📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 খারিজা ইবন যায়দ (রহ)

📄 খারিজা ইবন যায়দ (রহ)


হযরত খারিজার (রহ) ডাকনাম আবূ যায়দ। বিখ্যাত সাহাবী হযরত যায়দ ইবন ছাবিতের (রা) পুত্র। মদীনার প্রসিদ্ধ খাযরাজ গোত্রের বানু নাজ্জার শাখার সন্তান। তাঁর মা উম্মু সা'দ 'আকাবার দ্বিতীয় শপথে উপস্থিত ও রাসূলুল্লাহ (সা) কর্তৃক নিয়োগকৃত 'নাকীব' মহান সাহাবী সা'দ ইবন রাবী'র কন্যা।

জ্ঞান ও মনীষা
হযরত খারিজার মহান পিতা হযরত যায়দ ইবন ছাবিত (রা) একজন 'আলিম সাহাবী ছিলেন। যে সকল সাহাবী কুরআনের হাফিজ ছিলেন তিনি তাঁদের মধ্যে বিশেষ স্থানের অধিকারী। হযরত রাসূলে কারীমের (সা) ইনতিকালের পর কুরআনের সংগ্রহ ও সংকলন তাঁরই তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এমন একটা জ্ঞান চর্চার পরিবেশে হযরত খারিজা প্রতিপালিত হন। পিতার নিকট থেকে শিক্ষা প্রাপ্ত হয়ে তিনি তাঁর সমকালের শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের মধ্যে পরিগণিত হন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন, তিনি শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের মধ্যে ছিলেন। ইমাম নাওবী (রহ) বলেন, জ্ঞানে তিনি একজন দক্ষ ইমাম ছিলেন এবং তাঁর বিশ্বস্ততা ও শ্রেষ্ঠতার ব্যাপারে সকলে একমত। ইবন সা'দ মদীনার মনীষীদের দ্বিতীয় স্তরে বা তবকায় তাঁর নাম সন্নিবেশ করেছেন।

হাদীছ
পিতা যায়দ, মা উম্মু সা'দ ইবন সা'দ, চাচা ইয়াযীদ, উসামা ইবন যায়দ, সাহল ইবন সা'দ, 'আবদুর রহমান ইবন আবী 'উমারা উম্মুল 'আলা' (রা) প্রমুখের নিকট থেকে তিনি হাদীছের জ্ঞান অর্জন করেন। আর তাঁর নিকট থেকে যাঁরা হাদীছ শোনেন তাঁদের মধ্যে তাঁর পুত্র সুলায়মান, ভাতিজা সা'ঈদ ইবন সুলায়মান ও কায়স ইবন সা'দ এবং অন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবন 'উছমান, মুত্তালিব ইবন 'আবদিল্লাহ, ইয়াযীদ ইবন কাসীত (রহ) বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

ফিক্হ
ফিক্হ ছিল তাঁর বিশেষ অধীত বিষয়। এ শাস্ত্রে তিনি ইমাম ও মুজতাহিদের মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। মদীনার বিখ্যাত সাতজন ফকীহর মধ্যে তাঁর নামটিও আছে। আবুয যানাদ বলেন:
'মদীনার যে সাত ব্যক্তির নিকট ফাতওয়া জিজ্ঞেস করা হতো এবং যাঁদের কথা চূড়ান্ত বলে গণ্য হতো তাঁরা হলেন:
সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যাব, আবূ বাকর ইবন 'আবদির রহমান ইবন আল-হারিছ, 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র, 'উবায়দুল্লাহ ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'উতবা, আল-কাসিম ইবন মুহাম্মাদ, খারিজা ইবন যায়দ ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহ)।'

ইসলামী জ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা ফারায়েজ (দায় ভাগ শাস্ত্র)। এ বিষয়ে তাঁর পিতা যায়দ ইবন ছাবিত একজন বড় 'আলিম ছিলেন। এ কারণে উত্তরাধিকার সূত্রে খারিজা এ জ্ঞানের অধিকারী হন। মদীনার 'আলিমদের মধ্যে তিনি এবং তালহা ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন 'আওফ উত্তরাধিকার (মীরাছ) বণ্টন করতেন এবং বণ্টনের লিখিত সনদ দিতেন। এ বিষয়ে তাঁর কথা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হতো। 'উবায়দুল্লাহ ইবন 'উমার বলেন, মদীনায় রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবীদের পরে ফিক্হ বিষয়টি যাঁদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাঁদের একজন হলেন খারিজা ইবন যায়দ।

ওফাত
হযরত 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীযের (রহ) খিলাফতকালে হিজরী ১০০ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি সত্তরটি সিঁড়ি বানানোর পর তাঁর থেকে পড়ে গেছেন। সেই বছর মৃত্যু হয় এবং তখন তাঁর বয়স পূর্ণ সত্তর বছর। তৎকালীন মদীনার ওয়ালী আবূ বাকর ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাযম তাঁর জানাযার নামাযের ইমামতি করেন। 'উমার ইবন 'আবদিল 'আযীয তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি'উন' পাঠ করেন।

তাঁর দৈহিক অবয়ব সুগঠিত ও সুন্দর ছিল। "খুয” (রেশম ও পশম মিশ্রিত এক প্রকার সূতা)-এর চাদর গায়ে জড়াতেন। মাথায় কালো পাগড়ী এবং বাঁ হাতে আংটি পরতেন। মৃত্যুর সময় অনেকগুলো পুত্র-কন্যা রেখে যান। পুত্ররা হলেন: যায়দ, 'উমার, 'আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ এবং কন্যারা হলেন হাবীবা, হামীদা, উম্মু ইয়াহইয়া ও উম্মু সুলায়মান। উল্লেখিত সন্তানদের সকলের মা ছিলেন উম্মু 'আমর বিনত হাযম।

টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-৫/৩১৮
২. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৯১
৩. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৪২
৪. তাহযীব আল-কামাল-৫/৩১৮
৫. প্রাগুক্ত; তাহযীব আত-তাহযীব-৩/৭৫
৬. প্রাগুক্ত
৭. তাহযীব আল-কামাল-৫/৩১৮
৮. প্রাগুক্ত-৫/৩১৯; তাহযীব আত-তাহযীব-৩/৭৫
৯. তাহযীব আল-কামাল-৫/৩১৯
১০. প্রাগুক্ত-৫/৩২০; আত-তাবাকাত-৫/১৯৪; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৪/৪৪০
১১. আত-তাবাকাত-৫/১৯৪
১২. প্রাগুক্ত

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 খালিদ ইবন মা‘দান (রহ)

📄 খালিদ ইবন মা‘দান (রহ)


হযরত খালিদের (রহ) ডাকনাম আবূ 'আবদিল্লাহ। তাঁর বংশধারা এরূপ: খালিদ ইবন মা'দান ইবন আবী কারব আল-কিলা'ঈ। শামের হিমসের অধিবাসী ছিলেন। ইবন সা'দ তাঁকে শামের তাবি'ঈদের তৃতীয় তবকায় (স্তর) স্থান দিয়েছেন।

জ্ঞান ও মনীষা
জ্ঞান অর্জন ও চর্চার প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। জ্ঞান চর্চাই তাঁর জীবনের একমাত্র ধ্যান ও কর্মে পরিণত হয়। বুহাইর বলেন, আমি তাঁর চেয়ে বেশি কাউকে জ্ঞান চর্চায় নিমগ্ন থাকতে দেখিনি। তাঁর এই আগ্রহ-উদ্দীপনা তাঁকে হিমসের বিশিষ্ট 'আলিমে পরিণত করে।

হাদীছ
তিনি হাদীছের একজন বড় হাফিজ ছিলেন। সত্তর (৭০) জন মহান সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভের গৌরব অর্জন করেন। তাদের মধ্যে হযরত ছাওবান, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবন আল-'আস, 'উতবা ইবন 'আবদুস সালমী, মু'আবিয়া ইবন আবী সুফইয়ান, মিকদাম ইবন মা'দিকারিব ও আবূ উমারের (রা) নিকট থেকে হাদীছ শোনেন। হযরত 'উবাদা ইবন আস-সামিত, আবুদ দারদা', মু'আয ইবন জাবাল, আবূ 'উবায়দা, আবূ যার আল-গিফারী ও 'আয়িশা সিদ্দীকার (রা) নিকট থেকে শোনা হাদীছ "মুরসাল" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফিকহ শাস্ত্রেও তাঁর পারদর্শিতা ছিল। ফকীহ সাহাবায়ে কিরামের পরে শামের ফকীহদের তৃতীয় স্তরে তাঁকে গণ্য করা হতো। তাঁর একটি নিজস্ব দারসের আসর ছিল। কিন্তু খ্যাতিকে এত পরিমাণ ভয় করতেন যে, আসরে উপস্থিতির সংখ্যা বেড়ে গেলে নাম-কামের ভয়ে পঠন-পাঠনের এই আসরটি ভেঙ্গে দেন।

ছাত্র
তাঁর কয়েকজন খ্যাতিমান ছাত্র হলেন: বুহায়রা ইবন সা'ঈদ, মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম তায়মী, ছাওর ইবন ইয়াযীদ, হুরায়য ইবন 'উছমান, 'আমির ইবন হাশীব, হাসসান ইবন 'আতিয়্যা, ফুদায়ল ইবন ফুদালা (রহ) ও আরো অনেকে।

তিনি তাঁর অর্জিত জ্ঞান সবই লিখে নিতেন। তাঁর ছাত্র বুহায়র বলেন, তাঁর অর্জিত সকল জ্ঞান একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। তাঁর সমকালীন সকল বড় বড় ইমাম তাঁর পাণ্ডিত্য স্বীকার করেছেন। সুফইয়ান ছাওরী বলতেন, আমি খালিদ ইবন মা'দানের উপর দ্বিতীয় কাউকে প্রাধান্য দিই না। ইমাম আওযা'ঈ (রহ) তাঁর প্রতি ভীষণ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং মানুষকে খালিদের কন্যা "আবাদা"র নিকট পাঠিয়ে তাঁর রীতি-পদ্ধতি অবগত হতেন।

'ইবাদত
'ইলমের সাথে সাথে তিনি 'আমলেও ঋদ্ধ ছিলেন। ইবন হিব্বান তাঁকে আল্লাহর উত্তম বান্দাদের একজন বলে উল্লেখ করেছেন। রাত-দিনে সত্তর হাজার বার তাসবীহ পাঠ করতেন। এছাড়া কুরআন তিলাওয়াত করতেন। অত্যধিক 'ইবাদত-বন্দেগীর চিহ্ন তাঁর কপালে দীপ্তিমান ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর গোসলের জন্য লাশ খাটিয়ায় রাখা হলে দেখা গেল ডান হাতের আংগুল তাসবীহ পাঠরত ভঙ্গিতে রয়েছে।

মরণের প্রতি তীব্র আকাঙ্খা
সাধারণ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। কিন্তু আল্লাহ প্রেমিক বান্দারা মৃত্যুকে মিলনের বার্তা বলে মনে করে। আর এ কারণে হযরত খালিদ (রহ) ভীত হওয়ার পরিবর্তে মৃত্যুর অধীর আগ্রহে থাকতেন। তিনি বলতেন, যদি মৃত্যু এমন কোন জ্ঞান হতো যা অর্জনের জন্য দৌড় প্রতিযোগিতা হতো তাহলে সবার আগে তার কাছে পৌঁছে যেতাম। শক্তির জোরে আমাকে অতিক্রম করতে পারতো এমন ব্যক্তি ছাড়া কেউ আমাকে হারাতে পারতো না। ইয়াযীদ ইবন 'আবদিল মালিকের খিলাফতকালে তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হয়। ১০৩ অথবা ১০৪ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তিনি রোযা ছিলেন।

টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল-৫/৪০৯, ৪১১
২. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৮১; তাবি'ঈন-১০২
৩. তাহযীব আল-কামাল-৫/৪১১
৪. হাদীছের সনদের শেষাংশ থেকে তাবি'ঈর পরে সাহাবী বাদ পড়াকে 'আল-মুরসাল' বলে। যেমন, কোন তাবি'ঈর উক্তি: 'রাসূল (সা) এরূপ বলেছেন, বা এরূপ করেছেন অথবা তাঁর সামনে এরূপ করা হয়েছে' ইত্যাদি। এখানে তাবি'ঈ যে সাহাবীর নিকট থেকে হাদীছটি শুনেছেন তাঁর নাম বাদ দিয়েছেন, তাই হাদীছটি 'আল-মুরসাল' হবে। শব্দটির আভিধানিক অর্থ ছেড়ে দেয়া, বাদ দেয়া।
৫. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/১১৯
৬. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৮১; তাহযীব আল-কামাল-৫/৪১১
৭. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/১১৮
৮. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৮১
৯. প্রাগুক্ত
১০. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/১১৯
১১. প্রাগুক্ত
১২. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৮১; তাহযীব আল-কামাল-৫/৪১৩
১৩. আত-তাবাকাত-৭/১৬২
১৪. তাহযীব আল-কামাল-৫/৪১৩
১৫. প্রাগুক্ত-৫/৪১২, ৪১৩; আত-তাবাকাত-৭/১৬২

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 আবূ বুরদা ইবন আবী মূসা আল-আশ‘আরী (রা)

📄 আবূ বুরদা ইবন আবী মূসা আল-আশ‘আরী (রা)


আবূ বুরদা ডাকনাম, আসল নাম 'আমির মতান্তরে আল-হারিছ। ডাক নামেই তিনি প্রসিদ্ধ। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবূ মূসা আল-আশ'আরীর (রা) পুত্র। কুফার একজন বিখ্যাত ফকীহ্ তাবি'ঈ। তথাকার কাজীও ছিলেন। আল-মাদায়িনী বলেন, তাঁর পিতা আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) 'উমার অথবা 'উছমানের (রা) খিলাফতকালে যখন বসরার আমীর ছিলেন তখন আবূ বুরদার জন্ম হয়।

তাঁর মহান পিতা হযরত আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) ছিলেন একজন উঁচুমানের সাহাবী। তিনি তাঁর এই পুত্রকে শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে বিখ্যাত সাহাবী হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রা) নিকট পাঠিয়ে দেন। উল্লেখ্য যে, ইসলাম পূর্ব জীবনে এই 'আবদুল্লাহ ইবন সালাম ছিলেন মদীনায় ইহুদীদের একজন বড় 'আলিম। তাঁর নিকট যাওয়ার ঘটনাটি আবূ বুরদা বর্ণনা করেছেন এভাবে আমার মুহতারাম পিতা আমাকে জ্ঞান অর্জনের জন্য 'আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রা) নিকট পাঠান। আমি যখন তাঁর কাছে গেলাম, তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, ভাতিজা! তোমরা এক ব্যবসা কেন্দ্রে বসবাস কর। এ কারণে এদিকে দৃষ্টি রাখবে যে, যখন কারো উপর তোমাদের কিছু অর্থ-সম্পদ পরিশোধ করা ওয়াজিব হয় তখন যদি সে তোমাদেরকে খুশী করার জন্য অতিরিক্ত এক আটি ঘাসও দেয় তাহলে তা গ্রহণ করবে না। কারণ তা সুদ হবে।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমি যখন মদীনায় গেলাম এবং 'আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রা) সাথে সাক্ষাৎ করলাম তখন তিনি বললেন, চলো, যে ঘরে রাসূল (সা) প্রবেশ করে সালাত আদায় করেন তুমিও সেখানে গিয়ে সালাত আদায় করবে। তোমাকে খেজুর ও ছাতু খাওয়াবো। তারপর বলেন: ভাতিজা! তোমরা এমন এক স্থানে বসবাস কর যেখানে সুদ ব্যাপকভাবে প্রচলিত। তোমরা এমন মানুষ যে, যখন তোমাদের ওখানে কেউ কোন ব্যক্তিকে করজ (ঋণ) দেয় এবং তা পরিশোধের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যায় তখন মাকরূজ (ঋণ গ্রহীতা) খাদ্য-খাবারের একটি পুটলি এবং ঘাসের একটি বোঝা সংগে নিয়ে হাজির হয়। এটা সুদ হবে।

জ্ঞান ও মনীষা
হযরত আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) ও 'আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রা) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এবং অন্য সব মহান ব্যক্তির সাহচর্যের কল্যাণে আবূ বুরদা অগাধ জ্ঞানের অধিকারী হন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন:
আবূ মূসা আল-আশ'আরীর (রা) পুত্র আবূ বুরদা একজন ফকীহ্ ও দৃঢ়পদ ইমামদের একজন।
ইমাম নাওবী (রহ) বলেন, তাঁর বিশ্বস্ততা ও মহত্ত্বের ব্যাপারে সকলে একমত।

হাদীছ
তিনি ছিলেন হাদীছের বিশিষ্ট হাফিজদের মধ্যে একজন। ইবন সা'দ বলেন : তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, বহু হাদীছের ধারক-বাহক। এ বিষয়ে তিনি আবূ মূসা আল-আশ'আরী, 'আলী ইবন আবী তালিব, হুযায়ফা ইবন আল-ইয়ামান, 'আবদুল্লাহ ইবন সালাম, আ'য়ায আল-মুযানী, মুগীরা ইবন শু'বা, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবন আল-'আস, 'উরওয়া ইবন যুবায়র, আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ আত-তায়মী (রা) প্রমুখ সাহাবী ও তাবি'ঈর নিকট থেকে ফায়দা হাসিল করেন।

তাঁর নিকট থেকে যাঁরা হাদীছ শুনেছেন ও বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: তাঁর পুত্র সা'ঈদ ও বিলাল, পৌত্র ইয়াযীদ এবং অন্যদের মধ্যে ইমাম শা'বী, ছাবিত আন-নাবানী, হুমায়দ ইবন হিলাল, 'আবদুল মালিক ইবন নুমায়র, কাতাদা, আবু ইসহাক সুবায়'ঈ (রহ) প্রমুখ।

ফিক্হ শাস্ত্রে তিনি বিশেষ স্থানের অধিকারী ছিলেন। ইমাম যাহাবী (রহ) তাঁকে ইমাম ও ফকীহ বলেছেন। ফিক্হ বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞানের কারণে কাজী শুরায়হ-এর পরে তিনি কুফার কাজীর পদে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হন। পরে তাঁর পুত্র বিলাল তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

নৈতিক গুণাবলী
নৈতিক গুণাবলীর তিনি বাস্তব রূপ ছিলেন। তাঁর ব্যক্তি সত্তায় সকল নৈতিক গুণ ও সৌন্দর্যের সমাবেশ ঘটেছিল। ইয়াযীদ ইবন মুহাল্লাব যখন খুরাসানের ওয়ালী ছিলেন তখন তাঁর বহু গুণ বিশিষ্ট একজন লোকের প্রয়োজন পড়ে। তিনি লোকদের বললেন, আমাকে এমন একজন লোক দাও যার মধ্যে উত্তম বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে। লোকেরা আবূ বুরদার নাম বলে। ইয়াযীদ তাঁকে ডেকে এনে কথা বলেন এবং তাঁকে উত্তম ব্যক্তি রূপে দেখতে পান। আবূ বুরদার কথায় তিনি দারুণ মুগ্ধ হন। পরীক্ষার পর তিনি তাঁকে বলেন, আমি আপনাকে অমুক অমুক পদে নিয়োগ করলাম।

আবূ বুরদা তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ইয়াযীদ তাঁর কথা মানলেন না। তখন আবূ বুরদা নিজের অক্ষমতার সপক্ষে এ দলীল উপস্থাপন করেন যে, আমার মহান পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলতেন, যে ব্যক্তি এমন কোন পদ গ্রহণ করে যে সম্পর্কে নিজেই জানে যে সে তার উপযুক্ত নয়, তাহলে জাহান্নামকে নিজের ঠিকানা বানানোর জন্য তার প্রস্তুত থাকা উচিত হবে। হিজরী ১০৩ অথবা ১০৪ সনে কৃষ্ণায় তাঁর ইনতিকাল হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮০ বছরের উপরে।

টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল-১৯/৪৮
২. তাহযীব আত-তাহযীব-১২/২২
৩. আত-তাবাকাত-৫/১৮৭
৪. প্রাগুক্ত
৫. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৯৫
৬. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৭৯
৭. প্রাগুক্ত; আত-তাবাকাত-৫/১৮৭; তাহযীব আল-কামাল-১৯/৫০
৮. তাহযীব আত-তাহযীব-১২/১৮
৯. প্রাগুক্ত; তাহযীব আল-কামাল-১৯/৫০
১০. আত-তাবাকাত-৫/১৮৭; শাজারাত আয-যাহাব-১/১২৬
১১. আত-তাবাকাত-৫/১৮৭; তাহযীব আল-কামাল-১৯/৫২; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৯৫

📘 তাবিঈদের জীবনকথা 📄 কা‘ব আল-আহবার (রহ)

📄 কা‘ব আল-আহবার (রহ)


হযরত কা'ব-এর (রহ) ডাকনাম আবু ইসহাক, পিতার নাম মাতি' ইবন হানযু'। তিনি ছিলেন ইয়ামনের বিখ্যাত হিময়ার গোত্রের শাখা গোত্র "আলে যী রু'আইন"-এর সন্তান।

ইসলাম গ্রহণ ও মদীনায় আগমন
হযরত কা'ব (রহ) একজন বিখ্যাত তাবি'ঈ। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি একজন ইহুদী 'আলিম ছিলেন। হযরত রাসূলে কারীমের (সা) জীবদ্দশায়ও তিনি বিদ্যমান ছিলেন, কিন্তু সঠিক বর্ণনা মতে সে সময় ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হন। একটি বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, সে সময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইমাম আশ-শাতিবী বর্ণনা করেছেন, কা'ব বলেন: হযরত 'আলী (রা) যখন ইয়ামন আসেন তখন আমি তাঁর নিকট যেয়ে হযরত রাসূলে কারীমের (সা) পরিচয় ও গুণ-বৈশিষ্ট্য জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন। আমি তা শুনে একটু মৃদু হাসি। 'আলী (রা) আমার এ মৃদু হাসির কারণ জিজ্ঞেস করেন। আমি বলি: আমাদের ধর্মে শেষ যামানার নবীর যে সব আলামত বলা হয়েছে হযরত রাসূলে কারীমের (সা) সাথে তার মিল থাকায় হেসেছি। এরপর আমি মুসলমান হয়ে যাই এবং মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাতে থাকি। তবে ইয়ামনেই থেকে যাই। 'উমারের (রা) খিলাফতকালে হিজরাত করে মদীনায় যাই। আফসোস! আমি যদি সেই পূর্বেই হিজরাত করতাম। আরেকটি বর্ণনা এ রকম এসেছে যে, তিনি হযরত আবূ বাকরের (রা) খিলাফতকালে ইসলাম গ্রহণ করেন।

উপরের দু'টি বর্ণনাই দুর্বল বলে মুহাদ্দিছগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সঠিক বর্ণনা সেটাই যা ইবন সা'দ কা'বের হালীফ তথা চুক্তিবদ্ধ আশ্রয়দাতা হযরত 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনা দ্বারা খোদ কা'বের বক্তব্যেই হযরত 'উমার ইবন আল-খাত্তাবের (রা) খিলাফতকালে তাঁর ইসলাম গ্রহণ প্রমাণিত হয়। সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব (রহ) বর্ণনা করেছেন। হযরত 'আব্বাস (রা) কা'ব ইসলাম গ্রহণের পর তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, আবু বাকরের (রা) সময়ে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত থাকার এমনকি কারণ ছিল যে, এখন 'উমারের (রা) সময় ইসলাম গ্রহণ করছেন? জবাবে তিনি বলেন: আমার পিতা তাওরাত থেকে কিছু অংশ লিখে আমাকে দেন এবং উপদেশ দেন আমি যেন তার উপর 'আমল করি। তারপর ধর্মীয় সকল গ্রন্থের উপর সীল-মোহর লাগিয়ে আমাকে পিতৃত্বের অধিকারের কসম করিয়ে অঙ্গীকার নেন, আমি যেন এই সীল-মোহর না খুলি। এজন্য আমি তা খুলিনি এবং পিতার দেয়া লেখার উপর 'আমল করতে থাকি। যখন ইসলামের প্রচার-প্রসার ও তার প্রাধান্য পেতে থাকে এবং কোন ভয়-ভীতির অবকাশ থাকলো না তখন আমার মনে হলো, আমার পিতা আমার নিকট কিছু 'ইল্‌ম গোপন করে গেছেন। এখন আমার এই সীল-মোহরকৃত গ্রন্থগুলো খুলে দেখা উচিত। অতঃপর আমি সীল-মোহর ভেঙ্গে গ্রন্থগুলো পাঠ করি। তাতে আমি মুহাম্মাদ (সা) ও তাঁর উম্মাতের পরিচয় ও গুণ-বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। সেই সময় আমার নিকট প্রকৃত সত্য প্রকাশ পায়। এজন্য আমি এখন এসে ইসলাম গ্রহণ করেছি। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহর (সা) চাচা হযরত 'আব্বাসের (রা) সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে থাকেন।

তাঁর জ্ঞান ও মনীষা
হযরত কা'ব (রহ) ছিলেন ইহুদীদের একজন বিশিষ্ট ও বিখ্যাত 'আলিম। ইহুদী ধর্ম সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের পরিধি ছিল অতি ব্যাপক। ইমাম যাহাবী লিখেছেন, তিনি ছিলেন জ্ঞানের ভাণ্ডার এবং আহলি কিতাবদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ 'আলিম। ইমাম নাওবী লিখেছেন, তাঁর ব্যাপক জ্ঞান ও বিশ্বস্ততার ব্যাপারে সকলে একমত। অগাধ জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার কারণে তাঁকে "কা'ব আল-আহবার" এবং "কা'ব আল-হাবর" বলা হতো। তাঁর গুণ-বৈশিষ্ট্য অনেক। তাঁর জ্ঞানগর্ভ অনেক কথা ও মন্তব্য অতি প্রসিদ্ধ। অনেক বড় বড় সাহাবী তাঁর গভীর জ্ঞানের কথা স্বীকার করতেন। হযরত আবু দারদা' আল-আনসারী (রা) কা'বের সাথে হিমসে এক সাথে ছিলেন। তিনি বলতেন, ইবন হিময়ারের নিকট বহু জ্ঞান আছে। আমীর মু'আবিয়া (রা) বলতেন, আবুদ দারদা' (রা) হাকীম তথা মহাজ্ঞানীদের অন্তর্গত, আর কা'ব 'আলিমদের অন্তর্গত। তার নিকট সাগরের মত সীমাহীন জ্ঞান ছিল।

যেহেতু তিনি একটি ধর্মের একজন বড় 'আলিম ছিলেন, এ কারণে ইসলামী জ্ঞানের সাথেও তাঁর বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তিনি কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করেন মদীনায় সাহাবায়ে কিরামের (রা) নিকট থেকে এবং অন্যদিকে সাহাবায়ে কিরামও তাঁর নিকট আহলি কিতাবের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন। কুরআন ও সুন্নাহ্র জ্ঞান তিনি লাভ করেন হযরত 'উমার, সুহায়ব ও উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশার (রা) নিকট থেকে। অন্যদিকে তাঁর নিকট ইসরাঈলিয়াত বা বনী ইসরাঈলের জ্ঞান লাভ করেন সাহাবীদের মধ্যে আবূ হুরায়রা, মু'আবিয়া, ইবন 'আব্বাস (রা) এবং তাবি'ঈদের মধ্যে মালিক ইবন আবী 'আমির আসবাহী, 'আতা ইবন আবী রাবাহ, আবদুল্লাহ ইবন রিয়াহ আনসারী, 'আবদুল্লাহ ইবন হামযা সুলুলী, আবু রাফে' সায়িগ, 'আবদুর রহমান ইবন শু'আয়ব (রহ) সহ বিরাট একটি দল।

'ইল্ম, 'উলামা ও 'ইল্মের ক্ষয় ও পতন সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য
একবার তিনি প্রখ্যাত সাহাবী হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রা) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন: কা'ব! প্রকৃত 'আলিম কারা? জবাব দেন যারা 'ইল্ম অনুযায়ী 'আমল করে। ইবন সালাম আবার জিজ্ঞেস করেন 'আলিমদের অন্তর থেকে 'ইল্যু দূর করে দেবে কোন জিনিস? বলেন: লোভ এবং মানুষের সামনে নিজের অভাব ও প্রয়োজনের কথা বলা ও প্রত্যাশা করা। 'আবদুল্লাহ ইবন সালাম বলেন: আপনি সত্য বলেছেন।

শামে অবস্থান
কা'বের পৈত্রিক ধর্ম ছিল ইহুদী। এ কারণে প্রথম থেকেই শামের সাথে তাঁর হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল। ইসলামের দৃষ্টিতেও এ ভূমি অতি পবিত্র ও সম্মানিত। এ কারণে কিছুকাল মদীনায় থাকার পর তিনি শামে চলে যান এবং হিমসে আবাসন গড়ে তোলেন।

জনগণকে উপদেশ দান
শামে অবস্থানকালে তাঁর প্রধান কাজ ছিল ইসরাঈলী কিস্সা-কাহিনী ভিত্তিক মানুষকে উপদেশ দান করা। একবার 'আওফ ইবন মালিক (রা) উপদেশ দানরত অবস্থায় তাঁকে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট থেকে শুনেছি, আমীর, দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি ও বয়স্কদের সামনে ছাড়া আর কাউকে কিস্সা-কাহিনী শোনানো উচিত নয়। এরপর তিনি ওয়াজ ছেড়ে দেন। অবশ্য পরে স্থানীয় আমীরের নির্দেশে আবার একাজ আরম্ভ করেন।

ইসলামী বর্ণনার মধ্যে ইসরাঈলী বর্ণনার প্রবেশ
হযরত কা'বের গভীর জ্ঞান ও মনীষার ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ নেই। তিনি ইহুদী ধর্মের একজন খ্যাতিমান 'আলিম ছিলেন। তবে ইহুদীদের জ্ঞানের বেশির ভাগ উৎস ছিল কিস্সা-কাহিনী। হযরত কা'বের জ্ঞানের উৎসও ছিল তাই। এ কারণে একটি বড় ক্ষতি এই হয়েছে যে, অনেক ভিত্তিহীন ইসরাঈলী কাহিনী ইসলামী গ্রন্থাবলীতে ঢুকে গেছে। তাই কোন কোন ইমাম কা'বের বর্ণনাসমূহকে অগ্রহণযোগ্য মনে করেছেন। অবশ্য এ ব্যাপারে আমাদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, আমাদের পূর্ববর্তীকালের পণ্ডিত-মনীষীগণ বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন এবং তাঁরা যথাসময়ে এবং যথাস্থানে তা চিহ্নিতও করে গেছেন।

ওফাত
হযরত 'উছমানের (রা) খিলাফাতকালে হিজরী ৩২ সনে তিনি হিমসে ইনতিকাল করেন। অপর একটি বর্ণনায় হিজরী ৩৪ সনের কথা এসেছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৪ বছর।

কা'ব বলতেন, আমার ওজনের সমপরিমাণ সোনা আমি সাদাকা হিসেবে দান করি- তার চেয়ে আল্লাহর ভয়ে আমি কাঁদি- এ আমার অধিকতর প্রিয়। পার্থিব জীবনে যে দু'টি চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদে পানি ঝরায় পরকালীন জীবনে সেই দু'টি চোখকে উৎফুল্ল রাখা আল্লাহর দায়িত্ব।

টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-১৫/৩৯৯, ৪০০
২. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৫২
৩. আল-ইসাবা ফী তাময়ীয আস-সাহাবা-৩/৩১৫-৩১৬; তাহযীব আল-কামাল-১৫/৩৯৯
৪. আত-তাবাকাত-৭/১৫৬; তাহযীব আল-কামাল-১৫/৪০০
৫. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৫২
৬. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/৯
৭. আল-ইসাবা-৩/৩১৫
৮. তাহযীব আত-তাহযীব-৫/৪৩৮; তাহযীব আল-কামাল-১৫/৩৯৯
৯. আল-ইসাবা-৩/৩১৬; তাহযীব আল-কামাল-১৫/৪০১
১০. প্রাগুক্ত; আত-তাবাকাত-৭/১৫৬
১১. আল-ইসাবা-৩/৩১৬; তাবি'ঈন-৩৯২
১২. আত-তাবাকাত-৭/১৫৬; তাহযীব আল-কামাল-১৫/৪০০
১৩. তাহযীব আল-কামাল-১৫/৪০১

ফন্ট সাইজ
15px
17px