান্তরিত করে দিয়েছি। -নদভী
২৬. এটা এক ধরনের খাবার যা হিন্দুস্তানে হযরত ফাতেমা রাযি.-এর নামে পাকানো হয়। এই খাবার কেবল নারীদের জন্য। পুরুষরা এটা খেতে পারে না এবং এর কাছেও যেতে পারে না। -নদভী
২৭. এ দ্বারা উদ্দেশ্য- হিন্দুস্তানের চিশতিয়্যাহ তরীকার ইমাম ও বড় শাইখ হযরত আবদুল হক রুদুলভী রহ.। তিনি উধের অন্তর্গত রুদুলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাওহীদের হেফাজত, শরীয়তের প্রতি শ্রদ্ধা, ফরয ও সুন্নতের পাবন্দী, মানুষকে আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াত এবং (আল্লাহর ধ্যানে) একাকিত্ব অবলম্বনের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান ছিল অনেক উঁচু। তিনি ৮৩৬ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন। (তাঁর জীবনীর জন্য দ্রষ্টব্য- নুযহাতুন খাওয়াতির, ৩/২২৯- অনুবাদক) হিন্দুস্তানের মূর্খ ও সীমালঙ্ঘনকারীরা তাঁর নামে এক বিশেষ খাবার আবিষ্কার করেছে, যার নাম দিয়েছে 'শাহ আবদুল হকের তোশা বা পাথেয়'। এটা ময়দা ও চিনি দিয়ে বানানো হয়। এর বেশকিছু আদব ও নিয়মনীতি আছে, যেগুলো অত্যন্ত কঠোরতার সাথে রক্ষা করা হয়। -নদভী

ফন্ট সাইজ
15px
17px