📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 শিরকের বিভিন্ন রূপ ও ধরন

📄 শিরকের বিভিন্ন রূপ ও ধরন


অধিকাংশ লোক বিপদাপদের সময় পীর, নবী-রাসূল, ইমাম¹², শহীদ, ফেরেশতা ও জীন-পরিদের ডাকে এবং তাদের কাছে নিজেদের প্রয়োজন পুরণের আবদার জানায়। তাদের জন্য মান্নত মানে এবং প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে তাদের নামে নযর-মান্নত পেশ করে। বালা-মুসিবত দূর করার জন্যে নিজের সন্তানদেরকে তাদের দিকে সম্বন্ধ করে থাকে।

সুতরাং কেউ নিজের ছেলের নাম রাখে 'আব্দুন নবী', কেউ রাখে 'আলী বখশ', কেউ 'হুসাইন বখশ', কেউ 'পীর বখশ', কেউ 'মুদার বখশ'¹³, কেউ 'সালার বখশ'¹⁴, কেউ 'গোলামে মুহিউদ্দীন', আবার কেউ 'গোলামে মুঈনুদ্দীন'¹⁵ নাম রাখে।

টিকাঃ
১২. উদ্দেশ্য আহলে বাইত ইমামগণ, যাদের ব্যাপারে শিয়ারা অনেক বাড়াবাড়ি করেছে এবং তাদেরকে মর্যাদা ও পবিত্রতার চন্দ্র-বলয় দ্বারা পরিবেষ্টন করে দিয়েছে। তাদের ব্যাপারে মাসূম ও আলিমুল গাইব হওয়ার বিশ্বাস রাখে। ইমাম হওয়ার তারা এমন ব্যাখ্যা করে যা ইমামদেরকে নবুওয়াতের অংশীদার বানিয়ে দেয়। বরং অনেক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাদেরকে নবীদের প্রতিদ্বন্দ্বীও সাব্যস্ত করে! হিন্দুস্তানে শিয়া শাসকবর্গের প্রভাবে এবং শিয়াদের সাথে মেলামেশা ও ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার দরুন সুন্নীরাও অনেক শিয়া আকীদায় আক্রান্ত হয়েছে। -নদভী
১৩. উদ্দেশ্য হলো, প্রসিদ্ধ বুযুর্গ বদীউদ্দীন মুদার হালাবী মাকিনপুরী রহ., যিনি হিন্দুস্তানের প্রসিদ্ধ আল্লাহওয়ালাদের একজন। লোকেরা তার প্রতি সম্বন্ধ করে এমন সব আজগুবি কিচ্ছা-কাহিনী বলে থাকে যেগুলো আকল ও নকল (কুরআন-হাদীস), উভয় দৃষ্টিতেই আপত্তিকর। হিন্দুস্তানের অনেক এলাকায় জনসাধারণের মাঝে প্রচলিত ক্যালেন্ডারের একটি মাসের নাম তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে 'মুদার' রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তার নাম প্রবাদে পরিণত হয়েছে। তিনিই মুদারিয়‍্যাহ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা, যা শেষের দিকে এসে বিচ্যুতির শিকার হয়েছে এবং তাতে অনেক কুসংস্কার ও বাহলুওয়ানী সাধনা যুক্ত হয়েছে। তিনি ১০ জুমাদাল উলা ৮৩৩ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন। -নদভী (তার জীবনীর জন্য দ্রষ্টব্য: নুযহাতুল খাওয়াতির, ৩/২৩৮। -অনুবাদক)
১৪. উদ্দেশ্য হলো হিন্দুস্তানের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব সাইয়্যেদ সালার মাসউদ গাজী। তাকে কেন্দ্র করে অনেক কিচ্ছা-কাহিনী রচিত হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার ব্যক্তিসত্তার উপর পর্যাপ্ত আলোকপাত করা হয়নি। বিশ্ব পর্যটক ইবনে বাতুতা তার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি তার অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা জয় করেছেন। তার ব্যাপারে অনেক আজগুবি ঘটনা এবং যুদ্ধের কাহিনী প্রসিদ্ধ আছে। তিনি ৫৮৮ হিজরীতে শহীদ হন এবং হিন্দুস্তানের উত্তর প্রদেশের বাহরায়েচ শহরে তাকে দাফন করা হয়। নুযহাতুল খাওয়াতিরে লিখেছেন- হিন্দুস্তানী শাসকবর্গ তার কবরের উপর শানদার ইমারাত নির্মাণ করেছেন এবং লোকজন অনেক দূর-দূরান্ত থেকে তার কবর যিয়ারত করতে আসে। আগন্তুকরা মনে করে- তিনি অবিবাহিত যুবক ছিলেন, তাই তারা প্রতি বছর তাকে বিয়ে দেয় এবং বিয়ে উপলক্ষ্যে বিরাট আয়োজন করে থাকে। তার জন্য অনেক পতাকা মান্নত করে, যেগুলো তার মাজারে লাগানো হয়। -নদভী (দেখুন: নুযহাতুল খাওয়াতির, ১/৮০। -অনুবাদক)
১৫. বখশ মানে দান। অর্থাৎ অমুক ব্যক্তি অমুকের দান। আলী দ্বারা উদ্দেশ্য হযরত আলী ইবনে আবী তালেব রাযি.। হুসাইন দ্বারা উদ্দেশ্য হযরত হুসাইন ইবনে আলী রাযি.। মুদার এবং সালার হলো হিন্দুস্তানী দুজন প্রসিদ্ধ বুযুর্গের নাম। গোলাম মানে বান্দা। মুহিউদ্দীন হলেন প্রসিদ্ধ ইমাম শাইখ আব্দুল কাদের জীলানী। মুঈনুদ্দীন হলেন খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী আজমীরী, যিনি হিন্দুস্তানে চিশতিয়্যাহ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা। এই উপমহাদেশে ইসালামের প্রচার-প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ৬ রজব ৬২৭ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে উল্লিখিত নামগুলো গলদ এবং এগুলো আউলিয়াদের ব্যাপারে 'কাদের' (সর্বক্ষম) ও দাতা হওয়ার বিশ্বাস থেকে উৎসারিত। -নদভী

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 অজ্ঞ মুসলিম সমাজ কর্তৃক পূর্ববর্তী মুশরিকদের অন্ধ অনুকরণ

📄 অজ্ঞ মুসলিম সমাজ কর্তৃক পূর্ববর্তী মুশরিকদের অন্ধ অনুকরণ


সন্তানদের জীবন বিপদমুক্ত রাখতে কেউ কেউ কোনও ওলীর নামে মাথায় ঝুঁটি (টিকি) রাখে। কেউ পীরের নামে সন্তানের গলায় মালা বা কাপড় পরায়। কেউ কেউ আবার পীর-মাশায়েখের নামে পায়ে বেড়ি পরায়। কতক লোক তাঁদের নামে প্রাণী জবাই করে এবং বিপদাপদে তাঁদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। আর কেউ কেউ কথাবার্তায় তাঁদের নামে কসম খায়।

মোটকথা হিন্দুরা তাদের প্রতিমার সাথে যা যা করে, এসব নামধারী মুসলমানরা তার সবকিছুই নবী-ওলী, ইমাম-শহীদ, ফেরেশতা এবং জিন-পরিদের সাথে করে থাকে। আর দাবি করে তারা মুসলমান! কোথায় দাবি আর কোথায় বাস্তবতা! আল্লাহ তাআলা সূরা ইউসুফে সত্যই বলেছেন-
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُّشْرِكُونَ
'তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই এমন যে, তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখলেও তা এভাবে যে, তাঁর সঙ্গে শরীক করে'।¹⁶

অর্থাৎ ঈমানের দাবিদার অধিকাংশ লোকই শিরকে লিপ্ত। এখন যদি কেউ তাদেরকে বলে, একদিকে তোমরা ঈমানের দাবি কর, অপরদিকে শিরকি কাজেও লিপ্ত হও- তো বিপরীতমুখী দুটি জিনিস কীভাবে একত্র হবে?

তখন তারা উত্তর দেয়, আমরা তো কোনও শিরক করি না! আমরা তো কেবল নবী-ওলীদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রকাশ করি। শিরক তো তখনই হবে, যখন আমরা এসকল নবী-ওলী ও পীর-শহীদদেরকে আল্লাহর বরাবর মনে করব, অথচ আমরা তো এমনকিছু মনে করি না! বরং আমরাও তাদেরকে আল্লাহর বান্দা ও মাখলুক মনে করি। এই স্বাধীন কর্মক্ষমতা আল্লাহ তাআলাই তাদেরকে দান করেছেন! তাঁর ইচ্ছায়ই তারা দুনিয়াতে বিভিন্ন কর্ম সম্পাদন করে থাকে। তাদেরকে ডাকা ও তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা খোদ আল্লাহ তাআলাকে ডাকা ও তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনারই নামান্তর!

তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, আল্লাহর নিকট তাদের একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে। ফলে তারা যা চান করতে পারেন! তারা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী ও উকিল। তাদেরকে পেলে আল্লাহকে পাওয়া যায়। তাদেরকে ডাকলে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়। আমরা যতই তাদের মারেফত (পরিচয়) লাভ করি ততই আমরা আল্লাহর নৈকট্যশীল হই! এজাতীয় আরো অনেক প্রলাপোক্তি করতে থাকে।

এসবের কারণ হলো, কুরআন-হাদীস বাদ দিয়ে নিজের মস্তিষ্ককে অনধিকার চর্চার সুযোগ দিয়েছে, মিথ্যা কিচ্ছা-কাহিনীর পিছনে ছুটেছে এবং বিভিন্ন গলদ প্রথাকে দলীল বানিয়েছে।

যদি তারা কুরআন-হাদীস অন্বেষণ করত তাহলে বুঝতে পারত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে কাফেররা একই ধরনের যুক্তি পেশ করত! কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের এসব যুক্তির একটিও গ্রহণ করেননি বরং তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করেছেন।

সূরা ইউনুসে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَ يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُوْلُوْনَ هَؤُلَاءِ শুফَعَاؤُنَا عِنْدَ اللهِ قُلْ اَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمُوتِ وَ لَا فِي الْأَرْضِ سُبْحْنَهُ وَتَعَلَى عَمَّا يُشْرِكُونَ
'তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদত করে, যারা তাদের কোনও ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের কোন উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। (হে নবী! তাদেরকে) বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করছ, যার কোনও অস্তিত্ব তাঁর জ্ঞানে নেই, না আসমানে এবং না পৃথিবীতে? বস্তুত তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে'।¹⁷

অর্থাৎ মানুষ যাদেরকে ডাকে আল্লাহ তাআলা তাদের কোনও ক্ষমতাই দেননি, না উপকার করার আর না ক্ষতি করার। আর লোকেরা যে বলে, তারা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী- তো এ ক্ষেত্রে কথা হলো আল্লাহ তাআলা তো এমন কিছু বলেননি; তাহলে কি তোমরা আল্লাহ তাআলার চেয়েও বেশি জান এবং তিনি যা জানেন না তা তাঁকে জানাতে এসেছ?!

এ আয়াত থেকে বোঝা গেল, আসমান-জমিনে এমন কোনও সুপারিশকারী নেই যাকে মানলে বা না-মানলে কোনও উপকার বা ক্ষতি হবে। আর নবী-ওলীদের যে সুপারিশের কথা আছে, সেটাও আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন। তাদেরকে ডাকা বা না-ডাকার সাথে এর কোনও সম্পর্ক নেই। সাথে এটাও জানা গেল যে, কাউকে সুপারিশকারী মনে করে ইবাদত করলেও মুশরিক হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা সূরা যুমারে ইরশাদ করেন- وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِةٍ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُوْনَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيْهِ يَخْتَلِفُونَ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَذِبٌ كَفَّارُ
'যারা তাঁকে ছাড়া অন্যসব অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে (এই কথা বলে যে,) আমরা তাদের উপাসনা করি কেবল এজন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে, আল্লাহ তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন যার মাঝে তারা মতবিরোধ করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কোনও ব্যক্তিকে পথে আনেন না, যে চরম মিথ্যুক, ঘোর কাফের'।¹⁸

অর্থাৎ বাস্তবতা ছিল এই যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী। কিন্তু তারা এ বাস্তবতা ত্যাগ করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে এবং অন্যদের সহযোগী সাব্যস্ত করেছে। এটা তো আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত ছিল যে, তিনি নিজ অনুগ্রহে কোনও মাধ্যম ছাড়াই প্রকাশ করেছেন, অথচ তারা নবী-ওলীদের সাথে এরূপ আচরণ করত; মূর্তিপূজা করত না!

টিকাঃ
১৬. সূরা ইউসুফ, ১০৬
১৭. সূরা ইউনুস, ১৮
১৮. সূরা যুমার, ৩

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 জাহিলী লোকদের শিরক ও গোমরাহীর স্বরূপ

📄 জাহিলী লোকদের শিরক ও গোমরাহীর স্বরূপ


আল্লাহ তাআলা সূরা তাওবাতে ইরশাদ করেন- اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهَا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحْنَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
'তারা আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের আহবার (অর্থাৎ ইহুদী ধর্মগুরু) এবং রাহিব (খ্রিষ্টান বৈরাগী)-কে খোদা বানিয়ে নিয়েছে এবং মাসীহ ইবনে মারয়ামকেও। অথচ তাদেরকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করার হুকুম দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যতীত কোনও মাবুদ নেই। তাদের অংশীবাদীসুলভ কথাবার্তা হতে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র'।²⁰

অর্থাৎ তারা আল্লাহকে বড় মালিক মনে করে। আর মৌলভী-দরবেশদেরকে তাঁর চেয়ে ছোট মালিক মনে করে, অথচ এর নির্দেশ ও অনুমতি তাদের দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমে তাদের উপর শিরক সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি তো অদ্বিতীয়, কেউ তাঁর অংশীদার হতে পারে না, না ছোট আর না সমকক্ষ! বরং ছোট-বড় সকলেই তাঁর অক্ষম বান্দা, অক্ষমতায় তারা সবাই বরাবর।

আল্লাহ তাআলা সূরা মারয়ামে বলেন- إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا لَقَدْ أَحْصُهُمْ وَعَدَّهُمْ عَذَا وَكُلُّهُمْ آتِيْهِ يَوْمَ الْقِيمَةِ فَرْدًا
'আসমানে ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের দরবারে বান্দারূপে উপস্থিত হবে না। নিশ্চয়ই তিনি সকলকে বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদেরকে ভালোভাবে গুণে রেখেছেন। কিয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকে তাঁর কাছে একাকী উপস্থিত হবে'।²¹

অর্থাৎ কোনও মানুষ বা ফেরেশতার স্তর (মর্যাদা) গোলামীর চেয়ে বেশি কিছু না, সকলে আল্লাহর সামনে অক্ষম; কোনও ক্ষমতা নেই। প্রত্যেকের উপর আল্লাহ তাআলাই কর্তৃত্ব করেন। একজনকে আরেকজনের কর্তৃত্বে অর্পণ করেন না। প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে একাকী তাঁর সামনে উপস্থিত হবে। কেউ কারও উকিল বা সাহায্যকারী হবে না।

পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে অসংখ্য আয়াত রয়েছে। কেউ যদি উপরে উল্লিখিত আয়াতগুলোর অর্থও ভালোভাবে আত্মস্থ করে নেয়, তবে সেটাও তাওহীদ ও শিরকের ব্যাপারে হুঁশিয়ার হবার জন্যে যথেষ্ট।

এখন দেখতে হবে, আল্লাহ তাআলা কোন কোন জিনিসকে নিজের সাথে খাস করেছেন, যেগুলোতে অন্য কাউকে শরীক করা যাবে না?

সেগুলো আসলে অনেক। তবে কয়েকটি বিষয় সবিশেষ উল্লেখ করে কুরআন-হাদীস থেকে তা প্রমাণ করে দেওয়া জরুরি মনে করছি। আর অবশিষ্টগুলো মানুষ তা থেকেই বুঝে নেবে।

টিকাঃ
২০. সূরা তাওবা, ৩১
২১. সূরা মারয়াম, ৯৩-৯৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px