📄 দ্বিতীয় পাঠ : হাদীস শিক্ষার্থীর আদাব বা গুণাবলী
১. ভূমিকা: হাদীস অন্বেষণকারী বা শিক্ষার্থীর গুণাবলী দ্বারা এখানে ঐসব সুমহান গুণাবলী ও উন্নত নৈতিক চরিত্রকে বুঝানো হয়েছে, যা এ ইলমের মর্যাদার কারণেই একজন তালিবুল হাদীস (হাদীস অন্বেষণকারী)-এর মধ্যে বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। কেননা তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হাদীস অন্বেষণকারী। এসব আদাব বা গুণাবলীর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা ছাত্র-শিক্ষক উভয়ের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আর কিছু শুধু ছাত্রের জন্য প্রযোজ্য।
২. উভয়ের জন্য প্রযোজ্য আদবসমূহ (ক) বিশুদ্ধ ও খালিস নিয়তে হাদীস অন্বেষণ বা শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। (খ) তাঁর লক্ষ্য উদ্দেশ্য দুনিয়া অন্বেষণ তথা পার্থিব লোভ-লালসা থেকে মুক্ত হতে হবে। ইমাম আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ্ (র) আবু হুরাইরা (রা) থেকে একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, "যে ব্যক্তি পার্থিব উদ্দেশ্যে ঐ ইল্ম শিক্ষা করে যা দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা যায় সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন জান্নাতের গন্ধ পর্যন্ত পাবে না।" (গ) তিনি হাদীস থেকে যা কিছু শুনবেন, সে অনুযায়ী আমল করবেন।
৩. শুধু ছাত্রের জন্য প্রযোজ্য আদবসমূহ (ক) হাদীস বুঝা ও তা সংরক্ষণের জন্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওফীক কামনা করতে হবে। আর তা সহজ সরল করে দেখার জন্যও তার সাহায্য ও করুণা প্রার্থনা করতে হবে। (খ) হাদীস অধ্যয়নের কাজে তিনি পরিপূর্ণভাবে নিজকে নিয়োজিত রাখবেন এবং তা অর্জনের জন্য যাবতীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। (গ) তাঁকে তাঁর শহরের এমন উস্তাদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ শুরু করতে হবে যিনি ইলমুস সনদ বিষয়ে ও দীনদার হিসেবে সবার শ্রেষ্ঠ। (ঙ) ইলমের মর্যাদা ও এর মাহাত্ম্যের কারণে তাঁর শিক্ষক ও সতীর্থদের তা'যীম ও সম্মান করতে হবে। তাঁর উস্তাদের সন্তুষ্টির প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। আর তাঁর শিক্ষকের পক্ষ থেকে কোন দুঃখ-কষ্ট আরোপিত হলে তাও দ্বিধাহীনচিত্তে বরদাশত করতে হবে। (চ) তাঁর ভাই ও সাথীদের ঐ পথের সন্ধান দিতে হবে যে পথ অবলম্বনে তিনি উপকৃত হয়েছেন, সফলতা অর্জন করেছেন। তাঁদের কাছে কোন কিছু গোপন করা ঠিক নয়। কেননা ইলমের উপকারিতা ছাত্রদের কাছে গোপন রাখা একটা নিন্দনীয় কাজ। এতে ছাত্রদের মধ্যে অজ্ঞানতা সৃষ্টি হয়, এটা সঠিক নয়, কেননা ইলম অন্বেষণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তা প্রচার ও বিস্তার করা। (ছ) বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ার কারণে তার চেয়ে কম বয়সী অথবা কম মর্যাদাসম্পন্ন উস্তাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন কিংবা গ্রহণের ব্যাপারে লজ্জা করা অনুচিত। (জ) হাদীস শুধু শুনা অথবা লেখাই যথেষ্ট নয়। বরং এর অন্তর্নিহিত ভাব এবং তাৎপর্য অনুধাবন করাও কর্তব্য। এটা তার নিকট কষ্টসাধ্য মনে হলেও তা করা দরকার। কেননা পরিশ্রম ছাড়া সফলতা অর্জন সম্ভম নয়। (ঝ) হাদীস শ্রবণ, সংরক্ষণ ও বুঝার ক্ষেত্রে সহীহ বুখারী ও মুসলিমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সুনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ অধ্যয়ন করা উচিত। অতঃপর বাইহাকীর সুনানে কুবরা, এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী মুসনাদ, ও জামি গ্রন্থ সমূহের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। যেমন, মুসনাদে আহমাদ এবং মুয়ান্না-ই মালিক। ইলাল গ্রন্থের মধ্যে দারা কুতনীর কিতাবুল ইলাল। রিজাল গ্রন্থের মধ্যে ইমাম বুখারীর আত্তারীখুল কাবীর এবং ইবনে আবু হাতিমের আলজারহু ওয়াতাদীল গ্রন্থ। নাম সংরক্ষণের গ্রন্থের মধ্যে ইবনে মা'কুল-এর গ্রন্থ এবং গারীবুল হাদীস-এর মধ্যে ইবনুল আছীর এর আননিহায়াহ গ্রন্থ পর্যায়ক্রমে অধ্যয়ন করা উচিত।