📄 ইমাম আহলে সুন্নাত আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)
(মৃত: ২৪১ হিঃ)
قَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَعَدٍ فِي "سُؤَالَاتِ ابْنِ هَانِي" (۱۹۲/۲) سُئِلَ أَحْمَدُ: (وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ): فَمَا هُذَا الْكُفْرُ؟ قَالَ: كُفَرُ لَا يَخْرُجُ مِنَ الْمَلَةِ
"ইসামঈল বিন সা'দ তাঁর "সুওয়ালাতে ইবনে হানী" (২/১৯২)-এ বলেন, ইমাম আহমাদ (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করে না তারা কাফির" (সূরা মায়িদাহ- ৪৪) আয়াতটিতে কুফরের উদ্দেশ্য কী? তিনি (রহঃ) বললেন: এই কুফর মিল্লাত থেকে বহিষ্কার করে না।"
وَلَمَّا سُئِلَ أَبُو دَاؤُدَ السِّجِسْتَانِي فِي "سُؤَالَاتِهِ" (ص ١١٤) عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ أَجَابَهُ يَقُولُ طَاوُسُ وَ عَطَاءُ الْمُتَقَدِّمِينَ
"যখন আবূ দাউদ সিজিস্তানীকে নিজের 'সুওয়ালাত'-এ (পৃ: ১১৪) আলোচ্য আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি জবাবে বললেন: ইমাম আহমাদ (রহঃ) তাউস ও 'আতা'র (থেকে) পূর্বে উল্লিখিত বক্তব্য উল্লেখ করেন।"
وَذَكَرَهُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ بْن تَيْمِيَةَ فِي مُجْمَعِ الْفَتَوى (٢٥٤/٧) وَتِلْمِيذُهُ ابْنُ قيم حُكْمُ تَارِكِ الصَّلَاةِ (ص (٥٩-٦٠ ): إِنَّ الْإِمَامَ أَحْمَدَ اللهُ سُئِلَ عَنِ الكُفْرِ الْمَذْكُورِ فِي آيَةِ الْحُكْمِ، فَقَالَ: كُفْرُ لَا يَنقُلُ عَنِ الْمِلَّةِ مِثْلُ الْإِيْمَانِ bَعْضُهُ دُونَ بَعْضٍ، فَكَذَلِكَ الْكُفْرُ، حَتَّى يَجْزَى مِنْ ذَلِكَ أَمْرُ لَا يَخْتَلِفُ فِيهِ -
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর 'মুজমা'উল ফাতাওয়া" (৭/২৫৪)-তে এবং তাঁর ছাত্র হাফিয ইবনুল কাইয়েম তাঁর 'তারকুস সালাতে' (পৃ: ৫৯-৬০) বর্ণনা করেছেন: ইমাম আহমাদ -কে আলোচ্য আয়াতে তাহক্বীম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: "এটি এমন কুফর যা মিল্লাত থেকে খারিজ করে না। যেভাবে ঈমানের (শাখাগুলো) কোনটি কোনটির থেকে কমবেশি হয়। অনুরূপভাবে কুফরও যতক্ষণ না তা জায়েয মনে করে। এভাবে ঐ ব্যক্তি এমন কুফরের অধিকারী হয় যে ব্যাপারে কোন ইখতিলাফ নেই।"
📄 ইমাম ইবনুল বাত্তাহ (রহঃ)
(মৃত: ৩৬৭ হিঃ)
ذَكَرَ فِي الْإِبَانَةِ (۷۲۳/۲) : بَابُ ذِكْرِ الذُّنُوبِ الَّتِي تَصِيرُ بِصَاحِبِهَا إِلَى كُفْرِ غَيْرِ خَارِجِ بِهِ مِنَ الْمَلَةِ. وَذَكَرَ ضِمْنَ هَذَا الْبَابِ : الْحُكْمُ بِغَيْرِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَأَوْرَدَ أَثَارُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ عَلَى أَنَّهُ كُفْرُ أَصْغَرُ غَيْرُ نَاقِلِ مِنَ الْمَلَةِ
ইমাম ইবনুল বাত্তাহ তাঁর "আল-ইবানাহ"-এ একটি অনুচ্ছেদ এভাবে লিখেছেন: "ঐ সমস্ত গোনাহর বর্ণনা যা সংঘটিত হওয়ার দ্বারা ঐ কুফরের স্তরে নিয়ে যায়, যার দ্বারা মিল্লাত থেকে বহিষ্কার হয় না।” এই অনুচ্ছেদের অধীনস্থ আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন: (এই গুনাহর মধ্যে) "হুকুম বি গয়রি ম-আনঝালাল্লাহ"-ও অন্যতম। এ সম্পর্কে সাহাবা তাবে'য়ীদের আসার সংরক্ষিত আছে যে, এটা কুফরে আসগার- যা মিল্লাতে ইসলামিয়াহ থেকে খারিজ করে না।
📄 ইমাম ইবনে ‘আব্দুল বার (রহঃ)
(মৃত: ৪৬৩ হিঃ)
قَالَ فِي التَّمْهِيدِ" (٧٤/٥) : وَأَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّ الْجَوْرَ فِي الْحُكْمِ مِنَ الْكَبَائِرِ لِمَنْ تَعَمَّدَ ذَلِكَ عَالِمًا بِهِ رُوِيَتْ فِي ذَلِكَ آثَارُ شَدِيدَةٌ عَنِ السَّلَفِ وَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ وَ الظَّالِمُونَ) و الْفَاسِقُونَ نَزَلَتْ فِي أَهْلِ الْكِتَابِ قَالَ حُذَيْفَةٌ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَهِيَ عَامَّةً فِينَا قَالُوا لَيَسْ بِكُفْرٍ يَنْقُلُ عَنِ الْمَلَةِ إِذَا فَعَلَ ذَلِكَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ هَذِهِ الْأَمَةِ حَتَّى يَكْفُرُ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمَ الْآخِرِ رَوي هُذَا الْمَعْنَى عَى جَمَاعَةٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ بتأويل الْقُرْآنِ مِنْهُمْ ابْنُ عَبَّاسِي وَطَاوِسُ وَعَطَاءُ
ইমাম ইবনে আব্দুল বার তাঁর 'আত-তামহীদ' (৫/৭৪)-এ বলেন: "এ কথার উপর আলেমদের ইজমা' হয়েছে, ফায়সালা দেয়ার সময় স্বজ্ঞানে, জেনে-বুঝে, যুলুম-অন্যায় করা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে সালাফদের থেকে জোরালো বক্তব্য রয়েছে। আল্লাহ'র বাণী: "যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম জারি করে না তারা কাফির, .... যালিম, ও ফাসিকু” সম্পর্কে হুযায়ফা ও ইবনে 'আব্বাস বলেন: এই আয়াত আহলে কিতাবদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে এবং আমাদের সাথেও এর দাবি 'আম। তাঁরা বলেছেন, এটা এমন কুফর যা মিল্লাতে ইসলামিয়াহ থেকে বহিষ্কার করে না, যখন সে এই উম্মাতের অন্তর্ভূক্ত ব্যক্তি হয়। যতক্ষণ কেউ আল্লাহ, মালাইকা, কিতাবসমূহ, রসূলগণ ও কিয়ামাতের দিবসের প্রতি কুফর করে। আয়াতের তাফসীরটির এই অর্থ আলেমদের একটি বড় অংশের। ঝার মধ্যে ইবনে 'আব্বাস, তাউস ও আতাও আছেন।"
📄 ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ)
(মৃত: ৫৯৭ হিঃ)
قَالَ فِي زَادِ الْمَسِيرِ فِي عِلْمِ النَّفْسِيرِ " (٣٦٦/٢) : أَنَّ مَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ جَاحِدًا لَهُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ اللَّهُ أَنْزَلَهُ كَمَا فَعَلَتِ الْيَهُودُ فَهُوَ كَافِرُ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِهِ مَيْلًا إِلَى الْهَوَى مِنْ غَيْرِ جُحُودٍ فَهُوَ ظَالِمُ وَفَاسِقُ وَقَدْ رَوَى عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسِي أَنَّهُ قَالَ مَنْ جَحَدَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَقَدْ كَفَرَ وَمَنْ أَقَرَّ بِهِ وَلَمْ يَحْكُمْ بِهِ فَهُوَ فَاسِقُ وَظَالِمُ
ইমাম ইবুনল জাওযী তাঁর "যাদুল মাসীর ফি 'ইলমুত তাফসীর" (২/৩৬৬)-এ বলেন: “যে আল্লাহ'র নাযিলকৃত বিধানের বিরোধি ফায়সালা অস্বীকৃতির সাথে করে, অথচ জানে যে এটা আল্লাহ নাযিল করেছেন- যেভাবে ইয়াহুদীরা করেছিল, তাহলে সে কাফির। আর যে ব্যক্তি নিজের নাফসের অপৰিত্ৰতার জন্য আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করে না, অথচ তার এ ব্যাপারটির অস্বীকৃতির পর্যায়েও নেই, তবে সে যালিম ও ফাসিকু। কেননা আলী বিন আবী তালহা ইবনে 'আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান جحود (অস্বীকার) করে সে কাফির। পক্ষান্তরে যে তা স্বীকার করে কিন্তু সে অনুযায়ী ফায়সালা করে না, সে যালিম, ফাসিকু।”