📄 আবূ ইদরীস আল-খাওলানী (রহ)
হযরত আবূ ইদরীসের (রহ) আসল নাম 'আয়িযুল্লাহ, আবূ ইদরীস তাঁর ডাকনাম এবং এ নামেই তিনি প্রসিদ্ধ। পিতার নাম 'আবদুল্লাহ। তাঁর বংশধারা সম্পর্কে দু'রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি এ রকম: 'আয়িযুল্লাহ ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'আমর এবং অন্যটিতে নাম 'আবদুল্লাহ বলা হয়েছে। সেটা হলো: 'আবদুল্লাহ ইবন ইদরীস ইবন 'আয়িয ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন গায়লান আল-খাওলানী। হযরত রাসূলে কারীমের (সা) জীবদ্দশায় হিজরী অষ্টম সনে হুনায়ন যুদ্ধের বছর তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।
জ্ঞান ও মনীষা
তিনি একজন 'ইলম ও 'আমলের অধিকারী তাবি'ঈ ছিলেন। শামের বিশিষ্ট 'আলিমদের মধ্যে গণ্য ছিলেন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন: আবূ ইদরীস আল-খাওলানী আদ-দিমাক্বী ছিলেন শামের একজন 'আলিম, ফকীহ এবং যাঁদের মধ্যে 'ইল্ম ও 'আমলের সমন্বয় ঘটেছিল তাঁদের একজন।
বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবুদ দারদা' (রা) যিনি শামে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর আবূ ইদরীস (রহ) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ইউসুফ আল-মিযী তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন: ‘তিনি ছিলেন শামের 'আলিম, 'আবিদ ও কারীদের একজন।
হাদীছ
হযরত আবূ ইদরীস (রহ) উঁচু স্তরের বহু সাহাবীর (রা) নিকট থেকে হাদীছ শোনেন এবং তাঁদের সূত্রে বর্ণনা করেন। যেমন: হযরত 'উমার, আবুদ দারদা', মু'আয ইবন জাবাল, আবূ যার আল-গিফারী, বিলাল, ছাওবান, হুযায়ফা ইবন আল-ইয়ামান, 'উবাদা ইবন আস-সামিত, 'আওফ ইবন মালিক, মুগীরা ইবন শু'বা, মু'আবিয়া ইবন আবী সুফইয়ান, আবূ হুরায়রা, আবূ সা'ঈদ আল-খুদরী (রা) ও আরো অনেকে। ইমাম যাহাবী (রহ) হাদীছের শ্রেষ্ঠ হাফিজদের জীবনীর মধ্যে তাঁর জীবনী সন্নিবেশ করেছেন।
তাঁর থেকে যাঁরা হাদীছ শুনেছেন এবং তাঁর সূত্রে বর্ণনাও করেছেন তাঁদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। এখানে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম উপস্থাপন করা হলো: ইমাম যুহরী, রাবী'আ ইবন ইয়াযীদ, বুস্ত্র ইবন 'উবায়দিল্লাহ, 'আবদুল্লাহ ইবন রাবী'আ ইবন ইয়াযীদ, কাসিম ইবন মুহাম্মাদ, ওয়ালীদ ইবন 'আবদির রহমান, ইউনুস ইবন মায়সারী, আবূ 'আওন আল-আনসারী, ইউনুস ইবন সায়ফ, মাকহুল, শাহ্ ইবন হাওশাব, সালামা ইবন দীনার (রহ) ও আরো অনেকে। তিনি ছিলেন শামের বিখ্যাত ফকীহ। ইমাম যুহরী (রহ) বলেন: ‘আবু ইদরীস ছিলেন শামের ফকীহদের মধ্যে অন্যতম।’ ইমাম আত-তাবারী (রহ) শামের ঐ সকল 'আলিমের সাথে আবূ ইদরীসের জীবনী আলোচনা করেছেন যাঁরা কিস্সা-কাহিনী ও হালাল-হারামের বিধান সম্পর্কে জ্ঞানী ছিলেন।
কাজী ও উপদেশ দানের দায়িত্ব পালন
ফিক্হ বিষয়ে তাঁর যোগ্যতার বড় সনদ এই যে, খলীফা 'আবদুল মালিকের সময়ে তিনি দিমাশকের কাজীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিচার-ফায়সালার পাশাপাশি মানুষকে ওয়াজ-নসীহতের মহান দায়িত্বও পালন করতেন। পরে 'আবদুল মালিক ওয়াজ-নসীহতের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেন। তবে কাজীর পদে বহাল রাখেন। বিচার কাজের চেয়ে ওয়াজ-নসীহতের কাজটি তাঁর বেশি প্রিয় ছিল। এ কারণে তিনি বলতেন: ‘তারা আমার প্রিয় কাজটি থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং যে কাজ করতে আমি ভয় করি সেই কাজে আমাকে বহাল রেখেছে।’ তাঁর সমকালীন 'আলিমগণ তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি দিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শামের সবচেয়ে বড় 'আলিম মাকহুল (রহ) বলতেন: ‘আমি আবূ ইদরীসের চেয়ে বড় 'আলিম আর কেউ আছে বলে জানিনে।’ আবূ যুর'আ দিমাশকী তাঁকে শামের 'আলিম জুবায়র ইবন নুফাইরের উপর প্রাধান্য দিতেন। তিনি বলতেন: ‘রাসূলুল্লাহর (সা) শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের সাথে সাক্ষাতের দিক দিয়ে শামবাসীদের মধ্যে উত্তম হলেন জুবায়র ইবন নুফাইর, আবূ ইদরীস ও কাছীর ইবন মুররা।' একবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, এই তিনজনের মধ্যে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য কে? বললেন: আবু ইদরীস আল-খাওলানী।
ইমাম আন-নাসাঈ তাঁকে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইয়াহইয়া মা'ঈন, আল-কাসিম ইবন সাল্লাম ও খলীফা ইবন খায়্যাত বলেছেন: হিজরী ৮০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।
টিকাঃ
১. তাহযীব আত-তাহযীব-৫/৭৫; আত-তাবাকাত-৭/১৫৮
২. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৫৬
৩. প্রাগুক্ত-১/৫৭
৪. তাহযীব আল-কামাল-৯/৩৮৪
৫. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৫৭
৬. তাহযীব আত-তাহযীব-৫/৮৫; তাহযীব আল-কামাল-৯/৩৮৩
৭. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৫৭
৮. তাহযীব আত-তাহযীব-৫/৮৭
৯. তাহযীব আল-কামাল-৯/৩৮৫
১০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৫৭
১১. প্রাগুক্ত
১২. তাহযীব আত-তাহযীব-৫/৮৫; তাহযীব আল-কামাল-৯/৩৮৫
১৩. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৫৭
১৪. তাহযীব আল-কামাল-৯/৩৮৭
📄 আবূ কিলাবা জারমী (রহ)
হযরত 'আবদুল্লাহর (রহ) ডাকনাম আবূ কিলাবা এবং এ নামেই তিনি ইতিহাসে প্রসিদ্ধ। বসরার অধিবাসী ছিলেন। তাঁর বংশধারা এ রকম : 'আবদুল্লাহ ইবন যায়দ ইবন 'উমার ইবন নাতিল ইবন মালিক ইবন 'উবায়দ ইবন 'আলকামা ইবন সা'দ আল-জারমী।
জ্ঞান ও মনীষা
জ্ঞানের দিক দিয়ে তিনি বসরার বিশিষ্ট তাবি'ঈদের মধ্যে ছিলেন। ইবন হাজার ও ইমাম যাহাবী (রহ) উভয়ে তাঁকে শীর্ষস্থানীয় 'আলিমদের মধ্যে গণ্য করেছেন। ইবনুল 'ইমাদ আল-হাম্বলী তাঁকে ইমাম এবং 'ইল্ম ও 'আমলে নেতৃস্থানীয় 'আলিম বলেছেন। আল-মিযী তাঁকে শীর্ষস্থানীয় ইমামদের একজন বলে উল্লেখ করেছেন।
হাদীছ
হাদীছ বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ও রুচি ছিল। এ কারণে সব সময় তার অন্বেষণে সময় অতিবাহিত করতেন। মাত্র একটি হাদীছের জন্য কয়েক দিন একই স্থানে অবস্থান করতেন। একবার একটি হাদীছের যাঁচাই বাছাইয়ের জন্য তিন দিন পর্যন্ত মদীনায় অবস্থান করেন। শুধু এ ব্যস্ততা ছাড়া তখন সেখানে আর কোন কাজ ছিল না। তাঁর এমন প্রবল আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তাঁকে হাদীছের একজন বিশিষ্ট হাফিজে পরিণত করে। ইবন সা'দ তাঁকে একজন বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ও বহু হাদীছের ধারক-বাহক বলেছেন। তিনি তাঁকে বসরাবাসী মুহাদ্দিছদের দ্বিতীয় তবকা বা স্তরে স্থান দিয়েছেন।
সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে হযরত ছাবিত ইবন দাহ্হাক আল-আনসারী, সামুরা ইবন জুনদুব, 'আমর ইবন সালামা জারমী, মালিক ইবন হুওয়ায়রিছ, আনাস ইবন মালিক আল-আনসারী, হুযায়ফা ইবন আল-ইয়ামান, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশা, আনাস ইবন মালিক কা'বী, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, মু'আবিয়া, আবূ হুরায়রা, নু'মান ইবন বাশীর, আবূ ছা'লাবা খুশানী (রা) প্রমুখের সূত্রে বর্ণিত তাঁর হাদীছ পাওয়া যায়। বহু বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ তাবি'ঈর নিকট থেকেও তিনি হাদীছের জ্ঞান অর্জন করেন।
ছাত্রবৃন্দ
তাঁর থেকে যাঁরা হাদীছ বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে আইউব আস-সাখতিয়ানী, আবূ রাজা', ইয়াহইয়া ইবন আবী কাছীর, আশ'আছ ইবন 'আবদির রহমান জারমী (রহ) প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
হাদীছ বর্ণনায় সংযত
তাঁর মুখ থেকে হাদীছ শোনার জন্য অনেক বড় বড় 'আলিম আগ্রহ প্রকাশ করতেন। কিন্তু অত্যধিক সতর্কতার কারণে অতি অল্পই বর্ণনা করতেন। আবূ খালিদ বলেন, আমরা হাদীছ শোনার জন্য আবূ কিলাবার নিকট যেতাম। তিনি তিনটি হাদীছ শোনানোর পর বলতেন, যথেষ্ট হয়েছে, আর না। হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) মত বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারীও তাঁকে অনুরোধ করে হাদীছ শুনতেন। 'উমার ইবন মায়মুন বলেন, একবার আবূ কিলাবা গেলেন 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) নিকট। তিনি কিছু হাদীছ শোনানোর জন্য অনুরোধ করলেন। জবাবে তিনি বললেন, আমীরুল মু'মিনীন! আমি বেশি হাদীছ বলা এবং একেবারে চুপ থাকা, দু'টোকেই খারাপ মনে করি।
ফিক্হ শাস্ত্রেও তাঁর স্থান ছিল অতি উঁচুতে। আইউব আস-সাখতিয়ানী বলেন, আল্লাহর কসম! আবূ কিলাবা ছিলেন প্রজ্ঞাবান ফকীহদের একজন।
বিচার ক্ষমতা
ফিক্হ বিষয়ে দক্ষতার কারণে তাঁর মধ্যে বিচার ক্ষমতাও ছিল। আইউব বলেন, আমি বসরায় আবূ কিলাবার চেয়ে বেশি বিচার ক্ষমতাসম্পন্ন আর কাউকে দেখিনি। মুসলিম ইবন ইয়াসার বলতেন, আবূ কিলাবা অনারবদের মধ্যে জন্ম গ্রহণ করলে 'কাজী আল- কুজাত' বা প্রধান বিচারপতি হতেন।
কাজীর পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি
বিচারের যোগ্যতা ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কাজীর পদ গ্রহণ করতে ভীষণ ভয় পেতেন। আইউব বলতেন, আমি তাঁকে বিচার বিষয়ে যত বড় 'আলিম পেয়েছি, তেমনি পেয়েছি তার থেকে কঠোরভাবে পলায়ণকারীরূপে। তিনি এ কাজকে ভীষণ খারাপ মনে করতেন। কাজীর পদ গ্রহণের জন্য তাঁকে আহ্বান করা হয়। কিন্তু তিনি ভয়ে শামে পালিয়ে যান। দীর্ঘ দিন পর যখন ফিরে আসেন তখন আমি তাঁকে বললাম, যদি আপনি কাজীর পদ গ্রহণ করতেন এবং মানুষের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতেন তাহলে তাতে ছাওয়াব পেতেন। তিনি জবাব দেন, আইউব! মানলাম, এক ব্যক্তি সাঁতার কাটতে পারে; কিন্তু যদি সে সাগরে পড়ে যায় তাহলে কতটুকু সাঁতরাতে পারবে।
গ্রন্থাগার
সেই যুগে গ্রন্থাগারের প্রচলন খুব কম ছিল, বরং ছিল না বলা চলে। তবে আবূ কিলাবা জ্ঞানের প্রতি তীব্র আগ্রহের কারণে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন। অন্তিম রোগ শয্যায় সে সম্পর্কে অসীয়াত করে যান যে, সংগৃহীত গ্রন্থগুলো আইউব সাখতিয়ানীকে দিবে। তিনি জীবিত না থাকলে জ্বালিয়ে দিতে হবে। মালিক বলেন: সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব ও আল-কাসিম ইবন মুহাম্মাদ মৃত্যু বরণের সময় কোন গ্রন্থ রেখে যাননি। তবে আমি জেনেছি, আবূ কিলাবা মৃত্যু বরণের সময় এক খচ্চরের বোঝা পরিমাণ গ্রন্থ রেখে যান।
বিদ'আত তথা দীনের মধ্যে নতুন কিছু প্রচলন করার প্রতি ঘৃণা
তিনি 'আকীদা ও 'আমল তথা বিশ্বাস ও কর্মে সালফে সালিহীন বা পূর্ববর্তী সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরকে আদর্শ মানতেন এবং এ ব্যাপারে এত কঠোর ছিলেন যে, বিদ'আতীদের বিরুদ্ধে অসি উত্তোলন করাও বৈধ মনে করতেন। বলতেন, যে ব্যক্তি কোন নতুন কথা বা কাজ চালু করে সে অসি উত্তোলনকে বৈধ করে দেয়। এমন লোকদের সাথে মেলা-মেশা ও তর্ক-বিতর্ক করাও তাঁর পছন্দ ছিল না। তাই তিনি নিষেধ করতেন, কেউ যেন বিদ'আতীদের নিকট না বসে, তাদের সাথে বাহাছ-মুনাজিরা না করে। আমার ভয় হয়, না জানি তারা তোমাদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতার মধ্যে নিয়ে যায় এবং যে জিনিসকে তোমরা পরিষ্কারভাবে জান তাতে সন্দেহ সৃষ্টি করে দেয়। তিনি মনে করতেন এর প্রতিবিধান শুধুমাত্র তরবারি। আইউব বলেন, আবূ কিলাবা বলতেন, প্রবৃত্তির অনুসরণকারীরা অর্থাৎ বিদ'আতীরা পথভ্রষ্ট। আমার মতে তাদের ঠিকানা নিশ্চিত জাহান্নাম। আমি তাদেরকে ভালো করে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করেছি, তাদের মধ্যে যারা নতুন মত অথবা নতুন কথা প্রকাশ ও প্রচার করে তারা তরবারি ছাড়া তা থেকে বিরত হয় না। নিফাক তথা কপটতার অনেক প্রকার আছে, এটাও তার মধ্যে একটি। অতঃপর নিম্নের এ আয়াতগুলো পাঠ করেন:
১. مِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللهَ .
২. وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذَوْنَ النَّبِيِّ.
৩. وَمِنْهُمْ مَنْ يَلْزَمُكَ فِي الصَّدَقَاتِ.
১. তাদের মধ্যে সেই সকল লোকও আছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছে। ২. তাদের মধ্যে সেই সকল লোক আছে যারা নবীকে কষ্ট দেয়। ৩. এবং তাদের মধ্যে সেই সকল লোক আছে যারা সাদাকা বণ্টনের ব্যাপারে আপনার প্রতি দোষারোপ করে।
তারপর তিনি বলেন, যদিও তাদের কথা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, তবে সন্দেহ সৃষ্টি ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে সকলে ঐক্যবদ্ধ। এদের সকলে তরবারির উপযুক্ত এবং তাদের সকলের ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
বিদ'আতীদেরকে তিনি নিজের কাছে ঘেঁষতে দিতেন না। কেউ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলে নিশ্চিত না হয়ে তাঁকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিতেন না। গায়লান ইবন জারীর বলেন, একবার আমি তাঁর সাথে মক্কায় যাওয়ার ইচ্ছা করলাম। এ জন্য তাঁর বাড়ীতে গিয়ে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন, হারূরী (খারিজী) না হলে আসতে পার।
একটি মারাত্মক বিদ'আত
আজকাল ইসলাম চর্চার নামে একটা নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তা হলো কিছু লোক হাদীছের বিপরীতে সব সময় কুরআন উপস্থাপনের দাবী করে। মূলতঃ এ এক মারাত্মক বিদ'আত। হযরত আবূ কিলাবার যুগেও এ জাতীয় কিছু লোকের উদ্ভব হয়। তিনি তাদেরকে পথভ্রষ্ট মনে করতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমরা কারো নিকট কোন সুন্নাহ বর্ণনা করবে এবং সে তার জবাবে যদি বলে এটা বাদ দিয়ে আল্লাহর কিতাব উপস্থাপন কর তাহলে তাকে পথভ্রষ্ট বলে জানবে।
নিজেকে চেনা
নিজের প্রকৃতি ও রহস্যকে যে চেনে সে মুক্ত এবং যে নিজেকে ভুলে যায় সে ধ্বংসের উপযুক্ত বলে তিনি মনে করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তিকে অন্যরা তার চেয়ে বেশি জানে সে ধ্বংস এবং সে অন্যদের চেয়ে নিজেকে বেশি জানে সে মুক্তি লাভের উপযুক্ত।
প্রকৃত বিত্তবান ও প্রকৃত 'আলিম
আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীনের দান-অনুগ্রহের উপর যে তুষ্ট থাকে সেই প্রকৃত বিত্তবান, আর যে অন্যের জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয় সেই প্রকৃত 'আলিম বলে তিনি মনে করতেন। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করে, সবচেয়ে বেশি বিত্তবান কে? বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করে, সবচেয়ে বড় 'আলিম কে? বললেন, যে অন্যের জ্ঞান থেকে নিজের জ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটায়।
বিপদ-মুসীবতে ধৈর্যধারণ
ধৈর্যধারণ, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ এবং সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর স্থান ছিল অনেকে উঁচুতে। অনেক বড় বড় বিপদ-মুসীবতে তিনি মোটেও ধৈর্যহারা হননি। 'আবদুল মু'মিন খালিদ বলেন, শেষ জীবনে আবূ কিলাবার হাত, পা ও চোখ অকেজো হয়ে যায়। এমন মারাত্মক অবস্থায়ও আল্লাহর প্রশংসা ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশমূলক কথা ছাড়া অন্য কিছু তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হতো না।
তাঁর ব্যক্তি সত্তাকে অন্যদের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির উপায় ভাবা হতো। হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) শামের অধিবাসীদেরকে লক্ষ্য করে বলতেন: ততদিন তোমাদের মাঝে আবূ কিলাবা অথবা তাঁর মত মানুষ বিদ্যমান আছেন ততদিন তোমরা কল্যাণের মধ্যে থাকবে: لن تزالوا بخير يا أهل الشام، مادام فيكم هذا، أو مثل هذا.
ওফাত
তিনি যখন অন্তিম রোগ শয্যায় তখন একদিন হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) তাঁকে দেখতে আসেন এবং তাঁকে দৃঢ় ও অটল থাকার উপদেশ দেন। এ রোগেই তিনি হিজরী ১০৪, মতান্তরে ১০৫ সনে ইনতিকাল করেন। হিজরী ১০৬ অথবা ১০৭ সনের কথাও বর্ণিত হয়েছে।
টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-১০/১৫৫
২. তাহযীব আত-তাহযীব-৫/২২৪; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৯৪
৩. শাজারাত আয-যাহাব-১/১২৬
৪. তাহযীব আল-কামাল-১০/১৫৫
৫. আত-তাবাকাত-৭/১৩৪
৬. প্রাগুক্ত
৭. তাহযীব আল-কামাল-১০/১৫৭
৮. প্রাগুক্ত-১০/১৫৬; তাহযীব আত-তাহযীব-৫/২২৫
৯. প্রাগুক্ত
১০. আত-তাবাকাত-৭/১৩৪
১১. প্রাগুক্ত-৭/১৩৩; তাহযীব আল-কামাল-১০/১৫৭
১২. প্রাগুক্ত
১৩. তাহযীব আল-কামাল-১০/১৫৮
১৪. আত-তাবাকাত-৭/১৩৫; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৯৪
১৫. তাহযীব আল-কামাল-১০/১৫৭
১৬. সূরা আত-তাওবা-৭৯
১৭. প্রাগুক্ত-৬১
১৮. প্রাগুক্ত-৫৮
১৯. আত-তাবাকাত-৭/১৩৫
২০. প্রাগুক্ত-৭/১৩৪
২১. প্রাগুক্ত
২২. প্রাগুক্ত-৭/১৩৩
২৩. প্রাগুক্ত
২৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৯৪
২৫. তাহযীব আত-তাহযীব-৫/২২৫; তাহযীব আল-কামাল-১০/১৫৮
২৬. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৯৪; তাহযীব আল-কামাল-১০/১৫৯; আত-তাবাকাত-৭/১৩৫
📄 ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব (রহ)
হযরত ইয়াযীদের (রহ) ডাকনাম আবূ রাজা'। কুরায়শ গোত্রের বানু 'আমির ইবন লুওয়াই শাখার দাস ছিলেন। ইবন লাহী'আ বলেন, তাঁর পিতা আবু হাবীব আসওয়াদ ছিলেন "নাওবী' সম্প্রদায়ের লোক। ইয়াযীদ বলতেন: ‘আমার পিতা ছিলেন "দামকালা"র অধিবাসী এবং আমি মিসরে বেড়ে উঠি। দামকালাবাসীরা 'আলাবী তথা শী'আ। আমি তাদেরকে 'উছমানিয়্যা বা 'উছমানের (রা) অনুসারীতে পরিবর্তন করি।’
একটি ভিন্ন মতে তাঁর পিতা ছিলেন বানু হিসল-এর এক মহিলার দাস এবং মাও ছিলেন দাসী। ইয়াযীদ হিজরী ৫৩ সনে জন্ম গ্রহণ করেন।
জ্ঞান ও মনীষা
জ্ঞান ও মনীষায় তিনি তাবি'ঈ ইমামদের মধ্যে ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) তাঁকে "আল-ইমাম আল-কাবীর" বা শ্রেষ্ঠ ইমাম বলে উল্লেখ করেছেন। মিশরে তাঁর মাধ্যমেই সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান চর্চা শুরু হয়। আবূ সা'ঈদ ইবন ইউনুস বলেন:
"তিনি ছিলেন মিসরবাসীদের মুফতী। অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম মিসরে জ্ঞান, বিভিন্ন মাসয়ালা ও হালাল-হারাম চর্চার সূচনা করেন। তাঁর পূর্বে মিসরবাসীদের জ্ঞান চর্চা মূলতঃ উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদান, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।"
হাদীছ
তিনি মিসরের একজন বিশিষ্ট হাফিজে হাদীছ ছিলেন। ইবন সা'দ তাঁকে একজন নির্ভরযোগ্য ও বহু হাদীছের বর্ণনাকারী বলেছেন। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) বলেন : "তিনি ছিলেন হাদীছের হুজ্জাত (প্রমাণ) ও হাফিজ।"
তিনি 'আবদুল্লাহ ইবন আল-হারিছ আয-যুবায়দী, আবুত তুফায়ল, আসলাম ইবন ইয়াযীদ, আবূ 'ইমরান, ইবরাহীম ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন হুনায়ন, খায়র ইবন নু'আইম, হাদরামী, সুওয়াইদ ইবন কায়স, 'আবদুর রহমান ইবন শাম্মাসা মিহরী, 'আবদুল 'আযীয ইবন আরিস সা'বা, 'আতা' ইবন আবী রাবাহ, 'আররাক ইবন মালিক, ইমাম আয-যুহরী (রহ) এবং আরো বহু মনীষীর নিকট থেকে হাদীছের জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাঁদের সূত্রে হাদীছ বর্ণনা করেন। আর তাঁর নিকট থেকে যাঁরা হাদীছ শোনেন তাঁদের মধ্যে সুলায়মান আত-তায়মী, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক, যায়দ ইবন আবী উনায়সা, 'আমর ইবন আল-হারিছ, 'আবদুল হামিদ ইবন জা'ফার, ইবন লাহী'আ, লায়ছ ইবন সা'দ (রহ) প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
ফিক্হ
ফিক্হ বিষয়েও তিনি ভীষণ পারদর্শী ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) তাঁকে ফকীহ্ বলে উল্লেখ করেছেন। খলীফা হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয (রহ) মিসরে যে তিন ব্যক্তিকে ইফতার পদে নিয়োগ দেন, তাঁদের একজন হলেন এই ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব। বলা চলে তাঁরই চেষ্টায় সেখানে ফিক্হ চর্চার সূচনা হয়।
সমকালীন 'আলিমদের মূল্যায়ন
লায়ছ ইবন সা'দ বলতেন :"ইয়াযীদ আমাদের 'আলিম ও আমাদের নেতা।" তিনি আরো বলতেন, ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব ও 'আবদুল্লাহ ইবন আবী জা'ফার উভয়ে দেশের দু'টি রত্ন। জনৈক ব্যক্তি 'আমর ইবন আল-হারিছকে প্রশ্ন করে : ইয়াযীদ ও 'আবদুল্লাহ-এ দু'জনের মধ্যে উত্তম কে? জবাবে তিনি বলেন : যদি দু'জনকে দু'পাল্লায় বসানো হয় তাহলে কোন পাল্লাই ঝুঁকবে না।
সাবধানতা
হাদীছ বর্ণনায় সতর্ক তাবি'ঈদের মত তিনিও সতর্কতা অবলম্বন করতেন। যখন তাঁর নিকট প্রশ্নকারীদের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন তিনি গৃহ অভ্যন্তরে নির্জনতা অবলম্বন করেন।
জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা
তাঁর মধ্যে জ্ঞানের প্রতি প্রবল সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ ছিল। এ কারণে কোন শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তির নিকট যাওয়া মোটেই পছন্দ করতেন না। কারো প্রয়োজন হলে তাঁকে নিজের কাছে ডেকে আনতেন। একবার যাব্বান ইবন 'আবদিল 'আযীয লোক মারফত তাঁকে বলে পাঠালেন যে, আপনি একটু আমার নিকট আসুন, আপনার নিকট কিছু বিষয় আমার জানার আছে। তিনি জবাবে বলে পাঠালেন, আপনিই আমার এখানে আসুন। আমার নিকট আসা আপনার জন্য শোভন হবে, পক্ষান্তরে আপনার নিকট আমার যাওয়া হবে আপনার জন্য অশোভন।
স্পষ্টবাদিতা
সত্য উচ্চারণে ছিলেন নির্ভীক। যত ক্ষমতাশালীই হোন না কেন কাউকে পরোয়া করতেন না। মুখের উপর তাদের দোষ-ত্রুটি বলে দিতেন। একবার তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে শয্যা নিলেন। মিসরের তৎকালীন আমীর আল-হাওছারা ইবন সুহায়ল সাক্ষাৎ করতে আসলেন। তিনি ইয়াযীদের নিকট জানতে চাইলেন: যে কাপড়ে মশার রক্ত লেগেছে, সেই কাপড়ে নামায আদায় হবে কি? প্রশ্ন শুনে তিনি আল-হাওছারার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তাঁর সাথে কোন কথাই বললেন না। আল-হাওছারা উঠতে যাবেন তখন তিনি তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেন, প্রতিদিন মানুষের রক্ত ঝরাচ্ছেন, আর আমার নিকট মশার রক্তের কথা জিজ্ঞেস করছেন?"
ওফাত
হিজরী ১২৮ সনে তিনি ইনতিকাল করেন, একথা ইবন সা'দ বলেছেন। ৭৫ বছরের অধিক জীবন লাভ করেন।
টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর রিজাল-২০/২৯৭
২. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১২৯
৩. তাহযীব আল-কামাল-২০/২৯৫
৪. তাহযীব আত-তাহযীব-১১/২৭৯
৫. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১২৯
৬. প্রাগুক্ত; তাহযীব আল-কামাল-২০/২৯৭
৭. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৩০
৮. তাহযীব আল-কামাল-২০/২৯৮
৯. প্রাগুক্ত-২০/২৯৫, ২৯৭; তাহযীব আত-তাহযীব-১১/৩১৮
১০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১২৯
১১. প্রাগুক্ত
১২. তাহযীব আত-তাহযীব-১১/২৭৯; তাহযীব আল-কামাল-২০/২৯৮; টীকা-১
১৩. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১২৯
১৪. প্রাগুক্ত
১৫. প্রাগুক্ত-১/১৩০
১৬. তাহযীব আল-কামাল-২০/২৯৭
📄 আবূ ওয়াইল শাকীক ইবন সালামা (রহ)
হযরত শাকীকের (রহ) ডাকনাম আবু ওয়াইল এবং এ নামেই তিনি বেশি প্রসিদ্ধ। পিতার নাম সালামা। তিনি আরবের আসাদ ইবন খুযায়মা গোত্রের সন্তান। ইবন হিব্বান তাঁকে কৃষ্ণায় বসবাসকারী, তথাকার একজন 'আবিদ এবং হিজরী ০১ সনে তাঁর জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন।
রিসালাত যুগে
হযরত আবু ওয়াইল (রহ) হযরত রাসূলে কারীমের (সা) জীবনকালের কিছু অংশ লাভ করেন। তবে খুবই অল্প বয়স্ক ছিলেন। 'উমার ইবন মারওয়ান বলেন, একবার আমি আবূ ওয়াইলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সময়কাল পেয়েছিলেন? বললেন, হাঁ, তাঁকে দেখেছিলাম। তবে তখন আমি একজন অল্প বয়স্ক বালক। সঠিক বর্ণনা মতে তিনি একজন তাবি'ঈ ছিলেন। রাসূলে কারীমের (সা) দর্শন ও সাক্ষাতের সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি।
একটি বর্ণনায় এসেছে, আবূ ওয়াইল বলতেন, আমি জাহিলী যুগের দশ মতান্তরে সাত বছর পেয়েছি। রাসূল (সা) যখন নবুওয়াত লাভ করেন তখন আমি মরুদ্যানে আমার পরিবারের উট-ছাগল চরাতাম। ইমাম আয-যাহাবী তাঁকে অতি সম্মানিত মুখাদরাম ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য যে, যাঁরা জাহিলী ও ইসলামী যুগ লাভ করেছেন তাঁদেরকে বলা হয় 'মুখাদরাম'। তবে এ বর্ণনা তেমন নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হয়নি।
ইসলাম গ্রহণ
একটি বর্ণনা মতে তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেন। মুগীরা বলেন, আবু ওয়াইল বলতেন, আমাদের গোত্রে রাসূলুল্লাহর (সা) পক্ষ থেকে যাকাত-সাদাকা আদায়কারী আসেন। তিনি আমাদের থেকে পঞ্চাশটি উটের একটি উট নিলেন। আমার একটি ভেড়া ছিল। আমি সেটা তাঁর সামনে উপস্থিত করে বললাম, এর সাদাকা নিন। তিনি বললেন, এতে সাদাকা নেই।
হযরত আবু বাকরের খিলাফতকালে
হযরত আবূ বাকর সিদ্দীকের (রা) খিলাফতকালে আরবের যে সকল গোত্র যাকাত আদায় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল আবু ওয়াইলের গোত্রও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আবূ ওয়াইলও সেই দলে ছিলেন। সুলায়মান আল-আ'মাশ বলেন, শাকীক আমাকে বলতেন, আহা, যদি এমন হতো! তোমরা বুযাখার রণক্ষেত্রে আমাদেরকে খালিদ ইবন আল-ওয়ালীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং সেখান থেকে পালাতে দেখতে! সেদিন আমি উটের পিঠ থেকে ছিটকে পড়ি এবং আমার ঘাড় ভাংতে ভাংতে বেঁচে যায়। সেদিন যদি আমি মারা যেতাম তাহলে আমার জন্য জাহান্নাম নিশ্চিত ছিল। সে সময় আমি ছিলাম দশ বছরের বালক। উল্লেখ্য যে, বুযাখার এ যুদ্ধটি হয় হযরত আবূ বাকর সিদ্দীকের (রা) খিলাফতকালে বানু আসাদ ও খালিদ ইবন আল-ওয়ালীদের মধ্যে। এ যুদ্ধের পর তাঁর গোত্র যাকাত আদায় করে আত্মসমর্পণ করে।
হযরত 'উমারের (রা) খিলাফতকালে
খলীফা হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) খিলাফতকালে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ভুলের পূর্ণ কাফ্ফারা আদায় করেন। ইরাক অভিযানে তিনি একজন মুজাহিদ হিসেবে যোগ দেন। কাদেসিয়ার সেই বিখ্যাত যুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহণ করেন। শাম অভিযানেও তাঁর অংশ গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। তাঁর নিজের একটি বর্ণনা এ রকম: আমি উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) সাথে শাম অভিযানে অংশ গ্রহণ করি। সম্ভবতঃ এ দ্বারা তিনি হযরত 'উমারের (রা) শাম সফরের সময় তাঁর সঙ্গে থাকার কথা বলতে চেয়েছেন।
ইসলাম ও মুসলমানদের বড় রকমের সেবার কারণে হযরত 'উমার (রা) তাঁকে যথেষ্ট সমাদর করতেন। তিনি বলেন, 'উমার (রা) নিজ হাতে আমাকে চারটি উপহার দান করেন এবং বলেন, একবার 'আল্লাহু আকবর' বলা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার থেকে উত্তম।
সিফ্ফীন যুদ্ধ
এ ছিল মুসলমানদের একটি রক্তক্ষয়ী গৃহ-যুদ্ধ। হযরত 'আলীর (রা) খিলাফতকালে আমীরুল মুমিনীন 'আলী (রা) ও হযরত মু'আবিয়ার (রা) মধ্যে সিফ্ফীনে এ যুদ্ধটি হয়। এ যুদ্ধে আবু ওয়াইল হযরত 'আলীর (রা) পক্ষে যোগ দেন; কিন্তু পরে এ জন্য ভীষণ অনুতপ্ত হন। আ'মাশ বলেন, জনৈক ব্যক্তি আবূ ওয়াইলকে জিজ্ঞেস করে, আপনি সিফ্ফীন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন? জবাব দেন, হাঁ, অংশ গ্রহণ করেছিলাম। 'আসিম ইবন বাহ্দালা বলেন, শাকীক বলতেন, 'আলীর চেয়ে 'উছমান আমার বেশি প্রিয়।
হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ও আবূ ওয়াইল
উমাইয়্যা শাসনামলে আবূ ওয়াইল ছিলেন অতি সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী মানুষ। হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ছিলেন তাঁর ভীষণ গুণমুগ্ধ ব্যক্তি। তিনি আবূ ওয়াইলের সামনে কয়েকটি বড় বড় পদ উপস্থাপন করে তা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এ বিষয়ে তিনি নিজেই বলেন, হাজ্জাজ যখন কুফা আসেন তখন আমাকে ডেকে পাঠান। আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন: আপনার নাম কি? বললাম: নাম আপনার জানাই আছে, নইলে আমাকে ডেকে পাঠালেন কিভাবে? জিজ্ঞেস করলেন: এ শহরে এসেছেন কবে? বললাম: সেই সময় যখন এই শহরের সকল অধিবাসী এসেছে। জিজ্ঞেস করলেন: আপনার কতটুকু কুরআন মুখস্থ আছে? বললাম: এতটুকু যে, যদি আমি তা অনুসরণ করি তাহলে তা যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে। উপরোক্ত প্রশ্নগুলো করার পর বললেন, আপনাকে এ জন্য ডেকেছি যে, আমি আপনাকে একটি পদ দিতে চাই। জানতে চাইলাম: কোন ধরনের পদ। বললেন: সিলসিলা অর্থাৎ বেড়ী পরিয়ে শাস্তি দানের পদ। বললামঃ এ পদ তো সেই সকল লোকদের জন্য উপযুক্ত যারা অত্যন্ত দায়িত্ব ও দক্ষতার সাথে এ কাজ করতে পারবে। যদি আপনি আমার সাহায্য নিতে চান তাহলে সেটা হবে একজন নির্বোধ ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য নেয়া। এ কারণে, যদি আপনি আমাকে এ পদ গ্রহণ থেকে রেহাই দেন তাহলে তা আমার জন্য উত্তম হবে। আপনি চাপাচাপি করলে এই বিপজ্জনক পদটি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত আছি। তবে একথাও বলতে চাই যে, যখন আমি আপনার কর্মচারী নই তখন রাতের বেলা আপনার কথা স্মরণ করতে করতে ঘুম এসে যায়। তাহলে যখন আপনার কর্মচারী হবো তখন আমার অবস্থা কেমন হবে? মানুষ আপনার ভয়ে এত ভীত যে, অতীতের কোন আমীরের ভয়ে ততটা হয়নি। আমার এ বক্তব্য তাঁর পছন্দ হয় এবং তিনি বলেন, এর কারণ হলো, কোন ব্যক্তি রক্তপাতের ব্যাপারে আমার মত এত দুঃসাহসী নয়। আমি এতসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছি যার ধারে কাছে যেতেও মানুষ ভয় পায়। আমার এমন কঠোরতার কারণে আমার সকল সঙ্কট সহজ হয়ে গেছে। আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন! আপনি এখন যান।
যদি অন্য কোন উপযুক্ত মানুষ পেয়ে যাই তাহলে আপনাকে কষ্ট দেব না। অন্যথায় আপনাকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে। এভাবে মুক্তি পাওয়ার পর আবু ওয়াইল ফিরে আসেন এবং আর কখনো হাজ্জাজের ধারে কাছে যাননি। উমাইয়্যা যুগের শাসন কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাঁর মোটেই সুধারণা ছিল না। একবার তিনি তাঁর ছাত্র আল-আ'মাশকে বলেন: 'সুলায়মান! আমাদের এ সময়ের আমীর-উমারাদের দু'টি বৈশিষ্ট্যের একটিও নেই। তাদের না আছে ইসলামী যুগের মানুষের তাকওয়া, আর না আছে জাহিলী যুগের মানুষের বুদ্ধিমত্তা।'
তাহসীলদারের পদ
কিছু বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায় যে, তিনি উমাইয়্যা যুগে সাদাকা-যাকাতের তাহসীলদার পদে কাজ করেছেন। মুহাজির আবুল হাসান বলেন, একবার আমি আবূ বুরদা ও শাকীকের নিকট যাকাতের অর্থ নিয়ে যাই। তাঁরা তখন বায়তুল মালে কাজ করতেন। তাঁরা আমার সে অর্থ বায়তুল মালে ঢুকিয়ে নেন। এই বর্ণনার একজন রাবী সা'ঈদ বলেন, আমি দ্বিতীয়বার যাকাতের অর্থ নিয়ে গেলে শুধু আবূ ওয়াইলকে পাই। তিনি বলেন, এ অর্থ ফিরিয়ে নিয়ে যাও এবং নির্ধারিত খাতসমূহে তা ব্যয় কর। বললাম مُؤلَّفَة القلوب (অন্তরসমূহকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্টকরণ)-এর অংশটির কি হবে? বললেনঃ সেটি অন্যদেরকে দিয়ে দাও।
জ্ঞান ও মনীষা
জ্ঞানের জগতে হযরত আবূ ওয়াইল (রহ) কৃফার একজন বিশিষ্ট 'আলিম ছিলেন। ইমাম যাহাবী (রহ) তাঁকে কৃফার শায়খ ও 'আলিম বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম নাওবী (রহ) বলেন, তাঁর বিশ্বস্ততা, নির্ভরযোগ্যতা এবং মহত্ত্বের ব্যাপারে সকলের ঐকমত্য আছে। ইবন সা'দ বলেছেন : ‘তিনি ছিলেন অতিবিশ্বস্ত বহু হাদীছের ধারক ও বর্ণনাকারী।'
কুরআন
তিনি কুরআনের হাফিজ ছিলেন। এত তীক্ষ্ণ মেধাবী ছিলেন যে, মাত্র দু'মাসে কুরআনের শিক্ষা শেষ করেন। তবে কুরআনের তাফসীর বর্ণনার ক্ষেত্রে দারুণ সতর্ক ছিলেন।
হাদীছ
ইলমে হাদীছের ক্ষেত্রে ইবন সা'দ তাঁকে দৃঢ়পদ, বিশ্বস্ত ও বহু হাদীছের ধারক-বাহক বলেছেন। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে হযরত আবূ বাকর, 'উমার, 'উছমান, 'আলী, মু'আবিয়া ইবন জাবাল, সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস, 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ, হুযায়ফা ইবন আল-ইয়ামান, খাব্বাব ইবন আরাত, কা'ব ইবন 'আজরা, আবূ মাস'উদ আল-আনসারী, আবূ মূসা আল-আশ'আরী, আবূ হুরায়রা, 'আয়িশা, উম্মু সালামা (রা) প্রমুখের মত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের সূত্রে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। বিশেষতঃ হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদের (রা) হাদীছসমূহ তাঁর স্মৃতিতে বেশি সংরক্ষিত ছিল। কৃষ্ণায় ইবন মাস'উদের হাদীছের তাঁর চেয়ে বড় কোন হাফিজ ছিলেন না। একবার আবূ 'উবায়দাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কৃফায় ইবন মাস'উদের হাদীছের সবচেয়ে বড় 'আলিম কে? তিনি জবাব দেন: আবূ ওয়াইল।
ছাত্রবৃন্দ
অনেক বড় বড় তাবি'ঈ তাঁর ছাত্র হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। যেমন: শা'বী, 'আসিম, আ'মাশ এবং সাধারণ মুহাদ্দিছগণের মধ্যে মানসূর, যুবায়দ-আল ইয়ামামী, হাবীব ইবন আবী ছাবিত, 'আসিম ইবন বাহদালা, 'আবদুহু ইবন লুবাবা, 'আমর ইবন মুররা, জামি' ইবন রাশিদ, আল-হাকাম ইবন 'উতবা, হাম্মাদ ইবন আবী সুলায়মান, যুবায়র ইবন 'আদী, সা'ঈদ ইবন মাসরূক আছ-ছাওরী, 'আতা' ইবন আস-সায়িব, মুসলিম আল-বাতীন, মুহাজির আবুল হাসান (রহ) প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
'আলিমদের মধ্যে আবু ওয়াইলের স্থান
সেই যুগের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ তাঁকে শ্রেষ্ঠ তাবি'ঈদের মধ্যে গণ্য করতেন। আ'মাশ বলেন, ইবরাহীম আমাকে উপদেশ দেন যে, তুমি শাকীকের (আবূ ওয়াইল) নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন কর। 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদের (রা) সাথী ও ছাত্ররা সকলে তাঁকে তাঁদের দলের সেরা বলে গণ্য করতেন।
আল্লাহর ভয়
তাঁর অন্তরে আল্লাহর ভয় এত প্রবল ছিল যে, যখন তাঁর সামনে কোন উপদেশ দেয়া হতো অথবা ভীতিমূলক আলোচনা হতো তখন তার দু'চোখ থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হতো। তিনি বসরার 'আবিদ তাবিঈদের মধ্যে পরিগণিত ছিলেন। 'ইবাদত-বন্দেগী ছিল তাঁর একান্ত কাজ। ইবন হিব্বান বলেন, তিনি দৃঢ়পদ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কৃষ্ণায় স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলেন এবং সেখানকার তাপস ও দুনিয়া বিরাগী মানুষের একজন ছিলেন। তাঁর 'ইবাদত-বন্দেগীর বিশেষ সময় ছিল রাতের অন্ধকার। সিজদায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে অত্যন্ত বিনীতভাবে দু'আ করতেনঃ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমাকে মাফ করে দিন। যদি আপনি আমাকে ক্ষমা করেন তাহলে ধারাবাহিক পাপসমূহকেও ক্ষমা করে দিবেন। আর যদি শান্তি দেন, তাহলে শান্তি দানের ক্ষেত্রে আপনি জালিম হবেন না।
জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এবং দুনিয়ার সাথে সম্পর্কহীনতা
দুনিয়ার সাথে নামকা ওয়াস্তে একটা সম্পর্ক ছিল। থাকার জন্য মামুলি ধরনের একটা খড়ের ঝুপড়ি ঘর ছিল, সেখানে তিনি জিহাদের সঙ্গী ঘোড়াটিসহ থাকতেন। যখন জিহাদে বের হতেন তখন ঝুপড়ি ঘরটি উঠিয়ে ফেলতেন। ফিরে এসে আবার বানিয়ে নিতেন।
হালাল উপার্জন
হালাল উপার্জনের ব্যাপারে দারুণ সতর্ক ছিলেন। বিনাশ্রমে অঢেল সম্পদ প্রাপ্তির বিপরীতে হালাল উপায়ে অর্জিত একটি দিরহামকে বেশি পছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, ব্যবসার এক দিরহাম আমার বেতনের দশ দিরহাম থেকে বেশি প্রিয়।
তাঁর সত্তাটি ছিল শুভ ও কল্যাণের নিমিত্ত
তাঁর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের কারণে মানুষ তাঁঁকে রহমত ও বরকতের (দয়া- অনুগ্রহ) উপলক্ষ্য মনে করতো। ইবরাহীম বলতেন, প্রত্যেক স্থানে এমন এক সত্তা অবশ্যই বিদ্যমান থাকেন যার কল্যাণে সেই জনপদ বিভিন্ন ধরনের আপদ-বিপদ থেকে নিরাপদ থাকে। আমার বিশ্বাস, শাকীকও সেই সকল লোকের মধ্যে অন্যতম। সাহাবায়ে কিরামও তাঁর নৈতিক উৎকর্ষের কথা স্বীকার করতেন। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদের উপর তাঁর নৈতিক প্রভাব এতখানি ছিল যে, তাঁকে দেখা মাত্র বলতেন, এ হলো তায়িব (তাওবাকারী)।
ওফাত
হিজরী ৮২ সনে ইনতিকাল করেন। আল-ওয়াকিদীর বর্ণনা মতে 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) খিলাফতকালে তাঁর ইনতিকাল হয়। কিন্তু এ বর্ণনা সঠিক মনে হয় না। কারণ, সে হিসাবে তাঁর বয়স অনেক বেড়ে যায়।
টিকাঃ
১. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬০
২. তাহযীব আত-তাহযীব-৪/৩১৮
৩. আত-তাবাকাত-৬/৬৪
৪. তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৭
৫. প্রাগুক্ত-৮/৩৮৮
৬. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬০
৭. প্রাগুক্ত
৮. তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৮
৯. প্রাগুক্ত
১০. আত-তাবাকাত-৬/৬৫
১১. প্রাগুক্ত-৬/৬৪
১২. প্রাগুক্ত
১৩. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬০; তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৯
১৪. আত-তাবাকাত-৬/৬৬
১৫. তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৯
১৬. আত-তাবাকাত-৬/৬৫
১৭. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬০
১৮. তাহযীব আল-আসমা'-১/২৪৭
১৯. তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৯; আত-তাবাকাত-৬/৬৫
২০. প্রাগুক্ত; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬০
২১. তাহযীব আত-তাহযীব-৪/৩৬১; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬০; তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৭
২২. তাহযীব আল-আসমা'-১/২৪৭
২৩. তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৮
২৪. প্রাগুক্ত; তাহযীব আত-তাহযীব-৪/৩৬২
২৫. আত-তাবাকাত-৬/৬৭
২৬. প্রাগুক্ত
২৭. তাহযীব আত-তাহযীব-৪/৩৬৩
২৮. আত-তাবাকাত-৬/৬৭
২৯. প্রাগুক্ত-৬/৬৮
৩০. প্রাগুক্ত
৩১. তাহযীব আত-তাহযীব-১/২৪৭
৩২. আত-তাবাকাত-৬/৬৮
৩৩. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬০; তাহযীব আল-কামাল-৮/৩৮৮