📄 ‘আমর ইবন দীনার (রহ)
হযরত 'আমর ইবন দীনারের (রহ) কুনিয়াত বা ডাকনাম ছিল আবূ মুহাম্মাদ। বাযান 'আজমীর আযাদকৃত দাস ছিলেন। হযরত মু'আবিয়ার (রা) খিলাফতকালে হিজরী ৪৫/৪৬ সনে অথবা তার কাছাকাছি সময়ে মক্কায় জন্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর সম্মান ও মর্যাদা
জ্ঞানের দিক দিয়ে তিনি মক্কার শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের মধ্যে গণ্য ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবী তাঁকে হাদীছের হাফিয, ইমাম ও মক্কার হারামের ইমাম অভিধায় ভূষিত করেছেন। তিনি বলেন:
"তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব ও মক্কার হারামের শায়খ তথা সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।"
ইমাম নাওবী (রহ) বলেন, তাঁর মহত্ত্ব, নেতৃত্ব ও বিশ্বস্ততার ব্যাপারে সকলে একমত। তিনি ছিলেন তাবি'ঈন শ্রেণীর ইমাম। আল-হাকেম তাঁর "আল-মুযাক্কী আল-আখবার" গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি শ্রেষ্ঠ তাবি'ঈদের একজন।"
'ইলমে হাদীছে তাঁর স্থান
তিনি হাদীছের একজন বড় হাফিয ছিলেন, ইবন সা'দ বলেন: "'আমর ছিলেন বিশ্বস্ত, সুদৃঢ় ও বহু হাদীছ স্মৃতিতে ধারণ ও বর্ণনাকারী।" সাহাবীদের মধ্যে ইবন 'উমার, ইবন 'আব্বাস, ইবন যুবাইর, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবন আল-'আস, আবূ হুরাইরা, জাবির ইবন 'আবদিল্লাহ, আবুত তুফায়ল, সায়িব ইবন ইয়াযীদ, আনাস ইবন মালিক (রা) প্রমুখের নিকট থেকে তিনি হাদীছ শোনেন। তাবি'ঈদের মধ্যে সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব, সা'ঈদ ইবন আয-যুবাইর, সালিম ইবন 'আবদিল্লাহ, তাউস, 'আতা, মুহাম্মাদ ইবন 'আলী, মুজাহিদ, আবূ মুলাইকা, সুলাইমান ইবন ইয়াসার, ওয়াহাব ইবন 'উতবা, যুহরী, সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না, সুফইয়ান আছ-ছাওরী (রহ) প্রমুখ সহ বিখ্যাত তাবি'ঈদের বড় একটি দলের নিকট থেকে তিনি হাদীছ শোনেন ও বর্ণনা করেন।
হাদীছ শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান ছিল অতি ব্যাপক ও গভীর। সমকালীন আলিমদের সম্মিলিত জ্ঞান তিনি নিজের বুকে ধারণ করেন। বিখ্যাত তাবি'ঈ তাউস (রহ) তাঁর ছেলেকে বলতেন:
"ছেলে, যখন তুমি মক্কায় যাবে, 'আমর ইবন দীনারের সাথে অবশ্যই সাক্ষাৎ করবে। কারণ, তাঁর কান 'আলিমদের বশীভূত।"
তাঁর বর্ণিত হাদীছের স্থান
হাদীছ বিশারদদের নিকট তাঁর বর্ণিত হাদীছের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। ইমাম যুহরী বলতেন, আমি উঁচু মানের হাদীছের ক্ষেত্রে এই শায়খ তথা বিজ্ঞ ব্যক্তির চাইতে আর কাউকে দেখিনি। ইবন 'উয়ায়না ও 'আমর ইবন জারীর তাঁকে- "বিশ্বস্ত, দৃঢ়পদ, সত্যবাদী ও বহু হাদীছের ধারক"- বলতেন।
রিওয়ায়াত বিল মা'না বা হাদীছের ভাব ও অর্থ বর্ণনা
হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যধিক সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তা সত্ত্বেও শ্রুত মূল শব্দসহ হাদীছ বর্ণনা করা জরুরী মনে করতেন না। তিনি নিজের ভাষায় শ্রুত হাদীছের অর্থ ও ভাব বর্ণনা করতেন। হাদীছ শাস্ত্রে তাঁর অগাধ জ্ঞানের কারণে তিনি এর একজন নির্ভরযোগ্য সূত্রে পরিণত হন।
তাঁর ছাত্র-শিষ্য
তাঁর ব্যাপক জ্ঞান তাঁর ছাত্র-শিষ্যের গণ্ডিকে ভীষণ প্রশস্ত করে দেয়। তাঁর সর্বাধিক খ্যাতিমান কয়েকজন ছাত্র হলেন: ইমাম জা'ফার আস-সাদিক, আবু কাতাদা, মিসওয়ার, ইবন আবী নাজীহ, হাম্মাদ, সুফইয়ান (রহ) ও আরো অনেকে।
ফিক্হ
ফিক্হ শাস্ত্রেও তিনি ছিলেন সুপণ্ডিত। কুরআন ও সুন্নাহতে গবেষণা করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও আইন-কানুন বের করার ক্ষেত্রে তাঁর ছিল যেমন ইজতিহাদের বিশেষ যোগ্যতা, তেমনি ছিল স্বকীয়তাও। ইমাম নাওবী (রহ) লিখেছেন, তিনি মাযহাবপন্থীদের অনুকরণীয় একজন বড় মুজতাহিদ ছিলেন। প্রায় তিরিশ বছর যাবত ফাতওয়া দেন। তৎকালীন অনেক বড় বড় আলিম তাঁকে তাউস, 'আতা ও মুজাহিদের (রহ) মতো শ্রেষ্ঠ 'আলিমদের উপর প্রাধান্য দিতেন।
সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না বলতেন:
"আমাদের দৃষ্টিতে 'আমর ইবন দীনারের চাইতে বড় ফকীহ্, বড় 'আলিম এবং বড় হাফিযে হাদীছ আর কেউ ছিলেন না।"
সতর্কতা
অত্যধিক সতর্কতার কারণে তিনি হাদীছ ও ফিক্হ সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়িল লেখালেখি পসন্দ করতেন না। বলতেন, মানুষ আমাদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। আমরা তার উত্তর দিলে তারা তা পাথরে খোদাই করার মতো লিখে নেয়। হতে পারে আজ যে সিদ্ধান্ত আমরা দিলাম, আগামীকাল তা প্রত্যাহার করে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। তখন পূর্বের ভুল সিদ্ধান্তটি লিখিত থেকে গেল। একবার জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বললো, সুফইয়ান আপনার নিকট থেকে যা কিছু শোনে তা লিখে রাখে। একথা শুনে তিনি কাঁদতে থাকেন। তারপর বলেন, যে ব্যক্তি আমার কথা লেখে সে আমার প্রতি বড় যুলুম করে। তিনি বলতেন:
"আমার থেকে কেউ কিছু লিখে রাখুক তা আমি পসন্দ করি না। আমি কারো কাছ থেকে কিছু লিখিনি। আমি মুখস্থ করতাম।"
একবার এক ব্যক্তি কোন একটি জিনিস সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করে। তিনি কোন জবাব দিলেন না। প্রশ্নকারী বললো, জিনিসটির ব্যাপারে আমার অন্তরে একটু সন্দেহ আছে। এ কারণে আপনার নিকট থেকে একটি জবাব পেতে চাই। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! তোমার অন্তরে আবূ কুবায়স পাহাড় পরিমাণ সন্দেহ থাকার পরিবর্তে আমার অন্তরে একটি পশম পরিমাণ সন্দেহ থাকা আমার কাছে বেশী অপসন্দনীয়।
তাঁর 'ইবাদাত-বন্দেগী
তিনি একজন ভীষণ 'আবিদ ব্যক্তি ছিলেন। রাতের বেশীর ভাগ 'ইবাদাত-বন্দেগীতে অতিবাহিত করতেন। সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না (রহ) বলেনঃ
"'আমর ইবন দীনার রাতকে তিন ভাগে ভাগ করে নিতেন। এক ভাগে ঘুমোতেন, এক ভাগে হাদীছ বর্ণনা করতেন এবং আরেক ভাগ নামাযে অতিবাহিত করতেন।"
জামা'আতে নামায আদায়ের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান
তিনি জামা'আতে নামায আদায়ের প্রতি এত গুরুত্ব দিতেন যে, বার্ধক্যে যখন শক্তিহীন হয়ে পড়েন এখনও নিজের বাসস্থান থেকে বেশ দূরে মসজিদেই নামায আদায় করতেন। সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না (রহ) বলেন, তিনি জীবনের কোন পর্যায়ে মসজিদে যাওয়া- আসা বন্ধ করেননি। গাধার পিঠে বসিয়ে তাঁকে মসজিদে আনা হতো।
ইসলামী সেবামূলক কাজের বিনিময়ে কোন কিছু না নেয়া
তিনি সেবামূলক কোন কাজের বিনিময় বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা ভালো মনে করতেন না। এ জাতীয় সকল কাজ তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতেন। তৎকালীন খলীফা একবার তাঁর ইচ্ছার কথা এভাবে ব্যক্ত করেন যে, আমি আপনার জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দেই, আর আপনি নিশ্চিন্ত মনে ফাতওয়ার দায়িত্বটি পালন করে যান। তিনি এ প্রস্তাবে রাজী হননি।
আল-ওয়াকিদী বলেছেন, 'আমর ইবন দীনার হিজরী ১২৬ সনে আশি বছর বয়সে ইনতিকাল করেন।
টিকাঃ
১. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৩; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা-৫/৩০০; আসরুত তাবি'ঈন-৪৪৭
২. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৩
৩. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা-৫/৩০০
৪. তাহযীবুল আসমা' ওয়াল লুগাত-১/২৭
৫. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা-৩/৫০০
৬. তাবাকাত-৫/৪৮০
৭. প্রাগুক্ত; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৩
৮. তাবাকাত-৫/৪৭৯; তাহযীব আত-তাহযীব-৮/২৯
৯. তাবাকাত-৫/৪৮০
১০. তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩০
১১. তাবাকাত-৫/৪৮০
১২. তাহযীব আত-তাহযীব-৮/৩০
১৩. তাহযীবুল আসমা'-১/২৭; তাহযীবুত তাহযীব-৮/৩০
১৪. তাহযীবুল আসমা'-১/২৭
১৫. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১১৩; 'আসরুত তাবি'ঈন-৪৪৭
১৬. তাবাকাত-৫/৪৮০
১৭. প্রাগুক্ত
১৮. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা-৫/৩০১
১৯. প্রাগুক্ত-৫/৩০৭
২০. তাবাকাত-৫/৪৮০
২১. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা-৫/৩০২; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৩
২২. তাবাকাত-৫/৪৭৯
২৩. প্রাগুক্ত
২৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১১৩
📄 রাবী‘আ ইবন ফাররূখ আর-রায় (রহ)
হিজরী ৫১ সনের কথা। মুসলিম মুজাহিদ বাহিনী তখন ইসলামের সুমহান বিশ্বাস ও বাণী বহন করে দিবিদিক ছড়িয়ে পড়েছে। বিজয়ী সেনাপতি, সিজিস্তান বিজয়ী ও খুরাসানের আমীর মহান সাহাবী আর-রাবী' ইবন যিয়াদ আল-হারিছী (রা) তাঁর বাহিনীসহ রণাঙ্গনে অবস্থান করছেন। সংগে আছেন তাঁর সাহসী দাস ফাররূফ।
সায়হুন নদী পার হওয়ার সময় যে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় তাতে সেনাপতির দাস ফাররূফ দারুণ সাহস ও বীরত্বের পরিচয় দেন। এতে সেনাপতি রাবী' (রা) ভীষণ খুশী হন এবং তাঁকে দাসত্ব থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন।
সেনাপতি রাবী' ইবন যিয়াদ (রা)-এর মৃত্যুর পর ফাররূফ মদীনায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বিপুল অর্থ-সম্পদ নিয়ে তিনি মদীনায় ফিরে আসলেন এবং এক সম্ভ্রান্ত ঘরের কন্যাকে বিয়ে করলেন। কিন্তু তাঁর সৈনিক জীবন তাঁকে শান্তি দিল না। তিনি আবার রণাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়লেন। অবশেষে স্ত্রীকে আল্লাহ ও রাসুলের হিফাযতে এবং তিরিশ হাজার দীনার তার হাতে দিয়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন। যাওয়ার সময় স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন।
ফাররূখের অনুপস্থিতিতে এক পুত্র সন্তান জন্ম নিল। মা তার নাম রাখলেন 'রাবী'আ'। মা তার ছেলের সুশিক্ষার জন্য স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থ থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। শিক্ষকরা তাকে কুরআন, হাদীছ এবং দীনী 'ইলমের বিভিন্ন শাখায় দক্ষ করে তোলেন। রাবী'আ নিজের জন্য জ্ঞানচর্চাকে বেছে নিলেন এবং মদীনার মসজিদে নববীতে তাঁর পঠন-পাঠন চলতে লাগলো।
প্রায় তিরিশ বছর পর ফাররূফ মদীনায় ফিরে আসলেন। নিজের ঘরে প্রবেশ করে তিনি এক যুবকের বাধার মুখে পড়লেন। দু'জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলো এবং পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে এলো। পরে ফাররূফের স্ত্রী এসে পরিচয় দিলে পিতা ও পুত্রের মিলন হলো। ফাররূফ তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন তিরিশ হাজার দীনারের কথা। স্ত্রী বললেন তা সঠিক জায়গায় আছে।
পরদিন সকালে ফাররূফ মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখলেন এক বিশাল 'ইলমী মজলিস। সেখানে শায়খকে ঘিরে বড় বড় 'আলিমরা বসে আছেন। তিনি শায়খের অগাধ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য দেখে মুগ্ধ হলেন। পাশে বসা একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন এই শায়খই হলেন তাঁর পুত্র রাবী'আতুর রা'য়। ফাররূফ আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিলেন। বাড়ীতে ফিরে স্ত্রী তাঁকে বললেন, এই তিরিশ হাজার দীনার এবং আপনার ছেলের জ্ঞান ও মর্যাদার এই উচ্চাসন লাভ-এর কোনটি আপনার বেশি প্রিয়? ফাররূফ বললেন: ছেলের এই অবস্থানই আমার বেশি প্রিয়। তখন স্ত্রী জানালেন যে তিনি সেই অর্থ রাবী'আর শিক্ষার পিছনেই ব্যয় করেছেন।
রাবী'আর পরিচয়
রাবী'আর ডাকনাম আবূ 'উছমান, উপাধি আর-রায়। পিতা আবূ 'আবদির রহমান ফাররূখ। তিনি ছিলেন মদীনার একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ 'আলিম তাবি'ঈ। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) বলেন: "তিনি ছিলেন একাধারে হাদীছের হাফিজ, ফকীহ, মুজতাহিদ এবং বুদ্ধি ও যুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী। আর এ কারণে তাঁকে রাবী'আতুর রায় বা যুক্তিবাদী রাবী'আ বলা হয়।"
শিক্ষা
যৌবনের সূচনাতেই সেকালে প্রচলিত সকল শাস্ত্রে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী হন। মাত্র ছাব্বিশ/সাতাশ বছর বয়সে তাঁর খ্যাতি দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে।
Hাদীছ
হযরত রাবী'আর (রহ) যে খ্যাতি তা প্রধানতঃ তাঁর ফিক্হ্ শাস্ত্রে অতুলনীয় দক্ষতার কারণে। তবে তিনি হাদীছেরও একজন প্রথম শ্রেণীর হাফিজ ছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে হাদীছ ধারণের ব্যাপারে সকল ইমাম একমত। ইবনুল মাজেশূন বলেন: "আমি রাবী'আর চেয়ে সুন্নাহ অধিক স্মৃতিতে ধারণকারী আর কাউকে দেখিনি।" প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ ছিলেন রাবী'আর বিশেষ ছাত্র।
সাহাবায়ে কিরামের (রা) মধ্যে হযরত আনাস ইবন মালিক ও সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রা) এবং তাবি'ঈদের মধ্যে সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব, কাসিম ইবন মুহাম্মাদ প্রমুখ মুহাদ্দিছ থেকে হাদীছের জ্ঞান অর্জন করেন।
ফিক্হ
ফিক্হ শাস্ত্রে ছিল হযরত রাবী'আর (রহ) বিশেষ ব্যুৎপত্তি। তিনি ছিলেন এ শাস্ত্রের একজন ইমাম ও মুজতাহিদ। অসাধারণ মেধা ও বুদ্ধিমত্তা তাঁর মধ্যে ইজতিহাদের যোগ্যতা সৃষ্টি করে দেয়। এ কারণে তাঁকে যুক্তি ও বুদ্ধিবাদী অভিধায় ভূষিত করা হয়। আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর প্রথম খলীফা আবুল 'আব্বাস আস-সাফফাহ তাঁকে ডেকে নিয়ে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন। ইমাম মালিক (রহ) ছিলেন তাঁর বিশেষ ছাত্র।
ফাতওয়া দানে তাঁর সতর্কতা
ইজতিহাদ, যুক্তি ও কিয়াস প্রয়োগে এত ক্ষমতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কোন মাসয়ালায় যুক্তি ও কিয়াস প্রয়োগের ক্ষেত্রে দারুণ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তিনি বলতেন: "কোন মাসয়ালায় জ্ঞান ছাড়া জবাব দানের চেয়ে এটাই উত্তম যে তোমরা মূর্খ অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর।"
তাঁর সমকালীন মনীষীদের মূল্যায়ন
'উবায়দুল্লাহ ইবন 'উমার বলতেন: "রাবী'আ ছিলেন আমাদের সকল জট উন্মোচনকারী, আমাদের 'আলিম এবং আমাদের সবার চেয়ে উত্তম।” ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলতেন: "আমি রাবী'আ ইবন 'আবদির রহমানের চাইতে বেশি তীক্ষ্ণধী আর কাউকে দেখিনি।"
তাঁর দারসের মজলিস
তাঁর দারসের মজলিসে মদীনার বড় বড় 'আলিম, সরকারী কর্মকর্তা ও অভিজাত শ্রেণীর লোকেরাও শরীক হতেন। ইমাম মালিক, ইয়াহইয়া আনসারী, ইমাম আওযা'ঈ প্রমুখের মত ব্যক্তিবর্গও সেখান থেকে ফায়দা হাসিল করতেন।
তাঁর ভোগ-বিলাস বিমুখ জীবন ও ইবাদাত-বন্দেগী
এত জ্ঞান ও বুদ্ধির সাথে সাথে তিনি একজন বড় 'আবিদ ও দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বিমুখ ব্যক্তি ছিলেন। ধন-সম্পদ ও অর্থ-বিত্তের প্রতি দারুণ নির্মোহ স্বভাবের ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য তিনি চল্লিশ হাজার দীনার ব্যয় করেন।
বাগ্মিতা
রাবী‘আ ছিলেন একজন বাগ্মী ব্যক্তি। চমৎকার প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলতেন। তিনি যখন কথা বলতেন শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শুনতো। একবার রাবী'আর (রহ) নিকট আল্লাহর 'আরশে সমাসীন হওয়ার বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তিনি বলেন: "সমাসীন হওয়ার বিষয়টি অজানা নয়, তবে তার প্রকৃতিটা বোধগম্য নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকেই রিসালাত হয় এবং রাসূলের দায়িত্ব পৌঁছানো, আর আমাদের কর্তব্য বিশ্বাস করা।"
মৃত্যু
তাঁর মৃত্যু সন ও স্থান নিয়ে একটু মত পার্থক্য আছে। হাফিজ আবূ বাকর ইবন ছাবিত বলেন, প্রথম আব্বাসীয় খলীফা আবুল 'আব্বাস আস-সাফফাহ তাঁকে কাজী হিসেবে নিয়োগ দানের জন্য আল-আনবারে ডেকে পাঠান। ইবন সা'দ বলেন, আল-ওয়াকিদী আমাকে যে তথ্য দিয়েছেন সে মতে তিনি হিজরী ১৩৬ সনে মদীনায় ইনতিকাল করেন।
টিকাঃ
১. সায়হুন একটি বিশাল নদী। সমরকন্দের পরে তুর্কিস্তান সীমান্তে প্রবাহিত।
২. রাসূলুল্লাহর (সা) কবর ও তাঁর মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান। (সুওরুন মিন হায়াত আত-তাবি'ঈন-১৪৯)
৩. প্রাগুক্ত-১৩৫-১৫৪; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৪-১৬৫
৪. তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬
৫. তাহযীব আত-তাহযীব-১/১৫৯
৬. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৭
৭. তারীখু বাগদাদ-৮/৪২১; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৭
৮. তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৪
৯. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/২৫৮; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৭
১০. তারীখু বাগদাদ/৮/৪২৪; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬
১১. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৮; সুওয়ারুন মিন হায়াত আত-তাবি'ঈন-১৩৫
১২. তারীখু বাগদাদ-৮/৪২৩
১৩. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/২৫৮; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬
১৪. তারীখু বাগদাদ-৮/৪২৩; তাবি'ঈন-১২০
১৫. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৭
১৬. প্রাগুক্ত-১/১৫৮; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬
১৭. তারীখু বাগদাদ-৮/৪২৬; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৭
১৮. প্রাগুক্ত
১৯. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/২৫৯; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৪, টীকা-১
২০. তারীখু বাগদাদ-৮/৪২৩; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬
২১. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৫৭
২২. তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬
২৩. তারীখু বাগদাদ-৮/৪২৩; তাবি'ঈন-১২২
২৪. তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬
২৫. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৫৮
২৬. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/২৫৯
২৭. তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৬; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৫৭
২৮. তারীখু বাগদাদ-৮/৪২৫; ইবন কুতায়বা : আল-মা‘আরিফ-২১৭
২৯. তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৭; তারীখু বাগদাদ-৮/৪২৪
৩০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৭
৩১. আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন-১/১০২
৩২. প্রাগুক্ত; ওয়াফায়াত আল-আ'য়ান-১/১৮৩
৩৩. সূরা আস-সাজদা-৪; আল-ফুরকান-৫৯
৩৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৫৮
৩৫. তাহযীব আত-তাহযীব-৩/২২৪; সাফওয়াতুস সাফওয়া-২/৮৩-৮৬; তাহযীব আল-কামাল-৬/১৬৭; আল-মা'আরিফ-২১৭
📄 ইয়াহইয়া ইবন সা‘ঈদ (রহ)
ইয়াহইয়ার (রহ) পিতার নাম সা'ঈদ এবং দাদা কায়স (রা) ইবন 'আমর আল-আনসারী। ডাকনাম আবূ সা'ঈদ। মদীনার বিখ্যাত আনসার গোত্র বানু নাজ্জারের সন্তান। ইবন আল-মাদীনী তাঁর ডাকনাম আবূ নাসর বলেছেন। তাঁর দাদা কায়স (রা) ছিলেন একজন বদরী সাহাবী। ইবন সা'দ বলেন, তাঁর মা ছিলেন 'উম্মু ওয়ালদ'। উল্লেখ্য যে, মনীবের সন্তান জন্মদাত্রী দাসীকে বলে 'উম্মু ওয়ালাদ' বা সন্তানের মা। ইসলামী বিধান মতে এরূপ দাসীকে বিক্রয় বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যায় না।
জ্ঞান ও মনীষা
জ্ঞান ও মনীষায় তিনি ছিলেন সমকালীন বিশিষ্ট তাবি'ঈদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর জ্ঞানের প্রগাঢ়তার ব্যাপারে সকল ইমাম একমত। ইমাম নাওবী (রহ) বলেন, তাঁর বিশ্বস্ততা, শ্রেষ্ঠতা এবং ইমাম হওয়ার যোগ্যতার ব্যাপারে সকলের ইজমা' বা ঐকমত্য আছে। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) তাঁকে হাদীছের হাফিজ ও শায়খুল ইসলাম বলে উল্লেখ করেছেন।
হাদীছ
ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ (রহ) সেই যুগের একজন মহান ব্যক্তিত্ব যখন সাহাবায়ে কিরামের (রা) পুণ্যময় যুগ শেষ হতে চলেছিল। সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে যাঁরা তখনো জীবিত ছিলেন তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ গ্রহণে কোন রকম ত্রুটি করেননি। সাহাবা ও উঁচু স্তরের তাবি'ঈন কিরামের মধ্যে যাঁদের নিকট থেকে তিনি হাদীছ শোনেন ও যাঁদের সূত্রে বর্ণনা করেন তাঁদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতিমান কয়েকজন হলেন : আনাস ইবন মালিক (রা), সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রা), 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমির ইবন রাবী'আ, আবু উমামা সাহল ইবন হুনায়ফ, সা'ঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব, কাসিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর আস-সিদ্দীক (রা), আবূ সালামা ইবন 'আবদির রহমান, 'উরওয়া ইবন আয-যুবায়র (রা) সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহ) প্রমুখ।
উল্লেখিত মহান ব্যক্তিদের উদারতা ইয়াহইয়াকে হাদীছের একজন শ্রেষ্ঠ হাফিজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ইবন সা'দ বলেন: "তিনি ছিলেন অতি বিশ্বস্ত বহু হাদীছের ধারক-বাহক, হুজ্জাত (দলীল-প্রমাণ) ও দৃঢ়পদ।" 'আবদুল্লাহ ইবন আল-মুবারাক (রহ) তাঁকে হাদীছের শ্রেষ্ঠ হাফিজদের মধ্যে গণ্য করতেন। মদীনার দু'ব্যক্তি এমন ছিলেন, যাঁদের দ্বারা মাদীনাতুর রাসূল (রাসূলের নগরী)-এর সকল সুন্নাহ্ সংরক্ষিত হয়। তাঁদের একজন আয-যুহরী ও অন্যজন ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ। সে সময় যদি এ দু'মনীষীর জন্ম না হতো তাহলে হয়তো বহু সুন্নাহ হারিয়ে যেত। ইবন 'উয়ায়না (রহ) বলেন: "হিজাযের মুহাদ্দিছ ছিলেন ইবন শিহাব, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ ও ইবন জুরায়জ। তাঁরা প্রত্যক্ষভাবে হাদীছ সংগ্রহ করতেন।" আবদুর রহমান ইবন আবী হাতিম তাঁকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ইমাম আয-যুত্রীর সমকক্ষ মনে করতেন। সুফইয়ান আছ-ছাওরী (রহ) বলেন: মদীনাবাসীদের নিকট ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদের স্থান ছিল আয-যুত্রীর উপরে। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলতেন: "তিনি (ইয়াহইয়া) আয-যুহ্রীর উপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত। কারণ, আয-যুহ্রীর ব্যাপারে মানুষের মতপার্থক্য আছে, কিন্তু তাঁর ব্যাপারে নেই।" 'আবদুল্লাহ ইবন আল-মুবারক (রহ) বলেন, সুফইয়ান আছ-ছাওরী (রহ) বলতেন: "মানুষের মধ্যে হাদীছের হাফিজ চারজন: ইসমা'ঈল ইবন আবী খালিদ, 'আসিম আল-আহওয়াল, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী ও 'আবদুল মালিক ইবন আবী সুলায়মান।" অপর একটি বর্ণনায় তিনজনের কথা এসেছে। তাতে 'আসিম আল-আহওয়ালের নামটি নেই। 'আলী আল-মাদীনী বলেন: উঁচু স্তরের তাবি'ঈদের পরে মদীনায় ইবন শিহাব, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ, আবুয যানাদ ও বুকাইর ইবন 'আবদি'র চেয়ে বেশি জানা ব্যক্তি কেউ নেই। জারীর ইবন 'আবদিল হামীদ বলেন: আমি তাঁর চেয়ে বেশি ধীশক্তি সম্পন্ন মানুষ আর দেখিনি। ইসমা'ঈল ইবন ইসহাক আল-কাজী বলেন, আমি 'আলী ইবন আল-মাদীনীকে একথা বলতে শুনেছি যে, যাঁরা সাহীহ হাদীছের ধারক-বাহক, অতিশয় বিশ্বস্ত এবং যাঁদের বর্ণিত হাদীছ দোষ-ত্রুটিমুক্ত তাঁরা হলেন: বসরার আইউব, কৃষ্ণার মানসূর, মদীনার ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ এবং মক্কার 'আমর ইবন দীনার। ইমাম আল-বুখারী (রহ) 'আলী ইবন আল-মাদীনীর সূত্রে বলেন, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদের বর্ণিত হাদীছের সংখ্যা প্রায় তিনশো (৩০০)। তবে ইয়াযীদ ইবন হারুন বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদের তিন হাজার হাদীছ মুখস্থ করি। তারপর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্ধেক ভুলে যাই।" ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রহ) বলতেন: "ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দৃঢ়পদ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি।"
ছাত্র-শিষ্যবৃন্দ
তাঁর ছাত্র-শিষ্যের পরিধি অনেক বিস্তৃত। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতিমান কয়েকজন হলেন: হিশাম ইবন 'উরওয়া, হুমায়দ আত-তাবীল, ইয়াযীদ ইবন 'আবদিল্লাহ ইবন উসামা, ইবন জুরায়জ, আল-আওযা'ঈ, মালিক ইবন আনাস, সুফইয়ান আছ-ছাওরী, সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না, হাম্মাদ, লাইছ, 'আবদুল্লাহ ইবন আল-মুবারক, শু'বা, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-কাত্তান, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-উমাবী (রহ) প্রমুখ হাদীছ বিশারদ। সকলে তাঁর বিশ্বস্ততা, মনীষা ও জ্ঞানের জগতে নেতৃত্বের কথা বলেছেন। ইমাম আয-যুহরী, ইবন আবী যি'ব, শু'বা, মালিক ইবন আনাস, হাম্মাদ, সুফইয়ান আছ-ছাওরী, 'আবদুল 'আযীয আল-মাজিশূন, লাইছ ইবন সা'দ, সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না প্রমুখের মত সর্বজন স্বীকৃত হাদীছ বিশারদ তাঁর সূত্রে হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
ফিক্হ্
ফিক্হ্ শাস্ত্রেও তিনি বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। হাম্মাদ ইবন যায়দ বলেন, একবার মদীনা থেকে আমাদের নিকট আইউব আস-সাখতিয়ানী আসলেন। আমরা বললাম, মদীনায় আপনি কাকে স্থলাভিষিক্ত করে এসেছেন? বললেন: "ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারীর চেয়ে বড় কোন ফকীহকে আমি মদীনায় স্থলাভিষিক্ত করে আসিনি।" ফিক্হ্ বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞানের বড় সনদ এই যে, তিনি মাদীনাতুর রাসূলের, যা সেই সময়ে ফকীহদের আকর বলে খ্যাত ছিল, কাজী ছিলেন। মারওয়ান ইবন মুহাম্মাদের সময়ে হজ্জ মওসুমে মক্কার মাসজিদুল হারামে ঘোষক চিৎকার করে ঘোষণা করতো: "ইয়াহইয়া সা'ঈদ, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ও মালিক ইবন আনাস- এ তিনজন ছাড়া আর কেউ হাজীদেরকে ফাতওয়া দিতে পারবে না।" হাম্মাদ আল-'আজলী বলেন: "كان يحيى بن سعيد رجلا صالحا فقيها ثقة. ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ, ফকীহ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি।"
কাজীর পদে
প্রথমে তিনি মদীনার কাজী ছিলেন। আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর খলীফা আবূ জা'ফার আল-মানসূর তাঁকে 'কাজী আল-কুজাত' তথা প্রধান কাজীর সুউচ্চ পদে নিয়োগ দান করেন। মতান্তরে তাঁকে হাশিমিয়ার কাজী নিয়োগ করা হয়। একথাও বর্ণিত আছে যে, বাগদাদের কাজীর পদেও তিনি নিয়োগ লাভ করেন।
বিভিন্ন বিষয়ে মুফতী ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও মতপার্থক্যের ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার ও সহনশীল। তিনি বলতেন: "أهل العلم أهل توسعة ، وما برح المفتون يختلفون فيحلل هذا ويحرم هذا ، فلا يعيب على هذا ولا هذا على هذا. জ্ঞানী ব্যক্তিরা অত্যন্ত উদার ও প্রশস্ত মনের মানুষ। বিভিন্ন মাসয়ালায় মুফতীদের সব সময় মতপার্থক্য হয়ে থাকে। একজন এটাকে হালাল বললে অন্যজন হারাম বলেন। তবে কেউ কারো প্রতি কখনো দোষারোপ করেন না।" বর্তমানকালে ইসলামী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যখন একজন আরেকজনকে হেয় ও তুচ্ছ প্রতিপন্ন করার জন্য উঠেপড়ে লেগে যান তখন ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদের উপরোক্ত কথাটি সকলের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।
আর্থিক অবস্থা
মদীনায় অবস্থানকালে তাঁর আর্থিক অবস্থা দারুণ অসচ্ছল হয়ে পড়েছিল। ভীষণ টানাটানির মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছিলেন। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন, জীবনের এমন একটি সংকীর্ণ পর্যায়ে খলীফা মানসূর তাঁকে কাজী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। অতঃপর তাঁর অবস্থার সামান্য পরিবর্তন হয়। তিনি ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন। তবে মুহাম্মাদ ইবন সাল্লাম আল-জুমাহী বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। খলীফা মানসূর তাকে কাজী নিয়োগ করলেন। তারপরেও তাঁর অবস্থার কোন পরিবর্তন হলো না। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন : যার এ 'নাফস' বা আত্মা একটি, অর্থবিত্ত তার অবস্থা পরিবর্তন করতে পারে না।
মালিক ইবন আনাস বলতেন, একমাত্র ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ ছাড়া আমাদের এখান থেকে যিনিই ইরাক গেছেন তাঁর অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। কেবল তিনি যে অবস্থায় গেছেন সেই অবস্থায় ফিরে এসেছেন।
তিনি অত্যন্ত আল্লাহ নির্ভর মানুষ ছিলেন। পার্থিব কোন প্রয়োজনে মানুষের নিকট চাওয়ার মানসিকতা তাঁর মোটেই ছিল না। তিনি নিজের জীবনের একটি ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, একবার আমি আফ্রিকা থাকাকালে পার্থিব কিছু প্রয়োজন অনুভব করলাম এবং তা পূরণের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর নিকট দু'আ করলাম। তারপর আমি আমার এ কাজের জন্য লজ্জিত হলাম। মনে মনে বললাম : আমার এ দু'আ যদি আখিরাতের কোন প্রয়োজনের জন্য হতো তাহলে কতনা সুন্দর হতো! বিষয়টি আমি আমার এক বন্ধুকে বললাম। তিনি বললেন : তোমার এ কাজকে খারাপ মনে করার কোন কারণ নেই। কারণ, দু'আর অসীলায় আল্লাহ তাঁর কোন বান্দার প্রয়োজন পূরণ করে দিতে পারেন। আর এ দু'আর অনুমতি তাঁকে দান করা হয়েছে।
জারীর ইবন 'আবদিল হামীদ বলেন: একবার আমি ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি যে সকল সাহাবী ও তাবি'ঈর সাক্ষাৎ পেয়েছেন, আবূ বাকর, 'উমার, 'উছমান ও 'আলী (রা) সম্পর্কে তাঁদের মতামত কী ছিল? বললেন: আবূ বাকর ও 'উমারের (রা) মর্যাদার ব্যাপারে তাঁদের কোন মতপার্থক্য ছিল না। তাঁদের মতের ভিন্নতা ছিল 'উছমান ও 'আলীর (রা) ব্যাপারে।
সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতে হিজরী ১৪৩ সনে তিনি হাশিমিয়ায় ইনতিকাল করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল সত্তরের ঊর্ধ্বে।
টিকাঃ
১. আল-বুখারী, আত-তারীখ আল-কাবীর-৮/২৯৮
২. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৩৭; তাহযীব আল-কামাল-১১/১৯৪
৩. আত-তারীখ আল-কাবীর-৮/২৯৮
৪. তাহযীব আল-কামাল-২০/১০৬
৫. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১৫৪
৬. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/৩৬
৭. তাহযীব আল-কামাল-১১/১৯৪; ২০/১০৩; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৬৮
৮. তাহযীব আল-আসমা'-১/১৭; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৩৭
৯. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৭৪
১০. আত-তারীখ আল-কাবীর-৮/২৯৮; তাহযীব আল-আসমা'-২/১৭
১১. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৩৭
১২. তাহযীব আল-কামাল-২০/১০৭
১৩. প্রাগুক্ত-২০/১০৯; তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৩৭
১৪. তাহযীব আল-কামাণ।-২০/১০৮; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৭২
১৫. প্রাগুক্ত
১৬. তাহযীব আল-আসমা'-২/১৭
১৭. তাহযীব আল-কামাল-২/১০৮
১৮. প্রাগুক্ত-২০/১০৬
১৯. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৩৭; সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৭৪
২০. তাহযীব আল-আসমা'-২/১৭
২১. তাহযীব আল-কামাল-২০/১০০-১০৬
২২. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৬৯
২৩. তাহযীব আল-কামাল-২০/১০৭; তাহযীব আল-আসমা'-২/১৭
২৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৩৭
২৫. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৭৪
২৬. প্রাগুক্ত
২৭. আত-তারীখ আল-কাবীর-৮/২৯৮
২৮. তাহযীব আল-কামাল-২০/১০২; তাহযীব আল-আসমা'-১/১৫৩
২৯. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৩৯
৩০. প্রাগুক্ত-১/১৩৮
৩১. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৭৫
৩২. তাহযীব আল-কামাল-২০/১১০
৩৩. প্রাগুক্ত-২০/১০৭
৩৪. সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা'-৫/৪৭৫; আত-তারীখ আল-কাবীর-৮/২৯৮; তাহযীব আল-কামাল-২০/১০০
📄 ইসমা‘ঈল ইবন আবী খালিদ আল-আহমাসী (রহ)
ইসমা'ঈলের ডাকনাম আবূ 'আবদিল্লাহ। পিতার ডাকনাম আবূ খালিদ, তবে তাঁর আসল নামের ব্যাপারে মতপার্থক্য আছে। যেমন: সা'দ, হুরমুয ও কাছীর। তিনি কৃষ্ণার আল-বাজালা গোত্রের আল-আহমাস শাখার দাস ছিলেন, তাই তাঁকে 'আল-আহমাসী আল-কৃষ্ণী' বলা হয়। ইসমা'ঈলের চার ভাই হলেন: আশ'আছ, খালিদ, সা'ঈদ ও আন-নু'মান। ইবন সা'দের বর্ণনামতে তিনি মোট ছয়জন সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হয়েছেন। তাঁদের নিকট থেকে হাদীছ শুনেছেন এবং তাঁদের সূত্রে বর্ণনাও করেছেন। সেই মহান সাহাবীগণ হলেন: তাঁর পিতা আবূ খালিদ, আনাস ইবন মালিক, 'আবদুল্লাহ ইবন আবী আওফা, আবু কাবিল, আবূ জুহায়ফা ও 'আমর ইবন আল-হুওয়ায়রিছ (রা)। তবে আবূ নু'আঈমের বর্ণনামতে তিনি বারো জন সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। 'আলী আল-মাদানী বলেন: "তিনি আনাসকে একবার দেখেন, তবে তাঁর মুখ থেকে কোন হাদীছ শোনেননি।" তিনি পেশায় ছিলেন 'طَحان'- শস্য চূর্ণকারী বা পেষণকারী।
জ্ঞান ও মনীষা
তিনি একজন উঁচু স্তরের তাবি'ঈ ছিলেন। ইমাম আশ-শা'বী (রহ) বলেন: "এই ইসমা'ঈল জ্ঞান একবারেই গিলে ফেলেন।" অপর একটি বর্ণনামতে তিনি বলেন: "ইবন আবী খালিদ (ইসমা'ঈল) জ্ঞান একবারেই পান করেন।" ইমাম আন-নাওবী (রহ) বলেন তাঁর শ্রেষ্ঠতা, মর্যাদা ও বিশ্বস্ততার ব্যাপারে সকলের ঐকমত্য রয়েছে।
হাদীছ
হাদীছ শাস্ত্রে তাঁর স্থান অনেক উঁচুতে। ইমাম আয-যাহাবী (রহ) বলেন : "তিনি ছিলেন (হাদীছ শাস্ত্রের) একজন হুজ্জাত বা দলীল- প্রমাণতুল্য, দারুণ দক্ষ ও বহু হাদীছ ধারণ ও বর্ণনাকারী 'আলিম।" ইমাম সুফইয়ান আছ-ছাওরী (রহ) বলেন : হাফিজে হাদীছ মাত্র চারজন। ইসমা'ঈল তাঁদের একজন। অন্যরা হলেন : 'আবদুল মালিক ইবন আবী সুলায়মান, 'আসিম আল-আহওয়াল ও ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী। অপর একটি বর্ণনায় তিনজনের কথা এসেছে। তাতে 'আসিম আল-আলওয়াল বাদ পড়েছেন। আবু হাতিম আস-সিজিস্তানী ইমাম আশ-শা'বীর (রহ) সংগী-সাথীদের কাউকে ইসমা'ঈলের উপর প্রাধান্য দিতেন না। তাঁর সততা, সত্যবাদিতা ও ন্যায়নিষ্ঠতা এতই প্রসিদ্ধ ছিল যে, লোকে তাঁকে "মীযান” (তুলাদণ্ড) বলতো। আহমাদ ইবন 'আবদিল্লাহ আল-'ইজলী তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন: "তিনি কুফার অধিবাসী, একজন তাবি'ঈ ও অতি বিশ্বস্ত ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন সৎকর্মশীল মানুষ। রাসূলুল্লাহর (সা) পাঁচজন সাহাবীর মুখ থেকে হাদীছ শুনেছেন। পেশায় তিনি একজন "তাহ্হান” বা শস্য চূর্ণকারী।" মুহাম্মাদ ইবন 'আবদিল্লাহ আল-মাসিলী বলেন: "তিনি একজন হুজ্জাত তথা দলীল-প্রমাণতুল্য মানুষ। তিনি যদি হুজ্জাত না হন, তবে হুজ্জাত হবে কে?"
সাহাবী ছাড়া অন্য যাঁদের নিকট থেকে তিনি হাদীছ শুনেছেন এবং যাঁদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্য থেকে সর্বাধিক খ্যাতিমান কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করা হলো: ইসমা'ঈল ইবন 'আবদির রহমান আস-সুদ্দী, ভাই আশ'আছ ইবন আবী খালিদ, 'আমর ইবন হুরায়ছ-এর দাস আসবাগ, আল-হারিছ ইবন শুবায়ল আল-আহমাসী, হাকীম ইবন জাবির আল-আহমাসী, ভাই খালিদ ইবন আবী খালিদ, যাকওয়ান ইবন আবী সালিহ আস-সাম্মান, যুবায়র ইবন 'আদী, যিক্ ইবন হুবায়শ আল-আসাদী, যায়দ ইবন ওয়াহাব আল-জুহানী, ভাই সা'ঈদ ইবন আবী খালিদ, সালামা ইবন কুহায়ল, শুবায়ল ইবন 'আওফ আল-আহমাসী, তালহা ইবন আল-'আলা' আল-আহমাসী, তালহা ইবন মুসারিফ, 'আমির আশ-শা'বী, 'উবায়দুল্লাহ ইবন আবী আওফা, 'আবদুল্লাহ ইবন 'ঈসা, 'আবদুল্লাহ আল-বাহী, 'আবদুর রহমান ইবন 'আয়িয, 'আবদুর রহমান ইবন আবী লায়লা, 'আতা' ইবন আস-সায়িব, 'আমর ইবন হুরায়ছ আল-মাখযুমী, আবূ ইসহাক 'আমর ইবন 'আবদিল্লাহ আস-সুবা'ঈ, কায়স ইবন আবী হাযিম, মুহাম্মাদ ইবন সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রা), আবু দাউদ আল-আ'মা, আবূ বাকর ইবন 'উমারা, পিতা আবূ খালিদ আল-আহমাসী ও আরো অনেকে।
তাঁর ছাত্র-শিষ্যের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তাঁর সনদে যাঁরা হাদীছ বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতিমান কয়েকজন হলেন: ইবরাহীম ইবন হুমায়দ আর-রুআসী, জারীর ইবন 'আবদিল হামীদ, জা'ফার ইবন 'আওন, হাম্স ইবন গিয়াছ, আল-হাকাম ইবন 'উতায়বা, আবূ উসামা হাম্মাদ ইবন উসামা, খালিদ ইবন 'আবদিল্লাহ আল-ওয়াসিতী, যায়িদা ইবন কুদামা, যুহায়র ইবন মু'আবিয়া, সা'দান ইবন ইয়াহইয়া আল-লাখমী, সা'ঈদ ইবন আন-নাদর আল-কৃষ্ণী, সুফইয়ান আছ-ছাওরী, সুফইয়ান ইবন 'উয়ায়না, শুরাইক ইবন 'আবদিল্লাহ আন-নাখা'ঈ, শু'বা ইবন আল্-হাজ্জাজ, 'আবাদ ইবন আল-'আওয়াম, 'আবদুল্লাহ ইবন আল-মুবারাক, 'আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র, 'উবায়দুল্লাহ ইবন মূসা, 'ঈসা ইবন ইউনুস, মালিক ইবন মিগওয়াল, মুহাম্মাদ ইবন বিশর আল-'আবদী, আবূ মু'আবিয়া মুহাম্মাদ ইবন খাযিম আদ-দারীর, মুহাম্মাদ ইবন খালিদ আল-ওয়াহ্হ্বী, মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ আল-ওয়াসিতী, মারওয়ান ইবন মু'আবিয়া আল-ফায়ারী, মু'তামির ইবন সুলায়মান, হুশায়ম ইবন বাশীর, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-কাত্তান, ইয়াযীদ ইবন হারূন (রহ) ও আরো অনেকে।
ইবন আল-মাদীনীর মতে ইসমা'ঈলের বর্ণিত হাদীছের সংখ্যা তিনশো- একথা ইমাম আল-বুখারী বলেছেন। তবে আল-'ইজলীর বর্ণনামতে পাঁচশো'র কাছাকাছি। 'ইলমের সাথে তাঁর মধ্যে 'আমলও ছিল। ইমাম আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ছিলেন বা-'আমল তথা আমলকারী 'আলিমদের একজন।" ইবন হিব্বান বলেন: 'তিনি ছিলেন একজন সৎকর্মশীল ও সত্যনিষ্ঠ শায়খ বা জ্ঞানী ব্যক্তি।'
ইসলামের ইতিহাসে আলিমদের এ বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যে, তাঁরা তাঁদের জ্ঞানকে জীবিকা ও অর্থ উপার্জনের উপায় ও উপকরণে পরিণত করেননি। ইসমা'ঈলও তাঁর অর্জিত জ্ঞান কোন পেশায় পরিণত করেননি। আটা পেষার চাক্কি ঘুরিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
হিজরী ১৪৫, মতান্তরে ১৪৬ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।
টিকাঃ
১. তাহযীব আল-কামাল ফী আসমা' আর-রিজাল-২/১৫৬
২. আত-তাবাকাত-২/২৪০
৩. তাহযীব আত-তাহযীব-১/২৯২
৪. আত-তাহযীব-১/২৫৫
৫. তাহযীব আল-কামাল-২/১৫৬; তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৩
৬. প্রাগুক্ত
৭. তাহযীব আল-আসমা' ওয়াল লুগাত-১/১২১
৮. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৩
৯. আত-তাবাকাত-২/২৪০
১০. তাহযীব আল-কামাল-২/১৫৮
১১. তাহযীব আত-তাহযীব-১/২৯১
১২. তাহযীব আল-আসমা'-১/১২১
১৩. তাহযীব আল-কামাল-২/১৫৮, ১৫৯
十四. প্রাগুক্ত
১৫. প্রাগুক্ত-২/১৫৭-১৫৮; তাহযীব আত-তাহযীব-১/২৯১
১৬. তাহযীব আল-কামাল-২/১৫৯; তাহযীব আল-আসমা'-১/১৩১
১৭. তাহযীব আত-তাহযীব-১/২৯৩
১৮. তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ-১/১৫৪
১৯. তাহযীব আত-তাহযীব-১/২৯২
২০. তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/১৫৩; তাহযীব আল-কামাল-২/১৫৯
২১. প্রাগুক্ত; আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন-৩/১২৯, টীকা-৭।