📄 ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি। তাঁরই সাহায্য কামনা করি। তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আমাদের নফসের সকল অনিষ্টতা এবং আমাদের সকল কর্মের ভুল ভ্রান্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁরই বান্দা এবং রাসূল।
"হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমল সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দিবেন। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।” (আল-আহযাব: ৭০-৭১)
তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ) এবং বর্তমান সময়ে প্রচলিত শিরকের বিভিন্নরূপের বর্ণনা সংক্রান্ত তিনটি পুস্তক (তাগুত-১ম খন্ড, ২য় খন্ড, ৩য় খন্ড) সেই সত্যানুসন্ধানকারীর সামনে উপস্থাপন করছি, যে বর্তমান সময়ে তার দ্বীন ও তাওহীদের চেতনা নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। কেননা বর্তমান সময়ে একমাত্র আল্লাহ তায়ালা যার প্রতি করুণা করেছেন, আর শিরক থেকে রক্ষা করেছেন, সে ছাড়া অধিকাংশ লোকই কোন না কোনভাবে আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের (রব হিসেবে আল্লাহর যে সকল বৈশিষ্ট্য ও কাজ) ও উলুহিয়াতের (ইলাহ হিসাবে এবাদতের বা হুকুম অনুসরণের একমাত্র হকদার আল্লাহ তায়ালা) সাথে নানাভাবে শরীক করে শিরকের মাঝে লিপ্ত রয়েছে। অথচ শিরক মিশ্রিত আমল আল্লাহ তা'য়ালার দরবারে গ্রহণ করা হবে না এবং শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গকে কখনই জাহান্নাম থেকে উঠানো হবে না। এরশাদ হচ্ছেঃ
“বস্তুত আল্লাহর সহিত অন্য কাহাকেও যে শরীক করেছে আল্লাহ্ তাহার উপর জান্নাত হারাম করে দিয়াছেন। আর তাহার পরিণতি হইবে জাহান্নাম। এই সব যালেমদের কেহই সাহায্যকারী নাই।” [আল-মায়েদা : ৭২]
কেয়ামতের কঠিন মুহুর্ত আসার আগেই আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) রাসূল (সাঃ) থেকে শুনে বর্ণনা করেছেনঃ কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের দু'পা (স্বস্থান থেকে) এক কদমও নড়তে পারবে না যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে নেয়া হবে। (১) তার জীবনকাল কোন কাজে অতিবাহিত করেছে? (২) যৌবনের শক্তি সামর্থ কোন কাজে লাগিয়েছে? (৩) ধন সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে? (৪) কোথায় তা ব্যয় করেছে (৫) সে (দ্বীনের) যতটুকু জ্ঞানার্জন করেছে সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে?
আমাদের জীবনকাল কিভাবে ব্যয় করেছি এর উত্তর দেয়া ছাড়া আমরা আদালতে আখিরাতে নড়তে পারবো না সুতরাং আমাদের জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মুহুর্ত আমরা ধাবিত হচ্ছি মৃত্যুর দিকে, কবরের দিকে। এইজন্য ওমর (রাঃ) বলতেন "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে হিসাবের আগে তুমি নিজের হিসাব নিজেই নাও।"
একবার ভেবে দেখুন দুনিয়াতে যদি কোন গোয়েন্দা বিভাগ বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোক প্রতিমুহুর্তে কারও পিছনে ছায়ার মত কাগজ কলম নিয়ে অনুসরণ করতে থাকে যে, ঐ ব্যক্তির মধ্যে কি কি খারাপ বিষয় রয়েছে তাহলে সেই ব্যক্তি কতখানি তটস্থ বা উদ্বিগ্ন হয়ে থাকবে যাতে তার বিরুদ্ধে কোন খারাপ রিপোর্ট লেখা না হয়। সে সব ভাল কাজ করবে ও নিজের সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবে। আমাদের প্রত্যেকের সাথে কিরামান কাতেবীন নামক সম্মানিত ফেরেশতাগণ রয়েছেন। যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোক।
"অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ কেরামান কাতেবীন। তারা জানে তোমরা যা কর।” (ইনফিতার : ১০-১২)
তবে তারা দুনিয়ার স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোকদের মত নয় যারা সারাক্ষণ দোষ খুঁজে বেড়ায় ও খারাপ রিপোর্ট লিখে। বরঞ্চ গুনাহ করার পর যে বান্দা অনুতপ্ত হয় ও 'আসতাগফিরুল্লাহ' (তওবা করে ফিরে আসে) পড়ে ফেরেশতাগণ সেই গুনাহ লেখেন না। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কতই না অনুগ্রহ আমাদের প্রতি।
ফেরেশতাগণ যে কোন কর্মের পিছনে আমাদের নিয়ত বা উদ্দেশ্যকে জানেন না। একজন আছেন যিনি আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল পর্যন্ত জানেন। বর্তমানে আমরা যা গোপন রাখতে চাই এমনকি ভবিষ্যতে আমরা যা গোপন রাখতে চাই সবই তিনি জানেন। তিনি হলেন আমাদের রব মহামহিম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। এজন্য আমাদের সব সময় তাকেই ভয় করা উচিৎ।
যিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে যতবেশী জানেন তিনি ততবেশী তাঁকে ভয় করেন। একদিন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ও জিবরাইল (আঃ) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ও তার শাস্তির কথা আলোচনা করলেন তারপর দুজনে কাঁদতে থাকলেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) যাঁর ঈমান সমগ্র উম্মাহর সম্মিলিত ঈমান থেকে বেশী, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যার প্রতি ফেরেশতা পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- "আমি রাজী আবু বকরের প্রতি, আবু বকর কি আমার প্রতি সন্তুষ্ট।" আবু বকর (রাঃ) কাঁদতে শুরু করলেন আর বলতে লাগলেন 'আমি অবশ্যই রাজী,” সেই আবু বকর (রাঃ) বলতেন "আমার ডান পা যদি বেহেশতে যায় আমি নিশ্চিত না যে আমার বাম পা বেহেশতে যাবে কি না।” ওমর (রাঃ) বলতেন "হায় আমি যদি গাছের পাতা হতাম! উট আমাকে খেয়ে ফেলতো আর বর্জ্য পদার্থে পরিণত করতো।" তিনি আল্লাহর ভয়ে এত অশ্রুপাত করতেন যে তাঁর দুইগালে কালো দাগ হয়ে গিয়েছিলো।
আল্লাহ তা'য়ালার ভালবাসা পেতে হলে তাঁর হুকুমগুলো আমাদের যথাযথভাবে পালন করতে হবে। রাসূল (সাঃ) এর পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে।
"বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে [মুহাম্মদ (সাঃ)-কে] অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ্ তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।" (আলে ইমরান: ৩১)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দুটি গুণবাচক নাম আল হাদী (আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারে না) এবং আল আলেম (সকল জ্ঞানের ভান্ডার তিনি)। মানুষের অবস্থা সম্পর্কে এরশাদ হচ্ছেঃ
"মানুষের হিসাব গ্রহণের সময় সন্নিকটে অথচ তারা বেমালুম মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে (গাফিলতিতে)।" (আম্বিয়া: ০১)
এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানুষ যে গাফলতির মধ্যে পড়ে রয়েছে সে সম্পর্কে সতর্ক করছেন। এ গাফিলতি থেকে উদ্ধারের জন্যই ইলমের প্রয়োজন এ জন্যে আল্লাহ তায়ালা রাসূলকে (সাঃ) জানালেন এ সকল গাফিলতিতে নিমজ্জিত লোকদেরকে উপদেশ দিতে এবং স্মরণ করিয়ে দিতে। এরশাদ হচ্ছেঃ
"অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশ দাতা।" (গাসিয়া: ২১)
"হে মুহাম্মদ (সাঃ) আপনি লোকদেরকে নসীহত করতে থাকুন, কেননা নসীহত করানো মুমিনদের উপকারে আসবে।” (যারিয়াত: ৫৫)
"বলে দিন, এটাই আমার পথ, আমি এবং আমার অনুসারিরা আল্লাহর দিকে বুঝে শুনে দাওয়াত দেই। আল্লাহ পবিত্র। আমি মুশরিকদের অর্ন্তভূক্ত নই।” (ইউসুফ: ১০৮)
"এমন এক সময় আসা বিচিত্র নয় যখন আজ যারা (ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করতে) অস্বীকার করছে, তারা অনুশোচনা করে বলবে ৪ হায়, যদি আমরা আনুগত্যের শির নত করে দিতাম। ছেড়ে দাও এদেরকে, খানাপিনা করুক, আমোদ ফুর্তি করুক এবং মিথ্যা প্রত্যাশা এদেরকে ভুলিয়ে রাখুক। শিগগির এরা জানতে পারবে। ইতিপূর্বে আমি যে জনবসতিই ধবংস করেছি তার জন্য একটি বিশেষ কর্ম-অবকাশ লেখা হয়ে গিয়েছিল। কোন জাতি তার নিজের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে যেমন ধবংস হতে পারে না, তেমনি সময় এসে যাওয়ার পরে অব্যাহতিও পেতে পারে না।" (আল হিজর : ২-৫)
"যারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা মনে করে অস্বীকার করেছে এবং বিদ্রোহীর ভূমিকা অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজা কখনো খোলা হবে না। তাদের জান্নাতে প্রবেশ করা ততোখানি অসম্ভব যতোখানি অসম্ভব সুইয়ের ছিদ্রপথে উটের প্রবেশ। অপরাধীদের জন্য প্রতিফল এমন হওয়াই উচিত। তাদের জন্য আগুনের শয্যা ও চাদর নির্দিষ্ট আছে। আমরা জালেমদেরকে এরকম প্রতিফলই দিয়ে থাকি।" (সূরা আরাফ: ৪০-৪১)
📄 আকীদা পরিবর্তনের চক্রান্ত
আপনাদের অবশ্যই জানা আছে যে, আমরা খ্রিস্টানদের শাসনাধীনে ছিলাম প্রায় দীর্ঘ দু'শ বছর। এই সময় ভিক্টোরিয়ান যুগের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মিস্টার গ্লাডস্টোন একদিন কমন্স সভায় ঢুকেছিল একটি কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে। সে কুরআন শরীফটি উঁচু করে ধরে কমন্স সভার খ্রিস্টান সদস্যদের উদ্দেশ্যে করে বলেছিল- 'দেখ, এটা হচ্ছে মুসলমানের ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন। বর্তমানে তোমরা অনেকগুলো মুসলিম দেশ দখল করে নিয়েছ। এখন তোমরা আলবেনিয়া, তুরস্ক, মিশর, ভারত, স্পেন ইত্যাদি অনেকগুলো মুসলিম দেশের উপর শাসক হয়েছ। তোমরা যদি এই সব মুসলিম দেশগুলোর উপর নিরাপদে রাজত্ব করতে চাও, তাহলে এই কুরআনের অনেক শিক্ষা থেকে মুসলমানদের দূরে রাখতে হবে। নইলে মুসলিম জাতির উপর প্রভূত্ব করতে পারবে না। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে ছিলঃ
১। আল কুরআনের সিলেবাসে যেন শুধু পরকাল সম্পর্কিত বিষয় ছাড়া অন্য কিছু না থাকে।
২। আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল যেন খ্রিস্টান হতে পারে। সে জন্যে তারা আইন করল ICS পাশ করা লোক ছাড়া কেউ আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হতে পারবে না এবং তারা জানত যে, এ উপমাহাদেশের কোন মুসলমান ICS পাশ নেই। যার ফলশ্রুতিতে দেখা গেছে আলীয়া মাদ্রাসার প্রথম ২৬জন প্রিন্সিপাল ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান ছিল।
৩। তারা চেয়েছিল, আল কুরআনের বিশেষ বিশেষ শব্দগুলোর অর্থ বিকৃত করে মুসলমানদের ভুল বুঝাতে হবে। তারা যে সব শব্দগুলোকে বিকৃত করে বুঝাতে চেয়েছিল, তার মধ্যে ছিল ইসলাম, মুসলিম, রব, ইলাহ, দ্বীন, ইবাদত, জিহাদ ও তাগুত ইত্যাদি শব্দগুলোর সঠিক অর্থ যেন মুসলমানরা জানতে না পারে এবং দ্বীন ইসলামকে যেন মুসলমানরা একটা আনুষ্ঠানিক ধর্ম মনে করে। অর্থাৎ ভারতের হিন্দুরা যেমন মনে করে, তাদের ধর্ম একটা অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্ম। ঠিক তেমনই মুসলমানরাও যেন তাদের দ্বীনকে ঐ রূপই মনে করে যে, নামাজ, রোজা এবং বিশেষ বিশেষ দিনে কিছু কিছু অনুষ্ঠান পালন করলেই ধর্মীয় দায়-দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।
৪। আর তারা চেয়েছিল, তাদের আক্বীদা মুসলমানদের মগজে ঢুকাতে। খ্রিস্টানরা ইসলাম বিরোধী এমন একটা মারাত্মক ভুল আক্বীদা মনে পোষণ করে, যা মানুষকে জাহান্নামের পথে তুলে দিতে একমাত্র মোক্ষম হাতিয়ার। সে আক্বীদা হলো- 'মানুষের জীবনের দুটো অংশ'। যথা- (ক) দ্বীনদারী বা ধর্মীয় অংশ এবং অপরটি হচ্ছে (খ) দুনিয়াদারী অংশ সেই সঙ্গে তারা বিশ্বাস করে যে, আমরা দুই মহা প্রভুর অধীন। যথা- ১) আমাদের জীবনের দ্বীনদারী অংশের মহা প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ্। আর ২) জীবনের দুনিয়াদারী অংশের মহাপ্রভু হচ্ছেন রাষ্ট্র প্রধান।
এই ধারণা মুসলমানদের মধ্যে বদ্ধমূল করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই তাদের প্রয়োজন পড়েছিল ইসলাম, মুসলিম, রব, ইলাহ, দ্বীন, ইবাদত, জিহাদ ও তাগুত সম্পর্কে মুসলমানদের ভুল ধারণা দেয়ার। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, মানুষের জীবন দুই মহা প্রভুর অধীন। এটা মুসলিমদের বুঝতে হলে উপরোক্ত শব্দগুলোর ভুল ব্যাখ্যা মুসলমানদের মন-মগজে যেভাবেই হোক ঢুকাতেই হবে। তাদের সে পরিকল্পনা তারা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করে গেছে। আমরা জ্ঞানের অগোচরে তাই মেনে যাচ্ছি যা খ্রিস্টানদের আক্বীদা। এই আক্বীদা থেকে যদি মুসলমানরা তাদের মন-মগজকে শুধরে নিতে পারতেন, তাহলে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রহমত আশা করতে পারতাম।
📄 শরীয়ী অর্থ বুঝার উপায়
আরবীতে প্রতিটা শব্দেরই একটি আভিধানিক অর্থ রয়েছে। কিন্তু যখনই সেই শব্দটি আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা কুরআনে ব্যবহার করেছেন তখনই এর একটি শরীয়ী অর্থ চলে এসেছে। যেমন সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ দোয়া করা, কিন্তু আমরা শুধু দোয়া করে যদি মনে করি সালাত আদায় হয়ে গেছে তাহলে সালাতের শরীয়ী অর্থ হবে না। অর্থাৎ যখনই কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সালাত শব্দ ব্যবহার করেছেন তখনই সালাতের একটি শরীয়ী অর্থ চলে এসেছে অর্থাৎ সালাতের শর্ত পাক পবিত্রতা, ওযু গোসল কিবলামুখী হওয়া এবং সালাতের রোকন সূরা ফাতেহা, রুকু, সেজদা, শেষ বৈঠক, সালাম ইত্যাদি যুক্ত হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে ইসলাম, মুসলিম, ইবাদত, ঈমান, শাহাদাহ, রব, ইলাহ্, তাগুত, সালাত, সাওম, যাকাত, জিহাদ ইত্যাদি শব্দসমূহের শরীয়ী অর্থ সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। কারণ যে কোন কাজ করার জন্য সে বিষয়ক জ্ঞান থাকা ফরজ। উদাহারণ স্বরূপ কোন নও মুসলিম যদি সালাত পড়তে চায় তাকে সালাত সম্পর্কে প্রথম জ্ঞান অর্জন করতে হবে। নিজের ইচ্ছামত উঠা বসা করলে সেটা আর সালাত হবে না ব্যায়াম হয়ে যাবে। অপরদিকে একজন ডাক্তার চিকিৎসা করার আগে চিকিৎসা বিদ্যা সম্পর্কে প্রথম বেশ কষ্ট করে হলেও জ্ঞান হাসিল করে নেয় তারপর রুগী দেখা শুরু করে ইত্যাদি।