📄 তাগুতকে অস্বীকার করা ওয়াজিব হওয়ার দলিল
মূলপাঠ: এর দলিল-মহান আল্লাহর বাণী, 'দ্বীনের মধ্যে কোনো জোরজবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হেদায়েত সুস্পষ্ট হয়ে গেছে গোমরাহি হতে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনল, সে অবশ্যই দৃঢ়তর রজ্জু (ইসলাম) ধারণ করল, যা ছিন্ন হওয়ার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।' (সুরা বাকারা: ২৫৬)
ব্যাখ্যা: তাগুতকে অস্বীকার করা, তাগুতের সকল প্রকার ও শ্রেণিকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনা যে ওয়াজিব, তার দলিল মহান আল্লাহর এই বাণী, 'দ্বীনের মধ্যে কোনো জোরজবরদস্তি নেই।' এই বাক্য ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। দ্বীনের মধ্যে কোনো জোরজবরদস্তি নেই। এর মানে এই দ্বীন জবরদস্তির প্রয়োজনমুক্ত। কারণ এর নিদর্শনগুলো প্রকাশ্য, সুস্পষ্ট। বিধায় এ দ্বীনে বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন পড়ে না। এর মানে এই নয় যে, মানুষেরা তাদের নিজ নিজ ধর্মে স্বাধীন। যেমনটি বুঝেছে কিছু অজ্ঞ লোক। তারা বলে, 'দ্বীনের মধ্যে কোনো জোরজবরদস্তি নেই।' এর মানে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্মে স্বাধীন।
আয়াতের অর্থ এটা নয়। বরং আয়াতের মানে, এই দ্বীন বাধ্যবাধকতার প্রয়োজনমুক্ত। কেন? কারণ এর নিদর্শনাবলি সুস্পষ্ট। যার কাছে এই দ্বীন পৌঁছেছে, তার কাছে নিদর্শনাবলি স্পষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্যবাধকতার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই দ্বীনের প্রতি আত্মসমর্পণ করা, এই দ্বীনকে মেনে নেওয়া তার জন্য ওয়াজিব। কেননা যে মানুষের কাছেই এ দ্বীন পৌঁছার পর তা পরিত্যক্ত হয়েছে, তা কেবল তার বিমুখতার দরুনই হয়েছে। ইসলাম যার কাছে পৌঁছার পর বর্জিত হয়েছে, তা কেবল বিমুখ হওয়ার দরুনই হয়েছে। 'দ্বীনের মধ্যে কোনো জোরজবরদস্তি নেই' -এ কথার অর্থ এটাই।
'নিশ্চয় হেদায়েত সুস্পষ্ট হয়ে গেছে গোমরাহি থেকে'-এ কথাটি পূর্বের বাক্যকে ব্যাখ্যা করছে। এই বাক্যটি যেন কারণ বর্ণনা করছে। 'দ্বীনের মধ্যে কোনো জোরজবরদস্তি নেই।' কারণ কী? কারণ 'হেদায়েত সুস্পষ্ট হয়ে গেছে গোমরাহি থেকে।' এ দ্বীনের সরল পথ সুস্পষ্ট, এর বিপরীতে যা কিছু আছে, তার সবই ভ্রষ্টতা। তাই সবার ওপর এ দ্বীনের অনুসরণ করা ওয়াজিব। এটা সুস্পষ্ট দৃঢ়মূল দ্বীন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনল।'
এখানে দুটি শর্তের কথা বলা হয়েছে; আয়াতে উদ্ধৃত 'এ' শব্দটি শর্তবাচক। তাহলে শর্ত মোট দুটি। 'যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনল, সে অবশ্যই দৃঢ়তর রজ্জু ধারণ করল।' এর মানে যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করেনি, সে দৃঢ়তর রজ্জু ধারণ করেনি। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ইমান আনেনি, সে দৃঢ়তর রজ্জু ধারণ করেনি। এটাই লা ইলাহা ইল্লাল্লার অর্থ নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিক,⁶ যে বিষয়ে ইতঃপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
টিকাঃ
⁶ তাওহীদী কালিমার দুটি অংশ রয়েছে। একটি নেতিবাচক কোনো সত্য ইলাহ নেই (লা ইলাহা), আরেকটি ইতিবাচক কেবল আল্লাহই সত্য ইলাহ (ইল্লাল্লাহ)। সুরা বাকারার ২৫৬ নং আয়াতেও এ দুটি দিকের উল্লেখ রয়েছে। তাগুতকে অস্বীকার করা নেতিবাচক দিক, আর আল্লাহর প্রতি ইমান আনা ইতিবাচক দিক। অনুবাদক।