📘 তাগুত > 📄 সাহাবারা (রাঃ) কিভাবে মুসলিম হয়ে ছিলেন

📄 সাহাবারা (রাঃ) কিভাবে মুসলিম হয়ে ছিলেন


আপনারা হয়তো শুনেছেন যে, আরব দেশে মদ পান করার প্রথা খুব বেশী প্রচলিত ছিল। নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই মদের জন্য একেবারে পাগল প্রায় ছিল। আসলে মদের প্রতি তাদের অন্তরে গভীর আকর্ষণ বর্তমান ছিল। এর প্রশংসা করে কত যে গযল-গীত তারা রচনা করেছিল, তার হিসেব নেই। মদের জন্য প্রাণ দিতেও তারা প্রস্তুত হতো। একথাও আপনারা জানেন যে, একবার মদের নেশা লাগলে তা দূর হওয়া বড়ই মুশকিল। মদখোর ব্যক্তিরা মদের জন্য প্রাণ দিতে পারে, কিন্তু মদ ত্যাগ করতে পারে না। কোন মদখোর যদি মদ না পায় তবে তার অবস্থা কঠিন রোগীর অপেক্ষাও খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু যখন মদ নিষিদ্ধ হওয়ার আয়াত নাযিল হয়েছিল তখন কি অবস্থা হয়েছিল তা কি আপনারা কখনও শুনেছেন? মদের জন্য পাগল জান দিতে প্রস্তুত সেই আরবরাই এ হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে নিজেদের হাতেই মদের বড় বড় পাত্র ভেংগে ফেলেছিল। মদীনার অলিতে-গলিতে বৃষ্টির পানির মত মদ বয়ে গিয়েছিল।

হযরত আবু বুরাইদা (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, "একদা আমরা একটা মদের আসরে বসাছিলাম, হঠাৎ আমি উঠে রওয়ানা হলাম এবং রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। ইতিমধ্যে মদ হারাম হওয়া সম্পর্কিত নির্দেশ এসে গেছে। আমি আমার সংগীদের কাছে ফিরে এলাম এবং তাদের সামনে মদ হারাম হওয়া সম্পর্কিত আয়াত (মায়েদা ৪ ৯০,৯১) 'ফাহাল আনতুম মুনতাহুন' পর্যন্ত পাঠ করে শুনালাম। তখন কতিপয় লোকের হাতে পানপাত্র ছিল, যা থেকে তারা কিছু পান করেছে এবং কিছু বাকী আছে। নির্দেশ শুনার সাথে সাথে সবাই পানপাত্র উপুর করে দিলেন এবং বারবার বলতে থাকলেন, 'ইনতাহাইনা রব্বানা' 'ইনতাহাইনা রব্বানা'- "হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিরত হলাম"- (তাসীরে ইবনে কাসীর)

"লোকদের ভয় দেখানোর জন্য কোন সংস্থা কায়েম করারও প্রয়োজন হল না, আর সরকারকেও মৃত্যুদণ্ড, কয়েদ অথবা মালক্রোক করতে হল না। বরং লোকেরা কুরআনের নির্দেশ শুনার সাথে সাথে স্বেচ্ছায় তা মেনে নিল।" (মিনহাজুল কুরআন ফিত-তারবিয়াহ, মুহাম্মাদ শাদীদ)।

সাফিয়্যা বিনতে শাইবা বলেন, একদা আমরা আয়েশা (রা)-র কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় কুরাইশ মহিলাগণ এবং তাদের গুণকীর্তন উল্লেখিত হল। হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, কুরাইশ মহিলাদের সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আনসার মহিলাদের তুলনায় অধিক মর্যাদার অধিকারিণী এবং কুরআন মজীদের সত্যতা স্বীকার ও তার উপর ঈমানদার নারী আমি আর দেখিনি। যখন নিম্নের আয়াত নাযিল হলঃ এবং নিজেদের বক্ষদেশের উপর ওড়নার আঁচল ফেলে রাখে- (নুরঃ ৩১) তখন তাদের পুরুষ লোকেরা বাড়ি ফিরে গিয়ে নারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ এই আয়াত নিজেদের স্ত্রী, কন্যা, বোন এবং অপরাপর আত্মীয়া মহিলাদের শুনালেন। এই নির্দেশ শুনার সাথে সাথে প্রতিটি মহিলা উঠে গিয়ে চাদর দিয়ে নিজেদের মাথা ঢেকে নিল। (আবু দাউদ)

শেখ মুহাম্মদ আলী আল রিফাই সাহাবাদের (রাঃ) সংক্রান্ত আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন সাহাবারা (রাঃ) আল্লাহর হুকুমের অনুসরণের জন্য নিজেদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে কুরবানী দিয়েছেন। কুরবানী দিতে দিতে উনারা ইসলাম যে উচ্চ আসনে রয়েছে সেই আসনে আসীন হয়েছিলেন। আর বর্তমান দিনের মুসলমান দাবীদাররা নিজেদের জীবনের কুরবাণী করার কথা তো অনেক দূরে, ইসলামকে কুরবানী দিতে দিতে নিজেদের মানে নামিয়ে আনতে তৎপর। আর এ কাজে তাদের সহযোগী হচ্ছে বর্তমান কালের আলেম নামধারী একদল 'মাগদুবের' দল।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমাকে হুকুম করেছেন আমি নিজে যেন সর্বপ্রথম মুসলিম হওয়ার ঘোষণা দেই

আপনি বলে দিনঃ "আমাকে তো এই আদেশই করা হয়েছে যে, সকলের আগে আমি তাহার সম্মুখে মাথা নত করিয়া দিব। আমাকে তাকীদ করা হয়েছে যে, (কেহ যদি ইলাহর সাথে শরীক করে তবে সে করুক কিন্তু) তুমি কিছুতেই মুশরিকদের মধ্যে শামিল হবে না।" (সূরা আল-আনাম ৬ ১৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00