📘 তাগুত > 📄 মুসলিমদের কেন এ পরিণতি

📄 মুসলিমদের কেন এ পরিণতি


মুসলমানের ঘরে জন্মগ্রহণকারী নিজেদের মুসলমান বলে মনে করে এবং সেই মুসলমানের উপর আল্লাহ্ তাআলার রহমত বর্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করে। পক্ষান্তরে এই দুনিয়ায় মুসলমানদের যে দুরাবস্থা হচ্ছে তা একবার খেয়াল করে দেখা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের কাছে কিতাব পাঠিয়েছেন, তা পড়ে মুসলমানগণ প্রকৃত মালিককে চিনতে পারে; কিন্তু ঐ কিতাবে যা লিখিত আছে, তা জানার জন্য মুসলমানগণ একটুও চেষ্টা করেছে কি? আল্লাহ্ তাআলা তাদের প্রতি রাসূল পাঠিয়েছেন, তিনি মুসলিম হওয়ার উপায় ও নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তাঁর নবী দুনিয়ায় এসে কি শিক্ষা দিয়েছেন, তা জানার জন্য তারা কখনও যত্নবান হয়েছি কি? আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে ইজ্জত লাভ করার পথের সন্ধান বলে দিয়েছেন, কিন্তু তারা সেই পথে চলছে কি? যেসব কাজ মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে, আল্লাহ তাআলা তা এক এক করে বলে দিয়েছেন, কিন্তু মুসলমান কি সেসব কাজ ত্যাগ করেছে? এ প্রশ্নগুলোর কি উত্তর হতে পারে?

কাফের অর্থাৎ আল্লাহর অবাধ্য বান্দা যাদেরকে মনে করি, তারা আমাদের ওপর সকল ক্ষেত্রে বিজয়ী কেন? আমাদের ও কাফেরদের মাঝে বর্তমানে শুধু নামেই পার্থক্য রয়ে গিয়েছে। কেননা আমরা জানি যে, কুরআন আল্লাহ্ তাআলার কিতাব, অথচ আমরা কি এর সাথে কাফেরের ন্যায়ই ব্যবহার করছি না? আমরা জানি, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রকৃত শ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী, অথচ তাঁর অনুসরণ করা আমরা কাফেরদের মতই ত্যাগ করেছি। আমরা জানি যে, কুরআন হল মুসলিম তথা মানব জাতির একমাত্র সংবিধান। কিন্তু আমরা মানুষের দ্বারা লিখিত সংবিধান দ্বারা সমাজ, জাতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। আমরা জানি রাসূল (সাঃ) আনীত শরীয়ত মুতাবেক বিচার ফায়সালা করতে হবে। মানুষের তৈরি করা আইনের (তাগুতের আইন) কাছে বিচার-ফায়সালা চাওয়া আলাহর সাথে শিরক হওয়া সত্ত্বেও কুফর কোর্টে বিচার ফায়সালার জন্য যাচ্ছি। মুসলিমদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার হুকুম দলাদলি না করে সর্বাবস্থায় (অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্র থাকুক বা না থাকুক) মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককে একজন খলিফার বা আমীরুল মু'মিনীনের নেতৃত্বে একত্রিত থাকা। অথচ আমরা জাতীয়তাবাদ, দেশ, ভাষা, বর্ণে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মাঝে দলাদলি করে শত শত ভাগে বিভক্ত রয়েছি। মিথ্যাবাদীর প্রতি আল্লাহ তাআলা লানত করেছেন এবং ঘুষখোরদের ও ঘুষদাতা উভয় নিশ্চিতরূপে দোযখে যাবে বলে ঘোষণা করেছেন, সুদখোর ও সুদদাতাকে জগন্য পাপী বলে অভিহিত করেছেন। চোগলখুরী ও গীবতকারীকে আপন ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন, অশ্লীলতা ও লজ্জাহীনতার জন্য কঠিন শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন। কিন্তু এ সমস্ত কথা জানার পরও আমরা কাফেরদের মতই বেপরোয়াভাবে এসব কাজ করে যাচ্ছি। মনে হয়, যেন আমাদের মধ্যে আল্লাহর ভয় বিন্দু মাত্র নেই। এ জন্য কাফেরদের তুলনায় আমরা কিছুটা মুসলমান হয়ে থাকলেও আমাদের জীবনে তার কোন প্রতিফলন আমরা পাচ্ছি না। বরং কেবল শাস্তিই পাচ্ছি নানাভাবে এবং নানাদিক দিয়ে। আমাদের ওপর কাফেরদের জয়লাভ এবং সর্বত্র আমাদের পরাজয় ও অপরাধের শাস্তি।

আল্লাহর কালাম মানুষের কাছে এ জন্য আসেনি যে, এটা পেয়েও সে দুর্ভাগ্য ও দুঃখ-মুসিবতের মধ্যে পড়ে থাকবে। পবিত্র কুরআন তো সৌভাগ্য ও সার্থকতা লাভ করার একমাত্র উৎস; আল্লাহ তাআলা নিজেই বলে দিয়েছেনঃ

طه ما انزلنا عليك القرآن لتشقى (طه : (۲۵))

"ত্ব-হা হে নবী! তোমার প্রতি কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, এটা সত্ত্বেও তুমি হতভাগ্য হয়ে থাকবে।" (সূরা ত্ব-হাঃ ১-২)

কোন জাতির কাছে আল্লাহ্ কালাম বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তার লজ্জিত ও লাঞ্ছিত হওয়া, পরের অধীন থাক, অপমানিত ও পদদলিত হওয়া এবং পরের দ্বারা জন্তু-জানোয়ারের মত বিতাড়িত ও নির্যাতিত হওয়া একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার। এমন দুঃখপূর্ণ অবস্থা সেই জাতির ঠিক তখনই হতে পারে যখন তারা আল্লাহর কালামের ওপর যুলুম করতে শুরু করে। বনী ইসরাঈলের অবস্থা আপনাদের অজানা নয়। তাদের প্রতি তাওরাত ও ইনজিল নাযিল করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল:

"তাওরাত, ইনজিল এবং অন্যান্য যেসব কিতাব তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছিল, তারা যদি তা অনুসরণ করে চলতো, তবে তাদের প্রতি আকাশ হতে রিযিক বর্ষিত হতো এবং যমীন হতে খাদ্যদ্রব্য ফুটে বের হতো।” (মায়েদা: ৬৬)

কিন্তু তারা আল্লাহ তাআলার এসব কালামের প্রতি যুলুম করেছিল তার ফলে- লাঞ্ছনা এবং পরমুখাপেক্ষিতা তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল এবং আল্লাহ্ গযবে তারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছিল, এর কারণ এই যে, তারা আল্লাহর বাণীকে অমান্য করতে শুরু করেছিল, আর পয়গাম্বরগণকে অকারণে হত্যা করেছিল। তাছাড়া আরও কারণ এই যে, তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল এবং তাদের জন্য আল্লাহ্ তাআলা যে সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন, তা তারা অতিক্রম করে গিয়েছিল।" (সূরা বাকারা: ৬১)

অতএব, যে জাতি আল্লাহর কিতাব ধারণ করে থাকা সত্ত্বেও দুনিয়ায় লাঞ্ছিত, পদদলিত এবং পরের অধীন ও পরের তুলনায় শক্তিহীন হয়, নিঃসন্দেহে মনে করবেন যে, তারা নিশ্চয়ই আল্লাহর কালামের ওপর যুলুম করছে।। অতএব, আল্লাহর এ গযব হতে রেহাই পাওয়ার এছাড়া আর কোন উপায় থাকতে পারে না যে তারা আল্লাহর কালামের প্রতি যুলুম করা ত্যাগ করবে এবং ষোলআনা 'হক' আদায় করতে চেষ্টা করবে।

📘 তাগুত > 📄 মুসলিম কাকে বলে

📄 মুসলিম কাকে বলে


মুসলমান কাকে বলে এবং মুসলিম শব্দের অর্থ কি, একথা প্রত্যেক মুসলমানকে সর্বপ্রথমেই জেনে নিতে হবে। কারণ মানুষ্যত্ব কাকে বলে এবং মানুষ ও পশুর মধ্যে পার্থক্য কি, তা যদি মানুষের জানা না থাকে, তবে সে জানোয়ারের মত কাজ করতে শুরু করবে। অনুরূপভাবে যদি কেউ একথা জানতে না পারে যে, মুসলমান ও অমুসলমানের মধ্যে কেমন করে পার্থক্য করা যায়, তবে সে তো অমুসলমানের মত কাজ-কর্ম করতে শুরু করবে। অতএব, প্রত্যেক মুসলমানকে এবং মুসলমানের প্রত্যেকটি সন্তানকেই ভাল করে জেনে নিতে হবে যে, সে যে নিজেকে নিজে মুসলমান মনে করে এ মুসলমান হওয়ার অর্থ কি? মুসলমান হওয়ার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে কি পরিবর্তন ও পার্থক্য হয়ে যায়? তার ওপর কি কর্তব্য ও দায়িত্ব এসে পড়ে? ইসলামের কোন সীমার মধ্যে থাকলে মানুষ মুসলমান থাকতে পারে এবং কোন সীমা অতিক্রম করলেই বা সে মুসলমান হতে খারিজ হয়ে যায়? এসব কথা না জানলে মুখ দিয়ে সে মুসলমানীর যতই দাবী করুক না কেন, তার মুসলমান থাকা সম্ভব নয়।

মুসলিম কাকে বলে একথাটি ভাল করে বুঝার জন্য সর্ব প্রথম আপনাকে কুফর ও ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আল্লাহর হুকুম পালন করতে অস্বীকার করাকেই 'কুফর' বা কাফেরী বলা হয়; আর কেবলমাত্র আল্লাহর হুকুম পালন করে চলা এবং আল্লাহর দেয়া পবিত্র কুরআনের বিপরীত যে নিয়ম, যে আইন এবং যে আদেশই হোক না কেন তা অমান্য করাকেই বলা হয় ইসলাম। ইসলাম এবং 'কুফরের' এ পার্থক্য কুরআন মজীদের নিম্নলিখিত আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে:

"আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে যারা ফায়সালা করে না তারাই কাফের।" (সূরা মায়েদা : ৪৪)

আদালত ও ফৌজদারীতে যেসব মোকদ্দমা উপস্থিত হয় কেবল শুধুমাত্র সেই সবের বিচার-ফায়সালা কুরআন-হাদীস অনুসারে করার কথা এখানে বলা হয়নি। বরং প্রত্যেকটি মানুষ তার জীবনের প্রত্যেকটি কাজের সময় যে ফায়সালা করে সেই ফায়সালার কথাই এখানে বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যাপারেই আপনাদের সামনে এ প্রশ্ন ওঠে যে, এ কাজ করা উচিত কি উচিত নয়, অমুক কাজ এ নিয়মে করবো কি আর কোন নিয়মে করবো? এসময় আপনাদের কাছে সাধারণত দু' প্রকারের নিয়ম এসে উপস্থিত হয়। এক প্রকারের নিয়ম আপনাদেরকে দেখায় আল্লাহর কুরআন এবং রাসূলের সুন্নাহ। আর এক প্রকারের নিয়ম উপস্থিত করে আপনদের নফস, বাপ-দাদা হতে চলে আসা নিয়ম-প্রথা অথবা মানব রচিত আইন। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি আল্লাহর দেয়া নিয়ম বাদ দিয়ে অন্যান্য পন্থা অবলম্বন করে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, প্রকৃতপক্ষে সে কুফরির পথই অবলম্বন করে। যদি সে তার সমস্ত জীবন সম্বন্ধে এ সিদ্ধান্ত করে নেয় এবং কোন কাজেই যদি আল্লাহর দেয়া নিয়ম অনুসরণ না করে তবে সে পুরোপুরিভাবে কাফের। যদি সে কতক কাজে আল্লাহর হেদায়াত মেনে চলে আর কতকগুলো নিজের নফসের হুকুম মত কিংবা বাপ-দাদার প্রথা মত অথবা মানুষের রচিত আইন অনুযায়ী করে তবে যতখানি আল্লাহ্ আইনের বিরুদ্ধাচারণ করবে, সে ঠিক ততখানি কুফরির মধ্যে লিপ্ত হবে। এ হিসেবে কেউ অর্ধেক কাফের কেউ চার ভাগের এক ভাগ কাফের। মোটকথা, আল্লাহর আইনের যতখানি বিরোধিতা করা হবে ততখানি কুফরী করা হবে, তাতে সন্দেহ নেই। কুরআন শরীফে বলা হয়েছে:

"তোমরা কি আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া অন্য কারো আনুগত্য করতে চাও? অথচ আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিস ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তাঁরই আনুগত্য করে যাচ্ছে। আর সকলেই তাঁর কাছে ফিরে যাবে।" (আলে ইমরান: ৮৩)

আল্লাহর ইবাদতের অর্থ কেবল এটাই নয় যে, দিন-রাত পাঁচবার তাঁর সামনে সিজদা করলেই ইবাদতের যাবতীয় দায়িত্ব প্রতিপালিত হয়ে যাবে। বরং দিন-রাত সর্বক্ষণ একমাত্র আল্লাহ তাআলার হুকুম পালন করে চলাকেই প্রকৃতপক্ষে ইবাদত বলে। যে কাজ করতে তিনি নিষেধ করেছেন, তা হতে ফিরে থাকা এবং তিনি যা করতে আদেশ করেছেন তা পূর্ণরূপে পালন করাই হচ্ছে ইবাদত। কারণ হুকুম দেয়ার ক্ষমতা তো কেবলমাত্র আল্লাহ্ তাআলার, "আল্লাহর হুকুম ছাড়া মানুষ অন্য কারো হুকুম মানতে পারে না।” মানুষের ইবাদত-বন্দেগী তো কেবল তিনিই পেতে পারেন, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার অনুগ্রহে মানুষ বেঁচে আছে। আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিসই তাঁর হুকুম পালন করে চলছে। একটি পাথর অন্য পাথরের হুকুম মত কাজ করে না, একটি গাছ আর একটি গাছের আনুগত্য করে না, কোন পশু অন্য পশুর হুকুমদারী করে চলে না। কিন্তু মানুষ কি পশু, গাছ ও পাথর অপেক্ষা নিকৃষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা তো শুধু আল্লাহর আনুগত্য করবে, আর মানুষ আল্লাহকে ছেড়ে অন্য মানুষের নির্দেশ মত চলতে শুরু করবে? একথাই কুরআনের উপরে উল্লেখিত দুইটি আয়াতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। মুসলমানের সম্পর্কে এরশাদ হচ্ছেঃ

"ঐ ব্যক্তির কথা হইতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নিজে নেক আমল করে ও বলে যে, নিশ্চয় আমি মুসলমানদের মধ্য হইতে একজন"। (হা-মিম সিজদাহঃ ৩৩)

📘 তাগুত > 📄 মুসলিমের বৈশিষ্ট্য

📄 মুসলিমের বৈশিষ্ট্য


'মুসলিম' তাকেই বলে যে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে এবং তার আদেশ লংঘন করে না। আমাদের ৭০% অথবা ৯৫% মুসলিম হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমাকে ১০০% মুসলিম হতে হবে অর্থাৎ 'আল ইসলাম' কে ১০০% মেনে নিয়ে নিজেকে পেশ করতে হবে। তবে হ্যাঁ হুকুম পালনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ আমলের ক্ষেত্রে কমবেশী ভুলভ্রান্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ শয়তান ও তার সঙ্গী সাথীরা আমাদের পিছনে লেগে আছে সর্বক্ষণ। এরশাদ হচ্ছেঃ

"হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদিগকে কিছুতেই প্রলুব্ধ না করে- যেভাবে তোমাদের পিতামাতাকে সে জান্নাত হইতে বহিষ্কৃত করিয়াছিল, তাহদিগকে তাহাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করেছিল। সে নিজে এবং তাহার দল তোমাদিগকে এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাহাদিগকে দেখিতে পাও না। যাহারা ঈমান আনে না, শয়তানকে আমি তাহদের অভিভাবক করিয়াছি।” (সূরা আরাফ-২৭)

সে (শয়তান) বলল "আপনি আমাকে যেমন গোমরাহীতে নিমজ্জিত করিয়া দিয়াছেন, আমিও এখন আপনার সত্য সরল পথে এই লোকদের জন্য ওৎ পাতিয়া থাকবো এর পর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।" (আল-আরাফ: ১৬-১৭)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, সেই মহান আল্লাহর শপথ, যিনি শয়তানের ষড়যন্ত্রকে কুমন্ত্রণার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ)

শয়তানের ফাঁদে পরে মুসলিমের দ্বারা কোন ভুল হয়ে গেলে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অনুতপ্ত হৃদয়ে তওবার মাধ্যমে ক্ষমারও ব্যবস্থা রেখেছেন।

"তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মনে যা আছে তা ভালই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্যে ক্ষমাশীল। (বনী ইসরাঈল: ২৫)

"তিনিই তাঁহার বান্দাহগণের নিকট হইতে তওবা কবুল করেন এবং গুনাহ সমূহ ক্ষমা ও মার্জনা করেন। অথচ তোমাদের সব কাজ-কর্ম সম্পর্কে তিনি অবহিত।” (আশ-শুরা: ২৫)

কিন্তু একজন মুসলিমের বৈশিষ্ট্য হতে হবে 'সামি'না ওয়া আত্বা'না" শুনলাম এবং মানলাম (HEAR & OBEY) অর্থাৎ কোরআন ও সুন্নাহর (সহীহ হাদীস) সামনে পরিপূর্ণ আত্মসমপর্ণ করতে হবে। এরশাদ হচ্ছেঃ

"রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও। সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহ্ প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি (সামি'না ওয়া আত্বা'না)। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” (বাকারাহ: ২৮৫)

"যখন মুমিনদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য তাদেরকে আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা একথাই বলে : আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম মূলতঃ তারাই সফল কাম।" (আন নূরঃ ৫১)

"যাহারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং উহার মধ্যে যাহা উত্তম তাহা গ্রহণ করে। ইহারাই সেই লোক যাহাদিগকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন। এবং উহারাই বোধ শক্তি সম্পন্ন।" (আয যুমার: ১৮)

📘 তাগুত > 📄 সাহাবারা (রাঃ) কিভাবে মুসলিম হয়ে ছিলেন

📄 সাহাবারা (রাঃ) কিভাবে মুসলিম হয়ে ছিলেন


আপনারা হয়তো শুনেছেন যে, আরব দেশে মদ পান করার প্রথা খুব বেশী প্রচলিত ছিল। নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই মদের জন্য একেবারে পাগল প্রায় ছিল। আসলে মদের প্রতি তাদের অন্তরে গভীর আকর্ষণ বর্তমান ছিল। এর প্রশংসা করে কত যে গযল-গীত তারা রচনা করেছিল, তার হিসেব নেই। মদের জন্য প্রাণ দিতেও তারা প্রস্তুত হতো। একথাও আপনারা জানেন যে, একবার মদের নেশা লাগলে তা দূর হওয়া বড়ই মুশকিল। মদখোর ব্যক্তিরা মদের জন্য প্রাণ দিতে পারে, কিন্তু মদ ত্যাগ করতে পারে না। কোন মদখোর যদি মদ না পায় তবে তার অবস্থা কঠিন রোগীর অপেক্ষাও খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু যখন মদ নিষিদ্ধ হওয়ার আয়াত নাযিল হয়েছিল তখন কি অবস্থা হয়েছিল তা কি আপনারা কখনও শুনেছেন? মদের জন্য পাগল জান দিতে প্রস্তুত সেই আরবরাই এ হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে নিজেদের হাতেই মদের বড় বড় পাত্র ভেংগে ফেলেছিল। মদীনার অলিতে-গলিতে বৃষ্টির পানির মত মদ বয়ে গিয়েছিল।

হযরত আবু বুরাইদা (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, "একদা আমরা একটা মদের আসরে বসাছিলাম, হঠাৎ আমি উঠে রওয়ানা হলাম এবং রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। ইতিমধ্যে মদ হারাম হওয়া সম্পর্কিত নির্দেশ এসে গেছে। আমি আমার সংগীদের কাছে ফিরে এলাম এবং তাদের সামনে মদ হারাম হওয়া সম্পর্কিত আয়াত (মায়েদা ৪ ৯০,৯১) 'ফাহাল আনতুম মুনতাহুন' পর্যন্ত পাঠ করে শুনালাম। তখন কতিপয় লোকের হাতে পানপাত্র ছিল, যা থেকে তারা কিছু পান করেছে এবং কিছু বাকী আছে। নির্দেশ শুনার সাথে সাথে সবাই পানপাত্র উপুর করে দিলেন এবং বারবার বলতে থাকলেন, 'ইনতাহাইনা রব্বানা' 'ইনতাহাইনা রব্বানা'- "হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিরত হলাম"- (তাসীরে ইবনে কাসীর)

"লোকদের ভয় দেখানোর জন্য কোন সংস্থা কায়েম করারও প্রয়োজন হল না, আর সরকারকেও মৃত্যুদণ্ড, কয়েদ অথবা মালক্রোক করতে হল না। বরং লোকেরা কুরআনের নির্দেশ শুনার সাথে সাথে স্বেচ্ছায় তা মেনে নিল।" (মিনহাজুল কুরআন ফিত-তারবিয়াহ, মুহাম্মাদ শাদীদ)।

সাফিয়্যা বিনতে শাইবা বলেন, একদা আমরা আয়েশা (রা)-র কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় কুরাইশ মহিলাগণ এবং তাদের গুণকীর্তন উল্লেখিত হল। হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, কুরাইশ মহিলাদের সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আনসার মহিলাদের তুলনায় অধিক মর্যাদার অধিকারিণী এবং কুরআন মজীদের সত্যতা স্বীকার ও তার উপর ঈমানদার নারী আমি আর দেখিনি। যখন নিম্নের আয়াত নাযিল হলঃ এবং নিজেদের বক্ষদেশের উপর ওড়নার আঁচল ফেলে রাখে- (নুরঃ ৩১) তখন তাদের পুরুষ লোকেরা বাড়ি ফিরে গিয়ে নারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ এই আয়াত নিজেদের স্ত্রী, কন্যা, বোন এবং অপরাপর আত্মীয়া মহিলাদের শুনালেন। এই নির্দেশ শুনার সাথে সাথে প্রতিটি মহিলা উঠে গিয়ে চাদর দিয়ে নিজেদের মাথা ঢেকে নিল। (আবু দাউদ)

শেখ মুহাম্মদ আলী আল রিফাই সাহাবাদের (রাঃ) সংক্রান্ত আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন সাহাবারা (রাঃ) আল্লাহর হুকুমের অনুসরণের জন্য নিজেদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে কুরবানী দিয়েছেন। কুরবানী দিতে দিতে উনারা ইসলাম যে উচ্চ আসনে রয়েছে সেই আসনে আসীন হয়েছিলেন। আর বর্তমান দিনের মুসলমান দাবীদাররা নিজেদের জীবনের কুরবাণী করার কথা তো অনেক দূরে, ইসলামকে কুরবানী দিতে দিতে নিজেদের মানে নামিয়ে আনতে তৎপর। আর এ কাজে তাদের সহযোগী হচ্ছে বর্তমান কালের আলেম নামধারী একদল 'মাগদুবের' দল।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমাকে হুকুম করেছেন আমি নিজে যেন সর্বপ্রথম মুসলিম হওয়ার ঘোষণা দেই

আপনি বলে দিনঃ "আমাকে তো এই আদেশই করা হয়েছে যে, সকলের আগে আমি তাহার সম্মুখে মাথা নত করিয়া দিব। আমাকে তাকীদ করা হয়েছে যে, (কেহ যদি ইলাহর সাথে শরীক করে তবে সে করুক কিন্তু) তুমি কিছুতেই মুশরিকদের মধ্যে শামিল হবে না।" (সূরা আল-আনাম ৬ ১৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00