📘 তাইসিরু মুছত্বালাহুল হাদীস 📄 দ্বিতীয় পাঠ : হাদীস গ্রহণ পদ্ধতি ও তার বর্ণনার শব্দাবলী

📄 দ্বিতীয় পাঠ : হাদীস গ্রহণ পদ্ধতি ও তার বর্ণনার শব্দাবলী


হাদীস গ্রহণের পদ্ধতি আটটি: ১) ‘আস সামাউ মিন লাফযিশ শাইখ। ২) আলকিরাআতু আলাশ শাইখ। ৩) ‘আল ইজাযাহ। ৪) আলমুনাওয়ালা। ৫) আলকিতাবাহ। ৬) আলইলাম। ৭) আলওসিয়্যাহ। ৮) আলবিজাদাহ।

১. আস সামাউ মিন লাফযিশ শাইখ (শাইখ থেকে হাদীস শুনা)
(ক) রূপরেখা: এর স্বরূপ এই যে, উস্তাদ পাঠ করবেন, আর শিষ্য তা শুনবেন। উস্তাদ তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে পাঠ করে শুনান কিংবা তাঁর গ্রন্থ থেকে। আর শিষ্য তা শুনে লিখে রাখুন, কিংবা শুধু শ্রবণে রাখুন।
(খ) মর্যাদা: অধিকাংশ আলিমের নিকট হাদীস গ্রহণের পদ্ধতিসমূহের মধ্যে এটিই সর্বোৎকৃষ্ট পদ্ধতি।
(গ) রিওয়ায়াতের শব্দাবলী: সামিতু (আমি শুনেছি) অথবা হাদ্দাসানী (আমার নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন) অথবা আখবারানী (আমাকে অমুক খবর দিয়েছেন) অথবা আম্বাআনী (আমাকে অমুক বর্ণনা করেছেন) অথবা কালালী (আমাকে অমুক বলেছেন) অথবা যাকারালী (আমার নিকট অমুক উল্লেখ করেছেন) ইত্যাদি।

২. আলকিরাআতু আলাশ শাইখ (শাইখের সামনে পাঠ করা)
অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনে কিরাম একে আরায বা উপস্থাপন নামে অভিহিত করেছেন।
(ক) রূপরেখা: এর স্বরূপ এই যে, শিষ্য পাঠ করবেন, আর উস্তাদ তা শুনবেন।¹⁷⁶ ছাত্র নিজে পাঠ করুক কিংবা অন্য কেউ পাঠ করবে আর সে তা শুনে সমর্থন করে যাচ্ছে।
(খ) হুকুম: মুহাদ্দিসীনে কিরামের সম্মিলিত মতানুযায়ী এটি সহীহ্ তথা গ্রহণযোগ্য।
(গ) মর্যাদা: বিশুদ্ধ মতে এটি সামা থেকে নিম্নতর।
(ঘ) রিওয়ায়াতের শব্দাবলী: কারাতু আলা ফুলানিন (আমি অমুকের সামনে পাঠ করেছি)। মুহাদ্দিসীনে কিরামের মতানুযায়ী এক্ষেত্রে আখবারানা শব্দ প্রয়োগ করতে হবে।

৩. আল ইজাযাহ (অনুমতি)
(ক) সংজ্ঞা: লিখিত অথবা মৌখিকভাবে হাদীস রিওয়ায়াত করার অনুমতি প্রদানকে আল ইজাযাহ বলা হয়।
(খ) রূপরেখা: উস্তাদ তাঁর ছাত্রদের মধ্য থেকে কাউকে বললেন, ‘আমি তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি যে, তুমি আমার থেকে সহীহ্ বুখারী রিওয়ায়াত কর’।
(গ) হুকুম: অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট এটি সহীহ, আমলযোগ্য ও রিওয়ায়াত উপযোগী।
(ঘ) হাদীস বর্ণনার শব্দাবলী: ‘অজাযা লী ফুলান’ (অমুক আমাকে অনুমতি দিয়েছেন)। নবীন মুহাদ্দিসীনে কিরাম এজন্য আম্বাআনা শব্দ সুনির্দিষ্ট করেছেন।

৪. আলমুনাওয়ালা
(ক) প্রকারভেদ: ১. অনুমতিসহ মুনাওয়ালা: উস্তাদ ছাত্রকে কিতাব দিয়ে বলবেন, ‘এটি আমার রিওয়ায়াত, তুমি আমার থেকে এটি রিওয়ায়াত কর’। ২. অনুমতি বিহীন মুনাওয়ালা: উস্তাদ শুধু কিতাব হস্তান্তর করবেন।
(খ) হুকুম: অনুমতিসহ মুনাওয়ালাহ জায়েয। অনুমতিবিহীন মুনাওয়ালা বিশুদ্ধ মতানুযায়ী বৈধ নয়।
(গ) রিওয়ায়াতের শব্দাবলী: ‘নাওয়ালানী’ (আমাকে রিওয়ায়াতসমূহ প্রদান করা হয়েছে) অথবা ‘অজাযালী’।

৫. আলকিতাবাহ
(ক) রূপরেখা: উস্তাদ তাঁর শ্রুত রিওয়ায়াতসমূহ ছাত্রদের জন্য নিজে লিখে দেবেন, অথবা নির্দেশের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে দেবেন।
(খ) হুকুম: কিতাবাত যদি অনুমতিসহ হয় তবে এরূপ রিওয়ায়াত সহীহ্। অনুমতি বিহীন কিতাবাত সম্পর্কেও অধিকাংশের মতে তা জায়েয।
(গ) রিওয়ায়াতের শব্দাবলী: ‘কাতাবা ইলাইয়া ফুলান’ (অমুক আমার নিকট লিখেছেন)।

৬. আল ইলাম
উস্তাদ কর্তৃক ছাত্রদেরকে এরূপ খবর প্রদান করা যে, এ হাদীসটি অথবা এ কিতাবটি আমার শ্রুত। বিশুদ্ধ মতে, যদি উস্তাদ রিওয়ায়াত করার অনুমতি দেন তবেই কেবল সেই রিওয়ায়াত করা বৈধ।

৭. আলওয়াসিয়্যাহ
উস্তাদ কর্তৃক তাঁর মৃত্যুর সময় অথবা সফরের প্রাক্কালে কাউকে তাঁর রিওয়ায়াত সম্বলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে কোন একটি গ্রন্থ সম্পর্কে ওয়াসিয়্যাহ করা। সঠিক অভিমত হলো, এরূপ রিওয়ায়াত জায়েয নয়।

৮. আলভিজাদাহ
কোন ছাত্র তাঁর উস্তাদের হাতের লেখা এমন কিছু হাদীস পেলেন, যা তিনি চিনতে পেরেছেন কিন্তু তা সরাসরি শোনেননি বা অনুমতি পাননি। এটি মুনকাতি-এর একটি প্রকার।

টিকাঃ
১৭৫. মুযাকারা মানে অপ্রস্তুতভাবে কথপোকথনের সময় (হাদীসের মজলিস ছাড়া) উস্তাদ থেকে কোন হাদীস শুনা।
১৭৬. এর মানে ছাত্র শুধু তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ তাঁর সামনে পাঠ করে শুনাবেন।
১৫৩. আলভিজাযাহ (الوجازة) গ্রন্থকারের পুরো নাম হলো আবুল আব্বাস ওয়ালীদ ইবনে বাকর আলমা'মারী, আর তাঁর গ্রন্থের পূর্ণ নাম হলো আল ভিজাযাতু ফী তাজভীযিল ইজাযাহ।
১৫৪. কোন উস্তাদ কর্তৃক তাঁর ছাত্রকে কোন একটি গ্রন্থ কিংবা সহীফাহ প্রদান করে ঐ গ্রন্থ কিংবা সহীফার হাদীসসমূহ রিওয়ায়াত করার অনুমতি প্রদান করাকে আলমুনাওয়ালা বলা হয়।

📘 তাইসিরু মুছত্বালাহুল হাদীস 📄 তৃতীয় পাঠ : হাদীস লিখন, সংরক্ষণ ও গ্রন্থ প্রণয়ন

📄 তৃতীয় পাঠ : হাদীস লিখন, সংরক্ষণ ও গ্রন্থ প্রণয়ন


১. হাদীস লিপিবদ্ধ করণের হুকুম:
হাদীস লিপিবদ্ধকরণের ব্যাপারে প্রথম দিকে সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও পরবর্তীতে সকলেই এর বৈধতার ব্যাপারে একমত হন। কেননা, হাদীস গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত না হলে পরবর্তী যুগে তা বিনষ্ট হয়ে যেত।

২. মতবিরোধের কারণ:
হাদীস লিপিবদ্ধকরণের বিষয়ে মতবিরোধের কারণ হলো পরস্পর বিরোধী হাদীস বর্ণিত হওয়া। একদল বর্ণনায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে (যাতে কুরআনের সাথে মিশে না যায়), আবার অন্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা) আবু শাহ (রা) কে লিখে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

৩. সমন্বয় সাধন:
নিষেধাজ্ঞা তখন আরোপ করা হয়েছিল, যখন কুরআন ও হাদীসের মধ্যে সংমিশ্রণের আশংকা ছিল। এ আশংকা দূরীভূত হয়ে যাওয়ার পর লেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে নিষেধাজ্ঞার হাদীস রহিত হয়ে গিয়েছে।

৪. হাদীস লেখকের জন্য আবশ্যকীয় বিষয় কী?
হাদীস লেখকের জন্য উচিত তিনি তাঁর সমস্ত শক্তি ও হিম্মত হাদীস সংরক্ষণ ও তা বিশ্লেষণের ব্যাপারে এমনভাবে নিয়োগ করবেন, যাতে তাঁর লিখন পদ্ধতি ও নুক্তা সমূহ পাঠকের নিকট সন্দেহমুক্ত ভাবে প্রকাশ পায়। কঠিন শব্দসমূহে বিশেষ করে নাম সমূহে হারাকাত¹⁷⁹ দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নামের সাথে দরূদ ও সালামের শব্দাবলী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পূর্ণ লিখতে হবে, সংক্ষিপ্ত বা সাংকেতিক চিহ্ন (যেমন- স বা صلعم) ব্যবহার করা অনুচিত।

৫. মিলিয়ে দেখা ও এর পদ্ধতি:
লেখা শেষ করার পর হাদীস লেখকের কর্তব্য হলো, তাঁর উস্তাদের মূল কপির¹⁸⁰ সাথে মিলিয়ে দেখা। ছাত্র এবং শিক্ষক উভয়ই উভয়ের কিতাব গভীর মনোযোগের সাথে শুনবে বা মিলিয়ে নেবে।

৬. হাদীস লিখনের কতিপয় সাংকেতিক পরিভাষা:
(ক) হাদ্দাসানা (حدثنا)-এর জন্য সানা (ثনা) অথবা না (না)।
(খ) আখবারানা (أخبرنا)-এর জন্য আনা (أনা) অথবা আরানা (أরনা)।
(গ) তাহবীলুল ইসনাদ-এর জন্য সাংকেতিক চিহ্ন হলো ‘হা’ (ح)।
(ঘ) সংক্ষিপ্ত করার জন্য ‘কালা’ (قال) বা ‘আন্নাহু’ (أنه) শব্দটি উহ্য করা হলেও পাঠকের উচিত তা উচ্চারণ করে পাঠ করা।

৭. বিভিন্ন প্রকার হাদীস গ্রন্থ:
(ক) আলজামি: যাতে আকাইদ, ইবাদাত, মু'আমালাত, সীরাতসহ সব বিষয়ের হাদীস থাকে। যেমন- সহীহ বুখারী।
(খ) আলমুসনাদ: যাতে প্রত্যেক সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ পৃথকভাবে থাকে। যেমন- মুসনাদে আহমাদ।
(গ) আসুনান: যা ফিক্‌হ গ্রন্থের অনুরূপ অধ্যায়ে রচিত। যেমন- সুনানে আবী দাউদ।
(ঘ) আল-মু'জাম: যাতে উস্তাদের নামানুসারে বর্ণমালার ক্রমানুযায়ী হাদীস থাকে।
(ঙ) আলইলাল: ত্রুটির বিবরণসহ মালুল হাদীস সম্বলিত গ্রন্থ।
(চ) আলআজ্যা: যাতে কোন একজন রাবীর বা একটি বিষয়ের হাদীস থাকে।
(ছ) আল আতরাফ: যাতে হাদীসের অংশবিশেষ এবং তার সব সনদ উল্লেখ থাকে।
(জ) আল মুস্তাদ্রাক: যা কোন ইমামের শর্তানুযায়ী উত্তীর্ণ কিন্তু তিনি সংকলন করেননি। যেমন- মুসতাদরাকে হাকিম।
(ঝ) আলমুসতাখরাজ: যাতে গ্রন্থকার অন্য কিতাবের হাদীসসমূহ তাঁর নিজস্ব সনদে রিওয়ায়াত করেন।

টিকাঃ
১৭৯. যবর, যের ও পেশকে হারাকাত বলা হয়।
১৮০. অর্থাৎ উস্তাদের ঐ মূল কপি যেখান থেকে তিনি হাদীস গ্রহণ করেছেন।
১৮২. ঐ হাদীস অন্বেষণকারী, যিনি ইলমে নাহু সম্পর্কে অবগত নন তাঁর উদাহরণ ঐ গাধার ন্যায় যার গলায় থলে ঝুলানো আছে, কিন্তু তাতে যব নেই।
১৮৩. ‘মুসহাফী’ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি মাসহাফ থেকে কুরআন গ্রহণ করেন এবং উস্তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেন না। আর যিনি সহীফাহ (পুস্তিকা) থেকে হাদীস গ্রহণ করেন এবং উস্তাদের নিকট পাঠ করেন না, তাকে বলা হয় সুহুফী।

📘 তাইসিরু মুছত্বালাহুল হাদীস 📄 চতুর্থ পাঠ : হাদীস রিওয়ায়াতের পদ্ধতি

📄 চতুর্থ পাঠ : হাদীস রিওয়ায়াতের পদ্ধতি


১. শিরোনামের অর্থ: হাদীস রিওয়ায়াতের পদ্ধতি মানে রাবীর ঐ অবস্থা ও পদ্ধতির বিবরণ, যা অবলম্বন করে তিনি হাদীস রিওয়ায়াত করে থাকেন।

২. মুখস্থকরণ ছাড়া রাবীর জন্য তাঁর কিতাব থেকে হাদীস রিওয়ায়াত করা বৈধ কি?
অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনে কিরামের অভিমত হলো, রাবীর মধ্যে যদি হাদীস গ্রহণ ও মূল গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখার শর্তাবলী বিদ্যমান থাকে, তাহলে মুখস্থ ছাড়াও কিতাব থেকে রিওয়ায়াত বৈধ।

৩. অন্ধ রাবীর রিওয়ায়াতের হুকুম:
এমন কোন অন্ধ রাবী যিনি হাদীস শুনে মুখস্থ করতে সক্ষম নন, তিনি যদি তাঁর সংরক্ষিত হাদীস লেখার জন্য কোন সিকাহ্ রাবীর সাহায্য গ্রহণ করেন এবং রদ বদলের আশংকা মুক্ত হয়, তবে অধিকাংশের মতে তাঁর রিওয়ায়াত সহীহ্।

৪. অর্থগতভাবে (শাব্দিক নয়) হাদীস রিওয়ায়াত ও তার শর্তাবলী:
অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনে কিরাম, ফিক্‌হবিদ ও উসূলবেত্তাগণ এর বৈধতার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন। তবে শর্ত হলো হাদীসের অর্থ সম্পর্কে রাবীর দৃঢ় জ্ঞান থাকতে হবে। রিওয়ায়াত বিল মা'না (অর্থ রিওয়ায়াত) বর্ণনাকারীর উচিত হাদীস বর্ণনা শেষে এরূপ বাক্য বলা— ‘আও কামা কালা’ (অথবা তিনি যেরূপ বলেছেন)¹⁸¹ বা ‘নাহওয়াহু’।

৫. হাদীস পাঠে ভুল ত্রুটির কারণ:
(ক) আরবী ভাষা ও ব্যাকরণের জ্ঞান না থাকা: হাদীস অন্বেষণকারীর অবশ্য কর্তব্য হলো আরবী ভাষা ও ব্যাকরণগত জ্ঞান হাসিল করা। ঐ হাদীস অন্বেষণকারী, যিনি ইলমে নাহু সম্পর্কে অবগত নন তাঁর উদাহরণ ঐ গাধার ন্যায় যার গলায় থলে ঝুলানো আছে, কিন্তু তাতে যব নেই।¹⁸²
(খ) শুধু গ্রন্থ ও সহীফাহ্ থেকে হাদীস গ্রহণ করা এবং উস্তাদ থেকে হাদীস গ্রহণ না করা: উস্তাদ থেকে হাদীস গ্রহণ না করে শুধু কিতাব থেকে হাদীস সংগ্রহ করলে ভুল-ত্রুটির আশংকা থাকে। প্রাচীন আলিমগণ বলেন, ‘ঐ লোকদের থেকে তোমরা কুরআন-হাদীস গ্রহণ করো না, যারা শুধু গ্রন্থ অথবা সহীফাহ্ থেকে কুরআন হাদীস শিক্ষা করে’।¹⁸³

টিকাঃ
১৮১. বর্তমান যুগেও কোন ওয়ায নাসীহাতের মাহফিলে হাদীস বর্ণনা করা হলে তার শেষে ‘আও কামা কালা আলাইহিস সালাম’ বাক্যটি বলা উচিত।
১৮২. ঐ হাদীস অন্বেষণকারী, যিনি ইলমে নাহু সম্পর্কে অবগত নন তাঁর উদাহরণ ঐ গাধার ন্যায় যার গলায় থলে ঝুলানো আছে, কিন্তু তাতে যব নেই।
১৮৩. ‘মুসহাফী’ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি মাসহাফ থেকে কুরআন গ্রহণ করেন এবং উস্তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেন না। আর যিনি সহীফাহ (পুস্তিকা) থেকে হাদীস গ্রহণ করেন এবং উস্তাদের নিকট পাঠ করেন না, তাকে বলা হয় সুহুফী।

📘 তাইসিরু মুছত্বালাহুল হাদীস 📄 গারীবুল হাদীস

📄 গারীবুল হাদীস


১. সংজ্ঞা
(ক) আভিধানিক অর্থ: আভিধানিক অর্থে গারীব বলা হয়ে থাকে নিকট থেকে দূরে চলে যাওয়াকে। এখানে অস্পষ্ট অর্থবোধক শব্দকে গারীব বলা হয়েছে।¹⁸⁴
(খ) পারিভাষিক অর্থ: হাদীসের মতনের মধ্যে এমন কোন অস্পষ্ট শব্দ পরিলক্ষিত হওয়া, যা স্বল্প ব্যবহৃত হওয়ার কারণে দুর্বোধ্য বলে মনে হয়।

২. গুরুত্ব:
এটি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করা খুবই কঠিন কাজ। এ কারণে সালফে সালিহীন এ ব্যাপারে সতর্কতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন।

৩. উত্তম ব্যাখ্যা:
এর সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো অনুরূপ আর একটি রিওয়ায়াত যাতে এর বিশদ ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে। যেমন, রোগীর নামায সম্পর্কে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত হাদীস— ‘নামায দাঁড়িয়ে আদায় কর। দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে আদায় কর। বসতেও সক্ষম না হলে একদিকে কাত হয়ে আদায় কর।’¹⁸৫ এখানে ‘আলা জানবিন’ (একদিকে কাত হয়ে)-এর ব্যাখ্যা অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে— ‘ডান দিকে কাত হয়ে কিবলার দিকে মুখ করে’।¹⁸৬

৪. এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলী:
(ক) গারীবুল হাদীস: আবু উবাইদ আলকাসিম ইবনে সালাম।
(খ) আনিহায়া ফী-গারীবিল হাদীস ওয়াল আছার: ইবনেল আছীর। এটি এ বিষয়ের সর্বোত্তম গ্রন্থ।
(গ) আদ্-দুররুননাসীর: ইমাম সুয়ূতী।
(ঘ) আলফায়িক: আল্লামা যামাখশারী।

টিকাঃ
১৮৪. আল কামূস ১ম খ. পৃ. ১১৫।
১৮৫. সহীহ বুখারী।
১৮৬. সুনানে দারা কুতনী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px