📄 ইবাদত কিভাবে করতে হবে
"আকাশ, পৃথিবী ও দু'য়ের মধ্যবর্তী বিষয়গুলোকে আমরা ছেলেখেলার জন্যে সৃষ্টি করিনি। যদি খেলনা তৈরী করাই আমাদের উদ্দেশ্য হতো, তাহলে (অন্যবিধ উপায়ে) খেলার সরঞ্জাম সৃষ্টি করতাম।” (আম্বিয়া ১০-১২)
এই আয়াত থেকে বুঝা গেল স্রষ্টা একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার অগণিত নিয়ামক আমাদের ভোগ করতে দিয়েছেন। তিনি আমাদের থেকে যা চান তা হচ্ছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা শুধু উনার হুকুমের অনুসরণ করব অর্থাৎ শুধুমাত্র উনার ইবাদত করব। ইবাদত করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব (Pleasure of Allah s.w.t) এবং উনি সন্তুষ্ট হলে আমরা জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে বাঁচতে পারবো এবং চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব হবে। এখন একজন ইহুদী, খৃষ্টান, বৌদ্ধ কিংবা হিন্দুকে জিজ্ঞাস করেন কেন দুনিয়াতে এসেছে? তারাও কিন্তু আপনাকে বলবে 'গড' বা ঈশ্বর 'ভগবানের' ইবাদত করতে এসেছি। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? খ্রীস্টানদের দেখুন 'গড' এর সন্তুষ্টির জন্য পাদ্রী এবং নানরা বিয়ে করা ছেড়ে দিয়েছে। হিন্দু সন্নাসীদের দেখুন 'ভগবানের' সন্তুষ্টির জন্য উচ্চ মর্যাদার (হিন্দুদের মাঝে) পুরোহিতরা পশুর ন্যায় উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায়। এদের এ সকল আত্মদানে কি তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে? কখনও নয় এরা সকলে شر البرية (শাররুল বাড়িয়া) বা নিকৃষ্টতম জীব (Worst of creatures) কারণ তারা আল্লাহর হুকুমের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামত ইবাদতের পন্থা উদ্ভাবন করে নিয়ে নিজেরা আমল করছে এবং তাদের অনুসারীদেরকে এ সকল ভ্রান্ত আমলের দিকে ডাকছে। "রাহবানিয়াত (অত্যধিক ভয়ের কারণে গৃহীত কৃচ্ছসাধনা ও বৈরাগ্য নীতি) তারা নিজেরাই রচনা করে নিয়েছে। আমরা তাদের উপর এ নীতি লিখে ফরয করে দেইনি। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি সন্ধানে তাহারা নিজেরাই এই 'বিদ'আত' বানাইয়াছে।" (আল হাদীদ: ২৭)
অতএব পরকালে এদের স্থান হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এদের সম্পর্কে কোরআনে বলেনঃ
"বলুন : আমি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়; অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে।” [সূরা কাহাফ ১০৩-১০৪]
অর্থাৎ 'ইবাদত' করতে হবে ইলাহর ইচ্ছা অনুযায়ী দলিল মোতাবেক (কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে)। নিজের আলেম, পুরোহিত, পাদ্রী, বুজুর্গ, বাপ, দাদার এবং নিজের নফসের ইচ্ছা অনুযায়ী নয়। যিনি রব, মালিক ইলাহ তার ইচ্ছানুযায়ীই তার বান্দাকে চলতে হবে। এরশাদ হচ্ছেঃ
"তাহারা তো আদিষ্ট হইয়াছিল আল্লাহ্ আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া একনিষ্টভাবে তাঁহার ইবাদত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও যাকাত দিতে, ইহাই সঠিক দ্বীন।" [বাইয়্যিনাহ ০৫]
"বল, "হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে বলছো?" [আয যুমার: ৬৪]
আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ইবাদত করতে হবে বুঝলাম কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা কোনটি কিভাবে বুঝবো। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেন:
"আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তস্ত্র হবে। আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অনন্তকাল সেখানে থাকবে।” (আল-বাকারা: ৩৮-৩৯)
প্রত্যেক রাসূল আল্লাহ্ তাআলার তরফ থেকে শরীয়ত ও কিতাব প্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু কোন নবীই শরীয়ত ও কিতাব প্রাপ্ত হননি। তাঁরা শুধু রাসূলদের আনীত কিতাবের মাধ্যমেই তাঁদের উম্মতদেরকে পরিচালিত করতেন। অর্থাৎ সব রাসূলই নবী ছিলেন কিন্তু সব নবী রাসূল (কিতাব ও শরীয়াত প্রাপ্ত) ছিলেন না। অর্থাৎ প্রত্যেক যুগেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নবী ও রাসূল পাঠিয়ে তাদেরকে তার ইবাদতের পন্থা বলে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন কিভাবে তিনি ইবাদত চান। "প্রতিটি কওমের জন্য রয়েছে পথ প্রদর্শক।” [রাদ: ০৭] "কোন রাসূল না পাঠিয়ে আমি কাউকে শাস্তি দেই না।” (বনী ইসরাইল: ১৫) এখন আমাদের বুঝতে হবে ইবাদত করতে হলে দলিল দরকার আর দলিল হল আসমানি কিতাব (কুরআন) ও নবীর সুন্নাহ। রাসূল (সাঃ) আসার পূর্ব পর্যন্ত যত নবী ও রাসূল এসেছেন এবং তারা যে সকল আসমানি কিতাব রবের কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন তা সেই সকল নবী ও রাসূলের নিজ নিজ উম্মতের জন্য ছিল এবং যেগুলো সবই বাতিল হয়ে গেছে কুরআন নাযিলের পর। কারণ প্রথমত পূর্ববর্তী কিতাবগুলিকে আলেম ও পাদ্রীরা বিকৃত করে ফেলেছে এবং দ্বিতীয়ত শেষ নবী রাসূল (সাঃ) যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন আল কুরআন যা পূর্ববর্তী সকল কিতাবকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে।
"আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করিলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করিলাম হাদিস ওমর (রাঃ) ও।" [সূরা মায়েদা : ৩]
"নিশ্চয়ই আমি আত্মসমর্পণকারীদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ (হে নবী) তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি। (নাহল: ৮৯)
এই আয়াতগুলি থেকে বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তারই ইবাদত করার জন্য আমাদের জন্য একটি শরীয়াত এবং একটি কর্মপথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এই কুরআনে। অর্থাৎ তিনি কিভাবে আমাদের কাছ থেকে ইবাদত চান তার জন্য আল-কোরআন নাযিল করেছেন এবং রাসূল (সাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন যেন তিনি দেখিয়ে দিয়ে যান কিভাবে আল-কুরআন মোতাবেক ইবাদত করতে হবে। অর্থাৎ আল-কুরআন হল থিওরী এবং আল-হাদীস (সহীহ) হল প্রাকটিক্যাল।
হযরত ইয়াযীদ ইবনে বাবনুস (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর চরিত্র কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বলেনঃ "কুরআনই ছিল রাসূলুলাহ (সাঃ)-এর চরিত্র।” (আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
এখন কিয়ামত পর্যন্ত আমাদরেকে আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা বানী হিসেবে শুধু আল-কুরআনকে অনুসরণ করতে হবে এবং রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাহকে মেনে নিতে হবে। ইহুদী খ্রীষ্টানরা যে বানী অনুসরণ করে তা বিকৃত হয়ে গেছে এবং তা বিকৃত হবার যথেষ্ট দলিল প্রমাণ রয়েছে। তারা নিজেরাই দ্বিধাবিভক্ত কোনটা অনুসরণ করবো নিউ টেষ্টামেন্ট না ওলড টেষ্টামেন্ট। তারা বুঝে উঠতে পারছে না তিন গড কিভাবে আবার এক গড হয়ে যায়। তাদের লোকদের দ্বারা বিকৃত করা কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচুর ভারসাম্যহীন কথা বার্তা। তাদের কিতাবের অবিকৃত থাকার কোন সনদ নাই। অথচ আল কোরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণ ভারসাম্য পূর্ণ কিতাব। আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা নিজেই একে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করার ওয়াদা করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে।
"আমিই কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি এবং অবশ্য আমিই উহার সংরক্ষক।" [সূরা হিজর : ৯]
একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। ধরুন দুনিয়াতে যত কিতাব আছে কোরআন সহ সব এক জায়গায় একত্রিত করে আটকে রাখি। এবার ঠিক যেইভাবে ছিল পূণর্বার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন না করে দুনিয়ার কোন কিতাবটা আবার অবিকল লিখে রাখা সম্ভব তা বলতে পারেন কি? তা হল আল কোরআন। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আল কুরআনকে হেফাযত করবেন বলেছেন আর তিনি হেফাজত করেছেন মানুষের অন্তরে হেফয করার মাধ্যমে। দুনিয়াতে বর্তমানে দুই কোটি হাফেজ রয়েছে। দিন দিন আল্লাহর রহমতে হাফেজ বেড়েই চলছে কমছে না। দুনিয়ার অন্য কোন কিতাবের হাফেজ নেই। যার ফলে কোরআন বিকৃত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই এবং তা শয়তানের দল চাইলেও করতে পারছে না, সাথে সাথে ধরে ফেলা হচ্ছে (সুবহান আল্লাহ্)। এছাড়াও সম্পূর্ন বিজ্ঞানময় কোরআন। ১৪০০ বৎসর আগে রাসূল (সাঃ) যে অহি নিয়ে এসেছিলেন তা আজও জ্ঞান বিজ্ঞানের রহস্য উম্মোচনে প্রধান হাতিয়ার। বিজ্ঞানের অনেক নতুন থিওরী আসে আবার অনেকগুলি ভুল প্রমাণিত হয়ে অতল গহবরে তলিয়ে যায়। অথচ কোরআনে মহাজ্ঞানী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যা কিছু বলে দিয়েছেন তাই অনন্ত সত্য ও অপরিবর্তনীয়। তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ থেকে নিয়ে দুনিয়াতে যত ধর্ম এবং তাদের ধর্মগ্রন্থ আছে তা সবই বিকৃত এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও ভারসাম্যহীন। তাদের কিতাবগুলি না পড়লে বুঝবেন না তা কত কুরুচিপূর্ণ ও ভারসাম্যহীন বিষয় সম্বলিত।
"আল্লাহ অতি উত্তম কালাম নাযিল করিয়াছেন। ইহা এমন এক কিতাব যাহার সমস্ত অংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। (আয যুমার: ২৩)
📄 ইবাদত দলিল ভিত্তিক (কুরআন ও সুন্নাহ-র)
একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ফজরের ফরজ নামাজ দুই রাকাত। এখন কেউ যদি চিন্তা করে এত ভোরে কষ্ট করে উঠে কেন শুধু দুই রাকাআত ফরজ নামাজ পড়বো! চার রাকাত পড়ি। রাসূল (সাঃ) দেখিয়ে দিয়ে গেছেন ফজরের ফরজ নামায দুই রাকাত এবং তাতে সর্বমোট দুইটা রুকু চারটা সেজদা করতে হবে, এখন সে যদি ভাবে কম তো আর করিনি চাররাকাত পড়ছি চারটা রুকু আটটা সেজদা দিচ্ছি অসুবিধাটা কিসে। কেউ যদি এত ভাল চিন্তা করে ফজরে চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়া শুরু করে আর লোকদেরকেও পড়তে বলে তবে কি হবে বলুন? নিশ্চয় সবাই বলা শুরু করবেন সেই মানুষটা মুরতাদ ও জিন্দিক হয়ে গেছে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার ইচ্ছায় রাসূল (সাঃ) যেভাবে ইবাদতের পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তা লোকটা পরিবর্তন করে ফেলেছে। অতএব ইবাদত ততটুকুই করতে হবে যতটুকু ইলাহ আমাদের থেকে চান এবং সেই পদ্ধতিতেই করতে হবে যে পদ্ধতি আল্লাহ তা'য়ালা উনার রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে দেখিয়ে এবং বলে দিয়েছেন। অর্থাৎ ইবাদত করতে হলে দলীল দরকার কুরআনের এবং সহীহ হাদীসের। পীরবাবা, আলেম, নেতা বুজুর্গ বলেছে, আমাদের বাপ-দাদারা এভাবে ইবাদত করেছে তাই ইবাদত এভাবে করি বললে চলবে না। আলেম যা বলে তা দলিল না কিন্তু আলেম যা বলে তা প্রমাণ করার জন্য কুরআন আর সুন্নাহর দলিল দরকার। সূরা ফাতেহার
شير المـغضوب عليهـم ولا الضالين
এই আয়াতের মাগদুব শব্দের অর্থ হলো অভিশপ্ত এবং দ্বাল্লিন শব্দের অর্থ হলো গোমরাহ (পথভ্রষ্ট)। মাগদুব হলো ইহুদীরা এবং বিশেষ করে তাদের আলেম সমাজ। তারা আল্লাহর আয়াত লুকিয়ে রেখে আল্লাহর দেখানো ইবাদতের পন্থা পরিবর্তন করে নিজেদের খেয়াল খুশীমত ইবাদত পন্থা দিত, এ জন্য আল্লাহ্ তাদেরকে অভিশপ্ত বলেছেন। দ্বাল্লিন বা গোমরাহ হল খৃষ্টান জাতি। তাদের আল্লাহর কিতাবের এবং নবীর সুন্নাহর কোন জ্ঞানই নেই এবং তারা অন্ধভাবে তাদের আলেম ও পাদ্রীদের অনুসরণ করে। এজন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা নিম্নের আয়াত নাযিল করেছেন।
"তারা নিজেদের ওলামা-মাশায়েখদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের রব বানিয়ে নিয়েছিলো।" (সূরা তওবা : ৩১)
এবার ভেবে দেখুন প্রতিদিন প্রতি রাকাত নামাযে সূরা ফাতিহাতে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর কাছে যে বিষয়ে আশ্রয় চাচ্ছি পুরো মুসলিম জাতি আজ সেই পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত। আমাদের বেশীর ভাগ নামধারী আলেম সমাজ হয়ে গেছে মাগদুব (অভিশপ্ত) কারণ তারা ইসলামের সঠিক ধারণা মানুষকে দিচ্ছে না বরং দ্বীন বিক্রি করে কামাইয়ের ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। শিরক, কুফর, বিদয়াত হয় নিজেরা শুরু করেছে অথবা মুসলিম জনগণকে সেই সম্পর্কে অবহিত করছে না পাছে তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়; আমাদের আলেম সমাজের একটা বিরাট অংশ বর্তমানে PEPSI MACHINE’ হয়ে গেছে। পেপসি মেশিনে যেভাবে পয়সা দিলে পেপসি, সেভেন আপ পাওয়া যায় ঠিক তেমনি ডলার দিলে আল্লাহর হালাল হারামের হুকুম পরিবর্তনকারী সুবিধামত যে কোন ফতুয়া পাওয়া যায় এ সকল আলেম নামধারী মাগদুবদের কাছ থেকে। এদের জন্য এরশাদ হচ্ছেঃ
"আমি যে সকল সুস্পষ্ট নিদর্শন ও পথ নির্দেশ অবতীর্ণ করেছি সর্বসাধারণের জন্য কিতাবে তা সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়ার পরও যারা তা গোপন রাখে, আল্লাহ্ তাদের অভিশাপ দেন এবং অভিশাপকারীরা তাদের অভিশাপ দেয়। [সূরা বাক্বারা : ১৫৯]
"এবং সামান্য মূল্যে আমার আয়াতকে বিক্রয় করিও না; আমারই ক্রোধ হইতে তোমরা আত্মরক্ষা কর।" (সূরা বাকারা : ৪১)
আর মুসলিম জনগণ পরিণত হয়েছে 'দাল্লিন' গোমরাহতে। কারণ তাদের দ্বীন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই। হুজুর আলেম, নেতা পীর সাহেব যা বলেছে তাই অন্ধভাবে অনুসরণ করছে দলিল কাকে বলে তাই জানে না আর দলিল যাচাই করার প্রশ্নই উঠে না। ফলে দেখা যাচ্ছে এ সমস্ত পীর, আলেম ও হুজুরগণ কুরআন সুন্নাহর দলিল বর্হিভূত নিত্য নৈমিত্তিক সকল বিদয়াতের সংযোজন করছে এবং মুসলিম জনগণকে শিরক, কুফরে লিপ্ত করেছে এবং তাদের ঈমান আমল বরবাদ করে নিজেরাও জাহান্নামের পথ ধরছে এবং জনগণকেও জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। [বিঃদ্রঃ আমাদের এ আলোচনা আমভাবে সব আলেমদের জন্য নয়। কারণ আল্লাহ্ তা'য়ালার ইচ্ছায় দুনিয়াতে এখনও অনেক আলেমগণ হকের উপর নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়ে টিকে আছেন।]
রাসূল (সাঃ) বলেছেন "তোমরা পূর্বে আগত লোকদের পথ অনুসরণ করবে [যথাযথভাবে]। তারা গুঁই সাপের গর্তে প্রবেশ করলে, তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে" আমরা বললাম "হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এরা কি ইহুদী ও খৃষ্টান। তিনি বললেন তারা ছাড়া আবার কারা। (বুখারী ও মুসলিম)
এবং রাসূল (সাঃ) বলেছেন- "যে কেউ একটি জনগোষ্ঠিকে অনুকরণ করে সে তাদেরই একজন হয়ে যায়।" (আবু দাউদ এবং মুসনাদে আহমদ বর্ণিত)
"তাহারা বলেঃ কোন ব্যক্তিই বেহেশতে যাইতে পারিবে না যতক্ষণ না সে ইয়াহুদী কিংবা (খৃস্টানদের মতে) খৃষ্টান হইবে। মূলতঃ ইহা তাহাদের মনের কামনা মাত্র। তাহাদের বল, তোমাদের দাবীতে তোমরা সত্যবাদী হইলে তাহার উপযুক্ত প্রমাণ পেশ কর।" (বাকারাহ : ১১১)
উপরোক্ত আয়াত থেকে বুঝা গেল যে, ইহুদী খৃষ্টানরা যখন জান্নাতী হওয়ার ভ্রান্ত দাবী করল তখন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের কাছ থেকে কুরআনের মাধ্যমে দলীল চাইলেন। অতএব দলীল চাওয়া অত্যন্ত জরুরী।
অতএব, আমাদেরকে ইবাদত করার জন্য প্রকৃত জ্ঞান হাসিল করতে হবে। জ্ঞান অর্জন করতে হবে আক্বীদা, ঈমান, তাওহীদ, শিরক, কুফর, সুন্নাত, বিদয়াত জামায়াহ, হিজরত, জিহাদ, খলিফা, এবং কালেমা বা শাহাদাতাইন সহ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ সম্পর্কে। কারণ কেয়ামতের সেই কঠিন সময় জানতাম না বলে মুক্তি পাওয়া যাবে না। জাহান্নামীদেরকে যখন ফেরেশতারা এক হাতে চুলের মুঠি এবং অন্য হাতে পা ধরে চ্যাংদোলা করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে নিয়ে যাবে, তখন জাহান্নামের পাহারাদারগণ জিজ্ঞেস করবেঃ "তোমাদের কাছে কি কোন সুসংবাদ দাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী পৌঁছেনি? তখন কাফেরগণ বলবেঃ "হ্যাঁ, পৌঁছেছিলো কিন্তু আমরা তাদেরকে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতাম এবং মিথ্যা মনে করতাম।" তখন আফসোস করবে এবং বলবেঃ "হায়! আমরা যদি শুনতাম এবং অনুধাবন (জ্ঞান দিয়ে চিন্তা ভাবনা) করতাম, তবে আমরা আজ দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে নিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল হতাম না।" (সূরা মূলক : ১০)
"হায়! সে সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করানো হবে; তখন তারা বলবেঃ হায়! আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা মনে না করতাম, আর ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারতাম।" (সূরা আনআম : ২৭)
তাদের এ আবেদন নিবেদন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আল্লাহ্ সরাসরি তাদের কথাকে প্রত্যাখান করবেন। ইরশাদ হচ্ছে:
"তাদেরকে যদি পূর্ববর্তী জীবনের দিকে ফিরিয়েও দেয়া হয়, তবুও তারা সে সব কাজই করবে যা হতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী।” (সূরা আনআম : ২৮)