📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 জাহিলী লোকদের শিরক ও গোমরাহীর স্বরূপ

📄 জাহিলী লোকদের শিরক ও গোমরাহীর স্বরূপ


আল্লাহ তাআলা সূরা তাওবাতে ইরশাদ করেন- اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهَا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحْنَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
'তারা আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের আহবার (অর্থাৎ ইহুদী ধর্মগুরু) এবং রাহিব (খ্রিষ্টান বৈরাগী)-কে খোদা বানিয়ে নিয়েছে এবং মাসীহ ইবনে মারয়ামকেও। অথচ তাদেরকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করার হুকুম দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যতীত কোনও মাবুদ নেই। তাদের অংশীবাদীসুলভ কথাবার্তা হতে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র'।²⁰

অর্থাৎ তারা আল্লাহকে বড় মালিক মনে করে। আর মৌলভী-দরবেশদেরকে তাঁর চেয়ে ছোট মালিক মনে করে, অথচ এর নির্দেশ ও অনুমতি তাদের দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমে তাদের উপর শিরক সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি তো অদ্বিতীয়, কেউ তাঁর অংশীদার হতে পারে না, না ছোট আর না সমকক্ষ! বরং ছোট-বড় সকলেই তাঁর অক্ষম বান্দা, অক্ষমতায় তারা সবাই বরাবর।

আল্লাহ তাআলা সূরা মারয়ামে বলেন- إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا لَقَدْ أَحْصُهُمْ وَعَدَّهُمْ عَذَا وَكُلُّهُمْ آتِيْهِ يَوْمَ الْقِيمَةِ فَرْدًا
'আসমানে ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের দরবারে বান্দারূপে উপস্থিত হবে না। নিশ্চয়ই তিনি সকলকে বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদেরকে ভালোভাবে গুণে রেখেছেন। কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকে তাঁর কাছে একাকী উপস্থিত হবে'।²¹

অর্থাৎ কোনও মানুষ বা ফেরেশতার স্তর (মর্যাদা) গোলামীর চেয়ে বেশি কিছু না, সকলে আল্লাহর সামনে অক্ষম; কোনও ক্ষমতা নেই। প্রত্যেকের উপর আল্লাহ তাআলাই কর্তৃত্ব করেন। একজনকে আরেকজনের কর্তৃত্বে অর্পণ করেন না। প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে একাকী তাঁর সামনে উপস্থিত হবে। কেউ কারও উকিল বা সাহায্যকারী হবে না।

পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে অসংখ্য আয়াত রয়েছে। কেউ যদি উপরে উল্লিখিত আয়াতগুলোর অর্থও ভালোভাবে আত্মস্থ করে নেয়, তবে সেটাও তাওহীদ ও শিরকের ব্যাপারে হুঁশিয়ার হবার জন্যে যথেষ্ট।

এখন দেখতে হবে, আল্লাহ তাআলা কোন কোন জিনিসকে নিজের সাথে খাস করেছেন, যেগুলোতে অন্য কাউকে শরীক করা যাবে না?

সেগুলো আসলে অনেক। তবে কয়েকটি বিষয় সবিশেষ উল্লেখ করে কুরআন-হাদীস থেকে তা প্রমাণ করে দেওয়া জরুরি মনে করছি। আর অবশিষ্টগুলো মানুষ তা থেকেই বুঝে নেবে।

টিকাঃ
২০. সূরা তাওবা, ৩১
২১. সূরা মারয়াম, ৯৩-৯৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px