📄 আকীদা পরিবর্তনের চক্রান্ত
আপনাদের অবশ্যই জানা আছে যে, আমরা খ্রিস্টানদের শাসনাধীনে ছিলাম প্রায় দীর্ঘ দু'শ বছর। এই সময় ভিক্টোরিয়ান যুগের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মিস্টার গ্লাডস্টোন একদিন কমন্স সভায় ঢুকেছিল একটি কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে। সে কুরআন শরীফটি উঁচু করে ধরে কমন্স সভার খ্রিস্টান সদস্যদের উদ্দেশ্যে করে বলেছিল- 'দেখ, এটা হচ্ছে মুসলমানের ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন। বর্তমানে তোমরা অনেকগুলো মুসলিম দেশ দখল করে নিয়েছ। এখন তোমরা আলবেনিয়া, তুরস্ক, মিশর, ভারত, স্পেন ইত্যাদি অনেকগুলো মুসলিম দেশের উপর শাসক হয়েছ। তোমরা যদি এই সব মুসলিম দেশগুলোর উপর নিরাপদে রাজত্ব করতে চাও, তাহলে এই কুরআনের অনেক শিক্ষা থেকে মুসলমানদের দূরে রাখতে হবে। নইলে মুসলিম জাতির উপর প্রভূত্ব করতে পারবে না। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে ছিলঃ
১। আল কুরআনের সিলেবাসে যেন শুধু পরকাল সম্পর্কিত বিষয় ছাড়া অন্য কিছু না থাকে।
২। আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল যেন খ্রিস্টান হতে পারে। সে জন্যে তারা আইন করল ICS পাশ করা লোক ছাড়া কেউ আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হতে পারবে না এবং তারা জানত যে, এ উপমাহাদেশের কোন মুসলমান ICS পাশ নেই। যার ফলশ্রুতিতে দেখা গেছে আলীয়া মাদ্রাসার প্রথম ২৬জন প্রিন্সিপাল ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান ছিল।
৩। তারা চেয়েছিল, আল কুরআনের বিশেষ বিশেষ শব্দগুলোর অর্থ বিকৃত করে মুসলমানদের ভুল বুঝাতে হবে। তারা যে সব শব্দগুলোকে বিকৃত করে বুঝাতে চেয়েছিল, তার মধ্যে ছিল ইসলাম, মুসলিম, রব, ইলাহ, দ্বীন, ইবাদত, জিহাদ ও তাগুত ইত্যাদি শব্দগুলোর সঠিক অর্থ যেন মুসলমানরা জানতে না পারে এবং দ্বীন ইসলামকে যেন মুসলমানরা একটা আনুষ্ঠানিক ধর্ম মনে করে। অর্থাৎ ভারতের হিন্দুরা যেমন মনে করে, তাদের ধর্ম একটা অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্ম। ঠিক তেমনই মুসলমানরাও যেন তাদের দ্বীনকে ঐ রূপই মনে করে যে, নামাজ, রোজা এবং বিশেষ বিশেষ দিনে কিছু কিছু অনুষ্ঠান পালন করলেই ধর্মীয় দায়-দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।
৪। আর তারা চেয়েছিল, তাদের আক্বীদা মুসলমানদের মগজে ঢুকাতে। খ্রিস্টানরা ইসলাম বিরোধী এমন একটা মারাত্মক ভুল আক্বীদা মনে পোষণ করে, যা মানুষকে জাহান্নামের পথে তুলে দিতে একমাত্র মোক্ষম হাতিয়ার। সে আক্বীদা হলো- 'মানুষের জীবনের দুটো অংশ'। যথা- (ক) দ্বীনদারী বা ধর্মীয় অংশ এবং অপরটি হচ্ছে (খ) দুনিয়াদারী অংশ সেই সঙ্গে তারা বিশ্বাস করে যে, আমরা দুই মহা প্রভুর অধীন। যথা- ১) আমাদের জীবনের দ্বীনদারী অংশের মহা প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ্। আর ২) জীবনের দুনিয়াদারী অংশের মহাপ্রভু হচ্ছেন রাষ্ট্র প্রধান।
এই ধারণা মুসলমানদের মধ্যে বদ্ধমূল করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই তাদের প্রয়োজন পড়েছিল ইসলাম, মুসলিম, রব, ইলাহ, দ্বীন, ইবাদত, জিহাদ ও তাগুত সম্পর্কে মুসলমানদের ভুল ধারণা দেয়ার। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, মানুষের জীবন দুই মহা প্রভুর অধীন। এটা মুসলিমদের বুঝতে হলে উপরোক্ত শব্দগুলোর ভুল ব্যাখ্যা মুসলমানদের মন-মগজে যেভাবেই হোক ঢুকাতেই হবে। তাদের সে পরিকল্পনা তারা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করে গেছে। আমরা জ্ঞানের অগোচরে তাই মেনে যাচ্ছি যা খ্রিস্টানদের আক্বীদা। এই আক্বীদা থেকে যদি মুসলমানরা তাদের মন-মগজকে শুধরে নিতে পারতেন, তাহলে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রহমত আশা করতে পারতাম।
📄 শরীয়ী অর্থ বুঝার উপায়
আরবীতে প্রতিটা শব্দেরই একটি আভিধানিক অর্থ রয়েছে। কিন্তু যখনই সেই শব্দটি আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা কুরআনে ব্যবহার করেছেন তখনই এর একটি শরীয়ী অর্থ চলে এসেছে। যেমন সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ দোয়া করা, কিন্তু আমরা শুধু দোয়া করে যদি মনে করি সালাত আদায় হয়ে গেছে তাহলে সালাতের শরীয়ী অর্থ হবে না। অর্থাৎ যখনই কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সালাত শব্দ ব্যবহার করেছেন তখনই সালাতের একটি শরীয়ী অর্থ চলে এসেছে অর্থাৎ সালাতের শর্ত পাক পবিত্রতা, ওযু গোসল কিবলামুখী হওয়া এবং সালাতের রোকন সূরা ফাতেহা, রুকু, সেজদা, শেষ বৈঠক, সালাম ইত্যাদি যুক্ত হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে ইসলাম, মুসলিম, ইবাদত, ঈমান, শাহাদাহ, রব, ইলাহ্, তাগুত, সালাত, সাওম, যাকাত, জিহাদ ইত্যাদি শব্দসমূহের শরীয়ী অর্থ সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। কারণ যে কোন কাজ করার জন্য সে বিষয়ক জ্ঞান থাকা ফরজ। উদাহারণ স্বরূপ কোন নও মুসলিম যদি সালাত পড়তে চায় তাকে সালাত সম্পর্কে প্রথম জ্ঞান অর্জন করতে হবে। নিজের ইচ্ছামত উঠা বসা করলে সেটা আর সালাত হবে না ব্যায়াম হয়ে যাবে। অপরদিকে একজন ডাক্তার চিকিৎসা করার আগে চিকিৎসা বিদ্যা সম্পর্কে প্রথম বেশ কষ্ট করে হলেও জ্ঞান হাসিল করে নেয় তারপর রুগী দেখা শুরু করে ইত্যাদি।