📄 পরিশিষ্ট- ১: ইবাদত ও ইতা’আত
[সফিউর রহমান মুবারকপুরী বিখ্যাত 'আর-রাহীকুল মাখতুম'-নামক সিরাতুন্নবী-এর লেখক। তাছাড়া তাঁর অধীনে সম্পাদিত বোর্ডকর্তৃক তাফসীর ইবনে কাসিরের সংশোধিত সংস্করণটিও খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তিনি বর্তমান যামানার অন্যতম সালাফী আক্বীদার মুহাদ্দিস ও মুফাসসির হিসাবে খ্যাত। এই প্রবন্ধটি www.AsliAhleSunnet.com থেকে যা উর্দু ভাষায় অনূদিত ও সঙ্কলিত 'ফিতনাতুত তাকফীর আওর হুকুম বিগয়রি মা আনঝালাল্লাহ'-এর ৮৪-৮৭ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত। তাছাড়া মূল প্রবন্ধটির স্বতন্ত্র উর্দু শিরোনামেও কাহি মমত (মওদুদী সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গীর 'তাওহীদে হাকিমিয়্যাত' খণ্ডন) প্রকাশিত হয়েছে। অনুবাদক: কামাল আহমাদ]
মওদুদী সাহেবের চিন্তা হলো, যার প্রতি নিঃশর্ত ইতা'আত করা হয় সেটাই প্রকারান্তরে তার ইবাদত করা। মুসলিমরা আল্লাহ'র নিঃশর্ত ইতা'আত করে। আর নবী এর ইতা'আত এ জন্য করে যে, সেটা আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন। অর্থাৎ নবী এর ইতা'আত হলো, আল্লাহ এ'র ইতা'আতের অধীন। সুতরাং যখন তাঁর ইতা'আত করা হয়, তখন আল্লাহ'রই ইতাআত করা হয়। যা ফলশ্রুতিতে আল্লাহ'র ইবাদতে পরিণত হয়। এর দ্বারা তিনি অপর একটি মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন। আর তা হলো- যদি কোন হুকুমাত আল্লাহ'র কানুনের অধীনতা ছাড়াই হুকুমাত পরিচালনা করে, তবে সেই হুকুমাতের ইতা'আত করাই- তার ইবাদত করা, যা প্রকারান্তরে শিরক। আর এভাবেই তিনি শিরক ফিল হাকিমিয়্যাহ'র দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন। এটা অত্যন্ত জোরালোভাবে তিনি উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে অসংখ্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আপনাদের সামনে আমি এর স্বরূপ উপস্থাপন করব। অনেক সময় একশ', দুশ, চার'শ এমনকি আট'শ পৃষ্ঠার কিতাবে এ ধরণের মাসআলা লেখা হয়। মাসআলা অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করে, এবং অনেক লম্বা লম্বা আলোচনা- বুঝার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে। এ কারণে আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি শব্দের ব্যাপারে দুই একটি আলোচনা উপস্থাপন করছি।
ইতা'আত কি 'ইবাদত? নাকি 'ইবাদত এবং ইতা'আত ভিন্ন ভিন্ন জিনিস? আমি এটা আপনাদের বুঝাবো। এটা বুঝানোর জন্য আমি আপনাদের সামনে একটি বা দু'টি উদাহরণ পেশ করছি।
একবার আমার কাছে জামায়াতে ইসলামী'র একজন যুবক আসল। সে আমার সাথে কথা বলতে লাগল, আমিও তার সাথে কথা বলতে থাকলাম। একপর্যায়ে সে তার দা'ওয়াত দিল যে, আমাদের দা'ওয়াত হলো এটা....। আমি বললাম আমি জানি। সে এটাই আশা করছিল যে, আমি যেন তার দা'ওয়াত কবুল করি।
আমি বললাম: দেখ, তোমাদের দা'ওয়াত সহীহ নয়।
যুবক: কেন সহীহ নয়?
আমি: যদি এটাই তোমাদের সত্যিকার দা'ওয়াত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি কোন হুকুমাতের ইতা'আত করে যা আল্লাহ'র কানুনের অধীনস্থ নয়, তাহলে এই ইতা'আত ইবাদতে পরিণত হবে। যদি এটাই তোমাদের দা'ওয়াত হয়, তবে মেহেরবানি করে বাইরে যাও এবং যদি কোন মুসলিমকে বাম পাশে দেখ (ভারতের ট্রাফিক আইনে বাম পাশ থেকেই চলতে হয়), তখন যদি সে রাস্তায় বাম পাশ থেকে সাইকেল চালায় তবে তাকে বল, ভাই তুমি বাম পাশ থেকে চলো না, এই পাশ থেকে সাইকেল চালানো শিরক।
যুবক: (উচ্চৈঃস্বরে বলল) শায়েখ এটা কি বলেন?
আমি: আমি তো তা-ই বলছি, যা তোমরা বলে থাক। তোমাদের বক্তব্যের মূল বিষয়ই আমি জানাচ্ছি।
যুবক: কিভাবে?
আমি: ভারতের হুকুমাত আল্লাহ'র হুকুমাতের বিপরীত, নাকি আল্লাহ'র হুকুমাতের অধীন।
যুবক: না, আল্লাহ'র হুকুমাত গ্রহণ না করে এর বিপরীত পন্থায় চলে।
আমি: এখানে যে আইন আছে এর ইতা'আত করাটি কি শিরক হবে, নাকি শিরক হবে না?
যুবক: কোনটা হবে?
আমি: এই আইনের অন্যতম একটি হল, সাইকেল রাস্তার বাম দিক দিয়ে চলবে। যে ব্যক্তি বাম দিক দিয়ে সাইকেল চালাবে, সে এই হুকুমাতের ইতা'আত করবে। আর এই ইতা'আতকেই 'জামায়াতে ইসলামী' 'ইবাদত বলছে। আর গায়রুল্লাহ'র ইবাদতকে শিরক গণ্য করা হয়। সুতরাং এটা শিরক।
যুবকঃ (পেরেশানীর সাথে বলল) শায়েখ আপনিই বলুন, কোনটা সহীহ আর কোনটা ভুল?
'আমি: দেখ, ইতা'আত ও 'ইবাদত ভিন্ন ভিন্ন জিনিস। তবে কখনো কখনো একই আমল 'ইবাদত ও ইতা'আত দু'টিই হতে পারে। তেমনই এমনটিও হতে পারে যে, কোন আমল ইতা'আত হলেও তা 'ইবাদত নয়। আবার এটাও হতে পারে যে, কোন আমল 'ইবাদত কিন্তু ইতা'আত নয়। এর সবগুলোই সম্ভব।
যুবক: কিভাবে?
আমি: বলছি, শোন। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নিজের কুওমকে জিজ্ঞাসা করলেন:
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ (۷۰) قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ (۷۱) قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ (۷۲) أَوْ يَنْفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ
"(ইবরাহীম আলাইহিস সালাম) যখন তার পিতা ও কুওমকে বললেন: তোমরা কিসের ইবাদত কর? তারা বলল: আমরা প্রতিমার ইবাদত করি এবং এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন: তোমরা যখন আহ্বান কর, তখন কি তারা শোনে? অথবা তারা কি তোমাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে?" (সূরা শু'আরা- ৭০-৭১ আয়াত)
বলতো, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম'র কুওম যে মূর্তির 'ইবাদত করত, তারা কি তার ইতা'আতও করত? মূর্তিতো কখনোই কোন হুকুম দেয়ার বা কোন কিছু বাধা দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং ঐ কুওমের কাজটি 'ইবাদত হলেও ইতা'আত নয়।
যুবক: (তখন সে স্বীকার করল) হাঁ এটা ঠিক যে, ঐ কুওম ইতা'আত নয় বরং মূর্তিদের 'ইবাদত করত।
আমি: তাহলে এবার আমরা আরেকটু সামনে যাব। ঈসায়ীদের সম্পর্কে আল্লাহ কুরআন মাজীদের কয়েকটি স্থানে বর্ণনা করেছেন। ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ ঈসা আলাইহিস সালাম-কে জিজ্ঞাসা করবেন:
وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دون الله.
"যখন আল্লাহ বলবেন: হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি লোকদের বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে ইলাহ সাব্যস্ত কর?".... (সূরা মায়িদা- ১১৬ আয়াত)।
তখন ঈসা আলাইহিস সালাম এটা সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করবেন। বলবেন: مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ
"আমি তো তাদের কিছুই বলি নি, তবে কেবল সে কথাই বলেছি যা আপনি নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাহল, আল্লাহ'র ইবাদত কর- যিনি আমার ও তোমাদের রব। আমি তাদের ব্যাপারে সাক্ষ্যদাতা যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম।” (সূরা মায়িদা: ১১৭ আয়াত)
এভাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করবেন। কুরআনের উল্লিখিত আয়াতের সম্পর্ক ঈসায়ীদের সাথে এবং ঈসা আলাইহিস সালাম-এর 'ইবাদত করা সম্পর্কীত। কিন্তু ঐ লোকেরা যার 'ইবাদত করে সে না তাদের উপকার করতে পারে, আর না পারে তাদের ক্ষতি করতে। সুতরাং সুস্পষ্ট হলো, তারা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর 'ইবাদত করত। আর ঈসা আলাইহিস সালাম তাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারতেন না। এখন মাসআলা হলো, তারা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর যে 'ইবাদত করত, সেটা কি তাঁর ইতা'আতও ছিল?
(পুনরায় বললাম) 'ইবাদত করাতো প্রমাণিত হল, কেননা কুরআন এ কাজটিকে 'ঈসা আলাইহিস সালাম-এর 'ইবাদত বলে উল্লেখ করেছে। সুতরাং ঈসায়ীদের মধ্যে যারা তাঁর 'ইবাদত করেছে ও করছে, তারা কি তাঁর ইতা'আতও করছে? তারা কখনোই ইতা'আত করছে না। 'ঈসা আলাইহিস সালাম কখনই তাঁর 'ইবাদত করার হুকুম দেন নাই যে, আমার 'ইবাদত কর। বরং তিনি নিষেধ করেছেন। সুতরাং তারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছে। ইতা'আতের বদলে নাফরমানী করেছে, আর সেটা 'ইবাদতই ছিল। সুতরাং 'ইবাদত করার জন্য এটা জরুরী নয় যে, যার 'ইবাদত করা হবে তাঁর ইতা'আতও করতে হবে। ইতা'আত ছাড়াও 'ইবাদত হয়, আর নাফরমানির মাধ্যমেও 'ইবাদত করা হয়। একে তাঁর পক্ষ থেকে অনুমোদিত 'ইবাদত বলা হবে না।
সুতরাং মাসআলাটি সুস্পষ্ট হলো। এখন তুমি কী জানতে চাও? কারো কোন হুকুম মানা ও আনুগত্য করা তার ইতা'আত। পক্ষান্তরে, কারো নৈকট্য অর্জনের জন্য তথা সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোন মাধ্যম ছাড়াই তার সন্তুষ্টি অর্জনের পদ্ধতিমূলক কাজই ইবাদত। ঐ লোকেরা ঈসা টিএর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ঐ আমল করত, এ কারণে তারা তাঁর ইবাদত করত। তারা তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করে নি, সুতরাং তারা তাঁর ইতা'আত করত না। আমরা সালাত আদায় করি- এর দ্বারা আল্লাহ'র সন্তুষ্টি ও নৈকট্য কামনা করি। অর্থাৎ সালাত একটি ইবাদত। আর আল্লাহ যে হুকুম দিয়েছেন তা পালনও করি, এটাই হল তাঁর ইতা'আত। ইতা'আত ও ইবাদতের অর্থ ভিন্ন ভিন্ন। সালাত একটি আমল যার মধ্যে দু'টি বিষয়ই রয়েছে অর্থাৎ ইবাদত ও ইতা'আত।
অথচ মওদুদী সাহেব যেহেতু এই দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন যে, কারো নিঃশর্ত ইতা'আত করাটাই তার ইবাদত করা। এ কারণে তিনি বলেছেন, বান্দা যদি আল্লাহ'র ইতা'আতে জীবন অতিবাহিত করে- তবে তার সমস্ত জীবনই ইবাদতে পরিণত হবে। সুতরাং তার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে এগুলো (জীবন-যাপনের সব কিছুই) 'ইবাদত। কিন্তু কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে জীবনের সবকিছুই 'ইবাদত নয়। বরং এর মধ্যে ইতা'আতও রয়েছে। যদি সমস্ত যিন্দেগী আল্লাহ'র হুকুমে পালিত হয়, তবে সেই যিন্দেগীর পুরোটাই তাঁর ইতা'আত। আর এটা সওয়াবের কাজ এবং এর মাধ্যমে সওয়াব অর্জিত হয়। কিন্তু এটা ইবাদত নয়। এটাই সহীহ অর্থ।
[সংযোজন: পূর্বেই আমরা দেখেছি স্বয়ং নবী শাসককে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড় দিতে বলেছেন যতক্ষণ তার থেকে স্পষ্ট কুফর প্রকাশ না পায়, কিংবা সালাত আদায় করে। পক্ষান্তরে যুলুম-অত্যাচার, স্বজনপ্রীতি, হক্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে জনগণকে শাসককে মেনে নিতে বলেছেন। কিন্তু দু'টিই আল্লাহর নির্দেশ। এর প্রথমোক্তটি আক্বীদা ও 'ইবাদত সংক্রান্ত। আর দ্বিতীয়টি ইতা'আত বা মু'আমালাত সম্পর্কীত। অথচ উভয়টির ব্যাপারেই সুস্পষ্ট নির্দেশাবলি আছে। -অনুবাদক]
📄 পরিশিষ্ট- ২: তাহকীকৃতঃ আমাদের হাকিম কেবলই একজন— আল্লাহ তা’আলা
[পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে সাঞ্জস্যতার কারণে এই পুস্তিকাটিও সংযুক্ত করা হলো]
মূল মাস'উদ আহমাদ
অনুবাদ ও তাহক্বীকু কামাল আহমাদ
📄 ভূমিকা
মহান রব্বুল 'আলামীনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া যে, মুসলিম ভাইদের সংস্কারের স্বার্থে এই "তাহক্বীকুকৃত আমাদের হাকিম কেবলই একজন- আল্লাহ তা'আলা" লিখতে পেরেছি। আমরা এমন গুণীজন, সুধীজন, দল বা জামা'আত ইদানীং লক্ষ্য করছি, যারা অনেকেই হজ্বের দা'ওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্ত জামা'আতের মধ্যে সূক্ষ্ম ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। কখনো এটা আক্বীদার ক্ষেত্রে আবার কখনো বা 'আমলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি জামা'আতকে কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক সংস্কারের প্রস্তাব দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে দৃঢ় থাকতে দেখা যায়। এরকম অনেক হকু ও সংস্কারের অন্যতম বাহকদের একটি মূল শ্লোগান সমৃদ্ধ পুস্তিকা "আমাদের হাকিম কেবলই একজন- আল্লাহ তা'আলা"-এর সংস্কার জরুরী মনে করছি। মূলত "হাকিম একমাত্র আল্লাহ” এই শ্লোগানটি ছিল মুসলিমদের থেকে পৃথক প্রথম সৃষ্ট ফিরকা খারেজীদের। যাদের সংস্কারের উদ্দেশ্যে এই তাহক্বীকু বা বিশ্লেষণটি লেখা হয়েছে তাদেরও সেই ইতিহাস স্মরণ করানো দরকার মনে করছি।
এই ইতিহাসটি জানানোর ক্ষেত্রে আমরা যে গ্রন্থটিকে মূল সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছি তা হলো, ইমাম ইবনে কাসির-এর "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭ম খণ্ড (মিশর: মাকতাবাতুস সাফা পৃঃ ২২৬-২৫৫, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন পৃ: ৫০৩-৫৫৬)"। গ্রন্থটি মূলত হাদীসের আলোকেই সঙ্কলিত। এরপরও আমরা সাধ্যমত এর সূত্রগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। যদি কেউ এর অনুল্লিখিত সূত্র সম্পর্কে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তবে পরবর্তীতে এর প্রয়োজনীয় সংস্কার করার উদ্যোগ নেব এবং তার বা তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকব। অবশ্য আমরা এখানে কেবল সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় অংশগুলোই উল্লেখ করব।
📄 ইতিহাসের আলোকে “হাকিম একমাত্র আল্লাহ”
[সিফফীন যুদ্ধের পর আলী ও মুআবিয়া-এর] সালিসী চুক্তির পর আশআছ ইবনে কাইস তামীম গোত্রের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে চুক্তিনামাটি পড়ে শুনান। সেখানে ছিল রাবী'আ ইবনে হানজালাহ বংশের সন্তান উরওয়াহ ইবনে উযায়না (উযায়না মাতার নাম, পিতার নাম জারীর)। সে আবূ বিলাল ইবনে মিরদাস ইবনে জারীর-এর ভাই। সে দাঁড়িয়ে বলল: তোমরা কি আল্লাহ'র দ্বীনের ব্যাপারে মানুষকে হাকিম (বিচারক) নিয়োগ করছো? এ কথা বলেই সে আশআছ ইবনে কাইসের বাহনের পশ্চাৎভাগে তরবারি দিয়ে আঘাত হানলো। এতে আশআছ ও তার কুওমের লোকেরা অত্যন্ত রাগান্বিত হয়।
ফলে আহনাফ ইবনে কাইস ও তাদের গোত্রের নেতৃস্থানীয় একটি দল এসে আশআছ ইবনে কাইসের কাছে এ ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করে। খারিজী সম্প্রদায়ের ধারণা মতে যিনি সর্ব প্রথম তাদের নেতৃত্ব দেন তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওহাব রাসিবী। গ্রন্থকারের মতে প্রথমটিই সঠিক। আলীর পক্ষের কিছুসংখ্যক লোক যারা কুররা নামে পরিচিত ছিল তারা ঐ ব্যক্তির মতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং ঘোষণা দেয় (আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম নেই)। একারণে এ দলকে 'মাহকামিয়্যা' নামে অভিহিত করা হয়। তারপর লোকজন যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে নিজ নিজ এলাকার দিকে রওয়ানা হয়ে যায়। মু'আবিয়া তাঁর সৈন্য-সামন্ত নিয়ে দামেশকে যায়। আর আলী কুফার উদ্দেশ্যে হীত-এর পথ ধরে অগ্রসর হন। তিনি যখন কুফায় পৌঁছেন, তখন শুনতে পান এক ব্যক্তি বলছে, আলী গিয়েছিলো। কিন্তু শূন্য হাতে ফিরে এসেছে। এ কথা শুনে আলী বললেন, যাদের আমরা ছেড়ে এসেছি তারা অবশ্যই ওদের তুলনায় উত্তম।.....
এরপর আলী আল্লাহর স্মরণ করতে করতে কূফায় প্রবেশ করেন। তিনি যখন কুফা নগরীর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেন, তখন তাঁর বাহিনীর প্রায় বার হাজার লোক তাঁর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরাই ইতিহাসে খারিজী নামে বিখ্যাত। তারা আলীর সাথে একই শহরে বসবাস করতে অস্বীকার করে এবং হারুরা নামক স্থানে গিয়ে অবস্থান করে। তাদের মতে আলী কয়েকটি অন্যায় কাজে জড়িত হয়ে পড়েছেন যার দরুন তারা আর তাঁকে মেনে নিতে পারছে না। আলী তাদের সাথে কথা বলার জন্যে 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাসকে প্রেরণ করেন। ইবনে আব্বাস তাদের কাছে গিয়ে তাদের অভিযোগ শোনেন ও জওয়াব দেন। ফলে তাদের অধিকাংশ লোক মত পরিবর্তন করে ফিরে আসে, আর অবশিষ্টরা আপন মতে অনড় থাকে। আলী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন। ৮২ অন্য বর্ণনানুযায়ী, আলী যখন মু'আবিয়াকে চুক্তিপত্র লিখে দেন এবং সালিস নিযুক্ত করেন, তখন তাঁর দল থেকে আট হাজার ক্বারী বেরিয়ে যায় এবং কূফা নগরীর উপকণ্ঠে হারুরা নামক স্থানে গিয়ে সমবেত হয়। তারা আলীর উপরে দোষারোপ ও তাঁকে তিরস্কার করে বলতে থাকে: انْسَلَخَتَ مِنْ قَمِيصِ أَلْبَسَكَهُ اللهُ، وَاسْمُ سَمَّاكَ بِهِ اللهُ ثُمَّ انْطَلَقَتُ فَحَكَمْتَ فِي دِينِ اللَّهِ وَلَا حُكْمَ إِلَّا اللَّهُ "মহান আল্লাহ আপনাকে যে জামা (খিলাফত) পরিধান করিয়েছিলেন, আপনি সে জামা খুলে ফেলেছেন। যে উপাধিতে মহান আল্লাহ আপনাকে ভূষিত করেছিলেন আপনি সে উপাধি প্রত্যাহার করেছেন। এরপর আপনি আরো অগ্রসর হয়ে মহান আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে হাকিম নিযুক্ত করেছেন। অথচ মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোন হাকিম নেই।"
আলীর কাছে যখন তাদের এসব অভিযোগের কথা পৌছালো এবং তিনি জানতে পারলেন যে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তাঁর থেকে পৃথক হয়ে গেছে। তিনি এক ঘোষণাকারীর মাধ্যমে নির্দেশ জারি করলেন যে, আমীরুল মু'মিনীনের দরবারে যেন কেবল ঐসব লোক প্রবেশ করে যারা পবিত্র কুরআন বহন করে (হাফিযে কুরআন)।
আমীরুল মু'মিনীনের দরবার যখন ক্বারীদের সমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি পবিত্র কুরআনের একটি কপি এনে সবার সম্মুখে রাখলেন। এরপর তিনি হাতের আংগুল দ্বারা পবিত্র কুরআনে উপর জোরে টোকা মেরে বললেন, "হে কুরআন! তুমি লোকদের তোমার কথা জানাও।” উপস্থিত লোকজন আলীকে বললো, “হে আমীরুল মু'মিনীন। আপনি পবিত্র কুরআনের কপির কাছে এ কি জিজ্ঞেস করছেন? ও তো কাগজ আর কালি ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা তো ওর মধ্যে যা দেখি তা নিয়ে কথা বলছি। তাহলে এরূপ করায় আপনার উদ্দেশ্য কী?” তিনি জওয়াবে বললেন: তোমাদের ঐসব সাথি যারা আমার থেকে পৃথক হয়ে অবস্থান নিয়েছে, তাদের ও আমার মাঝে মহান আল্লাহর কিতাব রয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে একজন পুরুষ (স্বামী) ও একজন নারীর (স্ত্রীর) ব্যাপারে বলেছেন:
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
"তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ের মধ্যে বিরোধের আশংকা হলে, তোমরা তার (স্বামীর) পরিবার হতে একজন ও তার (স্ত্রীর) পরিবার হতে একজন হাকিম নিযুক্ত করবে; তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন।"৮৩
দ্বিতীয় অভিযোগের জবাবে আলী বললেন: তারা আমার উপর আরো অভিযোগ এনেছে যে, আমি মু'আবিয়াকে যে চুক্তিপত্র লিখে দিয়েছি, তাতে (আমীরুল মু'মিনীনের বদলে) আলী ইবনে আবূ তালিব লিখেছি। এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো: হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় কুরাইশদের পক্ষ থেকে সুহাইল ইবনে আমর আসলে রসূলুল্লাহ যখন নিজ কুওমের সাথে সন্ধিপত্র লেখেন, তখন আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। রসূলুল্লাহ প্রথমে লিখলেন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম'। সুহাইল আপত্তি জানিয়ে বললো: আমি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' লিখতে রাজি নই। রসূলুল্লাহ বললেন, তাহলে কিভাবে লিখব? সুহাইল বললেন: লিখব 'বিইসমিকা আল্লাহুম্মা।' রসূলুল্লাহ বললেন, তা-ই লিখ। রসূলুল্লাহ বললেন, এখন লিখ- 'এই সন্ধিপত্র, যা মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সম্পাদন করলেন। সুহাইল বলল: আমি যদি জানতাম যে, আপনি আল্লাহর রসূল, তাহলে তো আপনার সাথে আমার কোন বিরোধই থাকতো না। অবশেষে লেখা হলো: এই সন্ধিপত্র যা আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ কুরাইশদের সাথে সম্পাদন করলেন। মহান আল্লাহ আপন কিতাবে বলেন:
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ
"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে ভয় করে তাদের জন্যে রসূলুল্লাহ এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। ৮৪ এরপর আলী তাদের কাছে 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস-কে প্রেরণ করেন।..... 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস তিন দিন পর্যন্ত সেখানে তাদের সাথে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন। অবশেষে তাদের মধ্যে থেকে চার হাজার লোক তাওবা করে ফিরে আসে। ইবনুল কাওয়াও তাদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে 'আব্বাস এদের আলী-এর কাছে কুফায় নিয়ে আসেন। অবশিষ্ট লোকদের কাছে আলী বার্তা পাঠিয়ে জানান যে, উম্মাতে মুহাম্মাদীর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হোক। আর তোমাদের ও আমাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত থাকলো যে, তোমরা অন্যায়ভাবে কারো রক্তপাত ঘটাবে না। ডাকাতি, রাহাজানি করবে না এবং যিম্মীদের উপর অত্যাচার চালাবে না। যদি এর কোনটিতে লিপ্ত হয়ে পড় তবে তোমাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠিন যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। (কেননা, আল্লাহ বলেন:( إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائئنين "আল্লাহ খিয়ানতকারীদের পছন্দ করেন না। ৮৫
বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম! ওদের বিরুদ্ধে আলী পক্ষ থেকে তখনই অভিযান পাঠানো হয়েছে, যখন ওরা ডাকাতি, রাহাজানি শুরু করেছে, খুন-খারাবী ছড়িয়ে দিয়েছে এবং যিম্মীদের উপর অত্যাচার করে তাদের সবকিছু নিজেদের জন্যে হালাল করে নিয়েছে। ৮৬ অন্য বর্ণনায় আছে: আলী-কে তাদের সমালোচনার কারণ ছিল এই যে-
১. তিনি মানুষকে হাকিম (ফায়সালাকারী) নিযুক্ত করেছিলেন।
২. শাসকের পদবীকে মুছে দিয়েছিলেন।
৩. উষ্ট্রের যুদ্ধে তিনি অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করেছেন; অথচ শত্রুদের থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ও বন্দী সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন করেন নি।
প্রথম দু'টি অভিযোগের (হাকিম নির্ধারণ ও পদবী মুছে ফেলার) জওয়াবে তিনি যা বলেন, ইতোপূর্বে তা আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগের জওয়াবে তিনি বলেন: “বন্দীদের মধ্যে উম্মুল মু'মিনীনও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এখন যদি তোমরা দাবি করো যে, তোমাদের কোন উম্মুল মু'মিনীন নেই, তবে তা হবে তোমাদের জন্য কুফরী কাজ। আবার যদি উম্মুল মু'মিনীনকে বন্দী রাখা বৈধ মনে করো, তাও হবে কুফরী কাজ।" বর্ণনাকারী বলেন: এবার তাদের মধ্য থেকে দু' হাজার লোক বেরিয়ে আসে বাকি সবাই বিদ্রোহ করে। এরপর তাদের সাথে যুদ্ধ হয়। ৮৭
ইবনে জারীর লিখেছেন: খারিজীদের অবশিষ্ট লোকদের কাছে আলী স্বয়ং গমন করেন। তিনি তাদের সাথে আলোচনা অব্যাহত চালিয়ে যান। অবশেষে তারা সকলেই তাঁর সাথে কুফায় চলে আসে। সে দিনটি ছিল ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার দিন। এরপর তারা আলী-এর কথাবার্তায় বাধা সৃষ্টি করতে থাকে। তাঁকে গালমন্দ করে এবং তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করতে থাকে।
ইমাম শাফে'য়ী বলেন: আলী একদিন সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাঁকে লক্ষ্য করে জনৈক খারিজী এ আয়াতটি পড়ে: لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ "তুমি আল্লাহ'র শরীক স্থির করলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হবে এবং অবশ্য তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত। "৮৮ জওয়াবে আলী নিচের আয়াতটি পড়লেন:
فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ
"কাজেই, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।"৮৯
ইবনে জারীর বলেন: এ ঘটনা হয়েছিল তখন যখন আলী খুতবা পাঠ করছিলেন। ইবনে জারীর আরো একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তা হলো:
"আলী একদিন খুতবা দিচ্ছিলেন। এ সময় এক খারিজী দাঁড়িয়ে বললো, হে আলী! আপনি মহান আল্লাহর দ্বীনে মানুষকে শরীক করেছেন (অর্থাৎ শির্ক করেছেন)। অথচ আল্লাহ ব্যতীত হুকুম দেয়ার অধিকার আর কারো নেই। এ সময় চারদিক থেকে একই আওয়াজ উঠলো- لَا حُكْمَ إِلَّا اللَّهُ - لَا حُكْمَ إِلَّا اللَّهُ “আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম নেই, আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম নেই।” তখন আলী বললেন: هَذِهِ كَلِمَةٌ حَقٌّ يُرَادُ بِهَا بَطِلُ "কথাটি সত্য, কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ।" তারপর তিনি বললেন: "যতদিন তোমাদের দায়িত্ব আমাদের উপরে ছিল ততদিন আমরা তোমাদের গনীমত দেয়া বন্ধ করি নি এবং আল্লাহর মাসজিদে সালাত আদায় করতে বাধা দেই নি। এখন তোমাদের উপর আমরা আগেই হামলা করবো না। যদি তোমরা প্রথমে হামলা না করো।" এরপর তারা সবাই কৃষ্ণা থেকে বেরিয়ে গিয়ে নাহরাওয়ান নামক স্থানে সমবেত হয়। ৯০
উপরোক্ত ঐতিহাসিক আলোচনাটি আরো সুস্পষ্ট হবে আমাদের পরবর্তী তাহক্বীকুটি বিস্তারিতভাবে পাঠ করলে। এটাও সুস্পষ্ট হবে, খারিজী এবং বর্তমান যামানার বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী যারা একই ধরনের শ্লোগান ব্যবহার করছে এবং যত্রতত্র কুফরী ফাতওয়া প্রদান করে বিভিন্ন দেশ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে- তাদের সংস্কার ও সংশোধন করা অতীব জরুরী।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রকৃত হিদায়াত দান করুন। আমিন!!
টিকাঃ
৮২. আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইফা) ৭/৫০৩-৫০৫ (সংক্ষেপিত)।
৮৩. সূরা নিসাঃ ৩৫ আয়াত।
৮৪. সূরা আহযাব- ২১ আয়াত।
৮৫. সূরা আনফাল- ৫৮ আয়াত।
৮৬. ইবনে কাসীর বলেছেন: আহমাদ এ হাদীস মুফরাদ বর্ণনা করেছেন। তবে এর সনদ সহীহ। জিয়া একে পছন্দ করেছেন। [আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইফা) ৭/৫০৬-৫০৯] তাছাড়া ইমাম হাকিম এ বর্ণনাটিকে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের শর্তাধীনে সহীহ বলেছেন, তবে উভয়ে তা বর্ণনা করেন নি। [তাহক্বীকুকৃত আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (মিশর) ৭/২২৯ পৃঃ]
৮৭. আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইফা) ৭/৫০৯ পৃঃ।
৮৮. সূরা যুমার- ৬৫ আয়াত।
৮৯. সূরা রূম- ৬০ আয়াত।
৯০. আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইফা) ৭/৫১০ পৃঃ।'