📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ইবাদতের মূল ভিত্তিই সহীহ ঈমান ও আকীদা

📄 ইবাদতের মূল ভিত্তিই সহীহ ঈমান ও আকীদা


সকল মানুষ আল্লাহর বান্দা ও গোলাম। বান্দার কাজ বন্দেগী করা। যে বান্দা বন্দেগী করে না সে বান্দা নয়। আর আসল বন্দেগী হলো ঈমান সহীহ করা। কেননা যার ঈমানে ভেজাল থাকে তার কোন বন্দেগী কবুল হয় না। পক্ষান্তরে যার ঈমান সরল ও নির্ভেজাল তার সামান্য বন্দেগীও অনেক। অতএব প্রতিটি মানুষের উচিত, ঈমান সহীহ করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা এবং সর্বাগ্রে তা অর্জন করা।

এ যুগে মানুষ দ্বীনি বিষয়ে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে চলছে। কেউ পূর্ববর্তীদের রসম-রেওয়াজকে আঁকড়ে আছে। কেউ বুযুর্গদের কিচ্ছা-কাহিনীর পিছনে পড়ে আছে। আবার কেউ নামধারী মৌলভীদের মনগড়া কথাবার্তাকে নিজেদের জন্য দলীল হিসেবে গ্রহণ করছে। একদল আবার এমনও আছে, যারা নিজেদের আকলের পিছনে ছুটেছে।⁸

অথচ সর্বোত্তম পন্থা হলো, মানুষ কুরআন-হাদীসকে মূল জ্ঞান করবে এবং নিজের পথ প্রদর্শকরূপে গ্রহণ করবে। অতঃপর বুযুর্গদের যেসব ঘটনা বা মৌলভীদের⁹ যেসব কথাবার্তা কুরআন-হাদীসের সাথে মিলবে সেগুলো গ্রহণ করবে আর যেগুলো কুরআন-হাদীসের বিপরীত হবে সেগুলো অনুযায়ী পরিচালিত হবে না বরং সম্পূর্ণরূপে তা পরিত্যাগ করবে।

টিকাঃ
৮. অথচ আকায়েদ ও শরঈ হুকুম-আহকাম কেবল আকল বা যুক্তির উপর কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ ক্ষেত্রে কেবল মেধা ও মস্তিষ্কের জোর কোন উপকারে আসে না। বরং এগুলোর একমাত্র উৎস হলো ওহী-ইলহাম এবং নবী- রাসূলদের শিক্ষা। -নদভী
৯. এখানে উদ্দেশ্য হলো বেদআতপন্থী এবং গ্রাম-গঞ্জের স্বল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত মৌলভীরা। কারণ বিজ্ঞ আলেমগণ তো কুরআন-হাদীস অনুযায়ীই বলবেন।

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 কুরআন থেকে বিরত রাখতে শয়তানি প্ররোচনা

📄 কুরআন থেকে বিরত রাখতে শয়তানি প্ররোচনা


বর্তমানে জনসাধারণের মাঝে একটি কথা খুব প্রচলিত আছে যে, কুরআন-হাদীসের কথা বোঝা অনেক কঠিন। এগুলো বুঝতে হলে অনেক ইলমের প্রয়োজন। আমাদের এই সামর্থ্য কোথায় যে, আমরা কুরআন-হাদীসের কথা বুঝতে সক্ষম হব? আর কুরআন-হাদীস অনুযায়ী চলা তো বুযুর্গদের কাজ! আমাদের এই সামর্থ্য নেই যে, কুরআন-হাদীস অনুযায়ী চলব! অতএব আমাদের জন্য এসব প্রচলিত (কিচ্ছা ও মৌলভীদের) কথাবার্তাই যথেষ্ট!!

জনসাধারণের এই কথাটি একেবারেই গলদ (ভুল)। এ জন্য আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, কুরআনের কথা খুবই স্পষ্ট, এটা বোঝা কঠিন নয়। সূরা বাকারায় ইরশাদ হয়েছে- وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ أَيْتٍ بَيِّنَتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفُسِقُونَ 'নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আর সেগুলোকে অস্বীকার করে কেবল অবাধ্যরাই'।¹⁰

অর্থাৎ কুরআনের কথা বোঝা কঠিন কিছু নয়। বরং এর উপর চলা নফসের জন্য কঠিন। এ কারণে যে, কারও আনুগত্য করতে নফসের কাছে খারাপ লাগে। এ জন্য যেসব লোক অবাধ্য তারাই এর সহজ হওয়াকে অস্বীকার করে।

আর কুরআন-হাদীসের কথা বুঝতে অনেক ইলমের প্রয়োজন হয় না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো অজ্ঞদের পথ প্রদর্শন, মূর্খদের বোঝানো এবং ইলম-বঞ্চিতদেরকে ইলম শেখানোর জন্যই আগমন করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা সূরা জুমুআয় ইরশাদ করেন- هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَلٍ مُّবِينٍ 'তিনি (আল্লাহ)-ই উম্মিদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল করে পঠিয়েছেন, যে তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হেকমতের শিক্ষা দেবে, যদিও তারা এর আগে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিপতিত ছিল'।¹¹

সুতরাং এটা আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নেয়ামত যে, তিনি এমন রাসূল পঠিয়েছেন যিনি উদাসীনদের সচেতন করেছেন, নাপাকদের পাক করেছেন, মূর্খদের ইলম শিখিয়েছেন, নির্বোধদের বোধোদয় ঘটিয়েছেন আর পথহারাদের দিয়েছেন সরল পথের দিশা।

অতএব এই আয়াত শোনার পরেও যে বলবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা আলেমগণ ছাড়া আর কেউ বুঝতে সক্ষম নয় এবং বুযুর্গরা ছাড়া আর কেউ তাঁর পথে চলার সামর্থ্য রাখে না, সে মূলত এই আয়াতকেই অস্বীকার করল এবং এই নেয়ামতের নাশোকরী করল। বরং বাস্তবতা হলো মূর্খরা তাঁর কথা আত্মস্থ করে আলেম হয়ে যায় এবং পথহারা লোক তাঁর পথে চলে বুযুর্গ বনে যায়।

টিকাঃ
১০. সূরা বাকারা, ৯৯
১১. সূরা জুমুআ, ২

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 অসুস্থ ব্যক্তিই ডাক্তারের বেশি মুখাপেক্ষী

📄 অসুস্থ ব্যক্তিই ডাক্তারের বেশি মুখাপেক্ষী


তাদের এই কথার দৃষ্টান্ত হলো, একজন বড় ডাক্তার আর একজন খুব অসুস্থ রোগী। রোগীকে কেউ পরামর্শ দিল, ঐ ডাক্তারের কাছে যাও এবং নিজের চিকিৎসা করাও। রোগী উত্তরে বলল, তাঁর মত বড় ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করানো তো অত্যন্ত সুস্থ-সবল লোকদের কাজ, আমার মত ভীষণ অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে এটা কীভাবে সম্ভব?

এই রোগী মূলত আহমক এবং ঐ ডাক্তারের ডাক্তারি যোগ্যতাকে অস্বীকারকারী। কারণ ডাক্তারের কাজই তো অসুস্থদের চিকিৎসা করা। আর যে ব্যক্তি কেবল সুস্থদের চিকিৎসা করে এবং তার ঔষধে কেবল সুস্থদেরই ফায়দা হয়, অসুস্থদের কোন ফায়দা হয় না—সে আবার কিসের ডাক্তার?

মোটকথা, যে বেশি মূর্খ, কুরআন-হাদীসের কথা বোঝার জন্য তার বেশি আগ্রহ থাকা উচিত। আর যে বেশি গুনাহগার, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথে চলার ক্ষেত্রে তার আরো বেশি সচেষ্ট হওয়া উচিত।

সুতরাং আম-খাস নির্বিশেষে সকলেরই কর্তব্য কুরআন-হাদীস অন্বেষণ করা, তা বোঝার চেষ্টা করা, তার উপর পরিচালিত হওয়া এবং সে অনুযায়ী নিজের ঈমানকে সহীহ করা।

📘 তাকবিয়াতুল ঈমান তাওহীদের পয়গাম 📄 ঈমানের দুটি অংশ

📄 ঈমানের দুটি অংশ


ঈমানের দুটি অংশ। আল্লাহকে আল্লাহ হিসেবে মেনে নেওয়া এবং রাসূলকে রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

আল্লাহকে আল্লাহ হিসেবে মেনে নেওয়া হয় এভাবে যে, কাউকে তাঁর শরীক মনে করবে না। আর রাসূলকে রাসূল হিসেবে স্বীকার করা হয় এভাবে যে, তিনি ছাড়া আর কারও পথ অনুসরণ করবে না।

প্রথমটিকে তাওহীদ বলে এবং এর বিপরীতটিকে শিরক বলে। আর দ্বিতীয়টিকে ইত্তিবায়ে সুন্নাত বা সুন্নাতের অনুসরণ বলে এবং এর বিপরীতকে বিদআত বলে।

সুতরাং প্রত্যেকের কর্তব্য হলো, তাওহীদ ও ইত্তিবায়ে সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা এবং শিরক ও বিদআত থেকে সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকা। শিরক ও বিদআত—এদুটি জিনিস ঈমানকে ত্রুটিযুক্ত করে আর অন্য সকল গুনাহ আমলকে ত্রুটিযুক্ত করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px