📘 তাইসিরু মুছত্বালাহুল হাদীস 📄 তৃতীয় পাঠ : রাবী অভিযুক্ত হওয়ার কারণে মারদুদ

📄 তৃতীয় পাঠ : রাবী অভিযুক্ত হওয়ার কারণে মারদুদ


রাবী অভিযুক্ত হওয়ার কারণ দশটি। এর মধ্যে পাঁচটি ন্যায়পরায়ণতার সাথে এবং পাঁচটি যবত-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এর ভিত্তিতে মারদুদ হাদীসের প্রকারগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. মাওযূ (জাল বা বানোয়াট):
বানোয়াট ও মিথ্যা কথাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে চালিয়ে দেয়া। এটি যঈফ হাদীসের সর্বনিকৃষ্ট প্রকার। মাওযূ হাদীস রিওয়ায়াত করা কারো জন্য বৈধ নয়।

২. মাতরূক:
যে হাদীসের সনদে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কোন রাবী বিদ্যমান, তাকে মাতরূক বলা হয়। এটি মাওযূ-এর পরেই অবস্থান করে।

৩. মুনকার:
যঈফ রাবীর রিওয়ায়াত যদি সিকাহ্ রাবীর রিওয়ায়াত এর বিপরীত হয়, তাকে মুনকার বলা হয়। এর বিপরীত হলো ‘মা’রূফ’।

৪. মু’আল্লাল:
মু’আল্লাল ঐ হাদীসকে বলা হয়, যাতে এমন ইল্লাত বা অস্পষ্ট দোষ-ত্রুটি বিদ্যমান থাকে, যা হাদীসটি বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

৫. মুদরাজ:
সনদ অথবা মতন বহির্ভূত কোন কথা সনদ অথবা মতনের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্যকরণ ছাড়া সংযোজন করে দেয়া।

৬. মাকলূব:
হাদীসের সনদে কিংবা মতনে কোন শব্দ আগে পরে উল্লেখের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনভাবে পরিবর্তন করা।

৭. আলমাযীদ ফী মুত্তাসিলিল আসানীদ:
বাহ্যত মুত্তাসিল সনদে কোন রাবীর অতিরিক্ত সংযোজন।

৮. মুযতারিব:
সম শক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও শব্দে বর্ণিত রিওয়ায়াত যা পরস্পর বিরোধী।

৯. মুসাহহাফ:
হাদীসের শব্দকে এমন শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করা যা শব্দগত অথবা অর্থগত দিক দিয়ে সিকাহ রাবীর রিওয়ায়াত থেকে ভিন্ন।

১০. শায:
কোন গ্রহণযোগ্য রাবী কর্তৃক তাঁর থেকে অধিক শক্তিশালী রাবীর বিপরীত হাদীস রিওয়ায়াত করা। এর বিপরীত হলো ‘মাহফুয’।

১১. মাজহুল (রাবী অপরিচিত হওয়া):
রাবীর ব্যক্তিসত্তা অথবা গুণাগুণ অপরিচিত হওয়া।

১২. বিদআত:
দীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করা। বিদআত মুকাফফিরাহ হলে রিওয়ায়াত গ্রহণযোগ্য নয়।

১৩. সূউল হিফ্য (স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা):
যে রাবীর যথার্থ বাণী তাঁর ভুল-ত্রুটির তুলনায় অগ্রগণ্য নয়। এর একটি প্রকার হলো ‘আলমুখতালিত’ (যাঁদের শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রম হয়েছে)।

টিকাঃ
৯৫. ইমাম নববীর ব্যাখ্যা সম্বলিত মুসলিম-এর মুকদ্দিমা, ১ম খ. পৃ. ৬২।
৯৬. তাদরীবুর রাবী ১ম খ. পৃ. ২৮৩।
৯৭. তাদরীবুর রাবী, ১ম খ. পৃ. ২৮৪।
৯৮. সুনানে আরবাআ ও মুসনাদে আহমাদে হাদীসটি বর্ণিত।
৯৯. গিয়াস ইবনে ইবরাহীমকে মিথ্যাবাদী ও মাওযূ হাদীস রচনাকারী বলা হয়েছে।
১০০. তাদরীবুর রাবী--ইমাম সুয়ূতী, ১ম খ., পৃষ্ঠা ২৮৬।
১০১. তারগীব: মানে ভাল কাজের প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি করা।
১০২. তারহীব: খারাপ কাজের প্রতি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা।
১০৪. হাফিয ইবনে হাজার সর্বপ্রথম এ প্রকার হাদীসের নাম উল্লেখ করেছেন।
১০৫. আল কামুস, ৩য় খ. পৃ. ৩০৬।
১০৬. সাধারণ মূলনীতি যা উলামায়ে কিরাম বিশুদ্ধ নস থেকে গ্রহণ করেছেন।
১০৭. মীযানুল ই'তিদাল ৩য় খ. পৃ. ২৬৮।
১০৮. তাদরীবুর রাবী, ১ম খ. পৃ. ২৯৫; শরহু নুখবাতিল ফিকার পৃ. ৪৬।
১০৯. শরহু নুখবাতিল ফিকার, পৃ. ৪৭।
১১০. গ্রহণীয় রাবী বলতে সহীহ্ ও হাসান হাদীসের রাবীকে বুঝানো হয়েছে।
১১১. শরহু নুখবাতিল ফিকার, পৃ. ৩৭।
১১২. তাদরীবুর রাবী, ১ম খ. পৃ. ২৪০।
১১৩. মা'রূফ মূলত গ্রহণীয় খবরে ওয়াহিদের মধ্যে গণ্য।
১১৪. علল-এর থেকে ইসমে মাফউল معلل-এর অর্থ ভুলিয়ে দেয়া।
১১৫. রূবায়ী থেকে মফউল ওযনে ইসমে মাফউল হয় না।
১১৬. শারহু নুখবাতিল ফিকার, পৃ. ৪৮-৪৯।
১১৭. ইবনে মাজাহ, কিয়ামুল লাইল অধ্যায়, ১ম খ. পৃ. ৪৪২।
১১৮. উইল للاعقاب এ বাক্যটি আবু হুরাইরা ছাড়াও ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।
১১৯. তাদরীবুর রাবী, ১ম খ. পৃ. ২৭০।
১২০. সহীহ বুখারী, ১ম খ. পৃ. ৩।
১২১. সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইতক।
১২২. আল কামূস ১ম খ. পৃ. ১২৩।
১২৫. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জানাইয, ৭ম খ. পৃ. ৩৮ এবং তিরমিযী।
১২৭. আল কামূস, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৬৩।
১২৮. ইবনে আবী হাতিম, ইলালুল হাদীস, ১ম খ., পৃ. ২৫৩।
১২৯. দেখুন: শরহু নুখবাতুল ফিক্স পৃ. ৩৭।
১৩০. এটা হলো রাবী মাতউন হওয়ার ৮ম কারণ।
২২২. শরহু নুখবাতিল ফিক্স।
২২৩. এটা হলো রাবী মাতউন হওয়ার ১০ম কারণ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px