📄 ইমাম ইবনুল বাত্তাহ (রহঃ)
(মৃত: ৩৬৭ হিঃ)
ذَكَرَ فِي الْإِبَانَةِ (۷۲۳/۲) : بَابُ ذِكْرِ الذُّنُوبِ الَّتِي تَصِيرُ بِصَاحِبِهَا إِلَى كُفْرِ غَيْرِ خَارِجِ بِهِ مِنَ الْمَلَةِ. وَذَكَرَ ضِمْنَ هَذَا الْبَابِ : الْحُكْمُ بِغَيْرِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَأَوْرَدَ أَثَارُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ عَلَى أَنَّهُ كُفْرُ أَصْغَرُ غَيْرُ نَاقِلِ مِنَ الْمَلَةِ
ইমাম ইবনুল বাত্তাহ তাঁর "আল-ইবানাহ"-এ একটি অনুচ্ছেদ এভাবে লিখেছেন: "ঐ সমস্ত গোনাহর বর্ণনা যা সংঘটিত হওয়ার দ্বারা ঐ কুফরের স্তরে নিয়ে যায়, যার দ্বারা মিল্লাত থেকে বহিষ্কার হয় না।” এই অনুচ্ছেদের অধীনস্থ আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন: (এই গুনাহর মধ্যে) "হুকুম বি গয়রি ম-আনঝালাল্লাহ"-ও অন্যতম। এ সম্পর্কে সাহাবা তাবে'য়ীদের আসার সংরক্ষিত আছে যে, এটা কুফরে আসগার- যা মিল্লাতে ইসলামিয়াহ থেকে খারিজ করে না।
📄 ইমাম ইবনে ‘আব্দুল বার (রহঃ)
(মৃত: ৪৬৩ হিঃ)
قَالَ فِي التَّمْهِيدِ" (٧٤/٥) : وَأَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّ الْجَوْرَ فِي الْحُكْمِ مِنَ الْكَبَائِرِ لِمَنْ تَعَمَّدَ ذَلِكَ عَالِمًا بِهِ رُوِيَتْ فِي ذَلِكَ آثَارُ شَدِيدَةٌ عَنِ السَّلَفِ وَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ وَ الظَّالِمُونَ) و الْفَاسِقُونَ نَزَلَتْ فِي أَهْلِ الْكِتَابِ قَالَ حُذَيْفَةٌ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَهِيَ عَامَّةً فِينَا قَالُوا لَيَسْ بِكُفْرٍ يَنْقُلُ عَنِ الْمَلَةِ إِذَا فَعَلَ ذَلِكَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ هَذِهِ الْأَمَةِ حَتَّى يَكْفُرُ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمَ الْآخِرِ رَوي هُذَا الْمَعْنَى عَى جَمَاعَةٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ بتأويل الْقُرْآنِ مِنْهُمْ ابْنُ عَبَّاسِي وَطَاوِسُ وَعَطَاءُ
ইমাম ইবনে আব্দুল বার তাঁর 'আত-তামহীদ' (৫/৭৪)-এ বলেন: "এ কথার উপর আলেমদের ইজমা' হয়েছে, ফায়সালা দেয়ার সময় স্বজ্ঞানে, জেনে-বুঝে, যুলুম-অন্যায় করা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে সালাফদের থেকে জোরালো বক্তব্য রয়েছে। আল্লাহ'র বাণী: "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করে না তারা কাফির, .... যালিম, ও ফাসিকু” সম্পর্কে হুযায়ফা ও ইবনে 'আব্বাস বলেন: এই আয়াত আহলে কিতাবদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে এবং আমাদের সাথেও এর দাবি 'আম। তাঁরা বলেছেন, এটা এমন কুফর যা মিল্লাতে ইসলামিয়াহ থেকে বহিষ্কার করে না, যখন সে এই উম্মাতের অন্তর্ভূক্ত ব্যক্তি হয়। যতক্ষণ কেউ আল্লাহ, মালাইকা, কিতাবসমূহ, রসূলগণ ও কিয়ামাতের দিবসের প্রতি কুফর করে। আয়াতের তাফসীরটির এই অর্থ আলেমদের একটি বড় অংশের। ঝার মধ্যে ইবনে 'আব্বাস, তাউস ও আতাও আছেন।"
📄 ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ)
(মৃত: ৫৯৭ হিঃ)
قَالَ فِي زَادِ الْمَسِيرِ فِي عِلْمِ النَّفْسِيرِ " (٣٦٦/٢) : أَنَّ مَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ جَاحِدًا لَهُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ اللَّهُ أَنْزَلَهُ كَمَا فَعَلَتِ الْيَهُودُ فَهُوَ كَافِرُ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِهِ مَيْلًا إِلَى الْهَوَى مِنْ غَيْرِ جُحُودٍ فَهُوَ ظَالِمُ وَفَاسِقُ وَقَدْ رَوَى عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسِي أَنَّهُ قَالَ مَنْ جَحَدَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَقَدْ كَفَرَ وَمَنْ أَقَرَّ بِهِ وَلَمْ يَحْكُمْ بِهِ فَهُوَ فَاسِقُ وَظَالِمُ
ইমাম ইবুনল জাওযী তাঁর "যাদুল মাসীর ফি 'ইলমুত তাফসীর" (২/৩৬৬)-এ বলেন: “যে আল্লাহ'র নাযিলকৃত বিধানের বিরোধি ফায়সালা অস্বীকৃতির সাথে করে, অথচ জানে যে এটা আল্লাহ নাযিল করেছেন- যেভাবে ইয়াহুদীরা করেছিল, তাহলে সে কাফির। আর যে ব্যক্তি নিজের নাফসের অপৰিত্ৰতার জন্য আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করে না, অথচ তার এ ব্যাপারটির অস্বীকৃতির পর্যায়েও নেই, তবে সে যালিম ও ফাসিকু। কেননা আলী বিন আবী তালহা ইবনে 'আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান جحود (অস্বীকার) করে সে কাফির। পক্ষান্তরে যে তা স্বীকার করে কিন্তু সে অনুযায়ী ফায়সালা করে না, সে যালিম, ফাসিকু।”
📄 ইমাম কুরতুবী (রহঃ)
(মৃত: ৬৭১ হিঃ)
وَقَالَ فِي الْمُنْهَمِ" (۱۱۷/٥) : وَقَوْلُهُ : ( وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ ) يَحْتَجُ بِظَاهِرِهِ مَنْ يَكْفُرُ بِالذُّنُوبِ، وَهُمُ الْخَوَارِجُ ، وَلَا حُجَّةَ لَهُمْ فِيْهِ، لِأَنَّ هَذِهِ الآيَاتِ نَزَلَتْ فِي الْيَهُودِ الْمُحْرِفِينَ كَلَامُ اللَّهِ تَعَالَى، كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ، وَهُمْ كُفَّارُ، فَيُشَارِكُهُمْ فِي حُكْمِهَا مَنْ يُشَارِكُهُمْ فِي سَبَبٍ النزول.
وَبَيَانُ هَذَا : أَنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَلِمَ حُكْمَ اللهِ تَعَالَى فِي قَضِيَّةٍ قَطْعًا ثُمَّ لَمْ يَحْكُمْ بِهِ، فَإِنْ كَانَ كَافِرًا، لَا يَخْتَلِفُ فِي هَذَا، وَإِنْ كَانَ لَا عَنْ جَحَدَ عَاصِيًا مُرْتَكِبُ كَبِيرَةٍ، لِأَنَّهُ مُصَدِّقُ بِأَصْلِ ذَلِكَ الْحُكْمِ، وَعَالِمُ بِوُجُوبِ تَنقِيدِهِ عَلَيْهِ، لَكِنَّهُ عَصَى يتَركِ الْعَمَلِ بِهِ، وَهُذَا فِي كُلِّ مَا يَعْلَمُ مِنْ ضَرُورَةِ الشَّرْعِ حُكْمُهُ، كَالصَّلَاةِ وَغَيْرُها مِنَ الْقَوَاعِدِ الْمَعْلُومَةِ، وَهُذَا مَذْهَبُ أَهْلِ السُّنَّةِ
ইমাম কুরতুবী তাঁর "المفهم" -এ (৫/১১৭) বলেন: “আল্লাহর 'র বাণী: “যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করে না, সে কাফির" -আয়াতটির বাক্যের বাহ্যিক দাবীর ভিত্তিতে যারা গোনাহকারীদের কাফির বলে, তারা হল খারেজী। অথচ এই আয়াতে তাদের স্বপক্ষে দলিল নেই। কেননা এই আয়াতটি তো ঐ সমস্ত ইয়াহুদীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যারা আল্লাহর আহকামে তাহরীফ (বিকৃতি) করেছিল। যেভাবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এ কারণে তাদেরকে কাফির গণ্য করা হয়েছে। সুতরাং ঐ ব্যক্তি কাফির হুকুমের মধ্যে তাদের সাথে শরীক হবে, যার ক্ষেত্রে আয়াতের শানে-নুযূলের প্রেক্ষাপটটি মিলে যাবে।
এর ব্যাখ্যা হল: যদি কোন মুসলিম কোন ব্যাপারে আল্লাহর হুকুমের সুস্পষ্ট বিধান জানে, অতঃপর সে অনুযায়ী ফায়সালা করে না। এ পর্যায়ে যদি সে (আল্লাহর বিধানকে) অস্বীকার করে- তবে সে কাফির। এ ব্যাপারে কোন ইখতিলাফ নেই। আর যদি সে অস্বীকার না করে, তবে তা গোনাহর মধ্যে কবীরা গোনাহর অন্তর্ভূক্ত। কেননা সে ঐ হুকুমকে প্রকৃতপক্ষে স্বীকার করে এবং নিজের ওপর তা প্রযোজ্য হওয়ার 'ইলমও রাখে। কিন্তু সে তার উপর আমল না করার কারণে পাপী হয়। শরী'আতের সব ধরণের জরুরী হুকুমের ক্ষেত্রে এটাই প্রযোজ্য। যেমন- সালাত প্রভৃতিতে স্বীকৃত কানুন অনুযায়ী আহলে সুন্নাতের মাযহাব এটাই।"