📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 ইমাম কুরতুবী (রহঃ)

📄 ইমাম কুরতুবী (রহঃ)


(মৃত: ৬৭১ হিঃ)
وَقَالَ فِي الْمُنْهَمِ" (۱۱۷/٥) : وَقَوْلُهُ : ( وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ ) يَحْتَجُ بِظَاهِرِهِ مَنْ يَكْفُرُ بِالذُّنُوبِ، وَهُمُ الْخَوَارِجُ ، وَلَا حُجَّةَ لَهُمْ فِيْهِ، لِأَنَّ هَذِهِ الآيَاتِ نَزَلَتْ فِي الْيَهُودِ الْمُحْرِفِينَ كَلَامُ اللَّهِ تَعَالَى، كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ، وَهُمْ كُفَّارُ، فَيُشَارِكُهُمْ فِي حُكْمِهَا مَنْ يُشَارِكُهُمْ فِي سَبَبٍ النزول.
وَبَيَانُ هَذَا : أَنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَلِمَ حُكْمَ اللهِ تَعَالَى فِي قَضِيَّةٍ قَطْعًا ثُمَّ لَمْ يَحْكُمْ بِهِ، فَإِنْ كَانَ كَافِرًا، لَا يَخْتَلِفُ فِي هَذَا، وَإِنْ كَانَ لَا عَنْ جَحَدَ عَاصِيًا مُرْتَكِبُ كَبِيرَةٍ، لِأَنَّهُ مُصَدِّقُ بِأَصْلِ ذَلِكَ الْحُكْمِ، وَعَالِمُ بِوُجُوبِ تَنقِيدِهِ عَلَيْهِ، لَكِنَّهُ عَصَى يتَركِ الْعَمَلِ بِهِ، وَهُذَا فِي كُلِّ مَا يَعْلَمُ مِنْ ضَرُورَةِ الشَّرْعِ حُكْمُهُ، كَالصَّلَاةِ وَغَيْرُها مِنَ الْقَوَاعِدِ الْمَعْلُومَةِ، وَهُذَا مَذْهَبُ أَهْلِ السُّنَّةِ
ইমাম কুরতুবী তাঁর "المفهم" -এ (৫/১১৭) বলেন: “আল্লাহর 'র বাণী: “যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করে না, সে কাফির" -আয়াতটির বাক্যের বাহ্যিক দাবীর ভিত্তিতে যারা গোনাহকারীদের কাফির বলে, তারা হল খারেজী। অথচ এই আয়াতে তাদের স্বপক্ষে দলিল নেই। কেননা এই আয়াতটি তো ঐ সমস্ত ইয়াহুদীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যারা আল্লাহর আহকামে তাহরীফ (বিকৃতি) করেছিল। যেভাবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এ কারণে তাদেরকে কাফির গণ্য করা হয়েছে। সুতরাং ঐ ব্যক্তি কাফির হুকুমের মধ্যে তাদের সাথে শরীক হবে, যার ক্ষেত্রে আয়াতের শানে-নুযূলের প্রেক্ষাপটটি মিলে যাবে।
এর ব্যাখ্যা হল: যদি কোন মুসলিম কোন ব্যাপারে আল্লাহর হুকুমের সুস্পষ্ট বিধান জানে, অতঃপর সে অনুযায়ী ফায়সালা করে না। এ পর্যায়ে যদি সে (আল্লাহর বিধানকে) অস্বীকার করে- তবে সে কাফির। এ ব্যাপারে কোন ইখতিলাফ নেই। আর যদি সে অস্বীকার না করে, তবে তা গোনাহর মধ্যে কবীরা গোনাহর অন্তর্ভূক্ত। কেননা সে ঐ হুকুমকে প্রকৃতপক্ষে স্বীকার করে এবং নিজের ওপর তা প্রযোজ্য হওয়ার 'ইলমও রাখে। কিন্তু সে তার উপর আমল না করার কারণে পাপী হয়। শরী'আতের সব ধরণের জরুরী হুকুমের ক্ষেত্রে এটাই প্রযোজ্য। যেমন- সালাত প্রভৃতিতে স্বীকৃত কানুন অনুযায়ী আহলে সুন্নাতের মাযহাব এটাই।"

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহঃ)

📄 শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহঃ)


(মৃত: ৭২৮ হিঃ)
وَقَالَ فِي مُجْمُوعِ الْفَتَاوى" (٢٦٧/٣) : وَالْإِنْسَانُ مَتَى حَلَّلَ الْحَرَامَ - الْمُجْمَعَ عَلَيْهِ - أَوْ حَرَّمَ الْحَلَالَ - الْمُجْمَعَ عَلَيْهِ - أَوْ بَدَّلَ الشَّرْعَ - الْمُجْمَعَ عَلَيْهِ - كَانَ كَافِرًا مُرْتَدًا بِاتِّفَاقِ الْفُقَهَاءِ . وَفِي مِثْلِ هَذَا نَزَلَ قَوْلُهُ عَلَى أَحَدٍ الْقَوْلَيْنِ : ( وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الكافرون ) أَيْ هُوَ الْمُسْتَحِلُ لِلْحُكْمِ بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ
ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর 'মুজমা'উ ফাতাওয়া' (৩/২৬৭)-এ বলেন: “মানুষ যখন ঐ জিনিসকে হালাল গণ্য করে যা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ইজমা' আছে, কিংবা ইজমাকৃত হারামকে হালাল করে, কিংবা ইজমা হওয়া শরী'আতকে বদল করে- এক্ষেত্রে ফুক্বাহগণ ঐকমত্য যে সে কাফির, মুরতাদ। দু'টি উক্তির একটি উক্তির আলোকে "যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করে না সে কাফির" -আয়াতটি ঐ লক্ষ্যে নাযিল হয়েছে, যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান ছাড়াও অন্য হুকুমকে হালাল গণ্য করে।"
وَقَالَ فِي "مِنْهَاجِ السُّنَّةِ" (١٣٠/٥): قَالَ تَعَالَى: فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا [٤:٦٥] فَمَنْ لَمْ يَلْتَزِمْ تَحْكِيمُ اللهِ وَرَسُولِهِ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ فَقَدْ أَقْسَمَ اللَّهُ بِنَفْسِهِ أَنَّهُ لَا يُؤْمِنُ وَأَمَّا مَنْ كَانَ مُلْتِزمًا لِحُكم اللَّهِ وَرَسُولِهِ بَاطِنَا وَظَاهِرًا لَكِنْ عَصَى وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَهُذَا بِمَنْزِلَةِ أَمْثَالِهِ مِنَ الْعُصَاةِ وَهَذِهِ الْآيَةٌ مِمَّا يَحْتَجُ بِهَا الْخَوَارِجُ عَلَى تَكْفِيرِ وَلَاةِ الْأَمْرِ الَّذِينَ لَا يَحْكُمُونَ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ ثُمَّ يَزْعُمُونَ أَنَّ اعْتِقَادَهُمْ هُوَ حُكْمُ اللهِ وَقَدْ تَكَلَّمَ النَّاسُ بِمَا يَطُولُ ذِكَرُهُ هُنَا وَمَا ذَكَرْتُهُ يَدُلُّ عَلَيْهِ سِيَاقُ الآية
তিনি তার ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ (৫/১৩০)-এ বলেন, আল্লাহর বাণী: "আপনার রবের কুসম! তারা মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সমস্ত মোকদ্দমায় আপনাকে হাকিম না বানায়। অতঃপর আপনি যে ফায়সালা করেন সে ব্যাপারে মনে কোন সংকীর্ণতা রাখে না এবং হৃষ্টচিত্তে কুবুল করে নেবে।" (সূরা নিসা- ৬৫ আয়াত)। যারা নিজেদের পারস্পরিক ব্যাপারে আল্লাহর ও তাঁর রসূলের হুকুমকে আবশ্যক গণ্য করে না, এমন ব্যক্তিদের সম্পর্কে আল্লাহর নিজের সত্তার কুসম খেয়ে বলেছেন- তারা মু'মিন নয়। অবশ্য যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের হুকুমকে যাহেরী ও বাতেনীভাবে আবশ্যক গণ্য করে, কিন্তু নিজের নফসের আনুগত্যের জন্যে অবাধ্য হয় (গোনাহ করে বসে), তবে এর হুকুম অন্যান্য গোনাহর মত। এটাও একটি আয়াত যা দ্বারা খারেজীরা ঐ সমস্ত হাকিমকে তাকফির করে, যারা আল্লাহ'র শরী'আত অনুযায়ী ফায়সালা করে না। অতঃপর' তারা এটাই ধারণা করে যে তাদের আক্বীদাটাই আল্লাহর হুকুম। এছাড়াও লোকেরা অনেক মন্তব্য করে থাকে, যার আলোচনা খুবই দীর্ঘ। এরপরেও আমি যতটুক বর্ণনা করেছি আলোচ্য আয়াত তারই দলিল।
وَقَالَ فِي مُجْمُوعِ الْفَتَاوى" (۳۱۲/۷) وَإِذَا كَانَ مِنْ قَوْلِ السَّلَفِ : إِنَّ الْإِنْسَانَ يَكُونُ فِيهِ إِيْمَانٌ وَنَفَاقٌ فَكَذَلكَ فِي قَوْلِهِمْ : إِنَّهُ يَكُونُ فِيهِ إِيْمَانٌ وَكُفْرٌ لَيْسَ هُوَ الْكُفْرُ الَّذِي يَنْقُلُ عَنْ الْمِلَّةِ ؛ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسِ وَأَصْحَابُهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ ﴾ قَالُوا : كَفَرُوا كُفْرًا لَا يَنْقُلُ عَنْ الْمِلَّةِ وَقَدْ اتَّبَعَهُمْ عَلَى ذَلِكَ أَحْمَد بْنُ حَنْبَلٍ وَغَيْرُهُ مِنْ أَئِمَّةِ السُّنَّةِ
ইমাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর "মুজমা'উ ফাতাওয়া” (৭/৩১২)-এ আরো বলেন: যেহেতু সালাফদের এই উক্তি আছে: "একজন মানুষের মধ্যে ঈমান ও কুফর একত্রে থাকতে পারে" অর্থাৎ ঐ কুফর যা মিল্লাতে ইসলামিয়াহ থেকে খারিজ করে না। যেভাবে ইবনে 'আব্বাস ও তাঁর সাথিরা আল্লাহ'র বাণী: "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করে না তারা কাফির" (সূরা মায়িদাহ- ৪৪ আয়াত) সম্পর্কে বলেছেন: "এটা এমন কুফর যা দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ করে না।" অনুরূপ উক্তি রয়েছে ইমাম আহমাদ-এর এবং অন্যান্য সালাফগণও এর অনুসরণ করেছেন।"

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ)

📄 ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ)


(মৃত: ৭৫১ হিঃ)
قَالَ فِي مَدَارِج السَّالِكِينَ (٣٣٦/١) : وَالصَّحِيحُ : أَنَّ الْحُكْمَ بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ يَتَنَاوَلُ الْكَفِرِينَ الْأَصْغَرَ وَالْأَكْبَرَ بِحَسْبِ حَالِ الْحَاكِمِ فَإِنَّهُ إِنْ اعْتَقَدَ وُجُوبَ الْحُكْمِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي هَذِهِ الْوَاقِعَةِ وَعَدَلَ عَنْهُ عِصْيَانًا لِأَنَّهُ مَعَ اعْتِرَافِهِ بِأَنَّهُ مُسْتَحَقِّ لِلْعُقُوْبَةِ فَهُذَا كُفْرُ أَصْغَرُ وَإِنْ اعْتَقَدَ أَنَّهُ غَيْرُ وَاجِبٍ وَأَنَّهُ مُخِيرٌ فِيْهِ مَعَ تَيَقُتِهِ أَنَّهُ حَكَمَ اللهُ تَعَالَى فَهُذَا كُفْرُ أَكْبَرُ وَإِن جَهَلَهُ وَأَخْطَاهُ : فَهَذَا مُخْطِئُ لَهُ حُكْمُ الْمُخْطِئِينَ
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়েম তাঁর "মাদারেজুস সালেকীন" (১/৩৩৬)-এ লিখেছেন: "সহীহ বক্তব্য হল: আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের বিরোধি ফায়সালা পরিস্থিতি বিশেষে উভয় কুফর গণ্য হবে, অর্থাৎ 'কুফরে আসগার' (ছোট কুফর) ও 'কুফরে আকবার' (বড় কুফর)। যদি সে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটিতে এই আক্বীদা রাখে যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করা তার ওপর ওয়াজিব, অথচ তা থেকে বিরত থাকে তাহলে সেটা গুনাহ। কেননা সে এর শাস্তি পাওয়ার যোগ্য মনে করে। এক্ষেত্রে পাপটি কুফরে আসগার। আর যদি হুকুমটি আল্লাহ'র হওয়া সত্ত্বেও সে আক্বীদা রাখে যে, এটা তার উপর ওয়াজিব নয় বরং সম্পূর্ণ স্বাধীন, তাহলে এটা কুফরে আকবার। যদিও সে এ ব্যাপারে অজ্ঞ ও ভুলকারী, তাহলে সে ভুলকারক। এ পর্যায়ে তার জন্য অন্যান্য ত্রুটিকারীর হুকুম প্রযোজ্য।"
وَ قَالَ فِي الصَّلَاةُ وَحُكْمُ تَارِكِهَا" (ص (۷۲) : وَهَا هُنَا أَصْلُ آخَرُ وَهُوَ أَنَّ الْكُفْرَ نَوْعَانِ كُفْرُ عَمَلُ وَكُفْرُ جُحُودَ وَعِنَادُ الْجُحُودِ أَنْ يَكْفُرَ بِمَا عَلَّمَ أَنَّ الرَّسُوْلَ جَاءَ بِهِ مِن عِندِ اللَّهِ جُحُودًا وَعِنَادًا مِنْ اسْمَاءِ الرَّبِّ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ وَأَحْكَامِهِ وَهُذَا الْكُفْرُ يُضَادُ الْإِيْمَانَ مِنْ كُلِّ وَجْهِ وَأَمَّا كُفْرُ العَمَلِ فَيَنْقَسِمُ إِلَى مَا يُضَادُ الْإِيْمَانَ وَإِلَى مَا لَا يُضَادَه فَالسُّجُودُ لِلغَمِّ وَالْإِسْتِهَانَةِ بِالْمَصْحَفِ وَقَتْلُ النَّبِيِّ وَسَبِّهُ يَضَادُ الْإِيْمَانَ وَأَمَّا الْحُكْمُ بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَتَرَكُ الصَّلَاةِ فَهُوَ مِنَ الْكُفْرِ الْعَمَلِي قَطْعًا
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম তার “الصَّلَاةُ وَحُكْمُ تَارِكِهَا " (পৃ: ৯২) এ বলেন: “এ পর্যায়ে অপর একটি উসূল পাওয়া যায়, সেটা হল কুফর দুই ধরণের হয়ে থাকে। 'আমলী কুফর এবং জুহৃদ (অস্বীকৃতির) বা 'ঈনাদ (বিরোধিতার) কুফর। কুফরে জুহৃদ হল, অস্বীকৃতির ভিত্তিতে ঐ কুফর যা সে জানে যে, এটা রসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে এনেছেন। যেমন- আল্লাহর নাম ও তাঁর সিফাত, তাঁর বিভিন্ন 'আমল ও আহকামসমূহ। এ সমস্ত কুফর ঈমানের প্রত্যেক ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক। পক্ষান্তরে কুফরে 'আমালী দু'ভাগে বিভক্ত- যা ঈমান বিরোধি এবং যা ঈমান বিরোধি নয়।³⁵ একটি হল, যা ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেমন: মূর্তিকে সিজদা করা, কুরআন মাজীদের অসম্মান করা, কোন নবী -কে হত্যা করা বা গালি দেয়া ঈমান বিরোধি। পক্ষান্তরে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান জারি না করা, সালাত আদায় না করা নিশ্চিতভাবে কুফরে 'আমালী।"³⁶

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ)

📄 হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ)


(মৃত: ৮৫২ হিঃ)
قَالَ فِي فَتَحُ الْبَارِئُ (۱۲۰/۱۳): إِنَّ الْآيَاتِ وَإِنْ كَانَ سَبَبُهَا أَهْلُ الْكِتَابِ لَكِنَّ عُمُوْمَهَا يَتَنَاوَلُ غَيْرَهُمْ لَكِنْ لَمَّا تَقَرَّرَ مِنْ قَوَاعِدِ الشَّرِيعَةِ أَنَّ مُرْتَكِبَ الْمَعْصِيَةِ لَا يُسَمِّى كَافِرًا وَلَا يَسْمَى أَيضًا ظالمًا لِأَنَّ الظَّلْمَ قَدْ فَسَّرَ بِالشِّرْكِ بَقِيَتِ الصِّفَةُ الثَّالِثَةُ
ইবনে হাজার আস্কালানী তাঁর ফতহুল বারীতে (১৩/১২০) বলেন: “এই আয়াতটির নাযিলের ভিত্তি যদি ও আহলে কিতাব, কিন্তু 'আম দাবির ভিত্তিতে অন্যান্যরাও এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু নির্ধারিত শরী'আতের কায়েদার (নীতির) ভিত্তিতে পাপীকে কাফির বলা যাবে না। এমনকি অনুরূপভাবে যালিম বলাও যাবে না, কেননা যুলুমের তাফসীর হিসাবে কখনো শিরককে গণ্য করা হয়। সুতরাং তৃতীয় সিফাত (বৈশিষ্ট্য) বাকি থাকল (অর্থাৎ ফাসিকু শব্দটিই প্রযোজ্য)।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00