📄 প্রথম পাঠ : রাবী এবং তাঁর গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলী
১. ভূমিকা: যেহেতু রাবীগণের মাধ্যমেই রসূলুল্লাহ্ (সা) এর হাদীস আমাদের নিকট পৌছেছে, সুতরাং হাদীস সহীহ্ হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরাই হচ্ছেন প্রথম সোপান। এজন্য মুহাদ্দিসীনে কিরাম রাবীদের সার্বিক অবস্থা যাচাই বাছাই করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এবং তাঁদের রিওয়ায়াত গ্রহণ করার ব্যাপারে এমন সূক্ষ্ম ও মযবুত শর্তাবলী আরোপ করেছেন, যা তাঁদের গভীর দৃষ্টিভঙ্গী, উন্নত চিন্তাভাবনা ও সঠিক পদ্ধতির ইঙ্গিত বহন করে। প্রকারভেদ: মুহাদ্দিসীনে কিরামের নির্ধারিত এ শর্তগুলোকে দু'ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা, রাবীর শর্তাবলী এবং রিওয়ায়াত (হাদীস) গ্রহণের শর্তাবলী। আর এই সব শর্তাবলী যা হাদীস বিশেষজ্ঞগণ রাবীর জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে দিয়েছেন এবং অন্যান্য শর্তাবলী যা হাদীস ও খবর গ্রহণ করার জন্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এই (মানদণ্ড) পর্যন্ত পৌছা কোন জাতির পক্ষেই সম্ভব নয়। এমন কি এ যুগেও নয়, যা জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক দিয়ে পূর্বের তুলনায় অনেক উন্নত।
২. রাবী গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তাবলী: অধিকাংশ ফিক্হবিদ ও মুহাদ্দিসীনে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে, রাবীর মধ্যে প্রধান দু'টো মৌলিক শর্ত বিদ্যমান থাকা অত্যাবশ্যক। আর তা হলো:
(ক) আল আদালাত (العدالة) বা ন্যায়পরায়ণতা: আদালাত অর্থ হচ্ছে, রাবী মুসলিম, বালিগ (প্রাপ্ত বয়স্ক) ও আকিল (বিবেকবান) হওয়া এবং ফিস্ক ও অশোভন (অভদ্রোচিত) কাজ থেকে দূরে থাকা।
(খ) আয্যাবত (الضبط) সংরক্ষণ বা স্মৃতিশক্তি: যবত অর্থ হচ্ছে, রাবী কর্তৃক কোন সিকাহ্ রাবীর বিপরীতে বর্ণনা না করা, দুর্বল স্মরণশক্তি সম্পন্ন না হওয়া, অধিক ভ্রমকারী ও অমনোযোগী না হওয়া এবং অত্যধিক সন্দেহ প্রবণ না হওয়া।
৩. আদালাত কিভাবে প্রমাণিত হয়? নিম্নের দু'টো বিষয়ের যে কোন একটি পাওয়া গেলে আদালাত প্রমাণিত হয়।
(ক) আদিল (ন্যায়পরায়ণ) ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে কমপক্ষে একজনও যদি তাঁর আদালাতের কথা প্রকাশ করেন। অর্থাৎ তা'দীল বিশেষজ্ঞের কেউ যদি তাঁর আদালাতের কথা স্পষ্টাক্ষরে বর্ণনা করেন।
(খ) রাবী যদি প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাঁর থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র হাদীস রিওয়ায়াত করে থাকেন। এছাড়া যে রাবীর আদালাত আলিমদের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং যাঁর প্রশংসা ও পরিচিতি বিস্তার লাভ করেছে তাঁর জন্য এটাই যথেষ্ট।
৪. আদালাত প্রমাণে আবদুল বার-এর অভিমত: ইবনে আবদুল বার-এর অভিমত এই যে, প্রত্যেক এমন রাবী যিনি আলিম হিসেবে গণ্য ও চরিত্রবান হিসেবে পরিচিত, তাঁর ব্যাপারে কোন জারহ (সমালোচনা) পাওয়া না গেলেই তাঁর আদালাত প্রমাণিত হবে। তিনি এ হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, ‘এই জ্ঞান প্রত্যেক এমন ব্যক্তি থেকে গ্রহণ করা যাবে যিনি তাঁর আদালাত প্রমাণ করতে পারবেন না, যিনি অতিরঞ্জিত কারীর পরিবর্তন নিষিদ্ধ করেন এবং যিনি বাতিলদের রাস্তা ও মূর্খদের ব্যাখ্যার মধ্যে প্রতিবন্ধক।’ ইবনে আবদুল বার-এর এ অভিমত মুহাদ্দিসীনে কিরামের রায়ের পরিপন্থী।
৫. রাবীর যবত কিভাবে চেনা যায়: কোন রাবীর যবত (স্মরণশক্তি) পরিচয়ের পদ্ধতি হচ্ছে, তিনি হাদীস রিওয়ায়াত করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় সিকাহ ও নির্ভরযোগ্য রাবীদের অনুরূপ রিওয়ায়াত করে থাকেন। এরূপ রাবীকে যাবিত (ضابط) বলা হয়।
৬. জারাহ ও তা’দীল-এর কারণ বর্ণনা ছাড়া তা গ্রহণযোগ্য কিনা? সহীহ্ ও প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী তা'দীল-এর কারণ বর্ণনা ছাড়াই তা গ্রহণযোগ্য। তবে, বিস্তারিত বিবরণ ছাড়া জারহ্ (الجرح) গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা জারহ-এর কারণসমূহ উল্লেখ করা তেমন কঠিন ব্যাপার নয়। অধিকন্তু রিজাল শাস্ত্রের ইমামদের মধ্যে জারহ এর কারণ নির্ণয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনে সালাহ বলেন, আর তা ফিক্হ ও উসুলুল ফিক্হ-এর গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। খতীব বাগদাদী উল্লেখ করেছেন: হাফিযে হাদীস ও হাদীস সমালোচনাকারী ইমাম, যেমন বুখারী ও মুসলিম (র) প্রমুখের অভিমত এটাই।¹⁷⁰
৭. একজনের জারহ ও তা’দীল গ্রহণযোগ্য কিনা? বিশুদ্ধ মতানুযায়ী একজনের জারহ ও তা'দীল গ্রহণযোগ্য।¹⁷¹ কারো কারো মতে দু'জন প্রয়োজন।
৮. একই রাবীর মধ্যে জারহ ও তা’দীল উভয়টি একত্রিত হলে তার হুকুম: কোন রাবীর মধ্যে জারহ এবং তা'দীল উভয়টি একত্রিত হলে যদি জারহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়ে থাকে তাহলে নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী তা'দীল এর উপর জারহ প্রাধান্য পাবে।
৯. এক ব্যক্তির তা’দীল এর হুকুম: বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এক ব্যক্তির তা'দীল গ্রহণযোগ্য নয়। এটাই অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনে কিরামের অভিমত। কারো কারো মতে এটা গ্রহণযোগ্য।
১০. ফিস্ক থেকে তাওবাকারীর রিওয়ায়াতের হুকুম: ফিস্ক থেকে তাওবাকারীর রিওয়ায়াত গ্রহণযোগ্য। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) এর হাদীস রিওয়ায়াতে মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হলে, তার রিওয়ায়াত গ্রহণযোগ্য নয়।
১১. প্রতিদানের (আর্থিক) বিনিময়ে হাদীস রিওয়ায়াতের হুকুম: যিনি হাদীস রিওয়ায়াত করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, এমন ব্যক্তির রিওয়ায়াত গ্রহণ করার ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। আবূ ইসহাক শীরাযীর ফাতওয়ানুযায়ী ঐ ব্যক্তির রিওয়ায়াত গ্রহণযোগ্য যিনি দরসে হাদীসে মাশগুল থাকার কারণে জীবিকা নির্বাহের অন্য উপায় নেই।
১২. অধিক ভ্রমকারী, দ্রুত হাদীস গ্রহণকারী ও অমনোযোগী রাবীর রিওয়ায়াতের হুকুম: এমন রাবীর হাদীস গ্রহণ করা যায় না, যার হাদীস শ্রবণ অথবা পাঠদানের সময় অমনোযোগিতা প্রমাণিত হয়। ঐ রাবীর হাদীসও গ্রহণযোগ্য নয়, যিনি তাড়া-হুড়া করে হাদীস গ্রহণ করেন। ঐ রাবীর রিওয়ায়াতও গ্রহণযোগ্য নয়, যিনি সাধারণত তাঁর রিওয়ায়াতে ভুল করে থাকেন।
১৩. হাদীস রিওয়ায়াতের পর ভুলে গেলে তার হুকুম:
(ক) সংজ্ঞা: কোন শাইখ এর একথা স্মরণ নেই যে তাঁর থেকে তাঁর ছাত্ররা অমুক হাদীসটি গ্রহণ করেছে কিনা।
(খ) হুকুম: ঐ রিওয়ায়াত মারদূদ (প্রত্যাখ্যাত) হবে, যা শাইখ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেন। আর শাইখ যদি দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার না করেন বরং সন্দীহান হন, তবে তা গ্রহণযোগ্য।
(ঘ) উদাহরণ: ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ্ প্রমুখ রবীআহ্ ইবনে আবূ আবদুর রহমান থেকে রিওয়ায়াত করেছেন, তিনি সুহাইল ইবনে আবু সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষীর সাথে শপথ নিয়ে ফায়সালা করেছেন।’¹⁷² আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ অদ্দারাওয়ারদী বলেন, আমার নিকট এ রিওয়ায়াতটি রবীআহ্ ইবনে আবু আবদুর রহমান সুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি একবার সুহাইল-এর সাথে সাক্ষাৎ করে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, তিনি ব্যাপারটি অবহিত নন বলে জানালেন। সুহাইল এ রিওয়ায়াতটি পরবর্তীতে এভাবে বর্ণনা করলেন, ‘আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল আযীয তিনি রবীআহ্ থেকে রিওয়ায়াত করেছেন আর রবীআহ্ আমার থেকে এভাবে রিওয়ায়াত করেছেন যে, আমি তাকে আবু হুরাইরা থেকে রাসূলুল্লাহ (সা) এর এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছি।’
(ঙ) এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ: (এ বিষয়ের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো) ‘আখবারু মান হাদ্দাসা ওয়া নাসিয়া’, প্রণেতা খতীব আলবাগদাদী।
টিকাঃ
১৭০. উলূমুল হাদীস: পৃ. ৯৬।
১৭১. অর্থাৎ কোন একজন ইমামের জারহ অথবা তা'দীল দ্বারাই একজন রাবী নির্ভরযোগ্য অথবা অনির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হবে।
১৭২. সুনানু আবী দাউদ, বৈরুত, দারুল ফিকর খ. ৩য় পৃ. ৩০৯।
📄 দ্বিতীয় পাঠ : জারহ্ ও তা'দীল-এর বিভিন্ন স্তর
ইবনে আবূ হাতিম তাঁর আজ্জারহু ওয়াত্তা’দীল (الجرح والتعديل) গ্রন্থের ভূমিকায় জাৱহ ও তা’দীল-এর প্রত্যেকটিকে চারটি স্তরে বিভক্ত করেছেন এবং প্রত্যেকটি স্তরের হুকুম পৃথক পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর মুহাদ্দিসীনে কিরাম প্রত্যেকটির সাথে আরো দু'টো করে স্তর সংযোজন করেছেন। এ নিয়ে জারহ ও তা’দীল-এর প্রত্যেকটি মোট ছয়টি করে স্তরে বিভক্ত হয়েছে। শব্দাবলীসহ প্রত্যেকটি স্তরের বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলো।
১. তা’দীল-এর বিভিন্ন স্তর ও এর জন্য নির্দিষ্ট শব্দাবলী:
(ক) রাবীর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণে আধিক্যবোধক শব্দ অথবা আফআলু (افعل) বিশিষ্ট শব্দ প্রয়োগ করা। যেমন- অমুক নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত অথবা অমুক সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি।
(খ) অতঃপর নির্ভরযোগ্য অন্য যে কোন একটি বিশেষণকে জোরালোভাবে বারবার উল্লেখ করা। যেমন- অমুক সিকাহ ও নির্ভরযোগ্য অথবা অমুক স্থির ও সিকাহ।
(গ) এমন শব্দে রাবীর নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা করা যাতে তাঁর সিকাহ্ হওয়া প্রমাণিত হয়। যেমন- সিকাতুন (ثقة) অথবা হুজ্জাতুন (حجة) নির্ভরযোগ্য ইত্যাদি।
(ঘ) ঐ সব শব্দে রাবীর নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা করা যা তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার ইঙ্গিত বহন করে। যেমন- সদুকুন (صدوق) অধিক সত্যবাদী অথবা তিনি সত্যের স্থানে অথবা ইবনে মুঈন ব্যতীত অন্য ইমামের ‘লা বা’সা বিহী’ বলা।
(ঙ) অতঃপর রাবী সম্পর্কে ঐ সব শব্দ প্রয়োগ করা যদ্দ্বারা তাঁদের নির্ভরযোগ্যতা অথবা অনির্ভরযোগ্যতা কোনটাই সুসস্পষ্টভাবে বুঝা যায় না। যেমন- অমুক উস্তাদ অথবা অনেক ছাত্র তাঁর কাছ থেকে হাদীস রিওয়ায়াত করেছে।
(চ) রাবী সম্বন্ধে এমন শব্দ প্রয়োগ করা, যা তা'দীল-এর শব্দ হওয়া সত্ত্বেও জারহ এর নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। যেমন- অমুক হাদীস রিওয়ায়াতে সুস্থ অথবা তাঁর হাদীস লেখা যায়।
২. হুকুম:
(ক) প্রথম তিন স্তরের রাবীগণ গ্রহণযোগ্য যদিও তারা ক্রমানুসারে একে অপরের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।
(খ) চতুর্থ ও পঞ্চম স্তরের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য নয়। কিন্তু তাঁদের হাদীস লেখা যাবে। অবশ্য তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।¹⁷³
(গ) ৬ষ্ঠ স্তরের রাবীগণও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে শুধুমাত্র সহযোগিতার জন্য তাঁদের হাদীস লেখা যাবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নয়।
৩. জারহ-এর বিভিন্ন স্তর ও এর নির্দিষ্ট শব্দাবলী:
(ক) এমন শব্দ যা শিথিলতার ইঙ্গিত বহন করে। যেমন- অমুক হাদীস বর্ণনায় শিথিল অথবা তাঁর ব্যাপারে কথা রয়েছে।
(খ) এমন শব্দ যা তাঁর গ্রহণযোগ্য না হওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত বহন করে। যেমন- অমুক গ্রহণযোগ্য নয়, অথবা তিনি দুর্বল, তিনি অনেক মুনকার হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
(গ) এমন শব্দ যা তাঁর হাদীস না লেখার অথবা অনুরূপ অর্থ প্রকাশ করে। যেমন- তাঁর হাদীস লেখা যায় না, তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করা বৈধ নয় অথবা অত্যধিক দুর্বল বা প্রমাদকারী।
(ঘ) এমন শব্দ যা রাবীর উপর মিথ্যা বা অনুরূপ অভিযোগ আরোপ করে। যেমন- অমুক মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত, তিনি মাওযূ হাদীস রচনার অভিযোগে অভিযুক্ত, হাদীসচোর, অগ্রহণযোগ্য অথবা পরিত্যক্ত বা অনির্ভরযোগ্য।
(ঙ) এমন শব্দ, যা রাবীকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে। যেমন- জঘন্য মিথ্যাবাদী, অত্যধিক ধোকাবাজ, মিথ্যা হাদীস রচনাকারী অথবা মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত।
(চ) মিথ্যার আধিক্যবোধক শব্দ: যেমন- অমুক সবচেয়ে মিথ্যাবাদী অথবা তিনি মিথ্যার সর্বশেষ প্রান্তে বা মিথ্যার মূল স্তম্ভ।
৪. এসব স্তরের হুকুম:
(ক) প্রথম দু'স্তরের রাবীদের হাদীস স্বভাবত গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু শুধু বিবেচনার (للإعتبار) জন্য তাঁদের হাদীস লেখা যাবে।
(খ) আর শেষোক্ত চার স্তরের রাবীদের হাদীসও গ্রহণযোগ্য নয়, আর তা লেখাও যাবে না এবং বিবেচনার যোগ্যও নয়।
টিকাঃ
১৭৩. এখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার অর্থ হচ্ছে সিকাহ রাবীর বিপরীতে তাঁদের হাদীস রেখে তাঁদের স্মরণশক্তি যাচাই বাছাই করা। আর এরূপ রাবীদের সম্পর্কে কারো কারো মন্তব্য তাদের হাদীস হাসান। আর হাসান গ্রহণযোগ্য। এটা ভুল ধারণা এটা জারহ ও তা'দীল এর ইমামদের পরিভাষা। ইবনে হাজার তাকরীবুত তাহযীব গ্রন্থে সদৃক (صدوق) শব্দটি একটি বিশেষ পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আল্লাহই সর্বোত্তম জ্ঞাতা।