📘 তাগুত > 📄 ইবাদত দলিল ভিত্তিক (কুরআন ও সুন্নাহ-র)

📄 ইবাদত দলিল ভিত্তিক (কুরআন ও সুন্নাহ-র)


একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ফজরের ফরজ নামাজ দুই রাকাত। এখন কেউ যদি চিন্তা করে এত ভোরে কষ্ট করে উঠে কেন শুধু দুই রাকাআত ফরজ নামাজ পড়বো! চার রাকাত পড়ি। রাসূল (সাঃ) দেখিয়ে দিয়ে গেছেন ফজরের ফরজ নামায দুই রাকাত এবং তাতে সর্বমোট দুইটা রুকু চারটা সেজদা করতে হবে, এখন সে যদি ভাবে কম তো আর করিনি চাররাকাত পড়ছি চারটা রুকু আটটা সেজদা দিচ্ছি অসুবিধাটা কিসে। কেউ যদি এত ভাল চিন্তা করে ফজরে চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়া শুরু করে আর লোকদেরকেও পড়তে বলে তবে কি হবে বলুন? নিশ্চয় সবাই বলা শুরু করবেন সেই মানুষটা মুরতাদ ও জিন্দিক হয়ে গেছে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার ইচ্ছায় রাসূল (সাঃ) যেভাবে ইবাদতের পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তা লোকটা পরিবর্তন করে ফেলেছে। অতএব ইবাদত ততটুকুই করতে হবে যতটুকু ইলাহ আমাদের থেকে চান এবং সেই পদ্ধতিতেই করতে হবে যে পদ্ধতি আল্লাহ তা'য়ালা উনার রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে দেখিয়ে এবং বলে দিয়েছেন। অর্থাৎ ইবাদত করতে হলে দলীল দরকার কুরআনের এবং সহীহ হাদীসের। পীরবাবা, আলেম, নেতা বুজুর্গ বলেছে, আমাদের বাপ-দাদারা এভাবে ইবাদত করেছে তাই ইবাদত এভাবে করি বললে চলবে না। আলেম যা বলে তা দলিল না কিন্তু আলেম যা বলে তা প্রমাণ করার জন্য কুরআন আর সুন্নাহর দলিল দরকার। সূরা ফাতেহার

شير المـغضوب عليهـم ولا الضالين

এই আয়াতের মাগদুব শব্দের অর্থ হলো অভিশপ্ত এবং দ্বাল্লিন শব্দের অর্থ হলো গোমরাহ (পথভ্রষ্ট)। মাগদুব হলো ইহুদীরা এবং বিশেষ করে তাদের আলেম সমাজ। তারা আল্লাহর আয়াত লুকিয়ে রেখে আল্লাহর দেখানো ইবাদতের পন্থা পরিবর্তন করে নিজেদের খেয়াল খুশীমত ইবাদত পন্থা দিত, এ জন্য আল্লাহ্ তাদেরকে অভিশপ্ত বলেছেন। দ্বাল্লিন বা গোমরাহ হল খৃষ্টান জাতি। তাদের আল্লাহর কিতাবের এবং নবীর সুন্নাহর কোন জ্ঞানই নেই এবং তারা অন্ধভাবে তাদের আলেম ও পাদ্রীদের অনুসরণ করে। এজন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা নিম্নের আয়াত নাযিল করেছেন।

"তারা নিজেদের ওলামা-মাশায়েখদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের রব বানিয়ে নিয়েছিলো।" (সূরা তওবা : ৩১)

এবার ভেবে দেখুন প্রতিদিন প্রতি রাকাত নামাযে সূরা ফাতিহাতে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর কাছে যে বিষয়ে আশ্রয় চাচ্ছি পুরো মুসলিম জাতি আজ সেই পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত। আমাদের বেশীর ভাগ নামধারী আলেম সমাজ হয়ে গেছে মাগদুব (অভিশপ্ত) কারণ তারা ইসলামের সঠিক ধারণা মানুষকে দিচ্ছে না বরং দ্বীন বিক্রি করে কামাইয়ের ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। শিরক, কুফর, বিদয়াত হয় নিজেরা শুরু করেছে অথবা মুসলিম জনগণকে সেই সম্পর্কে অবহিত করছে না পাছে তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়; আমাদের আলেম সমাজের একটা বিরাট অংশ বর্তমানে PEPSI MACHINE’ হয়ে গেছে। পেপসি মেশিনে যেভাবে পয়সা দিলে পেপসি, সেভেন আপ পাওয়া যায় ঠিক তেমনি ডলার দিলে আল্লাহর হালাল হারামের হুকুম পরিবর্তনকারী সুবিধামত যে কোন ফতুয়া পাওয়া যায় এ সকল আলেম নামধারী মাগদুবদের কাছ থেকে। এদের জন্য এরশাদ হচ্ছেঃ

"আমি যে সকল সুস্পষ্ট নিদর্শন ও পথ নির্দেশ অবতীর্ণ করেছি সর্বসাধারণের জন্য কিতাবে তা সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়ার পরও যারা তা গোপন রাখে, আল্লাহ্ তাদের অভিশাপ দেন এবং অভিশাপকারীরা তাদের অভিশাপ দেয়। [সূরা বাক্বারা : ১৫৯]

"এবং সামান্য মূল্যে আমার আয়াতকে বিক্রয় করিও না; আমারই ক্রোধ হইতে তোমরা আত্মরক্ষা কর।" (সূরা বাকারা : ৪১)

আর মুসলিম জনগণ পরিণত হয়েছে 'দাল্লিন' গোমরাহতে। কারণ তাদের দ্বীন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই। হুজুর আলেম, নেতা পীর সাহেব যা বলেছে তাই অন্ধভাবে অনুসরণ করছে দলিল কাকে বলে তাই জানে না আর দলিল যাচাই করার প্রশ্নই উঠে না। ফলে দেখা যাচ্ছে এ সমস্ত পীর, আলেম ও হুজুরগণ কুরআন সুন্নাহর দলিল বর্হিভূত নিত্য নৈমিত্তিক সকল বিদয়াতের সংযোজন করছে এবং মুসলিম জনগণকে শিরক, কুফরে লিপ্ত করেছে এবং তাদের ঈমান আমল বরবাদ করে নিজেরাও জাহান্নামের পথ ধরছে এবং জনগণকেও জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। [বিঃদ্রঃ আমাদের এ আলোচনা আমভাবে সব আলেমদের জন্য নয়। কারণ আল্লাহ্ তা'য়ালার ইচ্ছায় দুনিয়াতে এখনও অনেক আলেমগণ হকের উপর নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়ে টিকে আছেন।]

রাসূল (সাঃ) বলেছেন "তোমরা পূর্বে আগত লোকদের পথ অনুসরণ করবে [যথাযথভাবে]। তারা গুঁই সাপের গর্তে প্রবেশ করলে, তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে" আমরা বললাম "হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এরা কি ইহুদী ও খৃষ্টান। তিনি বললেন তারা ছাড়া আবার কারা। (বুখারী ও মুসলিম)

এবং রাসূল (সাঃ) বলেছেন- "যে কেউ একটি জনগোষ্ঠিকে অনুকরণ করে সে তাদেরই একজন হয়ে যায়।" (আবু দাউদ এবং মুসনাদে আহমদ বর্ণিত)

"তাহারা বলেঃ কোন ব্যক্তিই বেহেশতে যাইতে পারিবে না যতক্ষণ না সে ইয়াহুদী কিংবা (খৃস্টানদের মতে) খৃষ্টান হইবে। মূলতঃ ইহা তাহাদের মনের কামনা মাত্র। তাহাদের বল, তোমাদের দাবীতে তোমরা সত্যবাদী হইলে তাহার উপযুক্ত প্রমাণ পেশ কর।" (বাকারাহ : ১১১)

উপরোক্ত আয়াত থেকে বুঝা গেল যে, ইহুদী খৃষ্টানরা যখন জান্নাতী হওয়ার ভ্রান্ত দাবী করল তখন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের কাছ থেকে কুরআনের মাধ্যমে দলীল চাইলেন। অতএব দলীল চাওয়া অত্যন্ত জরুরী।

অতএব, আমাদেরকে ইবাদত করার জন্য প্রকৃত জ্ঞান হাসিল করতে হবে। জ্ঞান অর্জন করতে হবে আক্বীদা, ঈমান, তাওহীদ, শিরক, কুফর, সুন্নাত, বিদয়াত জামায়াহ, হিজরত, জিহাদ, খলিফা, এবং কালেমা বা শাহাদাতাইন সহ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ সম্পর্কে। কারণ কেয়ামতের সেই কঠিন সময় জানতাম না বলে মুক্তি পাওয়া যাবে না। জাহান্নামীদেরকে যখন ফেরেশতারা এক হাতে চুলের মুঠি এবং অন্য হাতে পা ধরে চ্যাংদোলা করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে নিয়ে যাবে, তখন জাহান্নামের পাহারাদারগণ জিজ্ঞেস করবেঃ "তোমাদের কাছে কি কোন সুসংবাদ দাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী পৌঁছেনি? তখন কাফেরগণ বলবেঃ "হ্যাঁ, পৌঁছেছিলো কিন্তু আমরা তাদেরকে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতাম এবং মিথ্যা মনে করতাম।" তখন আফসোস করবে এবং বলবেঃ "হায়! আমরা যদি শুনতাম এবং অনুধাবন (জ্ঞান দিয়ে চিন্তা ভাবনা) করতাম, তবে আমরা আজ দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে নিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল হতাম না।" (সূরা মূলক : ১০)

"হায়! সে সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করানো হবে; তখন তারা বলবেঃ হায়! আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা মনে না করতাম, আর ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারতাম।" (সূরা আনআম : ২৭)

তাদের এ আবেদন নিবেদন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আল্লাহ্ সরাসরি তাদের কথাকে প্রত্যাখান করবেন। ইরশাদ হচ্ছে:

"তাদেরকে যদি পূর্ববর্তী জীবনের দিকে ফিরিয়েও দেয়া হয়, তবুও তারা সে সব কাজই করবে যা হতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী।” (সূরা আনআম : ২৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00