📄 ইস্তিহলালে কুলবী ও ইস্তিহলালে ‘আমালী’র পার্থক্য
যাহোক আসল বক্তব্য হল, এ ব্যাপারে স্পষ্টতা অত্যন্ত জরুরী যে, ফিসকু ও যুলুমের ন্যায় কুফরও দুই ভাগে বিভক্ত। অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কুফর, ফিসকু ও যুলুম তখনই বিবেচ্য হবে যখন ইস্তিহলালে কূলবী (আন্তরিকভাবে হারামকে হালাল জানা) সংঘটিত হবে। পক্ষান্তরে দ্বীন ইসলাম থেকে বহিষ্কার করে না এমন কুফর, ফিসকু ও যুলুম তখনই বিবেচ্য হবে যখন ইস্তিহলালে 'আমালী (হারাম কাজে লিপ্ত কিন্তু আন্তরিকভাবে কাজটি হারাম হিসাবে বিবেচনা করা) সংঘটিত হবে।
সুতরাং ঐ সমস্ত গোনাহ যেমন- ইস্তিহলালে 'আমালি রিবা (আমলগতভাবে সুদের হালালকরণ), যা এ যামানায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে- এ সবই 'আমালী কুফরের উদাহরণ। সুতরাং ঐ গোনাহগারদের কেবল এই পাপ ও ইস্তিহলালে 'আমালী 'র জন্যে কাফির বলা আমাদের জন্য জায়েয নয়। কেননা যা কিছু তাদের অন্তরে লুকায়িত আছে তা আমাদের কাছে এভাবে প্রকাশ পেয়েছে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূল কর্তৃক হারামকৃত বিষয়কে আক্বীদাগত ভাবে হালাল মনে করে না। যদি আমরা জানতে পারি যে, তারা আন্তরিকভাবেই বিরোধিতা করে তখন আমরা তাদের উপর মুরতাদের হুকুম লাগাব। আর যদি তা জানতে না পারি তবে কখনই তাদের প্রতি কুফরের হুকুম লাগানোর হক্কদার নই। কারণ আমরা ভয় করি যে, দুর্ঘটনাক্রমে আমরা যদি নবী *'র নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হই। তিনি বলেছেন: إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لأخيه : يَا كَافِرُ ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا ، فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَإِلَّا رَجَعَتْ عَلَيْهِ
"যখন কেউ তার ভাইকে বলে: ইয়া কাফির; তখন যেকোন একজনের উপর অবশ্যই কুফরী পতিত হবে। যাকে কাফির বলা হল যদি সে তা হয়, অন্যথায় এটা সম্বোধনকারীর প্রতিই প্রযোজ্য হয়।"⁵⁹
উক্ত মর্মে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এর পরিপূরক হিসাবে আমি ঐ সাহাবীর ঘটনা উল্লেখ করব, যিনি একটি মুশরিককে পাকড়াও করেন। এমনকি সে ঐ সাহাবীর তলোয়ারের নাগালের মধ্যে চলে আসে। তখন সে মুশরিক চট করে কালেমায়ে শাহাদাত (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَـهَ إِلاَّ اللهُ ) পাঠ করে। ঐ সাহাবী মুশরিকটির কালেমা পাঠের দিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না এবং তাকে কুতল করে দিলেন। যখন ঘটনাটি নবী ﷺ'র কাছে পৌছলো তখন তিনি তাকে কতটা কঠিনভাবে তিরষ্কৃত করলেন তা সবারই জানা আছে। সাহাবী অজুহাত পেশ করলেন যে, সে কেবল প্রাণ বাঁচানোর জন্য কালেমা পড়েছিল। তখন নবী ﷺ বললেন: هَلَا شَقَقْتَ عَنْ قَلْبه "তুমি কি তার কূলব (অন্তর) চিরে দেখেছিলে?”⁶⁰
সুতরাং কুফরী ই'তিক্বাদী বা আক্বীদাগত কুফরের ভিত্তি কেবল আমলের দ্বারা ঘটে না বরং এর সম্পর্ক অন্তরের সাথে। আর আমি এটা সুস্পষ্টভাবে বলতে পারি না যে, আমরা জানি তারা আন্তরিকভাবেই ফাসেকু, ফাজির বা চোর, সুদখোর প্রভৃতি। যতক্ষণ না তার অন্তরে যা আছে তা মুখ দ্বারা প্রকাশ হয়। যাহোক এর সম্পর্ক আমলের সাথে- যা এটাই সুস্পষ্ট করে যে, সে শরী'আতের আমলগত বিরোধিতা করছে। এ ক্ষেত্রে বলতে পারি, তুমি বিরোধিতা করছ, ফিস্ক-ফুজর করছ। কিন্তু এটা বলা যাবে না, তুমি কাফির হয়ে গেছ বা দ্বীন থেকে মুরতাদ হয়ে গেছ।' কিন্তু তার মধ্যে যদি এমন কিছু আমাদের সামনে প্রকাশ পায় যা আল্লাহ ﷺ'র পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন- তখন মুরতাদের হুকুম প্রযোজ্য হবে।⁶¹ আর তার ব্যাপারে ইসলামের সুস্পষ্ট হুকুম হল যা রসূলুল্লাহ ﷺ'র নিম্নোক্ত হাদীসটিতে এসেছে:
مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ
"যে নিজের দ্বীনকে বদলে ফেলল তাকে হত্যা কর।"⁶²
টিকাঃ
৫৯. সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন بَابٌ تَحْرِيمِ قَوْلِهِ لِمُسْلِمٍ : يَا كَافِرُ (ঢাকা: ইসলামিক সেন্টার, অনুচ্ছেদ নং ৩২৬, হাদীস নং ১৭৩২)।
৬০. সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদা) কিতাবুল কিসাস ৭/৩৩০৩ নং। উক্ত মুশরিকের তাৎক্ষণিক উক্ত শাহাদাত ছাড়া অন্য কোন আমল সাহাবীর জানা ছিল না। এরপরও কেবল ঈমানের স্বীকৃতিকেই কেন সাহাবী গ্রহণ করলেন না- এ কারণেই নবী ﷺ তাঁকে তিরস্কৃত করলেন। (বাংলা অনুবাদক)
৬১. শায়েখ আলবানী রহ. বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন: কিছু আমল এমন আছে যা সংঘটিত হলে কুফরে ই'তিক্বাদী'র হুকুম প্রযোজ্য। কেননা তার কুফরটি এতটা সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, তার মৌখিক উপস্থাপনা বিষয়টিকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। যেমন- কুরআন মাজীদ পদদলিত হওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও এর অপমানের জন্য কাজটি সংঘটিত করা।" -উর্দু অনুবাদক
৬২. সহীহ: সহীহ বুখারী, মিশকাত (এমদা) ৭/৩৩৭৮ নং।
📄 মুরতাদ সম্পর্কীত হুকুমের বাস্তবায়ন
আমি হাকিম/শাসকদের কাফির সম্বোধনকারীদের বলছি, আপনাদের কথানুযায়ী যদি মেনে নিই যে, এই বিচারক/শাসকদের কুফর প্রকৃতপক্ষেই মুরতাদ হওয়ার কুফর। আর এদের উপর আরেকজন উর্ধ্বতন হাকিম/শাসক আছে যার প্রতি ওয়াজিব হল পূর্বোক্ত হাদীসের আলোকে হদ জারি করা। প্রশ্ন হল, আমলী দৃষ্টিতে যদি ধরে নেয়া হয় যে, সমস্ত হাকিম/শাসকরা কাফির মুরতাদ- সেক্ষেত্রে আপনাদের সফলতাটাই বা কি? আপনাদের পক্ষে কি এটা বাস্তবায়ন সম্ভব?
এই কাফিররাই (আপনাদের দাবীনুযায়ী) তো অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রের শাসনকর্তা ও ক্ষমতার অধিকারী। আর এর চেয়ে বেশি আফসোসের বিষয় হল, আমাদের এখানে ইয়াহুদীরা ফিলিস্তিন দখল করে আছে। প্রশ্ন হল, আপনারা বা আমি এর কি পরিবর্তন করতে পারছি? আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি যেসব শাসককে কাফির বলে গণ্য করছে- আপনারা কি তাদের বিরোধিতায় কোন কিছু করার সাহস রাখেন?⁶⁰
এ কারণে এটা কতই না ভাল হত, যদি এ বিষয়টি এক দিকে রেখে দেয়া হয় এবং ঐ সমস্ত ব্যাপারে জোর তৎপরতা চালানো দরকার যার মাধ্যমে একটি সত্যিকারের ইসলামী হুকুমাত কায়েম করা সম্ভব হয়। যা সম্পূর্ণরূপে নবী -এর সুন্নাতের অনুসরণে হবে, যার ব্যাপারে তিনি তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং যার ভিত্তিতে রীতি ও নীতিমালা নির্ধারণ হয়।
টিকাঃ
৬০. শায়েখ উসায়মীন বলেন: এটা শায়েখ আলবানীর খুব সুন্দর বক্তব্য। যে সমস্ত লোকেরা শাসকদের কাফির বলছে, তারা কি এর দ্বারা কোন সহযোগিতা করতে পারছে? তারা কি ঐ শাসকদের থেকে মুক্ত/পৃথক হতে পারছে? না, তারা সে ক্ষমতা রাখে না। কেননা ইয়াহুদীরা বিগত প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে ফিলিস্তিন দখল করে আছে, অথচ সমস্ত উম্মাত- আরব কিংবা অনারব তাদের ঐ দখলদারিত্বের কোন অবসান ঘটাতে পারে নি। তাহলে আমরা কিভাবে ঐ সমস্ত শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলব যারা আমাদের উপর হুকুমাত চালাচ্ছে? অথচ আমরা এটা জানি যে, তাদের আমরা উৎখাত করতে সক্ষম নই। তাছাড়া এটাই অনুমিত হয় যে, আমাদের চেয়ে এ ব্যাপারে যারা অগ্রগামী তারা কেবল খুন, ডাকাতি ও সর্বোচ্চ সুনাম-সম্ভ্রম লুট করা ছাড়া অন্য কোন কার্যকরী ফলাফল আশা করতে পারছে না। অনুরূপভাবে আমরা (এই সব শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করলে) এর চেয়ে আর ভাল কিছু করতে পারব না। সুতরাং এতে কি-ই-বা ফায়েদা আছে? অথচ যদি কোন মুসলিম আন্তরিকভাবে এ আক্বীদা রাখে যা তার ও তার রবের মধ্যকার বিষয়ে ঐ শাসকদের মধ্যে কেউ কেউ এমন যাদের কুফর প্রকৃতপক্ষেই দ্বীন ইসলাম থেকে বের করে দেয়। এরপরও এটা ঘোষণা দিয়ে ও প্রচার করে, এর দ্বারা ফিতনার আগুনে হাওয়া দিয়ে আর কি-ই-বা ফায়দা হতে পারে। এ কারণে শায়েখ আলবানী আলোচ্য উক্তি অত্যন্ত উপকারী।
কিন্তু তাঁর সাথে এ মাসআলায় মতপার্থক্যের অবকাশ আছে যে, তিনি (আলবানী) তাদের প্রতি কুফরের হুকুম লাগান না। তবে কেবলমাত্র তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করেন, যারা আন্তরিকভাবে এটা হালাল হবার আক্বীদা রাখে। এ মাসআলার ব্যাপারে আরো কিছু==
==চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োজন আছে। কেননা আমাদের এই বক্তব্য "যে ব্যক্তি আল্লাহ'র হুকুম মোতাবেক ফায়সালা করে, কিন্তু সে এই আক্বীদা রাখে যে, গায়রুল্লাহ'র হুকুম বেশী উপযুক্ত তবে সে কাফির। যদিওবা সে আল্লাহ'র হুকুম মোতাবেক ফায়সালা করে। তার এ কুফর তো আক্বীদাগত (প্রকৃত) কুফর।"
শায়েখ আলবানী এ উক্ত বক্তব্যের ব্যাপারে বলেছেন: আমি তাঁর (শায়েখ উসায়মীনের) বক্তব্যে কোনরূপ মতপার্থক্য দেখছি না। কেননা আমরা তো এটাই বলছি যে, যদি কোন ব্যক্তি বা হাকিম এটা মনে করে যে, অইসলামী আইন ইসলামী আইন থেকে উত্তম- যদিওবা সে আমলগতভাবে ইসলামী আইন অনুযায়ী ফায়সালা করুক না কেন, সে কাফির। সুতরাং প্রমাণিত হল, এ ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই। কেননা আসল বিষয় তো যা মানুষের অন্তরে রয়েছে- সেটাই ধর্তব্য (যখন তা প্রকাশ পায়)। কিন্তু আমাদের আলোচনা তো আমল সম্পর্কীত। আর আমার ধারণা এটা অসম্ভব যে, কেউ অইসলামী আইন জারি করল যা দ্বারা আল্লাহ'র বান্দাদের মধ্যে সে ফায়সালা করে, তবে যদি সেটাকে ইস্তিহলাল (বৈধ) করে এবং এই আক্বীদা রাখে যে, এটা শরীয়তী আইনের চেয়ে উত্তম। তবে সুস্পষ্ট কথা হল, সে কাফির। অন্যথা কোন্ জিনিস তাকে সে দিকে ধাবিত করল (যার ফলে সে শরীয়াত বিরোধি ফায়সালা করল)। অবশ্য এ দৃষ্টিভঙ্গি সম্ভব যে, যে বিষয়টি তাকে সে দিকে ধাবিত করল তা হলো- সে এমন কোন শক্তিকে ভয় করছে যে তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষমতাসম্পন্ন। আর সে যদি উক্ত শরীয়াত বিরোধি ফায়সালা জারি না করে তবে তারা তার ব্যাপারে প্রভাব বিস্তারের বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে। এ পর্যায়ে আমি বলব, তার হুকুম অন্যান্য ঐ সব পাপের হুকুমের মত যেসব ব্যাপারে জবরদস্তি বা চাপের মুখে সংঘটিত আমলের হুকুম প্রযোজ্য। যে বিষয়টি আলোচ্য অনুচ্ছেদের সবচে গুরুত্বপূর্ণ তা হল 'মাসআলায়ে তাকফীর'। যা এই আমল তথা ঐ সমস্ত হাকিম/শাসকের বিরোধিতায় প্রয়োগ করা হচ্ছে- আর এটাই আসল সমস্যা। জি হাঁ, যদি মানুষের কাছে এতটা শক্তি সামর্থ্য থাকে যে, সে প্রত্যেক কাফির হাকিম/শাসককে নির্মূল করতে পারে। তবে আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। তবে শর্ত হল, তারা হাদীসে উল্লিখিত শর্ত মোতাবেক পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট কুফর দেখে এবং এ ব্যাপারে আল্লাহ 'র পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দলিল থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই মাসআলাটি কোন নতুন নয় এবং এর বাস্তবায়নও সহজসাধ্য নয়- [শায়েখ আলবানী।
-উর্দু অনুবাদক
📄 বিজয় ও ইক্বামাতে দ্বীনের সহীহ পদ্ধতি
আমি এ সম্পর্কে আরো কয়েকটি স্থানে এ ধরনের প্রত্যেকটি জামা'আতের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য বিষয়ে আলোচনা করেছি। কেবল ইসলামী অঞ্চলগুলোতেই নয়, বরং দুনিয়াব্যাপী সর্বত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন: هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ "তিনি রসূলকে প্রেরণ করেছেন হিদায়াত ও দ্বীনে হক্ব সহকারে, যেন তা সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয়ী হয়- যদিও মুশরিকদের কাছে তা অপছন্দনীয়। "⁶⁴
অনুরূপভাবে কিছু সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আগত দিনগুলোতে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এখন এই আয়াতের বাস্তবায়নের জন্যে কি মুসলিম হাকিম/শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার দ্বারাই এই আমলটির সূচনা করতে হবে? যাদের ব্যাপারে তাদের ধারণা, এই কুফর 'মুরতাদ হওয়ার কুফর'-এর চেয়ে কম না। যদিও এ ধারণাটি বাতিল, তবুও তারা কাফির সম্বোধন করার পরও কিছুই করতে পারছে না। ⁶⁶
অনেক যুবকের মনে এ ব্যাপারে সংশয় রয়েছে এবং তারা এ আমলটির বিরোধিতায় খুবই তৎপর। তাদের সংশয় হল, যদি এই সমস্ত হাকিম/শাসক আল্লাহ'র নাযিলকৃত শরিয়াতের পরিবর্তে নিজ রচিত আইন প্রতিষ্ঠা করে- তবে তারা তাদের (শাসকদের) প্রতি মুরতাদ-কাফিরের হুকুম প্রয়োগ করে। এরই ভিত্তিতে তারা বলে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা এর উপর কায়েম থাকবে ততক্ষণ তাদের সাথে ক্বিতাল করা ওয়াজিব। এ পর্যায়ে বাড়াবাড়ি হল, এই যুবকেরা নিজেদের দুর্বলতার দিকে লক্ষ্য করে না। কেননা দুর্বলতার সময় যে সমস্ত খাস হুকুম নাযিল হয়েছিল, তারা আয়াতে সাইফ (সূরা তাওবা- ৫ আয়াত) দ্বারা তা মানসুখ হয়েছে বলে উল্লেখ করে। বর্তমান যামানায় মুসলিমদের দুর্বলতার ক্ষেত্রে এ আমলটি লুট করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যা তারা ইসলামের প্রাথমিক অবস্থাতে করেছিল।
সুতরাং কোন পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করে কুরআনের নিম্নোক্ত হকু পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করা যাবে:
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ
"তিনি রসূলকে প্রেরণ করেছেন হিদায়াত ও দ্বীনে হক্ব সহকারে, যেন তা সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয়ী হয়- যদিও মুশরিকদের কাছে তা অপছন্দনীয়।"⁶⁷
নিঃসন্দেহে এর একটিই পদ্ধতি- যা রসূলুল্লাহ নিজের সাহাবীদের বলেছিলেন। তিনি নিজের প্রত্যেক খুতবাতেও বলতেন: وَخَيْرَ الْهَدْي هَدْيٌ مُحَمَّدٍ “সর্বোত্তম হিদায়াত (পথ) হল মুহাম্মাদ'র হিদায়াত।"⁶⁸
এ কারণে সমস্ত মুসলিম এবং কেবল মুসলিম রাষ্ট্রেই নয় বরং দুনিয়াব্যাপী ইসলামী হুকুম কায়েমের সহযোগিতা করা ওয়াজিব। সর্বপ্রথম সেখানে দা'ওয়াতকে প্রসারিত ও শক্তিশালী করবে যেভাবে নবী দা'ওয়াত দেয়া শুরু করেছিলেন। যা সংক্ষেপে আমি দু'টি শব্দে উল্লেখ করে থাকি: التَّصْفِيهُ وَالتَّرْبِيَهُ ))ক) তাসফিয়্যাহ (পবিত্রতা/সংস্কার-সংশোধন) ও (খ) তারবিয়্যাহ (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ)।]
টিকাঃ
৬৪. সূরা তাওবা- ৩৩ আয়াত।
*. মিকুদাদ ইবনে আসওয়াদ বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: لا يَبْقَى عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ كَلِمَةَ الْإِسْلَامِ بِعِزٌ عَزِيزٍ وَ ذُلِّ ذَلِيْلٍ إِمَّا يُعَرُّهُمُ اللَّهُ فَيَجْعَلُهُمْ مِّنْ أَهْلِهَا أَوْ يُذِلُّهُمْ فَيَدِينُوْنَ لَهَا قُلْتُ فَيَكُوْنُ الدِّينُ كله الله "যমীনের ওপর কোন মাটির ঘর অথবা পশমের ঘর (তাঁবু) বাকী থাকবে না যাতে আল্লাহ ইসলামের বাণী পৌছে দিবেন না- সম্মানীর ঘরে সম্মানের সাথে এবং অপমানিতের ঘরে অপমানের সাথে। আল্লাহ যাদের সম্মানিত করবেন তাদেরকে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের উপযুক্ত করে দেবেন। পক্ষান্তরে যাদের অপমানিত করবেন, তারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হবে। আমি (মিকদাদ তখন) বললাম: তখন তো গোটা দ্বীনই আল্লাহ'র হবে।” [আহমদ, মিশকাত (এমদা) ১/৩৮; আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাহক্বীকুকৃত মিশকাত ১/৪২ নং)-(বাংলা অনুবাদক)]
৬৬. শায়েখ উসায়মীন-কে আলোচ্য সংশয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়: তিনি (উসায়মীন) এই সংশয়টির যথাযথ জবাবে বলেন: "প্রথমে আমাদের এটা জানা দরকার এই হাকিম/শাসকদের প্রতি মুরতাদের হুকুম প্রযোজ্য কি না?"
এ সম্পর্কে সর্বপ্রথম তাদের দলীলগুলোর অবস্থা জানা জরুরী। যারা বলে থাকে যে- ১. তাদের কথা ও কাজে মুরতাদের হুকুম প্রযোজ্য; ২. কোন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি তা প্রযোজ্য করা, এবং ৩. সর্বোপরি এ দিকে লক্ষ্য রাখা যে, তাদের এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ সংশয় আছে কি না?
অর্থাৎ কোন দলিল দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায় যে, অমৃক কথা বা কাজ কুফর। এর সাথে এমন কোন অর্থ যদি পাওয়া যায় যা উক্ত ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য কুফরের সাথে সম্পর্কীত কুফরের অর্থ প্রকাশক। কেননা, অর্থতো বিভিন্নভাবে প্রয়োগ হতে পারে। যেমন- ধারণা, অজ্ঞতা, ভুল বিষয়কে প্রাধান্যদান প্রভৃতি।
যেমন- যদি কোন ব্যক্তি তার পরিবারকে বলে, "আমি যখন মারা যাব তখন আমাকে পুড়িয়ে ফেলবে এবং আমার ছাই ও অবশিষ্টাংশ নদীতে/সমুদ্রে ফেলে দিবে। কেননা যদি আল্লাহ যদি আমাকে পাকড়াও করেন তবে আমাকে এমন আযাব দেবেন, যা দুনিয়ার আর কাউকেই দেবেন না।"[সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম- আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, অনুরূপ আবূ হুরায়রা থেকে মিশকাত (এমদা) ৫/২২৫৯ নং হাদীসটির প্রকাশ্য অর্থ ব্যক্তিটির মধ্যে আল্লাহ'র পরিপূর্ণ কুদরতী ক্ষমতার ব্যাপারে কুফরযুক্ত সন্দেহের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু আল্লাহ যখন তাঁর কুদরতী ক্ষমতায় তাকে সশরীরের জীবিত করে সম্বোধন করলেন, তখন সে ব্যক্তি বলল: مِنْ خَشْيَتِكَ يَا رَبُّ "হে আমরা রব! আমি আপনাকে ভয় পাচ্ছিলাম।" তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। যদিও তার আমলটি বিকৃত চিন্তার ফলাফল ছিল।
অনুরূপ ঐ ব্যক্তির কাহিনিও উল্লেখযোগ্য, যে ব্যক্তি তার হারিয়ে যাওয়া উট পাওয়ার পর মাত্রাতিরিক্ত খুশিতে ভুল করে বলল: اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ "হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা এবং আমি আপনার রব।" [সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদা) ৫/২২২৪ নং নিঃসন্দেহে এটি একটি সুস্পষ্ট আমলী কুফর। কিন্তু এর প্রতি কি চূড়ান্ত তাকফীরের হুকুম প্রযোজ্য? সে তো নিজের বাঁধ ভাঙ্গা খুশিতে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে এবং আবেগের মোহে সঠিক বাক্য উচ্চারণের পরিবর্তে ভুল উচ্চারণ করে ফেলে। অর্থাৎ সে তো এটাই বলতে চাচ্ছিল যে, "হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দা এবং তুমি আমার রব।" কিন্তু তার মুখ থেকে ভুলক্রমে বের হল: "হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা এবং আমি আপনার প্রভু।"
অনুরূপ যে ব্যক্তিকে কুফরের ব্যাপারে বাধ্য করা হয়েছে এবং সে উক্ত জবরদস্তির কারণে কুফরী কালেমা বলে কিংবা কোন কুফরী আমল করে তবে কুরআনের (সূরা নাহাল- ১০৬ আয়াত) দলীলের আলোকে সে কাফির নয়। কেননা তার এ ব্যাপারে আন্তরিক স্বীকৃতি ছিল না।
যাহোক এই সমস্ত হাকিম/শাসক ব্যক্তিগত বিষয় যেমন- বিয়ে, তালাকু, ওয়ারিসী সম্পত্তির ভাগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীস মোতাবেক নিজ নিজ মাযহাবের উপর ফায়সালা করে থাকে। কিন্তু লোকদের মধ্যকার বিভিন্ন লেনদেনের ব্যাপারে যখন ফায়সালা আসে তখন তারা এক্ষেত্রে বিপরীত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। কেননা তাদের উলামায়ে সূ' গণ এই বুঝ দিয়েছে যে, নবী বলেছেন: أَنْتُمْ أَعْلَمُ بِأَمْرِ دُنْيَاكُمْ "তোমরা দুনিয়ার বিষয়ে বেশি জান।" [সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ফাযায়েল باب وجوب امتثال : قَالَهُ شَرْعًا دُونَ مَا ذَكَرَهُ - صلى الله عليه وسلم - من معايش الدُّنْيَا عَلَى سَبِيلِ الرَّأْي হা/৬২৭৭, আলবানীর সহীহুল জামে'উস সগীর ওয়া যিয়াদাতাহু ১/১৪৮৮ নং আর এই হুকুমটি 'আম (ব্যাপক) দাবি সম্পন্ন। সুতরাং প্রত্যেক ঐ সমস্ত ব্যাপার যেখানে দুনিয়াবী কর্মকাণ্ড জড়িত সে ব্যাপারে আমরা স্বাধীন। কেননা নবী স্বয়ং বলেছেন: أَنْتُمْ أَعْلَمُ بِأَمْرِ دُنْيَاكُمْ "তোমরা দুনিয়ার বিষয়ে বেশি জান।"
যদিও এটি একটি সংশয়ের সৃষ্টি করে কিন্তু আমরা দেখি তারা ঐ সমস্ত বিষয়ের বৈধতাকেও স্বীকৃতি দেয়। যেমন- হদ কায়েম না করা, মদ পান প্রভৃতি বিষয়ে তারা ইসলামী শরিয়াতের বিপরীতে অবস্থান করে। এখন যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নিই তবে কিছু ব্যাপারে সংশয়ের বাস্তবতা সঠিক হলেও শেষোক্ত আইনগুলোর ব্যাপারে তাদের ব্যাপারে কোন সংশয় থাকে না। আলোচ্য অভিযোগের শেষাংশে বর্ণিত (দুর্বলতার সময় করণীয়) বিষয়ে বলা যায়: যখন আল্লাহ জিহাদ ফরয হওয়ার পরে বললেন: يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلَبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِنَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ "হে নবী! আপনি মু'মিনদের ক্বিতালের প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন। যদি তোমাদের মধ্যে বিশজন সবরকারী হয় তবে তারা দু'শ এর উপর বিজয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ জন সবরকারী হয় তারা এক হাজার কাফিরের উপর বিজয়ী হবে। কারণ তারা নির্বোধ লোক।" [সূরা আনফাল- ৬৫ আয়াত]
আয়াতটিতে দশজন কাফিরের মোকাবেলায় একজন মু'মিনকে কুবুল করা হয়। অতঃপর আল্লাহ বলেন: الْآنَ خَفْفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنْ فِيكُمْ ضَعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِئَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَلْفَ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ "এখন আল্লাহ তোমাদের থেকে বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে বলে জেনেছেন। অতএব যদি তোমাদের মধ্যে একশ জন সবরকারী হয় তবে তারা দু'শ জনের উপর জয় লাভ করবে আর এক হাজার হলে দু' হাজারের উপর জয়লাভ করবে। আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন।" [সূরা আনফাল- ৬৬ আয়াত] অনেক আলেম বলেন উক্ত অবস্থা পরিস্থিতি বিশেষে প্রযোজ্য।
[সংযোজন: ইবনে আব্বাস বলেন: যখন إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مَائَتَيْنِ আয়াতটি নাযিল হল, তখন দশ জনের বিপরীতে একজনের পলায়নও নিষিদ্ধ করা হল, তখন এটা মুসলিমদের উপর দুঃসাধ্য মনে হলে পরে তা লাঘবের বিধান এলো إِنَّ خَفِّفَ اللهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِئَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ فَلَمَّا خَفِّفَ اللهُ عَنْهُمْ مِنَ الْعِدَّةِ نَقْصٌ مِنَ الصَّبْرِ بِقَدْرِ مَا خَفَفَ عَنْهُمْ "আল্লাহ তাদেরকে সংখ্যার দিকে থেকে যখন হাল্কা করে দিলেন তাদের সবরের ত্রুটির কারণে, সেই পরিমাণে তাদের সবরও হ্রাস পেল।" (সহীহ বুখারী- কিতাবুত তাফসীর, সূরা আনফال)
সাওবান বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: يُوشِكُ الْاُمَمُ أَنْ تَدَاعِي عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا، فَقَالَ قَائِلٌ : وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ، وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءُ كَغُثَاءِ السَّيْلِ، وَلَيَنْزِعَنَّ اللهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ، وَلَيَقْذِفَنَّ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ. قَالَ قَائِلٌ : يَا رَسُولَ اللهِ! وَمَا الْوَهْنُ؟ قَالَ : حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَّةُ الْمَوْتِ –
"অচিরেই বিশ্বের অন্যান্য জাতি তোমাদের ওপর হামলার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে যেমন লোভী পেটুকেরা খাবার পাত্রে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তখন জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে কি এমনটি হবে? তিনি বললেন, না। বরং সে সময় তোমরা সংখ্যায় অধিক সংখ্যক হবে কিন্তু তোমাদের অবস্থা হবে খড়-কুটার মত।। আল্লাহ তোমাদের দুশমনের অন্তর থেকে তোমাদের প্রভাব প্রতিপত্তি দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে অলসতার সৃষ্টি হয়ে যাবে। তখন জনৈক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অলসতার সৃষ্টি হবে কেন? তিনি বললেন, দুনিয়ার প্রতি মহব্বত আর মৃত্যুকে অপছন্দ (ভয়) করার কারণে।" [আবু দাউদ, মিশকাত ৯/৫১৩৭; আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন- আলবানীর মিশকাত ৩/১৪৭৫ পৃঃ]
হাসান বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ 'র একজন সাহাবী আয়েয ইবনে আমর একবার উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের কাছে গেলেন। তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, বৎস! আমি রসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি: إِنَّ شَرَّ الرِّعَاءِ الْحُطَمَةَ "কৃষ্টতম রাখাল হচ্ছে অত্যাচারী শাসক।" সুতরাং তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া থেকে সাবধান থাকবে। তখন সে বলল: বসে পড়! তুমি হচ্ছ নবী'র সাহাবীদের ভূষি স্বরূপ। জবাবে তিনি বললেন: وَهَلْ كَانَتْ لَهُمْ نُخَالَةٌ إِنَّمَا كَانَتِ النُّخَالَةُ بَعْدَهُمْ وَفِي غَيْرِهِمْ
“তাঁদের মধ্যেও কি ভূষি আছে? ভূষি তো তাদের পরবর্তীদের এবং অন্যান্যদের মধ্যে।” [সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ইমারাত بَابُ فَضِيلَةِ الْإِمَامِ الْعَادِلِ وَعُقُوبَةُ الْجَائِرِ : )ইফা( ৬/৪৫৮০ নং।
মিরদাস আসলামী বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: يَذْهَبُ الصَّالِحُوْنَ الْأَوَّلُ فَالْأَوَّلُ وَتَبْقَى حُفَالَةٌ كَحُفَالَةِ الشَّعِيْرِ أَوِ التَّمَرِ لَا يُبَالِيْهِمُ اللَّهُ بالة
“ভাল ও নেককার লোকেরা (পর্যায়েক্রমে) একের পর এক চলে যাবে। অতঃপর অবশিষ্টরা যব অথবা খেজুরের নিকৃষ্ট চিটার ন্যায় থেকে যাবে। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ করবেন না।” [সহীহ বুখারী, মিশকাত ৯/৫১৩০]
সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস থেকে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি: إِنَّ الْأَيْمَانَ بَدَا غَرِيبًا وَسَيَعُوْدُ كَمَا بَدَا فَطُوبَى يَوْمَئِذٍ لِلْغُرَبَاءِ إِذَا فَسَدَ الزَّمَانُ وَالَّذِي نَفْسٌ أَبِي الْقَاسِمُ بَدِهِ لَبَارِزَنَ الْإِيْمَانُ بَيْنَ هَذَيْنِ الْمَسْجِدَيْنِ كَمَا تَازُ الْحَيَّةُ فِي جُحْرِهَا
“নিশ্চয় ঈমান উৎপত্তি লাভ করেছে গরীব (পরবাসী/দুর্বল) অবস্থায় এবং তা অচিরেই প্রত্যাবর্তন করবে সেই অবস্থায়, যে অবস্থায় উৎপত্তি লাভ করেছিল। সুতরাং মোবারকবাদ ঐ দিন সেইসব গরীবদের জন্য, যখন ফাসাদের যামানা হবে। যাঁর হাতে আবুল কাসিমের জীবন! সেই সত্তার কুসম! ঈমান এই দুই মাসজিদের মধ্যবর্তী স্থানে প্রবেশ করবে, সর্প যেমন তার গর্তে প্রবেশ করে থাকে।” [সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ (ইফা) ১/৯৯ নং (বাংলা অনুবাদক)]
তাছাড়া আমাদের কাছে এই দুর্বলতার সমর্থনে দলিল মজুদ রয়েছে যা এর সুস্পষ্টতা ও ব্যাপকতা ব্যক্ত করে। যেমন আল্লাহ বলেন: لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا “আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না” (সূরা বাক্বারাহ: ২৮৬ আয়াত)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন : فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ “সুতরাং আল্লাহকে সাধ্যমত ভয় কর” (সূরা তাগাবুন: ১৬ আয়াত)।
যদি আমরা তর্কের খাতিরে মেনে নিই যে, আলেম-উলামাদের বর্ণিত শর্তের আলোকে এই সমস্ত হাকিম/শাসকদের উৎখাত করা ওয়াজিব। তবুও সেক্ষেত্রে এটা আমাদের প্রতি ওয়াজিব হয় না। কেননা তাদের পতন ঘটানোর মত শক্তি-সামর্থ্য আমাদের নেই। বিষয়টি যদিও সুস্পষ্ট, এরপরও মানুষ নাফস অসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) যুক্ত”- শায়েখ উসায়মীন। [উর্দু অনুবাদক]
৬৭. সূরা তাওবা- ৩৩ আয়াত।
৬৮. সহীহ: সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদা) ১/১৩৪ নং।
📄 রসূলুল্লাহ ﷺ তাসফিয়াহ ও তারবিয়্যাহ’র উসওয়াতুন হাসানাহ (সর্বোত্তম আদর্শ)
আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবহিত যার সাথে বিভ্রান্তি ও জ্ঞানের দৈনতা জড়িত। বরং বিভ্রান্ত বলাই বেশি পরিপূরক। কেননা তাদের জ্ঞান না থাকাটা অসম্ভব। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই তারা চরমপন্থাকে পছন্দ করে, যার ফলে হাকিম/শাসককে কাফির বলা ছাড়া আর অন্য কোন ব্যাপারে তাদের প্রতি বিভ্রান্ত হওয়ার বিষয়টি দেখা যায় না। ফলে তাদের অবস্থা তেমনই হয়েছে, যেমন তাদের পূর্বে আল্লাহ'র যমীনে ইক্বামাতে দ্বীন ও ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে দা'ওয়াত দাতাদের অবস্থা হয়েছিল। তারা শাসকদেরকে কাফির ঘোষণা করে। অতঃপর তাদের তরফ থেকে ফিতনা- ফাসাদ বিস্তার ছাড়া আর কোন কিছুই পাওয়া যায় নি।
আমরা সবাই জানি, বিগত বেশ কয়েক বছরে উক্ত ফিতনার কারণে মক্কা থেকে শুরু করে মিশর পর্যন্ত নেতৃবৃন্দকে হত্যা এবং অসংখ্য নিরাপরাধ মুসলিমের রক্ত অন্যায়ভাবে ঝড়ানো হয়েছে। অবশেষে সিরিয়া ও আলজেরিয়াতেও অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ঘটনা ঘটে.....।
এ সবের ভিত্তি কেবলই একটি। তারা কিতাব ও সুন্নাতের দলিল- প্রমাণের বিরোধিতা করছে, বিশেষভাবে নিচের আয়াতটির। আল্লাহ ﷻ বলেন: لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্যে রসূলুল্লাহ'র মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। "৬৯
তাহলে আমরা যখন যমীনে হুকুমে ইলাহী কায়েম করতে চাইব, তখন কি হাকিম/শাসকদের সাথে ক্বিতাল করার মাধ্যমে করব? অথচ সেই সামর্থ্য আমাদের নেই। নাকি আমরা সেটাই করব যা নবী ﷺ করেছিলেন? لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ : নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ'র মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” [সূরা আহযাব- ২১।
এখন আমরা দেখব রসূলুল্লাহ কিভাবে শুরু করেছিলেন:
আপনারা জানেন যে, রসূলুল্লাহ সর্বপ্রথম তাদের দা'ওয়াত দিয়েছিলেন যাদের দা'ওয়াত গ্রহণের মানসিক সম্ভাব্যতা ছিল। অতঃপর দা'ওয়াতে লাব্বায়েক বলার মত ব্যক্তিরা লাব্বায়েক বলল। এটা নবী'র জীবন চরিত থেকে প্রমাণিত। অতঃপর দুর্বলতা ও বিরোধিতাকারীদের নির্যাতনের শিকার হলেন। শেষাবধি প্রথম ও দ্বিতীয় হিজরতের হুকুম এবং তৎপরবর্তী ঘটনাসমূহ..... এমনকি আল্লাহ মদীনাতে ইসলাম কায়েম করলেন। অতঃপর কাফিরদের আক্রমণের ও ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হলেন।
এ কারণে আমি তা'লিম (পাঠদান) সর্বোপ্রথম জরুরী মনে করি, যা নবী করেছিলেন। কিন্তু আমি কেবল তা'লিমই বলছি না, কিন্তু কেন? অর্থাৎ আমি তা'লিম শব্দটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। উম্মাতের তা'লিম তো দ্বীনি কাজ। অথচ উম্মাতের মধ্যে এমন অনেক বিষয় তা'লিমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্কই নেই। বরং সেগুলো ইসলামকে কেবল বিকৃতই করে। এমনকি ঐ সমস্ত বিষয়কেও ধ্বংস করে যা সহীহ ইসলামের অধীনে অর্জিত হত।
সুতরাং ইসলামের দিকে দা'ওয়াত দাতাগণের জন্য ওয়াজিব হল, ঐ বিষয়ের দ্বারা শুরু করা যা এখন আমি বলব অর্থাৎ-
১. তাসফিয়্যাহ (পবিত্রতা/সংস্কার-সংশোধন): ঐ সমস্ত বিষয় থেকে ইসলামকে পবিত্র করা যা এর মধ্যে প্রবেশ করেছে এবং তার পবিত্র-পরিচ্ছন্ন সত্তাকে কলুষিত করেছে। যার সম্পর্ক কেবল ফুরু'য়ী (শাখা/প্রশাখাগত) ও ইখতিলাফী (মতপার্থক্য) মাসায়েলেই নয়, বরং তা আক্বীদাকেও বিপর্যস্ত করেছে।
২. তারবিয়্যাত (শিক্ষা-প্রশিক্ষণ): পূর্বোক্ত তাসফিয়্যাহ'র (পবিত্রতা / সংস্কার-সংশোধনের) সাথে জড়িত অপর বিষয়টি হল তারবিয়্যাহ। অর্থাৎ যুবকদের ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান। ৭০
আমরা যখন বর্তমান যামানার ইসলামী আন্দোলনগুলোকে বিগত একশ' বছরের পর্যালোচনার চোখে দেখি, তখন তাদের দ্বারা ফিতনা- ফাসাদের বিস্তার ছাড়া আর কোন ফায়দাই খুঁজে পায় না। কেউ কেউ নিরাপরাধ প্রাণগুলোর রক্তপাত করেছে, অথচ কোন ফায়দাই অর্জিত হয় নি। পূর্বোক্ত কথাগুলোর সারাংশ হল, আমরা কিতাব ও সুন্নাতের বিরোধি আক্বীদা শ্রবণ করছি, যাদের দাবি হল- ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করছি। ৭১
এমন উদ্দেশ্যেই আমরা একটি বাক্য উল্লেখ করছি যা তাদেরই কোন দা'ওয়াতদাতার উদ্ধৃতি। যে ব্যাপারে আমাদের আকাঙ্ক্ষা হল, তাদের অনুসারীরা এটাকেই বাধ্যতামূলক বানিয়ে নেবে এবং সেই লেবাসেই/ পরিচয়ে নিজেদের প্রকাশ করবে। বাক্যটি হল: أَقِيمُوا دَوْلَةَ الْإِسْلَامِ فِي قُلُوبِكُمْ تَقُمُ لَكُمْ عَلَى أَرْضِكُمْ
"নিজেদের ক্বলবে (অন্তরে) ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম কর, যা তিনি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য তোমাদের যমীনের উপর তা কায়েম করবেন।" ৭২
কেননা যদি কোন মুসলিমের আক্বীদা কুরআন ও সুন্নাহ'র আলোকে সহীহ হয়ে যায় তখন তার 'ইবাদত, আখলাকু, ব্যবহার প্রভৃতি নিজের পক্ষ থেকেই সংশোধিত হতে থাকে।
কিন্তু আমার দৃষ্টিতে ঐ সমস্ত লোক উক্ত বাক্যের দাবির উপর আমল করে না। অথচ ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের পক্ষে আওয়াজ তুলে যাচ্ছে। তাদের প্রতি যেন কবির কবিতার এই অংশটি খুবই প্রযোজ্য: تَرْجُو النَّجَاةَ وَلَمْ تَسْلُكُ مَسَأَلَكَهَا إِنَّ السَّفِينَةَ لَا تَجْرِي عَلَى الْيَسَ
"তুমি নাজাতের আকাঙ্ক্ষা কর অথচ তুমি সে পথ পাওনি। জেনে রাখ! নৌকা কখনো শুকনা স্থানে চলে না।"
আশাকরি প্রশ্নের উত্তরে এতটুকুই যথেষ্ট.....। আল্লাহু মুস্তা'আন (আল্লাহই সর্বোচ্চ সাহায্যকারী)।
টিকাঃ
৬৯. সূরা আহযাব: ২১ আয়াত।
৭০. শায়েখ উসায়মীন বলেছেন: "শায়েখ আলবানী সর্বপ্রথম ইসলামে তাসফিয়্যাহ (পবিত্রতা/সংস্কার) করতে চেয়েছেন। কেননা ইসলাম আজ অনেক শাখা-শাখায় বিভক্ত। ১) আক্বীদাগত শাখা, ২) আখলাকু/চারিত্রিক শাখা, ৩) মু'আমালাত/ লেনদেনগত শাখা, ৪) ইবাদতগত শাখা তথা উক্ত চারটি শাখাতে বিভক্ত হয়েছে। যেমন: ক. আক্বীদাগত শাখা- কেউ আশ'য়ারী, কেউ মু'তাযিলা প্রভৃতি বিভিন্ন শাখা। খ. ইবাদতগত শাখা- কেউ সূফী, কেউ ক্বাদেরী প্রভৃতি শাখা। গ. মু'আমালাত/ লেনদেনগত শাখা: কেউ পুঁজিবাদী সুদকে হালাল বলে, আবার কেউ বলে হারাম। কেউ লটারী, জুয়াকে হারাম গণ্য করে, আবার কেউ বলে হালাল। এমতাবস্থায় আমাদের সর্বপ্রথম জরুরী হল, ইসলামকে বর্তমানের এই সমস্ত শাখা ও বিভক্তি থেকে তাসফিয়াহ (পবিত্র/সংস্কার) করা। এ কারণে উলামা ও ছাত্রদের অনেক গুরুদায়িত্ব রয়েছে। অতঃপর আমরা যুবকদের এ সমস্ত শাখা-বিভক্তি থেকে পবিত্র করার তারবিয়্যাত (শিক্ষা-প্রশিক্ষণ) দেব। পরিশেষে যুবকরা কুরআন ও সুন্নাহ'র ভিত্তিতে সালফে সালেহীনদের উপলব্ধিতে সঠিক আক্বীদা, আদব ও উন্নত আখলাকের অধিকারী হবে। [উর্দু অনুবাদক]
৭১. আমাদের বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বজুড়ে ইসলামের নামে যেসব সংগঠন/আন্দোলন রয়েছে এর অধিকাংশই কুরআন ও সহীহ হাদীসের দিকে সালফে-সালেহীনদের উপলব্ধির আলোকে দা'ওয়াত দেয়ার পরিবর্তে নিজ নিজ মাযহাব, তরীক্বা ও উপলব্ধির দিকে দা'ওয়াত দিয়ে থাকে। তাছাড়া ক্ষমতা, অর্থ ও জনপ্রিয়তার মোহে বিভিন্ন বিদ'আত (মিলাদুন্নবী/দু'আর মাহফিল, বরকত/সওয়াবের নিয়তে বিভিন্ন স্থান সফর), শিরক (পীরবাদ, কবরপূজা), বিকৃত আক্বীদা (আল্লাহ'র নাম ও গুণাবলীতে বিকৃতি, আশ'য়ারী- মাতুরিদী-মুতাযিলা-শিয়া আক্বীদা, সাহাবীদের প্রতি রাজনৈতিক ও বিভ্রান্তির দোষারোপ) ও জাহেলিয়াতের সাথে আপোষকামীতা (গণতন্ত্র, সুদকে ইসলামী/আরবি পরিভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে বৈধ করা), ইসলামের সবকিছুকেই রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন হওয়ার উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত করা- প্রভৃতির মধ্যে লিপ্ত। এমনকি বিদ'আত ও জাহেলী অনেক কর্মকাণ্ডকে তারা ইসলাম কায়েমের হিকমাত বলেও আখ্যায়িত করে। ফলে সাধারণ জনগণের পক্ষে প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করা অত্যন্ত দূরূহ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। [উর্দু অনুবাদক নিজ পক্ষ থেকে বিভিন্ন দলের নাম উল্লেখ পূর্বক তাদের বিভ্রান্তিগুলো তুলে ধরেছেন। আমি (বাংলা অনুবাদক) সুনির্দিষ্টভাবে দলগুলোর নাম উল্লেখ না করে মূল কথাগুলো তুলে ধরেছি]
৭২. শায়েখ উসায়মীন বলেন: এটা খুবই উপকারী বাক্য। আল্লাহু মুস্তা'আন (আল্লাহই সর্বোচ্চ সাহায্যকারী)। -উর্দু অনুবাদক