📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 ঐ সমস্ত আলেমদের সাক্ষ্য যারা ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর তাফসীরটিকে সহীহ বলেছেন এবং এর দ্বারা দলিল নিয়েছেন

📄 ঐ সমস্ত আলেমদের সাক্ষ্য যারা ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর তাফসীরটিকে সহীহ বলেছেন এবং এর দ্বারা দলিল নিয়েছেন


[প্রবন্ধটি www.AsliAhleSunnet.com থেকে প্রকাশিত فْتَنَةُ التَّكْفِيرِ أَوْ حُكْمُ بِغَيْرِ مَا انزلَ الله (তাকফির বা কাফির ফাতাওয়া দেয়ার ফিতনা এবং আল্লাহ'র নাযিলকৃত বিধানের বিরোধি বিধান দেয়া) থেকে সঙ্কলিত। -অনুবাদঃ কামাল আহমাদ]
الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرِكِ (۳۹۳/۲)، وَوَافَقَهُ الذَّهَبِيُّ الْحَافِظُ ابْنُ كَثِيرٍ فِي تَفْسِيرِه (٦٤/٢) قَالَ : صَحِيحُ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ ، الْإِمَامُ الْقُدْوَةُ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرِ الْمَرُوزِيُّ فِي تَعْظِيمِ قَدْرِ الصَّلَاةِ (٥٢٠/٢) ، اَلْإِمَامُ أَبُو بَكْرِ ابْنِ الْعَرَبِي فِي أَحْكَامِ الْقُرْآنِ (٦٢٤/٢) ، الْإِمَامُ الْقُرْطِيُّ فِي الْجَامِعِ لِأَحْكَامِ الْقُرْآنِ (١٩٠/٦)، الْإِمَامُ الْبَقَاعِيُّ فِي نَظْمِ الدُّرَرِ (٤٦٠/٢) ، الْإِمَامُ الْوَاحِدِيُّ فِي الْوَسِيْطِ (۱۹۱/۲) الْعَلَامَةُ صِدِّيقَ حُسَيْنِ خَانْ فِي نَيْلِ الْمُرَامِ (٤٧٢/٢)، الْعَلَامَةُ مُحَمَّدُ الْأَمِينُ الشَّنْقِيطِي فِي أَضْوَاءِ الْبَيَانِ (۱۰۱/۲) الْعَلَامَةُ أَبُو عُبَيْدِ الْقَسِمِ بْنِ سَلَامٍ فِي الْإِيْمَانِ (ص (٤٥)، الْعَلَامَةُ أَبُو حَيَّانٍ فِي الْبَحْرِ الْمُحِيطِ (٤٩١/٣)، الْإِمَامُ ابْنُ بَطَّةَ فِي الْإِبَانَةِ (۷۲۳/۲)، اَلْإِمَامُ ابْنُ عَبْدِ البَرِّ فِي التَّمْهِيدِ (٢٣٧/٤)، الْعَلَامَةُ الْخَازِنَ فِي تَفْسِيرِه (۳۱۰/۱)، الْعَلَامَةُ السَّعْدِي فِي تَفْسِيرِهِ (٢٩٦/٢)، شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنِ تَيْمِيَّةَ فِي مُجْمُوعِ الْفَتَاوى (۳۱۲/۷) ، الْعَلَامَةُ ابْنُ الْقَيِّمِ الْجَوْزَيَّةِ فِي مَدَارِج السَّالِكِينَ (٣٣٥/١)، مُحَدِّثُ الْعَصْرِ الْعَلَامَةِ الْأَلْبَانِي فِي الصَّحِيحَةِ (١٠٩/٤)
এ যামানার শ্রেষ্ঠতম ফক্বীহ শায়েখ সালেহ আল-উসায়মীন তাঁর التَّجْذِيرُ مِنْ فِتَنَةِ التَّكْفِيرِ গ্রন্থ (৬৮ পৃষ্ঠা) বলেছেন:
لكِنَّ لَمَّا كَانَ هُذَا الْأَثْرُ لَا يَرْضِي هَؤُلَاءِ الْمَفْتُونِينَ بِالتَّكْفِيْرِ؛ صَارُوا يَقُولُونَ : هذا الأثرُ غَيْرِ مَقْبُولٍ وَلَا يَصِحُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَيُقَالُ لَهُمْ : كَيْفَ لَا يَصِحُ؟
وَقَدْ تَلْقَاهُ مَنْ هُوَ أَكْبَرُ مِنكُمْ، وَأَفْضَلُ، وَأَعْلَمُ بِالْحَدِيثِ؟! وَتَقُولُونَ : لَا نَقْبَلُ فَيَكْفِينَا أَنَّ عَلَمَاءَ جَهَابَدَةً كَشَيْخِ الإِسْلَامِ ابْنِ تَيْمِيَّةَ، وَابْنِ الْقَيِّمِ وَغَيْرِهُمَا - كُلُّهُمْ تَلَقَّوْهُ بِالْقَبُولِ وَيَتَكَلَّمُونَ بِهِ، وَيَنقُلُوْنَهُ فَالْأَثرُ صَحِيحٌ.
"কিন্তু আসারটি (সাহাবা'র উক্তি) তাকফীরের ফিতনাই জড়িত ব্যক্তিদের আকাঙ্ক্ষার বিরোধি হওয়ার তারা বলছে: ইবনে আব্বাস'র আসারটি গ্রহণযোগ্য নয় (!) এবং ইবনে আব্বাস থেকে এটা সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয় (!)। আমি তাদের জবাবে বলছি: এটা কিভাবে সহীহ নয়? যখন উক্ত বড় বড় আলেম, যারা তোমাদের থেকে অনেক বড়, বেশি সম্মানিত ও হাদীসের ব্যাপারে অনেক বেশি বিজ্ঞ (তাঁরা সহীহ বলেছেন)! অথচ তোমরা বলছ: আমাদের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়.... তাহলে কি এই আলেমরা আমাদের থেকে বেশি যোগ্য নন? যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়িম প্রমুখ। এদের প্রত্যেকেই এটাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কুবুল করেছেন, এর উপর আলোচনা করেছেন ও এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। সুতরাং প্রমাণিত হল, আসারটি সহীহ।"

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 আকীদাগত ও আমলগত কুফরের দৃষ্টান্ত

📄 আকীদাগত ও আমলগত কুফরের দৃষ্টান্ত


মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী’র পূর্বোক্ত আলোচনায় আক্বীদাগত কুফর ও আমলগত কুফরের বর্ণনা এসেছে। আমরা এখন এ দু'টি বিষয়ে জড়িতদের সাথে নবী’র যামানাতে কী আচরণ ও নির্দেশ ছিল তা তুলে ধরার চেষ্টা করব। এর ফলে এ সম্পর্কে বাস্তবচিত্র আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হবে এবং মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবানী’র উপর মুরজিয়া হওয়ার অপবাদও খণ্ডিত হবে।
কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আক্বীদাগত কুফর ও আমলগত কুফরের দৃষ্টান্ত যাদের মধ্যে পাওয়া যায় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো: ১. মুনাফিক; ২. খারেজী এবং ৩. গোমরাহ শাসক।
কুরআন ও সহীহ হাদীসে এদের সাথে আচরণ ও হুকুমের আলোকে বর্তমান যামানায় যারা আক্বীদা বা আমলগত কিংবা উভয় কুফরের সাথে জড়িত তাদের প্রতি করনীয় বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাব, ইনশাআল্লাহ।
১. মুনাফিক: এতে কোন মতপার্থক্য নেই যে, মুনাফিকুরা আক্বীদাগত দিকে থেকে কুফরী আক্বীদা রাখলেও প্রকাশ্য আমলগতভাবে নিজেদের মুসলিম হিসাবেই প্রকাশ করত। কিন্তু আল্লাহ’র কাছে তাদের আক্বীদা ও আমল উভয়টিই সুস্পষ্টভাবে কুফরীর দোষে দুষ্ট। যেমন আল্লাহ বলেন:
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا تَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ - اتَّخَذُوا أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوا عَنْ سَبيلِ اللَّهِ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ - ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا فَطُبِعَ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ -
"যখন মুনাফিকুরা আপনার নিকট আসে তখন তারা বলে: 'আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি- নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রসূল।' আর আল্লাহ জানেন যে, অবশ্যই আপনি তাঁর রসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকুরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তারা তাদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে, আর তারা আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করে। তারা যা করছে, তা কতই না মন্দ। এটা এজন্য যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে। ফলে, তাদের অন্তরের উপর মোহর মেরে দেয়া হয়েছে; পরিণামে তারা বুঝে না।"¹
আলোচ্য আয়াত থেকে সুস্পষ্ট হলো, আল্লাহ এ’র কাছে মুনাফিক্বদের আক্বীদা ও আমল উভয়টিই প্রত্যাখ্যাত। এরপরও আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ছাড় দিতে বলেছেন যতক্ষণ না তারা মুসলিম ও ইসলামী রাষ্ট্রের বিরোধি তৎপরতায় অংশ নেয়। এ সম্পর্কে সূরা নিসার ১২ নং রুকুর সম্পূর্ণ অংশটিতে তাদের ব্যাপারে নির্দেশ ও নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। উক্ত আয়াতগুলোর ধারাবাহিক বক্তব্যগুলো হলো:
ক. মুনাফিকুরা পথভ্রষ্ট, তারা কখনো পথ পাবে না। আল্লাহ বলেন:
فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُمْ بِمَا كَسَبُوا أَتُرِيدُونَ أَنْ تَهْدُوا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا
"আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা মুনাফিক্বদের ব্যাপারে দু'দল হয়ে গেলে? যখন আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। তোমরা কি তাকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাও, যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন? আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কখনো কোন পথ পাবে না।” [সূরা নিসা: ৮৮ আয়াত]
খ. তারা মুসলিমদের কাফির বানাতে চায়। সবকিছু ছেড়ে মুসলিমদের কাছে হিজরত না করলে কাফিরদের ন্যায় তাদের হত্যা করতে হবে এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন:
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّى يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
“তারা চায় যে, তারা যেরূপ কাফির হয়েছে, তোমরাও সেরূপ কাফির হও, যাতে তোমরা তাদের সমান হয়ে যাও। সুতরাং তাদের মধ্যে হতে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তাদের যেখানেই পাবে পাকড়াও করবে ও হত্যা করবে এবং তাদের মধ্যে হতে কাউকে বন্ধু ও সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবে না।” [সূরা নিসা: ৮৯ আয়াত]
আলোচ্য আয়াতটিতে মুনাফিক্বদের কাফির বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
গ. যদি মুনাফিকুরা মুসলিমদের সাথে চুক্তিবদ্ধদের মাঝে থাকে, কিংবা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিজেদের দুর্বলতার কারণে তারা যুদ্ধ করতে ভয়ে দূরে থাকে এবং শান্তির প্রস্তাব দেয়, অথচ শক্তি থাকলে তারা যুদ্ধ করতো; এদের সাথেও যুদ্ধ নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন:
إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَى قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقَ أَوْ جَاءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَنْ يُقَاتِلُوكُمْ أَوْ يُقَاتِلُوا قَوْمَهُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَسَلْطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقَاتَلُوكُمْ فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا
"কিন্তু তারা নয়, যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয়, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ। অথবা যারা তোমাদের নিকট এ অবস্থায় আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে অথবা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে অনুৎসাহিত। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের তোমাদের উপর ক্ষমতা দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতো। সুতরাং তারা যদি তোমাদের নিকট থেকে সরে দাঁড়ায়, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের নিকট শান্তির প্রস্তাব করে, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা অবলম্বনের পথ রাখেন নি।” [সূরা নিসা- ৮৯ আয়াত।
সুস্পষ্ট হল, মুনাফিক্বদের আক্বীদা কুফর হলেও যতক্ষণ তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না বা অন্য কোন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে না, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। অথচ আল্লাহ'র কাছে তাদের আক্বীদা ও আমল কোনটিই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং প্রমাণিত হলো:
১. আল্লাহ'র কাছে মুনাফিক্বদের ঈমান ও আমল গ্রহণযোগ্য নয়;
২. আল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে তাদের ছাড় দিচ্ছেন এবং তাদের ব্যাপারে যুদ্ধ করতে বা কঠোর হতে নিষেধ করছেন; যতক্ষণ না তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চরমপন্থা অবলম্বন করে।
ঘ. যখন মুনাফিকুরা সমাজ ও রাষ্ট্রে ফিতনা সৃষ্টি করবে তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আল্লাহ বলেন:
سَتَجِدُونَ آخَرِينَ يُرِيدُونَ أَنْ يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا قَوْمَهُمْ كُلَّ مَا رُدُّوا إلى الفتنة أَرْكسُوا فِيهَا فَإِنْ لَمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفُوا أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأُولَئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَانًا مُبِينًا.
"তোমরা আরো কতক লোক পাবে, যারা তোমাদের সাথে এবং তাদের সম্প্রদায়ের সাথে শান্তিতে থাকতে চায়। যখনই তাদের ফিতনার দিকে ডাকা হয়, তখনই তারা তাদের পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবৃত্ত হয়। অতএব, তারা যদি তোমাদের নিকট হতে চলে না যায়, তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব না করে এবং তাদের হাত সংবরণ না করে, তবে তাদের যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং হত্যা করবে। আমি তাদের উপর তোমাদের বিরুদ্ধাচারণের স্পষ্ট অধিকার দিয়েছি।" [সূরা নিসা- ৯১ আয়াত]
ঙ. তাগুতের কাছে বিচার উপস্থাপনকারী মুনাফিকু ও এ সম্পর্কীত বিধান। আল্লাহ বলেন: أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلُّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا - وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا -
"আপনি কি তাদের দেখেন নি, যারা দাবি করে যে, আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে, তাতে তারা ঈমান আনে, অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং শয়তান তাদের ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়? তাদের যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দিকে এবং রসূলের দিকে এস, তখন মুনাফিক্বদের আপনি আপনার নিকট থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবেন।" [সূরা নিসা- ৬০-৬১ আয়াত]
আল্লাহ বলেন: يَأَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ
"হে নবী! কাফির ও মুনাফিক্বদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর ও তাদের প্রতি কঠোর হও।” [সূরা তাওবাহ- ৭৩ আয়াত]
এখন আমরা জানব, মুনাফিক্বদের সাথে কখন, কি পরিস্থিতিতে ও কিভাবে জিহাদ করতে হবে এবং কঠোর হতে হবে?
২. খারেজী: খারেজীদের সূত্রপাতও মুনাফিক্বদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আল্লাহ বলেন:
وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ وَمَا هُمْ مِنْكُمْ وَلَكِنَّهُمْ قَوْمٌ يَفْرَقُونَ - لَوْ يَجِدُونَ مَلْجَأَ أَوْ مَغَارَاتِ أَوْ مُدَّخَلًا لَوَلَّوْا إِلَيْهِ وَهُمْ يَجْمَحُونَ - وَمِنْهُمْ مَنْ يَلْمِزُكَ فِي الصَّدَقَاتِ فَإِنْ أُعْطُوا مِنْهَا رَضُوا وَإِنْ لَمْ يُعْطَوْا مِنْهَا إِذَا هُمْ يَسْخَطُونَ - وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا مَا أَتَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ سَيُؤْتِينَا اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ إِنَّا إِلَى اللَّهِ رَاغِبُونَ - إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
“তারা আল্লাহ'র নামে শপথ করে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বস্তুত তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা ভয় করে থাকে। তারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গিরিগুহা অথবা কোন প্রবেশস্থল পেয়ে গেলে সে দিকে পলায়ন করবে ক্ষিপ্রগতিতে। তাদের মধ্যে এমনও লোক আছে, যে সাদকা বণ্টনের ব্যাপারে আপনাকে দোষারোপ করে। অতঃপর তার কিছু তাদের দেয়া হলে পরিতুষ্ট হয় এবং তার কিছু না দেয়া হলে তখনই তারা বিক্ষুব্ধ হয়। ভাল হত যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূল তাদের যা দিয়েছেন তাতে রাযী হয়ে যেত এবং বলত আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট; আল্লাহ আমাদের দিবেন নিজ করুণা এবং তাঁর রসূলও। সাদকা তো কেবল ফক্বীর, মিসকীন ও এর (জন্য নিয়োজিত) কর্মচারীদের জন্য এবং (অমুসলিম/দুর্বল মু'মিনদের) অন্তর আকৃষ্ট করার জন্য এবং দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য ও আল্লাহ'র পথে জিহাদরতদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহ'র বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা তাওবা- ৫৮-৬০ আয়াত]
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الله قَالَ : بَعَثَ إِلى النَّبِيِّ ﷺ بِشَيْءٍ فَقَسَّمَهُ بَيْنَ أَرْبَعَةِ وَقَالَ: أَتَالَفَهُمْ. فَقَالَ رَجُلٌ مَا عَدَلْتَ فَقَالَ: يَخْرُجُ مِنْ ضَيْضَى هَذَا قَوْمٌ يَمُرْقُونَ مِنَ الدِّينِ
"আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী -এর কাছে কিছু জিনিস প্রেরণ করা হল। এরপর তিনি সেগুলো চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর বললেন, তাদের (এর দ্বারা) আকৃষ্ট করছি। তখন এক ব্যক্তি বলল, আপনি সঠিকভাবে দান করেন নি। এতদশ্রবণে তিনি বললেন: এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন সব লোক জন্ম নেবে যারা দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে।” [সহীহ বুখারী- কিতাবুত তাফসীর, সূরা নিসা- ৬০ নং আয়াতের তাফসীর দ্র:)
আবু সাঈদ খুদরী থেকেও বর্ণিত হয়েছে: আলী ইয়ামান থেকে রসূলুল্লাহ-এর কাছে কিছু স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন। তিনি সেগুলো চার জনের মধ্যে বণ্টন করেন। তখন সাহাবীদের একজন বললেন: 'এ স্বর্ণের ব্যাপারে তাদের অপেক্ষা আমরাই অধিক হক্বদার ছিলাম।' কথাটি শোনার পর নবী বললেন: 'তোমরা কি আমার উপর আস্থা রাখ না অথচ আমি আসমানবাসীদের আস্থাভাজন, সকাল-বিকাল আমার কাছে আসমানের সংবাদ আসছে।..... তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: ইয়া রসূলাল্লাহ! আল্লাহকে ভয় করুন। নবী বললেন: তোমার জন্য আফসোস! আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমি কি বেশি হক্বদার নই? লোকটি চলে গেলে খালিদ বিন ওয়ালিদ বললেন : ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি কি লোকটির গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন: ) لَا لَعَلَّهُ أَنْ )يَكُوْنَ يُصَلِّي না, হয়ত সে সালাত আদায় করে। খালিদ বললেন: ) وكم من مُصَلِّ يَقُولُ بِلِسَانِهِ مَا لَيْسَ فِي قَلْبِهِ( অনেক মুসল্লী আছে যারা মুখে এমন কথা উচ্চারণ করে যা অন্তরে নেই। রসূলুল্লাহ বললেন: ) إِنِّي لَمْ أُوْمَرْ أَنْ أَنْقُبَ قُلُوْبَ النَّاسِ وَلَا أَشَقٌ بُطُوْنَهُمْ আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেঁড়ে (ঈমান) দেখার জন্য বলা হয় নি।.... তিনি বললেন: এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন এক জাতির উদ্ভব হবে যারা শ্রুতিমধুর কন্ঠে আল্লাহ'র কিতাব তিলাওয়াত করবে অথচ আল্লাহর বাণী তাদের গলদেশের নিচে নামবে না। তারা দ্বীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে তীর বের হয়। যদি আমি তাদের পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদের সামুদ জাতির মত হত্যা করব।” [সহীহ বুখারী- কিতাবুল মাগাযী بَابٌ بَعْثِ عَلَى بْنِ أَبِي طَالِبٍ : (সংক্ষেপিত)]
আলী-এর খিলাফতের যামানায় খারেজীদের উদ্ভব হয়। [ফতহুল বারী, আলোচ্য অনুচ্ছেদ দ্র:, আরো বিস্তারিত: তাফসীরে মাযহারী সূরা নিসা- ৫৬-৫৯ আয়াতের তাফসীর।
আলী খারেজীদের বলেছিলেন: “যতদিন তোমাদের দায়িত্ব আমাদের উপরে ছিল ততদিন আমরা তোমাদের গনীমত দেয়া বন্ধ করি নি এবং আল্লাহর মাসজিদে সালাত আদায় করতে বাধা দেই নি। এখন তোমাদের উপর আমরা আগেই হামলা করবো না। যদি তোমরা প্রথমে হামলা না করো।” এরপর তারা সবাই কূফা থেকে বেরিয়ে গিয়ে নাহরাওয়ান নামক স্থানে সমবেত হয়। (আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (ই.ফা.) ৭/৫১০ পৃষ্ঠা)
পূর্বোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হলো, মুনাফিকু ও খারেজীরা একই সূত্রে গাঁথা। তাদের প্রতি একই ধরণের আচরণ প্রযোজ্য:
ক. তাদের ঈমান ও 'আমল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কাছে অগ্রহণযোগ্য।
খ. এরপরও রাষ্ট্রীয় আইন এক্ষেত্রে তাদের প্রতি অনেক সহনশীল ও যুক্তিসংগত আচরণ করেছে, যতক্ষণ তারা ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতির কারণ না হয়। অথচ তখন ইসলামী রাষ্ট্র ক্বায়েম ছিল। তাদের ঈমান ও আক্বীদা আল্লাহ'র কাছে অগ্রহণযোগ্য হওয়াটাও সুস্পষ্ট ছিল। রসূল -কেও হাকিম/শাসক/বিচারক হিসাবে স্বীকার করার ব্যাপারে তাদের আপত্তি ছিল। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রদ্রোহী ও সরাসরি ইসলামী বিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নি, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামী আইনেই তাদের অবকাশ দেয়া হয়েছে।
৩. গোমরাহ শাসক: শাসকদের ব্যাপারে আমরা নবী থেকে কয়েক ধরণের নিদের্শনা পায়। যথা:
ক. প্রতিষ্ঠিত ইসলামী খিলাফত ও আইনসমূহ বিকৃতকারী শাসক: রসূলুল্লাহ বলেছেন:
خِيَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ يُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ وَتُصَلُّوْنَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِي تَبْغِضُونَهُمْ وَيَبْعْضُونَكُمْ وَتَلْعَنُوهُمْ وَيَلْعَنُوكُمْ
قَالَ : قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا تَنَابَذُهُمْ عِندَ ذَلِكَ ؟ قَالَ : " لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلَاةُ لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمُ الصَّلاةَ أَلَا مَنْ وَلِي عَلَيْهِ وَالِ فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهُ مَا يَأْتِي مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا يَتَزَعْنَ يَدًا مِنْ طَاعَةِ
“তোমাদের শাসকদের মধ্যে সেই শাসকই উত্তম যাকে তোমরা ভালবাস, আর যারা তোমাদের ভালবাসে। আর তোমরা তাদের জন্য দু'আ কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দু'আ করে। আর তোমাদের সেই শাসকই মন্দ যাদের তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদের ঘৃণা করে। আর তাদের প্রতি তোমরা লানত কর এবং তারা তোমাদের প্রতি লানত করে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমরা বললাম: ইয়া রসূলাল্লাহ! এমতাবস্থায় আমরা কি সেই সমস্ত শাসকদের অপসারণ করে তাদের সাথে কৃত বায়য়াত ভঙ্গ করে ফেলব না? তিনি বললেন: না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম করে। (আবার বললেন) না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম করে। সাবধান! যে ব্যক্তিকে তোমাদের উপর শাসক নিযুক্ত করা হয়, আর যদি তার মধ্যে আল্লাহর নাফরমানীর কোন কিছু পরিলক্ষিত হয়, তখন তোমরা তার সেই আল্লাহর নাফরমানীর কাজটিকে ঘৃণার সাথে অপছন্দ কর, কিন্তু তার আনুগত্য হতে হাত গুটাতে পারবে না।" [সহীহ মুসলিম, মিশকাত ৭/৩৫০১ নং]
হাদীসটিতে বায়য়াত ভঙ্গের প্রসঙ্গ দ্বারা সুস্পষ্ট হয়, উক্ত শাসকের শাসন ইসলামী হুকুমাতের অন্তর্ভুক্ত। অন্যত্র নবী বলেন: يَكُوْنُ عَلَيْكُمْ أَمَرَاءُ تَعْرِفُوْنَ وَتُنْكِرُوْنَ فَمَنْ الْكَرَ فَقَدْ بَرِئَ وَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ قَالُوْا أَفَلَا تُقَاتِلُهُمْ قَالَ لَا مَا صَلَّوْا "অচিরেই তোমাদের ওপর এমন সব শাসক নিযুক্ত হবে, যারা ভাল-মন্দ উভয় প্রকারের কাজ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের মন্দ কাজের প্রতিবাদ করল, সে ব্যক্তি দায়িত্ব হতে মুক্ত হয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি মনে মনে উক্ত কাজটিকে খারাপ জানল, সে ব্যক্তিও নিরাপদ হলো। কিন্তু যে ব্যক্তি তাদের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করল এবং উক্ত শাসকের সে (অন্যায়) কাজে আনুগত্য করল (সে গুনাহর মধ্যে নিমজ্জিত হলো)। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! এমতাবস্থায় আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে ক্বিতাল করব না? তিনি বললেন: না, যতক্ষণ তারা সালাত পড়ে।"¹
অন্য বর্ণনায় আছে, لَا مَا أَقَامُوا فِيْكُمُ الصَّلَاةَ “না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখে।”¹⁰ অপর এক বর্ণনায় আছে, إِلا اَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِّنَ اللَّهُ فِيْهِ بُرْهَانَ “যতক্ষণ না তোমরা তার মধ্যে প্রকাশ্য কুফর দেখতে পাবে এবং তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আল্লাহর সুস্পষ্ট দলিল থাকবে।”¹¹
পূর্বোক্ত হাদীসগুলো থেকে বুঝা যায়, পূর্ব থেকেই বায়আত-খিলাফত ও সালাত কায়েম ছিল, এমন শাসক যখন সালাত কায়েম করবে না তখন তাকে হত্যা করা যাবে। তবে নিঃসন্দেহে উক্ত শাসককে অপসারণের বিষয়টি শক্তি-সামর্থ্যের সাথে জড়িত।
খ. সম্পূর্ণ গোমরাহ শাসক: হুযায়ফা বলেন: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا بِشَرِّ فَجَاءَ اللَّهُ بِخَيْرٍ فَنَحْنُ فِيْهِ فَهَلْ مِنْ وَّرَاءِ هَذَا الْخَيْرِ شَرُّ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ هَلْ وَرَاءَ ذَالِكَ الشَّرِّ خَيْرُ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ فَهَلْ وَرَاءَ ذَالِكَ الْخَيْرِ شَرُّ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ كَيْفَ قَالَ يَكُوْنَ بَعْدِي ائِمَّةُ لَا يَهْتَدُوْنَ بِهُدَايَ وَلَا يَسْتَتُوْنَ بِسُنَّتِي وَسَيَقُوْمُ فِيْهِمْ رِجَالُ قُلُوبُهُمْ قُلُوْبُ الشَّيَاطِينِ فِي جُثْمَانِ النسِ قَالَ قُلْتُ كَيْفَ أَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُ ذَالِكَ قَالَ تَسْمَعُ وَتُطِيعُ لِلْأَمِيرِ وَإِنْ ضُرِبَ ظَهْرُكَ وَأُخِذَ مَالُكَ فَاسْمَعْ وَأَطِعْ -
“আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমরা ছিলাম অমঙ্গলের মধ্যে তারপর আল্লাহ আমাদের জন্যে মঙ্গল নিয়ে আসলেন। আমরা তাতে অবস্থান করছি। এ মঙ্গলের পরে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে? তিনি বললেন: হাঁ। আমি বললাম, এ অমঙ্গলের পরে কি আবার কোন মঙ্গল আছে? তিনি বললেন: হাঁ। আমি বললাম, এ মঙ্গলের পরে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে? তিনি বললেন: হাঁ। আমি বললাম, তা কিভাবে? তিনি বললেন, আমার পরে এমন সব নেতার উদ্ভব হবে যারা আমার হিদায়েতে হিদায়েত প্রাপ্ত হবে না এবং আমার সুন্নাতও তারা অবলম্বন করবে না। অচিরেই তাদের মধ্যে এমন সব লোকের উদ্ভব হবে যাদের অন্তঃকরণ হবে মানব দেহে শয়তানের অন্তঃকরণ; রাবী বলেন, আমি বললাম: তখন আমরা কী করবো, ইয়া রসূলাল্লাহ! যদি আমরা সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই? বললেন: তুমি শুনবে এবং মানবে যদি তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় বা তোমার ধন-সম্পদ কেড়েও নেয়া হয় তবুও তুমি শুনবে এবং মানবে।" ]সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমারাত- بَابُ الْأَمْرِ بِلُزُوْمِ الْجَمَاعَةِ عِنْدَ ظُهُورِ الْفَتَنِ وَ تَحْذِيرُ الدُّعَاةِ إِلَى الْكُفْرِ
যারা আল্লাহর বিধান দ্বারা হুকুমাত পরিচালনা করবে তারা কখনই হিদায়াত ও রসূলের সুন্নাত ত্যাগকারী শাসক নয়। তাদের যে বিষয়ে আনুগত্য করতে বলা হয়েছে তা আল্লাহর একক হকু তথা ইবাদাত সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়। এমনকি ইসলামী কোন মৌলিক আক্বীদার বিরোধিতায়ও তাদেরকে মানতে বলা হয়নি। অথচ বান্দার অধিকার যেমন অন্যায়ভাবে বা বিচারে বেত্রাঘাত ও ধন-সম্পদ প্রভৃতি তথা অধিকার কেড়ে নেয়া সম্পর্কে তাদের আনুগত্য করতে বলা হয়েছে। যা সুস্পষ্টভাবে মু'আমালাতের অন্তর্ভুক্ত। অথচ পূর্বের হাদীসগুলো শাসকের শেষ বাহ্যিক কুফর তথা সালাত আদায় পর্যন্ত আনুগত্য করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায়, পরিস্থিতি বিশেষে যখন মুসলিমদের ঈমান ও বৈষয়িক শক্তি-সামর্থ্যের হ্রাস ঘটবে এবং গোমরাহ শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে তখনকার করণীয় বিষয় সম্পর্কে হাদীসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ সত্য বুঝার তাওফিকু দিন। আমিন!!
পূর্বোক্ত আলোচনাতে আক্বীদাভিত্তিক ও আমলভিত্তিক কুফরের বিষয়টি সুস্পষ্ট হল। কেননা রসূলুল্লাহ যখন নিজেই হাকিম তখন তাঁর সাথে দুর্ব্যবহারকারীদের ব্যাপারে যেখানে তার অবস্থান সুস্পষ্ট, অথচ তিনি তখন রাষ্ট্রীয় শক্তি-ক্ষমতার অধিকারী। সুতরাং যখন মুসলিমরা ঈমানী দুর্বলতায় জর্জরিত হবে, তখন শক্তিশালী গোমরাহ শাসকদের ব্যাপারে তাদের করণীয় তা-ই যা পূর্বোক্ত সহীহ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদেরকে পুনরায় নবী -এর দেখানো পথেই সংস্কার করতে হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন: একবার রসূলুল্লাহ আমাদের বললেন: أَنَّكُمْ سَتَرَوْنَ بَعْدِي أَثْرَةً وَأُمُوْرًا تُنْكِرُوْنَهَا "অচিরেই তোমরা আমার পরে স্বজনপ্রীতি এবং এমন সব কাজ দেখবে, যা তোমরা অপছন্দ করবে।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: فَمَا تَأْمُرُنَا يَا رَسُوْلَ الله "ইয়া রসূলাল্লাহ! তখন আমাদের কী করতে আদেশ করেন? তিনি বললেন: أَدُّوا إِلَيْهِمْ حَقَّهُمْ وَسَلُوْا اللَّهُ حَقَّكُمْ "তোমরা তাদের হক্ক তাদের পরিশোধ করে দেবে এবং তোমাদের হক্ক আল্লাহ'র কাছে চাবে।"¹²
রসূলুল্লাহ বলেছেন: سَتَكُوْنُ أَحْدَاثٌ وَفِتْنَةٌ وَفُرْقَةٌ وَاخْتِلاف ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُوْنَ الْمَقْتُولَ لَا الْقَاتِلَ فَافْعَلْ "অচিরেই নিত্য নতুন বিষয়াদি (বিদ'আত), ফিতনা, ফিরক্বা (দলাদলি) ও ইখতিলাফ (মতবিরোধ) দেখা দেবে। তখন যদি তোমার পক্ষে সম্ভব হয় তবে নিহত হও, হত্যাকারী হয়ো না- তবে তা-ই কর।"¹⁰
আবূ মূসা নবী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنَّا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِدُ فِيْهَا خَيْرٌ مِّنَ الْقَائِمِ وَالْمَاشِي فِيْهَا خَيْرٌ مِّنَ السَّاعِي فَكَسِّرُوْا فِيْهَا قِسِيَّكُمْ وَقَطَّعُوْا فِيْهَا أَوْتَارَكُمْ وَاضْرِبُوا سُيُؤْفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ فَإِنْ دُخِلَ عَلَى أَحَدٍ مِّنْكُمْ فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ
“ক্বিয়ামত আসার পূর্বে ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের ন্যায় ফিতনা সংঘটিত হতে থাকবে, এতে কোন ব্যক্তি সকালে মু'মিন এবং বিকালে কাফির এবং বিকালে মু'মিন আর সকালে কাফিরে পরিণত হতে থাকবে। এতে বসে থাকা ব্যক্তি দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তি হতে উত্তম হবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে ফেলবে এবং এর রশিগুলি কেটে ফেলবে। আর তোমাদের তলোয়ার পাথরে আঘাত করে এর ধার নষ্ট করে দেবে। এই সময় কেউ যদি আগ্রাসী হয়ে তোমাদের কাউকেও আক্রমণ করে, তখন সে যেন আদম -এর দুই ছেলের মধ্যে উত্তম ছেলের নীতি অবলম্বন করে।”¹⁴ আদম -এর উক্ত দুই পুত্র সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَا بِبَاسِطِ يَدِيَ إِلَيْكَ لَأَقْتُلَكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبِّ الْعَالَمِينَ “(আদম -এর এক পুত্র অপর পুত্রকে বলল) তুমি যদি আমাকে হত্যার জন্য হাত বাড়াও, আমি তোমাকে হত্যার জন্য হাত বাড়াব না। আমি রব্বুল আলামীনকে ভয় করি।” [সূরা মায়িদাহ: ২৮ আয়াত]
ইমাম ইবনে কাসীর লিখেছেন: قَالَ أَيُّوبُ السَّختياني: إِنَّ أَوَّلَ مَنْ أَخَذَ هَذِهِ الْآيَةِ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ: لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَا بِبَاسِطِ يَدِيَ إِلَيْكَ لَأَقْتُلَكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ ﴾ لَعُثْمَانِ بْنِ عَفَانِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ رواه ابن أبي حاتم. “আইয়ুব সাখতিয়ানী বলেন: এই উম্মাতের মধ্যে সর্বপ্রথম এই আয়াতের ওপর যিনি আমল করেছিলেন তিনি হলেন উসমান । আবূ হাতিম এটা বর্ণনা করেছেন।”
[তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা মায়িদাহ- ২৮ নং আয়াতের তাফসীর দ্রঃ]
লক্ষণীয় বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় ইসলামী রাষ্ট্র তখন শক্তিশালী ছিল। কিন্তু উসমান রাষ্ট্রীয় নীতির আলোকে তাদের মুসলিম গণ্য করায় তাদের রক্ত নেওয়ার চেয়ে নিজের শহীদ হওয়াটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহ সত্য বুঝার তাওফিক দিন।
বিকৃতির সময় সামর্থ্য অনুযায়ী নানামুখী জিহাদের কর্মসূচী নবী বলেছেন:
مَا مِنْ نَّبِيِّ بَعَثَهُ اللهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ فِي أُمَّتِهِ حَوَارِيُّوْنَ وَأَصْحَابٌ يَا خُذُوْنَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُوْنَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ أَنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوْفٌ يَقُوْلُوْنَ مَا لَا يَفْعَلُوْنَ وَيَفْعُلَوْنَ مَا لاَ يُؤْمَرُوْنَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مَؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَ هُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيْمَانِ حَبَّةُ خَرْدَل -
"আল্লাহ আমার পূর্বে যে সব নবী -কে তাঁর উম্মাতের জন্য পাঠিয়েছিলেন, ঐ উম্মাতের মধ্যে তাঁর জন্য সাহায্যকারী ও সাহাবীগণ ছিলেন। যারা তাঁর সুন্নাতের উপর আমল করতেন ও তাঁর হুকুম মেনে চলতেন। তাদের পরে ঐ সমস্ত খারাপ লোকের উদ্ভব হতো যারা এমন কথা বলত যার উপর 'আমল করত না। আর তাদের যে বিষয়ের নির্দেশ দেয়া হয় নি, তার উপর 'আমল করত। যে ব্যক্তি ঐ সমস্ত লোকদের সাথে হাত দ্বারা জিহাদ করে সে মু'মিন, যে যবান দ্বারা জিহাদ করে সেও মু'মিন, আর যে অন্তর দ্বারা জিহাদ করে সেও মু'মিন। অন্যথায় এর বাইরে তিল দানা পরিমাণ ঈমানের অস্তিত্বও নেই। "¹⁵
এই শেষোক্ত হাদীসটিতেও কূলব তথা অন্তরের কার্যকারীতাকে স্বীকার করে তাকে সর্বশেষ ঈমানের অস্তিত্ব বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যা আহলে সুন্নাতের আক্বীদাকেই প্রতিষ্ঠিত করে। পক্ষান্তরে খারেজীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংশয়: অনেকে এ ক্ষেত্রে বলতে পারেন, আলোচ্য হাদীসটিতো উপায়হীন অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যখন পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে তখন কেবল অন্তরের কার্যকারিতা গ্রহণযোগ্য নয়।
জবাব: হাদীসটিতে অন্তরের উক্ত কার্যকারিতাকে দুর্বল ঈমান বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, অর্থাৎ ঈমানের সর্বশেষ অবস্থা। সুতরাং যখন শরী'আত নিজেই তা স্বীকৃতি দেয় তখন তা অস্বীকার করা প্রকারান্তরে "আল্লাহর বিধানকেই অস্বীকার করা"। যা কুফরে ই'তিক্বাদী বা আক্বীদাগত কুফরের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া যারা ঈমানী দুর্বলতা ও অন্যান্য কারণে 'আমলগতভাবে চরম পাপী হিসাবে গণ্য হবে তাদের আখিরাতের পরিস্থিতি সম্পর্কেও হাদীসে সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে। যেমন- সমস্ত নবী- রসূলদের শাফায়াতের শেষে আল্লাহ বলবেন:
شَفَعَتِ الْمَلَائِكَةُ وَشَفَعَ النَّبِيُّوْنَ وَشَفَعَ الْمُؤْمِنُوْنَ وَلَمْ يَبْقَ إِلَّا أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ فَيَقْبْضَ قَبْضَةً مِنَ النَّارِ فَيَخْرُجُ مِنْهَا قَوْمًا لَّمْ يَعْمَلُوا خَيْرًا
"মালাইকাগণ, নবীগণ ও মুমীনগণ সবাই শাফায়ত করেছেন, এখন এক 'আররহমানুর রহিমীন ছাড়া কেউ বাকি নেই। এই বলে তিনি মুষ্টিভরে এমন একদল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করবেন যারা কখনো কোন নেক কাজ করে নি।"¹⁶ উপরিউক্ত হাদীসগুলো মুরজিয়া ও খারেজী উভয় ফিতনাকে খণ্ডন করে। কেননা-
১. মুরজিয়াদের দাবি হলো কেবল ঈমান থাকাই জান্নাতের যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। অথচ শেষোক্ত হাদীসটিতে কেবল ঈমান থাকলেও জাহান্নামী হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।
২. খারেজীরা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘনকারীকে কাফিরদের মতো চিরস্থায় জাহান্নামী মনে করে থাকে।
অথচ উক্ত হাদীসে নেক কাজহীন ব্যক্তিদের আল্লাহর অনুগ্রহে অবশেষে জান্নাতে যাওয়াটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তাছাড়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আক্বীদার পক্ষে নিচের সহীহ হাদীসটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উবাদা ইবনে সামিত বলেন:
كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي مَجْلِسٍ فَقَالَ تُبَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ وَمَنْ أَصَابَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَعُوقِبَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ.
"আমরা কোন বৈঠকে রসূলুল্লাহ এর সঙ্গে বসেছিলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা আমার কাছে এ বলে বায়য়াত গ্রহণ কর যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, যিনা করবে, চুরি করবে না এবং কাউকে হত্যা করবে না, যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। কিন্তু ন্যায়সঙ্গতভাবে (অর্থাৎ ক্বিসাসের কারণে)। অতএব, তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তা পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে পাবে। আর যদি কেউ উক্ত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয়ে শাস্তি ভোগ করে, তবে তাই তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। আর যদি কোন ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয় অতঃপর আল্লাহ তা গোপন রাখেন, তবে বিষয়টি মহান আল্লাহ'র এখতিয়ারে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন।" [সহীহ মুসলিম- কিতাবুল হুদূদ ابَابُ الْحُدُودِ كَفَّارَاتٌ لِأَهْلِها
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- উবাদা বলেন: আমরা এ সকল কথার উপর তাঁর হাতে বায়আত করলাম।” [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ঢাকা) ১/১৭ নং
এর বিপরীতে মু'তাযিলা ও খারেজীদের দলিল হলো: ক. আল্লাহ হত্যাকারী এবং খ. সুদখোরকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী বলেছেন।
আল্লাহ বলেন: وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا "আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু'মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, যেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা'নত করবেন এবং মহাআযাব প্রস্তুত রাখবেন।" [সূরা নিসা- ৯৩ আয়াত]
আল্লাহ বলেন: الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلُ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّه وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ - يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلِّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ "যারা সুদ খায়, তারা সে ব্যক্তিরই ন্যায় দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এটা এই জন্য যে, তারা বলে: বেচাকেনা তো সুদেরই মতো। অথচ আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন। যার কাছে তার রবের উপদেশ এসেছে এবং যে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই; এবং তার ব্যাপার আল্লাহর এখতিয়ারে আর যারা পুনরায় আরম্ভ করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালবাসেন না।" [সূরা বাক্বারাহ- ২৭৫-৭৬ আয়াত]
এর দ্বারা প্রমাণিত হয় কবীরা গুনাহকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী এবং সে কাফির।
জবাব: পূর্বোক্ত সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসটির মূলনীতির আলোকে বুঝা যায়, সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহকারীদের আল্লাহ ইচ্ছা করলে জাহান্নামে দিতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে ক্ষমা করতে পারেন। তাছাড়া হাদীসটির মতো কুরআনেও মু'মিনের পাপের কাফফারার কথা বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
আল্লাহ বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنثَى بِالْأُنثَى فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتَّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَان ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ "হে মু'মিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য ক্বিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী; তবে যাকে তার ভাইদের পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দেয়া হবে, তখন যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও ইহসানের সাথে তা আদায় করা। এ বিধি তোমাদের রবের পক্ষ হতে সহজ ব্যবস্থা ও অনুগ্রহ। এরপরও যে সীমালঙ্ঘন করে তার জন্য রয়েছে ভয়ানক আযাব।" [সূরা বাক্বারাহ- ১৭৮ আয়াত]
আল্লাহ বলেন:
وَالْجُرُوحَ قِصَاصِ فَمَنْ تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ
“যে ব্যক্তি (ক্বিসাসের) শাস্তি সাদকা করে দেবে তা তার জন্য কাফফারায় পরিণত হবে।" (সূরা মায়িদা- ৪৫ আয়াত)
অনুরূপভাবে রসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ جُرِحَ فِي جَسَدِهِ جِرَاحَةً فَتَصَدَّقَ بِهَا كَفْرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهُ بِمِثْلِ مَا تَصَدَّقَ بِهِ
"যার শরীরে কোন আঘাত করা হয়েছে এবং সে তা সাদকা (মাফ) করে দিয়েছে, এ ক্ষেত্রে আল্লাহ যে পর্যায়ের ক্ষমা হবে ঠিক একই পর্যায়ের গোনাহ মাফ করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ, শুআয়েব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাহক্বীকুকৃত মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৮৪৪ নং)।]
উক্ত আয়াত ও হাদীসগুলো থেকে মানুষের অধিকার সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহ তথা হত্যার ব্যাপারটিই মানুষ দ্বারাও যখন ক্ষমাযোগ্য। তখন অন্যান্য কবীরা গোনাহর ক্ষেত্রেও ঐ নীতিই প্রযোজ্য যা পূর্বে সহীহ মুসলিমের উবাদা ইবনে সামিত এ-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী যথাযথ শাস্তি ভোগ বা মেয়াদের পর কেবল ঈমানের বদৌলতে জান্নাতী হওয়া সম্পর্কীত হাদীসগুলোও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
[বিস্তারিত জানতে দেখুন: "কবীরা গুনাহাগার মু'মিন কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী?" -কামাল আহমাদ; আতিফা পাবলিকেশন্স, ঢাকা]

টিকাঃ
১. সূরা মুনাফিকুন: ১-৩ আয়াত।
১. সহীহ: মুসলিম, মিশকাত (ঢাকা: এমদাদিয়া লাইব্রেরী, জানু-১৯৯৭) ৭ম খণ্ড হা/৩৫০২।
১০. সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদা) হা/৩৬০১। হাদীসটি বায়য়াত কোন পরিস্থিতিতে ভঙ্গ করা যায় সে সম্পর্কে প্রশ্ন-উত্তর সংশ্লিষ্ট ছিল।
১১. সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত ৭ম খন্ড হা/৩৪৯৭। হাদীসটি নিযুক্ত মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হাদীসের শুরুর বাক্যগুলো থেকে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
১২. সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদা) ৭/৩৫০৩ নং।
১০. হাসান: মুসনাদে আহমাদ, মুস্তাদরাকে হাকিম। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহুল জামে' ১/৩৬১৬)। শু'আয়েব আরনাউত হাদীসটির সমালোচনাসহ হাদীসটি হাসান লি-গয়রিহী বলে মন্তব্য করেছেন। (তাহক্বীক্ককৃত মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৫৫২)। পরবর্তী সহীহ হাদীসটি এই হাদীসটিকে সমর্থন করে।
১৪. সহীহ: আবূ দাউদ, মিশকাত ১০/৫১৬৬ নং, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (তাহক্বীকুকৃত মিশকাত ৩/৫৩৯৯, তাহক্বীকুকৃত আবূ দাউদ হা/৪২৫৯)।
১৫ সহীহ: সহীহ মুসলিম - কিতাবুল ঈমান ا بَابٌ بَيَانِ كَوْنِ النَّهْيِ عَنِ الْمُنْكِرَ
১৬ সহীহ: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত (এমদা) ১০/৫৩৪১ নং।

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 মুনাফিক্বদের বিরুদ্ধে জিহাদের ধরণ

📄 মুনাফিক্বদের বিরুদ্ধে জিহাদের ধরণ


ক. বিদ্রোহ করলে (হত্যা/ ক্বিতাল/ দেশান্তর): এক্ষেত্রে বিদ্রোহ করার শাস্তি প্রযোজ্য। আল্লাহ বলেন: إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ - إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ -
"যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট শাস্তি হত্যা কিংবা শূলে চড়ান অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীতভাবে কেটে ফেলা, কিংবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা। এ লাঞ্ছনা ও অপমান হবে এ দুনিয়ায়; কিন্তু পরকালে তাদের জন্যে এটা অপেক্ষাও কঠিনতম আযাব নির্দিষ্ট আছে। কিন্তু যারা তাওবা করবে, তাদের উপর তোমাদের আধিপত্য স্থাপিত হওয়ার পূর্বে। তোমাদের জেনে রাখা দরকার যে, আল্লাহই হচ্ছেন ক্ষমাকারী ও অনুগ্রহশীল।" [সূরা মায়িদা- ৩৩-৩৪ আয়াত]
সুস্পষ্ট হলো মুনাফিকু/ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের উপর মুসলিমদের প্রভাব থাকলেও তারা মুসলিমদের সাথে বিদ্রোহমূলক আচরণ না করলে তাদেরকে স্বয়ং আল্লাহ-ই ছাড় দিয়েছেন। অথচ তাদের আক্বীদা ও আমল কোনটিই আল্লাহ-র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
খ. সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করলে (হত্যা): আল্লাহ বলেন: لَئِنْ لَّمْ يَنْتَهِ الْمُنَافِقُوْنَ وَالَّذِيْنَ فِي قُلُوبِهِمْ مَّرَضٌ وَالْمُرْجِفُوْنَ فِي الْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلَّا قَلِيْلًا - مَّلْعُوْنِيْنَ جِ أَيْنَمَا ثُقِفُوْا أُخِذُوا وَقُتُلُوْا تَقْتِيلاً -
"মুনাফিকুরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা নগরে গুজব রটনা করে, তারা বিরত না হলে আমি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে প্রবল করব। এরপর এ নগরীতে আপনার প্রতিবেশীরূপে তারা অল্প সময়ই থাকবে- অভিশপ্ত হয়ে। তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই ধরা হবে এবং নির্দয়ভাবে হত্যা করা হবে।” [সূরা আহযাব- ৬০-৬১ আয়াত]
গ. সমাজে শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপন করলে (শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ পাবে): পূর্বোক্ত আয়াতে لَئِنْ لَّمْ يَنْتَهُ الْمُنَافِقُوْنَ "মুনাফিকুরা যদি বিরত না হয়" কথাটি রয়েছে। যা থেকে সুস্পষ্ট হয়, তারা অশান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকলে বা না করলে তাদের ব্যাপারে কঠিন হওয়া যাবে না। তাদের সংস্কারের ক্ষেত্রে ফাসেক/ বিদ'আতী প্রমুখের ন্যায় হাত/ মুখ/ অন্তরের জিহাদ পরিস্থিতি অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে। ইবনে কাসির মুনাফিক্বদের শাস্তির বিধান সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষীর ভিন্ন ভিন্ন উদ্ধৃতি দেয়ার পর লিখেছেন: إِنَّهُ لَا مُنَافَاةَ بَيْنَ هَذِهِ الْأَقْوَالِ، لأَنَّهُ تَارَةً يُؤَاخِذُهُمْ بِهَذَا، وَتَارَةً بِهَذَا بِحَسْبِ الْأَحْوَالِ.
"উপরোক্ত (বিভিন্ন) উদ্ধৃতির মধ্যে কোনরূপ বৈপরিত্য নেই। বস্তুত মুনাফিক্বদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবস্থায় পূর্বোক্ত বিভিন্ন পন্থায় জিহাদ করাই বিধেয়।" [তাফসীরে ইবনে কাসির, সূরা তাওবাহ- ৭৩-৭৪ নং আয়াতের তাফসীর দ্রঃ। এই আয়াতটির তাফসীরে মুনাফিকুগণ কর্তৃক নবী -কে হত্যার ষড়যন্ত্র, বিদ্রূপ এবং পরবর্তীতে নবী -এর সামনে তা অস্বীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং নবী'র উপস্থিতিতে যারা তাঁকে হত্যার ও ইসলামকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছে, নবী-কে হাকিম/শাসক/বিচারক হিসাবে গ্রহণ করে নি- তাদের ব্যাপারে ইসলাম ক্ষমতাসীন থাকার মুহূর্তে যখন পূর্বোক্ত বিধানগুলো প্রযোজ্য। তখন মুসলিমদের দুর্বলতার সময় করণীয় বিষয়গুলো খুবই সুস্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে হাকিম/শাসকদের তাকফির করে হত্যা করা ঘোষণা দেয়ার চেয়ে তাসফিয়্যাহ ও তারবিয়্যাহ-ই যে সবচে জরুরি এতে কোন সন্দেহ নেই।

📘 তাফসীর হুকুম বি গয়রি মা আন্ঝা লাল্লাহ > 📄 হাকিম ও হুকুম সম্পর্কীত আয়াতের বিশ্লেষণ

📄 হাকিম ও হুকুম সম্পর্কীত আয়াতের বিশ্লেষণ


যারা ইসলাম অনুযায়ী শাসন পরিচালনা না করার জন্য শাসক বলতেই কাফির বলে ফতোয়া দিচ্ছে তাদের দলিল হলো কুরআনের ঐ সমস্ত আয়াত, যেখানে আল্লাহ তাঁর নিজের ও তাঁর রসূলের হুকুম অমান্যকারীকে 'মু'মিন নয়' বলে সম্বোধন করেছেন। এ বিষয়টি পূর্বে আলোচিত মুনাফিকু ও খারেজীদের আলোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদের ঈমান ও আক্বীদা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কাছে অগ্রহণযোগ্য হলেও, ইসলামী রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না- যতক্ষণ তাদের ইসলামবিরোধি আক্বীদাগুলো আমল হিসাবে বাস্তবরূপ লাভ করে। এখন এ সম্পর্কীত অন্যান্য আয়াতগুলো নবী -এর যামানার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হল।
প্রথম আয়াত: আল্লাহ বলেন:
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
"কিন্তু না, আপনার রবের কুসম! তারা মু'মিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিরোধে আপনাকে হাকিম না বানায়, এরপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে না নেয়।" [সূরা নিসা- ৬৫ আয়াত]
দৃষ্টান্ত: উরওয়া থেকে বর্ণিত; হাররা বা মদীনার কঙ্করময় ভূমিতে একটি পানির নালা নিয়ে যুবায়ের এর সাথে একজন আনসার ঝগড়া করেছিলেন। নবী বললেন: 'হে যুবায়ের! প্রথমত, তুমি তোমার জমিতে পানি দাও, তারপর তুমি প্রতিবেশীর জমিতে পানি ছেড়ে দেবে।' আনসার বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! সে আপনার ফুফাত ভাই, তাই এই ফায়সালা দিলেন। এতে অসন্তুষ্টিবশত রসূল এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন: 'হে যুবায়ের! তুমি পানি চালাবে তারপর আইল পর্যন্ত ফিরে না আসা পর্যন্ত তা আটকে রাখবে তারপর প্রতিবেশীর জমির দিকে ছাড়বে।' আনসারী যখন রসূল ﷺ কে রাগিয়ে তুললেন তখন তিনি তার হক পুরোপুরি যুবায়ের কে প্রদানের স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে প্রথমে নবী এমন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে উদারতা ছিল। فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ : মুয়্যায বলেন: আয়াতটি এ উপলক্ষে নাযিল হয়েছে বলে আমার ধারণা। [সহীহ বুখারী- কিতাবুত তাফসীর।
আলোচ্য আয়াত থেকে প্রমাণিত হলো, নবীকে বিচারক অমান্যকারী আক্বীদাগতভাবে কাফির। কিন্তু নবী কর্তৃক এ ধরণের বিচার অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং পূর্বে মুনাফিকু ও খারেজীদের উদ্ভব সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীতে আমরা প্রমাণ পেয়েছি, নবী তাঁর বিচারের রায় অমান্যকারীকে لَمَّلَهُ أَنْ يَكُونَ يُصَلِّي “সম্ভবত সে সালাত আদায় করে” বাক্যের মাধ্যমে ছাড় দিয়েছেন ও তাদের ভবিষ্যৎ ফিতনার প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার দিকে সাহাবীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থাৎ আক্বীদাগত কুফর যতক্ষণ পর্যন্ত আমলী কুফরে পরিণত হয়ে প্রকাশিত না হয় এবং সমগ্র মুসলিম ও ইসলামের জন্য ফিতনাতে পরিণত না হচ্ছে- ততক্ষণ পর্যন্ত এমন লোকদের ছাড় দিতে নবী নির্দেশ দিয়েছেন।
এই আয়াতটির শানে-নুযূল হিসাবে অপর একটি বর্ণনা হলো, একজন ইয়াহুদী ও মুনাফিকু মুসলিমের সাথে সংঘটিত ঘটনা। যেখানে নবী ইয়াহুদী ব্যক্তিটির পক্ষে রায় দিলে মুনাফিকু মুসলিমটি তা অমান্য করে, শেষাবধি উমার -এর কাছে বিচার পেশ করে। উমার নবী এর ফায়সালা অমান্য করার কথা শুনে মুনাফিকু ব্যক্তিটিকে হত্যা করেন। কিন্তু এই হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম ইবনে কাসির বলেছেন: হাদীসটি গরীব, মুরসাল (সূত্রছিন্ন), তাছাড়া এর অন্যতম রাবী আব্দুল্লাহ ইবনে লাহইয়া (তাফসীরে ইবনে কাসির, সূরা নিসা: ৬৫ নং আয়াত দ্রঃ)। এছাড়া হাদীসটির শেষে বর্ণিত হয়েছে: অতঃপর নবী উমার -কে উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করার দণ্ড হতে মুক্তি দিলেন। তবে পরবর্তীকালে এটা প্রথা হয়ে দাঁড়ানোকে আল্লাহ অপছন্দ করলেন এবং পরবর্তী (নিসা- ৬৬) আয়াতটি নাযিল হল।
তাছাড়া হাদীসটি পূর্বে বর্ণিত খারেজীদের উদ্ভব সংক্রান্ত সহীহ বুখারীর হাদীসটির বিরোধি। সেখানে খালিদ বিন ওয়ালিদ রসূলুল্লাহ -এর কাছে তাঁর বিচার অমান্যকারীকে হত্যা করার অনুমতি চাইলে তিনি তা নিষেধ করেন। সুতরাং হাদীসটি সহীহ হাদীসের বিরোধি হওয়ায় বাতিল। তাছাড়া নিচের সহীহ হাদীসটিও আমাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ বলেন: যখন নবী হুনায়নের গনীমত বন্টন করে দিলেন, তখন আনসারদের এক ব্যক্তি বলে ফেলল, এই বণ্টনের ব্যাপারে তিনি আল্লাহ'র সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখেন নি। কথাটি শুনে আমি নবী-এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে কথাটি জানিয়ে দিলাম। তখন তাঁর চেহারার রঙ পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: رَحْمَةُ الله عَلى مُوسَى لَقَدْ اُوْذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ “আল্লাহ, মূসা -এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সবর করেছিলেন।” [সহীহ বুখারী- কিতাবুল মাগাযী- بَابُ غَزْوَةِ الطَّائِفِ; সহীহ মুসলিম- কিতাবুয যাকাত م بَابُ اعْطَاءِ الْمُوَلَفَةِ قُلُوْهُمْ শব্দগুলো সহীহ বুখারীর।
সুতরাং সবক্ষেত্রে আমলগত কুফর ইসলামী রাষ্ট্রের ঘোষিত চূড়ান্ত মুরতাদ হিসাবে গণ্য হবে না। বরং এখানে كُفَرُ دُونَ كُفْرٍ )চূড়ান্ত কুফরের চেয়ে কম কুফর) নীতি প্রযোজ্য। নবী -এর নিজস্ব এই আমলটিই ইবনে আব্বাস-এর এই তাফসীরের প্রত্যক্ষ সমর্থক।
দ্বিতীয় আয়াতঃ আল্লাহ বলেন: وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا
"আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ের ফায়সালা দিলে কোন মু'মিন পুরুষ কিংবা মু'মিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করে সে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত হয়।” [সূরা আহযাব- ৩৬ আয়াত]
আলোচ্য আয়াতটি যয়নাব বিনতে জাহাশের সঙ্গে যায়দ বিন হারিসের বিয়ে সম্পর্কে নাযিল হয়। প্রথমে যয়নাব এই বিয়েতে রাজী ছিলেন না। তখন আয়াতটি নাযিল হলে তিনি বিয়েতে রাজী হন। (সূরা আহযাবের ৩৬ নং আয়াতের বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থ অবলম্বনে)
عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: خَطَبَ النَّبِيُّ ﷺ زَيْنَبَ وَهِيَ بِنْتُ عَمَّتِهِ وَهُوَ يُرِيدُهَا لِزَيْدٍ فَظَنَّتْ أَنَّهُ يُرِيدُهَا لِنَفْسِهِ فَلَمَّا عَلِمَتْ أَنَّهُ يُرِيدُهَا لِزَيْدٍ أَبَتَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴿وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ ﴾ فَرَضِيتْ وَسَلَّمَتْ رَوَاهُ الطَّبْرَانِيُّ بِأَسَانِيدَ وَرِجَالُ بَعْضُهَا رِجَالُ الصَّحِيح . ص ۲۰۹ (মুজমু'আয়ে যাওয়ায়েদ ৮/২০৮ পৃঃ)
এরপরেও তাদের বিয়ে টিকল না এবং শেষাবধি নবী -এর সাথে যয়নাব বিনতে জাহাশের বিয়ে হয় এবং সে সম্পর্কে পরবর্তী আয়াতটি নাযিল হয়।
আল্লাহ বলেন:
وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكَ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا
"স্মরণ করুন! আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আপনি তাকে বলেছিলেন যে, 'তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর।' আপনি মনে মনে যা গোপন করেছেন আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিয়েছেন। আপনি লোক ভয় করছিলেন অথচ আল্লাহকেই ভয় করা আপনার পক্ষে অধিকতর সঙ্গত। এরপর যায়দ যখন তার স্ত্রী (যয়নাব)'র সাথে বিয়ে ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিয়ে দিলাম। যাতে মু'মিনদের পালকপুত্রদের নিজ স্ত্রীদের সাথে বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে সব নারীকে বিয়ে করায় মু'মিনদের কোন বিঘ্ন না হয়। আল্লাহর আদেশ কার্যকর হয়েই থাকে।" [সূরা আহযাব- ৩৭ আয়াত]
মূলত আয়াতটি দাবি হল:
النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ "নবী মু'মিনদের কাছে তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর।" [সূরা আহযাব: ৬ আয়াত]
অথচ মুনাফিকুগণ কখনই এই দাবি পূরণ করে না। তারপরেও রাষ্ট্রে বা সমাজে ফিতনা বিস্তার না করা পর্যন্ত তাদেরকে ছাড় দেয়া হয়েছে। অনুরূপ খারেজীদের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য।
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসের বর্ণিত শানে নুযূল আক্বীদাগত কুফরের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে পূর্ববর্তী আলোচনাতে প্রমাণিত হয়েছে, নবী-এর যামানাতে কেবল সামগ্রিকভাবে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধি ফিতনাবাজদের বিরুদ্ধেই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ এসেছে। ব্যক্তি পর্যায়ে রসূল তাদের ব্যাপারে সবরের নীতি অবলম্বন করেছিলেন। আবু বকরের যুগে যারা বিদ্রোহ করেছিল তা গোটা উম্মাতের বিরুদ্ধে ছিল। তা-ই তিনি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন। উসমান-এর বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ করেছিল তাদেরকে তিনি গোটা উম্মাতের সাথে গণ্য না করে কেবল নিজের সাথেই সংশ্লিষ্ট করেন। ফলে তিনি আদম-এর নেককার পুত্র, মূসা ও নবী-এর ন্যায় সবরের নীতি অনুসরণ করেন। তিনি মুসলিমদের মধ্যে রক্তপাত ঘটানোর পরিবর্তে নিজের মযলুম অবস্থায় শহীদ হওয়াকে বেছে নেন।
এ সম্পর্কে আরো যেসব আয়াত দলিল হিসাবে উল্লেখ করা হয়, তার সবই ‘ইবাদত ও আক্বীদাগত কুফরের সাথে সংশ্লিষ্ট।” যার জবাব পূর্বের ন্যায়। নবী কর্তৃক তাঁর যামানার আমল ও উম্মাতের প্রতি তার নির্দেশ থেকে বিষয়টি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট।
দ্রষ্টব্য: পরিশিষ্টাংশ- ২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00