📘 তাগুত বিষয়ে বিস্তারিত > 📄 আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে মাতৃগর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করা কি গায়েব জানার অন্তর্ভুক্ত?

📄 আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে মাতৃগর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করা কি গায়েব জানার অন্তর্ভুক্ত?


বর্তমানে একটি বিষয় মানুষের কাছে সংঘটিত হয়েছে। ডাক্তাররা গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ বলে দিচ্ছে। বলে দিচ্ছে, গর্ভস্থ সন্তান ছেলে, না মেয়ে। আমরা বলব, তারা ভ্রুণে রূপান্তরিত হওয়ার পরে এ সংবাদ দেয়। ভ্রুণ গঠিত হওয়ার আগে এ সংবাদ দেওয়ার কোনো পথ নেই। তারা মাধ্যমের সাহায্যে এরকম বলতে পারে। এমন কোনো ডাক্তার নেই, যে কিনা বর্তমানে বিদ্যমান যন্ত্রের মাধ্যমে না দেখেই তা বলে দিতে পারে। আল্লাহ যেসব নিদর্শন নির্ধারণ করেছেন, সেসবের মাধ্যমে কোনো কিছু সংবাদ দেওয়া গায়েব জানার দাবি নয়।
কিছু মুসলিম বিষয়টিকে খারাপ মনে করে। বলে, 'আমি ডাক্তারকে বলব, আমাকে সন্তানের লিঙ্গ কী তা বলবেন না। কারণ এটা গায়েবি ইলম (অদৃশ্যের জ্ঞান)।' আমরা বলব, না, এটা অদৃশ্যের জ্ঞান নয়, যে জ্ঞান আল্লাহ একান্তই নিজের করে রেখেছেন। বরং আল্লাহ বান্দাদের জন্য এ বিষয়টি জানার মাধ্যম নির্ধারণ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য তা জানার মাধ্যম অবশিষ্ট রেখেছেন, ততক্ষণ অবধি তারা তা অনুসরণ করলে সেটা গায়েব জানার আওতাভুক্ত হবে না।

📘 তাগুত বিষয়ে বিস্তারিত > 📄 আগام মৃত্যুসংবাদ দিলে কি গায়েব জানার দাবি করা হয়?

📄 আগام মৃত্যুসংবাদ দিলে কি গায়েব জানার দাবি করা হয়?


আগাম মৃত্যুসংবাদের ব্যাপারটি কী হবে, যেখানে বলা হয়, অমুক ব্যক্তি অমুক দিন মারা যাবে? কিছু মানুষ বলে, তুমি দু মাস পর মারা যাবে, তুমি মারা যাবে এক বছর পরে, ইত্যাদি। এরকম দাবি যদি দৃঢ়তাসূচক হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা গায়েব জানার দাবি। পক্ষান্তরে ধারণাভিত্তিক হলে তার দুটি অবস্থা রয়েছে:⁴
১ম অবস্থা: ধারণাভিত্তিক দাবি করা হয় মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে। অর্থাৎ মানুষ নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী যা জানে, তার সাহায্য নিয়ে। যেমন ডাক্তাররা বলে, আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এ ধরনের রোগী অধিকাংশ ক্ষেত্রে দু বছর বাঁচে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। এ রোগী দু বছর পূর্ণ করতে পারে, দু বছর নাও পূর্ণ করতে পারে, আবার দু বছরের পরেও অনেকদিন বাঁচতে পারে। কিন্তু মাধ্যমের সাহায্যে ডাক্তাররা জানে, এ ধরনের রোগী এতদিন পর্যন্ত বাঁচে। এটা অদৃশ্যের জ্ঞান নয়।
কিন্তু হাল আমলে একটি নতুন বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে। এটা স্বপ্নের বিষয়। কিছু স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারী আছে, যারা কিনা স্বপ্নের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গায়েবি জ্ঞানের মধ্যে প্রবেশ করে। এ থেকেই প্রতীয়মান হয়, তারা আসলে স্বপ্নের ব্যাখ্যা-জানা লোক নয়। কোনো কোনো স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারী আছে, যাকে কেউ প্রশ্ন করলে সে বলে, 'তুমি দাজ্জালকে দেখতে পাবে।' এটা গায়েবি জ্ঞান। আবার তাদের কেউ বলে, 'তুমি বিশ বছর পর মারা যাবে, তুমি মারা যাবে চল্লিশ বছর পর, তুমি মারা যাবে জিলহজ মাসের পর।' তারা এসব বলে স্বপ্নের মাধ্যমে। প্রকৃতপ্রস্তাবে এ ধরনের কথা বলা না-জায়েজ। কিন্তু তারা কি তাগুত?
উত্তর: না। কারণ স্বপ্ন বাস্তবিক মাধ্যমের মতো। বাস্তবিক মাধ্যমের সাথে স্বপ্নের মিল রয়েছে। এজন্য তাদেরকে তাগুত বলা হবে না।

টিকাঃ
⁴ শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলী (হাফিযাহুল্লাহ) দ্বিতীয় অবস্থা উল্লেখ করেননি

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00