📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 হিশাম ইবন ‘উরওয়া (রহ)

📄 হিশাম ইবন ‘উরওয়া (রহ)


হযরত আবূ 'আবদিল্লাহ হিশাম ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী হযরত যুবায়র ইবন আল-'আওয়ামের (রা) পৌত্র। তাঁর পিতা হযরত 'উরওয়া (রহ) একজন অতি উঁচু স্তরের তাবি'ঈ এবং মদীনার বিখ্যাত সাতজন ফকীহর অন্যতম। তাঁর ডাকনাম ছিল আবূ 'আবদিল্লাহ, মতান্তরে আবূ আল-মুনযির।

'আবদুল্লাহ ইবন দাউদ আল-খুরায়বী বলেন: তালহা ইবন ইয়াহইয়া, আল-আ'মাশ, হিশাম ইবন 'উরওয়া ও 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁরা সকলে হুসাইন ইবন 'আলীর (রা) শাহাদাতের বছরে জন্মগ্রহণ করেন। আবূ হাম্স বলেন: হুসাইন (রা) শহীদ হন হিজরী ৬১ সনে।

হযরত হিশাম (রহ) শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের মধ্যে হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমারকে (রা) দেখেছিলেন। তিনি বলেছেন, একবার আমার ভাই মুহাম্মাদ ও আমাকে 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমারের (রা) নিকট পাঠানো হয়। তিনি আমাদেরকে কোলে বসিয়ে চুমু দিয়েছিলেন। সম্ভবতঃ এই সাক্ষাতে অথবা অন্য কোন সাক্ষাতে ইবন 'উমার (রা) তাঁর মাথার উপর হাত বুলিয়ে দু'আ করেছিলেন। তাছাড়া তিনি আনাস ইবন মালিক, জাবির ইবন 'আবদিল্লাহ ও সাহল ইবন সা'দের (রা) দর্শনও লাভ করেন।

জ্ঞান ও মনীষা
হিশাম (রহ) যেমন একজন অতি উঁচু স্তরের তাবি'ঈর পুত্র, তেমনি একজন অতি উঁচু স্তরের মহান সাহাবীর পৌত্রও ছিলেন। এজন্য বলা চলে উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর মধ্যে 'ইল্ম ও 'আমল তথা জ্ঞান ও কর্মের সমাবেশ ঘটেছিল। তাঁকে তাঁর সময়ের 'আলিম তাবি'ঈদের মধ্যে গণ্য করা হতো। ইমাম নাওবী (রহ) লিখেছেন, তাঁর বিশ্বস্ততা, মহত্ত্ব ও ইমামত বা ইমাম হওয়ার ব্যাপারে সকলের ঐকমত্য আছে।

হাদীছ
হাদীছের একজন বিশিষ্ট হাফিজ ছিলেন। ইবন সা'দ তাঁকে নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও বহু হাদীছের ধারক-বাহক বলেছেন। তিনি হুজ্জাত (প্রমাণ) ও ছিলেন।
ইমাম যাহাবী (রহ) তাঁকে ইমাম, হাফিজ ও হুজ্জাত বলেছেন। শ্রেষ্ঠ হাদীছ বিশারদগণ তাঁর ব্যাপক জ্ঞানের কথা স্বীকার করেছেন। আবূ হাতিম আর-রাযী তাঁকে হাদীছের ইমাম বলতেন এবং উহায়ব, হাসান আল-বাসরী ও ইবন সীরীনের (রহ) সমমর্যাদা দান করতেন। 'উছমান আদ-দারিমী একবার ইবন মা'ঈন জিজ্ঞেস করেন : হিশাম আপনার বেশি প্রিয় না যুহরী? তিনি বলেন : তাঁরা দু'জনই আমার প্রিয়। তিনি কাউকে প্রাধান্য দেননি।

তাঁর শায়খ বা শিক্ষকগণ
সাহাবীদের মধ্যে তিনি কেবল স্বীয় চাচা হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন যুবায়রের (রা) নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তাছাড়া তৎকালীন অন্য 'আলিমদের মধ্যে 'আবদুল্লাহ ইবন 'উরওয়া, 'আবাদ ইবন 'আবদিল্লাহ, 'আমর ইবন খুযায়মা, 'আওফ ইবন হারিছ ইবন তুফায়ল, আবূ সালামা ইবন 'আবদির রহমান, ইবন মুনকাদির, ওয়াহাব ইবন কায়সান, সালিহ ইবন আবিস সালিহ আস-সাম্মান, 'আবদুল্লাহ ইবন আবী বাকর, 'আবদুর রহমান ইবন সা'দ, মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম (রহ) প্রমুখের নিকট থেকেও হাদীছ শোনেন ও তাঁদের সূত্রে বর্ণনা করেন।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতিমান কয়েকজন হলেন : ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল- আনসারী, আইউব আস-সাখতিয়ানী, মালিক ইবন আনাস, 'উবায়দুল্লাহ ইবন 'উমার, ইবন জুরায়জ, সুফইয়ান আছ-ছাওরী, লায়ছ ইবন সা'দ, সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-কাত্তান, ওয়াকী' ইবন আল-জাররাহ, আবান ইবন ইয়াযীদ আল-'আত্তার, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক, ইউনুস ইবন বুকাইর (রহ) প্রমুখ।

তাঁর মুহতারাম পিতা হযরত 'উরওয়া (রহ) ছিলেন মদীনার বিখ্যাত সাত ফকীর অন্যতম। পিতার এ শাস্ত্রের জ্ঞানের একটা বিরাট অংশ তিনি লাভ করেন। ইমাম যাহাবী (রহ) তাঁকে ফকীহ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি যেমন ছিলেন অগাধ জ্ঞানের অধিকারী তেমনি ছিলেন 'আমল-আখলাকে উৎকর্ষমণ্ডিত। ইবন হিব্বান তাঁকে একজন বিদ্বান ও খোদাভীরু বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি অত্যন্ত অমায়িক ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। মুখ থেকে কখনো কোন অহেতুক কথা বের হতো না। মুনযির ইবন 'আবদিল্লাহ বলেন, আমি হিশামের মুখ থেকে মাত্র একবার ছাড়া আর কখনো কোন খারাপ কথা শুনিনি। অত্যন্ত উদার ও দানশীল ছিলেন। দানশীলতা এত সীমা ছেড়ে যায় যে, এক লাখ দিরহাম ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

বাগদাদ সফর
বিরাট অংকের ঋণ পরিশোধের দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। তাই তিনি এর একটা উপায় বের করার জন্য বাগদাদে আব্বাসীয় খলীফা আবূ জা'ফার আল-মানসূরের নিকট যান। তিনি হৃষ্টচিত্তে স্বাগতম জানান। আলাপ-আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি তাঁর ঋণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। খলীফা জানতে চান ঋণের পরিমাণ কত? বললেন: এক লাখ দিরহাম। মানসূর বললেন, আপনি এত বড় বিদ্বান, সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি হয়ে এত মোটা অংকের ঋণ গ্রহণ করেন কেন, যা পরিশোধ করা আপনার সাধ্যের বাইরে? তিনি বললেন আমার বংশের অনেক ছেলে যুবক হয়েছে। শঙ্কিত হলাম এই ভেবে যে, যদি তাদের বিয়ে না দেয়া হয় তাহলে খারাপ পথে চলে যেতে পারে। তাই আমি আল্লাহ ও আমীরুল মু'মিনীনের উপর ভরসা করে তাদের বিয়ে দিলাম এবং তাদের পক্ষ থেকে ওলীমাও করলাম। এসব ঋণ সেই কারণে। আবূ জা'ফার মানসূর বিস্ময়ের সুরে দু'বার উচ্চারণ করেন: এক লাখ! এক লাখ! তারপর তিনি হিশামকে দশ হাজার দিরহাম দানের নির্দেশ দেন। হিশাম বললেন: আমীরুল মু'মিনীন যা কিছু দিচ্ছেন তা কি সন্তুষ্টচিত্তে নাকি একান্ত বাধ্য হয়ে? আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সা) বলতেন: যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে যা কিছু দেয়, তাহলে তাতে দানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি হয়। আল-মানসূর বললেন সন্তুষ্টচিত্তে দিচ্ছি।

ওফাত
হিজরী ১৪৬ অথবা ১৪৭ সনে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাক্রমে সেই দিন 'আব্বাসীয় খলীফা আল-মানসূরের একজন অতি সম্মানিত ও খ্যাতিমান দাসের মৃত্যু হয়। এ কারণে দু'জনের জানাযা একই সাথে হয়। তবে মানূসর হিশামের মর্যাদার কারণে তাঁর জানাযার নামায প্রথমে পড়ান। তারপর সেই দাসের নামায পড়ান। হিশামের জানাযায় চার তাকবীর এবং দাসের জানাযায় পাঁচ তাকবীর উচ্চারণ করেন। তারপর বলেন, তাঁদের প্রত্যেকে তাকবীরের ব্যাপারে যে যে মত পোষণ করতেন সেই মত অনুযায়ী তাদের জানাযার নামায আদায় করেছি। খলীফা হারুন আর-রশীদের মা খায়যুবানের নামে প্রতিষ্ঠিত কবরস্তানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তবে ইমাম যাহাবী ৮০ বছরের কথা বলেছেন।

টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-১৯/২৬৬, ২৭০
২. খাতীব আল-বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ-১৪/৩৮
৩. তাহযীব আত-তাহযীব-১১/৪৮
৪. তাহযীব আল-কামাল-১৯/২৬৬
৫. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৩৮
৬. আত-তাবাকাত-৭/৬৭
৭. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৪৪
৮. তাহযীব আত-তাহযীব-১১/৪৮; তাহযীব আল-কামাল-১৯/২৬৬
৯. প্রাগুক্ত
১০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৪৪
১১. তাহযীব আত-তাহযীব-১১/৪৯
১২. তারীখু বাগদাদ-১৪/৩৮
১৩. প্রাগুক্ত-১৪/৩৯
১৪. প্রাগুক্ত-১৪/৪১; আত-তাবাকাত-৭/২৯; তাবি'ঈন-৫০৭-৫০৯
১৫. তাহযীব আল-কামাল-১৯/২৭০

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 আবূ বাকর ইবন ‘আবদির রহমান (রা)

📄 আবূ বাকর ইবন ‘আবদির রহমান (রা)


ডাকনাম আবূ বাকর- এ নামে তিনি এত প্রসিদ্ধি অর্জন করেন যে, আসল নামটি ঢেকে যায়। তাই অনেকে ধারণা করেছেন তাঁর আসল নাম আবূ বাকর। তবে তাঁর আসল নাম মুহাম্মাদ। ইমাম যাহাবী (রহ) তাঁর ডাকনামটি আসল নাম হওয়ার ব্যাপারে যে কথাটি আছে তাই সর্বাধিক সঠিক বলেছেন। তিনি কুরায়শ বংশের মাখযূমী শাখার সন্তান। তাঁর ঊর্ধ্বতন বংশধারা এ রকম: আবূ বাকর ইবন 'আবদির রহমান ইবন আল-হারিছ ইবন হিশাম ইবন আল-মুগীরা আল-কুরাশী আল-মাখযুমী। তাঁর মায়ের নাম ফাস্তা। মাতৃকূলের ঊর্ধ্বতন বংশধারা নিম্নরূপ: ফাস্তা বিন্ত 'উতবা ইবন সুহায়ল ইবন 'আমর ইবন 'আবদি শাম্স। হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) খিলাফতের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেন। উটের যুদ্ধের সময় বয়স কম হওয়ায় তালহা ও যুবায়রের (রা) বাহিনী থেকে তাঁকে ও 'উরওয়াকে বাদ দেয়া হয়।

জ্ঞান ও মনীষা
তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। মদীনা ছিল তখন জ্ঞান চর্চা ও 'আলিম-'উলামার নগরী। তাঁর মধ্যে জ্ঞান অর্জনের প্রতি দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। এ কারণে অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধৈর্যের সাথে জ্ঞান অর্জন করেন এবং মদীনার বিখ্যাত 'আলিমগণের মধ্যে পরিগণিত হন। ইবন সা'দ বলেন:
"তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য, ফকীহ্, বহু হাদীছের ধারক-বাহক 'আলিম, বুদ্ধিদীপ্ত, উঁচু মর্যাদার অধিকারী ও দানশীল মানুষ।" ইবন খিরাশ তাঁকে 'আলিমদের ইমাম বলে গণ্য করতেন।

হাদীছ
তিনি হাদীছের একজন বড় হাফিজ ছিলেন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন:
“তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য, হুজ্জাত (প্রমাণ), ফকীহ, ইমাম, বহু হাদীছ বর্ণনাকারী ও দানশীল ব্যক্তি।”
একথা আল-ওয়াকিদীও বলেছেন। সাহাবীদের মধ্যে তাঁর পিতা 'আবদুর রহমান, আবৃ হুরায়রা, 'আম্মার ইবন ইয়াসির, আবু মাস'উদ আল-বাদরী, 'আবদুর রহমান ইবন মুতী', উম্মুল মু'মিনীন হযরত 'আয়িশা সিদ্দীকা, 'উম্মু সালামা (রা) প্রমুখের নিকট থেকে হাদীছ শোনেন এবং তাঁদের সূত্রে বর্ণনা করেন।

তাঁর নিকট থেকে যাঁরা হাদীছের জ্ঞান লাভ করেছেন এবং তাঁর সূত্রে বর্ণনাও করেছেন তাঁদের মধ্যে তাঁর পুত্রগণ যথা: 'আবদুল মালিক, 'উমার, আবদুল্লাহ, সালাম; ভাতিজা আল-কাসিম ইবন মুহাম্মাদ এবং অন্যদের মধ্যে ইমাম যুহরী, 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয, হাকাম ইবন 'উতবা, 'আবদুল ওয়াহিদ ইবন আয়মান (রহ) প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

ফিক্হ
ফিক্হ বিষয়েও তাঁর স্থান ছিল অতি উঁচুতে। তিনি মদীনার বিখ্যাত সাতজন ফকীহ্ মধ্যে ছিলেন। আবুয যানাদ বলতেন, মদীনার যে সকল ফকীহ্ ও 'আলিমের মতের ভিত্তিতে বিভিন্ন মাসয়ালার সমাধান দেয়া হতো তাঁরা ছিলেন ছয়জন। তাঁদের একজন আবূ বাকর ইবন 'আবদির রহমান।

'ইবাদত-বন্দেগী
তাঁর মধ্যে তাকওয়া-পরহেযগারী এবং পার্থিব সুখ-ঐশ্বর্যের প্রতি একটা নির্লিপ্ত ভাব অত্যন্ত গভীরভাবে ছিল। মদীনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ 'আবিদ ব্যক্তিগণের অন্যতম ছিলেন। দুনিয়া বিরাগী মনোভাব এবং অতিরিক্ত সালাতে নিমগ্ন থাকার কারণে মানুষ তাঁকে "রাহিবু কুরায়শ” (কুরায়শ বংশের সাধু ব্যক্তি) উপাধি দেয়। ইমাম যাহাবী বলেন:
"তিনি ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ, 'আবিদ ও আল্লাহওয়ালা মানুষ।” তিনি একাধারে কয়েক দিন সাওম পালন করতেন। তাঁর ভাই 'আমর ইবন 'আবদির রহমান বলেন, তিনি সাওমের পর সাওম অর্থাৎ ক্রমাগত পালন করতেন। মাঝে রোযা ভাংতেন না।

বিশ্বস্ততা বা আমনতদারী
আমানতদারী ছিল তাঁর চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ বিষয়ের প্রতি তিনি এত গুরুত্ব দিতেন যে, কেউ তাঁর নিকট কোন কিছু গচ্ছিত রাখলে এবং তাঁর কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেলে মালিক তা মাফ করে দিলেও তিনি ক্ষতিপূরণসহ পুরো আমানত ফেরত দিতেন। 'উছমান ইবন মুহাম্মাদ বলেন, হযরত 'উরওয়া (রহ) আবূ বাকরের নিকট কিছু সম্পদ আমানত রাখেন। সেই সম্পদের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায়। 'উরওয়া বলে পাঠলেন, এ ব্যাপারে তোমার কোন দায়িত্ব নেই, তুমি তো একজন আমানতদার মাত্র। আবূ বাকর জবাব দিলেন, আমি জানি যে, আমার উপর কোন ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নেই। তবে এ আমার মনোপুতঃ নয় যে কুরায়শদের মধ্যে তোমার মুখ থেকে একথা বের হোক যে, আমার আমানত নষ্ট হয়ে গেছে। মোটকথা 'উরওয়ার কথা তিনি মানেননি এবং নিজের সম্পদ বিক্রি করে তাঁর আমানত প্রত্যার্পণ করেন।

তাঁর চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল দানশীলতা। অল্পতে তুষ্ট থাকতেন। ইবন সা'দ বলেন : ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ হলে তুষ্ট হয়ে যেতেন।

বানু উমাইয়্যাদের নিকট তাঁর স্থান ও মর্যাদা
বানু উমাইয়্যা খলীফাগণ তাঁকে এত সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতেন যে, তাঁর কারণে মদীনার অধিবাসীগণ উমাইয়্যাদের বাড়াবাড়ির হাত থেকে নিরাপদ হয়ে যায়। খলীফা 'আবদুল মালিক বিশেষভাবে তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। তিনি বলতেন, বানু উমাইয়্যাদের সাথে মদীনাবাসীদের আচরণের কারণে তাদের প্রতি কঠোর হওয়ার ইচ্ছা করি, কিন্তু যখন আবূ বাকর ইবন 'আবদির রহমানের কথা স্মরণ হয় তখন লজ্জিত হই এবং আমার ইচ্ছা ত্যাগ করি। 'আবদুল মালিক তাঁর উত্তরাধিকারী ওয়ালীদ ও সুলায়মানকেও আবূ বাকরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অসীয়াত করে যান।

ওফাত
একদিন 'আসর নামায আদায়ের পর গোসলখানায় যান এবং সেখানে পড়ে যান। সাথে সাথে তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয় : 'আল্লাহর কসম! আমি আজ দিনের শুরুতে কোন নতুন কথা বলিনি।' সেই দিন সূর্যাস্তের পূর্বে ইনতিকাল করেন। ইবন সা'দ বলেন: "তিনি হিজরী ৯৪ সনে, যেটাকে ফকীহদের বছর বলা হয়, মদীনায় মারা যান।

টিকাঃ
১. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬৩
২. প্রাগুক্ত
৩. আত-তাবাকাত-৬/১৫৩
৪. প্রাগুক্ত
৫. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৯৫
৬. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৬৩
৭. প্রাগুক্ত; তাহযীব আত-তাহযীব-১২/৩০
৮. ই'লাম আল-মুওয়াক্কি'ঈন-১/২৪; তাবি'ঈন-৫২৮
৯. তাহযীব আত-তাহযীব-১২/৩১
১০. আত-তাবাকাত-৬/১৫৩
১১. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৬৪
১২. তাহযীব আত-তাহযীব-১২/৩১
১৩. আত-তাবাকাত-৬/১৫৪
১৪. প্রাগুক্ত; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৬৪
১৫. আত-তাবাকাত-৬/১৫৪
১৬. প্রাগুক্ত; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৬৪

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 গ্রন্থপঞ্জী

📄 গ্রন্থপঞ্জী


১. আল-কুরআনুল কারীম (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২. আল-ইমাম আয-যাহাবী
৩. (ক) সিয়ারু আ'লাম আল-নুবালা' (বৈরূত: আল-মুওয়াস্ সাসাতুর রিসালা, সংস্করণ-৭, ১৯৯০) (খ) তাযকিরাতুল হুফফাজ (বৈরূত: দারু ইয়াহইয়া আত-তুরাছ আল-ইসলামী) (গ) তারীখ আল-ইসলাম ওয়া তাবাকাত আল-মাশাহীর ওয়াল আ'লাম (কায়রো: মাকতাবা আল-কুদসী, ১৩৬৭ হি.)
৪. ইবনুল 'ইমাদ আল-হাম্বলী, শাযারাত আয-যাহাব (বৈরূত: আল-মাকতাব আত-তিজারী)
৫. ইবনুল জাওযী, সিফাতুল সাফওয়া (হায়দ্রাবাদ: দারিয়াতুল মা'আরিফ, ১৩৫৭ হি.)
৬. ইবন সা'দ, আত-তাবাকাত আল-কুবরা (বৈরূত: দারু সাদির)
৭. ইবন 'আসাকির, আত-তারীখ অল-কাবীর, (শাম : মাতবা'আতুশ শাম, ১৩২৯ হি.)
৮. ইয়াকৃত আল-হামাবী, মু'জাম আল-বুলদান (বৈরূত: দারু ইয়াহইয়া আত-তুরাছ আল-'আরাবী)
৯. ইবন হাযাম, জামহারাতু আনসাব আল-'আরাব (মক্কা: দারু আল-মা'আরিফ, ১৯৬২)
১০. ইবন খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আ'য়ান (মিসর: মাকতাবা আন-নাহদা আল-মিসরিয়্যা, ১৯৪৮)
১১. আল-বালাযুরী: (ক) আনসাব আল-আশরাফ (মিসর: দার আল-মা'আরিফ) (খ) ফুতূহ আল-বুলদান (মিসর: মাতবা'আ আল-মাওসূ'আত, ১৯০১)
১২. আয-যিরিক্লী, আল-আ'লাম (বৈরূত: দারুল 'ইলম লিল মালাঈন, সংস্করণ-৪, ১৯৭৯)
১৩. ইবন হিশাম, আস-সীরাহ্ আন-নাবাবিয়্যা (বৈরূত)
১৪. ইবন সাল্লাম আল-জাহমী, তাবাকাত ফুহুল আশ-শু'আরা' (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-'ইলমিয়্যা, ১৯৮০)
১৫. ইবন কুতায়বা, আশ-শি'রু ওয়াশ শু'আরাউ (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, সংস্করণ-১, ১৯৮১)
১৬. আল-জাহিজ: (ক) আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন (বৈরূত: দারুল ফিক্) (খ) কিতাব আল-হায়ওয়ান
১৭. ইবন কায়্যিম আল-জাওযিয়‍্যা, আত-তুরুক আল-হিকামিয়্যা ফী আস-সিয়াসা (কায়রো: দারুল হাদীছ, সংস্করণ-১, ২০০৩)
১৮. ইমাম আন-নাওয়াবী, তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-'ইলমিয়্যা)
১৯. ইবন হাজার, তাকরীব আত-তাহযীব (বৈরূত: দারুল মা'রিফা)
২০. ইবন 'আবদি রাব্বিহি আল-আন্দালুসী, আল-ইকদ আল-ফারীদ (কায়রো: মাতবা'আতু লুজনা আত-তা'লীফ ওয়াত তারজমা, সংস্করণ-৩, ১৯৬৯)
২১. আল-মাস'উদী, মুরূজ আয-যাহাব (বৈরূত: দারুল মা'রিফা)
২২. ইবনুল আহীর, আল-কামিল ফিত তারীখ (বৈরূত: দারু সাদির, ১৯৮৬)
২৩. ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (বৈরূত: মাকতাবাহ্ আল-মা'আরিফ; দারুল কুতুব আল-'ইলমিয়্যা, ১৯৮৩)
২৪. জামাল উদ্দীন ইউসুফ আল-মিযী, তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল (বৈরূত: দারুল ফিক্স, ১৯৯৪)
২৫. ড. 'আবদুর রহমান আল-বাশা, সাওয়ারুন মিন হায়াত আত-তাবি'ঈন (কায়রো: দারুল আদাব আল-ইসলামী)
২৬. মুহাম্মাদ আল-খাদারী বেক, তারীখ আল-উমাম আল-ইসলামিয়্যা (মিসর: আল-মাকতাবা আত- তিজারিয়‍্যা আল কুবরা, ১৯৬৯)
২৭. মু'ঈন উদ্দীন নাদবী, তাবি'ঈন (ভারত: মাতবা'আ মা'আরিফ, ১৯৬৫)
২৮. 'আবদুল মুন'ইম আল-হাশিমী, 'আসরুত তাবি'ঈন (বৈরূত: দারু ইবন কাছীর, সংস্করণ-৩, ২০০০)
২৯. ড. 'উমার ফাররূখ, তারীখ আল-আদাব আল-'আরাবী (বৈরূত: দারুল 'ইলম লিল মালাঈন, ১৯৮৫)
৩০. আন-নাওবাস্তী, আবূ মুহাম্মাদ আল-হাসান, কিতাবু ফিরাক আশ-শী'আ (ইস্তাম্বুল, ১৯৩১)
৩১. আল-বুখারী, আত-তারীখ আল-কাবীর (আল-াকতাবা আশ-শামিলা)
৩২. ড. জাওয়াদ 'আলী, আল-মুফাস্সাল ফী তারীখ আল-'আরাব কাবলাল ইসলাম (বৈরূত: দারুল 'ইলম লিল মালায়ান)
৩৩. ইবন নাদীম, আল-ফিরিস্ত (তাব'আ মিসর)
৩৪. ইবনুল কায়ি‍্যম আল-জাওযিয়‍্যা, ই'লাম আল-মুওয়াক্কি'ঈন, (কায়রো: দারুল হাদীছ, ২০০৪)
৩৫. আদ-দায়নাওয়ারী, আল-আখবার আত-তিওয়াল
৩৬. ইবন কাছীর, আস-সীরাহ্ আন-নাবাবিয়‍্যাহ্ (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-'ইলমিয়্যা)
৩৭. ড. হাসান ইবরাহীম, তারীখ আল-ইসলাম (বৈরূত: দারুল আন্দালুস, সংস্করণ-৭, ১৯৬৪)
৩৮. শাহাস্তানী, কিতাব আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১৩১৭ হি.)
৩৯. ইবন হাজার: (ক) তাহযীব আত-তাহযীব (হায়দ্রাবাদ: দায়িরাতুল মা'আরিফ, ১৩২৫ হি.) (খ) মীযান আল-ই'তিদাল (হায়দ্রাবাদ: ১৩৩১ হি.)
৪০. খতীব আল-বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ (বৈরূত)
৪১. জুরজী যায়দান, তারীখ আত-তামাদ্দুন আল-ইসলামী, (বৈরূত : দারু মাকতাবাতিল হায়াত, ১৯৬৭)
৪২. ড. মাহমুদ, আল-হাসান, আরবূ মে তারীখ নিগারী কি নাশূ ও নামা (জার্নাল: ইসলাম আওর 'আসরে জাদীদ, খণ্ড-১, ১৯৬৯)
৪৩. আবূ নু'আইম আল-ইসফাহানী, হিলয়াতুল আওলিয়া (বৈরূত: দার আল-কিতাব আল-'আরাবী, সংস্করণ-২, ১৯৬৭)
৪৪. আল-ওয়াকিদী, আল-মাগাযী (বৈরূত: 'আলাম আল-কুতুব)
৪৫. ড. মুহাম্মাদ আবদুল মাবুদ, তাবি'ঈদের জীবনকথা (ঢাকা: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, সংস্করণ-১, খণ্ড-১, ২০০২)
৪৬. দায়িরা-ই মা'আরিফ-ই-ইসলামিয়া (লাহোর)
৪৭. ইসলামী বিশ্বকোষ (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৮. ইবন কাছীর, মুখতাসার তাফসীরু ইবন কাছীর (বৈরূত: দারুল কুরআন আল-কারীম, ১৯৮১)
৪৯. ইবন মানজুর, লিসান আল-'আরাব (বৈরূত: দারু লিসান আল-'আরাব, ১৯৭০)

ফন্ট সাইজ
15px
17px