📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 হাকিম বা বিচারককে কখন কাফির গণ্য করা যাবে?

📄 হাকিম বা বিচারককে কখন কাফির গণ্য করা যাবে?


-কামাল আহমাদ
১. মনগড়া বা মানবরচিত বিধানকে আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত বিধান বলার কারণে: আল্লাহ বলেন: وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ "তোমরা আমার আয়াতকে সামান্য ও নগণ্য বিনিময়ে বিক্রি করো না। যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির।" (সূরা মায়িদা: ৪৪-৪৭ আয়াত)
আয়াতটির শানে-নুযূলে প্রমাণিত হয়, ইয়াহুদীরা রজমের বিধানকে পরিবর্তন করে ভিন্ন বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বলেছিল। এমর্মে অন্যত্র আল্লাহ বলেন: فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِندِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ "অতএব, তাদের জন্য আফসোস! যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত, যেন এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে। অতএব তাদের জন্য ওয়েল (জাহান্নাম), তাদের কিতাব লেখার জন্য এবং তাদের জন্য ওয়েল (জাহান্নাম) তাদের উপার্জনের জন্য।" (সূরা বাক্বারাহ: ৭৯ আয়াত)
সুতরাং প্রমাণিত হল, যখন কোন আলেম বা হাকিম বা অন্য যে কেউ এমন কোন বিধান বা ফতওয়া দেয় যা আল্লাহ নাযিল করেন নি। অথচ জনগণের মাঝে তা আল্লাহর বিধান হিসাবে প্রচার করে। তখনই কেবল উক্ত আয়াতগুলোর হুকুম প্রযোজ্য। যা বিভিন্ন মাযহাবী ফিক্বহাহ, ফতওয়া ও সূফীদের তরীক্বাতে দেখা যায়। অথচ সেগুলোর পক্ষে আল্লাহ কিছুই নাযিল করেন নি।
২. আল্লাহ শু'র প্রতি মিথ্যারোপ এবং অস্বীকার করার কারণে: পূর্বোক্ত পন্থায় আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করা হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللَّهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ
"তার চেয়ে অধিক যালেম কে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলবে এবং তার কাছে সত্য আগমনের পর তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। কাফিরদের বাসস্থান কি জাহান্নাম নয়? (সূরা যুমার: ২৪ আয়াত)
৩. হারামকৃত বস্তুকে হালাল এবং হালালকৃত বস্তুকে হারাম ঘোষণা করার কারণে:
وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ
"তোমাদের মুখ থেকে সাধারণভাবে যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে, তেমনি করে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে বলো না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যারোপ করে তারা সফল হবে না।" (সূরা নাহাল: ১১৬ আয়াত)
৪. বিচারক, আলেম-উলামা, পীর-দরবেশদেরকে হালাল ও হারাম করার হক্কদার গণ্য করার কারণে: আল্লাহ বলেন:
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ "তারা তাদের আহবার (আলেম) ও রুহবান (সূফী)-দের আল্লাহর পরিবর্তে রব হিসাবে গ্রহণ করেছে।” (সূরা তাওবা: ৩১ আয়াত) নবী আয়াতটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন:
أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ
“এমন নয় যে, তারা এদের ইবাদত করত। বরং এরা যদি তাদের জন্য কিছু হালাল করে দিত তখন তারা তা হালাল বলে গ্রহণ করত; এরা যখন কোন কিছু হারাম বলে স্থির করতো তখন তারাও তা হারাম বলে গ্রহণ করতো।” ³⁴
এখানে হালাল বা হারাম নির্ধারণ করে আল্লাহর পক্ষ থেকে তা নাযিলকৃত বা ইলাহী হুকুম গণ্য করাকে চূড়ান্ত কুফর হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কাফির হওয়ার বিভিন্ন কারণ ও শর্ত রয়েছে। এখানে আমরা কেবল আল্লাহর বিধান জারি করা ও না করার ক্ষেত্রে কাফির হওয়ার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণ উল্লেখ করলাম।

টিকাঃ
৩৪. হাসান: তিরমিযী- তাফসীরুল কুরআন, সূরা তাওবা। আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (তাহক্বীকুকৃত তিরমিযী হা/৩০৯৫]

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 ফিতনাতুলুত তাকফীর (কাফির বলার ফিতনা)

📄 ফিতনাতুলুত তাকফীর (কাফির বলার ফিতনা)


-মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী
[এই অংশটি www.AsliAhleSunnet.com থেকে সংগৃহীত। যা উর্দু ভাষায় অনূদিত ও সঙ্কলিত 'ফিতনাতু তাকফীর আওর হুকুম বিগয়রি মা আনঝালাল্লাহ' ১৩৯-১৬২ পৃষ্ঠা থেকে বাংলা ভাষায় অনূদিত হল। মূল (আরবী:) মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী , উর্দু অনুবাদ: তারিকু আলী বারভী (উর্দু অনুবাদক মূল আরবির ভাবানুবাদের দিকেই বেশী ঝুঁকেছেন এবং শায়েখ উসায়মীন প্রদত্ত টিকা সংযোজন করেছেন ও শিরোনামগুলো সংযুক্ত করেছেন), বাংলা অনুবাদ: কামাল আহমাদ]
إِنَّ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِي لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَمَّا بَعْدُ :
খারেজী: এই তাকফীরের মাসআলা কেবল হাকিমের (শাসকের/ বিচারকের) ক্ষেত্রেই নয়, বরং মাহকুমের (শাসিতের/সাধারণ জনগণের) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এটি একটি খুবই প্রাচীন ফিতনা, যা ইসলামের মধ্যকার একটি প্রাচীন ফিরক্বা হতে সৃষ্টি হয়েছিল। যারা 'খারেজী' নামে প্রসিদ্ধ।³⁷

টিকাঃ
৩৭. খারেজীদের সম্পর্কে ফিরক্বাগুলোর পরিচয় সম্পর্কীত কিতাবে লেখা হয়েছে। তাদের মধ্যকার একটি ফিরক্বার অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত রয়েছে- তবে ভিন্ন অপর একটি নামে তথা "আবাদ্বিয়াহ"। এই "আবাদ্বিয়াহ” ফিরক্বা নিকটবর্তী অতীতকাল পর্যন্ত (ইসলামী) রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে পৃথক ছিল। তারা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। যারা কোনরূপ দা'ওয়াতী কাজের তৎপরতায় নিজেদেরকে জড়িত করে নি। কিন্তু বিগত বেশ কিছু বছর ধরে তারা তাদের তৎপরতা শুরু করেছে। এ সম্পর্কে আমি কিছু পুস্তিকা ও আক্বীদা সম্পর্কীত গ্রন্থ প্রকাশ ও প্রচার করেছি, যা মূলত প্রাচীন খারেজীদের আক্বীদা সম্পর্কীত ছিল। কিন্তু তারা তাদের ঐসব বৈশিষ্ট্যকে শিয়াদের মত তাক্বীয়ার দ্বারা গোপন করার চেষ্টা করছে। তারা বলে আমরা খারেজী নই। যদিও আপনারা এটা জানেন যে, নাম পরিবর্তনে প্রকৃত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয় না। এরা কবীরা গোনাহকারীকে কাফির মনে করার ব্যাপারে খারেজীদের মতন। (টিকা: মূল আরবি 'ফিতনাতুত তাকফীর' (দারু ইবনে খুযায়মাহ, ১৪১৮ হিঃ) পৃ: ১৪। (বাংলা অনু:)

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 দ্বীনি জামা’আত থেকে বিমুখ থাকার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক

📄 দ্বীনি জামা’আত থেকে বিমুখ থাকার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক


বর্তমানে কিছু জামা'আত কুরআন ও সুন্নাতের দা'ওয়াতের ব্যাপারে হকু জামা'আতের সাথে মিশে রয়েছে। কিন্তু হায় আফসোস! তারা কুরআন ও সুন্নাত থেকে বের হয়ে কুরআন ও সুন্নাতের নামে নতুন পথের সৃষ্টি করেছে। আমার বুঝ ও জ্ঞান মোতাবেক এর দু'টি কারণ রয়েছে:
প্রথমত: ইলমের ঘাটতি।
দ্বিতীয়ত: সবচে বড় দুর্বলতা হল, শরী'আতের আইন-কানুনের ব্যাপারে তাদের গভীর জ্ঞান না থাকা। অথচ আকাঙ্ক্ষা হল সহীহ ইসলামী দা'ওয়াতের। যার থেকে বিমুখ হওয়াকে রসূলুল্লাহ তাঁর অসংখ্য হাদীসে নাজী (মুক্তিপ্রাপ্ত) জামা'আত থেকে বহিষ্কৃত বলে চিহ্নিত করেছেন। বরং আরো একধাপ এগিয়ে বলা যায়, স্বয়ং আল্লাহ সুস্পষ্ট দলিল দ্বারা এই জামা'আত থেকে বিচ্ছিন্নদের আল্লাহ ও রসূলের বিরুদ্ধাচারণকারী হিসাবে গণ্য করেছেন।
সালাফী মানহায: যেমন আল্লাহ বলেছেন: وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا -
"আর যে ব্যক্তি রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর নিকট হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর এবং মু'মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যায়, সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর তা কত মন্দ আবাস।"³⁸
আলেমগণ এটা জানেন যে, আল্লাহ কেবল এ কথা বলেই ক্ষান্ত হন নি “যে ব্যক্তি রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর নিকট হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর- তবে সে যেদিকে ফিরে যায়, সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেবো।” বরং রসূলের বিরুদ্ধাচরণের কথা উল্লেখ করার সাথে সাথে وَيَتَّبع غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ “এবং যে মু'মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে" -বাক্যটিও উল্লেখ করেছেন।
"মু'মিনদের পথ”-এর অনুসরণ করা বা না করাটা, পক্ষ ও বিপক্ষ উভয় দৃষ্টিতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি "মু'মিনদের পথ”-এর অনুসরণ করবে সে রব্বুল 'আলামীনের দৃষ্টিতে নাজী (মুক্তিপ্রাপ্ত)। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি "মু'মিনদের পথ”-এর বিপরীতে চলবে তার জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট, আর তা কতই না মন্দ ঠিকানা।
এটাই সেই মূলকেন্দ্র যে ব্যাপারে প্রাচীন ও আধুনিক জামা'আতগুলো হোঁচট খায়। তারা سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ "মু'মিনীনদের পথে'র অনুসরণ করে না। কুরআন ও সুন্নাতের তাফসীরের ব্যাপারে নিজেদের বিবেকের দারস্থ হয় এবং নিজেদের খাহেশের (প্রবৃত্তির) আনুগত্য করে। আর এ ভুলের কারণে তারা অত্যন্ত বিধ্বংসী কার্যকলাপে লিপ্ত। যার ফলাফল হল, তারা সালফে-সালেহীনের মানহায থেকে খারীজ (বহিষ্কৃত)।
আলোচ্য আয়াতের وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ “এবং যে মু'মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে" -অংশটির সঠিক ও সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা এবং প্রকৃত গুরুত্ব নবী ﷺ-এর বিভিন্ন সহীহ হাদীসে উল্লেখ করেছেন। যার কয়েকটি আমি বর্ণনা করব। ঐ সমস্ত হাদীস সাধারণ মুসলিমদেরও অজানা নয়। তবে এর মধ্যে তাদের অজানা হল, سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ "মু'মিনদের পথ”-এর অনুসরণের ব্যাপারটি কিতাব ও সুন্নাহ'র দ্বারা ওয়াজিব হওয়ার দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়া ও তার গুরুত্ব অনুধাবন করা। এটা (আক্বীদা বিষয়ক) এমন একটি মৌলিক দিক যা অনেক প্রসিদ্ধ গণ্যমান্য ব্যক্তিরও এর গুরুত্ব বুঝতে ভুল হয়েছে ও আঁকড়ে থাকার ব্যাপারে উদাসীনতা কাজ করেছে। এরা তাকফীরকারী হিসাবে প্রসিদ্ধ। যাদের মধ্যে অনেক জামা'আত রয়েছে- যারা নিজেদের জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের তাকফীর করাটাই খুব বড় ভুল।
এই লোকেরা মনে করছে, তারা নিজেদেরকে নেকী ও ইখলাসের মধ্যে নিয়োজিত রেখেছে। কিন্তু আল্লাহ'র কাছে কারো নাজাত বা সফলতার অর্জনের জন্য কেবল নেকনীতি ও ইখলাসই যথেষ্ট নয়। তবে অবশ্যই একজন মুসলিমের উপর জরুরী হল, সে আল্লাহ'র জন্য নিয়্যাতে ইখলাস রাখবে এবং রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাত অনুযায়ী সর্বোত্তম আমল করবে।
মোটকথা একজন মুসলিম অবশ্যই ইখলাস ও আন্তরিকতার সাথে নিজে কুরআন ও সুন্নাত অনুযায়ী 'আমল করবে এবং সে দিকেই দা'ওয়াত দিবে। তবে এর সাথে অপর একটি শর্তও জরুরী, তা হল- তাদের মানহায সঠিক ও দৃঢ়তা সম্পন্ন হওয়া। আর এটা কখনোই পূর্ণতা লাভ করে না, যতক্ষণ না সালফে-সালেহীনের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়।
এর স্বপক্ষে কয়েকটি প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল তিয়াত্তর ফিরক্বার হাদীস যার ইঙ্গিত আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি। রসূলুল্লাহ বলেছেন: اِفْتَرَقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَسَبْعِينَ فِي النَّارِ وَافْتَرَقَتِ النَّصَارَى عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَإِحْدَى وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةً فِي الْجَنَّةِ وَسَتَفْتَرِقَ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثَ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً قَالُوْا مَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الْجَمَاعَةِ - وَفِي رِوَايَةٍ : مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
"ইয়াহুদীরা একাত্তর ফিরক্বাতে বিভক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি জান্নাতে যাবে, অন্য সত্তরটি ফিরক্বা জাহান্নামী হবে। নাসারাগণ বাহাত্তর ফিরক্বাতে বিভক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি জান্নাতে যাবে এবং অন্য একাত্তরটি ফিরক্বা জাহান্নামে যাবে। আর আমার উম্মাত তিয়াত্তর ফিরক্বাতে বিভক্ত হবে। এদের মধ্যে একটি ছাড়া সবগুলোই জাহান্নামে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হল: ইয়া রসূলাল্লাহ! তারা কারা? তিনি বললেন: (তারা হল) 'আল-জামা'আত'। (অন্য বর্ণনায়) যার ওপর আমি ও আমার সাহাবীগণ আছি।"³⁹
নবী-কে নাজী বা জান্নাতী ফিরক্বা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি যা বলেছেন আল্লাহর বাণী: وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ "এবং যে মু'মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে"-দ্বারা এটা পূর্ণতা লাভ করে। সুতরাং এই আয়াতটিতে যে মু'মিনদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে-তারা হলেন নবী-এর সাহাবীগণ। যা হাদীসে বর্ণিত: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي "যার ওপর আমি ও আমার সাহাবীগণ আছি" উক্তিটিতে সুস্পষ্ট হয়েছে। নবী কেবল এতটুকুই যথেষ্ট মনে করেন নি। বরং এটা প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তাদের জন্য যথেষ্ট ও পরিপূর্ণ জবাব ছিল- যারা ছিলেন কিতাব ও সুন্নাতের সুস্পষ্ট বুঝের অধিকারী। কিন্তু যদিও নবী নিজে আল্লাহর ঐ দাবির প্রতি আমল করেছিলেন যে ব্যাপারে আল্লাহ স্বয়ং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمِ "মু'মিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়াময়।"⁴⁰
সুতরাং নবী-এর সমস্ত স্নেহ ও দয়ার দাবি হল, তিনি তাঁর সাহাবা এবং সমস্ত অনুসারীদের জন্য ফিরক্বায়ে নাজীয়াহ বা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণ সুস্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। যেন তারা সেগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে- যার প্রতি তিনি ও পরবর্তীতে তাঁর সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
-পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি যে, মুসলিমদের জন্য জায়েয নয় কিতাব ও সুন্নাত বুঝার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ঐ সমস্ত জরুরী ইলমের উপর নির্ভর করবে যেমন- আরবি ভাষা, নাসিখ-মানসুখ এবং বিভিন্ন নিয়ম (উসূল) সম্পর্কীত জ্ঞান। বরং এই সমস্ত নিয়ম ছাড়াও ঐ পদ্ধতিরও অনুসরণ করা জরুরী যার ওপর সাহাবীগণ-ও ছিলেন। কেননা এটা সবার কাছে সুস্পষ্ট যে, তাদের বর্ণনা ও জীবন থেকে বুঝা যায়- সাহাবীগণ আল্লাহর ইবাদাতের ব্যাপারে মুখলেস (নিষ্ঠাবান) ছিলেন। আর কুরআন ও সুন্নাতের ব্যাপারে নিঃসন্দেহে আমাদের থেকে বেশী জ্ঞান রাখতেন। তাছাড়াও তাদের এমন অনেক চারিত্রিক গুণ ছিল যে ব্যাপারে তারা নিজেরাই নিজেদের তুলনা।
আলোচ্য হাদীসটি পূর্বোক্ত আয়াতটির পরিপূর্ণতা দান করে। যখন রসূলুল্লাহ ﷺ একজন মুসলিমকে ফিরক্বায়ে নাজিয়ার পরিচয় দিতে গিয়ে এ দিকে ইঙ্গিত দিলেন যে, তারা ঐ মানহাযের ওপর থাকবে যার ওপর সাহাবীগণ ছিলেন। এই হাদীসটি 'খুলাফায়ে রাশেদীন' সম্পর্কীত হাদীসটির পরিপূরক যা সুনানগুলোতে ইরবায বিন সারিয়াহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
وَعَظَنَا مَوْعِظَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ الله كَأَنَّهَا مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَأَوْصِنَا قَالَ : أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ تَأَمُّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ وَإِنَّهُ مَنْ يَعِشَ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدَ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
"একবার রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের উদ্দেশ্যে এমনি মর্মস্পর্শী ওয়ায করলেন যে, তাতে অন্তরসমূহ ভীত ও চোখসমূহ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। আমরা বললাম: ইয়া রসূলাল্লাহ! মনে হচ্ছে এটা যেন বিদায়ী ভাষণ, তাই আপনি আমাদের উপদেশ দিন। তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহকে ভয় করার এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি যদিও কোন গোলাম তোমাদের আমীর নিযুক্ত হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা ভবিষ্যতে বেঁচে থাকবে, অচিরেই তারা অসংখ্য ব্যাপারে মতভেদ দেখতে পাবে। কাজেই তোমাদের উচিত হবে আমার ও হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদার আদর্শকে মাড়ির মযবুত দাঁত দ্বারা আঁকড়ে ধরা। আর তোমরা বিদআত হতে অবশ্যই বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেক বিদআত সুস্পষ্ট গোমরাহী।"⁴¹
এই হাদীসটি পূর্বোক্ত হাদীসটির শাহেদ (সাক্ষ্য) যেখানে রসূলুল্লাহ সাহাবা তথা নিজের উম্মাতকে কেবল তাঁর সুন্নাতকে আঁকড়ে থাকারই নসিহত করেন নি বরং হিদায়াত অর্জনে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকেও আঁকড়ে ধরতে বলেন।
সুতরাং আমাদের ওপর জরুরী হল- আক্বীদা, ইবাদত, আখলাক, চাল-চলন প্রভৃতি সবক্ষেত্রেই সালফে-সালেহীনের প্রতি লক্ষ্য রাখা। ফলে একজন মুসলিম ফিরক্বায়ে নাজিয়ার অন্তর্ভূক্ত হিসাবে গণ্য হবে।
এটাই সেই গুরুত্বপূর্ণ দিক যার থেকে গাফেল ও বিমুখ হওয়ার কারণে সমস্ত নতুন ও পুরাতন ফিরক্বা ও জামাআত গোমরাহ হয়েছে। কেননা আলোচ্য (সূরা নিসা- ১১৫) আয়াত এবং ফিরক্বায়ে নাজিয়াহ ও খুলাফায়ে রাশেদীনকে আঁকড়ে থাকার হাদীস যে মানহাযের (আদর্শিক পথের) দিকে পরিচালিত করে- তারা তা কবুল করে নি। যা ছিল উম্মাতের বিভেদের কারণ। সুতরাং তাদের মৌলিক ও যৌক্তিক বৈশিষ্ট্য হল- তারা কিতাবুল্লাহ, সুন্নাতে নববী এবং সালফে সালেহীনদের থেকে বিমুখ হয়েছে, যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীরাও বিমুখ হয়েছিল।

টিকাঃ
৩৮. সূরা নিসা: ১১৫ আয়াত।
৩৯. সহীহ: ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান- بَابُ افْتِرَاقِ الْأمم : হা/৩৯৯২। মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবানী اَجْمَاعَةُ 'আল-জামা'আত' শব্দে বর্ণিত হাদীসটিকে 'সহীহ' বলেছেন। অপর পক্ষে তিরমিযীতে আব্দুল্লাহ বিন 'উমর থেকে বর্ণিত- مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَانِي -"যার ওপর আমি এবং আমার সাহাবীরা আছি" -হাদীসটিকে য'য়ীফ বলেছেন। [আল-বানীর তাহক্বীকুকৃত মিশকাত ১ম খন্ড (বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৪০৫হি:/১৯৯৫ 'ঈসায়ী) পৃ: ৬১] অবশ্য উদ্দেশ্যের দিক থেকে হাদীসগুলো একই অর্থবোধক হওয়ায় ও অনেক সাক্ষ্য থাকায় তিনি অন্যত্র হাদীসটিকে হাসান লি- গয়রিহী বলেছেন (সলাতুল ঈদায়ীন ফিল মুসাল্লা পৃঃ ৪৬)। আলবানী হাদীসটি কিছুটা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। বাংলা অনুবাদক
৪০. সূরা তওবা: ১২৮ আয়াত।
৪১. সহীহ: আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ১/৩৭ নং)। মুহাম্মাদ তামিরও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (মিশর: দার ইবনে রজব) ১/৫৮ নং। আলবানী হাদীসটি কিছুটা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। (বাংলা অনুবাদক' )

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 আয়াতে তাহকীমের সহীহ সালাফী তাফসীর

📄 আয়াতে তাহকীমের সহীহ সালাফী তাফসীর


ঐ সমস্ত গোমরাহ ফিরক্বার মধ্যে একাধারে প্রাচীন ও আধুনিক ফিরক্বা হল খারেজী। তাকফীরের আসল ভিত্তি যা ইদানীং চারদিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তা হল কুরআনুল কারীমের নিম্নোক্ত আয়াত। যা এই লোকেরা সব সময় উপস্থাপন করে আসছে: وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ "যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির। "⁴²
আমরা সবাই জানি যে, এই আয়াতের সাথে সম্পর্কীত আয়াতগুলোতে তিনটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে: وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ "যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির। "⁴³ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ "যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই যালিম। "⁴⁴ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ "যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই ফাসিকু। "⁴⁵
তারা নিজেদের অজ্ঞতার কারণে উক্ত আয়াতগুলো থেকে প্রথম আয়াতটি দ্বারা দলিল গ্রহণ করছে। অর্থাৎ- وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ "যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির। "⁴⁶
তাদের উচিত ছিল, কমপক্ষে যেসব দলিলে 'কুফর' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোকে কষ্ট করে হলেও একত্রিত করা। পক্ষান্তরে তারা এই একটি আয়াতে বর্ণিত 'কুফর' শব্দ দ্বারাই দ্বীন থেকে খারিজ ঘোষণা করছে। এরফলে, তাদের কাছে কোন মুসলিম যদি এই কুফরে লিপ্ত হয়, তবে ঐ মুসলিমের সাথে মুশরিক, ইয়াহুদী ও নাসারা প্রমুখদের কোন পার্থক্য নেই।
কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহ'র অভিধানে 'কুফর' শব্দটির অর্থ একমাত্র এটাই নয়। অথচ তারা সেটাই দাবি করছে এবং এই ভুল বুঝ দ্বারা অনেক মুসলিমের উপর তাকফীর আরোপ করছে, অথচ তাদের প্রতি তা প্রযোজ্য নয়।
'তাকফীর' শব্দটি সবসময় একই অর্থ তথা দ্বীন থেকে খারিজ হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয় না। বরং এর সম্পর্ক পরবর্তীতে দু'টি আয়াতে ব্যবহৃত শব্দের ন্যায়ও হয়ে থাকে- অর্থাৎ 'ফাসিকু' ও 'যালিম'। সুতরাং প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি যে যালিম বা ফাসিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে- তার জন্য কখনই এটা প্রযোজ্য নয় যে, সে মুরতাদ হয়ে গেছে। তেমনি যদি কারো ক্ষেত্রে বলা হয় যে, সে কুফর করেছে- তার অর্থ এটা নয় যে, সে মুরতাদ হয়ে গেছে।
এর একটি অর্থ আরবি অভিধানে ও আমাদের শরী'আতে তথা আরবিতে নাযিলকৃত কুরআনুল কারীম দ্বারা প্রমাণিত। এ কারণে যে কেউ-ই আল্লাহ'র হুকুমের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়- সে হাকিম/শাসক হোক কিংবা সাধারণ প্রত্যেকেরই কিতাব, সুন্নাত এবং সালফে-সালেহীনের মানহায অনুযায়ী আহরিত ইলমের উপর কায়েম থাকা ওয়াজিব।
আরবি ভাষার স্বকীয়তা সম্পর্কে জানা ছাড়া কুরআন ও এর সম্পর্কীত গভীর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। আর এই নিয়মও প্রযোজ্য যে, যদি কোন ব্যক্তির আরবি ভাষার ব্যাপারে এতটা শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা অর্জিত না হয়, তবে সে নিজের পরিকল্পনানুযায়ী যা সে নিজের ভিতরে আকাঙ্ক্ষা করে- সেক্ষেত্রে সে ঐ সমস্ত আলেমদের দিকে নিজেকে সোপর্দ করবে যারা পূর্বে চলে গেছেন। বিশেষভাবে যাদের সাথে কুরুনে সালাসাহ (নেককারদের তিনটি যুগ)-এর সম্পর্ক রয়েছে। যাদের হিদায়াত, কামিয়াবী ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য স্বয়ং নবী থেকে প্রমাণিত। তাদের দিকে নিজেকে সোপর্দ করার দাবি হল, তাদের মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা লাভ করা। কেননা তাদের মধ্যে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের সম্পৃক্তার নিদর্শন পাওয়া যায়।
আসুন আমরা পুণরায় আয়াতটির প্রসঙ্গে আসি। وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ "যারা আল্লাহ'র নাযিলকৃত আইন দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফির।”⁴⁷ এই আয়াতটির فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ বাক্যটির উদ্দেশ্য কি-
১. সম্পূর্ণভাবে ইসলাম থেকে খারিজ (বহিষ্কার) হয়ে যাওয়া?
২. নাকি এর অর্থ- কখনো ইসলাম থেকে খারিজ হওয়া, আবার কখনো ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়া থেকে কিছু কম?
এ পর্যায়ে আয়াতটি কিছুক্ষণ গভীরভাবে লক্ষ করুন। কেননা আয়াতটির فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ বাক্যটির দ্বারা কখনো ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়া উদ্দেশ্য। আবার কখনো এর উদ্দেশ্য হল, আমলগত দিক থেকে কোন আহকামের ব্যাপারে ইসলাম থেকে খারিজ হওয়া। এর সহীহ তাফসীরের ব্যাপারে আমাদেরকে যা সহযোগিতা করবে তা হল, নবী -এর ঘোষিত মুফাসসির সাহাবী ইবনে আব্বাস -এর বিশ্লেষণ। কেননা, কিছু গোমরাহ ফিরক্বা ছাড়া সবাই একমত যে সাহাবী ইবনে আব্বাস ছিলেন তাফসীরের ব্যাপারে ইমাম। আর এ কারণেই আমার জানা মতে সম্ভবত, সাহাবী ইবনে মাস'উদ তাঁকে 'তরজামানুল কুরআন' উপাধি দিয়েছেন।

টিকাঃ
৪২. সূরা মায়িদা: ৪৪ আয়াত।
৪৩. সূরা মায়িদা: ৪৪ আয়াত।
৪৪. সূরা মায়িদা : ৪৫ আয়াত।
৪৫. সূরা মায়িদা: ৪৭ আয়াত।
৪৬. সূরা মায়িদা: ৪৪ আয়াত।
৪৭. সূরা মায়িদা- ৪৪ আয়াত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00