📄 জাবির ইবন যায়দ (রহ)
হযরত জাবিরের (রহ) ডাকনাম আবূ আশ-শা'ছা'। পিতার নাম যায়দ। আযদ গোত্রের সন্তান এবং বসরার অধিবাসী। উমান মতান্তরে বসরার 'আল-জাওফ' নামক স্থানের সাথে সম্পর্ক বুঝানোর জন্য তাঁকে 'আল-জাওফী' বলা হয়।
জ্ঞান ও মনীষা
হযরত জাবির (রহ) বহু 'আলিম সাহাবীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তবে হাবরুল উম্মাহ্ (উম্মাতের মহাজ্ঞানী) হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাসের (রা) সাহচর্ষে সবচেয়ে বেশি অবস্থান করেন। এ কারণে তাঁকে "সাহিবু ইবন আল-আব্বাস" অর্থাৎ ইবন আল-আব্বাসের (রা) সাথী বলা হতো। এই সাহচর্যের কল্যাণে তিনি বিশাল জ্ঞানের অধিকারী হন এবং তাঁর সময়ের একজন বিশিষ্ট 'আলিম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) তাঁকে "আহাদুল আ'-লা-মি" বা "বিশিষ্টজনদের একজন” বলেছেন। ইমাম-নাওবী (রহ) বলেন, তাঁর বিশ্বস্ততা, দৃঢ়তা ও সুউচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে সকলে একমত। তিনি ছিলেন তাবি'ঈ ইমাম ও ফকীহদের মধ্যে একজন।
কুরআন
কুরআন, হাদীছ, ফিক্ তথা সকল ইসলামী জ্ঞানে তিনি সমান পারদর্শিতা অর্জন করেন। 'উলূমুল কুরআন বা কুরআন বিষয়ক বিবিধ জ্ঞানে ছিলেন বিশেষভাবে পারদর্শী। তাঁর মহান শিক্ষক হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা), যিনি নিজেও একজন শ্রেষ্ঠ কুরআন বিশেষজ্ঞ ছিলেন, বলেন:
"বসরাবাসীরা যদি জাবির ইবন যায়দের কথা মেনে নেয় তাহলে কিতাবুল্লাহর (কুরআন) মধ্যে যা কিছু আছে সে বিষয়ে তাদের জ্ঞান অনেক প্রশস্ত হয়ে যাবে।"
হাদীছ
তিনি হাদীছেরও একজন বড় হাফিজ ছিলেন। ইমাম যাহাবী (রহ) তাঁকে হাদীছের বিশিষ্ট 'আলিমদের মধ্যে গণ্য করেছেন। হাদীছের জ্ঞান তিনি অর্জন করেন হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, 'আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র, হাকাম ইবন 'আমর আল-গিফারী, আমীর মু'আবিয়া (রা) প্রমুখের মত শীর্ষস্থানীয় সাহাবীগণের নিকট থেকে। তাঁর নিকট থেকে যাঁরা হাদীছ শুনেছেন এবং তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে 'আমর ইবন দীনার, ইয়া'লা ইবন মুসলিম, আইউব আস-সাখতিয়ানী, 'আমর ইবন জুরহুম (রহ) প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
ফিক্হ
ফিক্হ বিষয়েও তাঁর পূর্ণ দক্ষতা ছিল। ইমাম নাওবী (রহ) তাঁকে তাবি'ঈ ইমাম ও ফকীহদের মধ্যে গণ্য করেছেন। সাহাবা (রা) ও তাবি'ঈন কিরাম (রহ) ফিক্হ বিষয়ে তাঁর পারদর্শিতার কথা স্বীকার করেছেন। দাহহাক আদ-দাব্বী বলেন, একবার হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) তাওয়াফের মধ্যে জাবির ইবন যায়দের দেখা পান। তখন তিনি জাবিরকে লক্ষ্য করেন বলেন:
"ওহে জাবির! তুমি বসরার একজন অন্যতম ফকীহ্ এবং তুমি মানুষের জিজ্ঞাসার জবাবে ফাতওয়া দিয়ে থাক। তবে কখনো স্পষ্টভাষী কুরআন ও কার্যকর সুন্নাহ ব্যতীত ফাতওয়া দেবে না। এমনটি না করলে তুমি নিজেও ধ্বংস হবে এবং অন্যদেরকেও ধ্বংস করবে।” হাম্মাদ ইবন যায়দ বলেন:
"আইউবকে জিজ্ঞেস করা হল: আপনি কি জাবির ইবন যায়দকে দেখেছেন? বললেন: হাঁ, দেখেছি। তিনি ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান মানুষ। তারপর উচ্ছ্বসিতভাবে তাঁর ফিক্হ বিষয়ে আলোচনা করতে থাকেন।" ইয়াস ইবন মু'আবিয়া ছিলেন বসরার বিখ্যাত কাজী। তিনি বলেন:
"আমি বসরাবাসী ও তাদের মুফতী জাবির ইবন যায়দকে পেয়েছি।" অপর একটি বর্ণনামতে তিনি বলেন, জাবির ছাড়া বসরাবাসীদের সত্যিকার কোন মুফতী ছিল না। হযরত হাসান আল-বাসরীর (রহ) অনুপস্থিতিতে জাবির ফাতওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করতেন।
হযরত জাবির (রহ) কোন এক কারণে একবার কারারুদ্ধ হন। ধারণা করা হয় যে, হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের যুলুম-অত্যাচারের শিকারে পরিণত হন তিনি। তাঁর জ্ঞানের উপর বসরাবাসীদের এত আস্থা ছিল যে, তারা তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর লাভের জন্য কারাগারে তাঁর নিকট ছুটে যেত। কাতাদা বলেন, জাবির কারারুদ্ধ হলেন। সে সময় হিজড়ের উত্তরাধিকারের বিষয়ে একটি সমস্যা দেখা দিলে লোকেরা কারাগারে তাঁর নিকট সমাধান চেয়ে পাঠালো। তিনি বললেন, তোমরা তো বেশ ভালো। আমাকে কারাগারে আটক রেখেছো, আবার আমার নিকট ফাতওয়াও চাচ্ছো। অতঃপর তিনি জবাব পাঠিয়ে দেন। বসরাবাসীদের কেউ হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাসের (রা) নিকট কোন কিছু জানতে চাইলে বলতেন: "তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করছো, অথচ তোমাদের মধ্যে তো জাবির ইবন যায়দ আছে।"
হযরত জাবিরের ব্যক্তি সত্তাটি ছিল বহু জ্ঞানের সমাহার, তিনি তাঁর যুগের একজন খুব বড় 'আলিম ছিলেন। 'আমর ইবন দীনার বলতেন:
"আমি জাবির ইবন যায়দ অপেক্ষা ফাতওয়া বিষয়ে অধিক জানে এমন কাউকে দেখিনি।” তাঁর মৃত্যুর পর হযরত কাতাদার (রহ) মুখ থেকে বার বার উচ্চারিত হচ্ছিল: আল-ইয়াওমা দুফিনা ইলমুল আরদ্বি - “আজ পৃথিবীর জ্ঞান দাফন হয়ে গেল।”
জ্ঞান গ্রন্থাবদ্ধকরণ
সেই যুগের কিছু মহান ব্যক্তির মত তিনিও জ্ঞান গ্রন্থাবদ্ধ করা পছন্দ করতেন না। 'আমর ইবন দীনার বলেন, কিছু লোক জাবির ইবন যায়দকে বললো, মানুষ আপনার মুখ থেকে যা শোনে তা লিখে ফেলে। একথা শুনে তিনি "ইন্না লিল্লাহ" উচ্চারণ করে বলেন, তারা লিখে ফেলে? তাঁর অনীহা দেখে তাঁর ছাত্রদের অনেকে লেখা ছেড়ে দেয়।
এত জ্ঞান-গরীমার সাথে চারিত্রিক বহু গুণ ও বৈশিষ্ট্যে তিনি বিভূষিত ছিলেন। ভালো কাজের বিপরীতে দুনিয়ার যে কোন সুখ-সম্পদের কোন রকম গুরুত্ব তাঁর কাছে ছিল না। তিনি বলতেন, ষাট বছর জীবন পূর্ণ হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক কিছু পেয়েছি, আল্লাহর বহু অনুগ্রহ লাভ করেছি। কিন্তু এই ভালো কাজ ছাড়া অবশিষ্ট যা কিছু আমি করেছি এবং এ সকল সুখ-সম্পদ আমার জুতার থেকেও হেয় ও তুচ্ছ। মুহাম্মাদ ইবন হুসায়ন বলতেন, আল্লাহ জাবিরের প্রতি দয়া করুন! তিনি দিরহামের বিপরীতেও একজন মুসলিম ছিলেন।
একটি অপবাদ ও তাঁর সম্পর্কহীনতা
চরমপন্থী খারিজী সম্প্রদায়ের একটি উপদলের নাম 'ইবাদিয়া' । তাদের কিছু লোক তাঁর কাছে আসা-যাওয়া করতো। এ কারণে তাঁর সম্পর্কে কিছু মানুষের এ ধারণা সৃষ্টি হয় যে, এই সম্প্রদায়ের সাথে তাঁর সম্পর্ক আছে অথবা কমপক্ষে তাদের চিন্তা-দর্শন দ্বারা তিনি কিছুটা প্রভাবিত। কিন্তু তাদের এ ধারণা সবই অমূলক ও ভিত্তিহীন ছিল। ইবাদিয়াদের সাথে তাঁর উঠা-বসা ছিল ঠিক, তবে তাদের চিন্তা-দর্শনের সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না। তিনি তাঁর জীবনে বার বার এবং শেষ জীবনে অন্তিম রোগ শয্যায়ও ইবাদিয়াদের চিন্তা-বিশ্বাসের সাথে তাঁর সম্পর্কহীনতার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। তাঁর অন্তিম সময়ে যখন অবস্থা একেবারেই খারাপ হয়ে পড়ে তখন ছাবিত আল-বানানী তার কাছে জানতে চান, আপনার কোন ইচ্ছা আছে কি? বললেন: হাসান আল-বাসরীকে এক নজর দেখতে চাই। সে সময় হাসান আল-বাসরী (রহ) সরকারের কোপদৃষ্টিতে ছিলেন। তাই গ্রেফতার এড়াতে আবু খলীফা নামক এক ব্যক্তির গৃহে আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁকে জাবিরের ইচ্ছার কথা জানানো হলো। সাথে সাথে তিনি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। কিন্তু ছাবিত তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, বের হলে গ্রেফতার হওয়ার ভয় আছে। তিনি জবাব দিলেন : আল্লাহ আমাকে শত্রুর দৃষ্টি থেকে রক্ষা করবেন। তিনি নিষেধ উপেক্ষা করে তখনই রাতের অন্ধকারে জাবিরের নিকট পৌঁছেন। জাবিরের একা উঠে বসার শক্তি ছিল না। তাই অন্যের সাহায্য নিয়ে উঠে বসেন। হাসান আল-বাসরী (রহ) তাঁকে কালিমা তায়্যিবা পড়ার তালকীন দেন এবং তিনি কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করেন। তারপর তিনি ইবাদিয়াদের বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য জাবিরের কাছে জিজ্ঞেস করেন, ইবাদিয়াদের সাথে তোমার সম্পর্কের প্রকৃতিটি কেমন ছিল? জাবির বলেন, আমি আল্লাহর কাছে তাদের ব্যাপারে দায়মুক্তি চাই। হাসান আল-বাসরী (রহ) আবার প্রশ্ন করেন: তাদের ব্যাপারে তোমার ধারণা কি? জাবির তাদের সাথে নিজের সম্পর্কহীনতার কথা প্রকাশ করেন। তখন জাবিরের একান্তই অন্তিমদশা। এ কারণে হাসান আল-বাসরী (রহ) তাঁকে বিদায় দেওয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু তখনো জাবিরের জীবনকাল শেষ হয়নি। তাই হযরত হাসান (রহ) সুবহে সাদিক হওয়ার পর নামাযে জানাযার ভঙ্গিতে চারটি তাকবীর উচ্চারণ করে জাবিরের মাগফিরাতের জন্য দু'আ করেন। তারপর অন্ধকারেই নিজের অবস্থান স্থলে ফিরে যান। আর এ রোগেই হযরত জাবির (রহ) ইনতিকাল করেন।
ওফাত
ইমাম আহমাদ, আল-ফাল্লাস ও বুখারীর মতে তিনি হিজরী ৯৩ সনে ইনতিকাল করেন। পক্ষান্তরে আল-ওয়াকিদী ও ইবন সা'দের মতে তাঁর মৃত্যু সন হিজরী ১০৩ এবং আল- হায়ছাম ইবন 'আদীর মতে হিজরী ১০৪
টিকাঃ
১. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭২
২. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-৩/২৮৬
৩. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৭৩
৪. প্রাগুক্ত
৫. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৪২
৬. তাহযীব আল-কামাল-৩/২৮৬
৭. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৩
৮. তাহযীব আত-তাহযীব-২/৩৮
৯. তাহযীব আল-আসমা'-১/১৪২
১০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৩
১১. প্রাগুক্ত; আত-তাবাকাত-৭/১৩১
১২. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭২
১৩. আত-তাবাকাত-৭/১৩১
十四. তাহযীব আত-তাহযীব-২/৩৮
十五. আত-তাবাকাত-৭/১৩১
十六. তাহযীব আল-কামাল-৩/২৮৬
十七. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৭৩; আত-তাবাকাত-৭/১৩১
十八. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৭৩
十九. আত-তাবাকাত-৭/১৩৬
二十. প্রাগুক্ত-৭/১৩৪
২১. 'আবদুল্লাহ ইবন ইবাদ-এর অনুসারীদেরকে 'ইবাদিয়া' বলা হয়।
২২. আত-তাবাকাত-৭/৩২
২৩. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১.৭৩; তাহযীব আল-কামাল-৩/২৮৭.
হযরত জাবিরের (রহ) ডাকনাম আবূ আশ-শা'ছা'। পিতার নাম যায়দ। আযদ গোত্রের সন্তান এবং বসরার অধিবাসী। উমান মতান্তরে বসরার 'আল-জাওফ' নামক স্থানের সাথে সম্পর্ক বুঝানোর জন্য তাঁকে 'আল-জাওফী' বলা হয়।
জ্ঞান ও মনীষা
হযরত জাবির (রহ) বহু 'আলিম সাহাবীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তবে হাবরুল উম্মাহ্ (উম্মাতের মহাজ্ঞানী) হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাসের (রা) সাহচর্ষে সবচেয়ে বেশি অবস্থান করেন। এ কারণে তাঁকে "সাহিবু ইবন আল-আব্বাস" অর্থাৎ ইবন আল-আব্বাসের (রা) সাথী বলা হতো। এই সাহচর্যের কল্যাণে তিনি বিশাল জ্ঞানের অধিকারী হন এবং তাঁর সময়ের একজন বিশিষ্ট 'আলিম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) তাঁকে "আহাদুল আ'-লা-মি" বা "বিশিষ্টজনদের একজন” বলেছেন। ইমাম-নাওবী (রহ) বলেন, তাঁর বিশ্বস্ততা, দৃঢ়তা ও সুউচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে সকলে একমত। তিনি ছিলেন তাবি'ঈ ইমাম ও ফকীহদের মধ্যে একজন।
কুরআন
কুরআন, হাদীছ, ফিক্ তথা সকল ইসলামী জ্ঞানে তিনি সমান পারদর্শিতা অর্জন করেন। 'উলূমুল কুরআন বা কুরআন বিষয়ক বিবিধ জ্ঞানে ছিলেন বিশেষভাবে পারদর্শী। তাঁর মহান শিক্ষক হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা), যিনি নিজেও একজন শ্রেষ্ঠ কুরআন বিশেষজ্ঞ ছিলেন, বলেন:
"বসরাবাসীরা যদি জাবির ইবন যায়দের কথা মেনে নেয় তাহলে কিতাবুল্লাহর (কুরআন) মধ্যে যা কিছু আছে সে বিষয়ে তাদের জ্ঞান অনেক প্রশস্ত হয়ে যাবে।"
হাদীছ
তিনি হাদীছেরও একজন বড় হাফিজ ছিলেন। ইমাম যাহাবী (রহ) তাঁকে হাদীছের বিশিষ্ট 'আলিমদের মধ্যে গণ্য করেছেন। হাদীছের জ্ঞান তিনি অর্জন করেন হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, 'আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র, হাকাম ইবন 'আমর আল-গিফারী, আমীর মু'আবিয়া (রা) প্রমুখের মত শীর্ষস্থানীয় সাহাবীগণের নিকট থেকে। তাঁর নিকট থেকে যাঁরা হাদীছ শুনেছেন এবং তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে 'আমর ইবন দীনার, ইয়া'লা ইবন মুসলিম, আইউব আস-সাখতিয়ানী, 'আমর ইবন জুরহুম (রহ) প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
ফিক্হ
ফিক্হ বিষয়েও তাঁর পূর্ণ দক্ষতা ছিল। ইমাম নাওবী (রহ) তাঁকে তাবি'ঈ ইমাম ও ফকীহদের মধ্যে গণ্য করেছেন। সাহাবা (রা) ও তাবি'ঈন কিরাম (রহ) ফিক্হ বিষয়ে তাঁর পারদর্শিতার কথা স্বীকার করেছেন। দাহহাক আদ-দাব্বী বলেন, একবার হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) তাওয়াফের মধ্যে জাবির ইবন যায়দের দেখা পান। তখন তিনি জাবিরকে লক্ষ্য করেন বলেন:
"ওহে জাবির! তুমি বসরার একজন অন্যতম ফকীহ্ এবং তুমি মানুষের জিজ্ঞাসার জবাবে ফাতওয়া দিয়ে থাক। তবে কখনো স্পষ্টভাষী কুরআন ও কার্যকর সুন্নাহ ব্যতীত ফাতওয়া দেবে না। এমনটি না করলে তুমি নিজেও ধ্বংস হবে এবং অন্যদেরকেও ধ্বংস করবে।” হাম্মাদ ইবন যায়দ বলেন:
"আইউবকে জিজ্ঞেস করা হল: আপনি কি জাবির ইবন যায়দকে দেখেছেন? বললেন: হাঁ, দেখেছি। তিনি ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান মানুষ। তারপর উচ্ছ্বসিতভাবে তাঁর ফিক্হ বিষয়ে আলোচনা করতে থাকেন।" ইয়াস ইবন মু'আবিয়া ছিলেন বসরার বিখ্যাত কাজী। তিনি বলেন:
"আমি বসরাবাসী ও তাদের মুফতী জাবির ইবন যায়দকে পেয়েছি।" অপর একটি বর্ণনামতে তিনি বলেন, জাবির ছাড়া বসরাবাসীদের সত্যিকার কোন মুফতী ছিল না। হযরত হাসান আল-বাসরীর (রহ) অনুপস্থিতিতে জাবির ফাতওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করতেন।
হযরত জাবির (রহ) কোন এক কারণে একবার কারারুদ্ধ হন। ধারণা করা হয় যে, হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের যুলুম-অত্যাচারের শিকারে পরিণত হন তিনি। তাঁর জ্ঞানের উপর বসরাবাসীদের এত আস্থা ছিল যে, তারা তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর লাভের জন্য কারাগারে তাঁর নিকট ছুটে যেত। কাতাদা বলেন, জাবির কারারুদ্ধ হলেন। সে সময় হিজড়ের উত্তরাধিকারের বিষয়ে একটি সমস্যা দেখা দিলে লোকেরা কারাগারে তাঁর নিকট সমাধান চেয়ে পাঠালো। তিনি বললেন, তোমরা তো বেশ ভালো। আমাকে কারাগারে আটক রেখেছো, আবার আমার নিকট ফাতওয়াও চাচ্ছো। অতঃপর তিনি জবাব পাঠিয়ে দেন। বসরাবাসীদের কেউ হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাসের (রা) নিকট কোন কিছু জানতে চাইলে বলতেন: "তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করছো, অথচ তোমাদের মধ্যে তো জাবির ইবন যায়দ আছে।"
হযরত জাবিরের ব্যক্তি সত্তাটি ছিল বহু জ্ঞানের সমাহার, তিনি তাঁর যুগের একজন খুব বড় 'আলিম ছিলেন। 'আমর ইবন দীনার বলতেন:
"আমি জাবির ইবন যায়দ অপেক্ষা ফাতওয়া বিষয়ে অধিক জানে এমন কাউকে দেখিনি।” তাঁর মৃত্যুর পর হযরত কাতাদার (রহ) মুখ থেকে বার বার উচ্চারিত হচ্ছিল: আল-ইয়াওমা দুফিনা ইলমুল আরদ্বি - “আজ পৃথিবীর জ্ঞান দাফন হয়ে গেল।”
জ্ঞান গ্রন্থাবদ্ধকরণ
সেই যুগের কিছু মহান ব্যক্তির মত তিনিও জ্ঞান গ্রন্থাবদ্ধ করা পছন্দ করতেন না। 'আমর ইবন দীনার বলেন, কিছু লোক জাবির ইবন যায়দকে বললো, মানুষ আপনার মুখ থেকে যা শোনে তা লিখে ফেলে। একথা শুনে তিনি "ইন্না লিল্লাহ" উচ্চারণ করে বলেন, তারা লিখে ফেলে? তাঁর অনীহা দেখে তাঁর ছাত্রদের অনেকে লেখা ছেড়ে দেয়।
এত জ্ঞান-গরীমার সাথে চারিত্রিক বহু গুণ ও বৈশিষ্ট্যে তিনি বিভূষিত ছিলেন। ভালো কাজের বিপরীতে দুনিয়ার যে কোন সুখ-সম্পদের কোন রকম গুরুত্ব তাঁর কাছে ছিল না। তিনি বলতেন, ষাট বছর জীবন পূর্ণ হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক কিছু পেয়েছি, আল্লাহর বহু অনুগ্রহ লাভ করেছি। কিন্তু এই ভালো কাজ ছাড়া অবশিষ্ট যা কিছু আমি করেছি এবং এ সকল সুখ-সম্পদ আমার জুতার থেকেও হেয় ও তুচ্ছ। মুহাম্মাদ ইবন হুসায়ন বলতেন, আল্লাহ জাবিরের প্রতি দয়া করুন! তিনি দিরহামের বিপরীতেও একজন মুসলিম ছিলেন।
একটি অপবাদ ও তাঁর সম্পর্কহীনতা
চরমপন্থী খারিজী সম্প্রদায়ের একটি উপদলের নাম 'ইবাদিয়া' । তাদের কিছু লোক তাঁর কাছে আসা-যাওয়া করতো। এ কারণে তাঁর সম্পর্কে কিছু মানুষের এ ধারণা সৃষ্টি হয় যে, এই সম্প্রদায়ের সাথে তাঁর সম্পর্ক আছে অথবা কমপক্ষে তাদের চিন্তা-দর্শন দ্বারা তিনি কিছুটা প্রভাবিত। কিন্তু তাদের এ ধারণা সবই অমূলক ও ভিত্তিহীন ছিল। ইবাদিয়াদের সাথে তাঁর উঠা-বসা ছিল ঠিক, তবে তাদের চিন্তা-দর্শনের সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না। তিনি তাঁর জীবনে বার বার এবং শেষ জীবনে অন্তিম রোগ শয্যায়ও ইবাদিয়াদের চিন্তা-বিশ্বাসের সাথে তাঁর সম্পর্কহীনতার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। তাঁর অন্তিম সময়ে যখন অবস্থা একেবারেই খারাপ হয়ে পড়ে তখন ছাবিত আল-বানানী তার কাছে জানতে চান, আপনার কোন ইচ্ছা আছে কি? বললেন: হাসান আল-বাসরীকে এক নজর দেখতে চাই। সে সময় হাসান আল-বাসরী (রহ) সরকারের কোপদৃষ্টিতে ছিলেন। তাই গ্রেফতার এড়াতে আবু খলীফা নামক এক ব্যক্তির গৃহে আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁকে জাবিরের ইচ্ছার কথা জানানো হলো। সাথে সাথে তিনি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। কিন্তু ছাবিত তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, বের হলে গ্রেফতার হওয়ার ভয় আছে। তিনি জবাব দিলেন : আল্লাহ আমাকে শত্রুর দৃষ্টি থেকে রক্ষা করবেন। তিনি নিষেধ উপেক্ষা করে তখনই রাতের অন্ধকারে জাবিরের নিকট পৌঁছেন। জাবিরের একা উঠে বসার শক্তি ছিল না। তাই অন্যের সাহায্য নিয়ে উঠে বসেন। হাসান আল-বাসরী (রহ) তাঁকে কালিমা তায়্যিবা পড়ার তালকীন দেন এবং তিনি কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করেন। তারপর তিনি ইবাদিয়াদের বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য জাবিরের কাছে জিজ্ঞেস করেন, ইবাদিয়াদের সাথে তোমার সম্পর্কের প্রকৃতিটি কেমন ছিল? জাবির বলেন, আমি আল্লাহর কাছে তাদের ব্যাপারে দায়মুক্তি চাই। হাসান আল-বাসরী (রহ) আবার প্রশ্ন করেন: তাদের ব্যাপারে তোমার ধারণা কি? জাবির তাদের সাথে নিজের সম্পর্কহীনতার কথা প্রকাশ করেন। তখন জাবিরের একান্তই অন্তিমদশা। এ কারণে হাসান আল-বাসরী (রহ) তাঁকে বিদায় দেওয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু তখনো জাবিরের জীবনকাল শেষ হয়নি। তাই হযরত হাসান (রহ) সুবহে সাদিক হওয়ার পর নামাযে জানাযার ভঙ্গিতে চারটি তাকবীর উচ্চারণ করে জাবিরের মাগফিরাতের জন্য দু'আ করেন। তারপর অন্ধকারেই নিজের অবস্থান স্থলে ফিরে যান। আর এ রোগেই হযরত জাবির (রহ) ইনতিকাল করেন।
ওফাত
ইমাম আহমাদ, আল-ফাল্লাস ও বুখারীর মতে তিনি হিজরী ৯৩ সনে ইনতিকাল করেন। পক্ষান্তরে আল-ওয়াকিদী ও ইবন সা'দের মতে তাঁর মৃত্যু সন হিজরী ১০৩ এবং আল- হায়ছাম ইবন 'আদীর মতে হিজরী ১০৪
টিকাঃ
১. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭২
২. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-৩/২৮৬
৩. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৭৩
৪. প্রাগুক্ত
৫. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৪২
৬. তাহযীব আল-কামাল-৩/২৮৬
৭. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৩
৮. তাহযীব আত-তাহযীব-২/৩৮
৯. তাহযীব আল-আসমা'-১/১৪২
১০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৩
১১. প্রাগুক্ত; আত-তাবাকাত-৭/১৩১
১২. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭২
১৩. আত-তাবাকাত-৭/১৩১
十四. তাহযীব আত-তাহযীব-২/৩৮
十五. আত-তাবাকাত-৭/১৩১
十六. তাহযীব আল-কামাল-৩/২৮৬
十七. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৭৩; আত-তাবাকাত-৭/১৩১
十八. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৭৩
十九. আত-তাবাকাত-৭/১৩৬
二十. প্রাগুক্ত-৭/১৩৪
২১. 'আবদুল্লাহ ইবন ইবাদ-এর অনুসারীদেরকে 'ইবাদিয়া' বলা হয়।
২২. আত-তাবাকাত-৭/৩২
২৩. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১.৭৩; তাহযীব আল-কামাল-৩/২৮৭.
📄 আল-আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ (রহ)
তাঁর পূর্ণ নাম আবূ 'আমর আল-আসওয়াদ এবং পিতার নাম ইয়াযীদ। তাঁর দশম ঊর্ধ্বতন পুরুষ "নাখা”-এর প্রতি আরোপ করে তাঁকে নাখা'ঈ বলা হয়। কুফার অধিবাসী ছিলেন। তিনি একজন "মুখাদরাম" ব্যক্তি ছিলেন। যারা জাহিলী ও ইসলামী উভয় যুগ লাভ করেন তারা হলেন 'মুখাদরাম'। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত তাবি'ঈ 'আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদের ভাই, 'আলকামা ইবন কায়সের ভাতিজা, ইবরাহীম আন- নাখা'ঈর মামা এবং 'আবদুর রহমান ইবন আল-আসওয়াদের পিতা। তিনি 'আলকামা ইবন কায়সের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন।
জ্ঞান-মনীষা ও 'ইবাদত-বন্দেগীর দিক থেকে আল-আসওয়াদকে কৃষ্ণার বিশিষ্ট 'আলিমদের মধ্যে গণ্য করা হয়। ইমাম যাহাবী তাঁকে ইমাম, ফকীহ, তাপস, দুনিয়া বিরাগী ও কুফার 'আলিম বলেছেন। ইমাম নাওবী লিখেছেন, তাঁর বিশ্বস্ততা ও মহত্ত্বের ব্যাপারে সকলে একমত।
হাদীছ
হাদীছের বিশিষ্ট হাফিজ ছিলেন। হযরত আবূ বাকর, 'উমার, 'আলী, 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ, 'আয়িশা সিদ্দীকা, হুযায়ফা, আবূ মাহযূরা, আবূ মূসা আল-আশ'আরী, মু'আয ইবন জাবাল, বিলাল ইবন রাবাহ (রা) প্রমুখের মত উঁচু পর্যায়ের সাহাবীর সুহবত এবং তাঁদের থেকে হাদীছ শোনার সৌভাগ্য লাভ করেন। হযরত 'উমার (রা) ও উম্মুল মু'মিনীন হযরত 'আয়িশার (রা) সাথে অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। উল্লেখিত মহান ব্যক্তিবর্গের সকলের সূত্রে তিনি হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
ছাত্র-শিষ্য
তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করে তাঁর নিজ পরিবারের সকল সদস্য বড় বড় জ্ঞানী ব্যক্তিতে পরিণত হন। যেমন তাঁর ভাগ্নে ইবরাহীম নাখা'ঈ, ভাই 'আবদুর রহমান ও তাঁর পিতার চাচাতো ভাই 'আলকামা। এই 'আলকামা তো তৎকালীন জ্ঞানের জগতের উজ্জ্বল তারকাতুল্য ছিলেন। তাছাড়া অন্যদের মধ্যে 'আম্মারা ইবন 'উমায়র, আবু ইসহাক সুবায়'ঈ, আবূ বুরদা ইবন আবূ মূসা, মুহারিব ইবন দাছারা, আশ'আছ ইবন আবিশ শা'ছা' (রহ) ও আরো অনেকে তাঁর নিকট থেকে হাদীছ শুনেছেন। ফিক্ শাস্ত্রেও তাঁর বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল। ইবন হিব্বান বলেন, তিনি একজন ফকীহ ছিলেন। ইমাম যাহাবী, ইবন হাজার 'আসকিলানী এবং আরো অনেকে তাঁর ফিক্হ বিষয়ে ব্যুৎপত্তির কথা স্বীকার করেছেন।
'ইবাদত-বন্দেগী ও দুনিয়ার প্রতি উদাসীনতা
'ইলমের চেয়েও তাঁর 'আমল যথা: আল্লাহভীতি, দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ স্বভাব, 'ইবাদত-বন্দেগী ছিল বেশি সুন্দর। তাবি'ঈদের মধ্যে আটজন মহান ব্যক্তি ছিলেন 'ইবাদত-বন্দেগী এবং দুনিয়া বিরাগী স্বভাবের জন্য সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তাঁরা হলেন: আর-রাবী' ইবন খুছায়ম, 'আমির ইবন 'আবদিল্লাহ আত-তামীমী, উয়াইস আল-কারানী, হারাম ইবন হায়্যান, মাসরূক ইবন আল-আজদা', আল-আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ, আবূ মুসলিম আল-খাওলানী ও আল-হাসান আল-বাসরী (রহ)। এই তালিকায় আল-আসওয়াদের নামটিও আছে। ইমাম যাহাবী লিখেছেন, তিনি 'ইবাদতের ক্ষেত্রে খুব উঁচু পর্যায়ের ছিলেন। মনীষীগণ উপরোক্ত আট 'আবিদের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে বলেছেন: "মহত্ত্ব, জ্ঞান, বিশ্বস্ততায় ও বয়সে আল-আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ ছিলেন মাসরূক ইবন আল-আজদা'র সমকক্ষ। তাঁদের দু'জনের 'ইবাদতের দ্বারা দৃষ্টান্ত দেয়া হয়।"
নামায
তাঁর জীবনের প্রধান কাজ ছিল নামায আদায় করা। প্রতিদিন সাত শো রাক'আত নফল নামায আদায় করতেন। সব সময় প্রথম ওয়াকতেই নামায আদায় করতেন। এ ব্যাপারে এত গুরুত্ব দিতেন যে, তিনি যে কাজে বা যে কোন অবস্থায় থাকতেন না কেন নামাযের সময় হওয়ার সাথে সাথে সবকিছু ছেড়ে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। তাঁর সফর সঙ্গীরা বলেছেন, সফর অবস্থায় যত বন্ধুর পথই অতিক্রম করুন না কেন নামাযের সময় হওয়ার সাথে সাথে বাহনের পিঠ থেকে নেমে নামায আদায় করে নিতেন। তারপর আবার সামনে এগোতেন।
রোযা
রোযার প্রতিও তাঁর প্রবল আগ্রহ ও মনোযোগ ছিল। প্রায় সব সময় রোযা রাখতেন। প্রচণ্ড গরমের দিনেও রোযা ছাড়তেন না, যখন লাল উটের মত শক্তিশালী এবং তীব্র গরম সহ্য করা প্রাণীও গরমের তীব্রতায় বেহাল অবস্থা হয়ে যেত। সফরেও রোযার ধারাবাহিকতায় কোন রকম ছেদ পড়তো না। অনেক সময় এমন হতো যে, সফরের কষ্ট এবং পিপাসার তীব্রতায় তাঁর চেহারা বিবর্ণ এবং জিহ্বা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত, তবুও তিনি রোযা ছাড়তেন না। এত কঠোর 'ইবাদতের কারণে একটি চোখ নষ্ট হতে চলে, দেহ শুকিয়ে হালকা-পাতলা হয়ে যায়। এ অবস্থায় তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু 'আলকামা ইবন মারছাদ তাঁকে দেখতে আসেন। পিছন থেকে তাঁর দেহ মৃদু স্পর্শ করে বলেন: "ওহে আবু 'আবদির রহমান! এই দেহকে এত কষ্ট দিচ্ছেন কেন?" তিনি জবাব দিলেন: 'ওহে ইসলামের ভাই, আমি এই দেহকে শান্তি দিতে চাই। আবূ শাবল! ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।'
হজ্জ
তাঁর হজ্জ আদায়ের সংখ্যা দেখে বুঝা যায় তাঁর মধ্যে হজ্জ করার আগ্রহ কী পরিমাণ ছিল। জীবনের এমন কোন বছর হয়তো ছিল না যে বছর হজ্জ করেননি। তাঁর হজ্জ ও 'উমরার সম্মিলিত সংখ্যা সত্তর থেকে আশি (৭০-৮০) হবে। মায়মূন ইবন হামযা বলেন: আল-আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ জীবনে আশিটি হজ্জ ও 'উমরা করেন। তবে দু'টি এক সাথে নয়, পৃথকভাবে। তাঁর পুত্র 'আবদুর রহমানও পিতার মত পৃথকভাবে আশিটি হজ্জ ও 'উমরা করেন। কখনো কখনো আগ্রহের আতিশয্যে কূফা থেকেই ইহরাম বেঁধে- "লাব্বাইকা গাফ্ফারায যুনূবি, লাব্বাইকা লা- শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা লাব্বাইক, লা- শারীকা লাকা লাব্বাইক।" ধ্বনি দিতে দিতে যাত্রা করে মক্কায় পৌঁছতেন। তবে সব সময় এমন করতেন না, বরং বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে তাঁর ইহরাম বাঁধার প্রমাণ পাওয়া যায়। সাধারণতঃ রাতে মক্কায় প্রবেশ করতেন। বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সাথে ছিল গভীর আবেগের সম্পর্ক। এ ব্যাপারে তিনি ভীষণ কঠোরও ছিলেন। কেউ যদি হজ্জ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করতো তাহলে সে মারা গেলে তার জানাযার নামায পড়তেন না।
কুরআন তিলাওয়াত
কুরআন ছিল তাঁর আবাসে-প্রবাসে দিন-রাতের একান্ত সঙ্গী। কুরআন তিলাওয়াত ছিল তাঁর প্রতিদিনের অভ্যাস। রমযান মাসে তিলাওয়াতের আগ্রহ আরো বেড়ে যেত। মাগরিব ও 'ঈশার মাঝের সময়টুক শুয়ে থাকতেন। তারপর উঠে নামায আদায় করে সারা রাত তিলাওয়াত করতেন। এক মাসে দু'রাতে একবার কুরআন খতম করতেন। আর অন্য মাসে প্রতি ছয় রাতে একবার।
মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও হৃদ্যতার সম্পর্ক
আজকাল আমাদের পরস্পরের মধ্যে মতের সামান্য ভিন্নতার কারণে সব রকম সামাজিক কর্মকাণ্ডেও মত পার্থক্যের সৃষ্টি হয়ে যায়। তাই আল-আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদের মত মহান ব্যক্তিদের আদর্শ আমাদের জন্য অনুসরণযোগ্য। মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও তাঁরা পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট রাখতেন। আল-আসওয়াদ হযরত 'উমারের (রা) সাহচর্যে বেশিদিন থাকার কারণে তাঁর অনুসারী ছিলেন। অন্যদিকে 'আলকামা ছিলেন হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদের (রা) শাগরিদ ও অনুসারী। কিন্তু তাঁরা দু'জন যখন মিলিত হতেন তখন তাদের মধ্যে মোটেও মতপার্থক্য দেখা যেত না।
ওফাত
হিজরী ৭৫ মতান্তরে ৭৪ সনে তিনি কৃষ্ণায় ইনতিকাল করেন। অন্তিম রোগশয্যায় কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাসে কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। যখন বিছানায় একা পাশ-ফেরাতে পারতেন না তখন ভাগ্নে ইবরাহীম নাখা'ঈর সাহায্য নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পূর্বে তিনি হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকেন। আত্মীয়-বন্ধুরা বললেন: আবূ 'আবদির রহমান! এমন অস্থির হচ্ছেন কেন? বললেন: কেন হবো না? আল্লাহ যদি আমাকে ক্ষমাও করে দেন, তাহলেও আমি যে পাপ করেছি তার জন্য তো আমাকে লজ্জা পেতে হবে। একেবারে শেষ মুহূর্তে বলেন, আমাকে কালেমায়ে তাইয়িবার তালকীন দাও, যাতে আমার মুখ থেকে বের হওয়া শেষ কথাটি হয়- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - "আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই।”
জীবনের শেষ দিকে তাঁর দাড়ি ও মাথার চুল সাদা হয়ে যায়। খিজাব লাগাতেন। চূড়া ওয়ালা টুপি পরতেন, কালো রংয়ের পাগড়ী পরতেন, যার প্রান্ত পিছনের দিকে ছাড়া থাকতো।
টিকাঃ
১. 'আসরুত তাবি'ঈন-২৭৪
২. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-২/২৫১
৩. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৪২
৪. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১২২
৫. তাহযীব আত-তাহযীব-১/৩৪২; তাহযীব আল-কামাল-২/২৫১
৬. প্রাগুক্ত
৭. 'আসরুত তাবি'ঈন-৭৩১-৭৩৩
৮. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৪৩
৯. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৪/৫০-৫১
১০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৪৩
১১. আত-তাবাকাত-৬/৪৭; 'আসরুত তাবি'ঈন-২৭৫
১২. প্রাগুক্ত
১৩. তাহযীব আল-কামাল-২/২৫২
১৪. আত-তাবাকাত-৬/৪৭-৪৮
১৫. প্রাগুক্ত
১৬. প্রাগুক্ত; 'আসরুত তাবি'ঈন-২৭৬
১৭. তাহযীব আল-কামাল-২/২৫২
১৮. 'আসরুত তাবি'ঈন-২৭৬
১৯. আত-তাবাকাত-৬/৫০
২০. প্রাগুক্ত-৬/৫৯
📄 আবূ সালামা ইবন ‘আবদির রহমান (রা)
হযরত 'আবদুল্লাহর (রহ) ডাকনাম আবূ সালামা এবং এ নামেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাই অনেকে আবূ সালামা তাঁর আসল নাম বলে মনে করেছেন। তাঁর পিতা মক্কার কুরায়শ গোত্রের বানু যুহরা শাখার প্রখ্যাত সাহাবী হযরত 'আবদুর রহমান ইবন 'আওফ (রা) এবং মাতা তুমাদির বিন্ত আল আসবাগ। তুমাদির ছিলেন দিমাশকের সন্নিকটে দাওমাতুল জান্দালে বসবাসরত বানু কাল্ব গোত্রের কুদা'আ শাখার সন্তান। বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবীর (সা) জীবনকাল লাভ করেন। তিনি হলেন কাল্ব গোত্রের প্রথম মহিলা যাঁর বিয়ে হয় মক্কার কুরায়শ গোত্রের কোন পুরুষের সাথে।
জ্ঞান ও মনীষা
হযরত 'আবদুর রহমান ইবন 'আওফ (রা) ছিলেন 'আশারা মুবাশারার (জীবদ্দশায় জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন) অন্যতম সদস্য। এ দ্বারা অনুমান করা যায় যে, তিনি কত উঁচু মাপের ও মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। আবূ সালামা এমন মহান পিতার 'ইল্ম ও 'আমল (জ্ঞান ও কর্ম)-এর পরিবেশে অত্যন্ত স্নেহ-আদরে লালিত-পালিত হয়ে বেড়ে ওঠেন। পিতার জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করে তোলেন এবং অচিরেই সমকালীনদের মধ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিতে পরিণত হন। অনেক 'আলিম তাঁকে মদীনার সাত ফকীর মধ্যে গণ্য করেছেন। তবে এটা সর্বজন গৃহীত মত নয়। কিন্তু এ ব্যাপারে তাঁর নামটি উচ্চারিত হওয়া তাঁর যোগ্যতার একটি বড় প্রমাণ। জ্ঞানের জগতে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর ইমাম হওয়ার ব্যাপারে 'আলিমদের ঐকমত্য রয়েছে। ইমাম নাওবী (রহ) বলেন, আবূ সালামার ইমাম হওয়া এবং তাঁর সুউচ্চ সম্মান ও মর্যাদার ব্যাপারে সকলে একমত।
হাদীছ
তিনি পিতা হযরত 'আবদুর রহমান ইবন আওফের (রা) নিকট থেকে হাদীছের জ্ঞান অর্জন করেন। তাছাড়া উঁচু স্তরের আরো অনেক সাহাবীর (রা) নিকট থেকেও তিনি তাঁর জ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটান। যেমন: হযরত 'উছমান, তালহা, 'উবাদা ইবন আস-সামিত, আবু কাতাদা, আবুদ দারদা', উসামা ইবন যায়দ, হাসান ইবন ছাবিত, রাফি' ইবন খাদীজ, ছাওবান, নাফি' ইবন আল-হারিছ, 'আবদুল্লাহ ইবন সালাম, আবূ হুরায়রা, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবন আল-'আস, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার, আবু সা'ঈদ আল-খুদরী, আনাস ইবন মালিক, জাবির, মু'আবিয়া ইবন আবী সুফইয়ান, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশা সিদ্দীকা, উম্মু সালামা (রা) ও আরো অনেকে। উঁচুস্তরের বহু তাবি'ঈর নিকট থেকেও হাদীছ শোনেন। তাঁদের তালিকা অনেক দীর্ঘ।
উপরে উল্লেখিত মহান ব্যক্তিবর্গের অনুগ্রহ ও অবদান তাঁকে হাদীছের ইমামের পদে অধিষ্ঠিত করে। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন: "তিনি ছিলেন তাবি'ঈ ইমামদের অন্যতম, অসামান্য জ্ঞানের অধিকারী, বিশ্বস্ত 'আলিম ব্যক্তি।" ইবন সা'দ বলেন: "তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, সুদৃঢ়, ফকীহ ও বহু হাদীছের ধারক ও বর্ণনাকারী।” তিনি আবু সালামাকে মদীনার 'আলিমদের দ্বিতীয় স্তরে উল্লেখ করেছেন।
আবূ সালামার (রহ) স্মৃতির ভাণ্ডারে বহু হাদীছ থাকার কথা শ্রেষ্ঠ 'আলিমগণ স্বীকার করেছেন। ইমাম যুহরী (রহ) বলেন, ইবরাহীম ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন কারিজ আমাকে বলতেন যে, তোমাদের মধ্যে দু'ব্যক্তির চেয়ে হাদীছের অন্য কোন বড় 'আলিম আমি দেখিনি। একজন 'উরওয়া ইবন যুবায়র এবং অন্যজন আবূ সালামা ইবন 'আবদির রহমান। ইমাম যুহরী আরো বলেন: "আমি চার ব্যক্তিকে জ্ঞানের সাগর রূপে পেয়েছি। তাঁরা হলেন: 'উরওয়া ইবন যুবায়র, সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব, আবূ সালামা ও 'উবায়দুল্লাহ ইবন 'আবদিল্লাহ।"
তাঁর ছাত্রবৃন্দ
তাঁর সুযোগ্য ছাত্রদের নামের তালিকা অনেক দীর্ঘ। এখানে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম উপস্থাপন করা হলো: ইমাম শা'বী, 'আবদুর রহমান আল-আ'রাজ, 'আররাক ইবন মালিক, 'আমর ইবন দীনার, আবূ হাযিম, আবূ সালামা ইবন দীনার, যুহরী, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী, ইয়াহইয়া ইবন আবী কাছীর, মুহাম্মাদ ইবন 'আমর, সালিম আবুন্ নাদর, আবুয যানাদ, সা'দ ইবন ইবরাহীম আল-কাজী (রহ) ও আরো অনেকে।
ফিক্হ
ফিক্হ শাস্ত্রে আবূ সালামার স্থান এত উঁচুতে ছিল যে, অনেকে তাঁকে মদীনার সাত ফকীহর অন্যতম বলেছেন। ইবন সা'দ তাঁকে ফকীহ বলেছেন। এই উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ফকীহ হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাসের (রা) নিকট থেকে তিনি ফিক্হ্-এর জ্ঞান অর্জন করেন। সুযোগ্য শিক্ষকের যোগ্য ছাত্র হিসেবে গভীর অনুধ্যান ও সূক্ষ্ম অনুধাবন ক্ষমতা অর্জন করেন। বিভিন্ন মাসয়ালায় মহান শিক্ষকের সাথে যুক্তি-তর্কে অবতীর্ণ হতেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষককে নিজের মতে আনতে সক্ষম হন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেন: "আবূ সালামা ইবন 'আব্বাসের (রা) নিকট থেকে ফিক্হ্-এর গভীর জ্ঞান অর্জন করেন, তাঁর সাথে যুক্তি-তর্কে অবতীর্ণ হতেন এবং তাঁকে তাঁর মত থেকে সরিয়ে নিজের মতে নিয়ে আসতেন।"
ইমাম যুহরী মনে করেন, ইবন 'আব্বাসের (রা) সাথে এই মতপার্থক্যের কারণে তিনি তাঁর অগাধ জ্ঞানের অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত থেকে গেছেন।
বিচারকের পদে
হযরত মু'আবিয়ার (রা) খিলাফতকালে তৎকালীন মদীনার ওয়ালী সা'ঈদ ইবন আল-'আস তাঁকে মাদীনাতুর রাসূলের কাজীর পদে নিয়োগ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওলট-পালটের কারণে এ পদে থাকতে পারেননি। সা'ঈদ ইবন আল-'আসের অপসারণ এবং তদস্থলে মারওয়ানের যোগদানের পর আবূ সালামাকে কাজীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
ওফাত
খলীফা ওয়ালীদ ইবন 'আবদিল মালিকের খিলাফতকালে হিজরী ৯৪ সনে তিনি ইনতিকাল করেন। তবে ১০৪ হিজরীতে ৭২ বছর বয়সে তাঁর ইনতিকাল হয় বলে ভিন্ন একটি বর্ণনায় এসেছে। হযরত আবূ সালামা (রহ) ছিলেন একজন সুদর্শন চেহারার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের মানুষ। 'আবদুল্লাহ ইবন আবী ইয়া'কূব আদ-দাববী বলেন : আবূ সালামা ছিলেন দীপ্তিমান চেহারার মানুষ। তাঁর চেহারার সেই দীপ্তি ছিল রোমান সম্রাটদের স্বর্ণমুদ্রার দীপ্তির মত। শেষ জীবনে মাথার চুল ও দাড়ি সাদা হয়ে গিয়েছিল এবং তাতে তিনি মেহদীর খিযাব লাগতেন।
টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-২১/২৬৯; তাবি'ঈন-৫৩৪
২. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত
৩. তাহযীব আত-তাহযীব-১২/১১৫; তাহযীব আল-কামাল-২১/২৬৯
৪. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৬৩
৫. আত-তাবাকাত-৫/১১৬; তাহযীব আল-কামাল-২১২৭১
৬. তাহযীব আত-তাহযীব-১২/১১৬
৭. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৬৩
৮. প্রাগুক্ত; তাহযীব আল-আসমা'-১/২৪১
৯. আত-তাবাকাত-৫/১১৬
১০. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬৩
১১. তাহযীব আল-কামাল-২১/২৭২
১২. আত-তাবাকাত-৫/১১৫
১৩. তাহযীব আল-কামাল-২১/২৭২; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৬৩
📄 কাতাদা ইবন দি‘আমা আস-সাদূসী (রহ)
আবুল খাত্তাব কাতাদার পিতার নাম দি'আমা। তিনি হিজরী ৬১ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ঊর্ধ্বতন ৮ম পুরুষ সাদৃস-এর নাম অনুসারে তিনি সাদৃসী নামে পরিচিত। তিনি শ্রেষ্ঠ 'আলিম তাবি'ঈদের একজন। জ্ঞানের সাথে কাতাদার স্বভাবগত একটা সম্পর্ক ছিল। তাঁর মধ্যে জ্ঞান অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত একই রকম ছিল। মাতারুল ওয়াররাক বর্ণনা করেছেন, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ পর্যন্ত তিনি একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী ছাত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।
তাঁর স্মৃতিশক্তি
জ্ঞান অন্বেষণের তীব্র আকাঙ্ক্ষার সাথে তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তি লাভ করেন। কোন কিছু একবার শুনলে চিরদিনের জন্য তা স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয়ে যেত। একবার একটি হাদীছ শোনার পর আর কখনো কোন মুহাদ্দিছের নিকট তা দ্বিতীয়বার শোনার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। একবার যে কথা তার কানে ঢুকেছে তা চিরকালের জন্য অন্তর-ভাণ্ডারে সংরক্ষিত হয়ে গেছে। তাঁর স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে বিস্ময়কর সব ঘটনা বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যেমন একটি ঘটনা 'ইমরান ইবন 'আবদিল্লাহ বর্ণনা করেছেন। একবার কাতাদা প্রখ্যাত তাবি'ঈ সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়ি্যবের (রহ) নিকট গেলেন এবং কিছুদিন সেখানে অবস্থানও করেন। এ সময় তিনি সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়িয়বের নিকট প্রাণ খুলে হাদীছ শুনতে চাইতেন এবং প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যেতেন। একদিন সা'ঈদ ইবন আল- মুসায়্যিব (রহ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এ পর্যন্ত তুমি আমার নিকট যত কথা জানতে চেয়েছো তা কি সব তোমার মনে আছে? তিনি হাঁ সূচক জবাব দিলেন। তারপর জিজ্ঞাসিত বিষয়গুলো এভাবে বলতে আরম্ভ করলেন : আমি আপনার নিকট একথা জানতে চেয়েছি, আপনি এ জবাব দিয়েছেন। আমি এই প্রশ্ন করেছি, আপনি এই বলেছেন, আর হাসান আল-বাসরী (রহ) এই জবাব দিয়েছিলেন। এভাবে তিনি সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়ি্যবের নিকট থেকে শোনা সব হাদীছ তাঁকে শুনিয়ে দেন। সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব (রহ) তাঁর এই প্রখর স্মৃতিশক্তি দেখে ভীষণ অবাক হলেন। তিনি মন্তব্য করলেন, আল্লাহ তোমার মত মানুষ সৃষ্টি করেছেন তা আমার কল্পনায়ও ছিল না।
জ্ঞান ও মনীষা
এমন আগ্রহ, আবেগ, জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও প্রখর স্মৃতিশক্তি তাঁকে কুরআন, তাফসীর, হাদীছ, ফিক্হ, ভাষা, সাহিত্য, আরবদের প্রাচীন ইতিহাস, বংশবিদ্যা ইত্যাদিসহ সেই যুগের সকল ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞানের সাগরে পরিণত করে। আল্লামা নাওবী লিখেছেন, তাঁর মাহাত্ম্য ও জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সকলে একমত।
কুরআন
তিনি কুরআনের হাফিজ ছিলেন। ভালো মুখস্থ ছিল। বড় বড় সূরাগুলো পাঠের সময় একটি শব্দেও ভুল করতেন না। মা'মার বলেন, একবার কাতাদা সা'ঈদ ইবন 'আরূবাকে না দেখে সূরা আল-বাকারা শোনান এবং একটি হরফেও কোন ভুল করেননি। শোনানোর পর তিনি জিজ্ঞেস করেন, আমি ঠিক মত মুখস্থ রেখেছি? তিনি বললেন, হাঁ। সুফইয়ান ইবন 'উয়ানা বলেন : কাতাদা জাবির ইবন 'আবদিল্লাহর (রা) সহীফা থেকে মুখস্থ করতেন। তিনি তা সুলায়মান আল-ইয়াশকুরীর নিকট থেকে নকল করেন।
তাফসীর
কুরআনের তাফসীরের তিনি একজন বড় 'আলিম ছিলেন। কুরআনের আয়াতের তাফসীর ও তাবীলের ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত। নিজেই বলতেন, কুরআনের এমন কোন আয়াত নেই যে সম্পর্কে আমি কিছু না কিছু শুনিনি। ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলতেন, কাতাদা তাফসীরের একজন বড় 'আলিম ছিলেন। ইবন হিব্বান বলেন, তিনি কুরআনের সবচেয়ে বড় 'আলিম ছিলেন। ইবন নাসের উদ্দীন তাঁকে মুফাসসিরুল কিতাব বলেছেন।
হাদীছ
কাতাদার জ্ঞান চর্চার মূল বিষয় ছিল হাদীছ। এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান ছিল অতি উঁচুতে। ইবন সা'দ লিখেছেন, হাদীছে তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন ও প্রমাণ সদৃশ্য। আল্লামা যাহাবী তাঁকে হাফিজ ও আল্লামা নামে অভিহিত করেছেন। তাঁকে ইরাকের সবচেয়ে বড় হাফিজে হাদীছ গণ্য করা হতো। সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব বলতেন, কাতাদার চেয়ে বড় ইরাকের কোন হাফিজে হাদীছ আমাদের এখানে আসেননি। সুফইয়ান বলতেন, দুনিয়ায় কাতাদার সমতুল্য কেউ ছিল না। বাকর ইবন 'আবদিল্লাহ আল-মুযানী বলতেন, যে ব্যক্তি সবচেয়ে বড় হাফিজে হাদীছ এবং এমন ব্যক্তিকে দেখতে চায় যিনি হাদীছ যেভাবে শুনেছেন হুবহু সেভাবে বর্ণনা করেন, তাহলে তার কাতাদাকে দেখা উচিত। "আমি এমন কাউকে দেখিনি যে তার চেয়ে হাদীছ ভালো মুখস্থকারী এবং তার চেয়ে ভালো হুবহু বর্ণনাকারী।"
'আবদুর রহমান ইবন মাহদী বলতেন, কাতাদা ছিলেন হুমায়দ-এর মত পঞ্চাশ ব্যক্তি থেকেও বড় হাফিজে হাদীছ। ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলতেন, কাতাদা বসরাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাফিজ ছিলেন। যা কিছু শুনতেন মুখস্থ করে নিতেন। একবার তাঁর সামনে জাবিরের সহীফা (পুস্তিকা) পাঠ করা হয়। একবার শুনেই তা মুখস্থ হয়ে যায়। ইবন হিব্বান তাঁকে তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় হাফিজে হাদীছ গণ্য করেছেন। সুলায়মান তায়মী ও আইউব সাখতিয়ানীর মত মড় মুহাদ্দিছগণ তাঁর হাদীছের মুখাপেক্ষী ছিলেন এবং তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করতেন।
শিক্ষকবৃন্দ
কাতাদার আসল ও প্রধান শায়খ ছিলেন হযরত হাসান আল-বাসরী (রহ)। বেশির ভাগ তাঁরই ঝর্ণাধারা থেকে জ্ঞান পিপাসা নিবৃত্ত করেন। বারো বছর তাঁর সাহচর্যে কাটান। তিনি বলতেন, আমি বারো বছর যাবত হাসান আল-বাসরীর (রহ) মজলিসে বসেছি এবং তিন বছর তাঁর সাথে ফজরের নামায আদায় করেছি। আমার মত মানুষ তাঁর মত উঁচু মাপের মানুষের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছে। তিনি ছিলেন হাসান আল-বাসরীর (রহ) যোগ্যতম ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম। আবূ হাতিম বলতেন, হাসান আল-বাসরীর (রহ) সবচেয়ে বড় সঙ্গীদের মধ্যে কাতাদা একজন।
হাসান আল-বাসরী (রহ) ছাড়াও সে যুগের একদল শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছের নিকট থেকে তিনি হাদীছ শোনেন। তাঁদের মধ্যে যেমন সাহাবায়ে কিরাম (রা) ছিলেন, তেমনি ছিলেন তাবি'ঈন কিরাম। যেমন: আনাস ইবন মালিক, আবূ সা'ঈদ আল-খুদরী, 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রা), সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব, 'ইকরিমা, আবু বুরদা ইবন আবী মূসা, শা'বী, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উতবা ইবন মাস'উদ, মুতাররিফ ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন শিখীর, হাসান আল-বাসরী, 'আতা' ইবন আবী রাবাহ, 'আমর ইবন দীনার, মাসরূক ইবন আওস, মুসলিম ইবন ইয়াসার (রহ) প্রমুখ। জামাল উদ্দীন আল-মিযী শতাধিক শায়খের নাম উল্লেখ করেছেন।
তাঁর এই বিশেষ যোগ্যতা ছিল যে, যে মুহাদ্দিছের নিকটেই তিনি গেছেন, অল্পদিনের মধ্যে তাঁর সকল জ্ঞান আত্মস্থ করে ফেলেছেন। একবার সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়িয়বের (রহ) নিকট কয়েকদিন অবস্থান করেন এবং এ সময়ে তিনি তাঁকে এত প্রশ্ন করেন যে তিন দিনের মধ্যে তিনি শংকিত হয়ে তাঁকে বলেন, তুমি এখন যাও, আমার সকল জ্ঞান তুমি শূন্য করে ফেলেছো।
তাঁর শিষ্য-শাগরিদ
তাঁর যোগ্যতার কারণে তিনি মানুষের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হন। অসংখ্য জ্ঞান পিপাসু মানুষ তাঁর দারসের মজলিস থেকে পরিতৃপ্ত হয়েছে। তাদের নামের তালিকা অনেক দীর্ঘ হবে। এখানে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ছাত্রের নাম তুলে ধরা হলো: আইউব সাখতিয়ানী, সুলায়মান তায়মী, জারীর ইবন হাযিম, শু'বা, মিস'আর, আবূ বিলাল রাসিবী, মাতারুল ওয়াররাক, হাম্মাম ইবন ইয়াহইয়া, 'আমর ইবন হারিছ আল-মিসরী, শায়বান নাহবী, সাল্লাম ইবন আবিল মুতী', সা'ঈদ ইবন আবী 'আরূবা, আবান ইবন ইয়াযীদ আল-'আত্তার, হুসায়ন ইবন যাকওয়ানা, হাম্মাদ ইবন সালামা, আওযা'ঈ, 'আমর ইবন ইবরাহীম 'আবদী, 'ইমরান আল-কাত্তান, সালিহ আল-মুররী, 'আসিম ইবন সুলায়মান আল-আহওয়াল, সুলায়মান আল-আ'মাশ, হুমাইদ আত-তাবীল, সা'ঈদ ইবন আবী 'আহ্মবা (রহ) প্রমুখ।
ফিক্হ
ফিক্হ শাস্ত্রেও তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। ইবন হিব্বান লিখেছেন, তিনি কুরআন ও ফিক্হ্ বড় 'আলিমদের একজন ছিলেন। ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রহ) তাফসীর ও হাদীছে দক্ষতার সাথে ফিক্হ্ও তাঁর পারদর্শিতার কথা বলতেন। বসরার জামা'আতে ইফতার অন্যতম সদস্য ছিলেন।
যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত দানের ক্ষেত্রে সতর্ক
জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ফাতওয়া দানের ক্ষেত্রে দারুণ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। কোন বিষয়ে জানা না থাকলে নিজের অজ্ঞতার কথা সাফ বলে দিতেন। নিজের মতের উপর ভিত্তি করে কোন মাসয়ালার জবাব দিতেন না। আবু হিলাল বলেন, একবার আমি কাতাদার নিকট একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি সাফ বলে দিলেন আমি জানিনে। বললাম, নিজের যুক্তির ভিত্তিতে বলে দিন। বললেন: আমি চল্লিশ বছর যাবত নিজের মতের ভিত্তিতে কোন জবাব দিইনি। যখন তিনি একথা বলেন তখন তাঁর বয়স পঞ্চাশ বছর। তবে আবু আওয়ানা বলেন, কাতাদা বলতেন, আমি তিরিশ বছর যাবত নিজের মত ও সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে কোন ফাতওয়া দিইনি।
কাতাদার মত ব্যাপক মনীষা খুব কম তাবি'ঈর মধ্যে ছিল। তিনি কেবল দীনী 'ইল্মের 'আলিম ছিলেন না, বরং সে যুগে প্রচলিত বিভিন্ন বিষয় যেমন: আরবী ভাষা, সাহিত্য, আরব জাতির ইতিহাস, বংশ বিদ্যা প্রভৃতিরও বিশেষজ্ঞ ছিলেন। আবূ 'উমার বলেন, তিনি একজন বংশ বিদ্যাবিশারদ ছিলেন।
আবূ 'উবায়দা বলেন, বানু উমাইয়্যাদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন কোন না কোন ব্যক্তি কাতাদার নিকট ইতিহাস, কবিতা, বংশ বিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে কিছু না কিছু জানার জন্য আসতো। ইবন নাসেরুদ্দীন তাঁর ব্যাপক মনীষার মূল্যায়ন করেছেন এভাবে: "অন্ধ আবুল খাত্তাব আল-কিতাবের মুফাসসির, মুখস্থ শক্তিতে একটি নিদর্শন, বংশ বিদ্যায় ইমাম, আরবী ভাষা, সাহিত্য ও আরবের যুদ্ধ-বিগ্রহের জ্ঞানে নেতৃস্থানীয়।" ইবন সা'দ তাঁকে বসরার তৃতীয় তাবকার (স্তর) মুহাদ্দিহগণের মধ্যে উল্লেখ করেছেন।
হিজরী ১১৭, মতান্তরে ১১৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন। আবু হাতিম বলেন, হাসান আল- বাসরীর (রহ) মৃত্যুর সাত বছর পরে তিনি ওয়াসিত নগরে তা'ঊনে (প্লেগ) আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫৬ অথবা ৫৭ বছর। তবে তাঁর মৃত্যু সন নিয়ে সীরাত বিশেষজ্ঞদের বিস্তর মতভেদ আছে।
টিকাঃ
১. তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩৫০
২. তাহযীব আল-কামাল-১৫/২২৪
৩. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৯
৪. তাহযীব আল-কামাল-১৫/২২৭
৫. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৯০-১১০
৬. তাবি'ঈন-৩৮৫
৭. তাহযীব আল-কামাল-১৫/২২৮
৮. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১০৯
৯. তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩৫৫; শাযারাত আয-যাহাব-১/১৫৩
১০. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১০৯
১১. তাহযীব আল-কামাল-১৫/২২৭
১২. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/৫৭-৫৮
১৩. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১০
১৪. তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩৫৫; তাবি'ঈন-৩৮৬
১৫. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৫৮
১৬. তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩৮১; তাহযীব আল-কামাল-১৫/২২৪-২২৬
十七. তাহযীব আল-কামাল-১৫/২২৭
十八. প্রাগুক্ত; তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩৫২
十九. তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩৫৫; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১০৯
二十. আ'লাম আল-মুওয়াকি'ঈন-১/২৭
二十一. তাহযীব আল-কামাল-১৫/২২৮
二十二. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১০৯
二十三. শাযারাত আয-যাহাব-১/১৯৩
二十四. তাহযীব আল-কামাল-১৫/২৩২-২৩৩